নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আবেগ একটি শক্তি! চালক সে শক্তিকে যেভাবে চালিত করবে সে মতেই চলবে। আবেগ প্রবনরাই হয় প্রেমিক,আবার আবেগীরাই বিদ্রোহী। তাই আবেগ ধারন করুন মনে ও মগজে।

হাসান সাহেব

মনে কথার ফোয়ারা বয়!

হাসান সাহেব › বিস্তারিত পোস্টঃ

ঢাকা,২০১৮

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১:৪৫

বছরটা শুরু থেকেই উত্তেজনা পূর্ন।সালের শেষের দুই সংখ্যা এর একটা কারন হতে পারে; ১৮!
১৮ সংখ্যাটার মাঝে কেমন একটা উত্তেজনা আছে,একটা তেজ আছে! সুকান্তদা "আঠারো বছর বয়স" লিখেছেন তার ২১ বছর বয়সে তাও পূর্বের প্রায় এক শতক আগে।লোকটা অল্প বয়সেই চলে গেলেন, বেচে থাকলে লিখতেন প্রতিবাদ, বিদ্রোহ। মূলত ১৮ সকল দিক থেকেই তেজদিপ্ত, আবার ২০১৮ সন এ শতকের যুবায় পদচারনার বছর। বছরটা দেশের নির্বাচনি বছর, এ বছরে ঘটে গেলো ইতিহাসে স্থান পাবার যোগ্য কয়েকটি আন্দোলন।

প্রথমেই আসে যুগোপযোগী কোটা আন্দোলন। কোটা আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বললে,ভালো আন্দোলন ছিল,প্রেক্ষাপট ও প্রতিপাদ্য ভালোই ছিল। তবে সামাজিক মাধ্যমের অতিরঞ্জিত ব্যবহার আন্দোলন নৎসাতের প্রধান কারন ছিল বলে আমার ধারনা। কারন পূর্বের সকল শক্তিশালী আন্দোলনের যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল নিরবতা,ছিল হাতে লিখিত ক্ষুদে বার্তা।যেখানে এ আন্দোলনে ছিল খুল্লাম-খুল্লা সামাজিক যোগাযোগ যা খুব সহজেই ফাস করা সম্ভব এবং বাধাগ্রস্ত করা সম্ভব। তবু বলতে হয় যারা আন্দোলনে ছিল, যারা এর সংগঠক তাদের ঋণ সাধারণ ছাত্ররা কখনো ভুলবে না, ওরাও কালের সাক্ষী হবে, অম্লান হয়ে থাকবে জাতির এ সূর্যসন্তানদের এ কর্ম।
স্বাধীনতার প্রায় অর্ধ শতাব্দী পরে সে দেশে সাধারণদের মধ্যে কাউকে অসাধারণ গন্য করা হোক তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত জনতা বোধহয় চায় না, তবে মুক্তিযুদ্ধ ক্যান হয়েছিল! যে বৈষম্য দূরের জন্য ন'মাস যুদ্ধ সে বৈষম্য এদেশের তরুণ-যুবারা মানবে না;মানবে শুধুই সুযোগসন্ধানীরা।
পৃথিবীর অনেক দেশে কোটা ব্যবস্থা প্রচলিত আছে তবে তা শুধুই সরকারী চাকুরী ক্ষেত্রে আমাদের দেশে প্রাইভেট ফার্ম,ব্যাংক গুলো সরকারকে অনুসরণ করছে। বিশ্বের অন্যদের সাথে আমাদের একটা তফাৎ আছে এবং তফাৎটি শতাংশে; আমাদের, কোটাভুক্তঃকোটাবর্হিভুত =৫৬ঃ৪৪। বিশ্বের কোন দেশে শতাংশে এত কোটা আছে বলে আমার জানা নেই; তবু এ আন্দোলনের ফলে কিছুটা সংস্কার করা হয়েছে। আমি মনে করি সরকারের এ শুভবুদ্ধির উদয় দাবির আগেই হওয়া উচিৎ ছিল,অথচ সাধারণ ছাত্র জনতার উপর উপর্যুপরি হামলা হয়েছে অনেকেই পলাতক হতে বাধ্য হয়েছে,অনেকে নির্যাতিত হয়েছে।
ছাত্র রাজনীতি থেকে যে দলের সূচনা এমন একটা দল, যে দলটি ছাত্র বান্ধব বলে পরিচিত ছিল তাদের শাসনামলে জাতি ছাত্রদের উপর নির্যাতন দেখেছে হা করে। এ দেশে জরুরী প্রয়োজনে সদা আন্দোলনে নামতে হয়! তবু শিশু-কিশোর ছেলেগুলো দেখিয়ে দিয়েছে কিভাবে চাইতে হয়। দেশের চালিকাশক্তির চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে কিভাবে দেশ পরিচালনা করতে হয়।

আমি তাদের কথা বলছি, সেই শিশু আর্মিদের কথা বলছি যারা ঢাকায় প্রথম এবং কদিনের জন্য হলেও শৃঙ্খলা দেখিয়ে ছিল।
যাদের হাতেলেখা প্লাকার্ডের স্লোগানে হৃদয় কম্পিত হয়েছিল, শরীর রক্ত টগবগ করে ওঠা সেই স্লোগান, "যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ, যদি তুমি রুখে দাঁড়াও, তবে তুমি বাংলাদেশ।" ওদের স্নেহময় স্যালুট জানাই, জন্ম পরবর্তী বাংলার সাহসী সন্তান; ওরাই বীর।
লক্ষ্য করে দেখলে ওদের আন্দোলন একটা ইউনিক আন্দোলন। ওদের আন্দোলনের মূল প্রেক্ষাপট ছিল " নিরাপদ সড়ক ",এর উপলব্ধি ওদের জোড় কড়া নেড়েছে কারন সড়ক নিরাপদ না হওয়ার দরুণ ওদের বন্ধুকে হারিয়েছে। জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুসারে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ বিশ্বে ১৩তম আর এশিয়ায় ৭ম । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদন অনুসারে বাংলাদেশ এ প্রতিবছর ২১ হাজার নিরপরাধ মানুষের তরতাজা প্রাণ অকালে নিভে যায় ! প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ জন মানুষ রাস্তায় দূর্ঘটনার শিকার হয় যার মধ্যে প্রায় ৮ জনের বেশি মৃত্যু হয় এবং ৫ জনের অঙ্গহানি ঘটে।
সে বিষয়টি আমাদের উদ্বেগের কারন ছিলনা যতক্ষণ না আমাদের নিজের কেউ দূর্ঘটনার কবলে না পড়ছে। ওরা সেই উদ্বেগকে বিপ্লবে রূপান্তর করেছে। কয়েকটা দিনের সেই বিপ্লবের কিছু ফলাফল আমাদের দৃশ্যমান। রাস্তায় যানবাহন চলাচল কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয় তা শিখিয়েছে, আমাদের কর্তা ব্যক্তিদের শিখে নেয়া উচিৎ। যদিও দেশের দাত দেখানো বুমেরাং ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় থাকা পরিবহন শ্রমিকদের অনর্থক আন্দোলনের মুখে অনেক সু কুতে পরিণত হয়েছে। যারা ঐসব বর্বর লোকগুলোর কথায় ধর্মঘট মানেনি তাদের তারা শাস্তি দিয়েছে ঠিক মুর্খের মত, মানুষের মুখে কালি মাখিয়েছে যেন দেশটির মুখে কালি লিপে দিয়েছে। তখন দেশ এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও দেখা যায়নি দেশযন্ত্রের কোন উদ্বেগ। যখন যুগোপযোগী ও যুক্তিযুক্ত আন্দোলন হলো সে বিপ্লব ঠেকাতে বিভিন্ন বাহিনী এর সাথে সশস্ত্র হেলমেট বাহিনী দেখা গিয়েছিল অথচ পরিবহন শ্রমিকদের বর্বরতায় কোন সরকারী বাহিনী দূরে থাক সেই হেলমেট পরিহিত সচেতন বাহিনীর দেখা মিলেনি। দেশ এদের মনে রাখবে,পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট পদার্থে এদের নাম লেখা থাকবে ইতিহাসের পাতায়।
ইতিহাস সবার নাম স্বর্ণাক্ষরে সংরক্ষণ করে না!
একটি দেশযন্ত্র কতটা দূর্বল হলে সে দেশের পরিবহন সেক্টরের কাছে জিম্মি থাকে, অথচ আমরা ডিজিটাল এবং দ্রুত উন্নয়নশীল দেশের মানুষ।

সামনে আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এটা এ বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। যেহেতু আমরা ইস্যু প্রিয় জাতি সেহেতু মেতে থাকার খোরাক হিসেবে ইতিমধ্যে নির্বাচনকে বেছে নিয়েছি। এরই মধ্যে মনোনয়ন ক্র‍য় নিয়ে দেশ বড় আকারের তামাশা দেখা শেষ করেছে।
আবার যেহেতু বাঙালী হুযুগে মাতাল তাই হুজুগেই নির্বাচন নামক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি শেষ করবো। এদেশে মদ নিশিদ্ধ হওয়ায় প্রধান কারন এদেশে মদ পান করে কারো মাতাল হতে হয়না!
নির্বাচনে পছন্দের উর্ধ্বে যোগ্যতাকে দাম দিতে শিখার প্রবনতা হয়তো রাষ্ট্রযন্ত্রকে কিছুটা হলেও শক্তিশালী করবে।
দেশকে ভালোবাসুন,দেশের পাশে থাকুন।
ভয়ে পালিয়ে না গিয়ে এগিয়ে আসুন সমাজ সংস্কারে।
শেষ করবো বাচ্চা ছেলেগুলোর সেই তেজ দীপ্ত স্লোগানে, "যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ, যদি তুমি রুখে দাঁড়াও, তবে তুমি বাংলাদেশ।"

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.