![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
লেখালেখির মাধ্যমে আমি নতুন ভাবনা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীল প্রকাশ খুঁজে পাই। আমার লেখার লক্ষ্য পাঠকদের ভাবতে উদ্বুদ্ধ করা এবং একটি অর্থবহ আলোচনা তৈরি করা।
"কিছু ভালোবাসা ঠিক পুরোনো ঢাকার রাস্তাগুলোর মতো—
চিরচেনা, অথচ প্রতিবার নতুন করে হৃদয়ে আলোড়ন তোলে।"
পুরোনো ঢাকার বাতাস আজও সেই পুরনো গল্প ফিসফিস করে বলে—
রাস্তার মোড়ে ফেরিওয়ালার হাঁকডাক, মসজিদের মিনার থেকে ভেসে আসা আযান, আর কোনো এক দোকানের রেডিওতে বাজতে থাকা পুরোনো প্রেমের গান।
তৃষা চুপচাপ হাঁটছে অয়নের পাশে।
তার মনের ভেতর একটা অদৃশ্য যুদ্ধ।
গত তিন মাস ধরে—বাবার গম্ভীর মুখ, মায়ের অসহায় দৃষ্টি, আর ঘটকের হাসিমুখে আনা একের পর এক পাত্রের ছবি—সব মিলে যেন তৃষাকে গলাটিপে ধরছে।
তাদের একটাই কথা:
"সময় চলে যাচ্ছে মা, এখনই ঠিক করতে হবে।"
কিন্তু তৃষার হৃদয়ের এক কোণে, নরম ছায়ার মতো লুকিয়ে থাকা অয়ন—
যার সঙ্গে ছেলেবেলা থেকে বাঁধা তার সমস্ত রঙিন বিকেল, বৃষ্টিভেজা দুপুর, এবং চুপিচুপি স্বপ্ন দেখা রাত।
হাতে সময় ফুরিয়ে আসছে।
কৃষ্ণচূড়ার লাল ছায়া মাথার ওপর নেমে আসে।
তৃষা ভাবে,
"আমিও কি শুধু এভাবেই হারিয়ে যাবো?"
হঠাৎ অয়ন থামে।
কৃষ্ণচূড়ার ছায়ায় দাঁড়িয়ে, নরম কণ্ঠে বলে—
"সব কিছু বদলাবে, জানি। তবু আমি থাকবো, তৃষা।"
তৃষা চমকে তাকায়।
চোখের পেছনে জমে থাকা কান্না, অনিশ্চয়তা, ভালোবাসা—সবকিছু একটিমাত্র দৃষ্টিতে ধরা পড়ে যায়।
সে ফিসফিস করে—
"থাকবে?"
অয়ন হাত বাড়ায়।
তৃষা কিছুক্ষণ ইতস্তত করে। চারদিকে কেবল পুরোনো রাস্তাগুলোর নীরব সাক্ষী।
অবশেষে সে নিজের হাতটা বাড়ায় — যেন নিজের সমস্ত দ্বিধা, ভয় পেরিয়ে।
তারা হাঁটতে শুরু করে সদরঘাটের সরু রাস্তাগুলোর দিকে।
ঘাটে বাঁধা নৌকাগুলো দুলছে ধীরে ধীরে, পানিতে প্রতিফলিত আলো যেন স্বপ্নের মতো কাঁপছে।
একটা চায়ের দোকান দেখে তৃষা হেসে বলে—
"চলো, চা খাই।"
চায়ের কাপ হাতে, পুরোনো পত্রিকা বিছানো টেবিলের ওপর গুনগুন করে বাজছে রেডিও—
"তুমি আসবে বলে ফুল ফুটেছে বনে..."
দোকানদার কাকু হেসে বলে—
"এতদিন পর আইলা! আগের মতোই লাল চা দিবো?"
তৃষা হেসে মাথা নাড়ে।
অয়ন অর্ডার করে — দুই কাপ লাল চা, একটু বেশি চিনি দিয়ে।
চা আসার পর, তৃষা অয়নের কাপের চামচটা নিয়ে চিনি নাড়িয়ে দেয়।
আসতে আসতে বলে—
"মনে আছে, একবার এখানে বৃষ্টি নেমেছিল? আমরা এই দোকানের তলায় দাঁড়িয়ে ছিলাম, আর তুমি আমাকে চা এনে দিয়েছিলে..."
অয়ন মৃদু হেসে মাথা ঝাঁকায়।
তৃষার চোখে তখন পুরনো দিনের ভেজা আলোকছায়া।
চায়ের কাপ থেকে ধোঁয়া উঠে যায় আকাশের দিকে—
ঠিক ছোটবেলার সেই হারানো স্বপ্নগুলোর মতো।
কিন্তু এবার, তৃষা জানে—
এই ভালোবাসা আর কোনো ঘাটে থামবে না।
এবার তারা সত্যি সত্যি এগিয়ে যাবে, একসাথে।
শেষ।
"ভালোবাসা কখনো শুধু স্মৃতিতে আটকে থাকে না...
কখনো কখনো, তা হাত ধরে এগিয়ে যায় অনন্ত পথের দিকে।"
২৫ শে আগস্ট, ২০২৫ সকাল ৮:৩৮
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: আপনার মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ
২| ২৩ শে আগস্ট, ২০২৫ দুপুর ১:২৫
শায়মা বলেছেন: গুড
ভালোবাসা!!!
তাহে কেবলি চোখের জল
তাহে কেবলি দুখের শ্বাস
লোকে তবে করে কি সুখেরি তরে এমন সুখের আশ!!!
২৫ শে আগস্ট, ২০২৫ সকাল ৮:৪৪
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: “তোমরা এত যে বলো দিবস রজনী ভালোবাসি ভালোবাসি, সখী ভালোবাসা কারে কয়”
অনেক ধন্যবাদ আপু আপনার মন্তব্যের জন্য।
৩| ২৩ শে আগস্ট, ২০২৫ রাত ৮:৫৩
বিজন রয় বলেছেন: সুন্দর।
২৫ শে আগস্ট, ২০২৫ সকাল ৮:৪৪
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
৪| ২৫ শে আগস্ট, ২০২৫ সকাল ১১:৩৪
রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে আবার এলাম। কে কি মন্তব্য করেছেন, সেটা জানতে।
২৫ শে আগস্ট, ২০২৫ সকাল ১১:৪৫
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: আপনারটা ছাড়া এখন পর্যন্ত নতুন কোনো মন্তব্য নেই
©somewhere in net ltd.
১|
২৩ শে আগস্ট, ২০২৫ সকাল ৯:০৪
রাজীব নুর বলেছেন: ভালোই।