নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

‍‍‍"Al-Quran", The source of science - Dr. Mahfuz

নাড়ীর স্পন্দন গুনে রুগীর সেবা করি, মনের মাধুরী মিশিয়ে চেতনার কলম ধরি।('মনের মাধুরী' হলো পার্থিব জ্ঞান সমৃদ্ধ স্বচ্ছ মনন- আর 'চেতনার কলম' হলো আল-কোরআনের ঐশী আলোয় আলোকিত বিবেক সম্পন্ন লিখন)

মাহফুজশান্ত

আসুন, "ধর্মান্ধতা পরিহার করে ধর্মিষ্ঠ হই" "বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম" [আল-কোরআন-৯৬. সূরা আল-আলাক] ০১. পাঠ কর (এবং ঘোষনা / প্রচার কর) তোমার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন- ০২. সৃষ্টি করেছেন মানুষকে ‘আলাক’ হতে। ০৩. পাঠ কর, আর (ঘোষনা / প্রচার কর) তোমার প্রতিপালক মহামহিমান্বিত। ০৪. যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন- ০৫, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।] পবিত্র কোরআনের ৯৬ নম্বর সূরা 'আলাক'-এর প্রথম এই পাঁচটি আয়াত অত্যন্ত মূল্যবান এবং যা মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে ফেরেশতা জিবরীল (আঃ)-এর মাধ্যমে সর্বশেষ নবী রাসূলুল্লাহ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উপর নাযিলকৃত সর্বপ্রথম ওহি অর্থাৎ ঐশীবাণী। মহামহিমান্বিত প্রতিপালকের নামে শিক্ষা লাভের জন্য পাঠ করা ( Study ) অর্থাৎ আল্লাহর রাস্তায় থেকে জ্ঞানার্জন করা এবং জ্ঞানের প্রচার ও প্রসারে কলমের ব্যবহার অর্থাৎ 'লিখন' যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখে তা সর্বজনবিদিত। মহান স্রষ্টা আল্লাহতায়ালা তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিকে খাঁটি মানুষ রূপে গড়ে তোলার জন্য যে সর্বপ্রথমে এই ধরণের চমৎকার ও কার্যকর ঐশীবাণী প্রদান করে অনুপ্রাণিত করবেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে পার্থিব জীবনের শত ব্যস্ততার মাঝেও আল-কোরআন ও বিজ্ঞানের বিষয়ে জ্ঞান চর্চার তাগিদে সময় বের করে নিতে হয়েছে। যে জ্ঞানের কোন সীমা পরিসীমা নেই, যে জ্ঞানের কথা লিখতে বসলে মহাসাগরের এমনকি আকাশ ও পাতালের সকল জলরাশিকে কালি বানালেও তা ফুরিয়ে যাবে- তার জন্য এই সময়টুকু অতি নগন্য। তথাপি আমার এই ছোট্ট প্রয়াসের জন্য দয়াময় আল্লাহতায়ালা যে আমাকে সুযোগ ও তৌফিক দিয়েছেন সেজন্য আমি অবনত মস্তকে সর্বশক্তিমান স্রষ্টার কাছে প্রতি মূহুর্তে শুকরিয়া আদায় করছি। সত্যের স্বরূপ উদঘাটনে যতটুকু সফলতা অর্জন করতে পেরেছি তার সবটুকুই আল-কোরআনের ঐশীবাণীসমূহের মর্ম সঠিকভাবে অনুধাবনের ফলেই সম্ভব হয়েছে। আর ব্যর্থতার জন্য একজন অতি সাধারন মানুষ হিসেবে আমার অযোগ্যতা ও অজ্ঞতাই সম্পূর্ণরূপে দায়ী। হে বিশ্ববিধাতা করুণাময় মহান আল্লাহ , সর্বপ্রকার অনিচ্ছাকৃত ভুল-ভ্রান্তির জন্য সর্বদা অবনত মস্তকে ক্ষমাভিক্ষা চাই। আর সরল ও সত্যের পথ যতটুকু অর্জন করতে পেরেছি তার উছিলায় একজন হতভাগা পাপী বান্দা হিসেবে তোমার জ্যোতির্ময় আরশের ছায়াতলে চিরকালের জন্য একটুখানি ঠাঁই চাই। আশাকরি ছোটখাট ভুলত্রুটি ক্ষমা-সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। চিন্তাশীল সুধীজনদের সুচিন্তিত পরামর্শ ও সমালোচনা সাদরে গ্রহণ করা হবে।

মাহফুজশান্ত › বিস্তারিত পোস্টঃ

'একলগে একাধিক বিয়া করা'- বৈধ কি?

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:১২

আল-কোরআনের কাঠ-গড়ায় একাধিক বিয়ে- বৈধ কি??



বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, নিচের শানেনযুল উল্লেখ করে পুরুষদের জন্য যেকোন অযুহাতে খেয়াল-খুশি মতো একের অধিক বিয়ে করায় কোন বাধা নেই বলে প্রচার করা হয়। পুঁথিগতভাবে সমব্যবহারের গান গাইলেও বাস্তব জীবনে তা মানা হচ্ছে কিনা, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেদিকে কারোরই তেমন খেয়াল নেই। কেউ কেউ তো এটিকে সুন্নত পালনের বড় পাল্লায় মাপতে উঠে পড়ে লেগে যায়। অনেক সময় দেখা যায়, সেই আবেগে আপ্লুত হয়ে বৃদ্ধ বয়সে বালিকা বধুকে ঘরে তোলার ভীমরতি যেন পাগলকেও হার মানায়-



[** শানে নুযুলঃ এক ইয়াতিম মেয়ের ধনসম্পদ ও বাগান ছিল । জনৈক পুরুষ সে গুলি দেখভাল করত। ঐ ব্যাক্তি সম্পদ সম্পত্তির লোভে কোনো রকম মোহর নির্ধারন না করেই মেয়েটিকে বিয়ে করে। এর পরিপেক্ষিতে আয়াতটি নাযীল হয়েছে। –মুখতাসার ইবনে কাসীর

*** এই স্থানে নারী বলতে স্বাধীনা নারী, কারন এর পরেই দাসীর উল্লেখ রয়েছে ।

**** শানে নুযুলঃ ইয়াতিমের সম্পর্কে ইন্সাফের জোরালো তাকীদ নাযীল হওয়ার পর সাহাবীগণ ইয়াতিমের বিষয়ে বিব্রত বোধ করলে এই আয়াত নাযীল করে বলা হল যে, ইয়াতিম মেয়ের ক্ষেত্রে ইনসাফ করতে না পারার আশঙ্কা থাকলে ইনসাফের ভিত্তিতে অন্য মেয়েদেরকে অর্থাৎ স্বাধীনাদের অনুর্ধ চার পর্যন্ত বিবাহ করতে পারো । আবার এটাও বলে দেওয়া হয়েছে যদি স্বাধীন নারীদের সাথেও সুবিচার করতে না পারো তবে বিবাহ কর একজনকে অথবা তোমাদের অধিকার ভুক্ত দাসীকে (দাসী অর্থে ক্রীতদাসী অথবা যুদ্ধ বন্দিনী উভয়কেই বোঝায়।)]



স্বভাবিকভাবে এখানে প্রশ্ন আসতে পারে-

(****ইয়াতিম মেয়ের ক্ষেত্রে ইনসাফ করতে না পারার আশঙ্কা থাকলে ইনসাফের ভিত্তিতে অন্য মেয়েদেরকে অর্থাৎ স্বাধীনাদের অনুর্ধ চার পর্যন্ত বিবাহ করতে পারো!!??

আলোচ্য শানে-নযুলের এই বক্তব্যটা কি সঠিক হলো?



তার মানে কি এই দাঁড়াল না যে, স্বাধীন নারীদের প্রতি ইনসাফ না করতে পারলেও সমস্যা নেই। যে ব্যক্তির ইনসাফ করার আশঙ্কা রয়েছে, সে আবার কেমন করে ৪ জন স্বাধীন নারীর প্রতি ইনসাফ করতে পারে!!?



ভাই, আল্লাহর কালামের বক্তব্য এতটা প্যাঁচালো/কন্ট্রাডিক্টরী নয়, বরং স্ট্রেটকাট।

ভাল করে লক্ষ্য করুন-

(**শানে নুযুলঃ এক ইয়াতিম মেয়ের ধনসম্পদ ও বাগান ছিল। জনৈক পুরুষ সে গুলি দেখভাল করত । ঐ ব্যাক্তি সম্পদ সম্পত্তির লোভে কোনো রকম মোহর নির্ধারন না করেই মেয়েটিকে বিয়ে করে। এর পরিপেক্ষিতে আয়াতটি নাযীল হয়েছে। –মুখতাসার ইবনে কাসীর)



এই গল্পটিকে যদি সত্য বলেও ধরে নেই, তাহলে তার পরিপ্রেক্ষিতে (০৪:০৩) নং আয়াত নয়, বরং নিচের (০৪:১২৭)নং আয়াতের বক্তব্যটি বেশি গ্রহণযোগ্য-



(০৪:১২৭) তারা তোমার কাছে স্বাধীন নারীদের বিধান সম্পর্কে জানতে চায়। বল, আল্লাহ তোমাদের কাছে তাদের সম্পর্কে বিধান দেন এবং এই কিতাবের মধ্যে যা তোমাদের কাছে পাঠ করে শোনানো হয় সেই সব (ইয়াতিমা-উননিসা-ই) এতিম (স্বাধীন) নারীদের সম্পর্কে যাদেরকে তোমরা তাদের জন্য যা নির্ধারণ করা হয়েছে তা প্রদান কর না, অথচ বিয়ে করার বাসনা রাখ এবং শিশুদের মধ্যে যারা অসহায় তাদেরও (তাদের জন্য যা নির্ধারণ করা হয়েছে তা প্রদান কর না), আর ন্যায্যভাবে তোমরা এতিমদের পাশে দাঁড়াও এবং তোমরা সৎকর্ম যা কিছু কর- আল্লাহ তো সে সব বিষয়ে সবই জানেন।



তাছাড়া (০৪:০২) নং আয়াতে স্পষ্টভাবে এতীমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই নির্দেশ সেই এতীম নারীকে বিয়ে করলেও যেমন প্রযোজ্য, না করলেও একইভাবে প্রযোজ্য-

(০৪:০২) অর্থ- এতীমদেরকে তাদের সম্পদ বুঝিয়ে দাও। খারাপ মালামালের সাথে ভালো মালামালের অদল-বদল করো না। আর তাদের ধন-সম্পদ নিজেদের ধন-সম্পদের সাথে সংমিশ্রিত করে তা গ্রাস করো না। নিশ্চয় এটা বড়ই মন্দ কাজ।



রাসূলের (সাঃ) নেতৃত্বে তৎকালীন মুসলিমগণ একের পর এক যুদ্ধ জয় করছিলেন। তাদের মধ্যে অসংখ্য নারীও বন্দী হয়। যাদের পিতামাতা, স্বামী সকলেই মুসলিমদের হাতে নিহত হয়। অপরদিকে বিপক্ষের হাতেও অসংখ্য মুসলিম নারী তাদের স্বামী, মাতাপিতা তথা অভিভাবক হারায়। আল-কোরআনের ভাষ্যমতে তাদের বেশির ভাগই এতীম ছিলেন এবং (০৪:০৩) নং আয়াতে ঐ সকল অসহায় এতীমদের ব্যাপারেই বিয়ের নির্দেশনামা দেয়া হয়েছে।



তৎকালীন যুদ্ধের নিয়ম বা রাজনৈতিক বিধান অনুযায়ী যুদ্ধ লব্ধ সম্পদ বিজয়ীদের মধ্যে বন্টন করা হত। যেহেতু তখন কারাগারের সু-ব্যবস্থা ছিল না, তাই এতীম বা অধিকৃতদের সহায় সম্পদসহ তাদের নিরাপত্তার জন্য সমাজের ক্ষমতাধর কর্তা ব্যক্তিদের মধ্যে বন্টন করা হত। এদের যাবতীয় দায়-দায়িত্ব ও নিরাপত্তাসহ যৌন ভোগেরও অধিকার ছিল। কিন্তু নারীদের স্ত্রীর মর্যাদা দেয়া হত না। এরূপ বিবিধ কারণে ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে নব্য মুসলিমগণ পূর্বের প্রথামত সীমাহীন ও অবাধ নারী ভোগের সুযোগ পায়। এরূপ অপ্রীতিকর পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের জন্য অচিরেই আল্লাহতায়ালা নির্দেশ নাযিল করেন। একটি কঠিন শর্তের অধীনে (সমব্যবহার) ঐ এতিম নারীদের মধ্য থেকে ২, ৩ বা ৪ জনকে বিয়ে করার অধিকার দিয়া হয়। এভাবে তাদের স্ত্রীর-মর্যাদা প্রদান করার মাধ্যমে সীমাহীন অত্যাচার ও যৌনাচার সুকঠিনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তাদের ন্যায্য অধিকার দেবার তাগিদ দিয়ে আল্লাহতায়ালা বলেন-



আল-কোরআন, সূরা নিসা-

(০৪:০৩) আর যদি তোমরা আশংকা কর যে, এতিম/ অনাথদের প্রতি ন্যায় বিচার করতে সক্ষম হবে না, তবে বিয়ে করে নাও যাকে উপযুক্ত মনে হয় সেই এতীম/ অনাথ (Helpless; Shelter less; unprotected) নারীদের মধ্যে থেকে দুই বা তিন কিংবা চারটি। আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তোমরা ন্যায় বিচার করতে পারবে না, তবে একটিই অথবা তোমাদের ("মা-মালাকাত-আইমানুকুম"- যুদ্ধবন্দীনি/দাসীকে) ডান হাতের অধিকারভূক্তকে; এমনটিই তো অন্যায় রোধের জন্য উত্তম।



(০৪:০৩) নং আয়াতে এতিম শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে এবং যার অর্থ শুধু পিতৃহীন শিশুই নয়, বরং পিতৃহীন দূর্বল, অসহায়, অনাথ (Helpless; Shelter less; unprotected) স্বাধীন নারী এবং পিতৃহীন ও স্বামীহারা বিধবা/ তালাকপ্রাপ্ত স্বাধীন নারীরাও এর আওতায় পড়েন। তাছাড়া সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক প্রতিকূল অবস্থার জন্য কোন রাষ্ট্রে অবিবাহিত নারীদের সংখ্যা বেড়ে গেলে 'অসহায়' অবস্থায় পতিত হবার কারণে তারাও এতিম হিসেবে গন্য হতে পারেন। যেহেতু এখানে এতিমদের প্রসংগে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং বিয়ের অনুমতির ক্ষেত্রে এখানে স্পষ্টভাবে (مِنَ النِّسَاءِ) -'মিনা উননিসা-ই' অর্থাৎ 'সেই নারীদের মধ্য থেকে' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। সুতরাং এখানে নির্দিষ্টভাবে 'সেই এতিম স্বাধীন নারীদের' কথাই বোঝানো হয়েছে। বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝতে হলে আমদেরকে এর পরের (০৪:১২৭) নং আয়াতের বক্তব্যের প্রতি খেয়াল করতে হবে। এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, রাসূলের (সাঃ) কাছে স্বাধীন নারীদের বিধান সম্পর্কে জানতে চাইলে মহান আল্লাহ তাদের সম্পর্কে বিধান জানিয়ে দিয়েছেন এবং এই কিতাবে সেই ইয়াতিমা-উননিসা-ই অর্থাৎ স্বাধীন নারীদের মধ্যে যারা এতিম তাদের সম্পর্কেও বিধান জানিয়ে দিয়েছেন এবং তা পাঠ করে শোনানো হয়। কিন্তু তারপরও এতিম নারী ও অসহায় শিশুদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মহান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত অধিকার থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করা হয়ে থাকে। তাই এই অসহায় ও এতিমদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যারা এই ধরনের সৎকর্ম করেন- মহান আল্লাহ তা সবই জানেন। তাছাড়া (০৪:০৩) নং আয়াতে আরেকটি বিষয় পরিষ্কার করে দেয়া হয়েছে যে, উপযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হলে তবেই সেই (এতিম/অনাথ- Helpless; Shelter less; unprotected) নারীদেরকে মোহরানা নির্ধারণ করেই বিয়ে করতে হবে। সুতরাং এখানে 'বিয়ের উপযুক্ত নয় এরূপ কোন এতিম শিশুকে বিযে করার অনুমতি দেয়া হয়েছে'- এমনটি ভাববার অবকাশ নেই। এতিম (অনাথ- Helpless; Shelter less; unprotected) নারীদের দূর্বলতার সুযোগে তাদের সাথে অসৎ (এক্ষেত্রে যেহেতু নারী হিসেবে তাদেরকে যৌন নিপীড়নের সম্ভাবনাই বেশি থাকে, তাই সেই ধরনের) আচরণ করার কোন স্কোপ যেন না থাকে, সেই পথ বন্ধ করার নির্দেশই এখানে দেয়া হয়েছে। অগত্যা তাদেরকে যদি খুব ভাল লেগেই যায় সেক্ষেত্রে কোনরূপ ছলচাতুরী নয়, বরং সেই পিতৃহারা বা স্বামীহারা দূর্বল, অসহায়, অনাথ, বিধবা/ তালাকপ্রাপ্তা বিয়ের জন্য উপযুক্ত এতিম নারীদের মধ্যে থেকে ২, ৩ ও সর্বোচ্চ ৪ জনকে পর্যন্ত বিয়ে করার পারমিশন দেয়া হয়েছে। সুতরাং ইসলামের প্রাথমিক যুগের সেই ক্রাইসিস মোমেন্টেও এতিমের দোহাই দিয়ে দূর্বল, অসহায়, অনাথ, (Helpless; Shelter less; unprotected) বিধবা/ তালাকপ্রাপ্তাদের মধ্য থেকে ইচ্ছেমত অগনিত নারীকে বিয়ের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আবার একাধিক এতিম নারীকে বিয়ে করলে যদি তাদের প্রতি ন্যায় বিচারের অন্যথা হবার আশঙ্কা থাকে, তাহলে সেই এতিম নারীদের মধ্য থেকে ১ জনকেই বিয়ে করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর তা না হলে "মা-মালাকাত-আইমানুকম" অর্থাৎ 'ডান হাতের অধিকারভুক্তকে' বিয়ে করতে বলা হয়েছে। এখানে ৪ জন নারী বিয়ের প্রসঙ্গে এতিম নয় এরূপ একাধিক অবিবাহিতা স্বাধীন নারীদেরকে টেনে আনার কোন স্কোপই নেই। সুতরাং এই আয়াতের বক্তব্য অনুসারে স্বাভাবিক কিংবা বৈরি কোন পরিস্থিতিতেই একসাথে ১ জনের বেশি অর্থাৎ একাধিক এতিম নয় এরূপ অবিবাহিতা স্বাধীন নারীদেরকে বিয়ে করার বৈধতা আছে বলে প্রমাণিত হয় না। তবে পারিবারিক কিংবা সামাজিক প্রতিকূল পরিস্থিতিকে সামাল দেবার নেক উদ্দেশ্য নিয়ে এবং ইনসাফ করার আশঙ্কা না থাকলে ও সামর্থ্য থাকলে ৪ জন পর্যন্ত এতিম স্বাধীন নারীকে অথবা ১ জন অবিবাহিতা স্বাধীন নারীর সাথে আরও ৩ জন পর্যন্ত এতিম স্বাধীন নারীকে বিয়ে করার অপশন রাখা হয়েছে। এছাড়াও যে কোন ধরনের বৈরী পরিবেশ পরিস্থিতির কারনে কোন মুসলিম রাষ্ট্রে যদি এতিমদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে, তাহলে প্রথমত সেই রাষ্ট্রের সরকারকে তাদের সকল দায়-দায়িত্ব নিতে হবে। আর যদি সরকারের পক্ষে আদৌ সম্ভব না হয় এবং সরকারের অপারগতার কারণে তাদের প্রতি ন্যায় বিচার না হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে সামর্থবানদেরকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো যেতে পারে। সেই অসহায় নারীদেরকে জনগণের সম্পত্তি বানানোটা মোটেই সম্মানজনক ও সুখকর হতে পারে না। বরং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুসারে সেই ক্রান্তিকালের জন্য নিষ্ঠাবান ও সামর্থবান পুরুষের ঘরে ইনসাফের ভিত্তিতে অন্য দু-একজনের সাথে স্ত্রীর মর্যাদা নিয়ে বসবাস করাই তো উত্তম। জাতির বৃহত্তর স্বার্থের খাতিরে সেই ঘরের স্ত্রীরা যদি একজন অপরজনকে বোন ভেবে সমঝোতা করে নেন, তাহলে আল্লাহর কিতাবের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধৈর্য ধারন ও পার্থিব স্বার্থকে ত্যাগ করার মাধ্যমে অবশ্যই মহান আল্লাহকে খুশি করতে সক্ষম হবেন। এই ত্যাগ স্বীকারের কারনে ছোট-খাট ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে পরকালীন অনন্ত প্রতিদান থেকে নিশ্চই মহান স্রষ্টা তাদেরকে বিমুখ করবেন না।



এবার নিচের আয়াতের বক্তব্যর দিকে ভাল করে লক্ষ্য করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে যাবে-

সূরা নিসা (মদীনায় অবতীর্ণ)

(০৪:১২৮) অর্থ- যদি কোন নারী তার স্বামীর পক্ষ থেকে অসদাচরণ কিংবা উপেক্ষার আশংকা করে, অতঃপর শান্তির শর্তে পরস্পর মিটমাট/ পুন-মিত্রতা/ মিমাংসা করে নিলে তাদের উভয়ের কোন পাপ নাই। মিটমাট/ পুন-মিত্রতা/ মিমাংসার পন্থাই উত্তম। মনের মধ্যে লোভ বিদ্যমান থাকে; যদি তোমরা সৎকর্ম কর ও ভয় কর (আল্লাহকে), তবে তোমরা যা কর আল্লাহ তার সব খবর রাখেন।

(০৪:১২৯) অর্থ- আর তোমরা কখনই (একাধিক) স্বাধীন নারীদের প্রতি সুবিচার করতে সক্ষম হবে না, যদিও এর আকাঙ্খা করে থাক। অতঃপর প্রবৃত্ত হইও না এ সকল আসক্তিতে এবং তাকে (এক স্ত্রীকে) দোদুল্যমান অবস্থায় একাকি ফেলে রেখে। আর যদি সমঝোতা করে নাও এবং খোদাভীরু হও, তবে নিঃসন্দেহে আল্লাহ পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।

(০৪:১৩০) অর্থ- আর যদি তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে আল্লাহ স্বীয় প্রশস্ততা দ্বারা প্রত্যেককে অভাবমুক্ত করে দিবেন। আল্লাহ সুপ্রশস্ত, প্রজ্ঞাময়।



(০৪:১২৮) নং আয়াতে স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীর প্রতি অসদাচরণ বা উপেক্ষার বিষয় ঘটলে নিজেদের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার শর্ত সাপেক্ষে আপোস-নিষ্পত্তি করে নেয়ার উপদেশ দেয়া হয়েছে এবং এক্ষেত্রে অবশ্যই সততা বজায় রাখতে বলা হয়েছে। (০৪:১২৯) নং আয়াতের বক্তব্যে বুঝিয়ে দেয়া হলো যে, মানুষ হিসেবে যেহেতু সবার দৃষ্টিভঙ্গি ও চাওয়া পাওয়া এক রকম নয়, তাই যারা বিয়ে করা এক স্ত্রীকে ছেড়ে সখের বসে একাধিক স্বাধীন নারীকে স্ত্রী হিসেবে পাবার বাসনা করে, সেক্ষেত্রে তারা মনে মনে এমনটি চাইলেও একসাথে একাধিক স্বাধীন নারীদের বিয়ে করে তাদের (স্ত্রীদের) প্রতি কখনই সুবিচার করতে সক্ষম হবে না। তাই একজন স্ত্রীকে একাকি দোদুল্যমান অবস্থায় ফেলে রেখে এ ধরনের আসক্তিতে প্রবৃত্ত না হওয়ার নির্দেশই দেয়া হয়েছে। অতঃপর কোন প্রকার লোভ-লালসার মোহে পড়ে নয়, বরং বিশেষ ও ন্যায় সঙ্গত কারনে যদি (স্বামী ও স্ত্রী) একে অপরকে পছন্দ নাই হয় এবং অগত্যা সংসার করা কঠিন হয়ে পড়ে, তাহলে ঝুলিয়ে না রেখে বিধিমত পরস্পরের মধ্যে বিচ্ছেদ করে নেয়াই উত্তম। তারপর চাইলে পছন্দ মত অন্য কাউকে বিয়ে করায় কোন দোষ নেই। (০৪:১৩০) নং আয়াতে আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে এরূপ সততা রক্ষাকারীদের জন্য অভাবমুক্ত করে দেবার অঙ্গিকার করা হয়েছে।



প্রায়ই দেখা যায় যে, সন্তান বিশেষ করে পুত্র সন্তান হচ্ছে না এই অযুহাতে একাধিক বিয়ের পাঁয়তারা করা হয়। অনেক সময় স্ত্রীর মারাত্মক কোন অসুস্থতার দোহাই তোলা হয়। এরূপ বিভিন্ন কারন দেখিয়ে এক স্ত্রীকে অসহায়ভাবে ফেলে রেখে তারই চোখের সামনে আরেক নারীকে স্ত্রী বানিয়ে নিয়ে এসেই শুধু ক্ষান্ত হয় না। বরং বৈধতার লাইসেন্স পেয়ে নুতন স্ত্রীর সাথে ফস্টিনস্টির মাত্রাটা এমন আকার ধারন করে যে তা নির্লজ্জের মত প্রদর্শন করতেও যেন তাদের বিবেকে বাধে না। ইসলামের নামে অসমব্যবহারের এরূপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করাটা কোন নিরেট ধর্মান্ধ কিংবা অজ্ঞ ধর্মহীনেরা ছাড়া অন্য কারো পক্ষে সম্ভব নয়। যারা আল্লাহকে সত্যিই ভয় করেন, তারা এ পথে পা বাড়াতেই পারে না। এরূপ আচরণ করা অমানবিক এবং অত্যন্ত গুণাহের কাজ। অনেকে পাশ্চাত্যের উপমা টেনে ব্যভিচার রোধের জন্য একসাথে একাধিক বিয়ে করার পক্ষে গান গায়। কিন্তু তাদের এই যুক্তি সত্যিই হাস্যকর। প্রকৃত অর্থে যাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় নেই তারা বিয়ে করার পরও ব্যভিচার করে। আর যারা ইমানদার তারা একটি বিয়েতেই সন্তুষ্ট থাকে। আর যাদের বিয়ের সামর্থ নেই তারা সামর্থ না হওয়া পর্যন্ত রোজা রাখে ও ধৈর্য ধারন করে।



হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) বা খলিফাদের সমস্ত বিয়ে গুলোই সেই সময়ের পরিস্থিতি অনুসারে আল্লাহর ওহী নাজিল হওয়ার মাধ্যমে যেমন সঠিক ছিল। তেমনি এখনও যদি সেরূপ পরিস্থিতি এরাইজ করে, তাহলে আল্লাহর ওহী সেরূপই কার্যকর হবে। কোন নির্দিষ্ট সময় বা পরিস্থিতির দোহাই দেয়া নয়, বরং কিয়ামত পর্যন্ত সকল সময়ে এ ধরনের পরিস্থিতিতে মুসলিমদের জন্য আল্লাহর আইন খুবই যুক্তিসংগত এবং কার্যকর বৈকি?



তবে সৌদি বাদশা বা ধনীরা বা অন্য কে কি করেছে বা করছে, তা কখনই মুসলিমদের আদর্শ নয়- আমি সব সময়ই এসবের ঘোর বিরোধিতা করি।



অতএব সামর্থ থাকলেই বৃহত্তর কোন বিশেষ কারণ ছাড়া আপন খেয়াল-খুশিমত একসাথে একাধিক বিয়ে করা কখনও বৈধ ছিলনা এবং এখনও তা হতে পারে না।



মহান আল্লাহতায়ালা যেন আমাদের সঠিক পথে থাকার তৌফিক দান করেন-

মন্তব্য ৫৭ টি রেটিং +৯/-০

মন্তব্য (৫৭) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:২১

কাজী দিদার বলেছেন: আপনার লেখা বিষয় ভাল কিন্ত ঠেকানোর লোক তো নাই
কি করবেন আপু ,বিপদে পরলে মানতে হয়.............
তাই মেনে ণেন

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:২৬

মাহফুজশান্ত বলেছেন: আপু না, ভাই কন- ব্রাদার

২| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:৩৯

বাংলার এয়ানা বলেছেন: অনুগ্রহ করে ভুন ব্যখ্যা দিযে আর একজন তসলিমা নাসরিন হবসন না

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৮:১৬

মাহফুজশান্ত বলেছেন: কাকে যে কি শুনাচ্ছেন!!?? নিচে দেখেন-

একজন কবির চিন্তা ও কবিতার ভাষা এত নগ্ন ও কুৎসিত হতে পারে?

তসলিমার কবিতাগুলো যদি এমন হত!

৩| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:০২

ফরিদ আলম বলেছেন: বাহ! কি সুন্দর ভুল ব্যাখ্যা। মাহফুজ ভাই দয়া করে সলফে সলেহিনদের সময় থেকে আজ পর্যন্ত কোন আলেম কি আপনার মতো ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা বলুন। আর মুর্খদের মতো শুধু কোরান মেনে চলবেন না। হাদিস দেখেছেন কোনদিন। প্রত্যেক হাদিসের কিতাবুল নিকাহ পড়ে দেখুন। আশা করি আপনার ধারনা পাল্টাবে।

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৮:২১

মাহফুজশান্ত বলেছেন: ভুল ও ঠিক চেনার ক্ষমতা অর্জন করতে হয়-
আপনি যেসব কিতাবের কথা বার বার বলছেন, সেই পাঠ অনেক আগেই সমাধা করেছি-
আল-কোরআন মেনে চলাকে যদি মূর্খতা বলেন- তবে আমি তাতেও রাজি
আপনাকে আমি কোন পাল্লায় মাপতে চাইনা- আশাকরি আপনার/আপনাদের জন্য আল্লাহতায়ালার পাল্লাই যথেষ্ট হবে-

৪| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:২১

শিপু ভাই বলেছেন: খুব সুন্দর করে যুক্তিপূর্ন ভাবে একটি জরুরি বিষয় বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।
অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।

জাজাকাল্লাহ!

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৮:২৩

মাহফুজশান্ত বলেছেন: পড়ার ও সত্যকে অনুধাবন করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ, ভাই
শুভকামনা রইল-

৫| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৩২

লালন রিটার্ন বলেছেন: অনেক কিছুই বলার ছিল

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৮:২৫

মাহফুজশান্ত বলেছেন: জী ভাই, কোন অসুবিধা নেই- বলে ফেলেন- আমি প্রস্তুত

৬| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৯:৫৮

ফরিদ আলম বলেছেন: আল-কোরআন মেনে চলাকে যদি মূর্খতা বলেন

পবিত্র আল-কুর'আন মেনে চলাকে মুর্খতা বলিনা তবে শুধু কুর'আন মানা আর হাদিস না মানাকে মুর্খতা বলছি। আর এব্যাপারে নিশ্চয় আপনি আমার সাথে একমত হবেন।

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১০:৪৬

মাহফুজশান্ত বলেছেন: স্পষ্টভাবে তুলে ধরবার পরও আল-কোরআনের শাশ্বত শিক্ষা থেকে মুখ ফিরিয়ে যারা অন্য কিছুকে প্রাধান্য দেয়, তাদের মত ও পথের সাথে আমার বিস্তর ফারাক থাকাটাই স্বভাবিক-

৭| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১০:১৩

ফরিদ আলম বলেছেন: ভুল ও ঠিক চেনার ক্ষমতা অর্জন করতে হয়
আপনি সেই ক্ষমতা অর্জন করেছেন আর পৃথিবী বিখ্যাত আলেমরা ঘাস কাটছেন নাকি?

আপনি যেসব কিতাবের কথা বার বার বলছেন, সেই পাঠ অনেক আগেই সমাধা করেছি
সমাধা করেছেন নাকি সেই সব কিতাবকে সমাধি দিয়েছেন। নাহলে তো এই মুর্খামি করা উচিত না।

আল-কোরআন মেনে চলাকে যদি মূর্খতা বলেন
পবিত্র আল-কুর'আন মেনে চলাকে মুর্খতা বলিনা তবে শুধু কুর'আন মানা আর হাদিস না মানাকে মুর্খতা বলছি। আর এব্যাপারে নিশ্চয় আপনি আমার সাথে একমত হবেন।

এক খরগোসকে খাওয়ার জন্য একবার এক বাঘ পিছু নিয়েছিল। ্কিছুক্ষন দৌড়াবার পর খরগোস দু চোখ বন্ধ করে দিল। সে ভাবল চারিদিক তো অন্ধকার এখন আর বাঘ আমাকে ধরতে পারবে না। কিন্তু বোকা খরগোস এটা বুঝতে পারলো না যে সে অন্ধকার দেখছে তার মানে অন্ধকার নয়।

আপনার জ্ঞানে যদি মনে হয় এটাই ঠিক তারমানে এই নয় যে এটাই ঠিক। আমি প্যারিস দেখেনি তারমানে কি প্যারিস নাই? আর আমি যদি বলি যেহেতু আমি প্যারিস দেখেনি তাই প্যারিস নাই তাহলে আমাকে কি বলবেন বোকা না পাগল?

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১০:৪০

মাহফুজশান্ত বলেছেন: খুউব রেগে গেলেন দেখছি- এটাই তো আপনাদের রোগ
হাদিছের নামে গাল-গল্প শোনাতে শোনাতে এখন দেখছি খরগোশ, বাঘ, ভল্লূক- একে একে আরও কত কিছুর গল্পই না আপনার কাছে শুনতে হবে!!?
না ভাই, পরকাল দেখিনি বলে- পরকাল অবিশ্বাস করার মত মূর্খ আমি নই-
আপনার মনের মত বিখ্যাত আলেম সাহেবরা ঘাস কাটুক বা আমার পিন্ডি চট্কাক- তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না- কারন আমি তাদের তাবেদারি করিনা।
আমার কাছে যা সত্য বলে প্রকাশিত হয়েছে- তা আমি বলেছি এবং বলব

আমি বার বারই বলেছি- "আল-কোরআন আমার কাছে সবার ঊর্ধে, এরপর আল্লাহর বাণীর সাথে বিন্দুমাত্র সাংঘর্ষিক নয়, রাসূলের (সাঃ) এরূপ হাদিছকে আমি পৃথিবীর অন্য সবকিছুর চাইতে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেই এবং মানতে চেষ্টা করি।"

কিন্তু হাদিছের নাম ভাঙ্গিয়ে আল-কোরআনের শিক্ষাকে লুকানোর দলে আমি নেই- কারন সত্য একদিন ঠিকই প্রকাশিত হবেই
সুতরাং যে যত বড় হাদিস বর্ণনাকারী বা নামধারী আলেম হোক না কেন, আল-কোরআনের সাথে সাংঘর্ষিক কারো কোন কথা, গল্প বা বক্তব্যের আমার কাছে কোনই মূল নেই-
ধন্যবাদ-

৮| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:০৮

ঢাকা থেকে বলেছেন: কুরআন শরীফ বুঝতে হলে হাদীছ শরীফ চর্চা করতে হবে। আর হাদীছ শরীফ বুঝতে হলে ইজমা ক্বিয়াসের মাধ্যমে বুঝতে হবে।
হাদীছ শরীফ ও ইজমা-ক্বিয়াস ব্যতীত শুধু কুরআন শরীফ দিয়ে কখনো ইসলাম বুঝা যাবে না। হাদীছ শরীফ ও ইজমা-ক্বিয়াস ব্যতীত ইসলাম বুঝতে গেলে বাতিল ৭২ দলের মত বিভ্রান্ত হতে হবে।
কুরআন শরীফ-এ আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, "“আমার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তা আঁকড়িয়ে ধর, (যা বলেছেন তা পালন কর) যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তা থেকে বিরত থাক। এ ব্যাপারে আল্লাহ পাককে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক কঠিন শাস্তিদাতা।”"

হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন-সাবধান! জেনে রাখ, নিশ্চয়ই আমাকে কুরআন শরীফ দেয়া হয়েছে এবং তার সাথে তার অনুরূপ (হাদীছ শরীফ) দেয়া হয়েছে।
কুরআন শরীফের সাথে হাদীছ শরীফের কোন অবস্থায়ই সংঘর্ষ হতে পারে না। কারণ, দুটিই ওহী।
একটা তেলাওয়াত করা হয় আর অন্যটা তেলাওয়াত করা হয় না। প্রার্থক্য এটাই।
হাদীছ শরীফ হলো কুরআন শরীফের ব্যখ্যা।
কিছু কিছু বিষয় রয়েছে যা ব্যাখ্যা সাপেক্ষ।

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:২৩

মাহফুজশান্ত বলেছেন: কুরআন শরীফ বুঝতে হলে হাদীছ শরীফ চর্চা করতে হবে। আর হাদীছ শরীফ বুঝতে হলে ইজমা ক্বিয়াসের মাধ্যমে বুঝতে হবে- ঠিক, কিন্তু ইজমা ক্বিয়াসের দরজা কি তাহলে এখন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে? কে বন্ধ করলো এবং কেন?
হাদীছ শরীফ হলো কুরআন শরীফের ব্যখ্যা- আমি কি তা অস্বীকার করেছি?
কিছু কিছু বিষয় রয়েছে যা ব্যাখ্যা সাপেক্ষ- এ বিষয়টি কি তাহলে ব্যাখ্যা সাপেক্ষ নয়?

এখানে দেখুন-
"আল-কোরআন আমার কাছে সবার ঊর্ধে, এরপর আল্লাহর বাণীর সাথে বিন্দুমাত্র সাংঘর্ষিক নয়, রাসূলের (সাঃ) এরূপ হাদিছকে আমি পৃথিবীর অন্য সবকিছুর চাইতে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেই এবং মানতে চেষ্টা করি।"

৯| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৩:৫১

লালন রিটার্ন বলেছেন: হ্যা ইসলামে বৈধ। যেহেতু কোরানে আছে। যে যতখুশি বিয়ে করেন। যতবেশি বিয়ে করবেন ততবেশি _______ ।।

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১২:৪৬

মাহফুজশান্ত বলেছেন: আপনিও তো দেখছি ধর্মহীন সেজে ধর্মান্ধদের মত বুলি মারছেন- এসব বলে লাভ হবে না, সত্য ঠিকই আপন মহিমায় প্রকাশিত ও প্রতিষ্ঠিত হবেই- ইনশাল্লাহ

১০| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:২২

কে এস আরেফিন বলেছেন: এখানে হয় আপনি জেনে ভুল ব্যাখ্যা করেছেন, না হয় না জানার ফলে এমন ব্যাখ্যা আপনার মন থেকে এসেছে।

(০৪:০৩) আর যদি তোমরা আশংকা কর যে, এতীমদের (পিতৃহীন শিশু-orphans, অনাথ-Helpless; Shelter less; unprotected) প্রতি (ইনসাফ) ন্যায়পরায়ণ হতে পারছ না, তবে সেসব (এতীম/অনাথ-Helpless; Shelter less; unprotected) নারীদের মধ্যে থেকে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায় সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে একটিই অথবা তোমাদের ("মা-মালাকাত-আইমানুকুম"- যুদ্ধবন্দীনি/দাসীদের) ডান হাতের অধিকারভূক্তদেরকে; এমনটিই তো অন্যায় রোধের জন্য উত্তম।


এখানে এতীম বলতে যেগুলো কোট করেছেন সেগুলো কি ইসলাম সম্মত না নিজের মন মতো অর্থ করলেন। এব্যাপারে আপানর কাছে কি কোন প্রমান আছে অর্থাত কোন আয়াত বা সহী হাদিস। ইসলামে তাদেরকেই এতীম বলা হয় যাদের পিতা বেচে নাই।


এবার আল্লাহর কথার মাঝে নিজের কথা না ঢুকিয়ে শুধু আল্লাহর কথা পড়ে দেখুন কি মনে হয়।


(০৪:০৩) وَإِنْ خِفْتُمْ أَلاَّ تُقْسِطُواْ فِي الْيَتَامَى فَانكِحُواْ مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاء مَثْنَى وَثُلاَثَ وَرُبَاعَ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلاَّ تَعْدِلُواْ فَوَاحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ذَلِكَ أَدْنَى أَلاَّ تَعُولُواْ

আর যদি তোমরা ভয় কর যে, এতীম মেয়েদের হক যথাথভাবে পুরণ করতে পারবে না, তবে সেসব মেয়েদের মধ্যে থেকে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায় সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে, একটিই অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদেরকে; এতেই পক্ষপাতিত্বে জড়িত না হওয়ার অধিকতর সম্ভাবনা।

And if you fear that you shall not be able to deal justly with the orphan­girls, then marry (other) women of your choice, two or three, or four but if you fear that you shall not be able to deal justly (with them), then only one or (the captives and the slaves) that your right hands possess. That is nearer to prevent you from doing injustice.



প্রথম আয়াতের প্রথম অংশে আল্লাহ কি বললেন

"আর যদি তোমরা ভয় কর যে, এতীম মেয়েদের হক যথাথভাবে পুরণ করতে পারবে না"


এখানে আল্লাহ স্পষ্ট করে বলছেন প্রত্যেককে নিজের বিচারক হিসাবে বিচার করতে যে যদি নিজে মনে করে এতীম মেয়দের হক যথাথভাবে আদায় করতে পারবে না। এখানে হক বলতে আল্লাহ একজন মানুষের উপর অপর একজন মানুষের হকেই বুঝিয়েছেন।


এবার দেখুন প্রথম আয়াতের দ্বিতীয় অংশে আল্লাহ কি বললেন

"তবে সেসব মেয়েদের মধ্যে থেকে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত।"

এখানে আল্লাহ স্পষ্ট ভাষায় বলছেন "যাদেরকে তোমাদের ভাল লাগে তাদের মাঝ থেকে বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত"। এখানে আল্লাহ কি চারটা পর্যন্ত বিবাহ যায়েয করলেন না, অবশ্যই করলেন। দ্বিতীয় অংশের "তবে সেসব মেয়েদের মধ্যে থেকে" এই আয়াত দিয়ে আল্লাহ তায়ালা প্রথম আংশের এতীম মেয়েদেরকে বোঝান নি বরং স্বাধীন মেয়েদেকেই বুঝিয়েছেন যে কথায় আল্লাহ একসাথেই বলে দিয়েছেন যে "যাদের তোমাদের ভাল লাগে" একথা একারনেই আল্লাহ পাক বলেলন কারন স্বাধীন মেয়েদের বিয়ে করলে তার মহর সহ স্ত্রীর সকল হক ঠিকমতো আদায় করতে বাধ্য থাকে।


এবার দ্বিতীয় আংশে আল্লাহ পাক বিবাহ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রথম অংশটুকু স্পষ্ট করছেন যে তোমরা যদি এতীম মেয়েদের বিবাহ করতে চাও তাহলে নিয়মানুযায়ী তাদেকে মহর প্রদান করতে হবে এবং একজন স্বাধীন নারীরকে বিয়ে করে যে হক আদায় করতে হয় সেগুলো এতীম মেয়েদের জন্যও করতে হবে। আল্লাহ এতীম মেয়েদের এই হকেই ভয় করতে বলেছেন একদম প্রথমে। এই আয়াতের এই বিধান আল্লাহ নাজিল করেছেন যে এতীমের বাবা নেই বলে তার সঙ্গে যেমন খুশি আচারন করা যাবে না।

এবার দেখুন আল্লাহ দ্বিতীয় আয়াতে কি বলেছেন

"আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায় সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে, একটিই অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদেরকে; এতেই পক্ষপাতিত্বে জড়িত না হওয়ার অধিকতর সম্ভাবনা।"

এখানে আল্লাহ তায়লা প্রথম অংশে বললেন "আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায় সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না," এখানে আল্লাহ তাদের বলতে কাদের কে বোঝালেন? আল্লাহ বিবাহীত স্ত্রীদেরকেই বুঝিয়েছেন যদি আল্লাহ একাধিক বিয়ে যায়েজ না করতেন তাহলে এই আয়াতের প্রয়োজনই ছিল না। এখানে আল্লাহ যে বিধান নাজিল করলেন সেটা হল একজন মানুষ তখনই একের অধিক বিবাহ করতে পারবে যখন সকল স্ত্রীদের সাথে মধ্যে ন্যায় সঙ্গত আচরণ করতে পারবে। না পরলে তার জন্য একের অধিক বিবাহ করা যায়েজ না। আর ন্যায় সঙ্গত আচরণ করতে পারলে কোন সমস্যা নাই। এটাই আল্লাহ আমাদেকে বলেছেন।

এখন আর একবার আয়াতটা ভেবে দেখুন।

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১২:৪২

মাহফুজশান্ত বলেছেন: ভাই, আপনি যাদের কথা আওড়ালেন, সেগুলোর উত্তর আমি আমার লেখাতে আগেই দিয়ে দিয়েছি। হয়ত আপনি বুঝতে পারেন নাই-
আমি জেনে শুনেই যা সঠিক তা তুলে ধরেছি- সত্য অনেক সময় অপ্রিয় মনে হতে পারে। যুগ যুগ ধরে কোন মিথ্যাকে ইনিয়ে বিনিয়ে প্রচার করলে মানুষ আস্তে আস্তে সেটাকেই সত্য বলে ভাবতে শেখে। বিশেষ করে সেটা যখন কোন বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ হাসিলের জন্য ব্যবহৃত হতে থাকে, তখন তা যতই অমানবিক ও অন্যায় আচরনের পর্যায়ে চলতে থাকুক না কেন, সেই স্বার্থবাদী মানুষগুলো তখন বিভিন্ন অজুহাতে সেটা আত্মস্থ করে ফেলে। বিশেষ করে ধর্মের নামে জায়েজ বানিয়ে দিলে তো নিজেরাই নিজেদের মন মত সাত খুন মাফ করে নেয়। আশাকরি আপনি শুধুমাত্র জান্নাত প্রাপ্তির নেশায় ধর্মের নামে চালানো সেই ধর্মান্ধদের ছল-চাতুরী বুঝতে সক্ষম হবেন। মহান আল্লাহতায়ালা যেন আমাদের সবার বোঝার সামর্থকে আরও বাড়িয়ে দেন-

আমি আগেই বলেছি যে, (০৪:০৩) নং আয়াতটি সম্পূর্ণরূপে এতীমদের সাথে আচরণবিধি সংক্রান্ত। এর আগের ও পরের আয়াতগুলোর বক্তব্য সার্বজনীন হলেও তার নির্দেশও এর সাথে সম্পৃক্ত। এই বিষয়টি আমার মত আরও অনেক বিবেকবান মানুষের অন্তরেই দাগ কেটেছিল। কেউ প্রকাশ করেছেন, কেউ হয়ত করেন নাই। এরূপ ব্যাখা যে শুধু আমিই দেই নাই তা এবার আপনার সামনে তুলে ধরছি-
.....................................................
মাওলানা আবদুল্লাহ্‌ ইউসুফ আলীর - ইংরেজী তাফসীর অনুসরনে বাংলা অনুবাদ-
৩। যদি তোমরা আশংকা কর যে এতিমদের প্রতি ন্যায় বিচার করতে পারবে না, ৫০৮, তবে [এতিমদের মধ্যে থেকে] দুই, তিন, অথবা চার জনকে বিবাহ করবে তোমার পছন্দমত। কিন্তু যদি আশাংকা কর তুমি [তাদের সকলের] সাথে সুবিচার করতে পারবে না, তবে শুধুমাত্র একজনকে অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীকে [বিবাহ করবে]। ইহা তোমাদের জন্য অন্যায় রোধের অধিকতর উপযুক্ত ৫০৯।

৫০৮। এতিম মেয়েদের বিবাহের ব্যাপারে এখানে শর্ত আরোপ করা হয়েছে। মনে রাখতে হবে এই আয়াতটি নাজেল হয় ওহুদের যুদ্ধের পটভূমিতে। ওহুদের যুদ্ধে মুসলমানদের বহু পরিজন শাহাদাৎ লাভ করেন। বহু নারী বিধবা হন। বহু মেয়ে এতিম হয়। এই বিধবা, এতিম নারীদের সমাজে পুনর্বাসন করার লক্ষ্যেই আয়াতটি নাজেল হয়েছে। এদের প্রতি আচরণ যেন মানবিক এবং ন্যায়সঙ্গত হয়, এই আয়াতটি তারই বার্তা বহন করে। সমাজে যেনো এতিম বা বিধবারা সম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে সুস্থ জীবন যাপন করতে পারে তাই-ই এই ব্যবস্থা। ওহুদের যুদ্ধ গত হয়েছে, কিন্তু এর যে নীতি তা এখনও বলবৎ আছে। এতিম মেয়েদের বিয়ের অনুমতি তখনই দেওয়া হয়েছে, যখন তাদের বিষয় সম্পত্তি ইত্যাদি ব্যাপারে পুরোপুরি স্বার্থ রক্ষা করা এবং এতিম ও নিজ পরিবারের সবার সাথে সমতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে আচরণ করা সম্ভব হবে। অন্যথায় বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এতিমের জন্য।

ঠিক এরকম পরিবেশ বা অবস্থার উদ্ভব হয়েছিল দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরে। পাশ্চাত্য দেশ সমূহে সক্ষম যুব সমাজ যুদ্ধে নিহত হওয়ার ফলে দেশে বিবাহযোগ্য অবিবাহিত নারীর সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু যেহেতু তাদের ধর্মে পুরুষের এক বিয়ের রীতি, সেই কারণে বহু মেয়েকে চির জীবন কুমারী জীবন যাপন করতে হয়। যদিও এদের গ্রাচ্ছাস্বদনের অভাব ছিল না, রাষ্ট্রই তাদের সে ব্যবস্থা করেছিল, কিন্তু মানুষ মাত্রই কামনা বাসনা থাকবে। এই কামনা পীড়িত হয়ে বহু মেয়েকেই অবৈধ জীবন যাপন করতে হয়। মেয়েদের ঘর-সংসার করার, বা মা হওয়ার জন্মগত যে আকাঙ্খা তা পূরণ হওয়া সম্ভব ছিল না। এরকম অবস্থাতেই শুধুমাত্র চার-বিয়ের সুফল ভোগ করা যায়। যারা চার বিয়ের পক্ষপাতি তাদের মনে রাখতে হবে চার বিয়ের আয়াতটি নাজেল হয়েছিল ওহদের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে। শান্তির সময়ে বা সুস্থ সময়ে তা প্রযোজ্য নয়।
.......................................................
এবার ('আল-কাওসার'- আধনিক আরবী-বাংলা অভিধান'- 'মদীনা পাবলিকেশান্স') এ 'এতীম' শব্দটির সাথে সম্পর্কযুক্ত বেশ কয়েকটি অর্থ (নিঃসঙ্গ হয়ে যাওয়া, এতীম হয়ে যাওয়া, ছোট হয়ে যাওয়া, দুর্বল হয়ে পড়া, পিতৃহীন, মূল্যবান মুক্তা , তুলনাহীন বস্তু ইত্যাদি) দেয়া আছে দেখে নিতে পারেন। তাছাড়া 'ইয়াতামা' শব্দটি 'genitive plural noun' হওয়ায় এটিকে শুধুমাত্র এতীম মেয়েদের সাথে সংশ্লিষ্ট কার ঠিক নয়। আল-কোরআনে এই সবগুলো অর্থের নিরিখেই এই আয়াতের বক্তব্যকে একসাথে পেশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সব এতীমরাই সংশ্লিষ্ট। আর এ কারনেই যখন বিবাহের প্রশ্ন এসেছে, তখন স্পষ্টভাবে (النِّسَاء)-'আলনিসা-ই' অর্থাৎ 'নারী' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। কারন আল্লাহতায়ালা জানেন যে, তা না হলে সুযোগ সন্ধানীরা বালিকা বিবাহকে জায়েজ বানিয়ে দুর্বলদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করাকে জায়েজ বানিয়ে নিতে পারে। যদিও এই সত্যকে ক্ষণিকের জন্য হলেও কিছু বিপথগামী মানুষ ছাপিয়ে গুনাহে লিপ্ত হয়েছে। কিন্তু এর জবাব তো তাদেরকে কড়ায় গন্ডায় দিতেই হবে। যারা এই সত্যকে উপলব্ধি করতে সক্ষম তাদের বলার পথ সর্বজ্ঞ মহান স্রষ্টা ঠিকই খোলা রেখেছেন। এটাও আল্লাহর কালামের একটি মস্তবড় মহত্ব। সত্যকে বুঝার জন্য সংকীর্ণ মন ত্যাগ করে, হূদয়বান হওয়া জরুরি। তা না হলে ধর্মের নামে অন্যায় আচরণ গা সওয়া হয়ে যেতে পারে। কিন্তু সবারই মনে রাখা উচিত যে, ন্যায় ও অন্যায়ের সহাবস্থান আল্লাহর কালামের মৌল নীতি বিরুদ্ধ।

আপনাকে আবারও (৬৫:১২৮, ১২৯ ও ১৩০) নং আয়াতের বক্তব্যটি অনুধাবন করার অনুরোধ করছি। তাছাড়া আরেকটি বিষয়। আল্লাহতায়ালা যদি সর্ব অবস্থাতেই ২, ৩, ৪ বিযে জায়েজ রাখতেন তাহলে যে আয়াতগুলোতে বিবাহ সংক্রান্ত বিস্তারিত বিধান দেয়া হয়েছে সেখানেও অন্তত তা স্পষ্ট উল্লেখ থাকার কথা। তাছাড়া 'মিরাস/ফারায়েজ' সংক্রান্ত বিধানেও একাধিক কণ্যা হলে কিভাবে অংশ নির্ধারণ করতে হবে তা যেমন স্পষ্ট ভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, একাধিক স্ত্রীদের সেরূপ কোন নির্দেশই নেই। সে কারনে শুধু একাধিক বিয়ে করেই ক্ষান্ত হন না, তাদের ন্যায্য অধিকার সম্পর্কেও শরীয়তের নামে গোঁজামিল দিযে সংকীর্ণ করে রাখা হয়েছে এবং ৪ জন স্ত্রীর জন্য সেই ১/৮ অংশই ভাগাভাগি করে নিতে হচ্ছে। ফলে ইনসাফের নামে বে-ইনসাফের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতেও মুসলিমরা আজ লজ্জিত নয়। বিশেষ পরিস্তিতি ছাড়া সর্বাবস্থায় বিয়ের পারমিশন থাকলে আল্লাহতায়ালা তা স্পষ্টভাবেই বলে দিতেন। অথচ একাধিক বিবাহকে জায়েজ বানানোর মাধ্যমে অন্যায়ের শাখা প্রশাখা নানা দিকে বিস্তৃত করার ব্যবস্থা যেন পাকা করা হয়েছে। কিন্তু আল্লাহতায়ালার নির্দেশকে ভ্রুকুটি করে বা ভুল ভেবে একদল স্বার্থবাদী মানুষ যেন কোন এক আদিম বাসনা পূরণের পাঁয়তারা করছে। যা নারী ও পুরুষ উভয়েরই স্রষ্টা কখনও সহ্য করবেন না। কেননা আল্লাহতায়ালা এসব বিষয় স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না। কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখবেন যে, যে আয়াতে শুধুমাত্র এতীদের (পিতৃহীন শিশু-orphans, অনাথ-Helpless; Shelter less; unprotected) বিধান দেয়া হয়েছে, সঙ্গত কারনেই সেখানে শুধুমাত্র (এতীম/অনাথ-Helpless; Shelter less; unprotected) নারীদের বিবাহের ক্ষেত্রেই এই বিধান প্রযোজ্য। তাছাড়া এই আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তা স্পষ্ট-রূপেই ফুটে ওঠে।
যাক অনেক কথা বলে ফেললাম। হূদয় দিয়ে অনুধাবনের অনুরোধ রইল। এরপরও আপনি আপনার বুঝ অনুযায়ী আমল করতে থাকুন। তবে আমাদের মনে রাখা উচিত, ঘরে বা বাইরে সবক্ষেত্রেই আপন বা পর যে কোন মানুষের প্রতি বিন্দুমাত্র অন্যায় আচরণ করলে তার ক্ষমা পাওয়া সত্যিই দুষ্কর বৈকি।

তাই আবারও বলছি, সামর্থ থাকলেই বৃহত্তর কোন বিশেষ কারণ ছাড়া আপন খেয়াল-খুশিমত একসাথে একাধিক বিয়ে করা কখনও বৈধ ছিলনা এবং এখনও তা হতে পারে না।
মহান আল্লাহতায়ালা যেন আমাদের সঠিক পথে থাকার তৌফিক দান করেন-
ধন্যবাদ-

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১২:৪৯

মাহফুজশান্ত বলেছেন: এবার এই পোষ্টটি দেখুন-

নাস্তিক ও অবিশ্বাসীদের জয়জয়কার! ইসলামের মূলে বিষ!! পর্ব-২

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:৫৫

মাহফুজশান্ত বলেছেন: বিঃ দ্রঃ- শেষ প্যারায় সূরার নম্বর উল্রেখ করতে একটু ভুল হয়েছে- (৬৫:১২৮, ১২৯ ও ১৩০) নং আয়াতের স্থলে (০৪:১২৮. ১২৯. ১৩০) হবে

১১| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:৫২

কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: আপনার মুল বক্তব্যের সাথে সহমত জানিয়ে বলছি -

ইসলামে পুরুষের একাধিক বিয়ের অনুমতি দেয়া হয়েছে সামাজিক সমস্যা সমাধানের জন্য - পুরুষের ভোগ বিলাষের জন্য নয়। তবে সামাজিক সমস্যা শুধুমাত্র যুদ্ধাবস্থায়ই হবে এমনও নয় - যেকোন সময় যেকোন সমাজে হতে পারে। যেমন -
১. কার স্ত্রী স্থায়ীভাবে অসুস্থ হয়ে পরতে পারে,
২. স্ত্রী সন্তান জন্মদানে অক্ষম হতে পারে,
৩. কোন নারী প্রতিবন্ধি/বিধবা বা অসুন্দর/দরিদ্র হওয়ার কারণে প্রথম স্ত্রী হিসেবে গ্রহনের জন্য উপযুক্ত ছেলে না পাওয়া যে পারে,
৪. কোন একটি জনগোষ্ঠির মধ্যে নারীর অনুপাত পুরুষের চেয়ে বেশী হতে পারে (যেমন আমাদের দক্ষিনাঞ্চলের জেলে সমাজে প্রতিবছর প্রচুর পুরুষ জেলে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে মারা যায়) ইত্যাদি।

এই সকল সামাজিক/পারিবারিক সমস্যার গ্রহনযোগ্য মানবিক একমাত্র সামাধান হচ্ছে পুরুষকে একাধিক বিয়ের অনুমতি দেয়া।

এখন সমস্যা হচ্ছে কোন পুরুষ যখন দ্বিতীয় বিয়ে করবে তখন সেই বিয়ে সত্যিই কোন সামাজিক/পারিবারিক সমস্যা সমাধানের জন্য হচ্ছে না ভোগের জন্য হচ্ছে তা নির্ধারণ করবে কে? খুব সহজেই বলা যায় পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ে দ্বারা যাদের স্বার্থ হানী হতে পারে তার হচ্ছে ১. আগের স্ত্রীগন এবং ২. যাকে বিয়ে করা হচ্ছে। এ'জন্যই শরিয়ত একাধীক বিয়ের ক্ষেত্রে আগের স্ত্রীদের অনুমতি নেয়া বাধ্যতামুলক করেছে, আর যাকে বিয়ে করা হচ্ছে তার অনুমতি ছাড়াতো কোন বিয়েই হতে পারে না। সুতরাং শরিয়তের বিধান অনুসারে যদি আগের স্ত্রীদের পুর্ণ স্বাধীন মতামতের ভিত্তিতে পুরুষকে একাধিক বিয়ের অনুমতি দেয়া হয় তাহলে তার মাধ্যমে সামাজিক/পারিবারিক বহু জটিল সমস্যার যৌক্তিক/গ্রহনযোগ্য সমাধান সম্ভব এবং তা কখনই পুরুষের ভোগ/বিলাষের বিষয় হতে পারে না।

এ'প্রশঙ্গে কিছু দিন আগে পড়া একটা ঘটনা উল্লেখ করছি - আমেরিকাতে এক মেয়ে ইসলাম গ্রহনের পর তার পারিবারিক নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা দেখা দিল। সে আশংকা করছিল একা থাকলে তার প্রক্তন স্বামী বা পরিবারের অন্যরা তাকে উত্যক্ত করবে। তখন এক মুসলিম নারী নিজ উদ্যোগে তাকে নিজের স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে তাকে গ্রহন করে নেয় - এবং এভাবেই একটি জটিল সমস্যার চমৎকার সমাধান বেরিয়ে আসে।

পরিশেষে চমৎকার একটি বিষয় উপস্থাপনের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৯:২৫

মাহফুজশান্ত বলেছেন: পড়ার ও মূল বক্তব্যের সাথে সহমত জানানোর জন্য ধন্যবাদ-

সামাজিক সমস্যা শুধুমাত্র যুদ্ধাবস্থায়ই হবে এমনও নয় - যেকোন সময় যেকোন সমাজে হতে পারে। - সহমত

এরূপ সমস্যা স্ত্রীর বেলাতেও ঘটতে পারেনা কি? যেমন -
১. কারো স্বামী স্থায়ীভাবে অসুস্থ হয়ে পরতে পারে,
২. স্বামী সন্তান জন্মদানে অক্ষম হতে পারে,
৩. কোন পুরুষ প্রতিবন্ধি/স্ত্রীর মৃত্যু বা অসুন্দর/দরিদ্র হওয়ার কারণে (প্রথম) স্বামী হিসেবে গ্রহনের জন্য উপযুক্ত মেয়ে না পাওয়া যে পারে,
৪. কোন একটি জনগোষ্ঠির মধ্যে পুরুষের অনুপাত নারীর চেয়ে বেশী হতে পারে (যেমন ভারতে কন্যা সন্তান পেটে আসলে তা নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে, তাই ভবিষ্যতে এমন সম্ভাবনার আশংকা করা হচ্ছে) ইত্যাদি।

এই সকল সামাজিক/পারিবারিক সমস্যার গ্রহনযোগ্য মানবিক একমাত্র সামাধানের জন্য কি নারীকে একাধিক বিয়ের অনুমতি দেয়া যেতে পারে?

তবে ৪ নম্বর কারনটির ক্ষেত্রে ইসলাম পথ বাৎলে দিয়েছে। সঙ্গত কারনে নারীর অনুপাত পুরুষের তুলনায় বেড়ে গেলে সেই ক্রাইসিসের সময়ে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুসারে একজন পুরুষের জন্য ইনসাফের ভিত্তিতে ৪ জন নারীকে বিবাহ করার অনুমতি দেয়া যেতে পারে এবং আমি তা উল্লেখ করেছি- হয়ত আপনার চোখে পড়েনি! আরেকবার পড়লে বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে-

এখন সমস্যা হচ্ছে কোন পুরুষ (নারী) যখন দ্বিতীয় বিয়ে করবে তখন সেই বিয়ে সত্যিই কোন সামাজিক/পারিবারিক সমস্যা সমাধানের জন্য হচ্ছে না ভোগের জন্য হচ্ছে তা নির্ধারণ করবে কে? ভাই, এর উত্তরটা কিন্তু দেন নাই!

আপনি আমেরিকার যে ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন, তার সমাধান কিন্তু অন্য ভাবেও করা যেত। যেহেতু মুসলিমদের মগজের মধ্যে দ্বিতীয় বিয়ের ভূত ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে, তাই পূণ্য অর্জনের নেশায় একজন নও মুসলিমাকে আশ্রয় দেবার নাম করে কিছু বুঝে উঠবার আগেই বিয়ের পিঁড়িতে বসানো কি ঠিক হয়েছে?
মানবতার দৃষ্টিতে দেখলে তো বিষয়টি অন্যভাবেও সমাধান করার কথা ভাবা যেত, যেমন-
১/ সেই নারীকে মানবিক কারনেই কিছুদিনের জন্য আপন বোনের মত আশ্রয় দিয়ে কোন স্ত্রী-হারা পুরুষের সাথে বিয়ের ব্যবস্থা করা যেত। তার নিরাপত্তার বিষয়টি দেখার জন্য সেখানকার মুসলিম কমিউনিটিও বড় ভূমিকা পালন করতে পারত-
২/ তার জন্য চাকরির ব্যবস্থা করা যেত এবং পরবর্তীতে তিনি চাইলে পছন্দমত বিয়ে করতে পারতেন

পরিশেষে চমৎকার আলোচনার জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি-
শুভ কামনা রইল-

১২| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:০৭

সেলিম জাহাঙ্গীর বলেছেন: খুব সুন্দর গঠন মুলক লিখা। অনেক ধন্যবাদ

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৯:০৩

মাহফুজশান্ত বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ-

১৩| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৯:১৫

হাদী নয়ন বলেছেন: খুব ভালো লাগলো।পোস্ট প্রিয়তে।

১টা অফ টপিক-আল কোরআনের কোন সুরার কত নং আয়াতে,নারীদের কোন১৪ জনের সামনে আসা যায়েজ আছে তার বর্ননা দেয়া আছে?জানালে উপকি্রত হতাম।

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৯:২৭

মাহফুজশান্ত বলেছেন: পড়ার ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ভাই-
পর্দা রক্ষা করে নারীদের সবার সামনে আসাই জাযেজ আছে-

অনুগ্রহ করে পর্দার বিধান সম্পর্কিত আয়ত দেখে নিন-
(০৭: ২৬ - ২৭), (২৪: ২৭ - ৩১ ও ৫৮ - ৬১), (৩৩: ৩২, ৩৩, ৫৩ - ৫৫, ৫৯)

১৪| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১১:৫২

হাদী নয়ন বলেছেন: আমি পরে দেখলাম কিন্তূ আনেক কিছু বুঝলাম না। আমি বলেছিলাম পর্দা ছারা যেতে পারবে?
শাশুরি কি পর্দা ছারা মেয়ে জামাই কে দেখা দিতে পারবে? কুরআন হাদিসের আলোকে? আমি মুলত এই বিষয়টাই জানতে চাচ্ছি।

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১২:২৯

মাহফুজশান্ত বলেছেন: শাশুরি কি পর্দা ছাড়া মেয়ে জামাই কে দেখা দিতে পারবে? কুরআন হাদিসের আলোকে? আমি মুলত এই বিষয়টাই জানতে চাচ্ছি।
ভাই, আপনার প্রশ্নটি ছোট হলেও বিস্তারিত আলোচনা সাপেক্ষ। এক্ষেত্রে শ্বাশুরির বয়সের বিষযটিও লক্ষ্য রাখতে হবে। আপাতত সংক্ষেপে এ বিষয়ে আমার জানা-জানি ও মতামত তুলে ধরছি। আশাকরি পুরোটা ভাল করে লক্ষ্য করবেন। এর সাথে আপনার জ্ঞান ও বিবেককেও কাজে লাগাবেন।

আল কোরআন-
(২৪:৩০) মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের লজ্জা-স্থানের হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।
(২৪:৩১) ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের লজ্জা-স্থানের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো আছে তাদের সাজসজ্জা প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।

আল-কোরআনের নির্দেশাবলী পরস্পর সম্পর্ক যুক্ত। তাই একই বিষয় সম্পর্কে সঠিক নির্দেশ বুঝতে হলে অন্য নির্দেশকেও জানা জরুরী। সঙ্গত কারনেই আপনার প্রশ্নের সঠিক উত্তর পেতে হলে (০৪:২২, ২৩) নং আয়াতটি লক্ষ্য করতে হবে-

(৪:২২) যে নারীকে তোমাদের পিতা-পিতামহ বিবাহ করেছে তোমরা তাদের বিবাহ করো না। কিন্তু যা বিগত হয়ে গেছে। এটা অশ্লীল, গযবের কাজ এবং নিকৃষ্ট আচরণ।
(৪:২৩) তোমাদের (বিবাহের) জন্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তোমাদের মা, তোমাদের মেয়ে, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভাইয়ের মেয়ে; বোনের মেয়ে, তোমাদের সেই মায়েরা যারা তোমাদেরকে স্তন্যপান করিয়েছে, তোমাদের দুধ-বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মা, তোমরা যাদের সাথে সহবাস করেছ সেই স্ত্রীদের কন্যা- যারা তোমাদের লালন-পালনে আছে। যদি তাদের সাথে সহবাস না করে থাক, তবে এ বিবাহে তোমাদের কোন গোনাহ নেই। তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রী এবং দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা; কিন্তু যা অতীত হয়ে গেছে। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকরী, দয়ালু।

(০৪:২২) নং আয়াতে স্পষ্টভাবে বিয়ে সম্পর্কে বক্তব্য শুরু করা হয়েছে। সুতরাং পরবর্তী (০৪:২৩) নং আয়াতে হারাম বলতে যাদেরকে বিয়ে করা নিষিদ্ধ সে সম্পর্কে বলা হয়েছে। এখানে মূলত কাকে বিয়ে করা যাবে বা যাবে না সে সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যাদের সাথে বিয়ে বৈধ নয়, তাদের মধ্যে স্ত্রীর মাতা অর্থাৎ নিজ শ্বাশুরীও অন্তর্ভূক্ত।

পুরুষ ও নারী সবার জন্যই দৃষ্টি সংযত রাখা ফরজ। সেই সাথে (০৭:২৬) নং আয়াত অনুসারে সবার সামনে সর্ব সময়ের জন্য লজ্জাস্থান ঢেকে রাখাও ফরজ এবং এটি পালনের ক্ষেত্রে পরহেজগারী/ধর্মপরায়ণতার পোষাককে উত্তম বলা হয়েছে-

(০৭:২৬) অর্থ- হে বনী-আদম আমি তোমাদের জন্যে পোশাক অবর্তীণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং অবর্তীণ করেছি সাজ সজ্জার বস্ত্র এবং পরহেযগারীর পোশাক, এটি সর্বোত্তম। এটি আল্লাহর কুদরতেরঅন্যতম নিদর্শন, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।

এই পরহেজগারী/ধর্মপরায়ণতার পোষাক কেমন হবে তা জানতে হলে হাদিছের আশ্রয় গ্রহণ করা জরুরী। এ সম্পর্কে যেহেতু দুটি মতামত রয়েছে, তাই আপন বিবেক ও অভিরুচি অনুসারে এর মধ্যে থেকে যে কোন একটি বেছে নেয়ার অবকাশ রয়েছে। আমি প্রতিটি ক্ষেত্রেই মধ্যপন্থা অবরম্বন করাকেই বেছে নিয়েছি। তাই আমি এই মতের সাথে একমত পোষন করি যে, সব সময়ের জন্যই এমন পোষাক পড়া উচিত নয় যাতে নারীদের দেহের আকর্ষনীয় অঙ্গসমূহ প্রকাশ হয়ে পড়ে। তাই সাবার সামনেই (বিশেষ মূহুর্তে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ০২:২২৩ নং আয়াত অনুসারে শীথিলতা রয়েছে) ঢিলেঢালা শালীন পোষাক পড়ে যাওয়াই ধর্মপরায়নাতার পরিচায়ক এবং সেই সাথে মাথার ওড়না দিযে গলা ও বুক ঢেকে রাখতে হবে। যাদের সাথে বিযে বৈধ নয, তাদের সামনে অতিরিক্ত হিসেবে ঘরের মধ্যে চাদর না জড়ালে দোষের কিছু নেই। আর যে সব পুরুষের সাথে বিযে বৈধ, তাদের সামনে বা বাহিরে যাবার সময় গায়ের চাদর জড়িয়ে তা মাথার উপর টেনে নিতে হবে এবং জাকজামকের সাথে অতিরিক্ত সেজেগুজে ও নিজের গোপন অঙ্গগুলো প্রদর্শণ করার মত চলাফেরা করাও বৈধ নয় অর্থাৎ গুনাহ। তবে হাত মোজা ও পা-মোজা পড়া এবং মুখোমন্ডল ঢেকে রাখার সাথে আমি একমত নই।

বৃদ্ধাদের ক্ষেত্রে কিছু শীথিলতা থাকলেও সাবধানতা অবলম্বনই উত্তম বলা হয়েছে-
(২৪:৬০) অর্থ- বৃদ্ধা নারী, যারা বিবাহের আশা রাখে না, যদি তারা তাদের সৌন্দর্যø প্রকাশ না করে তাদের বস্ত্র খুলে রাখে। তাদের জন্যে দোষ নেই, তবে এ থেকে বিরত থাকাই তাদের জন্যে উত্তম। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

এরপর নিচের লেখা দুটি পড়তে পারেন-
শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারী সমাজের গুরুত্ব-

মুসলিম নারীর চাকরি ও দেওবন্দের ফতোয়া-

ধন্যবাদ-

১৫| ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৮:০১

হাদী নয়ন বলেছেন: ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবো না,আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিক।

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৯:৩৫

মাহফুজশান্ত বলেছেন: মহান আল্লাহতায়ালা যেন আমাদের জ্ঞানের পরিধি ও জানার আগ্রহকে আরও বৃদ্ধি করে দেন-

১৬| ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ১০:৫৮

কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: ধন্যবাদ বিস্তারিত উত্তর দেয়ার জন্য।

"ভাই, এর উত্তরটা কিন্তু দেন নাই!" - উত্তর দেয়া হয়েছে, সম্ভবত খেয়াল করেন নি। মুলত যেকোন তত্ব প্রয়োগের জন্য ব্যাবহারীক পদ্ধতি প্রয়োজন। কোরআন যে তত্ব উপস্থাপন করেছে রাসুল(স.) তার ব্যাবহারিক প্রয়োগ পদ্ধতি দেখিয়ে গেছেন। আমি এই প্রশ্নের উত্তরেই বলেছি -

"খুব সহজেই বলা যায় পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ে দ্বারা যাদের স্বার্থহানী হতে পারে তার হচ্ছে ১. আগের স্ত্রীগন এবং ২. যাকে বিয়ে করা হচ্ছে। এ'জন্যই শরিয়ত একাধীক বিয়ের ক্ষেত্রে আগের স্ত্রীদের অনুমতি নেয়া বাধ্যতামুলক করেছে, আর যাকে বিয়ে করা হচ্ছে তার অনুমতি ছাড়াতো কোন বিয়েই হতে পারে না। সুতরাং শরিয়তের বিধান অনুসারে যদি আগের স্ত্রীদের পুর্ণ স্বাধীন মতামতের ভিত্তিতে পুরুষকে একাধিক বিয়ের অনুমতি দেয়া হয় তাহলে তার মাধ্যমে সামাজিক/পারিবারিক বহু জটিল সমস্যার যৌক্তিক/গ্রহনযোগ্য সমাধান সম্ভব এবং তা কখনই পুরুষের ভোগ/বিলাষের বিষয় হতে পারবে না।"

আপনি দ্বিতীয় যে প্রশ্নটি উত্থাপন করেছেন সেটা নাস্তিকদের বহুল ব্যাবহৃত একটা বিষয়। আমি আশা করেছিলাম এর উত্তরটা আপনি ইতিমধ্যেই জানেন (কারণ আপনকে দেখেছি নাস্তিকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে)। যাই হোক যদি আমার কাছ থেকে জানতে চান তাহলে বলি।

ইসলামের দৃস্টিতে পরিবার শুধুমাত্র দু'জন নারী পুরুষের সহঅবস্থানের বিষয় নয় বরং এটি হচ্ছে একটি প্রতিষ্ঠান - স্থিতিশীল সমাজ গঠনের মৌলিক উপাদান। আর যেকোন প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য একক নেতৃত্ব প্রয়োজন। এক দেশে দুই রাজা যেমন অসম্ভব তেমনি এক পরিবার দুই নেতাও অযৌক্তিক। ইসলাম এই নেতৃত্ব এবং পারিবারিক ভরনপোষনের সকল দ্বায়িত্ব পুরুষকে দিয়েছে - আর নারীকে দিয়েছে ভবিষ্যত প্রজন্মকে সঠিক ভাবে গড়ে তোলার দ্বায়িত্ব। এ'ভাবেই পারিবারিক পর্যায়ে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই যেসকল সমস্যার সমাধান এক পুরুষের অধীনে একাধীক নারীকে রেখে সম্ভব সেই একই ধরনের সমস্যার সমাধান বিপরীতক্রমে সম্ভব নয়।

হ্যা, যদি আপনি পুরো ব্যাবস্থাটিকে বদলে দিতে পারেন - নারীকে পরিবারের নেতৃত্বের দ্বায়িত্ব দিতে পারেন তাহলে এক নারীর অধীনে একাধীক স্বামী থাকা সম্ভব ছিল। কিন্তু সে ক্ষেত্রে পারিবারিক ভরণপোষন বা অর্থনৈতিক দ্বায়িত্বও নারীকেই নিতে হবে। আর পুরুষের কাজ কী থাকবে? পুরুষের পক্ষেতো সন্তান জন্ম দেয়াও সম্ভব নয়। সেই ব্যাবস্থাটা হবে চরম ভারসাম্যহীন। এ'জন্যই ইসলাম সেটা গ্রহন করেনি - বরং সেক্ষেত্রে স্ত্রীকে সুযোগ দেয়া হয়েছে অক্ষম স্বামীকে তালাক দিয়ে সক্ষম কাউকে বিয়ে করার। আর যুগের হুযুগ হিসেবে যে সম-অধিকারের কথা বলা হয় তার পরিনতি যে কতটা ভয়াবহ তা পাশ্চাত্য সমাজের সামাজিক অবক্ষয়ের দিকে তাকালেই বুঝতে পারবেন।

ইসলাম নারীদেরকে পুর্ণ অধিকার দিয়েছে শিক্ষা, কর্ম, উপার্জণ ইত্যাদি প্রতিটি ক্ষেত্রে - নারীর উপার্জিত অর্থের পুর্ণ মালিকানা তার। কিন্তু পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে তাকে পুরুষের নেতৃত্ব মেনে নিতে বলা হয়েছে। আজকাল আধুনিকতার নামে অনেকেই যা মানতে চায় না। তবে আমার খুবই অবাক লাগে যখন দেখি পরিবারে এক পুরুষের অধীনে না থাকার জন্য নারীরা চাকরী করতে গিয়ে স্বানন্দে বহু পুরুষের(উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার) আনুগত্য করে। এতে তার আত্মসম্মানের কোনই সমস্যা হয় না। কারণ কি? কারণ তারা পরিবারকে প্রতিষ্ঠান বা দ্বায়িত্বপুর্ণ বিষয় মনে করে না - পরিবার সঠিকভাবে পরিচালনার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তোলা যে কত গুরুত্বপুর্ণ কাজ সেটা বুঝতে পারে না। হ্যা, নারীরা উপার্যনমুলক কাজ করতে পারবে কিন্তু সেটা করতে হবে পারিবারিক দ্বায়িত্ব পালনের পরে যদি সম্ভব হয়, অথবা পরিবারে উপার্যনক্ষম পুরুষ না থাকলে তখন। পশ্চাত্যের অনুকরণে সকল নারীকে অফিস আদালত কল কারখানায় কাজ করতে বাধ্য করা কোন সমাজের জন্য দীর্ঘ মেয়াতে সুফল বয়ে আনতে পারে না।

আর আমেরিকার যে ঘটনাটি উল্লেখ করেছি সে সম্পর্কে খুব বিস্তারিত বলতে পারব না - তবে যারা ঐ কাজটি করেছেন তারা কেউ কিন্তু আমাদেরমত জন্মগত/বংশগত মুসলমান নন। তারা ভিন্ন ধর্ম থেকে কোরআন হাদীস পড়ে জেনে বুঝে মুসলমান হওয়া মানুষ। যাকে দ্বাতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহন করা হয়েছে সেও অবুঝ নয় - তার আগেও একবার বিয়ে হয়েছিল। কাজেই না বুঝে বা অন্যকোন ভাল বিকল্প থাকতেও সে দ্বিতীয় স্ত্রী হতে রাজি হয়েছিল - এটা কি মানা যায়?

২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ বিকাল ৩:৪২

মাহফুজশান্ত বলেছেন: এ'জন্যই শরিয়ত একাধীক বিয়ের ক্ষেত্রে আগের স্ত্রীদের অনুমতি নেয়া বাধ্যতামুলক করেছে, আর যাকে বিয়ে করা হচ্ছে তার অনুমতি ছাড়াতো কোন বিয়েই হতে পারে না।

বিয়ের সময নারীদের অনুমতি/মত যে অবশ্যই নিতে হবে- তা আমার অজানা নয়। আপনি হয়ত ভুল বুঝেছেন। আমি স্বভাবিক কিংবা অস্বাভাবিক কোন পরিস্থিতিতেই একজন নারীর ক্ষেত্রে একসাথে একাধিক পুরুষকে বিয়ে করার দলের নই। যেহেতু আল-কোরআনে এর পারমিশন নেই, তাই এর পক্ষে যে যতই যুৎসই যুক্তি দেখাক না কেন- আমার অবস্থান পরিবর্তন হবার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা নেই।

আপনি পুরুষের পক্ষে পয়েন্টগুলো উপস্থাপন করে একধিক বিয়েকে জায়েজ বানাতে চেয়েছিলেন, তাই আমিও নারীর পক্ষে সেই একই পয়েন্ট তুলে ধরে আপনার বিবেককে নাড়া দিতে চেয়েছি মাত্র। তাছাড়া আমার পোস্টের কোথাও কি আমি নারীদের একাধিক বিয়ের পক্ষে কোন কথা বলেছি বলে আপনার মনে হয়েছে? সুতরাং আপনি নারীদের বেলায় একাধিক বিয়ের বিপক্ষে ও পুরুষের বেলায় সকল সময়েই একাধিক বিয়ের পক্ষ নিয়ে যে আলোচনা করেছেন তার প্রয়োজন ছিল না। কারন নাস্তিকদের বিপক্ষে আমার দৃঢ় অবস্থানের কারনে এসব বিস্তারিতভাবেই জানার সুযোগ হযেছে।

আমি নাস্তিকদের বিপক্ষে বলেই আবার ভাববেন না যে, অ-নাস্তিকরা কোন সাচ্চা দলিল না দেখিয়ে শরীয়তের নামে উল্টোপাল্টা বললেই বা কোন কিছুকে জায়েজ বানিয়ে দিলেই তা আমি হজম করে ফেলব। আমার পক্ষে তা কখনই সম্ভব নয়। তেমনি আমেরিকা হোক বা সৌদি হোক, এসব অনেক জান্তাদের উদাহরণ না টেনে হাতের কাছে স্রষ্টা প্রেরিত যে শাশ্বত বিধানখানা বর্তমান সেটাকে আকড়ে ধরাই তো বিশ্বাসীদের প্রথম ও প্রধান কাজ। তাইনা?

খেয়ালের বশবর্তী হয়ে যে পুরুষ ও নারী কারো জন্যই একাধিক বিয়ে বৈধ নয়- তা আমি স্পষ্টভাবেই তুলে ধরেছি। আর যে সমস্ত বিশেষ অবস্থায় শরিয়ত পুরুষের জন্য যে একাধিক বিয়ে বৈধ করেছে- সে বিষয়টিও আমি স্পষ্ট করেছি। নারীর জন্য কোন অবস্থাতেই যে একসাথে একাধিক বিয়ে করা বৈধ নয়, তা আমি জানি এবং আমার অবস্থানও এর পক্ষেই। যেহেতু ক্রাইসিস মুহর্তে পুরুষের জন্য একাধিক বিয়ের পারমিশন আছে, তাই সে সময় আগের স্ত্রীর অনুমতি নেয়াটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু ক্রাইসিস মূহুত ছাড়া সকল অবস্থাতেই আগের স্ত্রীর অনুমতি নিলেই একাধিক বিয়ে বৈধ হযে যাবে, আগে তো আল-কোরআন অনুসারে সেটা প্রমাণ করুন। আল-কোরআন থেকে এর পক্ষে কোন দলিল পেশ করতে পারবেন কি? আমার জানা নেই, তাই জানালে বাধিত হব।
ধন্যবাদ-

১৭| ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ বিকাল ৪:৪৪

কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: " তবে যে কোন ধরনের বৈরী পরিবেশ পরিস্থিতির কারনে কোন মুসলিম রাষ্ট্রে যদি এতীমদের (পিতৃহীনা/অনাথ-Helpless; Shelter less; unprotected) সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে, তাহলে প্রথমত সেই রাষ্ট্রের সরকারকে তাদের সকল দায়-দায়িত্ব নিতে হবে। আর যদি সরকারের পক্ষে আদৌ সম্ভব না হয়, তাহলে সামর্থবানদেরকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো যেতে পারে। তবে কোন কারনে যদি দূর্বল/অসহায়/অনাথ (Helpless; Shelter less; unprotected) নারীর সংখ্যা পুরুষের চেয়ে মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যায়, তখন সেই অসহায় নারীদেরকে জনগণের সম্পত্তি বানানোটা মোটেই সম্মানজনক ও সুখকর হতে পারে না। বরং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুসারে সেই ক্রান্তিকালের জন্য নিষ্ঠাবান ও সামর্থবান পুরুষের ঘরে ইনসাফের ভিত্তিতে অন্য দু-একজনের সাথে স্ত্রীর মর্যাদা নিয়ে বসবাস করাই তো উত্তম। জাতির বৃহত্তর স্বার্থের খাতিরে সেই ঘরের স্ত্রীরা যদি এক জন অপরজনকে বোন ভেবে সমঝোতা করে নেন, তাহলে আল্লাহর কিতাবের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধৈর্য ধারন ও পার্থিব স্বার্থকে ত্যাগ করার মাধ্যমে অবশ্যই মহান আল্লাহকে খুশি করতে সক্ষম হবেন। এই ত্যাগ স্বীকারের কারনে ছোট-খাট ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে পরকালীন অনন্ত প্রতিদান থেকে নিশ্চই মহান স্রষ্টা তাদেরকে বিমুখ করবেন না। "

আপনার লেখার এই অংশের প্রতি দৃস্টি আকর্ষণ করছি - আমার বক্তব্যও অনুরুপ। তবে আপনি এখানে ইসলামী রাস্ট্রের যে ভুমিকার কথা বলেছেন সেটা বাধ্যতামুলক করা যায় না। কারণ পৃথিবীর সকল প্রান্তে সকল সময়ে ইসলামী রাস্ট্র প্রতিষ্ঠিত থাকবে না। তখনও একই ধরনের সমস্যা তৈরী হতে পারে।

আর সমস্যা পুরো দেশব্যাপী না হয়ে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠির ( যেমন আমার আগের কমেন্টে উল্লেখিত দক্ষিনাঞ্চলের জেলে সামাজ ) মধ্যেও হতে পারে। সমস্যা হতে পারে পারিবারিক পরিমন্ডলেও। কাজেই সকল ক্ষেত্রে সকল সময় ইসলামী রাস্ট্রকেই সিদ্ধান্ত দিতে হবে - এটা কিভাবে গ্রহনযোগ্য হয়? বরং আগের স্ত্রীগন সকল ক্ষেত্রেই প্রাসঙ্গিক/উপস্থিত তাই শরিয়ত তাদের মতামতকেই অধিক গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন।

তবে ইসলামী রাস্ট্র যদি প্রতিষ্ঠিত থাকে তাহলে তারাও এ'ব্যাপারে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে যাতে এই বিষয়টি কিছুতেই অন্য কার অধিকার হরণ বা কার ভোগ বিলাশের বিষয়ে পরিনত হতে না পারে। এই বিষয়টাতে আমি আপনার সাথে সম্পুর্ণ একমত - পুরুষের একাধিক বিয়ের অনুমতি শুধুমাত্র সামাজিক/পারিবারিক সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনেই দেয়া হয়েছে - কিছুতেই পুরুষের ভোগের সুযোগ হিসেবে দেয়া হয়নি।

ধন্যবাদ

২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১০:৫৭

মাহফুজশান্ত বলেছেন: পুরুষের একাধিক বিয়ের অনুমতি শুধুমাত্র সামাজিক/পারিবারিক সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনেই দেয়া হয়েছে - কিছুতেই পুরুষের ভোগের সুযোগ হিসেবে দেয়া হয়নি।
আপনার এরূপ দৃষ্টিভঙ্গিকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু ভাই, বাস্তব চিত্র তো সম্পূর্ণ ভিন্ন-

(৬৫:১২৮, ১২৯, ও১৩০) নং আয়াতের আলোচনার অংশটুকু আবারও দেখার অনুরোধ রইল-

ক্রাইসিস মুহূর্ত ও বৃহত্তর স্বার্থ ছাড়া সকল অবস্থাতেই আগের স্ত্রীর অনুমতি নিলেই একাধিক বিয়ে বৈধ হযে যাবে, আল-কোরআন থেকে এর পক্ষে কোন দলিল কিন্তু পেশ করতে পারেন নাই।
আর আমি আগেই বলেছি, দলিল ছাড়া যতই যুৎসই যুক্তি দেখানো হোক না কেন, আমার পক্ষে তা মানা সম্ভব নয়-

ভাই, কোন ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে হোক বা বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মাঝেই হোক না কেন- সমস্যা তো সমস্যাই। কিন্তু তাই বলে সব সমস্যাকে এক পাল্লায় মাপাটা কি ঠিক? আমি যে সমস্যার কথা উল্লেখ করেছি তা একান্তই মুসলিম জনগোষ্ঠীর সমস্যা। আর দুনিয়ার সকল মুসলিমের মাঝেই বিয়ে বৈধ।

ইসলামের বিধান অত্যন্ত সিস্টেমিক। তাই আল-কোরআন নির্দেশিত সমাজ ব্যবস্থা রাষ্ট্রীয় ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকুক বা একটি ক্ষুদ্র মুসলিম জনগোষ্ঠীর মাঝেই প্রতিষ্ঠিত থাকুক না কেন, এই সিস্টেমের বাহিরে যাবার কোন উপায় নেই। কারন অন্য কোন ইসলাম বহির্ভূত পন্থা মুসলিমদের মধ্যে চালু হয়ে গেলেও, তখন তা আর আল-কোরআনের বিধান থাকে না।

যদি কোন ইসলামি রাষ্ট্রের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মাঝে নারীর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় বেড়েই যায় এবং বিবাহের জন্য অবিবাহিত মুসলিম পুরুষ একেবারেই খুঁজে পাওয়া না যায়, তাহলে এই সমস্যা সমাধানের জন্য অন্য রাষ্ট্রের অবিবাহিত মুসলিম পুরুষদের এগিয়ে আসতে হবে। আপনি যে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর উদাহরন দিয়েছেন তারা যদি মুসলিম হয়ে থাকেন, তবে জেলে হোক বা তাতী হোক- তারা পৃথিবীর সকল মুসলিমের ভাই। এখানে বর্ণ-জাত-পাতের বিভেদ টেনে এনে এড়িয়ে যাবার কোন অপশন নেই। তাদের সমস্যা মানেই সকল মুসলিমের সমস্যা। তাই যদি সত্যি এরূপ কোন সমস্যার উদ্ভব ঘটে থাকে তাহলে তা সমাধানের জন্য যারা জেলে বা তাতী নয় তারা এগিয়ে আসতে পারবেন না, ইসলামের দৃষ্টিতে এমনটি ভাবাও অন্যায়। আর এই ধরনের হীন মানসিকতার দোহাই দিয়ে তাদের সমস্যা সমাধানের নামে উল্টো সেই সমস্যাসঙ্কুল সমাজের মাঝে কোনরূপ অসমতার নজির স্থাপন করা কি ঠিক হবে? বরং অন্য অঞ্চলের মুসলিমদের উচিত হবে তাদেরকে আপন করে নিযে এই সমস্যা সমাধানে বাস্তব পদক্ষেপ গহণ করা।

যদি অনৈসলামিক কোন রাষ্ট্রের মাঝে বসবাসরত ক্ষুদ্র মুসলিম জনগোষ্ঠী থাকে, তবে তাদের প্রথম কাজ হবে নেতা নির্বাচন করে 'উলিল আমর' অর্থাৎ জ্ঞানী মুসলিম ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে একটি শরিয়া কাউন্সিল গঠন করা। আর যদি তাদের মাঝে কখনো আপনার উল্লিখিত সমস্যার উদ্ভব হয়ে যায়, তবে তা সমাধানের ভার প্রথমত সেই কাউন্সিলের উপর অর্পণ করতে হবে। এর ফলে এক্ষেত্রে একাধিক স্ত্রীদের মাঝে সঠিকভাবে সমতা বিধান করা হচ্ছে কিনা তা সেই কাউন্সিল যেমন তদারক করতে পারবেন, তেমনি কোন রূপ অনিয়মের ক্ষেত্রে পারিবারিক জবাবদিহিতার বিষয়টিও নিশ্চিত হবে। এরপরও যে কোন অসমতা থাকবে না, সব ক্ষেত্রে এমনটি নাও হতে পারে। কিন্তু এ অবস্থায় অসমতার মাত্রাটি নিশ্চয় অনেক কম হবে এবং সবচেয়ে মূল বিষয় হলো যে, জবাবদিহি ও তদারকির বিষয়টি একটি বড় ভূমিকা পালন করবে। এটাই আল্লাহ বিধানের মূল বক্তব্য। তা না হলে আল্লাহর কিতাবে সমতা বিধানের যে শর্ত আরোপ করা হয়েছে, তা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত পর্যায়ের উপর ছেড়ে দিলে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যথেষ্ট অনিয়ম হবার সম্ভাবনাই প্রবল। ইসলামি বিধান মতে এরূপ সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়া এমনই হওয়া চাই। এর বাহিরে অন্য কোন উপায় অবলম্বন করা হলে হয়ত নামমাত্র সমাধান হয়ে যাবে, কিন্তু তাকে সঠিক ইসলামি বিধান হিসেবে বলা বা মেনে নেয়া ঠিক হবে না।

ধন্যবাদ-

১৮| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ১১:৪৩

কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: ধন্যবাদ মাহফুজ ভাই

আলহামদুলিল্লাহ, আমরা একটা বিষয়ে উভয়ে একমত যে ইসলামের বহু বিবাহের বিষয়টি উৎসাহমুলক বা আদেশ মুলক বা সওয়াবের বিষয় নয় বরং নিতান্তই সামাজিক/পারিবারিক সমস্যা সমাধানের বিকল্প উপায়। মতপার্থক্য হচ্ছে এই বিষয়টি বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে।

প্রচলিত শরিয়তের বিধান অনুসারে দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্বার্থ সংশ্লিস্ট দুই জন - ১. আগের স্ত্রী এবং ২. যাকে বিয়ে করা হবে - এদের পুর্ণ স্বাধীন মতামত বাধ্যতামুলক। আপনি যত বিকল্পের কথা বলেছেন যদি তা সহজলভ্য হয় তাহলে কোন স্ত্রীই সেচ্ছায় তার স্বামীকে দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দেবে না। বা কোন নারীই অন্য কার দ্বিতীয় স্ত্রী হতে রাজি হবে না। এই দুইজন কেবল মাত্র তখনই সেচ্ছায় রাজি হবে যখন তাদের সামনে আর কোন বিকল্প সহজ লভ্য না হয়।

হ্যা, আমাদের দেশে এই বিষয়টির যথেস্ট অপব্যাবহার আছে - কিন্তু অনুসন্ধান করতে গেলে দেখবেন তার প্রায় সবগুলোর ক্ষেত্রেই উল্লেখিত দুই জনের মতামত গ্রহন করা হয়নি বা কোন না কোন ভাবে তাদেরকে প্রভাবিত করা হয়েছে। এ'জন্য আমাদের সমাজের মানুষদের শিক্ষা বিশেষ করে ইসলামী শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবই দ্বায়ী।

আপনি যে সামাজিক রাস্ট্রীয় ব্যবস্থার কথা বলেছেন সেটাকে উত্তম বা ইহসান বলা যেতে পারে - কিন্তু নুন্যতম বা বাধ্যতামুলক বা ফরজ হচ্ছে ঐ দুই জনের মতামত। যদি আপনি রাস্ট্রীয়/সামাজিক নেতৃত্বের ব্যাবস্থাকে বাধ্যতামুলক করতে চান তাহলে সেটা অনেক ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি এবং নতুন করে দুর্নিতির সুযোগ তৈরী করতে পারে। যে সমাজে মানুষ স্ত্রীদের মহরানা আদায় করারমত সুস্পস্ট সর্বসম্পত বিধানই পালন করে না সেখানে আপনি সর্বাবস্থায় রাস্ট্রীয় বা সামাজিক নেতৃত্বের উপস্থিতি ও তাদের আনুগত্য আশা করেন কিভাবে??

"আর আমি আগেই বলেছি, দলিল ছাড়া যতই যুৎসই যুক্তি দেখানো হোক না কেন, আমার পক্ষে তা মানা সম্ভব নয় -"

আপনার এই দৃঢ় মনোভাবের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি - স্বাধীন একাধীক নারীকে যে বিয়ে করা যাবে না এ'ব্যাপারে পরিষ্কার নির্দেশনাও কিন্তু কোরআনে নাই। 'তোমাদের জন্য একাধিক স্বাধীন নারী বিয়ে করা নিশিদ্ধ করা হল' বা 'তোমরা একের অধীক স্ত্রী গ্রহন কর না' - এ'রকম সরাসরি নির্দেশ কোরআনে নাই। যা কিছু বলা হয়েছে তাতে বুঝা যায় একাধিক বিয়েকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। তাই আমি মনে করি - একাধিক বিয়ে সওয়াবের কাজও নয় সম্পুর্ণ হারামও নয় - বরং সম্পুর্ণ হারাম হচ্ছে মানুষের অধিকার হরণ করা, মানুষের সাথে প্রতারণা করা, মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নেয়া। আর এগুলো শুধুমাত্র একাধিক বিয়ের মাধ্যমেই হয় না। একমাত্র বিয়েতেও যেমন এ'গুলি হতে পারে তেমনি একাধিক বিয়ের মাধ্যমে মানুষের উপকারও হতে পারে।

সুতরাং একাধিক বিয়ে অবৈধ/হারাম নয় বরং অপছন্দনিয় বৈধ কাজ। যেমন তালাক নিকৃস্টতম বৈধ কাজ।

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১২:৩৭

মাহফুজশান্ত বলেছেন: আপনার সঙ্গে আমার মতের বেসিক পার্থক্য থেকেই গেল-
আমি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সামাজিক/পারিবারিক সমস্যা সমাধানের জন্য (৬৫:১২৮, ১২৯, ও১৩০) নং এক স্ত্রীকে ঝুলিয়ে রেখে বহু বিবাহকে জায়েজ মানার পক্ষে নই-

আপনি যে সামাজিক রাস্ট্রীয় ব্যবস্থার কথা বলেছেন সেটাকে উত্তম বা ইহসান বলা যেতে পারে - কিন্তু নুন্যতম বা বাধ্যতামুলক বা ফরজ হচ্ছে ঐ দুই জনের মতামত। যদি আপনি রাস্ট্রীয়/সামাজিক নেতৃত্বের ব্যাবস্থাকে বাধ্যতামুলক করতে চান তাহলে সেটা অনেক ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি এবং নতুন করে দুর্নিতির সুযোগ তৈরী করতে পারে। যে সমাজে মানুষ স্ত্রীদের মহরানা আদায় করারমত সুস্পস্ট সর্বসম্পত বিধানই পালন করে না সেখানে আপনি সর্বাবস্থায় রাস্ট্রীয় বা সামাজিক নেতৃত্বের উপস্থিতি ও তাদের আনুগত্য আশা করেন কিভাবে??
বহু বিবাহের ক্ষেত্রে বাধ্যতামুলক বা ফরজ হচ্ছে সমতা বিধানের শর্ত পূর্ণ করা। আপনি ভাল করে জেনে দেখূন যে, তথাকথিত শরীয়তে একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে পূর্বের স্ত্রীর মতামত গ্রহণের বিষয়টিকেও খুব একটা প্রাধান্য দেয়া হয়নি।
আপনি রাস্ট্রীয়/সামাজিক নেতৃত্বের ব্যাবস্থাকে বাধ্যতামুলক বলছেন না দেখে অবাক হলাম। নেতৃত্ব ও নেতা/ইমাম ছাড়া ইসলাম অসম্পূর্ণ। এর অভাবই আমাদের পশ্চাদপদতার একটা অন্যতম কারন। তবে আমি যে নেতৃত্বের কথা বলছি সেটাকে বর্তমানে গ্রাম্য মোড়লদের যে কির্তীকলাপ তার সাথে গুলিয়ে ফেলবেন না যেন। মুসলিমরা যতদিন তাদের সঠিক নেতা ও নেতৃত্ব নির্বাচন করতে পারবেনা, ততদিন সামাজিক, পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় ইত্রাদি যে অবস্থাতেই তাদের ভুগতে হবে।

আমি আগেই বলেছি যে, (০৪:০৩) নং আয়াতটি সম্পূর্ণরূপে এতীমদের সাথে আচরণবিধি সংক্রান্ত। এর আগের ও পরের আয়াতগুলোর বক্তব্য সার্বজনীন হলেও তার নির্দেশও এর সাথে সম্পৃক্ত-
(০৪:০৩) নং আয়াতের বক্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে আচরণবিধি সংক্রান্ত। প্রথমত এতীম শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। যার অর্থ এখানে শুধু পিতৃহীন শিশুই নয়, বরং পিতা-মাতা ও স্বামী হারা দূর্বল/অসহায়/অনাথ (Helpless; Shelter less; unprotected) নারীরাও এর আওতায় পড়ে। যেহেতু এখানে এতীমদের প্রসংগে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং বিয়ের অনুমতির ক্ষেত্রে এখানে স্পষ্টভাবে (النِّسَاء)-'আলনিসা-ই' অর্থাৎ 'নারী' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। সুতরাং এই আয়াতের বক্তব্য থেকে 'এতীম বালিকাদের বিযে করার অনুমতি দেয়া হয়েছে'- এমনটি ভাববার অবকাশ নেই। বরং বিয়ের উপযোগী/পুর্ণ বয়স্ক (এতীম/অনাথ-Helpless; Shelter less; unprotected) নারীকে বিয়ে করার ইংগিতটি স্পষ্ট। এতীম (অনাথ-Helpless; Shelter less; unprotected) নারীদের দূর্বলতার সুযোগে তাদের সাথে অসৎ (এক্ষেত্রে যেহেতু নারী হিসেবে তাদেরকে যৌন নিপীড়নের সম্ভাবনাই বেশি থাকে, তাই সেই ধরনের) আচরণ করার কোন স্কোপ যেন না থাকে, সেই পথ বন্ধ করার নির্দেশই এখানে দেয়া হয়েছে। তাদেরকে যদি খুব ভাল লেগেই যায় সেক্ষেত্রে কোনরূপ ছলচাতুরী নয়, বরং সেই এতীম নারীদের মধ্য থেকে যাদেরকে ভাল লাগবে তাদের মধ্য থেকে ২, ৩ ও সর্বোচ্চ ৪ জন পর্যন্ত বিয়ের পারমিশন দেয়া হয়েছে। সুতরাং ইসলামের প্রাথমিক যুগের সেই ক্রাইসিস মোমেন্টেও এতীমের দোহাই দিয়ে ইচ্ছেমত অগনিত নারীকে বিয়ের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং শুধু তাই নয়, বিয়ের পর ন্যায় বিচারের অন্যথা হবার আশঙ্কা থাকলে ১ জনকেই বিয়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর তা না হলে "মা-মালাকাত-আইমানুকম" অর্থাৎ 'ডান হাতের অধিকারভুক্ত'-দের মধ্য থেকে বিয়ে করতে বলা হয়েছে। এখানে ৪ জন নারি বিয়ের প্রসঙ্গে স্বাধীন নারীদেরকে টেনে আনার কোন স্কোপই নেই। সুতরাং এই আয়াতের বক্তব্য অনুসারে স্বভাবতই স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে স্বাধীন নারীদের ক্ষেত্রও একসাথে ১ জনের বেশি বিয়ের বৈধতা আছে বলে প্রমাণিত হয় না।
তাছাড়া আরেকটি বিষয়। আল্লাহতায়ালা যদি সর্ব অবস্থাতেই ২, ৩, ৪ বিযে জায়েজ রাখতেন তাহলে যে আয়াতগুলোতে বিবাহ সংক্রান্ত বিস্তারিত বিধান দেয়া হয়েছে সেখানেও অন্তত তা স্পষ্ট উল্লেখ থাকার কথা। তাছাড়া 'মিরাস/ফারায়েজ' সংক্রান্ত বিধানেও একাধিক কণ্যা হলে কিভাবে অংশ নির্ধারণ করতে হবে তা যেমন স্পষ্ট ভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, একাধিক স্ত্রীদের সেরূপ কোন নির্দেশই নেই। সে কারনে শুধু একাধিক বিয়ে করেই ক্ষান্ত হন না, তাদের ন্যায্য অধিকার সম্পর্কেও শরীয়তের নামে গোঁজামিল দিযে সংকীর্ণ করে রাখা হয়েছে এবং ৪ জন স্ত্রীর জন্য সেই ১/৮ অংশই ভাগাভাগি করে নিতে হচ্ছে। ফলে ইনসাফের নামে বে-ইনসাফের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতেও মুসলিমরা আজ লজ্জিত নয়। বিশেষ পরিস্তিতি ছাড়া সর্বাবস্থায় বিয়ের পারমিশন থাকলে আল্লাহতায়ালা তা স্পষ্টভাবেই বলে দিতেন। অথচ একাধিক বিবাহকে জায়েজ বানানোর মাধ্যমে অন্যায়ের শাখা প্রশাখা নানা দিকে বিস্তৃত করার ব্যবস্থা যেন পাকা করা হয়েছে। কিন্তু আল্লাহতায়ালার নির্দেশকে ভ্রুকুটি করে বা ভুল ভেবে একদল স্বার্থবাদী মানুষ যেন কোন এক আদিম বাসনা পূরণের পাঁয়তারা করছে। যা নারী ও পুরুষ উভয়েরই স্রষ্টা কখনও সহ্য করবেন না। কেননা আল্লাহতায়ালা এসব বিষয় স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না। কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখবেন যে, যে আয়াতে শুধুমাত্র এতীদের (পিতৃহীন শিশু-orphans, অনাথ-Helpless; Shelter less; unprotected) বিধান দেয়া হয়েছে, সঙ্গত কারনেই সেখানে শুধুমাত্র (এতীম/অনাথ-Helpless; Shelter less; unprotected) নারীদের বিবাহের ক্ষেত্রেই এই বিধান প্রযোজ্য। তাছাড়া এই আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তা স্পষ্ট-রূপেই ফুটে ওঠে।

যাক অনেক কথা বলে ফেললাম। হূদয় দিয়ে অনুধাবনের অনুরোধ রইল। এরপরও আপনি আপনার বুঝ অনুযায়ী আমল করতে থাকুন। তবে আমাদের মনে রাখা উচিত, ঘরে বা বাইরে সবক্ষেত্রেই আপন বা পর যে কোন মানুষের প্রতি বিন্দুমাত্র অন্যায় আচরণ করলে তার ক্ষমা পাওয়া সত্যিই দুষ্কর বৈকি।
তাই আবারও বলছি, সামর্থ থাকলেই বৃহত্তর কোন বিশেষ কারণ ছাড়া আপন খেয়াল-খুশিমত একসাথে একাধিক বিয়ে করা কখনও বৈধ ছিলনা এবং এখনও তা হতে পারে না।
মহান আল্লাহতায়ালা যেন আমাদের সঠিক পথে থাকার তৌফিক দান করেন-
ধন্যবাদ-

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:৩১

মাহফুজশান্ত বলেছেন: আপনি বলেছেন-
স্বাধীন একাধীক নারীকে যে বিয়ে করা যাবে না এ'ব্যাপারে পরিষ্কার নির্দেশনাও কিন্তু কোরআনে নাই। 'তোমাদের জন্য একাধিক স্বাধীন নারী বিয়ে করা নিশিদ্ধ করা হল' বা 'তোমরা একের অধীক স্ত্রী গ্রহন কর না' - এ'রকম সরাসরি নির্দেশ কোরআনে নাই। যা কিছু বলা হয়েছে তাতে বুঝা যায় একাধিক বিয়েকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
একইভাবে বলা যায় না কি?
কোন নারী যে একাধিক বিয়ে করতে পারবে না এ ব্যাপারে পরিষ্কার নির্দেশনাও কিন্তু কোরআনে নাই। 'নারীদের জন্য একাধিক পুরুষ একসাথে বিয়ে করা নিশিদ্ধ করা হল' বা 'হে নারীরা! তোমরা একের অধিক স্বামী গ্রহন কর না' - এ'রকম সরাসরি নির্দেশও তো কোরআনে নাই।
যা কিছু বলা হয়েছে তাতে বুঝা যায় যে, শুধুমাত্র এতীমদের স্বার্থ রক্ষার্থে পুরুষের জন্য একাধিক বিয়ের বৈধতা দেয়া হলেও ইনসাফ করার আসংকা থাকলে পুরুষদের জন্যও একাধিক এতীম নারীদের বিয়েকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
আর স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত খায়েশ/চাহিদা চরিতার্থ করার অযুহাতে নারী ও পুরুষ কারোরই জন্য একজনকে ঝুলিয়ে রেখে আরেকজন পুরুষ বা নারীকে বিয়ে করার পারমিশন নেই। তবে বৃহত্তর স্বার্থে এতীম নারীদের প্রতি ইনসাফ এবং একাধিক স্ত্রীর সাথে সমতা রক্ষা করার শর্ত আরোপ করে শুধুমাত্র পুরুষের জন্য একাধিক বিযের বৈধতা দেয়া হয়েছে-
ধন্যবাদ-

১৯| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:৫৩

কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: মাহফুজ ভাই

আমরা আরো একটা বিষয়ে একমত হলাম - "স্বাধীন একাধীক নারীকে একত্রে বিয়ে করার ব্যাপারে যেমন কোন নির্দেশ নাই তেমনি স্বাধীন একাধিক নারীকে একত্রে বিয়ে করা নিশিদ্ধ এমন কোন সরাসরি নের্দেশও কোরআনে নাই"।

আমি আপনার এই বক্তব্যের সাথেও একমত - "সামর্থ থাকলেই বৃহত্তর কোন বিশেষ কারণ ছাড়া আপন খেয়াল-খুশিমত একসাথে একাধিক বিয়ে করা কখনও বৈধ ছিলনা এবং এখনও তা হতে পারে না।" অবশ্বই শুধুমাত্র আর্থিক সামর্থ থাকলেই ভোগের উদ্যেশ্বে একাধিক বিয়ে করা বৈধ নয়। কিন্তু যে "বিশেষ কারণ" এর কথা বল্লেন সেটা যে আসলেই বিশেষ কিছু সেই বিচারের দ্বায়িত্ব/অধিকার কার উপর থাকবে সেখানেই মতভেদ থেকে গেল। আপনি বলছেন এই বিচারের দ্বায়িত্ব থাকতে হবে সামাজিক/ধর্মীয়/রাস্ট্রীয় নেতৃত্বের উপর - আর আমি/প্রচলিত শরিয়ত বলছে এই দ্বায়িত্ব/অধিকার থাকবে ১. আগের স্ত্রী এবং ২. যাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করা হবে এই দুই জনের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের উপর।

যাই হোক, এ'ধরনের মতভেদ থাকতেই পারে - বরং থাকাটাই স্বাভাবিক। এই স্বাভাবিক পথ পরিহার করে শুধুমাত্র চারটি মাজহাবকে চুড়ান্তু ধরে নিয়ে ধর্ম বিষয়ক সকল চিন্তা গবেষনার পথ রুদ্ধ করা নিশ্চয়ই আমাদের অধ:পতনের অন্যতম কারণ ছিল - যা আপনি আমি কেউ সমর্থন করি না।(আরো একটা কমন গ্রাউন্ড পাওয়া গেল !)

তবে আপনার এই মন্তব্যটির ব্যাপারে সম্ভবত বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন আছে -

"কোন নারী যে একাধিক বিয়ে করতে পারবে না এ ব্যাপারে পরিষ্কার নির্দেশনাও কিন্তু কোরআনে নাই। 'নারীদের জন্য একাধিক পুরুষ একসাথে বিয়ে করা নিশিদ্ধ করা হল' বা 'হে নারীরা! তোমরা একের অধিক স্বামী গ্রহন কর না' - এ'রকম সরাসরি নির্দেশও তো কোরআনে নাই।"

কথা সত্যি। আমিও কোরআনে কোথাও এ'ধরনের নির্দেশ পাইনি। অথচ আমরা নিশ্চিত ভাবেই জানি যে এক স্ত্রীর একাধিক স্বামি থাকা নিশিদ্ধ। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে - ১. যে বিষয়ে কোরআনে সরাসরি কোন নির্দেশ থাকে না তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহনের নীতিমালা কি? এবং ২. সেই নিতিমালার আলোকে কিভাবে এটা নিশিদ্ধ হয়েছে এবং ৩. সেই একই নীতিমালা এই পোস্টের বিষয়ে( এবং অন্যান্য নতুন বিষয়েও ) কিভাবে প্রয়োগ করা যায়?

আপনি এ'ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করবেন বলে আশা করছি।

ধন্যবাদ।

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:২০

মাহফুজশান্ত বলেছেন: আপনার কাছেও একই আশা করছি। আসুন, আমরা সবাই চেষ্টা করি-
আপাতত অন্য বিষয়ে ব্যস্ত হয়ে পরেছি-

২০| ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:৩২

কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: মাহফুজ ভাই,

পেয়েছি, এক নারীর একাধীক স্বামী গ্রহন কোরআনে পরিষ্কার ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে আদেশটা পুরুষের দিক থেকে হওয়ায় আগে বুঝতে পারিনি। দেখুন সুরা নিসার ২৪ নম্বর আয়াত -

"এবং নারীদের মধ্যে তাদের ছাড়া সকল সধবা স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ; তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়ে যায়-এটা তোমাদের জন্য আল্লাহর হুকুম। এদেরকে ছাড়া তোমাদের জন্যে সব নারী হালাল করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তাদেরকে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য-ব্যভিচারের জন্য নয়। অনন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা ভোগ করবে, তাকে তার নির্ধারিত হক দান কর। তোমাদের কোন গোনাহ হবে না যদি নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হও। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিজ্ঞ, রহস্যবিদ। "

সুতরাং একজন সধবা বা স্বামী জীবিত আছে এমন নারী অন্য সকল পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ। ফলে এক নারীর পক্ষে একই সময় একাধীক স্বামী গ্রহন কখনই সম্ভব নয়।

এবার কি তাহলে বলা যায় এই রকম সুস্পস্ট আদেশ পুরুষের বেলায় না থাকায় একই সময়ে একাধীক স্ত্রী গ্রহন সম্পুর্ণ নিষিদ্ধ/হারাম নয় বরং শর্তসাপেক্ষে অপছন্দনীয় বৈধ কাজ?

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:১২

মাহফুজশান্ত বলেছেন:
জী ভাই, ইন্ডাইরেক্টলি এই নির্দেশ আছে এবং এ কারনেই আমি নারীদের জন্য একাধিক স্বামী গ্রহনের পক্ষে কোন কথা বলিনি-
আমি চাইছিলাম আপনিই এই আয়াতটি উপস্থাপন করুন-
নিচের আয়াতটিতে স্বয়ং আল্লাহ নিজেই স্পষ্ট বলে দিচ্ছেন যে, "তোমরা কখনই (একাধিক) নারীদের প্রতি সমান ব্যবহার করতে পারবে না"
(৬৫:১২৯) অর্থ- আর তোমরা কখনই (একাধিক) নারীদের প্রতি সমান ব্যবহার করতে পারবে না, যদিও এর আকাঙ্ক্ষী হও। অতএব একজনকে দোদুল্যমান অবস্থায় ফেলে রেখে অন্য কারো দিকে সম্পূর্ণ ঝুঁকে পড়ো না। আর যদি সমঝোতা করে নাও এবং খোদাভীরু হও, তবে নিঃসন্দেহে আল্লাহ পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।
যেখানে স্বয়ং স্রষ্টা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন যে, একাধিক নারীদের প্রতি সমান ব্যবহার করতে পারবেনা। সুতরাং এর পরও কে সেই প্রকৃত ইমানদার!? যার একাধিক স্বাধীন নারী বিযে করার দুঃসাহস হতে পারে!!??
একইভাবে বলা যায় (০৪:০৩) নং আয়াত অনুসারে 'একই সময়ে বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে একাধিক ২, ৩, ৪ এতীম নারী বিবাহের অনুমতি আছে'- কিন্তু এক্ষেত্রেও ইনসাফ বজায় রাখার সন্দেহ থাকলে, ১ জনই ।
সুতরাং এতীম নয় এরূপ একাধিক স্ত্রী গ্রহণ বৈধ নয়-

২১| ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:৪৩

চার্বাকাচার্য্য বলেছেন:
প্রিয় মাহফুজ ভাই,

আপনার পোস্ট সবসময় পড়ি, কিন্তু মন্তব্য করা হয়ে ওঠে না। আপনার পোস্ট ভাল লাগে। সামহোয়্যারইনের বিখ্যাত ব্লগারদের সাক্ষাৎকার নেয়া, অন্য ব্লগারদের সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দেয়াটা একটা পুরনো রীতি। আপনার যদি সদয় অনুমতি হয়, তবে আমি আপনার একটি সাক্ষাৎকার নিতে চাই। রাজি থাকলে জানাবেন, আমি চাই আপনার লেখা ব্লগাররা আরো বেশি করে পড়ুক, আপনাকে জানুক, ইসলামকে বুঝুক। আপনার যখন সময় হয়, তখনি সাক্ষাৎকারটি নেয়া হবে। আমাকে জানাবেন অনুগ্রহ করে।

ধন্যবাদ।

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ১১:৩০

মাহফুজশান্ত বলেছেন:
প্রিয় চার্বাকাচার্য্য ভাই,
আমার পোষ্ট পড়েন জেনে ভাল লাগল। মন্তব্য করলে আরও ভাল লাগত। ভাই, আমি বিখ্যাত কেউ নই। তাই আমাকে মাফ করবেন। প্রচার পাবার মত কোন ইচ্ছা সত্যিই আমার নেই। ব্লগেই আমার চিন্তা-চেতনার পরিচয় রয়েছে-
সম্পূর্ণ প্র্রোফাইল দেখুন
মাহফুজশান্ত
এর বাহিরে আম জনতার মত আমিও একজন খেটে খাওয়া মানুষ-

২২| ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ বিকাল ৩:১৬

কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: "(৬৫:১২৯) অর্থ- আর তোমরা কখনই (একাধিক) নারীদের প্রতি সমান ব্যবহার করতে পারবে না, যদিও এর আকাঙ্ক্ষী হও। অতএব একজনকে দোদুল্যমান অবস্থায় ফেলে রেখে অন্য কারো দিকে সম্পূর্ণ ঝুঁকে পড়ো না। "

আমি মনে করি এই আয়াতের বক্তব্য একটা স্বাধারন কথা "একাধিক নারীর প্রতি সম্পুর্ণ সমান আচরণ করা সম্ভব নয়" - কিছুটা কম বেশী থাকবেই। আসলে মানবিক সীমাবদ্ধতায় শুধু একাধীক নারীই নয় একাধীক সন্তানের মধ্যে পিতা-মাতাও সম্পুর্ণ সমান আচরণ করতে পারে না। তাই একজনের প্রতি সম্পুর্ণ ঝুকে পরতে নিষেধ করা হয়েছে - এর শিক্ষা হচ্ছে সমান ব্যাবহারের চেস্টা করা।

এখন যদি একাধীক নারীকে একত্রে বিয়ে করা নিষেধই থাকত তাহলে সমান ব্যাবহারের চেস্টা করা বা একজনকে দোদুল্যমান রেখে অন্য জনের প্রতি সম্পুর্ণ ঝুকে পড়ার প্রসঙ্গ এল কেন? একাধীক বিয়ের অনুমোদন আছে বলেই তাদের মধ্যে কোন একজনের প্রতি সম্পুর্ণ ঝুকে পড়া এবং অন্যদের সম্পুর্ণ উপেক্ষা করার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে - তাই না?

আর আপনি যদি বলেন ঘরে এক বউ রেখে অন্য নারীর প্রতি ঝুকে পড়তে নিষেধ করা হয়েছে - তাহলে সেটাও এই প্রসঙ্গে গ্রহনযোগ্য নয়। কারণ পর্দার বিধান অনুসারে সুনির্দিস্ট কিছু নিকটআত্মীয় ছাড়া বিবাহযোগ্য অন্য মেয়েদের প্রতি চোখ তুলে তাকনোই নিষেধ - সেখানে ঘরের বউ রেখে তাদের প্রতি ঝুকে পড়ার প্রসঙ্গ আসে কিভাবে? সেটাতো হবে পরকীয়া - ইসলামে যা সম্পুর্ণ হারাম ও সাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আর যদি চুড়ান্ত ভাবে ধরে নেয়া হয় যে মানুষ কখনই একাধীক নারীর প্রতি ইনসাফপুর্ণ ব্যাবহার করতেই পারবে না - তাহলে একাধীক এতিম নারী বিয়ের অনুমতি কেন দেয়া হল - তাহলে কি এতিম নারীদের প্রতি ইনসাফ করার প্রয়োজন নাই? অথচ দুর্বল হিসেবে আইনের দৃস্টিতে তারাই অধীক ইনসাফ পাওয়ার দাবিদার।

এই আয়াতে কিন্তু স্বাধীন ও এতিম নারীকে আলাদা করা হয়নি। বলা হয়নি স্বাধীন নারীদের প্রতি সমান আচরণ করতে পারবে না - তবে এতিমদের প্রতি পারবে।

তাই এই আয়াতের আসল শিক্ষা হচ্ছে এতিম হোক আর স্বাধীন হোক ঘরে যখন একাধীক স্ত্রী থাকবে তখন তাদের সবার প্রতি যতদুর সম্ভব সমান ব্যাবহারের চেস্টা করতে হবে - যদিও সবকিছু সম্পুর্ণ সমান ( বিষেশ করে মানষিক আবেগ, প্রেম, ভালবাসা ) রাখা সম্ভব নয়। তাই শরিয়ত প্রনেতা অধিকাংশ ইমাম মনে করেন এর দ্বারা একাধীক স্ত্রী গ্রহন সম্পুর্ণ নিষেধ এটা প্রমানিত হয় না। তবে সতর্কতা অবলম্বন বা পারত পক্ষে না করাই শ্রেয় বুঝা যায়। তাই এটা হারাম নয় বরং শর্তসাপেক্ষ, অপছন্দনীয় বৈধ কাজ।

এই বিতর্কটা আমার কাছে বেশ ভাল লাগছে - এই উপলক্ষে কিছু পড়াশুনাও হচ্ছে। বিরক্ত না হলে উল্লেখিত যুক্তিগুলির উত্তর দেবেন। দেখি আমি আরো কিছু খুঁজে পাই কি না।

ধন্যবাদ

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:২০

মাহফুজশান্ত বলেছেন: ২০ নং মন্তব্যের জবাবে আয়াত নম্বর উল্লেখ করতে আমারই একটু ভুল হযেছিল, (৬৫:১২৯) এর স্থলে (০৪:১২৯) হবে-

(০৪:১২৯) আয়াতের প্রথম অংশে সরাসরি নারী النِّسَاء উল্লেখ করা হয়েছে। যদি বক্তব্যটি এক স্ত্রী রেখে অন্য স্ত্রী/স্ত্রীদের প্রতি ঝুকে পড়ার বিষয়ে হত তবে أَزْوَاجُكُمْ ব্যবহার করার কথা। পরের অংশে فَتَذَرُوهَا তাকে অর্থাৎ একজন স্ত্রীকে দদুল্যমান অবস্থায় ফেলে রেখে অন্য কোন নারীর প্রতি আসক্ত না হবার ইংগিতই এখানে বহন করে। তার পরের অংশে- আর যদি সমঝোতা করে নাও এবং খোদাভীরু হও, তবে নিঃসন্দেহে আল্লাহ পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা। এখানে কিসের সমঝতা ও কেমন সমঝতা সেটা পরের আয়াতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। তাহলে বিষয়টি দাঁড়াল এই যে,
(০৪:১২৮) নং আয়াতে স্বামীর পক্ষ থেকে অসদাচরণ, উপেক্ষা বা অবহেলার বিষয় ঘটলে নিজেদের মধ্যে শর্ত সাপেক্ষে আপোস-নিষ্পত্তি করে নেয়ার পারমিশন রয়েছে এবং এক্ষেত্রে অবশ্যই সততা বজায় রখার নির্দেশ রয়েছে। (০৪:১২৯) নং আয়াতের বক্তব্যে বুঝিয়ে দেয়া হলো যে, মানুষ হিসেবে যেহেতু সবার দৃষ্টিভঙ্গি ও চাওয়া পাওয়া এক রকম নয়, তাই যারা বিয়ে করা স্ত্রী ছেড়ে অন্য নারীকে পাবার আকাঙ্খা করে তারা তা মনে মনে চাইলেও একসাথে একাধিক নারীদের প্রতি কখনই সমান ব্যবহার করতে পারবে না। এক্ষেত্রে একজন স্ত্রীকে দোদুল্যমান অবস্থায় ফেলে রেখে অন্য কারো দিকে সম্পূর্ণ ঝুঁকে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাই কোন বিশেষ ও ন্যায় সঙ্গত কারনে যদি (স্বামী ও স্ত্রী) এক অপরকে পছন্দ নাই হয় এবং অগত্যা সংসার করা কঠিন হয়ে পড়ে, তাহলে ঝুলিয়ে না রেখে সততার সাথে দেনা পাওনা চুকিয়ে এবং সেই স্ত্রীর জন্য সম্মানজনক ব্যবস্থা করে পরস্পর সমঝোতা করে নেয়াই উত্তম। তারপর চাইলে পছন্দমত অন্য কাউকে বিয়ে করায় কোন দোষ নেই। (০৪:১৩০) নং আয়াতে আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে এরূপ সততা রক্ষাকারীদের জন্য অভাবমুক্ত করে দেবার অঙ্গিকার করা হয়েছে।

২৩| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ১০:০০

কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: মাহফুজ ভাই

আমি এই ব্যাপারে একমত হতে পারছি না যে এই আয়াতে অন্য নারী বলতে ঘরের বউ ছাড়া বাইরের নারীদের কথা বলা হয়েছে। কারণ তাহলে স্ত্রী ছাড়া অন্য নারীর সাথে সম্পর্ক তৈরীকে প্রশ্রয় দেয়া হয়। প্রাথমিক ভাবে সম্পর্ক তৈরী হওয়ার পরই তার প্রতি ঝুকে পড়ার প্রশ্ন আসে। অথচ পর্দার বিধান অনুসারে অন্য নারীর প্রতি চোখ তুলে তাকানোই নিষেধ। নারীদের পরপুরুষের সাথে কোমল স্বরে কথা বলাও নিষেধ।

আর পরের অংশে যে আপোষ মিমাংসা করে নিতে বলা হয়েছে তার বক্তব্য মনে হয় এরকম - ঘরে একাধীক স্ত্রী থাকতে যদি কখনও কর প্রতি আকর্ষণ একেবারেই না থাকে তাহলে তাকে দোদুল্যমান না রেখে আপোসে বিদায় করে দেয়া উচিত যাতে সে অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারে।

আর একটা দিকে আপনার দৃস্টি আকর্ষণ করতে চাই। ইসলাম প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সমাজে প্রচলিত যে বিষয়গুলি পরিবর্তন করা হয়েছে সে ব্যাপারে খুবই পরিষ্কার ঘোষণা দিয়েই তা করা হয়েছে। তখনকার দিনে পালিত সন্তানকে নিজের ঔরসজাত সন্তানেরমত মনে করা হত। এই ধারনাটি পরিবর্তনের জন্য শুধুমাত্র নির্দেশই দেয়া হয়নি বরং মুহাম্মদ(স.) কে বাধ্য করা হয়েছে নিজের পালিত পুত্রের তালাক দেয়া স্ত্রীকে বিয়ে করতে। যাতে সেটা দৃস্টান্ত হয়ে যায় এবং মানুষ তা অনুসরণে কোন মানসিক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন না হয়।

তখনকার সমাজে পুরুষেরা ইচ্ছামত যত খুশি বিয়ে করত। এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয় ছিল। যদি সেটা চুড়ান্তভাবে নিষিদ্ধই করা হত তাহলে দৃস্টান্ত স্থাপন না করা হলেও অন্তত পরিষ্কার আয়াত থাকত। দুই একটা শব্দের তারতম্য থেকে সমাজে প্রচলিত এত বড় একটি বিষয়কে নিশিদ্ধ করা কিভাবে সম্ভব? অথচ স্ত্রীর সংখ্যা যে সর্বোচ্চ চার জনে সীমিত করা হয়েছে সেটা কিন্তু পরিষ্কার আয়াতের মাধ্যমেই করা হয়েছে।

আপনি সম্ভবত একাধিক বিয়ের ক্ষতিকর দিকটাই বড় করে দেখছেন। কিন্তু এর উপকারী দিকওতো আছে। মানুষতো শুধুমাত্র থাকা খাওয়া ভরণ পোষনের জন্যই বিয়ে করে না। মানুষের জৈবিক, মানসিক চাহিদাওতো বিবেচনায় নিতে হবে। মাতৃত্ব যেকোন নারীর অন্যতম মৌলিক চাহিদা যা বিয়ে ছাড়া বৈধ ভাবে পুরোন করা সম্ভব নয়।

আপনি এটা মানছেন যে কোন রাস্ট্রে যদি নারী পুরুষের অনুপাতে মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যায় তখন রাস্ট্র পুরুষদের একাধিক বিয়ের অনুমতি দিতে পারে। কিন্তু যদি একজন নারী এই সমস্যায় পরে যে কোন কারনে কেউ তাকে একমাত্র স্ত্রী হিসেবে গ্রহন করতে চাইছে না - হতে পারে সে প্রতিবন্ধী বা বিধবা যার ভাগের পুরুষটি অল্প বয়সে মারা গেছে - তার জন্য আপনি কি সমাধান রাখছেন? সে নিজে যদি সারা জীবন একা/নি:সন্তান থাকার চেয়ে সক্ষম কার দ্বিতীয় স্ত্রী হতে রাজি থাকে এবং সেই ঘরের প্রথম স্ত্রীও যদি তাকে গ্রহন করতে রাজি থাকে - তাহলে আপনি আমি কি তাকে বাঁধা দেয়ার অধিকার রাখি? যেখানে কোরআনে আল্লাহ পরিষ্কারভাবে তা নিশিদ্ধ করেননি? কবে দেশে স্ত্রীদের অনুপাত পরুষের চেয়ে মাত্রাতিরিক্ত বেশী হবে আর কবে রাস্ট্র পুরুষদের একাধীক স্ত্রী গ্রহনের অনুমতি দেবে সেই আশায় বসে থাকা কি এক জীবনে সম্ভব?

যাই হোক, আমি আগেও বলেছি কোরআনে পরিষ্কার ভাবে যা বলা হয়নি তার ব্যাপারে মতোভেদ থাকতেই পারে। তবে কোরআন ও ইসলামী বিধিবিধান নিয়ে গবেষণাকারী ইমাম/আলেমদের মধ্যে এই মতের সমর্থনই বেশী যে একাধিক বিয়ে হারাম/নিষিদ্ধ নয় - বরং অপছন্দনীয় তবে শর্তসাপেক্ষে, বৃহত্তর কল্যানের লক্ষে বৈধ কাজ।

ধন্যবাদ

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১২:৫২

মাহফুজশান্ত বলেছেন: ভাই, আমার পোষ্টটা ভাল করে না পড়েই বোধ হয় আপনি বাকযুদ্ধে অবতীর্ন হয়েছেন। আমি দু'ট অপশনের কথাই বলেছি-
১/ (০৪:০৩) নং আয়াতের বক্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে আচরণবিধি সংক্রান্ত। প্রথমত এতীম শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। যার অর্থ এখানে শুধু পিতৃহীন শিশুই নয়, বরং পিতা-মাতা ও স্বামী হারা দূর্বল/অসহায়/অনাথ (Helpless; Shelter less; unprotected) নারীরাও এর আওতায় পড়ে। যে কোন ধরনের বৈরী পরিবেশ পরিস্থিতির কারনে কোন মুসলিম রাষ্ট্রে যদি এতীমদের (পিতৃহীনা/অনাথ-Helpless; Shelter less; unprotected) সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে, তাহলে প্রথমত সেই রাষ্ট্রের সরকারকে তাদের সকল দায়-দায়িত্ব নিতে হবে। আর যদি সরকারের পক্ষে আদৌ সম্ভব না হয়, তাহলে সামর্থবানদেরকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো যেতে পারে।
২/ কোন কারনে যদি দূর্বল/অসহায়/অনাথ (Helpless; Shelter less; unprotected) নারীর সংখ্যা পুরুষের চেয়ে মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যায়, তখন সেই অসহায় নারীদেরকে জনগণের সম্পত্তি বানানোটা মোটেই সম্মানজনক ও সুখকর হতে পারে না। বরং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুসারে সেই ক্রান্তিকালের জন্য নিষ্ঠাবান ও সামর্থবান পুরুষের ঘরে ইনসাফের ভিত্তিতে অন্য দু-একজনের সাথে স্ত্রীর মর্যাদা নিয়ে বসবাস করাই তো উত্তম। জাতির বৃহত্তর স্বার্থের খাতিরে সেই ঘরের স্ত্রীরা যদি এক জন অপরজনকে বোন ভেবে সমঝোতা করে নেন, তাহলে আল্লাহর কিতাবের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধৈর্য ধারন ও পার্থিব স্বার্থকে ত্যাগ করার মাধ্যমে অবশ্যই মহান আল্লাহকে খুশি করতে সক্ষম হবেন। এই ত্যাগ স্বীকারের কারনে ছোট-খাট ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে পরকালীন অনন্ত প্রতিদান থেকে নিশ্চই মহান স্রষ্টা তাদেরকে বিমুখ করবেন না।
ব্যক্তিগত পর্যায়ে এ ব্যপারে আমার বাস্তব দেখা-শোনার অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর নয। আমি এ বিষয়টি হঠাৎ করেই তুলে ধরিনি। কয়েক বছর ধরে সমাজের বিভিন্ন স্তরে আমার সাধ্যমত খোজ-খবর নেবার চেষ্টা করেছি। তারই ফলশ্রুতিতে আল্লাহতায়ালার এই হুশিয়ারী- "আর তোমরা কখনই (একাধিক) নারীদের প্রতি সমান ব্যবহার করতে পারবে না, যদিও এর আকাঙ্ক্ষী হও।" আমার কাছে অকাট্য সত্য বলেই প্রতীয়মান হয়েছে।
আপনি আপনার যুক্তিকে দাঁড় করানোর জন্য প্রতিবন্ধী ও বিধবা সম্পর্কে যে করুণার দুষ্টান্তকে আবেগময় ভাবে উপস্থাপন করেছেন- বাস্তবার নিরিখে সেক্ষেত্রেও আমার অভিজ্ঞতা খুবই মর্মান্তিক। তবে ভালবেসে যদি কোন পুরুষ ২য় নয়, ১ম স্ত্রী হিসিবে কোন বিধবা বা প্রতিবন্ধীকে জীবন সাথি বানাতে চায়, তবে আমি অবশ্যই তার পাশেই থাকব।
যাই হোক ৪ জন স্ত্রীর মাঝে উত্তরাধিকার সম্পত্তির ১/৮ অংশ কিভাবে ভাগ করে দেবেন? আপনি যাদের দলভুক্ত হবার জন্য মনোস্থির করেছেন তারা এর যে সমাধানের কথা বলেন তা মোটেই গ্রহণযোগ্য তো নয়ই, বরং সমাজে আর-কোরআন বিরোধী অসমতা বিধানের নির্লজ্জ ব্যবস্থাকেই পাকা করা হয়েছে।
কোন স্পষ্ট নির্দেশকে উপেক্ষা করে আবছা ও মনগড়া নিয়ম চালু করে ১৪৫০ বছর হয়ত চালানো যেতে পারে। কিন্তু ১৪৫০০ বছর পরের চিত্রটি নিশ্চয় এরূপ অসম থাকবে না। কিয়ামতের আগে মহান স্রষ্টা অবশ্যই তা সত্যের আলোয় প্রতিষ্ঠিত করবেন।
আমি এ ব্যাপারে আর কথা বাড়াতে চাই না। আমার অবস্থান বাস্তব জানা-জানি ও তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে খুবই স্পষ্ট ও ন্যায়ের পক্ষে। আপনার বিবেকে যা ন্যায় ও যুক্তিসঙ্গত বলে মনে হবে, আপনি সেই পথেই চলতে ও সেই মত বলতে থাকুন-
মহান আল্লাহতায়ালা যেন সত্যকে অনুধাবনের ও সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করেন-
ধন্যবাদ-

২৪| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:২৮

কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: ঠিক আছে, অহেতুক বিতর্ক বাড়ানোর ইচ্ছা আমারও নাই। তবে আপনার একটা কথার প্রতি দৃস্টি আকর্ষণ করছি -

"কোন স্পষ্ট নির্দেশকে উপেক্ষা করে আবছা ও মনগড়া নিয়ম চালু করে ১৪৫০ বছর হয়ত চালানো যেতে পারে। কিন্তু ১৪৫০০ বছর পরের চিত্রটি নিশ্চয় এরূপ অসম থাকবে না। "

এখানে ১৪৫০ বছর কথাটা খুবই গুরুত্বপুর্ণ - আপনি কি মনে করেন ১৪৫০ বছর আগে যখন নবী মুহাম্মদ(স.) নিজে কাজ করেছেন, কোরআন নাজিল হয়েছে - তখনও কোন বিষয়ে ভুল হওয়ার অবকাশ ছিল? আমাদের স্বাধারণ বিশ্বাস কিন্তু নবী মুহাম্মদ(স.) এর সময়ে যা হয়েছে, তিনি যা বুঝেছেন সেটাই সঠিক ছিল- ভুল ভ্রান্তি যা হয়েছে তা অনেক পরে স্বাধারন মানুষের ইজতিহাদগত ভুলের কারণে হয়েছে। আপনি কি এর থেকে ভিন্ন কিছু বিশ্বাস করেন??

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:৪৮

মাহফুজশান্ত বলেছেন: আমি রসূল সোঃ) এর জীবনকে আলে-কোরআনের বাস্তব প্রতিফলন হিসেবেই বিশ্বাস করি এবং সে সময়ে ভুল হবার কোন প্রশ্নই আসে না। আমি যদি গোড়াতেই গলদ ছিল বলে ভাবতাম, তাহলে নিজেকে অহেতুক মুসলিম হিসেবে পরিচয়ই দিতাম না-
আমি এও বিশ্বাস করি যে, তাঁর জীবনে এমন কিছু বিষয় ঘটেছে যা আল-কোরআনের নির্দেশ অনুসারেই ঘটেছে এবং এমন কিছু নির্দেশ আছে যেগুলো একান্তভাবে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের জন্যই নির্দিষ্ট ছিল-

২৫| ২৮ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ২:২৪

চাষী বলেছেন: very nice post. logically written. thanks

২৮ শে অক্টোবর, ২০১১ সকাল ৯:৫৪

মাহফুজশান্ত বলেছেন: পড়ার ও অনুধাবনের জন্য ধন্যবাদ-

২৬| ২৬ শে এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ১:৩৮

জারনো বলেছেন:
সত্যি বড়ই জ্ঞাণী পোস্ট। অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও জীবনের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।

২৬ শে এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ২:০৪

মাহফুজশান্ত বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ-

২৭| ২৬ শে এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ১:৫২

নিষ্‌কর্মা বলেছেন:

বোলোগে না লিখিইয়া আমাদের মসজিদে গিয়া কাঠ মুল্লাগুলারে বুঝান গিয়া। সেইডা বালা না? হেগোরে ওয়াজ দেন, বোলোগে যারা আছে, তার চাইর বিয়া কক্ষোনো করবো না। তবে তারা চাইরডা গার্ল ফেরেন্ড রাখবার পারে! ;) ;) ;) ;) ;)

২৬ শে এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ২:০৪

মাহফুজশান্ত বলেছেন: ব্লগ কি কারও নিজস্ব সম্পত্তি নাকি? এখানে সবারই মতামত প্রকাশের অধিকার আছে।
আপনি তো দেখছি কাঠ মুল্লাগুলোর চাইতেও বড় কাঠখোট্টা।
চার বিয়া করনের উপযুক্ত কারন থাকলে তখন না করাটাও এক ধরনের কাঠমোল্লাগিরি।
তবে চার গার্ল ফ্রেন্ড রাখলে কিন্তু খবর আছে। একালে ধরা না খাইলেও, পরকালে মাফ নাই-

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.