নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

রাতভর বৃষ্টি

দিনভর গান

মাহবুব মোর্শেদ

মাহবুব মোর্শেদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

নাগিব মাহফুজ মারা গেছেন

৩০ শে আগস্ট, ২০০৬ সকাল ৭:১৬

নোবেল বিজয়ী প্রথম ও একমাত্র আরব লেখক নাগিব মাহফুজ মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল 94 বছর। তিনি থাকতেন পুরানা কায়রোতে। কিছুদিন আগে পড়ে গিয়ে তার মাথায় আঘাত লেগেছিল। 1988 সালে নোবেল পুরস্কার পান তিনি। তারপর থেকে শুধু তার দিকেই নয় পুরো আরব সাহিত্যের ওপর বিশ্ববাসীর নজর পড়েছিল। 1994 সালে যখন তার বয়স 82 বছর তখন ধর্মবিরোধিতার অভিযোগে মোল্লারা তার ওপর আঘাত করেছিল। এতে গুরুতর আহত হয়েছিলেন তিনি। তারপরও নিজের স্বাভাবিক কাজকর্ম ও আড্ডা তিনি চালিয়ে যেতেন। 1911 সালে জন্ম হয়েছিল তার।



এ বছরের প্রথম দিকে তার একটি সাক্ষাৎকার অনুবাদ করেছিলাম আমি। সেটি এখানে জুড়ে দিলাম। এটিতে মূলত নোবেল পুরস্কার নিয়ে কথা বলেছিলেন তিনি।

'লেখা চালিয়ে যেতে নোবেল পুরস্কার উৎসাহ দিয়েছিল বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমি পুরস্কারটি পেয়েছি ক্যারিয়ারের শেষ বেলায়। পুরস্কার পাওয়ার পর একটি বই-ই আমি লিখেছি_ আত্মজীবনীর প্রতিধ্বনি (ইকোস অব অ্যান অটেবায়োগ্রাফি)। এখন লিখছি আরোগ্য লাভের স্বপ্ন । এমনকি কুসটুমুর উপন্যাসটিও পুরস্কার পাওয়ার আগে লেখা। পরে এটি বই হিসেবে বেরিয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবনে নোবেল জয় আমার ওপর এমন এক লাইফ স্টাইল চাপিয়ে দিয়েছে যাতে আমি অভ্যস্ত নই, এটাকে নিজে থেকে বেছে নেয়ারও কোনো কারণ নেই। আমাকে নিয়মিত কথা বলার জন্য মিডিয়ার মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু আমার পছন্দ নিরিবিলি লেখা চালিয়ে যাওয়া।' বলেন নাগিব মাহফুজ। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল_ 'আপনার জীবনে ও পরবর্তী কাজে নোবেল পুরস্কার কোনো প্রভাব ফেলেছিল?' গত মার্চে সুইডিশ একাডেমি লাইব্রেরির পরিচালক ও নোবেল প্রাইজ কনসালটেটিভ কমিটির সদস্য লারস রিডকু্যইস্ট কায়রো সফরে গিয়েছিলেনে। নোবেল বিজয়ী মিশরীয় সাহিত্যিক নাগিব মাহফুজকে তিনি কয়েকটি প্রশ্ন করেছিলেন। উদ্দেশ্য সুইডিশ একাডেমির নাগিব মাহফুজ বিষয়ক ওয়েব সাইটটিকে উন্নত করা। পুরস্কার পাওয়ার পর আপনার কি অনুভূতি হয়েছিল? প্রশ্ন করা হয় মাহফুজকে। তিনি বলেন, 'চূড়ান্ত আনন্দের পাশাপাশি ভীষণ বিস্মিত হয়েছিলাম আমি। আনাতোল ফ্রাঁস, বার্নাড শ, আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, উইলিয়াম ফকনারের মতো হাইয়েস্ট ক্যালিবারের লেখকদের সমসাময়িক কালে আমি পুরস্কার পেয়েছিলাম। তখন জঁ্যা পল সার্ত্রে ও আলবেয়ার কামুও ছিলেন। মাঝে মাঝে আমি শুনতাম যে, একজন আরব পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন। কিন্তু আমার ঘোর সন্দেহ ছিল ব্যাপারটি নিয়ে।' বলেন নাগিব মাহফুজ। 'আপনি নোবেল পাওয়ার পর ইজিপশিয়ান সাহিত্যে আপনার কাজের কি প্রভাব পড়েছিল?' 'উত্তরটা সমালোচকদের জন্যই তোলা থাকুক। একমাত্র তারাই বলতে পারেন আমার কাজ আরবীয় সাহিত্যকে প্রভাবিত করতে পেরেছে কি না। একটি প্রভাবের কথা আমি বলতে পারি, আমার পুরস্কার পাওয়ার পর আরবি ভাষার সাহিত্যকর্মগুলো অন্যান্য ভাষায় অনূদিত হয়েছে। আমি একথা রাশিয়ান ও জার্মান অতিথিদের কাছে শুনেছি।'

মন্তব্য ১১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১১) মন্তব্য লিখুন

১| ৩০ শে আগস্ট, ২০০৬ দুপুর ১:২৩

অতিথি বলেছেন: August is the cruelest month

২| ৩০ শে আগস্ট, ২০০৬ দুপুর ১:৩৯

কনফুসিয়াস বলেছেন: দু:খজনক। চারপাশে এরকম মানুষদের কেবলই হারাচ্ছি আমরা।

৩| ৩০ শে আগস্ট, ২০০৬ দুপুর ১:৪৩

মামু বলেছেন: মৃতূ্য চিরন্তন
তবু মানতে চায় না মন

৪| ৩০ শে আগস্ট, ২০০৬ বিকাল ৩:২৮

পথিক!!!!!!! বলেছেন: খারাপ খবরের জোয়ার একসাথে বয়। এটা প্রকৃতির একটা অলিখিত নিয়ম।
খারাপ লাগল।

৫| ৩০ শে আগস্ট, ২০০৬ বিকাল ৩:৪০

মাশা বলেছেন: মাহবুব আমি শোক প্রকাশ করছি। তিনি আমার প্রিয় লেখকদের মধ্যে অন্যতম।

৬| ৩০ শে আগস্ট, ২০০৬ বিকাল ৫:২০

অতিথি বলেছেন: তার ধর্মবিরোধীতা বিষয়ে কি একটি লেখা দিতে পারেন মাহবুব মোর্শেদ?

জানতাম তার চিন্তা-ভাবনা কি ছিল?

৭| ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ৯:৪৪

অতিথি বলেছেন: পোস্টটা আপডেট করলাম।

৮| ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:১৬

অতিথি বলেছেন: নাগিব মাহফুজ সরাসরি কখনও ধর্মবিরোধিতা করেননি। কিন্তু ইসলামী মোল্লাদের ব্যাপারে নানা সময় সমালোচনা মুখর ছিলেন। তিনি সেনসরশিপ উঠিয়ে দেওয়ার পক্কষ মত দিয়েছিলেন কেননা সেনসরশিপ মোল্লাদের কাজের পক্ষেই ব্যবহৃত হয়।
মিশরের সঙ্গে ইসরাইলের শান্তি চুক্তির সময় তিনি আনোয়ার সাদাতকে সমর্থন দিয়েছিলেন। এরপর থেকে তিনি প্রোইসরাইল বলে প্রচারণা চলতে থাকে। পরে আরব-ইসরাইল যুদ্ধে ইসরাইলের কাছে মিশরের পরজয়ের ঘটনায় তিনি ভীষণ বেদনাবিদ্ধ হন। তার লেখায় এ বেদনার কথা নানাভাবে উঠে এসেছে।
চিলড্রেন অব গাবালাবি উপন্যাসটি নিয়ে একসময় বিপুল বিতর্ক হয়েছিল। উপন্যাসটির কারণেই তার বিরুদ্ধে ধর্মবিরোধিতার অভিযোগ ওঠে। তিনি এতে ইসলামের নবীদের প্রেরিত পুরুষ হিসাবে দেখানোর চাইতে তাদের মানবিক ও সমাজসংস্কারক হিসাবে অবদানকেই বড় করে দেখিয়েছেন। এই উপন্যাসটি আল আহরাম পত্রিকায় প্রকাশিত হলে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছিল। মিশরের কোনো প্রকাশিক উপন্যাসটি ছাপার সাহস পায়নি। লেবানন থেকে বের হয়েছিল এটি।
1994 সালের 13 অক্টোবর কায়রোর বাসা থেকে বের হয়ে তিনি একা হাঁটছিলেন, এসময় একজন তার দিকে এগিয়ে আসে। তিনি ভেবে ছিলেন যে, লোকটি তার সাথে হাত মেলাতে চায়। কিন্তু হাত মেলাবার বদলে লোকটি তার গলায় ছুরি চালিয়ে দেয়। তিনি এই আঘাতের পর প্রায় মৃতু্যর কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। সে সময় কেউ এই আঘাতের দায় স্বকিার করেনি। কিন্তু সেসময়ের মিশরের শীর্ষ এক মোল্লা আক্রমণের আগে বলেছিলেন নাগিব মাহফুজের বেঁচে থাকার অধিকার নেই।

৯| ১১ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ৭:০৭

মোঃ শাহজাহান শুভ বলেছেন: ব্যক্তিগত জীবনে নোবেল জয় আমার ওপর এমন এক লাইফ স্টাইল চাপিয়ে দিয়েছে যাতে আমি অভ্যস্ত নই, এটাকে নিজে থেকে বেছে নেয়ারও কোনো কারণ নেই। আমাকে নিয়মিত কথা বলার জন্য মিডিয়ার মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু আমার পছন্দ নিরিবিলি লেখা চালিয়ে যাওয়া।' বলেন নাগিব মাহফুজ।

আমি শোকাহত। তিনি আমার প্রিয় লেখকদের মধ্যে অন্যতম।

১০| ১১ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ৭:১৯

ত্রেয়া বলেছেন: দুঃখজনক...

১১| ১১ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ৭:২৮

তমিজ উদ্‌দীন লোদী বলেছেন: গভীর শোক প্রকাশ করছি।
তিনি আমার অন্যতম প্রিয় লেখক।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.