নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মিল অমিল নিয়েই আমাদের পথ চলা

Mahmood Khan

আবু শরীফ মাহমুদ খান

আমি যে ভাবে ভাবি অনেকেই সেভাবে ভাবেন না আবার অনেকেই সে ভাবে ভাবেন এই মিল অমিল নিয়েই আমাদের পথ চলা লেখা লেখি করি অনেকদিন সেই ৮২ সাল থেকে। অজারভারে লিখতাম খালেক স্যারের হাত ধরে। এরপর অনেক পত্রিকায় লিখেছি লিখছি হয়ত আরও লিখব।

আবু শরীফ মাহমুদ খান › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইসলাম সর্বপ্রথম দাস প্রথা উচ্ছেদ করেছে

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:১৯

বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) এমন এক সময় আরব দেশে আগমন করেছিলেন যখন সারাবিশ্ব অজ্ঞতা, বর্বরতা ও জঘন্য সব কার্যকলাপে ডুবে ছিল। মানুষ হয়ে মানুষকে হত্যা করা, ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে দাস-দাসী বানিয়ে নির্মমভাবে অত্যাচার করাটা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। হজরত মোহাম্মদ (সা.) জাহিলিয়াতের এ অবস্থা থেকে মুক্ত করেছিলেন। দিয়েছেন মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা, নারী-পুরুষের আলাদা মর্যাদা। সঙ্গে সঙ্গে দাস প্রথার বিলুপ্তির ঘোষণা। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো সংস্কারই হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর ন্যায় এত বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়নি। এ জন্য ঐতিহাসিক রেমন্ড লজি বলেছেন, ''The founder of Islam is, in fact, the promoter of the first social and International revolution of which history gives mention'' অর্থাৎ প্রকৃতপক্ষে সামাজিক এবং আন্তর্জাতিক বিপ্লবের সূচনাকারী হিসেবে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তকের নাম ইতিহাসে প্রথম উল্লেখ করা হয়েছে। তখন গ্রিস, রোমান, ইহুদি ও খ্রিস্ট জগতে, বিশেষ করে আরব সমাজে দাস-দাসীর এই কুপ্রথার প্রচলন ছিল। মনিবরা তাদের জীবন-মরণের প্রভু ছিল বলে তাদের ওপর অমানুষিক অত্যাচার করতো। মানুষ হিসেবে তাদের কোনো অধিকার ছিল না, তাই তাদের পশুর মতো জীবনযাপন করতে হতো। এ পরিস্থিতিতে তিনি তাদের মানুষের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেন এবং তাদের মুক্তির পথ নির্দেশ করেন। তাইতো ঘোষণা করেন, ‘গোলামকে আজাদি দানের চাইতে শ্রেষ্ঠতর কাজ আল্লাহর কাছে আর কিছু নাই।’ পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে, ‘সৎ কর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিম দিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎ কাজ হলো এই, যে ঈমান আনবে আল্লাহর ওপর, কিয়ামত দিবসের ওপর, ফেরেশতাদের ওপর এবং সমগ্র নবী-রাসুলগণের ওপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তারই মহব্বতে আত্মীয়স্বজন, এতিম-মিসকিন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্য।’ (বাকারা-১৭৭)

অপর আয়াতে এরশাদ হয়েছে, ‘আর পিতা-মাতার সঙ্গে সৎ ও সদয় ব্যবহার করো এবং নিকটাত্মীয় এতিম-মিসকিন, প্রতিবেশী অসহায় মুসাফির এবং নিজের দাস-দাসীর প্রতিও। নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না দাম্ভিক-গর্বিতজনকে।’ (সুরা-নিসা ৩৬)

পবিত্র কোরআনুল কারিমের এসব আয়াত থেকে দাস-দাসীদের ব্যাপারে এই হক সাব্যস্ত ও অপরিহার্য করে দেওয়া হয়েছে যে, তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করতে হবে। সাধ্যানুযায়ী তাদের খাওয়া-পরার ব্যাপারে কার্পণ্য করা যাবে না। তা ছাড়া তাদের সাধ্যের বাইরে কোনো কাজ তাদের দ্বারা করাবে না।

আবু মুসা আশ আরী (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে আপন ক্রীতদাসীকে উত্তম শিক্ষা দান করে এবং শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়, এরপর তাকে মুক্ত করে শাদি করে তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব। (বুখারি খ--৮ ইফা পৃ ৩৯৩)

শুধু ঘোষণা দিয়েই শেষ করেননি, নিজ হাতে অনেক দাসকে যুক্ত করেছেন। এই পদাঙ্ক অনুসরণ করে অনেক সাহাবি দাস-দাসীদের মুক্ত করেছেন, ক্রীতদাস জায়েদকে সেনাপ্রধান এবং হাবসী ক্রীতদাস হজরত বেলাল (রা.)-কে ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন হিসেবে নিযুক্ত করে তাদের মুক্তির ও পদমর্যাদার উন্নতির পথকে সুপ্রশস্ত করে গেছেন। এ ছাড়া সলেমান ফারসী, সুহায়েল রুমী এবং অনেক ক্রীতদাসকে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ পদমর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজ বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে দাস প্রথামুক্ত দিবস। আল্লাহ আমাদের কোরআন-সুন্নাহ মোতাবেক তাদের মুক্ত করে তাদের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ ও মানবাধিকার ফিরিয়ে দেয়ার তাওফিক দান করুন।

মন্তব্য ১৮ টি রেটিং +১৩/-৭

মন্তব্য (১৮) মন্তব্য লিখুন

১| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:২৯

হায় ঈশ্বর! বলেছেন: ইসলামের দাসীর সাথে সেক্স করা জায়েজ ছিলো :-P

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৩:৫২

আবু শরীফ মাহমুদ খান বলেছেন: ছিলো শব্দটায় অতিত কাল বোঝায়, তাইনা?

২| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:২৯

মেঘমালাকম বলেছেন: গরম গরম পেলাস দিয়া গেলাম

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ২:৪১

আবু শরীফ মাহমুদ খান বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে

৩| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:২৯

বাবুআনা বলেছেন: সুন্দর আর সত্য প্রথম ইসলামে-ই রচিত হয়...
নাস্তিকেরা সেটাতেই কষ্ট পায়।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ২:৫৩

আবু শরীফ মাহমুদ খান বলেছেন: নাস্তিকেরা কষ্ট পায় কারন ইসলাম কারো পাকা ধানে মই দেয় না কেন?

৪| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:৩৭

প্রলাপ বলেছেন: লেখক বলেছেন: হজরত মোহাম্মদ (সা.) জাহিলিয়াতের এ অবস্থা থেকে মুক্ত করেছিলেন। দিয়েছেন মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা, নারী-পুরুষের আলাদা মর্যাদা। সঙ্গে সঙ্গে দাস প্রথার বিলুপ্তির ঘোষণা।

এইটা একটা নিম্নশ্রেনীর চাঁপাবাজি। মোহাম্মদের সময়ে তো বটেই, প্রথম কয়েকজন খলিফার যুগেও দাসপ্রথা প্রচলিত ছিল। মোহাম্মদ তো দাসীদের সাথে সেক্স ও করতেন বলে অভিযোগ আছে। ইসলামে দাসীদের সাথে বিবাহ-বহির্ভুত সেক্সকে বৈধতা দেয়া হয়েছে। বিশ্বাস না হলে জাকির নায়েককে জিজ্ঞেস করে দেখেন।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:১৮

আবু শরীফ মাহমুদ খান বলেছেন: নিম্নশ্রেনীর অবস্থানে থেকে আপনার মত উচ্চশ্রেনীর চাঁপাবাজি করতে অক্ষম

৫| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:৫৬

বিবেকহীন বলেছেন: এই পোস্টেও দেখি খচ্চর গুলা মুখ দেয়া শুরু করছে। ইসলাম দাস প্রথাকে হারাম ঘোষনা ছাড়া অনুৎসাহিত করার জন্য যা যা দরকার তার সবই করছে। বড় ধরনের সঙ্কটে পড়লে মানুষ যাতে উতরে যেতে পারে সেটার জন্য হারাম ঘোষনা করা হয় নাই। "দাস" শব্দের প্রচলিত অর্থের জন্য খচ্চর প্রকৃতির লোকজনই দায়ী।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৩:৩৯

আবু শরীফ মাহমুদ খান বলেছেন: খচ্চর গুলার মুখ দেয়া বন্ধ করা যাবেনা, কারন খচ্চর যেখানে ইচ্ছা কারনে অকারনে মুখ দেয়।

৬| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:৫৭

সোলাইমান হোসেন বলেছেন: ভুল তথ্য। ইসলামে কখনো দাস প্রথাকে অবৈধ করা হয়নি, এথনও অবৈধ নয়।

৭| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:০৫

সোলাইমান হোসেন বলেছেন: আমি নাস্তিক নই তবুও বলছি, ইসলামে কখনো দাস প্রথাকে অবৈধ করা হয়নি এবং এথনও অবৈধ নয়।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:৩৪

আবু শরীফ মাহমুদ খান বলেছেন: আপনি নাস্তিক না, তবে তাদের পক্ষে

৮| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:০৮

জীবন মায়া বলেছেন: অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি পোষ্ট, যার শব্দে শব্দে পাঠকের নিউরণে হয় অনুরনণ, ছত্রে ছত্রে রয়েছে তথ্যের বিশ্লষেণ, অনুচ্ছেদে অনুচ্ছেদে আছে ঘটনার বিববণ, এবং সম্পূর্ণ পোষ্টে প্রকাশ পাচ্ছে যাবতীয় অনাচারের বিরুদ্ধে একটি তীব্র মানবাতাবাদী আন্দোলন। আজকের এই পবিত্র জুম্মার দিনে এমন একটি অনলবর্ষী পোষ্ট প্রদান করে আপনি তাওহীদি জনতাকে আরও একবার ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে সমবেত করবার যে কুণ্ঠাহীন প্রয়াস পেয়েছেন তাতে একজন বাঙালি হিসেবে আমি গর্বে গ.....গ........গ......গর্বিত।

৯| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ২:০২

গিগাবাইট বলেছেন: আস্তিক ভাইরা আসলেই ধর্ম সম্পর্কে খুব কম জানে, বলতে গেলে কিছুই জানে না, কেম্নে নামাজ পরতে হয়, বিয়ে করতে হয়, এছাড়া আর কিছু জানে না, আপনার পোস্ট পড়ে আবারো নিশ্চিত হলাম।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:০৫

আবু শরীফ মাহমুদ খান বলেছেন: আপনাকে আপনার তালগাছ বুঝায় দেওয়া হইল, খুশি

১০| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ২:১৯

রিয়াদ হাকিম বলেছেন: আপনি বলেছেনঃ সঙ্গে সঙ্গে দাস প্রথার বিলুপ্তির ঘোষণাঃ কিন্তু আপনার লেখায় কোথাও পেলাম্না সেই ঘোষনার কথা। "মদ খাওয়া হারাম/কবিরা গুনাহ/জঘন্যতম অপরাধ" আর "মদ না খাওয়া অনেক পুন্যের কাজ" - এই দুটো কথার মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। ইসলামের মূল থিম হলো যে মানুষ আল্লাহ ছাড়া আর কারো গোলামি করতে পারেনা, অথচ এই দাস প্রথাকেই ইসলাম হারাম করেনি (আমি যতটুকু জানি), খোলাফায়ে রাশেদিনদেরও দাস ছিল, আর সেই সাথে এসেছে দাসদের সাথে সেক্স করার অনুমোদন (সম্ভবতঃ শুধু পুরুষ মালিকের জন্য) - এই নিয়ম কেন করা হয়েছে খুব জানতে ইচ্ছা করে - এ কেমন দাস প্রথা উচ্ছেদ এর ব্যবস্থা, এতো উচ্ছেদ নয়, এতো দাস প্রথার সযত্নে লালন। উচ্ছেদতো সেটাকে বলবো যেভাবে মদকে আল্লাহ পর্যায়ক্রমে হারাম করেছেন, এবং যেদিন মদ হারাম করা হলো - সেদিন মদিনার নালা, রাস্তা দিয়ে মদের বন্যা বয়ে গিয়েছিল, জানতে ইচ্ছা করে কেনো দাস প্রথার মত একটি অমানবিক এবং ইস্লামের মূল থিম বিরোধী প্রথা কে ইসলাম মদের মতো হারাম করেনি!!

১১| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৩:২৪

সবুজপএ বলেছেন: টাকা দিয়ে বাজার থেকে দাস/দাসী কেনা ইসলামে সম্পূর্ণ বৈধ । এছাড়া যুদ্ধবন্দী হিসেবে প্রাপ্ত দাস /দাসী সবই বৈধ । দাসীদের সাথে আবার সেক্স করাও রীতিমতো হালাল । চাইলে সরাসরি কোরান থেকে আয়াত উল্লেখ করতে পারি ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.