![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমি ইতিবাচক চিন্তার শক্তিতে বিশ্বাস করি এবং আমার কাজ এবং কথার মাধ্যমে অন্যদের অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করি। আমার ব্লগে আসার জন্য ধন্যবাদ। আসুন, একসাথে কাজ করে সফলতার পথে এগিয়ে যাই!
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দিন দিন আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ পরিচালনা করছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি, নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক নানা জল্পনা-কল্পনা ইতোমধ্যেই জনমনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
আইনি কার্যক্রম ও বিচারিক প্রক্রিয়া
আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের মতে, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে চলেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের স্বচ্ছ কার্যক্রম এবং প্রমাণ সংগ্রহের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা অক্টোবরের মধ্যে কয়েকটি মামলার রায় ঘোষণার সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করে তুলেছে।
জাতীয় নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, এ বছরের ডিসেম্বর বা আগামী জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে কমিশন সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি
বিএনপি বর্তমানে তাদের সাংগঠনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের ৬৪ জেলায় সমাবেশের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে তারা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেবে। তরুণ, অভিজ্ঞ ও প্রবীণ নেতাদের সমন্বয়ে একটি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রস্তুতের কাজও চলছে। এছাড়া যুগপৎ আন্দোলনে থাকা শরিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য ইসলামী দলগুলোর পরিকল্পনা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ইতোমধ্যে ৭৯টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। তবে অন্যান্য ইসলামি ও ছোট দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করে যৌথভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন রাজনৈতিক দলের সম্ভাবনা
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। সম্ভাব্য নেতৃত্বে থাকবেন নাহিদ ইসলাম, এবং এবি পার্টি বা বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি তাদের সহযোগী হিসেবে থাকতে পারে। এছাড়া কিছু অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের বিকল্প হিসেবে একটি দল গঠনের কাজ করছেন।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
নির্বাচনের ট্রেন ইতোমধ্যে চলতে শুরু করেছে, এবং সামনে আরও নাটকীয় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। ক্ষমতার পালাবদলের সম্ভাবনা, নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান, এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে। সামনের দিনগুলোতে এই নির্বাচন কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নয়, বরং সাধারণ জনগণের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে, এবং নির্বাচনের আগমুহূর্তে আরও অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে। রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশল ও পরিকল্পনা জনগণের মনোভাব এবং নির্বাচনের ফলাফলকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ রাত ১০:২৬
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: আপনার উদ্বেগ আমি বুঝতে পারছি। বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। তবে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়বদ্ধতা এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যকর ভূমিকা মিলেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে পারে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে কী ঘটে, তা সময়ই বলে দেবে। আপনার মতামতের জন্য ধন্যবাদ!
২| ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ সকাল ১০:৫৬
রাজীব নুর বলেছেন: নির্বাচন হলেই কি দেশের সমস্যা গুলোর সমাধান হয়ে যাবে?
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ দুপুর ২:০৯
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: আপনার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। নির্বাচন কোনো জাদুর কাঠি নয় যে, একবার হয়ে গেলেই দেশের সব সমস্যা মিটে যাবে। তবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তোলে, যেখানে জনগণ তাদের মত প্রকাশের সুযোগ পায় এবং যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নিতে পারে।
সমস্যাগুলোর সমাধান নির্ভর করে নির্বাচিত সরকারের নীতিমালা, কার্যক্রম ও জবাবদিহিতার ওপর। যদি নির্বাচন সঠিকভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং জনগণ সচেতনভাবে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করে, তাহলে নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।
অতএব, নির্বাচন একমাত্র সমাধান নয়, বরং এটি একটি প্রক্রিয়ার শুরু, যেখানে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
৩| ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ বিকাল ৪:৩৩
রাজীব নুর বলেছেন: আমার মন্তব্যের উত্তর দেওয়ার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ রাত ১০:১২
কামাল১৮ বলেছেন: এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আশাকরা হলো সোনার পাথর বাটি আশাকরা।