| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
হঠাৎ করেই মনে পড়লো পুরনো স্মৃতিগুলো।অকারনে নয়,কারন আছে!
আজ একজন বিশেষ মানুষকে মনে পড়ছে এবং লেখাটাও তাকেই উৎসর্গ করে লিখছি।
আমার স্কুল লাইফে দুটো স্কুলে পড়েছি তারমধ্যে নবম-দশম শ্রেণী পড়েছি উদয়পুর মুসলিম আকন্দ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। ফার্স ডে অফ ইউর স্কুল এসে বা প্যারাগ্রাফ আসলে ২০০৮ সালের ঐ দিনটাই মনে পড়ে।
আমাদের বাংলা ক্লাস নিতেন সামসুল হক স্যার যিনি আমাদের কাছে সামসু স্যার নামেই পরিচিত। ওনার প্রথম ক্লাসে আমি অবাক দৃষ্টিতে তার পাঠদানের শৈলি দেখছিলাম।
স্যার কখনোই বই নিয়ে পড়াতেন না এটা স্যারের প্রধান বৈশিষ্ট্য বলা চলে। ছাত্র-ছাত্রীদের খুব স্নেহ করতেন তেমনি ছিলেন সবার প্রিয়।আমরা যেবার দশমে উঠলাম সেবার স্যার রিটারমেন্টে গেলেন,গেলেন কিন্তু যেতে পারলেন না! আমাদের বাধনে বাধা পরে গেলেন গেস্ট টিচার হিসেবে আরও একবছর ক্লাস নিলেন, আমাদের সাথে একসাথেই বিদায় নিয়েছিলে শেষমেশ। সময়টা ২০০৯ সালের আগস্ট মাস,১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু দিবস উপলক্ষ্যে আন্তস্কুল রচনা প্রতিযোগিতা হয়, আমার লেখা রচনাটা পড়ে স্যার খুব প্রশংসা করেছিলেন সেই প্রতিযোগীতায় আমি প্রথম হওয়া সত্বেও আমি পুরস্কার পাইনি। স্যার এ বিষয়টা নিয়ে অনেক লড়েছেন তবু সেই পুরস্কার আনতে পারেননি।আমি পুরস্কার পাইনি এতে কষ্ট পাইনি কিন্তু স্যার আমার জন্য তর্ক পর্যন্ত করেছেন এই কষ্ট আমায় এখনো ভাবায়। স্যার আমায় বিশেষ স্নেহ করতেন। স্কুল থেকে বিদায় হওয়ার পরে স্যারের সাথে অনেক বার দেখা হয়েছে, উল্লেখযোগ্য একবার স্যারের সাথে দেখা হয় সালাম করলাম স্যার মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করেছিলেন,পুরানো কিছু কথা মনে করে অশ্রু বিসর্জন দিয়েছিলেন দু ফোটা।
এই মানুষটা আমার জীবনে প্রিয় শিক্ষকের আসনে বসে আছেন,থাকবেন।
কোন একদিন স্যার বলেছিলেন মাহমুদুল তুমি আমার প্রিয় ছাত্রদের একজন।
আজ শিক্ষক দিবসে অনেকেই হয়তো তার প্রিয় শিক্ষকের বন্দনা করবে, উপহার দিবেন।
জান্নাতে কি উপহার পাঠানো যায়!
মানুষটা যদি বেচে থাকতেন লেখাটা দেখে খুব খুশি হতেন আজ।
জান্নাতে ভালো থাকবেন স্যার।
প্রচন্ড দেশপ্রেমিক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম সামসুল হক স্যারকে উৎসর্গ করছি।
©somewhere in net ltd.