| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
দেশভাগের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে ডকুমেন্টারি ধাচের সাহিত্যও চোখে পড়ে না। সবচেয়ে বড় কথা যা রচিত হয়েছে তার কোনোটাই বৃহত্তর পাঠকের মনোযোগ আকৃষ্ট করতে পারেনি। আইকন হয়ে ওঠেনি। অথচ হিন্দি ও উর্দু সাহিত্যে অনায়াসেই সেটা হয়েছে। ওই সময়ে ভাষাগুলোর প্রধান সাহিত্যিকরা প্রায় সবাই এ বিষয়ে লিখেছেন। কিন্তু আমাদের প্রধান সাহিত্যিকদের অনেকেই জীবিত থাকা সত্ত্বেও দেশভাগ তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেনি। ৪০ ও ৫০-এর দশকের বাংলা সাহিত্যের রমরমা অবস্থায় এটা ভাবা একটু কঠিন। যারা দেশভাগ প্রত্যক্ষ করেছেন তাদের এ প্রতিক্রিয়া থেকে পরবর্তী প্রজন্মগুলোর মনোভাব অনুমান করে নেয়া চলে।
হতে পারে ১৯০৫ থেকে ১৯১১ পর্যন্ত সময়ের ঘটনাপ্রবাহ ও বঙ্গভঙ্গের চড়াই-উতরাই থেকে বাংলাভাষী মানুষ দেশভাগের একটা প্রস্তুতি গ্রহণ করে ফেলেছিল। হয়তো বাঙালি মুসলমান ও বাঙালি হিন্দু জনগোষ্ঠী জানতো তারা একসঙ্গে থাকবে না। কিন্তু যাকে রাতারাতি ঘরবাড়ি ছেড়ে অজানার উদ্দেশে পাড়ি জমাতে হবে তা-ও কি জানা ছিল? হয়তো না।
পাকিস্তান আন্দোলনের পক্ষে পূর্ববাংলার মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বড় অংশ শরিক হয়েছিল। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতিও তাদের ছিল। এলিট মুসলিমরা একে একে কলকাতার পাততাড়ি গুটিয়ে ঢাকা ও করাচিতে আসন গাড়ছিলেন। কিন্তু বর্ধমান বা মুর্শিদাবাদে যে কৃষক পরিবারটি শত বছর ধরে বাস করছে তার পক্ষে তো বোঝা সম্ভব নয়, এ দেশ থেকে তাকে দূরের নীলফামারী কি নারায়ণগঞ্জে চলে যেতে হবে।
যারা ঢাকার বাড়ি বিক্রি করে কলকাতায়, কলকাতার বাড়ি বিক্রি করে ঢাকায় এসেছিলেন তারা হয়তো জানতেন। কিন্তু যে শ্রমিক কলকাতার কারখানায় কাজ করতো আর যে সেখান থেকে ফিরতে গিয়ে দাঙ্গার শিকার হলো তার পক্ষেও তা আগাম বোঝা সম্ভব নয়।
কেন দেশভাগ হলো তা নিয়ে অনেক বিতর্ক, পক্ষে-বিপক্ষে অনেক মত। কিন্তু কেউই হয়তো দ্বিমত পোষণ করেন না যে, এটা এ অঞ্চলে বৃটিশদের প্রত্যক্ষ উপনিবেশের অবসান ঘটিয়েছিল। ফলে ইনডিয়া ও পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশ অঞ্চলের মানুষও স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছিল। হতে পারে সে স্বাধীনতা হিংসা আর রক্তে ধোয়া, তারপরও স্বাধীনতা। কিন্তু আজকের বাংলাদেশ সে স্বাধীনতাকে মূল্যায়ন করার জন্য প্রস্তুত নয়, এটা মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে। কারণ ’৪৭-এর পরের অভিজ্ঞতা থেকে এ দেশের মধ্যবিত্ত সমাজ পাকিস্তান আন্দোলনের স্পিরিট থেকে অনেক দূর সরে গিয়েছিল। তারা নতুন ইতিহাস তৈরি করেছিল। ’৭১-এ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। কিন্তু একটা ব্যাপার অনেকেই স্বীকার করতে চান না, ’৪৭-এর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ভুল ছিল না। কারণ ’৪৭ যদি না হতো, তবে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মও হয়তো হতো না।
বাংলাদেশ আমাদের জীবন ও সাহিত্যকে অনেক হীনম্মন্যতা থেকে মুক্ত করেছে। কিন্তু ইতিহাসের ধোয়াশা থেকে বের করে আনতে পারেনি আজো। সফল সাহিত্যের জন্য যেমন দরকার প্রণোদনা তেমনি দরকার স্বচ্ছ অবস্থান। ইতিহাসের ভেতর ব্যক্তির স্পষ্ট অবস্থান ছাড়া সাহিত্যে তার প্রকাশ ঘটা অসম্ভব। লেখকের ইতিহাস বোধের পরিচ্ছন্নতা ছাড়া লেখার ভেতরকার ইতিহাস শুধু ঘটনা বর্ণনা ছাড়া আর কোনো তাৎপর্য বহন করতে পারে না।
২|
১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:৫৫
অন্যআনন বলেছেন: "’৪৭-এর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ভুল ছিল না। কারণ ’৪৭ যদি না হতো, তবে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মও হয়তো হতো না।"
ঐ সময়ে কি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়ার সময়ে বোঝা গেছিলো যে, বাংলাদেশ নামে একটা স্বাধীন রাষ্ট্র হইবো? আমার মনে হয়,সাম্প্রদায়িক নিশ্চয়তার জন্য ৪৭, আর অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য আমাদের ৭১। আসলে, সময়ের সাথে সাথে অনেককিছুই ভুল বলে প্রমাণিত হয়। কালউত্তীর্ণ চেতনা থেকে ইতিহাসকে সাহিত্যিকরা বিবচনা করলে ভালো করবেন।
৩|
১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:৫৭
অন্যআনন বলেছেন: বিবেচনা।
বিষয় বিবেচনার জন্য ধন্যবাদ মোর্শেদ ভাই।
৪|
১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:৫৯
বীথিলতা বলেছেন: মাহবুব মোর্শেদ,
বাংলাদেশের জন্মই প্রমাণ করে দেয় যে ৪৭ এর দেশভাগ সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল? বরং উল্টোটাই সত্য; বাংলাদেশের জন্মই প্রমাণ করে যে ৪৭ এর দেশভাগ একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিলো। হ্যাঁ, বলা যেতে পারে, ঐ ভুল সিদ্ধান্ত টি আমাদের জন্য 'শাপে বর' হয়েছে....আমরা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েছি!
৫|
১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৫:০৭
লাল মিয়া বলেছেন: রসময় গুপ্তের বানানরীতি ফলো করা কি তোমাগো চাকরির শর্ত নাকি?
৬|
১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৫:১৬
অন্যআনন বলেছেন: লাল মিয়া, আপনে কোন গুপ্তের বানান ফলো করেন?
৭|
১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৫:২০
নিরপরাধ বলেছেন: অন্যআনন এবং বীথিলতার সাথে একমত। '৪৭ এ আমাদের নেতারা যে ভুল করেছেন তা ক্ষমার অযোগ্য। বৃটিশদের বুদ্ধিতে ধর্মের ভিত্তিতে বৃহত্তর ভারতের অঙ্গহানি কখনো যৌক্তিক মনে হয়নি আমার কাছে।
৮|
১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৫:৪৭
হোসেইন-দ্য এ টিম বলেছেন: ৪০ ও ৫০ দশকে বাংলা সাহিত্যের রমরমা অবস্থা কোথায় ছিল?ঢাকায় না কলকাতায়?
কলকাতার মানুষকে তো দেশভাগ ঐভাবে এফেক্ট করে নি,তাই তাদের সাহিত্যে এটি কেন আসবে?
৯|
১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৪৫
লাল মিয়া বলেছেন: অন্যআনন,
প্রশ্নটা মোর্শেদ সাহেবরে করছিলাম।
১০|
১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ১১:২৫
দিগন্ত বলেছেন: ভাল লেখা। তবে ৪৭ আর ৭১ এর ব্যাপারটা আমার কাছে পরিষ্কার নয় ...
১১|
১৭ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ৯:২৩
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন: চমত্কার !চলুক...।
১২|
১৮ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:৪৮
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: সামির,
থ্যাংকস।
অন্যআনন,
ওই সময় স্পষ্ট বুঝা না গেলেও পরের বছর থেকে বুঝা যাইতে শুরু করছিল। ১৯৪৮ সালেই ভাষা প্রশ্ন সামনে আসতে থাকে। এই বিষয় নিয়া আলাদা করে লেখা দরকার মনে হয়।
বীথিলতা,
অবশ্যই তথাকথিত ভুল না হলে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন স্বাধীন কাশ্মীর বা স্বাধীন আসামের মতো হইতো।
১৩|
১৮ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:৫১
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: লাল মিয়া,
রসময় গুপ্তের কথা এখনো তোমার মনে পড়ে?
কি করবা, তোমার বয়স হ্ইতেছে না দেখি।
১৪|
১৮ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:৫৬
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: নিরপরাধ,
ধন্যবাদ। কিন্তু একমত নই।
হোসেইন দ্য,
কলকাতায় কত লোক উদ্বাস্তু হয়ে গেছিল তার কোনো পরিসংখ্যান আপনার নিকট আছে? সেইটার প্রভাব তো কিছু পড়ার কথা। কী বলেন?
দিগন্ত,
ধন্যবাদ।
১৫|
১৯ শে আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:৪৪
বীথিলতা বলেছেন: মাহবুব,
কি হইলে কি হইতো তাহা অনুমান করা খুবই কঠিন কাজ, কাজেই এই লইয়া বিতর্ক করা অনর্থক।
প্রসঙ্গ ছিলো ধর্মে ভিত্ত্বিতে দেশভাগ কতটা সঠিক। এটা যদি এতটাই অভ্রান্ত হতো তাহলে ধর্মই নিশ্চয় পারতো পাকিস্তানের অখন্ডতা বজায় রাখতে! নাকি?
স্বাধীন কাশ্মীর বা স্বাধীন আসামের স্বপ্ন যাঁরা দেখেন আশাকরি তাঁরা তাঁদের স্বপ্ন সফল করার সংকল্প এতো সহজেই ত্যাগ করবেন না। বাংলাদেশের জন্মও দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে।
১৬|
১৯ শে আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:৩৬
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: বীথিলতা,
আপনি ডিটেইল লিখলে তর্কের সুবিধা হতো।
তবু তৃতীয় কিস্তিটা খেয়ার করুন।
©somewhere in net ltd.
১|
১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:৪৮
সাইফ সামির বলেছেন: অসাধারণ বিষয় নির্বাচন!