| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মহলদার
এ মাটি ছিনিয়ে নিতে কত বার ঝড় উঠেছে এ মাটি ভাসিয়ে দিতে কত বার বান ডেকেছে কত যে বুকের পাজর আড়াল করে রুখল সে ঝড় কত যে শোণিত ঢেলে ঊষর মাটি প্রাণ পেয়েছে মাটিতে জন্ম নিলাম মাটি তাই রক্তে মিশেছে
খালে বিলে এক সময় ছোট মাছ গুলো যে মাছের দাপটে দৌঁড়ের উপর থাকত তাদের একটি হল গজার মাছ। সেই গজার মাছ কিনা আজ অস্তিত্ব টেকানোর জন্য নিজেই দৌঁড়ের উপর আছে। কথাটা একটু মজা করে বললাম, তবে ওদের যে কি বিপদ সে ওরাই জানে। সত্যিই আজ গজার মাছের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। IUCN-এর তথ্য মতে এ মাছ আজ বিপন্ন প্রজাতির তালিকায়।
গজার মাছকে অঞ্চলভেদে কেউ কেউ গজাল, গাজরি, সাল ইত্যাদি নামে ডাকে। এর ইংরেজি নাম Great snakehead ও বৈজ্ঞানিক নাম Channa marulia. দৈর্ঘ্যে ৫-৬ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। ঘাসের মধ্যে বাসা করে ডিম পাড়ে। ডিম গুলো পানির উপর একটির সাথে একটি লেগে ভেসে থাকে। ডিম ফোঁটার কিছুদিন পর ছানারা ঝাঁক বেধে চলাফেরা করে, মা আর বাবা পাহারা দিয়ে রাখে ছানাদের। ছোট বেলায় বিলে দেখেছি গজার মাছের পোনার ঝাঁক। বাচ্চারা বেশ বড় (বড় সাইজের টাকি মাছের মত)হলেও ঝাঁক ধরে চলতে দেখা যায়। ঝাঁকের মধ্য বড়শি ফেললে টুপ টাপ গিলে ফেলে, ঝাঁক থেকে বড়শি দিয়ে ছোট বেলায় কতবার যে ধরেছি। যেখান দিয়ে গজারের পোনার ঝাঁক যায় সেখানে পানির উপর প্রচুর বুদ বুদ দেখা যায়। কাজেই এরকম বুদ বুদ দেখলে বোঝা যায় আশে পাশে গজারের পোনার ঝাঁক আছে। শোল বা টাকি মাছের পোনার ঝাঁক গেলেও একই রকম দেখা যায় তবে ওদের বুদবুদের সাইজ আকারে ছোট।
গজার মাছ ধরার গল্প বলি। গজার মাছের বাসার মধ্যে নারকেলের পাতার কয়েকটি শলাকা পুঁতে রেখে শিকারি হাতে কোচ বা জুতি নিয়ে চুপ করে বসে থাক একটু দুরে। যখনই গজার মাছ বাসায় আসে তখন শলাকা গুলো নড়তে থাকে। ওমনি জুতি দিয়ে কোপ বসানো হয় বাসার মাঝ খানে, মাছ গেথে যায় জুতির সাথে। এছাড়া আরেকটি পদ্ধতি হল বাসার চারিদিকের আগাছা পরিস্কার করে রেখে দেওয়া হয়। একই ভাবে বাসার মধ্যে নারকেলের শলাকা পুঁতে রেখে শিকারি ঝাঁকি জাল হাতে দুরে চুপ করে ওৎ পেতে থাকে। শলাকা নড়লেই জাল ফেলা হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে জালের চারিদিকের কিনারা কাদায় পুতে ফেলা হয় পা দিয়ে। তার পর জালের ভেতর হতে আগাছা পরিস্কার করে জালের উপর দিয়ে পাড়াতে থাকলে গজার পায়ের নিচে পড়ে এবং ধরে বের করা হয়। এভাবে ছোট বেলায় অনেক গজার মাছ ধরতে দেখেছি।
![]()
গজার মাছ নিয়ে কত যে গল্প প্রচলিত আছে গ্রামে তার হিসেব নেই। অনেকে একে ভুত মনে করে। নৌকায় মাছধরা অবস্থায় পানির নিচে বিশালাকার গজার মাছ ভেসে উঠতে দেখে অনেকের ভয় পাওয়ার গল্প শুনেছি। এদের চোখ দুটো সত্যিই ভয় পাওয়ার মত। পানির নিচে বড় সাইজের গজার মাছ ভেসে উঠে যদি চোখ পাকায় তবে যে কেউই ভয় পাবে। এর কদাকার চেহারার জন্য অনেকেই একে অপছন্দ করে, খেতে চায় না। আবার ভুত মনে করেই অনেকে এ মাছ খায় না। তবে সেই দিন আর নেই। ভয় দেয়ার মত সাইজের গজার আর দেখা যায় না। দেশের অনেক অঞ্চলে তো পাওয়াই যায় না। হাওর অঞ্চলে এখনো কিছু টিকে আছে। তবে সেটাও কতদিন থাকে সেটাই অশংকার। যেভাবে পরিবেশের উপর অত্যাচার চলছে তাতে হয়ত একদিন বিলুপ্ত হয়ে যাবে গজার মাছ।
ছবি-লেখক।
০৩ রা এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৪:৩০
মহলদার বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ জানবেন ইমন ভাই। শুভ কামনা রইল।
২|
০৩ রা এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৪:৪৮
নষ্ট কবি বলেছেন: শুভেচ্ছা রইল
০৩ রা এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৪:৫৪
মহলদার বলেছেন: শুভেচ্ছা আপনাকেও।
৩|
০৩ রা এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৪:৫৫
বাউন্ডেলে বলেছেন: ধননননবাদ
০৩ রা এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৫:০১
মহলদার বলেছেন: আপনাকেও ধননননননননননননননননবাদ ![]()
৪|
০৩ রা এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৪:৫৭
কবীর হুমায়ূন বলেছেন:
ঠিক গজার মাছের অস্তিত্ব এখন কমে গেছে। শীতকালে গজার মাছ খুবই মজার। বিশেষ করে কড়া ভাজি করে মুড়ি দিয়ে খেতে।
এমন পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ।
০৩ রা এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৫:০৩
মহলদার বলেছেন: মুড়ি দিয়ে খাইনি, তবে ভাজি বেশ মজার। ধন্যবাদ আপনাকেও।
৫|
০৩ রা এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৫:০১
শায়েরী বলেছেন: Amar ammur jnno ai mach khete parina
০৩ রা এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৫:০৪
মহলদার বলেছেন: আমার মা ও গজার মাছ খান না। অনেকেই এমন আছেন।
৬|
০৩ রা এপ্রিল, ২০১১ রাত ১১:৩৭
পারাবত বলেছেন: গজারের পোনার ভাজি খেটে ভাল লাগে।
০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১১ সকাল ৮:৩৭
মহলদার বলেছেন: আপনারও দেখি বাস্তব অভিজ্ঞতা আছে।
টাকি, শোল, গজারের কত পোনা যে ভাজি খেয়েছি। তখন বুঝতাম না। এখন অন্যদের যখন এগুলো ধরতে দেখি তখন খারাপ লাগে।
৭|
০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৩৫
কবির চৌধুরী বলেছেন: মায়াই লাগে!!
০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১১ সকাল ৮:৩৯
মহলদার বলেছেন: ঠিক বলেছেন কবির ভাই।
৮|
০৮ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:২২
স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: আমার কাছে মনে হয় কি মহলদার ভাই, নদী বা খাল-বিলে যারা পোনা সংগ্রহ করে এরা নদীর বা খালবিলের পাড়ে বসে নির্দিষ্ট কিছু পোনা রেখে বাকীগুলো ফেলে দেয়, যেমন গজার মাছের পোনা হয়ত ওদের কাছে যথেষ্ট লাভজনক নয়। ফলে এভাবেই দেশের অসংখ্য মাছের জাত হারিয়ে যাচ্ছে। খুব দুঃখ লাগে!
১৭ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১০:০৯
মহলদার বলেছেন: উপকূলীয় অঞ্চলে গলদা বা বাগদা চিংড়ির পোনা ধরার ক্ষেত্রে এই ঘটনাটা বেশী ঘটে। ১টা চিংড়ি পোনা ধরতে কয়েকশত অন্য মাছের পোনা নষ্ট হয়। তবে হাওর অঞ্চলে দেখেছি টাকি বা শোলের পোনা ধরার জন্য আলাদা ঘন ফাঁসের জাল নিয়ে শিকারীরা ঘুরে বেড়ায়, নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি বাজারে পোনা বিক্রিও করে। খুবই দুঃখজনক।
ধন্যবাদ জানবেন স্পেলবাইন্ডার।
৯|
২৬ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:৩১
কানা বাবা বলেছেন:
গজার মাছ এবং গাজী-কালু-চম্পাবতী নিয়া এ্যাক্টা মিথ আচে বুধয়; এই কারোনেও অনেকে খায় না এই মাছ...
অনেকেই খাইতে চায়না ইরমের আরেক্টা মাছ আচে, পিচ্চিকালে ধোর্তাম: কুনুরমে আধার ছাড়া খালি বড়শি দিয়াই টপাটপ ধোরুঞ্জাইতো... রাগা মাচ কৈতাম আম্রা... ল্যাঞ্জাতে লালচে রঙ...
২৬ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ৮:৪৫
মহলদার বলেছেন: অনেকদিন দেখা নাই। কোথায় ছিলেন? আছেন কেমন?
মিথটা আমার ঠিক জানা নেই। তবে রাগা মাছ ধরার কথা ভুলতে পারব না কোনদিন। কেঁচো দিয়ে ধরতাম, বদনা হাতে নিয়ে। আমাদের এলাকায় বলে খেলো টাকি। কয়েকদিন আগে একটাকে সংগ্রহ করে ছবি তোলার চেষ্টা করেছিলাম। আহত ছিল। ![]()
১০|
৩০ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১০:৫৯
সুরঞ্জনা বলেছেন: আমার মার কারনেই গজার মাছ খাইনি। বিয়ের পর দেখি এখানেও গজার, শোল অচল। শীতকালে শোল মাছ ছোট টুকরো করে কড়া করে ভেজে, নতুন মুলোর সাথে ভাজি দারুন লাগে খেতে।
সিলেটের মানুষের খুব প্রিয় মাছ গজার। আর গজার দিয়ে শীম বা ফরাসের( কিডনী বীনস) বিঁচির তরকারী না খেলে তো তাদের চলবেই না।
৩০ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১১:১৩
মহলদার বলেছেন: আমার ও খারাপ লাগেনা গজার। ![]()
১১|
০৯ ই মে, ২০১১ রাত ১০:৫৮
মাহবুব সুমন বলেছেন: দারুন
সুমনের খেরোখাতা
১০ ই মে, ২০১১ রাত ৮:৪৩
মহলদার বলেছেন: ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
০৩ রা এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৪:২৫
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ভালো লাগল। দ্বিতীয় ছবিটাই বাংলাদেশ।
শুভেচ্ছা রইল বলরামদা।