| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মূলত মানুষ সৃষ্টির পূর্বে এই পৃথিবীতে কেবল জ্বীনদের রাজত্ব ছিল। আল্লাহর অবাধ্যচারণ করে পৃথিবীকে পাপাচারে পূর্ণ করে ফেলছিল। এসব দেখে শক্তিমান আল্লাহ ফেরেশতাদের নির্দেশ দিলেন জ্বীনদের ধ্বংষ করে ফেলতে এবং কিছু ভাল জ্বীনদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে। ফেরেশতারা সমস্ত জ্বীনদের নিধন করতে শুরু করে।
শয়তানের পূর্ব নাম ইবলিশ। এই জ্বীন নিধন উৎসবের সময় সে শিশুমাত্র। সুদর্শন ইবলিশকে দেখে ফেরেশতাদের মায়া পড়ে গেল। আল্লাহর কাছে তারা প্রার্থণা করলো যেন তাকে রেহাই দেয়া হয়। আল্লাহ মুচকি হাসলেন, কিন্তু ফেরেশতাদের প্রার্থণা মঞ্জুর করলেন।
ইবলিশকে স্বর্গে নিয়ে এলো ফেরেশতারা। তার নতুন জীবন প্রাপ্তি বা অন্য যেকোন কারণেই হোক ইবলিশ হয়ে ওঠে কালক্রমে আল্লাহর সর্বোচ্চ এবাদতকারী। পৃথিবীতে এমন কোন জায়গা অবশিষ্ট থাকে না যেখানে ইবলিশের সেজদাহ পড়েনা।
আল্লাহ এমন সময় মানুষ সৃষ্টি করলেন। মানুষ সৃষ্টি করে ঘোষণা করলেন তিনি এদের ভেতরে এক নফস তৈরী করবেন, যার ভিতরে শয়তান ঢুকে সবসময় অন্যায়ের জন্য প্ররোচিত করবে। তিনি আরো ঘোষণা করলেন বেহেশতবাসীদের মধ্যে একজনকে বিপুল শক্তি দিয়ে রূপান্তর করা হবে শয়তান রূপে। তাদের জানিয়ে দিলেন, তাদের মধ্যে যারা শয়তান হতে চায় না তারা যেন তার প্রার্থনা করে।
ফেরেশতারা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়লো। সবাই মিলে ইবলিশের শরনাপন্ন হলো। তাদের ধারণা আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয়পাত্র হওয়াতে ইবলিশকে দিয়ে প্রার্থনা করালে তিনি নিশ্চয়ই শুনবেন।
এরপর ইবলিশ সবার নাম ধরে ধরে দোয়া করলো। আল্লাহ তৎক্ষণাত তার দোয়া কবুল করলেন। কিন্তু ইবলিশ ভুলক্রমে নিজের নামটা নিতে ভুলে গেলো।
সেই থেকে ইবলিশ মানুষের জন্য শয়তান রূপে বিরাজ করছে পৃথিবীতে।
উৎসঃ আজকে একজন জলজ্যন্ত আস্তিকের মুখ থেকে এই মিথটা শুনলাম। শোনানোর সময় সে আমাকে হাদিস কোরআন মতে শয়তানের জন্ম রহস্য বলে এটাকে উল্লেখ করেন। মনে হইতেছে লোকাল মেইড মিথ।
২|
১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৩৬
শান্তির দেবদূত বলেছেন: ভালই, অন্যের কান্ধে বন্দুক ফালাইয়া গুলি চালাইতে ভালই মজা।
যাই হওক, ঘটনা আপনের বানানো বা কথিত ঐ আস্তিকের যারই হোক, এইটা যে মিথ সেইটা বলার অপেক্ষা রাখে না
৩|
১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৪১
"মিজানুর রহমান" বলেছেন: বাবা আদম (আঃ) সেজদা না করার কারণে মহান আল্লাহ তায়ালা ইবলিশকে বেহেস্ত হতে বের করে দেয়।
৪|
১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৩৬
এম্নিতেই বলেছেন: না লোকাল মেইড না, তবে যিনি বলেছেন তিনি পুরোটা জানেন না, আরো আছে।
৫|
১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৩৬
ইউনুস খান বলেছেন: একদম মিথ্যা কথা কৌশিক দা।
৬|
১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৩৮
বিডি আইডল বলেছেন: ধমীয় বিষয় নিয়ে পোস্ট দিতে হলে ২ টা জিনিষ প্রয়োজন:
১. ধর্মে বিষ্বাস
২. ধমীয় knowledge
অহেতুক বির্তক তৈরির জন্য পোস্ট করা থেকে বিরত থাকুন
১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৪১
কৌশিক বলেছেন: বিরত থাকার উপদেশ নিজের ঘরের মধ্যে গিয়ে ফুটান।
৭|
১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৪৩
কোপা সামছু বলেছেন: লেখক বলেছেন: বিরত থাকার উপদেশ নিজের ঘরের মধ্যে গিয়ে ফুটান
৮|
১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৪৪
শফিকুল বলেছেন: আপনার লেখা চমৎকার।
৯|
১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৪৪
শফিকুল বলেছেন:
Click This Link
১০|
১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৪৪
বিডি আইডল বলেছেন: লেখক বলেছেন: বিরত থাকার উপদেশ নিজের ঘরের মধ্যে গিয়ে ফুটান।
আপনার লেভেল যে ওই জায়গায় তা আগেই বুঝা গিয়েছিলো
১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৪৬
কৌশিক বলেছেন: লেভেল মাপার স্কেলটা নিয়ে এবার আবার ঘরে ঢুইকা পড়েন।
১১|
১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৪৭
বন্ধনহীন বলেছেন: ""বিডি আইডল বলেছেন: ধমীয় বিষয় নিয়ে পোস্ট দিতে হলে ২ টা জিনিষ প্রয়োজন:
১. ধর্মে বিষ্বাস
২. ধমীয় knowledge""
আমার মনে হয়, ধমীয় বিষয় নিয়ে পোস্ট দিতে হলে ২ টা জিনিষের প্রতি খেয়াল রাখতে হয়:
১. ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা
২. ধমীয় knowledge নয়, বরং ধর্মের উপর knowledge
বুঝাতে পারলাম কিনা, জানি না।
১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৪৯
কৌশিক বলেছেন: ভাইজান, আল্লাহ শয়তান থাকলেই ধর্মীয় হইয়া যায়? মিথ বলতে একটা শব্দ আছে, সেটার অর্থটা একটু পইড়া লন।
১২|
১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৪৮
বিডি আইডল বলেছেন: সহমত
১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৫০
কৌশিক বলেছেন: আবার! ফুট ব্যাটা!
১৩|
১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৫১
বিডি আইডল বলেছেন: লেখক বলেছেন: লেভেল মাপার স্কেলটা নিয়ে এবার আবার ঘরে ঢুইকা পড়েন।
দেখেন আপনি যে দিকে যাচ্ছেন তাতে খালি-খালি কিছু আজে-বাজে বাক্য বিনিময় হবে। আমি এই ব্লগ এ নতুন জয়েন করেছি, গালা-গালি করতে চাছ্ছি না। যদিও মানুষ এর সব আশা পূরণ হয় না
১০ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ৯:১০
কৌশিক বলেছেন: ধুরো! নতুন বইলা প্যাচাইলাম না। ভাল থাইকেন।
১৪|
১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৫৩
ইমরান মামা বলেছেন: ইবলিসের এই মিথটা ধর্মীয় বিষয় না ফোকলোর তা বোঝার অনুরোধ করলাম।
১৫|
১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৫৭
মৈথুনানন্দ বলেছেন: ইব্লিশ মিঞার বুদ্ধি দেখি হাঁটুতে - নিজের নামটাই লিখতে ভুলে গ্যালো! ![]()
১৬|
১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১:১৪
বন্ধনহীন বলেছেন: কৌশিক, আমি আপনার পোস্টের উপর কোন মন্তব্য করিনি। বিডি আইডলের দৃস্টিভঙ্গীর সাথে আমার দ্বিমত জানালাম।
ভাইজান, আপনারও আমার মন্তব্য পড়া উচিত ছিল।
১০ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ৯:০৮
কৌশিক বলেছেন: সরি।
১৭|
১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১:১৪
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
লেখক বলেছেন: মূলত মানুষ সৃষ্টির পূর্বে এই পৃথিবীতে কেবল জ্বীনদের রাজত্ব ছিল। আল্লাহর অবাধ্যচারণ করে পৃথিবীকে পাপাচারে পূর্ণ করে ফেলছিল। এসব দেখে শক্তিমান আল্লাহ ফেরেশতাদের নির্দেশ দিলেন জ্বীনদের ধ্বংষ করে ফেলতে এবং কিছু ভাল জ্বীনদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে। ফেরেশতারা সমস্ত জ্বীনদের নিধন করতে শুরু করে।
এই গল্প কোথায় পেলেন ভাই?
১০ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ৯:০৯
কৌশিক বলেছেন: উৎসঃ আজকে একজন জলজ্যন্ত আস্তিকের মুখ থেকে এই মিথটা শুনলাম। শোনানোর সময় সে আমাকে হাদিস কোরআন মতে শয়তানের জন্ম রহস্য বলে এটাকে উল্লেখ করেন। মনে হইতেছে লোকাল মেইড মিথ।
উপরের এই লেখাগুলোও নিশ্চয়ই পড়েছেন। তারপরেও "এই গল্প কোথায় পেলেন ভাই?" এমন প্রশ্ন করার মানে কি?
১৮|
১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১:২২
স্বাধীনতা তুমি বলেছেন:
শান্তির দেবদূত বলেছেন: ভালই, অন্যের কান্ধে বন্দুক ফালাইয়া গুলি চালাইতে ভালই মজা।
১৯|
১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১:৩১
সেকেতুরে বলেছেন: আপনার লেখা ঠিক তবে ঘটনা আরও আছে। মূলত শয়তান আগে আল্লাহর প্রিয় ছিলো এইটা ঠিক। তবে যখন আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম ( আ: ) কে সৃষ্টি করলেন এবং তাকে সিজদা করার জন্য বললেন তখন সমস্ত ফেরেশতা সিজদা করলো কিন্তু ইবলিশ শয়তান করলো না। তার কথা হচ্ছে তার চাইতে আল্লাহকে বেশি ইবাদত আর কেউই করতে পারবেনা। তার এই হটকারীতার কারনে তাকে শাস্তি হিসেবে শয়তান বানিয়ে দেয়া হয়েছে।এবং সে আজীবন আদম সন্তানের পিছনে ক্ষতি করার জন্য লেগে থাকবে এই শক্তি তাকে দেয়া হয়েছে।............
২০|
১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১:২৯
হরিসূধন বলেছেন:
নাস্তিক মাওলানা কৌশিক দা দেখি শয়তান গবেষনা মন দিতাছে![]()
ঘটনা কি? ধর্ম বিশ্বাস করেন না আবার দেখি আস্তিকের মিথ নিয়া পোষ্ট
দেন
মালহাবা।
২১|
১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ২:২৯
সাব্বির শাহরিয়ার বলেছেন: কথা ঠিক আছে।
২২|
১০ ই জুলাই, ২০০৮ ভোর ৪:০০
প্প্বপ্প্বেষপ্প্ব্ত্রপ্প্বুপ্প্ম্লপ্প্ম্ম....... বলেছেন: হে হে হে ব্যপক মজা পাইলাম......পোষ্ট না কমেন্টস পইরা
২৩|
১০ ই জুলাই, ২০০৮ ভোর ৫:৪২
চুপকথা ... বলেছেন: আমিও মজা পাইছি কমেন্ট পইড়া
খেক খেক
২৪|
১০ ই জুলাই, ২০০৮ ভোর ৫:৪৫
সিন-লাম-মীম বলেছেন: ধর্মের পেছনের মীথগুলো কিন্তু অবহেলা করা উচিত না।
২৫|
১০ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ১০:২৮
সাঁঝবাতি'র রুপকথা বলেছেন: সে আজীবন আদম সন্তানের পিছনে ক্ষতি করার জন্য লেগে থাকবে এই শক্তি তাকে দেয়া হয়েছে।
কেন এই শক্তি দেয়া হলো?
২৬|
১০ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ১০:৫৫
কোলাহল বলেছেন: ইবলিশ রাজনীতি করার সুযোগ পায় নাই। তাইলে সবার নাম বাদ দিয়া শুধু নিজের নামই কইত।
২৭|
১০ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ১১:২৪
তৌসিক আহম্মেদ বলেছেন: পোষ্ট দেয়ার আগে যথেষ্ট বিবেচনা করা দরকার। একজন আস্তিক ভাই আপনাকে এই গল্প বলেছেন ভাল, কিন্তু আমার মনে হয় না, এটা ব্লগে শেয়ার করার মত গুরুত্ববহ বিষয়।
২৮|
১০ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ১১:৩৭
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: গল্প হিসেবে খারাপ না - শুধু কোরআন হাদীসের কথা না বল্লেই হল। এ'রকম অনেক গল্প উপকথা প্রচলিত আছে বিভিন্ন বিষয়ে। এ'গুলোকে সিরিয়াসলি নি নিয়ে সাধারণ গল্প হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
২৯|
১০ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ১১:৫২
িনরুেদ্দশ নীহািরকা বলেছেন: নাস্তিকের ধর্মকথার পোস্ট এখানে কপি পেস্ট করছিঃ.....
শয়তান-১
( Click This Link)
হিন্দুশাস্ত্রমতে- 'নারদ'এর মাতাপিতা নেই। সে ভগবান ব্রহ্মার মানসসৃষ্টি। তার বাসস্থান ছিলো স্বর্গে এবং সে ছিলো ধার্মিক চূড়ামনি। সে সৃষ্টিকর্তার একটি আদেশ অমান্য করায় অভিশপ্ত হয়ে পতিত হয় মর্ত্যে। সে ছিল সর্ববিদ্যাবিশারদ এবং স্বর্গ-মর্ত্য-অন্তরীক্ষে ছিলো তার অবাধ গতি।
সৃষ্টি, বাসস্থান, স্বর্গচ্যুতি ও গুনাবলীর বর্ণনায় 'নারদ' এবং 'শয়তান'- এ দু'জনের মধ্যে বিশেষ কোনো পার্থক্য দেখা যায় না। শয়তান যেনো নারদের একটি অভিনব সংস্করণ। তবে দ্বিতীয় বা তৃতীয় নয়, চতুর্থ সংস্করণ। নারদ- নাটকের দ্বিতীয় সংস্করণের নায়ক পার্সি ধর্মের 'আহরিমান', তৃতীয় সংস্করণে ইহুদী ধর্মের 'সেদিম' বা 'দেয়াবল' এবং চতুর্থ সংস্করণের নায়ক হচ্ছে শেষ জামানার 'শয়তান'।
এবারে আসুন দেখি শয়তানের শয়তান হয়ে উঠা, তার দাগা দেওয়া এসব নিয়ে শয়তানের জবানবন্দিতে (কাল্পনিক) কিছু জিজ্ঞাসা, কিছু উপলব্ধি। (ভাবনার খোরাক পেতেও পারেন!!)
"আল্লাহ সর্বাগ্রে ফেরেস্তা বানিয়েছেন, পরে জ্বীন বানিয়েছেন এবং সর্বশেষে বানিয়েছেন আদমকে। ইসায়ীরা সৃষ্টকর্তাকে পিতা বলেই সম্বোধন করে থাকে। কাজেই একই ঈশ্বরের সৃষ্টি বলে আদমকে আমার ভাইও বলতে পারি, তবে বয়সে কনিষ্ঠ। আপনাদের সমাজে কারো কনিষ্ঠ ভ্রাতাকে সেজদা করবার রীতি আছে কি? হয়তো নেই। তাহলে আদমকে সেজদা না করে আমি নীতিবহির্ভূত কাজ করিনি, করেছি আল্লাহতা'লার আদেশ লংঘন। কিন্তু আদেশ যিনি করেছেন, তা লংঘন করার শক্তিও তিনিই দান করেছেন। জগতে কারো এমন কোনো শক্তি নেই, যার সে শক্তি আল্লাহর ইচ্ছাশক্তিকে পরাস্ত করে নিজের ইচ্ছাশক্তিকে কার্যকরী করতে পারে। আল্লাহ জানতেন যে, আমি তার হুকুমে আদমকে সেজদা করবো না, আদম তার নিষেধ মেনে গন্ধম খাওয়া ত্যাগ করবে না এবং আদমের আওলাদরা তাঁর আদেশ-নিষেধ কেউ মানবে, কেউ মানবে না। তা তিনি না জানলে, তিনি আদমকে সৃষ্টি করার পূর্বে, বিশেষত আমাকে শয়তান বানাবার পূর্বে বেহেস্ত-দোজখ নির্মাণ করলেন কি করে, কি জন্য?
আমি লাখো লাখো বছর আল্লাহকে সেজদা করে এসেছি, এখনো করি। আমি বেঁচে থাকতে আল্লাহকে ছাড়া অন্য কাউকে সেজদা করবো না, এ কথা তিনি জানেন এবং তিনি নিজেও বলেছেন, 'আমাকে ভিন্ন অন্য কাউকে সেজদা করো না'।
মনে করুন - এক ব্যক্তি তার পাঁচটি ছেলেকে ডেকে জনৈক পথিককে দেখিয়ে বললে, 'তোমরা সবাই ওকে বাবা বলে ডাকো'। পিতার আদেশ পালন করা কর্তব্য, এ নীতিবাক্যটি পালন করে চারটি ছেলেই সেই পথিককে 'বাবা' বলে ডাকলো। কিন্তু একটি ছেলে ডাকলো না। সে ভাবলো, 'পিতা কখনো দুজন হতে পারে না। পথিককে বাবা বললে তা হবে মিথ্যে কথা বলা। আর পিতা তো আগেই বলেছেন, কখনো মিথ্যে বলবে না। আমার মুখে পথিককে বাবা ডাকার মধুর শব্দটি শুনে পিতা খুশী হবার জন্য নিশ্চয়ই এ কথাটি বলেননি, বলেছেন আমাদের আক্কেল পরীক্ষার জন্য। সুতরাং পিতার এ আদেশটি না মানাই শ্রেয়'। এ ভেবে সে ছেলেটি তার জীবনের মহাকর্তব্য পালন করলো, কপট পিতাকে মিথ্যা 'বাবা' ডাকলো না। ছেলেদের পিতা তাঁর চার ছেলের অজ্ঞতা দেখে মনোক্ষুণ্ণ হলেন এবং এক ছেলেকে বিজ্ঞতার জন্য পরস্কৃত করলেন।
আদমকে বানিয়ে আল্লাহ ফেরেস্তাদের ডেকে বললেন- তোমরা আদমকে সেজদা করো। আমার বিবেক বললো যে, আল্লাহ পরিস্কার ভাষায় বলেছেন, 'আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে সেজদা কোরো না'। তবে আজ কেন আদমকে সেজদা করতে বললেন? হয়তো এর কারণ ফেরেস্তাদের আক্কলের পরীক্ষা করা। আল্লাহর আসনে আদমকে বসিয়ে তাকে সেজদা করতে আমার বিবেক বাঁধা দিলো।
আল্লাহ সাতটি দোজখ বানিয়েছেন, সবগুলোতে মানুষ থাকার জন্য। তিনি কি চান যে, আমি আমার দাগাকাজ বন্ধ করি, আর তাঁর দোজখগুলো খালি থাক? তা তিনি চান না, চাইতে পারেন না। চাইলে তাঁর দোজখ বানাবার সার্থকতা ক্ষুণ্ণ হয়। আল্লাহর ইচ্ছা যে, কিছু সংখ্যক মানুষ দোজখবাসী হোক। আর আমাকে বলেছেন তাঁর সেই ইচ্ছাপূরণে সহায়তা করতে। এ কাজ আমার পক্ষে করা ফরজ, না করা হারাম। ..............।"
(চলবে)
গ্রন্থসূত্রঃ আরজ আলী মাতুব্বর রচনা সমগ্র-১, 'অনুমান' শীর্ষক গ্রন্থের 'শয়তানের জবানবন্দি' রচনার অংশবিশেষ
শয়তান-২
( Click This Link)
পূর্বপাঠ্যঃ শয়তান -১
"..................। আমি আল্লাহর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারি না, কেউই পারে না। বহু চেস্টা করেও কোনো নবী-আম্বিয়া, দরবেশকে আমি দোজখবাসী করতে পারিনি। কেননা তাঁরা দোজখবাসী হোন, তা আল্লাহর ইচ্ছা নয়। পক্ষান্তরে হজরত ইব্রাহীম নমরুদকে, মুসা ফেরাউনকে, শেষ নবী(দ.) আবু জেহেলকে হেদায়েত করে বেহেস্তের তালিকায় নাম লেখতে পারেননি আপ্রাণ চেস্টা সত্বেও। কেননা তা আল্লাহর ইচ্ছা নয়।
আজ পর্যন্ত আমি আল্লাহতা'লার মাত্র একটি হুকুমই অমান্য করেছি। তাঁর হুকুমে আদমকে সেজদা না করে। আর অন্য ক'জনও তো তাঁর হুকুমকে অমান্য করেছে প্রায় একই সময়, একই জায়গায় থেকে। কিন্তু সেজন্য তিনি রাগ করেননি বা কাউকে কোনোরূপ শাস্তি দেননি। জেবরাইল, মেকাইল ও এস্রাফিল ফেরেস্তাত্রয়কে আল্লাহ হুকুম করেছিলেন পৃথিবী থেকে মাটি নেবার জন্য, আদমকে বানাবার উদ্দেশ্যে। কিন্তু একে একে তিন ফেরেস্তাই আল্লাহর হুকুম খেলাপ করেই ফিরে গেলেন তাঁর কাছে খালি হাতে, মাটির অসম্মতির জন্য। অবশেষে আজরাইল আল্লাহর আদেশ মোতাবেক জোরপূর্বক কিছু মাটি নেওয়ায় তাদ্বারা আদমকে বানানো হলো। কিন্তু চারবার হুকুম আদেশ অমান্য সত্বেও আল্লাহ মাটিকে দোজখের আগুনে পোড়ালেন না। আর তিন ফেরেস্তা যে তাঁর হুকুম অমান্য করলেন তুচ্ছ মাটির কথা মেনে, তা যেন তাঁর খেয়ালই হলো না। পক্ষান্তরে তাঁর হুকুম অমান্যের দায়ে আমাকে নাকি দিলেন অভিশাপ, আমার গলায় দিলেন লা'নতের তাওক এবং নির্বাসিত করলেন বেহেস্ত থেকে দুনিয়ায় চিরকালের জন্য। এসব কি তাঁর পক্ষপাতিত্ব বা ন্যায়বিরোধী কাজ নয়? না, এতে তিনি এতটুকু পক্ষপাতিত্ব বা অন্যায় করেননি। বরং অন্যায় করেছে মানুষ, তাঁর ইচ্ছে ও উদ্দেশ্যকে উপলব্ধি করতে না পেরে।
এ কথা বলা হয় যে, খুন-খারাবি, চুরি-ডাকাতি ও ব্যাভিচারের উদ্যোক্তা শয়তান। তাই যদি হয় অর্থাত আমার দাগায় পড়েই যদি কোনো এক ব্যাক্তি অন্য ব্যাক্তিকে হত্যা করে, তাহলে আহত ব্যাক্তির জান কবজ করতে আজরাইল ফেরেস্তা আসেন কার হুকুমে? সেই দিনটি মৃতব্যক্তির হায়াতের শেষ দিন নয় কি? সমস্ত জীবের রেজেক দান করেন স্বয়ং আল্লাহতা'লা। চোর-ডাকাতের রেজেক দান করেন কে? আল্লাহ যার রেজেক ও দৌলত যেখানে রেখেছেন, যে কোনও উপায়েই হোক সেখান থেকে এনে তা ভোগ করবেই। চোর চুরি করে বটে, কিন্তু সে তার আল্লাহর বরাদ্দকৃত খাদ্যই খায়। বলা হয় শয়তানের খপ্পরে পড়ে মানুষ ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তাতে আল্লাহর কোনো সমর্থন নেই। যদি তাই হয়, জারজ সন্তানের প্রানদান করে কে? মানব সৃষ্টোত্তর কালে আল্লাহ যখন মানুষের প্রান সৃষ্টি করেছেন, তখন থেকেই তিনি জানেন যে, কোন প্রাণ কখন কোথায় জন্মাবে, কে কি কাজ করবে এবং অন্তিমে কে কোথায় যাবে, অর্থাত বেহেস্ত না দোজখে। তিনি এও জানতেন যে, কে কার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে। জারজ সন্তানদের প্রাণদান করেন আল্লহ ইচ্ছা করেই। ব্যভিচার ঘটিয়ে আমি আল্লাহর সেই ইচ্ছাকেই পূরণ করি মাত্র।"
গ্রন্থসূত্রঃ আরজ আলী মাতুব্বর রচনা সমগ্র-১, 'অনুমান' শীর্ষক গ্রন্থের 'শয়তানের জবানবন্দি' রচনার অংশবিশেষ
©somewhere in net ltd.
১|
১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৩৫
ইউনুস খান বলেছেন: