নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অদ্ভুত ছেলেটি

মেহেদী আনোয়ার

জানিনা

মেহেদী আনোয়ার › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘র’-এর কৌশল, প্রভাব ও গুপ্তচরবৃত্তির প্রকৃতি , পর্ব ০৬

১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৬

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যাকান্ড

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছিল। কেন?

কেন প্রবাদপ্রতীম জনপ্রিয়তার অধিকারী হয়েও তিনি অকালে প্রাণ হারান তাঁরই হাতে গড়া সেনাবাহিনীর কতিপয় সদস্যের হাতে? কারা ছিল সেই ঘাতক চক্রের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদদানকারী, চক্রান্তের মূল পরিকল্পক ?
এসব প্রশ্নের উত্তর আঁচ করতে পারলেও এর পক্ষে তথ্য প্রমাণ খুঁজে পাওয়া বেশ দুষ্কর বৈকি। বিশেষ করে যেখানে জিয়া হত্যায় বাংলাদেশের একটি বিশেষ মহল জড়িত যারা রাজনৈতিকভাবে বেশ শক্তিশালীও বটে, সেখানে অনেক কিছুই আজ হারিয়ে যাচ্ছে 'অপপ্রচারণার ইতিহাসে'।
তবে কারা জিয়া হত্যায় জড়িত ছিল ও কাদের জন্য তাঁকে হত্যা করেছিল একটি দেশের গুপ্তচর সংস্থা তা সহজেই বোঝা যায় সেই প্রতিবেশী দেশের স্বনামখ্যাত বিশ্লেষকগণের লেখা থেকে। এক্ষেত্রে প্রথমেই উল্লেখ করা যায় ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষক পার্থ সারথি ঘোষের ১৪ কথা। প্রেসিডেন্ট জিয়াকে ক্ষমতাচ্যুত করে ভারত আসলে কাদের বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আনতে চাইছিল সে রহস্য পার্থ ঘোষ কোনো রাখঢাক না করেই ফাঁস করে দেন তার এক লেখায়। প্রেসিডেন্ট জিয়া হত্যাকান্ডের পর বাংলাদেশে যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছিল সে সময় ২৯ আগস্ট '৮১ সংখ্যা ভারতীয় Mainstream পত্রিকায় 'Limits of Diplomacy: Bangladesh' শিরোনামে তার এক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। এ নিবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, “আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল থেকে ভারত কি পাবে তা বিচার্য বিষয় নয়। কিন্তু মুজিব ও তাঁর উত্তরসূরিদের সাথে অভিজ্ঞতার আলোকে এটা বলা যায় যে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের মধ্যেই ভারতের একটি শক্ত ভিত রয়ে গেছে।” এবং যেহেতু আ'লীগের মধ্যেই কেবল ভারতের ‘ভিত’ রয়ে গেছে তাই এই আ'লীগকে যে কোনো উপায়ে ক্ষমতায় আনাই ছিল ভারতের লক্ষ্য। এব্যাপারে ভারতের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে মিঃ পার্থ সারথি ঘোষ মন্তব্য করেন, “কিন্তু ঘটনা প্রবাহ ভারতের অনকূলে নিয়ে আসায় কিভাবে প্রভাব খাটানো যায়? এটি নিশ্চিত যে, শুধু কূটনীতি দিয়ে তা করা সম্ভব নয়, বরং রাজনৈতিক ভিত্তি মজবুত করার জন্য আওয়ামী লীগকে গোপনীয়ভাবে যাবতীয় সাহায্য প্রদান করতে হবে। এবং এরকম গোপন সাহায্য প্রদানের ক্ষেত্রে অতি অবশ্যই যে কোনো প্রকার নৈতিক সংস্কার বা নীতিকে বর্জন করতে হবে।” অর্থাৎ এ বিশ্লেষণ থেকে এ কথাই প্রমাণিত হয় যে, আ'লীগ ছাড়া অন্য কোন রাজনৈতিক দলকে ভারত তাদের স্বার্থরক্ষাকারী বলে মনে করে না। এবং এই আ'লীগকে ক্ষমতায় আনার জন্যই তারা ‘গোপনীয়' অনেক কাজ করেছে যে 'কাজের' অন্যতম হলো প্রেসিডেন্ট জিয়াকে হত্যা ।
মূলতঃ '৭৫-এর ১৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর ভারত বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে হটিয়ে একটি 'বন্ধুভাবাপন্ন' রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় আনার জন্য উঠেপড়ে লেগে পড়ে। এক্ষেত্রে আ'লীগই হচ্ছে সেই রাজনৈতিক দল এবং আ'লীগকে ক্ষমতায় আনার জন্যই ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থা 'র' জিয়া হত্যার পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। এব্যাপারে ১৫ মার্চ ’৮৯ সংখ্যা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকায় ঋতু সারিন প্রদত্ত তথ্যের উল্লেখ করা যায়। জনতা দলীয় এমপি মিঃ সুব্রামনিয়াম স্বামীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন 'র'ই মূলত জিয়াকে হত্যা করেছে। এদিকে কলকাতা থেকে প্রকাশিত অপর একটি ইংরেজী সাপ্তাহিক 'সানডে' পত্রিকায় প্রকাশিত একটি রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে ঢাকার The New Nation পত্রিকার এক রিপোর্টে বলা হয়-“ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র' ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর অনুমোদনক্রমে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে এবং নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে”।
উক্ত রিপোর্টে বলা হয় যে, “মুজিব হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ভারতে জিয়া হত্যার ষড়যন্ত্র দানা বাঁধে। কিন্তু ষড়যন্ত্র যখন পেকে ওঠে, সেই সময় ইন্দিরা গান্ধীর কংগ্রেস সরকারের পতন ঘটে। মোরারজি দেশাই ক্ষমতায় আসেন। প্রতিবেশী রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে হত্যা ষড়যন্ত্রের কথা শুনে তিনি 'সন্ত্রস্ত' হয়ে ওঠেন এবং হত্যা বন্ধ করেন। এরপর ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী পুনরায় ক্ষমতায় এলে প্রেসিডেন্ট জিয়া নৃশংসভাবে নিহত হন।”
প্রেসিডেন্ট জিয়াকে হত্যার পেছনে ভারত জড়িত ছিলো এটা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। এব্যাপারে হাজারো তথ্য প্রমাণ হয়তো অদূর ভবিষ্যতে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে। তবে এখানে উল্লেখ করা মোটেও অপ্রাসঙ্গিক হবে না যে, “জিয়া হত্যার সংবাদ সর্বপ্রথম প্রচার করেছিল আকাশবাণী-আগরতলার একজন সাংবাদিকের বরাত দিয়ে । প্রশ্ন হচ্ছে সারা দুনিয়া জানার আগে আগরতলার সাংবাদিক কি করে খবর পেলেন চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে? জিয়া হত্যার দায়ে জড়িত দুই পলাতক সেনা অফিসার দীর্ঘকাল কোথায় কাদের আশ্রয়ে ছিল? এখনও একজন কলকাতা নগরীতে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন” ।

অন্যদিকে জিয়া হত্যার মাত্র ১২ দিন পূর্বে শেখ হাসিনা ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। “ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের মাত্র তিন দিন পরই ভারত সৈন্য নামিয়ে তালপট্টি দ্বীপটি দখল করে নেয়। সারাদেশ প্রতিবাদে ফেটে পড়লেও তিনি ছিলেন নিশ্চুপ। তাঁর প্রত্যাবর্তনের ১৩ দিনের মাথায় দেশী-বিদেশী চক্রান্তকারীদের হাতে নিহত হলেন প্রাণপ্রিয় নেতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে সিলেট থেকে ঢাকা ফেরার সময় শেখ হাসিনা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্ত দিয়ে পাড়ি জমানোর প্রয়াস পান। সীমান্তরক্ষীরা বাঁধ সাধেন” ।
উপরোক্ত তথ্যাবলী ছাড়াও জিয়া হত্যায় ভারতের সংশ্লিষ্টতার পক্ষে যেসব প্রমাণাদি পাওয়া যায় সেগুলো হলো-
১. প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের একদিন পূর্বে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে।
২. জিয়া হত্যার দু'দিন পর ২ জুন '৮১ তারিখে আকাশবাণী পরিবেশিত সকাল ৭:৫৫-র খবরে বলা হয় যে, বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।
৩. আকাশবাণীর অন্য আরেক খবরে ভারতীয় সরকারের বরাত দিয়ে জানানো হয়, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে সহায়তার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
৪. প্রেসিডেন্ট জিয়ার হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পাওয়ার সাথেসাথেই ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নয়াদিল্লীস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনে জানতে চান যে, শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়েছে কিনা?

আসলে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ প্রবর্তনসহ স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও বিশেষ করে স্বকীয় কৌশলগত নীতিমালা প্রণয়ন করেছিলেন বলেই তাঁকে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডে নিঃসন্দেহে জড়িত ছিল ভারত। তাদের আধিপত্যবাদী নীল নকশা বাস্তবায়নে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় এবং বাংলাদেশের যে রাজনৈতিক দলটিতে ভারতের ভিত্তি' রয়ে গেছে সেই দলটিকে ক্ষমতাসীন করার জন্যই 'র'-এর হাতে নিহত হন জিয়াউর রহমান ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.