| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মাহফুজশান্ত
আসুন, "ধর্মান্ধতা পরিহার করে ধর্মিষ্ঠ হই" "বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম" [আল-কোরআন-৯৬. সূরা আল-আলাক] ০১. পাঠ কর (এবং ঘোষনা / প্রচার কর) তোমার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন- ০২. সৃষ্টি করেছেন মানুষকে ‘আলাক’ হতে। ০৩. পাঠ কর, আর (ঘোষনা / প্রচার কর) তোমার প্রতিপালক মহামহিমান্বিত। ০৪. যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন- ০৫, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।] পবিত্র কোরআনের ৯৬ নম্বর সূরা 'আলাক'-এর প্রথম এই পাঁচটি আয়াত অত্যন্ত মূল্যবান এবং যা মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে ফেরেশতা জিবরীল (আঃ)-এর মাধ্যমে সর্বশেষ নবী রাসূলুল্লাহ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উপর নাযিলকৃত সর্বপ্রথম ওহি অর্থাৎ ঐশীবাণী। মহামহিমান্বিত প্রতিপালকের নামে শিক্ষা লাভের জন্য পাঠ করা ( Study ) অর্থাৎ আল্লাহর রাস্তায় থেকে জ্ঞানার্জন করা এবং জ্ঞানের প্রচার ও প্রসারে কলমের ব্যবহার অর্থাৎ 'লিখন' যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখে তা সর্বজনবিদিত। মহান স্রষ্টা আল্লাহতায়ালা তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিকে খাঁটি মানুষ রূপে গড়ে তোলার জন্য যে সর্বপ্রথমে এই ধরণের চমৎকার ও কার্যকর ঐশীবাণী প্রদান করে অনুপ্রাণিত করবেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে পার্থিব জীবনের শত ব্যস্ততার মাঝেও আল-কোরআন ও বিজ্ঞানের বিষয়ে জ্ঞান চর্চার তাগিদে সময় বের করে নিতে হয়েছে। যে জ্ঞানের কোন সীমা পরিসীমা নেই, যে জ্ঞানের কথা লিখতে বসলে মহাসাগরের এমনকি আকাশ ও পাতালের সকল জলরাশিকে কালি বানালেও তা ফুরিয়ে যাবে- তার জন্য এই সময়টুকু অতি নগন্য। তথাপি আমার এই ছোট্ট প্রয়াসের জন্য দয়াময় আল্লাহতায়ালা যে আমাকে সুযোগ ও তৌফিক দিয়েছেন সেজন্য আমি অবনত মস্তকে সর্বশক্তিমান স্রষ্টার কাছে প্রতি মূহুর্তে শুকরিয়া আদায় করছি। সত্যের স্বরূপ উদঘাটনে যতটুকু সফলতা অর্জন করতে পেরেছি তার সবটুকুই আল-কোরআনের ঐশীবাণীসমূহের মর্ম সঠিকভাবে অনুধাবনের ফলেই সম্ভব হয়েছে। আর ব্যর্থতার জন্য একজন অতি সাধারন মানুষ হিসেবে আমার অযোগ্যতা ও অজ্ঞতাই সম্পূর্ণরূপে দায়ী। হে বিশ্ববিধাতা করুণাময় মহান আল্লাহ , সর্বপ্রকার অনিচ্ছাকৃত ভুল-ভ্রান্তির জন্য সর্বদা অবনত মস্তকে ক্ষমাভিক্ষা চাই। আর সরল ও সত্যের পথ যতটুকু অর্জন করতে পেরেছি তার উছিলায় একজন হতভাগা পাপী বান্দা হিসেবে তোমার জ্যোতির্ময় আরশের ছায়াতলে চিরকালের জন্য একটুখানি ঠাঁই চাই। আশাকরি ছোটখাট ভুলত্রুটি ক্ষমা-সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। চিন্তাশীল সুধীজনদের সুচিন্তিত পরামর্শ ও সমালোচনা সাদরে গ্রহণ করা হবে।
Is there any fundamental fact about Moon-light & Sun-light in Al-Quran?
স্রষ্টা মহান আল্লাহতায়ালা দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন আসমানী বস্তু যেমন সূর্য ও চন্দ্র এবং এগুলোর মত কোটি কোটি নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ সহ আরও কতকিছু। দৃষ্টিসীমার মধ্যে অবস্থিত নক্ষত্র এবং গ্রহ, উপগ্রহগুলো উজ্জ্বল আসমানী বস্তু হিসেবে প্রথমত বাহ্যিকভাবে আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়। পরবর্তীতে গবেষণার আলোকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এগুলোর কোনটির আলোর প্রকৃত রূপ কি রকম- তা ধীরে ধীরে আরও স্বচ্ছভাবে আমরা জানতে পারি। নক্ষত্রগুলো তাদের নিজস্ব আলোর কারণে এবং গ্রহ, উপগ্রহগুলো- সূর্য বা অন্য কোন নক্ষত্রের আলোয় আলোকিত হওয়ার কারণে যে উজ্জ্বলতা প্রাপ্ত হয়, তা এখন সবারই জানা। বর্তমানে সূর্য ও চন্দ্রের মত অন্যান্য নক্ষত্র ও গ্রহ, উপগ্রহগুলোর আলোর প্রকৃত রূপ সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক গবেষণার আলোকে বিস্তারিভাবে অনেক কিছু জানা সম্ভব হয়েছে। তবে তা খুব বেশীদিন আগের কথা নয়। যতটুকু জানা যায়- পবিত্র কোরআন নাজিলের পূর্বে সূর্য ও চাঁদের আলোর মধ্যকার মৌলিক তফাৎ সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জন করার মত দক্ষতা মানুষ আয়ত্ত করতে সক্ষম হয় নাই। অন্য কোন ঐশী গ্রন্থে সূর্য ও চাঁদের অর্থাৎ নক্ষত্র ও গ্রহ, উপগ্রহের আলোর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে এই ধরনের জ্ঞান দানের ব্যবস্থা মহান স্রষ্টা করেছিলেন কিনা তা আমার জানা নাই। বর্তমানে এই পার্থক্য নিরূপণের বিষয়টি মামলি মনে হলেও দূরবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কারের আগেই সেই ১৪৫০ বছর পূর্বে কিভাবে আল-কোরআনে এত নিখুঁত তথ্য প্রদান করা সম্ভব হলো- সে সম্পর্কে যে কোন বিবেকবান বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ মাত্রই ভাবতে বাধ্য হয়।
এখন প্রশ্ন হলো- সূর্য ও চাঁদের আলো সম্পর্কে আগেকার সেই জ্ঞান এবং আল-কোরআনে স্রষ্টা প্রদত্ত ঐশী জ্ঞানের মাঝে মৌলিক কোন পার্থক্য আছে কি?
পবিত্র কোরআনে এ বিষয়ে যা বলা হয়েছে তা তুলে ধরার চেষ্টা করছি -
সূরা ইউনুস-আয়াত নং-০৫
جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَاء وَالْقَمَرَ نُورًا هُوَ الَّذِي (১০:০৫)
يُفَصِّلُ الآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ إِلاَّ وَقَدَّرَهُ مَنَازِلَ لِتَعْلَمُواْ عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ مَا خَلَقَ اللّهُ ذَلِكَ بِالْحَقِّ
'যিয়া-উন' (অর্থ) 'আলো'- 'আল-কাওসার'- 'আধুনিক আরবি বাংলা অভিধান'- 'মদীনা পাবলেকেশন্স'।
এছাড়া 'মুনির উদ্দীন আহমদ' এর- 'কোরআনের অভিধানে'- 'দিয়াউন' (অর্থ) 'চমক, ঝলক'- বলা হয়েছে।
'নূরুন' (অর্থ) 'আলো, আলোর কিরণ'- 'আল-কাওসার'- 'আধুনিক আরবি বাংলা অভিধান'- 'মদীনা পাবলেকেশন্স'।
(১০:০৫) অর্থ- তিনিই তো সূর্যকে 'যিয়া/দিয়া' অর্থাৎ 'আলো/চমক/ঝলক ' এবং চাঁদকে 'নূর' অর্থাৎ 'আলো/আলোর কিরণ' হিসেবে স্থাপন করেছেন বা বানিয়েছেন এবং তার জন্য অবস্থানগুলো নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন যেন তোমরা বছরের গণনা ও সময়ের হিসাব ঠিকমত জানতে পার; আল্লাহ এসব অনর্থক সৃষ্টি করেন নি। যারা জানতে চায় তাদেরকে তিনি এই নিদর্শন বা আয়াতগুলোর বিশদ বিবরণ জানিয়ে দেন।
(১০:০৫) নং আয়াতে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, 'সূর্যের' ক্ষেত্রে 'দিয়া' শব্দটি এবং 'চাঁদের' ক্ষেত্রে 'নূর' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য যে, বাহ্যিক দৃষ্টিকোন থেকে সূর্য ও চাঁদ উভকেই তো আলো কিংবা উজ্জ্বল আসমানী বস্তু হিসেবে সহজেই ধরে নেয়া যায়। সুতরাং সূর্য ও চাঁদ- দুটির ক্ষেত্রেই তো 'দিয়া' এবং 'নূর' এই দুটি শব্দের মধ্য থেকে যে কনো একটি শব্দ বেছে নিয়ে তা ব্যবহার করলেই হত। কিন্তু তা না করে স্রষ্টা মহান আল্লাহ দুটির ক্ষেত্রে দু'ধরনের আলো হিসেবে উপস্থাপন করলেন কেন? কারণ এগুলো যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি তো এ দুটো আলোর পার্থক্য ভাল করেই অবগত আছেন। তাই প্রথমত সহজভাবে দুটোকে দুই ধরনের আলো ('দিয়া' ও 'নূর') হিসেবে উপস্থাপনের মাধ্যমে যারা সত্যান্বেষী তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার পাশাপাশি এনিয়ে চিন্তা-গবেষণা করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।
এখন কেউ যদি বলে-
সূর্যের দিকে চেয়ে থাকলে ওটাকে অতি উজ্জ্বল দেখায় আর চাঁদকে ওতটা না। তাই সূর্য ও চাঁদের উজ্জ্বলতার জন্য ভিন্ন শব্দ ব্যবহৃত হবে এটাই স্বাভাবিক।
তাহলে তার উত্তরে বলব-
আমরা বাংলায় সাধারনভাবে সূর্যা-লোক ও চন্দ্রা-লোক বলি। আবার ইংরেজিতে বলি Sun-light ও Moon-light
তবে আল-কোরআনে সেই সাধারন ধারনা দেবার জন্য প্রথম থেকেই সূর্যের ক্ষেত্রে 'দিয়া' (আশ-শামছা যিয়ায়ি) ও চাঁদের ক্ষেত্রে 'নূরুন' (আল-কামারা নূরান) দুটি পৃথক শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে-
এমনটি না কোরে তো সূর্য ও চাঁদ উভয়ের ক্ষেত্রেই 'আশ-শামছা যিয়ায়ি' ও 'আল-কামারা যিয়ায়ি' কিংবা 'আশ-শামছা নূরান' ও 'আল-কামারা নূরান' হিসেবে উল্লেখ করলেই হতো-
শুধু তাই নয়, কেন এই পৃথক শব্দ দুটো ব্যবহার করা হলো তা ধীরে ধেরে নির্ভুলভাবে বুঝিয়ে দেয়া হলো-
এই শব্দের ব্যবহার ও আলোর বর্ণনা প্রকাশের বিষয়টি যে বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোন থেকেও মোটেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, আমি সেটাই তুলে ধরতে চেয়েছি-
এবার নিচের বাণীগুলোর দিকে লক্ষ করুন-
সূরা ফুরকান-আয়াত নং-৬১
جَعَلَ فِيهَا سِرَاجًا وَقَمَرًا مُّنِيرًا تَبَارَكَ الَّذِي جَعَلَ فِي السَّمَاء بُرُوجًا وَ (২৫ : ৬১)
'সিরা-জুন' (অর্থ) 'বাতি, সূর্য'- 'আল-কাওসার'- 'আধুনিক আরবি বাংলা অভিধান'- 'মদীনা পাবলেকেশন্স'।
এছাড়া 'মুনির উদ্দীন আহমদ' এর- 'কোরআনের অভিধানে'- 'ছিরাজুন' (অর্থ) 'চেরাগ অর্থাৎ প্রদীপ'- হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
'মুনীরুন' (অর্থ) 'আলোকিত, উজ্জ্বল'- 'কোরআনের অভিধান'- 'মুনির উদ্দীন আহমদ'
(২৫ : ৬১) অর্থ- কত মহান তিনি যিনি আকাশে স্থাপন বা পরিগঠন করেছেন (বুরুজ) তারকার ঘরসমূহ বা গ্যালাক্সিগুচ্ছ এবং তাতে স্থাপন করেছেন প্রদীপ (সূর্য) এবং উজ্জ্বল/আলোকিত চন্দ্র।
সূরা নূহ-আয়াত নং-১৫, ১৬
لَمْ تَرَوْا كَيْفَ خَلَقَ اللَّهُ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ طِبَاقًا أ (৭১:১৫)
(৭১:১৫) অর্থ- তোমরা কি লক্ষ্য কর না যে, আল্লাহ কিভাবে সপ্ত আকাশে স্তরসমূহ সৃষ্টি করেছেন।
وَجَعَلَ الْقَمَرَ فِيهِنَّ نُورًا وَجَعَلَ الشَّمْسَ سِرَاجًا (৭১ : ১৬)
'ক্বামারুন' (অর্থ) 'চাঁদ', 'শামসুন' (অর্থ) 'সূর্য' এবং 'নূরুন' (অর্থ) 'আলো, আলোর কিরণ'- 'আল-কাওসার'- 'আধুনিক আরবি বাংলা অভিধান'- 'মদীনা পাবলেকেশন্স'।
'সিরা-জুন' (অর্থ) 'বাতি, সূর্য'- 'আল-কাওসার'- 'আধুনিক আরবি বাংলা অভিধান'- 'মদীনা পাবলেকেশন্স'।
এছাড়া 'মুনির উদ্দীন আহমদ' এর- 'কোরআনের অভিধানে'- 'ছিরাজুন' (অর্থ) 'চেরাগ অর্থাৎ প্রদীপ'- হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
'ক্বামারুন' (অর্থ) 'চাঁদ', 'শামসুন' (অর্থ) 'সূর্য' এবং 'নূরুন' (অর্থ) 'আলো, আলোর কিরণ'- 'আল-কাওসার'- 'আধুনিক আরবি বাংলা অভিধান'- 'মদীনা পাবলেকেশন্স'।
(৭১ : ১৬) অর্থ:- যেথায় চন্দ্রকে স্থাপন করেছি আলো/আলোর-কিরণরূপে এবং সূর্যকে স্থাপন করেছি প্রদীপরূপে।
সূরা নাবা- আয়াত নং- ১২ ও ১৩
وَبَنَيْنَا فَوْقَكُمْ سَبْعًا شِدَادًا (৭৮:১২)
(৭৮:১২) অর্থ:- এবং আমরা তোমাদের উপরে সাতটি মজবুত (স্তর) বানিয়েছি,
وَجَعَلْنَا سِرَاجًا وَهَّاجًا (৭৮:১৩)
'ওয়াহহা-জুন' (অর্থ) 'উজ্জ্বল' এবং 'ওয়াহজুন, ওয়াহাজা-নুন' (অর্থ) 'আগুন প্রজ্বলিত হওয়া, শিখা বিস্তার করা- 'আল-কাওসার'- 'আধুনিক আরবি বাংলা অভিধান'- 'মদীনা পাবলেকেশন্স'। وَجَعَلْنَا سِرَاجًا وَهَّاجًا (৭৮:১৩)
'সিরা-জুন' (অর্থ) 'বাতি, সূর্য'- 'আল-কাওসার'- 'আধুনিক আরবি বাংলা অভিধান'- 'মদীনা পাবলেকেশন্স'।
এছাড়া 'মুনির উদ্দীন আহমদ' এর- 'কোরআনের অভিধানে'- 'ছিরাজুন' (অর্থ) 'চেরাগ অর্থাৎ প্রদীপ'- হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
(৭৮:১৩) অর্থ- এবং তাতে স্থাপন করেছি প্রজ্বলিত উজ্জ্বল প্রদীপ (সূর্য)।
মেঘমুক্ত আকাশে সূর্য
দেখা যাচ্ছে পরবর্তীতে (২৫:৬১), (৭১:১৬) ও (৭৮:১৩) নং আয়াতে বিষয়টিকে আস্তে আস্তে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে (২৫:৬১) ও (৭১:১৬) নং আয়াতে সূর্যের আলোর প্রকৃত রূপকে আরও পরিষ্কার ভাবে বোঝানোর জন্য 'সিরাজ' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যার অর্থ চেরাগ/প্রদীপ/বাতি। আবার (৭৮:১৩) ও (৭৮:১৩) নং আয়াতে এর সাথে 'ওয়াহহাযা' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যার অর্থ 'উজ্জ্বল'। আবার 'ওয়াহজুন' বা 'ওয়াহাজা-নুন' এর অর্থ 'আগুন প্রজ্জ্বলিত হওয়া, শিখা বিস্তার করা'। সুতরাং 'সিরাযাওঁ ওয়াহ্হা-জান' এর মাধ্যমে সূর্যটা যে আসলে আগুন প্রজ্জ্বলিত হওয়া ও শিখা বিস্তার করা আসমানী বস্তু অর্থাৎ প্রজ্বলিত উজ্জ্বল প্রদীপ বা বাতির তুল্য তা পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে।
রাতের আকাশে পূর্ণ চাঁদ
আগেই বলেছি, (১০:০৫) নং আয়াতে সূর্য ও চাঁদের আলোকে একই শব্দ দিয়ে না বুঝিয়ে ভিন্ন দুটি শব্দ 'দিয়া' ও 'নূর' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা কেন এমনটি করলেন তা পরবর্তীতে আরও খোলাসা করে দিলেন। যেন ধৈর্যশীল পাঠকরা বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করার সাথে সাথে আরও ভালভাবে বুঝতে পারে। এখন যদি চাঁদের কথা ভাবা যায় তবে দেখা যাবে (১০:০৫) নং আয়াতে চাঁদকে প্রথমত 'নূর' অর্থাৎ আলো বলা হলেও পরবর্তীতে (২৫:৬১) নং আয়াতে 'মুনীর' অর্থাৎ আলোকিত বা উজ্জ্বল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। (৭১ : ১৬) ও (৭৮:১৩) নং আয়াতে সূর্যের আলোকে যেমন প্রজ্বলিত প্রদীপের আলোর সাথে তুলনা করে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। চাঁদের ক্ষেত্রে কিন্তু তেমনটি করা হয়নি।
অস্তগামী সূর্যের আলোয় আলোকিত চাঁদ
এখানে এটাই বোঝানো হয়েছে যে, (২৫ : ৬১) চাঁদের আলোর প্রকারটা এমনি যে তা নিজে জ্বলে না, বরং অন্য কারও অর্থাৎ প্রজ্বলিত সূর্যের আলোয় আলোকিত হয়। ফলে (৭১:১৬) উজ্জ্বলতা প্রাপ্ত হওয়ায় দৃষ্টিগোচর হয় এবং আলোর কিরণ ছড়ায়।
জ্ঞানগর্ভ গ্রন্থ আল-কোরআন নিছক কোন বিজ্ঞানের বই নয়, বরং একটি পুর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। তাই এখানে মূলত জীবন পরিচালনার বিধিগুলোকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি বিজ্ঞানের মৌলিক তথ্যগুলোকে সংক্ষিপ্তভাবে পেশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন সাধারণ পাঠকসমাজকে সৃষ্টি-জগৎ সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, অপরদিকে তেমনি জ্ঞানী ও চিন্তাশীল সম্প্রদায়কে স্রষ্টার সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করার জন্য উদ্ভুদ্ধ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআন নাযিলের যুগে যারা এই গ্রন্থটি বুঝে পড়ত তারা নক্ষত্র ও গ্রহ, উপগ্রহের উজ্জ্বলতার কারণ হিসেবে যে মৌলিক জ্ঞান রাখত, এখনও যারা বুঝে পড়ে তারা সেই জ্ঞানই পায়। এরপর কেউ যদি আরও বেশী জানবার জন্য এর সঙ্গে বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ তথ্যগুলো অধ্যায়ন করতে চান, তবে তা তিনি করতে পারেন। এতে তার ইমান বাড়বে বৈ কমবে না। মহান স্রষ্টা তাঁর প্রেরিত মহাগ্রন্থে ধীরে সুস্থে জ্ঞানদানের ব্যবস্থা করেছেন। একটি বিষয়কে প্রথমত সবার জন্য সহজভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তারপর অন্য স্থানে অর্থাৎ অন্য কোন সূরায় সেই বিষয় সম্পর্কে ধীরে ধীরে গভীর তথ্য প্রদান করা হয়েছে। কোন একটি বিষয় সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে একজন অনুসন্ধিৎসু পাঠক যখন সেই বিষয়টিকে খোঁজার জন্য এই গ্রন্থখানা পড়তে শুরু করে, তখন আপনা আপনিভাবে অন্য অনেক বিষয় তার চোখে পরে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সে তা পড়তে উদ্দোগী হয়। এভাবে একটি বিষয়ের সাথে সাথে অন্যান্য বিষয় সম্পর্কেও সে জানতে শুরু করে এবং তার জানার আগ্রহ ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলে। মহান আল্লাহ ধৈর্যশীল ও সত্যান্বেষীদেরকে এভাবেই পরীক্ষা করেন ও সরল পথ দেখান। শেষ পর্যন্ত যারা বিশ্বাসে অটল থাকতে পারে, তারা সফলকাম হয়। ইহকাল ও পরকালে শান্তি পায়।
.............................................................................................
জৈনিক পাঠকের মন্তব্য ও প্রশ্ন- আপনার উদ্দেশ্য বুঝলাম না। আল-কোরআনকে বৈজ্ঞানিক জার্নাল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারলে ইসলামের কি লাভ?
....................................................................
আমার উত্তর-
আল-কোরআনকে বৈজ্ঞানিক জার্নাল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে যাব কেন ভাই- তার কি আদৌ কোন প্রয়োজন আছে!?
আমার পোষ্টটা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ঠিকমত পড়লে তো এমন উদ্ভট-কথা বলার কথানা-!
আমি যেমন মহান স্রষ্টায় বিশ্বাস করি, তেমনি বিশ্বাস করি যে, আল-কোরআন মহান স্রষ্টা প্রেরিত ঐশীবাণী। আর তাই এই গ্রন্থে কোন অযৌক্তিক এবং অবৈজ্ঞানিক বক্তব্য থাকতে পারেনা বলেও আমিদৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। আল্লাহতায়ালা তাঁর প্রেরিত সর্বশেষ ঐশীগ্রন্থে অত্যন্ত যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক পন্থায় এ ধরনের অতি সাধারন বিষয় থেকে শুরু কোরে গভীর জ্ঞানেদানের ব্যবস্থা করেছেন, বোধ-সম্পন্নমানুষ মাত্রই একটু চিন্তা-ভাবনা করলে তা সহজেই বুঝে নেবে। এইরূপ সুস্থ চিন্তা-ভাবনার বহিঃপ্রকাশ ঘটানোই আমার এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য। লেখার শেষ প্যারাটি ভাল ভাবে পড়লে আমার উদ্দেশ্যটা বুঝতে পারবেন আশাকরি-
...............................................................................
জনৈক পাঠকের প্রশ্ন ও মন্তব্য- আলকোরআন নাজিলের আগে কি মানুষ চাঁদ আর সূর্যের আলোর পার্থক্য বুঝতো না ?
তাছাড়া চন্দ্রালোক-সূর্যালোক নিয়ে আপনার যুক্তি ঠিক না - বাংলায় আলো-কে কমপক্ষে দশটা প্রতিশব্দ দিয়ে লেখা যায়।
তাছাড়া জ্যোতির্বিদ্যায় মধ্যপ্রাচ্য তথা আরব দেশগুলো অনেক এগিয়ে যাবার অন্যতম কারণ, মেঘমুক্ত পরিষ্কার আকাশ।
.................................................................
আমার উত্তর-
আমি কিন্তু বলি নাই- মানুষ চাঁদ আর সূর্যের আলোর পার্থক্য একদমই বৃঝত না। তবে কতটুকু বুঝত- তা কিন্তু বলেন নাই
বাংলায় বা অন্য কোন ভাষায় এবং আরবী ভাষাতেই আলো-কে কমপক্ষে দশটা বা একশটি প্রতিশব্দ দিয়ে লেখা যায় কি যায়না- এখানে মূল বক্তব্য তো সেটা নয়-
জ্যোতির্বিদ্যায় মধ্যপ্রাচ্য তথা আরব দেশগুলো অনেক এগিয়ে থাকলেও চাঁদ ও সূর্যের মধ্যে কার আলোটা নিজস্ব প্রজ্জ্বলিত আলো, আর কারটা অন্য উৎস থেকে আগত আলোকে সরাসরি প্রতিফলিত করা নয়, বরং অন্যের আলো দ্বারা আলোকিত হওয়ার কারনে উজ্জ্বলাতা প্রাপ্ত হওয়া এবং তা চারিদিকে বিস্তৃতভাবে ছড়িযে দেয়া আলো- তা কখন থেকে মানুষ একজ্যাক্টলি জানতে পারল- তা কি বলবেনপ্লিজ?
................................................................................
জনৈক পাঠকের মন্তব্য:- গ্রীক এবং মিশরীয়রা আরো হাজার বছর আগেই এগুলো জানত। আর তাদের সেই জ্ঞানকেই কোরানে কপি করা হয়েছে-
................................................................................
আমার উত্তর-
সঠিক জ্ঞান আহরন ও জানার পরিধিকে আল্লাহতায়ালা যেন আরও বৃদ্ধি কোরে দেন-
পবিত্র কোরআন নাজিলের পূর্বে সূর্য ও চাঁদের আলো সম্পর্কে কেউই কোনরূপ জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করেন নাই- আমি তা তো বলি নাই। আমি বৈজ্ঞানিক দক্ষতা অর্জনের কথা বলেছি। সে সময় এবং তার আগেমানুষ এ সম্পর্কে যে ধরনের জ্ঞান অর্জন করেছিল, তা তো নিশ্চয় অনেকটাই অনুমান নির্ভর ছিল-
মহাকাশ সম্পর্কে হাতেনাতে জ্ঞান লাভের ক্ষেত্রে অবশ্যই টেলিস্কোপ এবং পরবর্তীতে 'হাবল-টেলিস্কোপ' আবিষ্কারের পরেই মানুষ বৈজ্ঞানিক দিক থেকে অধিক দক্ষতা অর্জন করেছে। পূর্বেকার সেইঅনুমাননির্ভর জ্ঞান ও এখনকার বৈজ্ঞানিক দক্ষতা নির্ভর জ্ঞানের মাঝে যে আকাশ-পাতাল ফারাক রয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা-
তারপরও এই ফারাকের বিষয়টি বোঝার জন্য সংক্ষেপে কিছু ইতিহাস তুলে ধরছি-
The ancient Greek philosopher Anaxagoras (d. 428 BC) reasoned that the Sun and Moon were both giant spherical rocks, and that the latter reflected the light of the former.[111][112] Although the Chinese of the Han Dynasty believed the Moon to be energy equated to qi, their 'radiating influence' theory also recognized that the light of the Moon was merely a reflection of the Sun, and Jing Fang[113] In 499 AD, the Indian astronomer Aryabhata mentioned in his Aryabhatiya that reflected sunlight is the cause of the shining of the Moon.[114] The astronomer and physicist Alhazen (965–1039) found that sunlight was not reflected from the Moon like a mirror, but that light was emitted from every part of the Moon's sunlit surface in all directions.[115] Shen Kuo (1031–1095) of the Song Dynasty created an allegory equating the waxing and waning of the Moon to a round ball of reflective silver that, when doused with white powder and viewed from the side, would appear to be a crescent. (78–37 BC) noted the sphericity of the Moon.
Ancient Greece-
In the 6th century BC, Anaximander proposed a cosmology with the Earth shaped like a section of a pillar (a cylinder), held aloft at the center of everything. The Sun, Moon, and planets were holes in invisible wheels surrounding the Earth; through the holes, humans could see concealed fire. About the same time, the Pythagoreans thought that the Earth was a sphere (in accordance with observations of eclipses), but not at the center; they believed that it was in motion around an unseen fire. Later these views were combined, so most educated Greeks from the 4th century BC on thought that the Earth was a sphere at the center of the universe.[3]
উপরের ইতিহাস থেকে দেখা যায় যে, আল-কোরআন নাজিলের আগে পর্যন্ত চাঁদের আলো বা উজ্জ্বলতার মূল কারন হিসেবে অনুমান নির্ভর বিভিন্ন মতবাদ প্রচলিত ছিল এবং সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে সুর্যের আলোর সরাসরি প্রতিফলনকেই (reflection) উল্লেখ করা হয়েছিল-
আল-কোরআনে যদি সেই মতামতকেই তুলে ধরা হত তাহলে তো সরাসরি প্রতিফলনের বিষয়টি বোঝানোর জন্য ( انعكاس ) - এই আরবী শব্দটি প্রাধান্য পাবার কথা-
কিন্তু দেখা যায় যে, আল-কোরআনে চাঁদের আলোর বর্ণনা দেবার ক্ষেত্রে কখনই চন্দ্রপৃষ্টে সরাসরি সূর্যের আলোর (reflection) প্রতিফলনকে বোঝানোর জন্য ( انعكاس ) (ইন্এ'কাসুন)- এই আরবী শব্দটি উল্লেখ করা হয় নাই।
কিন্তু কেন এমনটি উল্লেখ করা হলোনা?
এ প্রশ্নের জবাবে পক্ষে ও বিপক্ষে অনেকেই অনেক বক্তব্য দিয়েছেন।
এর সঠিক উত্তর খোঁজার জন্য প্রথমে আরবী শব্দ انعكاس এর অর্থ যে শুধুমাত্র আলোর প্রতিফলন নয়, বরং এর দ্বারা প্রতিবিম্ব গঠনকেও নির্দেশ করে, এই অর্থটি আমি কোথায় পেলাম সেই সূত্রটি উল্লেখ করছি-
انعكاس - [ইন্এ'কাসুন]- প্রতিবিম্বিত হওয়া- ('আল-কাওসার'- 'আধুনিক আরবী-বাংলা অভিধান'- মদীনা পাবলিকেশন্স)- প্রকাশক- মদীনা পাবলিকেশন্স এর পক্ষে- মোস্তফা মঈনুদ্দীন খান- মুদ্রণ ও বাঁধাই: মদীনা প্রিন্টার্স - ৩৮/২, বাংলাবাজার, ঢাকা- ১১০০
এবার আধুনিক বৈজ্ঞানিক দক্ষতা সম্পন্ন জ্ঞান কি বলে সে দিকে নজর দেয়া যাক-
#Simpler reflection-
At first we will look at a simpler reflection, one that happens on a flat surface. Below is a picture of such a situation. Here a single ray of light strikes a surface and is reflected from it.
Here are descriptions for the terms in this diagram:
• *The ray of light which strikes the surface is called the incident ray.
• *The ray of light which leaves the surface is called the reflected ray.
• *A line perpendicular to the surface is imagined at the point of reflection. This line is called a normal. In this context the word normal means perpendicular. In the above diagram the normal is colored blue.
• *The angle between the incident ray and the normal is called the angle of incidence, or the incident angle.
• *The angle between the reflected ray and the normal is called the angle of reflection, or the reflected angle.
Notice that the angle of incidence is equal to the angle of reflection.
#Diffuse reflection-
When light strikes the surface of a (non-metallic) material it bounces off in all directions due to multiple reflections by the microscopic irregularities inside the material (e.g. the grain boundaries of a polycrystalline material, or the cell or fiber boundaries of an organic material) and by its surface, if it is rough. Thus, an 'image' is not formed. This is called diffuse reflection
Diffuse reflection is the reflection of light from a surface such that an incident ray is reflected at many angles rather than at just one angle as in the case of specular reflection. An illuminated ideal diffuse reflecting surface will have equal luminance from all directions in the hemisphere surrounding the surface.
Diffuse and specular reflection from a glossy surface-
Moonlight is the light that reaches Earth from the Moon. This light does not originate from the Moon, but from sunlight. The Moon does not, however, reflect sunlight like a mirror, but it reflects light from those portions of its surface which the Sun's light strikes.[1] See diffuse reflection.
The kind of reflection that you see on the moon is diffuse reflection, usually just called "diffuse" in CG.
The problem is that the standard diffuse models don't look exactly like the moon because of the complex way that it
scatters light.
ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, আল-কোরআন নাজিলের প্রায় তিনশ থেকে চারশ বছর পর Alhazen (965 - 1039) আবিষ্কার করলেন যে, (The astronomer and physicist Alhazen found that sunlight was not reflected from the Moon like a mirror, but that light was emitted from every part of the Moon's sunlit surface in all directions.)
আর এরই সূত্র ধরে পরবর্তীতে আবিষ্কৃত তথ্য অনুসারে চাঁদের আলোকে emitted sunlight বা diffuse reflection of sunlight হিসেবে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এর ফলে এটি যে চন্দ্রপৃষ্ঠে সূর্যের আলোক রশ্মির প্রতিফলন ঘটলেও 'প্রতিবিম্বিত হওয়া' নয়, বরং সূর্যের আলোয় আলোকিত হয়ে তা চতুর্দিকে বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে দেয়া আলোর কিরণ অর্থাৎ এটি যে সরাসরি Simpler reflection = (انعكاس) (ইন্এ'কাসুন) নয়, এমনকি diffuse reflection অপেক্ষাও complex বিষয় তা উপরের এই বক্তব্য (standard diffuse models don't look exactly like the moon because of the complex way that it scatters light) থেকে সহজেই বোঝা যায়-
এই ছবিটির দিকে লক্ষ্য করুন-
এখানে স্বচ্ছ, শান্ত পানিতে সূর্যের আলোক রশ্মিগুলো reflection এর সময় প্রতিফলনের সরল (simple) সূত্রগুলো Regular way তে প্রতিপালিত হয়েছে অর্থাৎ সূর্যালোকের Regular reflection/ specular reflection/ simpler reflection হয়েছে। ফলে পানিতে সূর্যের প্রতিবিম্ব গঠিত হয়েছে। তাই এক্ষেত্রে انعكاس শব্দটা ব্যবহার করা যেতে পারে।
কিন্তু চাঁদের ক্ষেত্রে এমনটি হয়না অর্থাৎ সূর্যের প্রতিবিম্ব গঠিত হয়না, বরং চাঁদ সূর্যের আলোয় আলোকিত বা উজ্জ্বলাতা প্রাপ্ত হয় এবং আলোর কিরন ছড়ায়- এটিকে বিজ্ঞানের ভাষায় Diffuse reflection বলেন বা যে রিফ্লেক্সনই বলেননা কেন, এক্ষেত্রে انعكاس শব্দটা মোটেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
চাঁদ যখন সূর্যের আলোয় আলোকিত হয়ে আলোর কিরণ ছড়ায় তখন চাঁদের মাঝে সূর্যের "প্রতিবিম্ব" গঠনের কোন সম্পর্ক নেই। তাই এক্ষেত্রে আল-কেরআনে انعكاس শব্দটি ব্যবহার না করাই যে অত্যন্ত যুক্তি সংগত হয়েছে সেটাই আমার আলোচনার মূল বক্তব্য ছিল।
যদি ধরেও নেই যে, আরবরা আল-কোরআন নাজিলের আগেই সৌরজগৎ সম্পর্কে অনুমান নির্ভর এসব নানা মতবাদ ভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। তাহলে তো আল-কোরআনে সেইসব মতামতকেই সরাসরি তুলে ধরার কথা। কিন্তু এসব মতামতের মধ্য থেকে কপি করা হয়েছে বলে অবিশ্বাসীরা যে ধরনের অপপ্রচার চালায়- প্রকৃত অর্থে তা তো করা হয়ই নাই, বরং সম্পূর্ণ মৌলিক জ্ঞান-সম্পন্ন নির্ভূল তথ্যটি আল-কোরআনে প্রকাশ করে দেয়া হয়েছে। একজন উম্মী নবীর পক্ষে সর্বজ্ঞ মহান আল্লাহতায়ালার সাহায্য ছাড়া তা কিভাবে সম্ভব হলো?
এটি অনেকের কাছে তুচ্ছ বিষয় মনে হলেও, বোধসম্পন্ন বিশ্বাসীদের কাছে এটির মূল্য কম নয়। আল্লাহতায়ালা তাঁর প্রেরিত সর্বশেষ ঐশীগ্রন্থে অত্যন্ত যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক পন্থায় এ ধরনের অতি সাধারন বিষয় থেকে শুরু কোরে গভীর জ্ঞানদানের ব্যবস্থা করেছেন, বোধ-সম্পন্ন মানুষ মাত্রই একটু চিন্তা-ভাবনা করলে তা সহজেই বুঝে নেবে।
৩১ শে অক্টোবর, ২০১১ বিকাল ৪:০২
মাহফুজশান্ত বলেছেন: জি ভাই, ঠিক বলেছেন- 'সূর্য ও চাঁদ' এই দুটোকেই আল্লাহতায়ালা 'আলো' হিসেবে তুলে ধরে ধীরে ধীরে এদের আলোর মাঝে পার্থক্যটা প্রকাশ করেছেন-
আশাকরি বাকীটা মন দিয়ে পড়লেই বুঝতে পারবেন যে, আপনার এই কথাগুলোই পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি-
২|
৩১ শে অক্টোবর, ২০১১ বিকাল ৫:৪৩
আমি নি (?) বলেছেন: খুব মনযোগ দিয়ে পড়েও কোথাও পেলাম না চাঁদ পৃথিবীর একটা উপগ্রহ। যা মাটির তৈরি। সূর্য একটা নক্ষত্র। চাদের সাথে পৃথিবীর তুলনা হতে পারে, সূর্যের না। চাঁদ কখন ধরতে পারবে না সূর্যকে কিম্বা সূর্য চাদকে-এমন কথাও হাস্যকর। এমন কথা তিনিই বলতে পারেন যিনি খালী চোখে চাঁদ ও সূর্য কে চলতে দেখেন। শুধু চলেতে দেখেন না কল্পনা করেন সূর্য একটা নোংরা জয়ালশয়ে অস্ত যায়।
আমি এগুলি বলে কোন বিদ্রুপ করছি না। সদালাপ ব্লকেই দেখলাম একজন মোল্লা শেষ পর্যন্ত ধর্ম দিয়ে বিজ্ঞান শেখানর এই প্রবনতাকে শব্দার্থ যুদ্ধ বলে মন্ত্যব্য করেছেন।
পাকিস্তানের পরমানু বিজ্ঞানী কাদের খান একবার বলেছিলেন- যারা কোরআনে বিগ ব্যাঙ্গ খুজে পান, যখন বিগ ব্যাঙ্গ ভুল প্রমানিত হবে তখন কি তারা কোরানের সংশ্লিষ্ট আয়াত পালটে ফেলতে পারবেন?
নাকি সদালাপী ভাষায় আরেক শব্দার্থ যুদ্ধ শুরু হবে?
০১ লা নভেম্বর, ২০১১ রাত ১:০৫
মাহফুজশান্ত বলেছেন: ভাই, আপনি যদি এক পোষ্টে সব উত্তর চান তাহলে তো নিজেই অধৈর্য হয়ে পড়বেন। তখন এত বড় পোষ্ট দেখে হয়ত পরে পড়ব বলে আর পড়বেনই না।
আমি মূলত এখানে চাঁদ ও সূর্যের আলোর বেসিক তফাৎটা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
চাঁদ ও সূর্য পরস্পরকে ধরতে পারবে না যেমন বলা হয়েছে। তেমনি বিশেষ সময়ে আবার সূর্য ও চাঁদকে একত্রিত করার কথাও আল-কোরআনে এসেছে। যারা বোধ সম্পন্ন ও বুঝতে চেষ্টা করেন তাদের কাছে কোন বক্তব্যই কিন্তু হাস্যকর বা ফেলনা নয়।
আপনার বাকি প্রশ্নের উত্তর জানতে চইলে আপাতত নিচের পোষ্টগুলো দেখে নিতে পারেন-
“প্রথম আসমানের মাত্রাগত বন্ধন”
সাত - আসমান
পবিত্র কোরআনের ১৮:৮৬ নং আয়াতের খাম-খেয়ালি অনুবাদ এবং কটাক্ষপূর্ণ উক্তির জবাবে বলছি-
ধর্ম দিয়ে বিজ্ঞান শেখানোর প্রবণতাকে শব্দার্থ যুদ্ধ বলে মন্তব্য করুক আর যাই বলুক- আল-কোরআনে মহান আল্লাহতায়ালা সৃষ্ট-জগৎ সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করার জন্য যে মানুষকে উৎসাহিত করেছেন- তা কি কেউ অস্বীকার করতে পারবেন?
আর বিগ-ব্যাং বলুন বা স্মল ব্যাং বলুন- এসবের সাথে আল-কোরআনের বক্তব্যকে গুলিয়ে ফেলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্পর্কে আল-কোরআনে যে বেসিক ইংগিত দেয়া হয়েছে, তা অস্বীকার করার দুঃসাহস দেখানোটাও একপ্রকার মূর্খতার লক্ষণ বৈকি।
এ সম্পর্কে জানতে এখানে দেখুন-
আল-কোরআন ও বিজ্ঞানের আলোকে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি-(১ম পর্ব)
আমার বক্তব্য আরও জানার ইচ্ছে থাকলে এক এক করে বাকি পোষ্টগুলো পড়ে নিতে পারেন-
ধন্যবাদ ও শুভকামনা-
৩|
০১ লা নভেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:৩৬
ডাইনোসর বলেছেন:
কোরানে সব াল ফালানোর কথাই বলা আছে তাইলে খুঁজে পেতে এত দেরি হয় কেন? বিজ্ঞান অনেক সমস্যা নিয়ে কাজ করছে। কোরান থেকে এসব খুঁজে বের করে দেখান না? সেইটা পারবেন না বিজ্ঞান যখন বের করবে তখন কোরানে আছে এই রব উঠাবেন।
আমি নি (?) @ আপনার মাথাও কি খারাপ হলো নাকি?
০২ রা নভেম্বর, ২০১১ সকাল ১০:০৮
মাহফুজশান্ত বলেছেন: আল-কোরআনের আলোকে জ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ হলে মানুষ ধীরে ধীরে অলীক কল্পনা ও মিথ্যার মায়াজাল থেকে বেরিয়ে আসে। সত্যের স্বচ্ছ জ্যোতিতে তার জ্ঞানচক্ষু হয় শাণিত ও উন্মোচিত। সুদূরপ্রসারী চিন্তাশক্তির সহায়তায় প্রচলিত মতবাদগুলোর মধ্য থেকে প্রকৃত সত্যটি সে সহজেই খুঁজে ও বুঝে নিতে পারে। এটি নিছক কোন বিজ্ঞানের বই নয়। তাই এতে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও ত্বত্ত্বগুলোর বিস্তারিত বিবরণ না দিয়ে ঐশী ইংগিত দেয়া হয়েছে মাত্র। মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য সম্পর্কে একজন ইমানদার মানুষ যখন গভীর চিন্তা-গবেষণায় রত হয়, তখন পরম শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসে জগৎসমূহের স্রষ্টা সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান এক আল্লাহর সামনে মাথা নত করতে বিন্দুমাত্র কুন্ঠিত হয় না। জ্ঞানী মানুষেরা যেন আল্লাহতায়ালার সৃষ্টি বৈচিত্র সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করে সেজন্য বার বার তাগিদ দেয়া হযেছে।
৪|
০১ লা নভেম্বর, ২০১১ বিকাল ৩:১৪
অাতিক বলেছেন: ভাই আপনাকে ধন্যবাদ। আমার অনেক প্রশ্নের সমাধান হয়েছে। আসলে কিছু মানুষ আছে তাদের যদি জান্নাত জাহান্নামে ঘুরিয়ে নিয়ে আসা হয় তারপরও তারা মানবে না। যেমন হয়েছিল আবু জাহেলের।
কোরআনের এমন কত ঘটনাই আছে যার একটাই মানুষের হেদায়েতের জন্য যথেষ্ট।
০২ রা নভেম্বর, ২০১১ সকাল ১০:০৯
মাহফুজশান্ত বলেছেন: পড়ার ও মন্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ-
৫|
০১ লা নভেম্বর, ২০১১ বিকাল ৩:২৬
অমিয় উজ্জ্বল বলেছেন: কোরানে পড়েছিলাম রাতের বেলায় সূর্য আল্লাহর আরশের নীচে অবস্থান করে.........আরেক জায়গায় পড়েছিলাম সূর্য একটা নোংরা জয়ালশয়ে অস্ত যায়........
০২ রা নভেম্বর, ২০১১ সকাল ১০:১৪
মাহফুজশান্ত বলেছেন: আল-কোরআনে নয়, হাদিছে আছে এবং এর উত্তর দেখুন-
সহী বুখারি শরীফের (নিম্নে বর্ণিত) হাদিছে সূর্যের গতিপথ সম্পর্কে যে ইংগিত দেয়া হয়েছে সে বিষয়ে একজন প্রশ্নকারীর প্রশ্নের জবাবে বলছি-
৬|
০১ লা নভেম্বর, ২০১১ বিকাল ৩:২৯
অমিয় উজ্জ্বল বলেছেন: সূর্য একটা নোংরা জলাশয়ে অস্ত যায.......আবার আরশের নীচে ও লুকায়......।
০২ রা নভেম্বর, ২০১১ সকাল ১০:১৬
মাহফুজশান্ত বলেছেন: সূর্য একটা নোংরা জলাশয়ে অস্ত যায....
পবিত্র কোরআনের ১৮:৮৬ নং আয়াতের খাম-খেয়ালি অনুবাদ ও কটাক্ষের প্রত্যুত্তর:-
৭|
০১ লা নভেম্বর, ২০১১ বিকাল ৩:৫৬
ডাইনোসর বলেছেন:
অমিয় উজ্জ্বল বলেছেন: সূর্য একটা নোংরা জলাশয়ে অস্ত যায.......আবার আরশের নীচে ও লুকায়......।
তাইলে তো দাঁড়ায় আরশটাই নোঙরা জলাশয়ে।
০২ রা নভেম্বর, ২০১১ সকাল ১০:১৮
মাহফুজশান্ত বলেছেন: ৬ ও ৭ এর জবাব দেখুন-
তাইলে তো দাঁড়ায় আরশটাই নোঙরা জলাশয় নয়, বরং নোংরা আপনাদের অন্তর-
৮|
০৩ রা নভেম্বর, ২০১১ রাত ১২:০৭
অমিয় উজ্জ্বল বলেছেন: লেখক বলেছেন জ্ঞানী মানুষেরা যেন আল্লাহতায়ালার সৃষ্টি বৈচিত্র সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করে সেজন্য বার বার তাগিদ দেয়া হযেছে।[/si
কিন্তু এত তাগাদাতেও ফায়দা হলো না সেইটাই আফসোস। বেশীর ভাগ গবেষণাই করলো কাফেরের দল,খ্রীস্টান, ইহুদী নাসারারা..........
০৩ রা নভেম্বর, ২০১১ সকাল ১০:৫৮
মাহফুজশান্ত বলেছেন: বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমনটি ভাবাই স্বাভাবিক- আল-কোরআনের জ্ঞান ও নির্দেশ সম্পর্কে বর্তমান মুসলিমদের নির্লিপ্ততাই এর একটি বড় কারন-
তবে বিজ্ঞানের গবেষণার হাতে-খড়ি যে মুসলিমদের দ্বারাই হয়েছিল তা কি আপনার জানা আছে?
©somewhere in net ltd.
১|
৩১ শে অক্টোবর, ২০১১ বিকাল ৩:৫৩
আমি নি (?) বলেছেন: চাঁদকে 'নূর' অর্থাৎ 'আলো/আলোর কিরণ' হিসেবে স্থাপন করেছেনন।
না চাঁদ নুর বা আলো নয়।সেটা একটা টেরেস্ট্রিয়াল উপগ্রহ। সূর্যের আলো সেখান থেকে প্রথিফলিত হয়। সূর্যের আলো প্রথিবী থেকেও প্রথিফলিত হয়। এমনকি গাছপালা, পাহার পর্বত থেকেও প্রতিফলিত হয়। তাই চাঁদ যদি নুর হয় তবে সূর্যের আলো পড়ে এমন সব কিছুই নুর।