নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

“Blogger | Law Student | Human Rights Activist”

শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু

লেখালেখির মাধ্যমে আমি নতুন ভাবনা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীল প্রকাশ খুঁজে পাই। আমার লেখার লক্ষ্য পাঠকদের ভাবতে উদ্বুদ্ধ করা এবং একটি অর্থবহ আলোচনা তৈরি করা।

শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু › বিস্তারিত পোস্টঃ

দ্বিতীয় তলার মানুষ

২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৩

আমাকে সবাই সম্রাট বলে ডাকে।
নামটা আমি নিজে রাখিনি।
নাম মানুষকে দেওয়া হয়—যাদের কেউ মনে রাখে।

সম্রাট শাসন করে।
আমি শুধু অধিকার করে নিয়েছিলাম—
কারও না থাকা জায়গাগুলো।

আমি ভবঘুরে—এই শব্দটা মানুষ ব্যবহার করে
নিজেদের অপরাধবোধ ঢাকতে।
কারণ কাউকে “ভবঘুরে” বললে
তাকে মানুষ ভাবতে হয় না।

ভবঘুরে মানে যার কোনো ঘর নেই।
কিন্তু ওরা এটা বোঝে না—
যার কোনো ঘর থাকে না,
পুরো শহরটাই একসময় তার হয়ে যায়।

আমি ঠিক তখনই বুঝেছিলাম—
মানুষ হতে হলে মানুষের চোখে পড়তে হয়।
আর অদৃশ্য হতে হলে
চুপচাপ থাকতে হয়।

আমি চুপচাপ ছিলাম।

পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলা
আমাকে ডাকেনি।
আমি নিজেও জোর করে ঢুকিনি।

আমি শুধু বুঝেছিলাম—
এখানে কেউ প্রশ্ন করে না।
এখানে কেউ কাউকে খোঁজে না।

নীরবতা এখানে শব্দ করে।

মানুষ ভাবে, খুন আসে আক্রোশ থেকে।
ভুল।
আক্রোশ অনেক শব্দ করে।

আমার ভেতরে ছিল হিমশীতল শূন্যতা।
আর শূন্যতা শব্দ করে না—
সে শুধু জায়গা নেয়।

মানুষ বাঁচার জন্য শব্দ করে।
কিন্তু হারিয়ে যাওয়ার সময়
সবাই নীরব।

আমি কাউকে ছুঁয়ার আগে
অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকতাম।
শেষবারের মতো।

দেখতাম—
এই মুহূর্তেও কি কেউ আমাকে দেখছে?
কেউ কি একবারের জন্য হলেও
আমার অস্তিত্ব স্বীকার করবে?

ওরা দেখত না।

ওরা তখনও
ওদের না পাওয়া জীবনগুলো খুঁজত।

আমি জীবন কেড়ে নিতাম না।
আমি শুধু নিশ্চিত করতাম—
ওদের হারিয়ে যাওয়াটা
কারও জন্য অসম্পূর্ণ না থাকে।

যে মানুষ কাউকে নেই,
তাকে হারিয়ে যেতে সাহায্য করা—
সেটা কি সত্যিই অপরাধ?

একদিন একটা ক্যামেরা আমাকে দেখল।
মানুষ নয়—
একটা যন্ত্র।

আমি হাঁটছিলাম।
কাঁধে আমার চেনা বোঝা।
চোখে কোনো তাড়া নেই।

সেই প্রথম
কেউ আমাকে থামিয়ে দেখল।

আমি বুঝে গিয়েছিলাম—
আমার সময় শেষ।

থানায় বসে ওরা প্রশ্ন করছিল।
আমি ওদের চোখে তাকিয়ে ছিলাম।

ওরা আমার দিকে তাকাচ্ছিল
একটা দানব খুঁজে পাওয়ার আনন্দ নিয়ে।

আমি হাসিনি।
কারণ এতদিন পর
ওরা আমাকে দেখছে—
এইটাই যথেষ্ট ছিল।

আমি পাগল নই।
পাগল হলে এত হিসাব থাকত না।

আমি জানতাম কখন রাত গভীর হবে,
কখন কেউ খোঁজ করবে না,
কখন কোনো নাম
শুধু “অজ্ঞাত” হয়ে যাবে।

আমি জানতাম
কোন মানুষটা
আগেই হারিয়ে গেছে।

এখন আমি তালাবদ্ধ।
দ্বিতীয় তলাটা নয়—
আমি।

কিন্তু বিশ্বাস করুন,
ওখানে এখনো শূন্যতা আছে।

আর শূন্যতা
সবচেয়ে বিপজ্জনক জিনিস।

কারণ শূন্যতা
কারো জন্য অপেক্ষা করে না।

সে শুধু বলে—
“আরেকজন এলো।”

ওরা ভাবে আমাকে ধরে সব শেষ।
ফাইল বন্ধ হবে।
শহর স্বস্তি পাবে।

কিন্তু কেউ একটা প্রশ্ন করেনি—

আমি একা ছিলাম কেন?

আমি যখন শুরু করি,
আমি একা ছিলাম না।
আমি শুধু প্রথম ছিলাম।

মানুষ খুনে ভয় পায়।
কিন্তু অবহেলায় ভয় পায় না।

ওরা আবার ভুল করবে।
আবার কাউকে দেখেও দেখবে না।

আর তখন
আরেকটা দ্বিতীয় তলা তৈরি হবে।
হয়তো অন্য কোথাও।
হয়তো অন্য নামে।

আমি সম্রাট।
আমি কোনো গল্পের শেষ নই।

আমি একটা দীর্ঘশ্বাসের পরিণতি।

কারণ
সব সিরিয়াল কিলার খুন করে না—
কিছু কিলার আমরা প্রতিদিন তৈরি করি,
কাউকে না দেখে।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: কী ভয়ঙ্কর ছিল সে বাপরে

এতগুলা মানুষকে মেরেও সে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা করতে পারছিল

২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০৮

শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: ঠিক তাই—
সিরিয়াল কিলারদের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক হলো,
তারা আলাদা করে চোখে পড়ে না।

আপনার এই অনুভূতিটাই গল্পের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
ধন্যবাদ জানাই।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.