| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
১. শান্তিনিকেতনেরবীন্দ্রনাথের
প্রিয় ছাত্রদের অন্যতমছিলেন
কথাশিল্পী প্রমথনাথ বিশী। তো,একবার
প্রমথনাথ বিশী কবিগুরুর
সঙ্গেশান্তিনিকেতনের আশ্রমের
একটি ইঁদারার পাশদিয়ে যাচ্ছিলেন।
ওখানেএকটি গাবগাছ লাগানো ছিল।
কবিগুরুহঠাৎ প্রমথনাথকে উদ্দেশ
করে বলেউঠলেন, ‘জানিস,
একসময়ে এইগাছের চারাটিকে আমি খুব
যত্নসহকারেলাগিয়েছিলাম? আমার
ধারণা ছিল,এটা অশোকগাছ; কিন্তু যখন
গাছটিবড় হলো দেখি, ওটাঅশোক নয়,
গাবগাছ।’
অতঃপর কবিগুরু প্রমথনাথের
দিকে সরাসরি তাকিয়েস্মিতহাস্যে যোগ
করলেন, ‘তোকেওঅশোকগাছ
বলে লাগিয়েছি, বোধকরিতুইও গাবগাছ
হবি।’
২. একবাররবীন্দ্রনাথ ও
গান্ধীজি একসঙ্গেবসে সকালের
নাশতা করছিলেন। তোl
গান্ধীজি লুচিপছন্দ করতেন না,
তাইতাঁকে ওটসের পরিজ (Porridge of
Oats) খেতে দেওয়াহয়েছিল; আর
রবীন্দ্রনাথ খাচ্ছিলেনগরম গরম লুচি।
গান্ধীজি তাই না দেখেবলে উঠলেন,
‘গুরুদেব, তুমি জানো নাযে তুমি বিষ
খাচ্ছ।’ উত্তরেরবীন্দ্রনাথ বললেন,
‘বিষই হবে; তবেএর অ্যাকশন খুব ধীরে।
কারণ, আমি বিগত ষাটবছর যাবৎ এই
বিষখাচ্ছি।’
৩. রবীন্দ্রনাথেরএকটা অভ্যাস ছিল,
যখনইতিনি কোনো নাটক বাউপন্যাস
লিখতেন,l সেটাপ্রথম
দফা শান্তিনিকেতনে গুণীজনসমাবেশে প
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রায়ই এরূপ
পাঠেরআসরে যোগদান করতেন।তা,
একবার
আসরে যোগদানকালেবাইরে জুতা রেখে আ
করে দিলেন।
রবীন্দ্রনাথ এটা টের পেয়েগেলেন।
তাইএকদিন শরৎচন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়কে এভাবে আসরে প্রবেশকর
‘শরৎ, তোমার বগলেওটা কী পাদুকা-
পুরাণ?’এ নিয়ে সেদিন
প্রচণ্ডহাসাহাসি হয়েছিল।
৪. একবারএক দোলপূর্ণিমার
দিনে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গেকবি ও
নাট্যকারlদ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের
সাক্ষাৎ ঘটে। তো,পরস্পর নমস্কার
বিনিময়ের পর হঠাৎ
দ্বিজেন্দ্রলালতাঁর জামার পকেট
থেকেআবির বের
করে রবীন্দ্রনাথকেবেশ রঞ্জিত
করে দিলেন।
আবির দ্বারা রঞ্জিত রবীন্দ্রনাথরাগ
না করে বরংসহাস্যে বলে উঠলেন,
‘এতদিন জানতাম দ্বিজেন বাবুহাসির
গান ও নাটকলিখে সকলের মনোরঞ্জন
করেথাকেন। আজদেখছি শুধু মনোরঞ্জন
নয়,দেহরঞ্জনেও তিনি একজন ওস্তাদ।’
৫. মরিসসাহেব ছিলেন
শান্তিনিকেতনে ইংরেজিও
ফরাসি ভাষার অধ্যাপক। একাথাকলেl
তিনি প্রায়ইগুনগুন করে গান গাইতেন।
তো,একদিন তিনি তৎকালীন
ছাত্রপ্রমথনাথ বিশীকে বললেন,
‘গুরুদেবচিনির ওপর একটি গানলিখেছেন,
গানটি বড়ই মিষ্টি।’
অতঃপরতিনি গানটি গাইতে লাগলেন,‘আম
ওগো বিদেশিনী,
তুমিথাকো সিন্ধুপারে...।’
‘তা চিনির গান তোমিষ্টি হবেই।
কিন্তুএই ব্যাখ্যা আপনি কোথায়
পেলেন?’প্রমথনাথ বিস্মিত
হয়ে তাঁকে প্রশ্নকরলেন।
উত্তরে মরিস সাহেব জানালেন,‘কেন,
স্বয়ং গুরুদেবই আমাকেবলে দিয়েছেন।’
৬. কবিগুরুর৫০ বছর
বয়সে পদার্পণউপলক্ষে শান্তিনিকেতনে
একটি কক্ষে সভাl বসেছিল,
যেখানেতিনি স্বকণ্ঠে গান করছিলেন।
তো, তিনি গাইলেন,
‘এখনোতারে চোখে দেখিনি,
শুধুকাশি শুনেছি।’
কবিগুরুএটা গেয়েছিলেন আচার্য
যতীন্দ্রমোহন বাগচিউক্ত
কক্ষে প্রবেশের পূর্বক্ষণে,তাই
বাগচি মহাশয় কক্ষেপ্রবেশ
করে বিস্ময়নয়নে সকলের
দিকে তাকিয়েরইলেন।
‘সিঁড়িতে তোমার কাশির শব্দশুনেই
গুরুদেব তোমাকে চিনেছেন’,
সত্যেন্দ্রনাথদত্ত তখন
বাগচি মহাশয়কেবুঝিয়ে দিলেন, ‘তাই
তো তাঁরগানের কলিতে বাঁশির
স্থলেকাশি বসিয়ে তাঁর
গানটিগেয়েছেন।’
৭. সাহিত্যিক‘বনফুল’ তথা শ্রীবলাইচাঁদ
ব্যানার্জিরএক ছোট ভাই
বিশ্বভারতীতেl অধ্যয়নের
জন্যশান্তিনিকেতনে পৌঁছেই কার
কাছথেকে যেন জানলেন,
রবীন্দ্রনাথকানে একটু কম শোনেন।
অতএবরবীন্দ্রনাথের
সঙ্গে দেখা করতেগেলে রবীন্দ্রনাথ
যখন বললেন, ‘কীহে,
তুমি কি বলাইয়েরভাই কানাই নাকি’,
তখনবলাইবাবুর ভাই
চেঁচিয়ে জবাবদিলেন, ‘আজ্ঞে না,
আমিঅরবিন্দ।’
রবীন্দ্রনাথ তখন হেসে উঠেবললেন,
‘না কানাই নয়,এ
যে দেখছি একেবারেশানাই।’
৮. একবারকালিদাস নাগ ও
তাঁরস্ত্রী জোড়াসাঁকোর
ঠাকুরবাড়িতে বেড়াতে এসেছেন।l
রবীন্দ্রনাথ মৃদুহাস্যেনাগ-
দম্পতিকে প্রশ্ন করলেন, ‘শিশুনাগদের
(সাপের বাচ্চাদের) কোথায়রেখে এলে?’
৯. আরেকবার রবীন্দ্রনাথতাঁর চাকর
বনমালীকে তাড়াতাড়িচা করে আনতে পা
কিন্তুতার আসতে দেরি হচ্ছেদেখে কপট
বিরক্তির ভাবদেখিয়ে বললেন, ‘চা-কর
বটে,কিন্তু সু-কর নয়।’
১০. আরও একবার কবিগুরুর
দুইনাতনি এসেছেন শান্তিনিকেতনে,
কলকাতাথেকে। একদিনসেই নাতনি দুজন
কবিগুরুরপা টিপছিলেন;
অমনি তিনি বলেউঠলেন, ‘পাণিপীড়ন,
না পা-নিপীড়ন?’প্রথমটায় তারা কিছুই
বুঝতেনা পারলেও
পরে কথাটারঅন্তর্নিহিত অর্থ
বুঝতে পেরেখুবই মজা পেয়েছিলেন।
১১. সুধাকান্ত রায়চৌধুরীর
সাথে রবীন্দ্রনাথ একবারবেড়াচ্ছিলেন
। হঠাৎগুরুদেবের
কাতরক্তি শুনে সুধাকান্তবাবু
তারদিকে তাকাতেই, রবীন্দ্রনাথ
নিজেকে সামলে নিয়েবললেন , “পা-
কে চরনকমলবা পাদ-পদ্ম
কেনকলে জান?” প্রশ্ন
শুনে সুধাকান্তবাবুর চোখেবিষ্ময়
দেখে রবীন্দ্রনাথ
পায়েরমোজা খুলতে খুলতে বললেন“তাই
যদি না হয়,তাহলে শরীরের এত
জায়গাথাকতে মোজা ভেদ
করেমৌমাছিটা পায়ের
একেবারে তলায়হুলটা বিঁধালো কেন !!”
১২. জীবনেরশেষ
দিকে এসে রবীন্দ্রনাথএকটু সামনের
দিকে ঝুঁকেউবু হয়ে লিখতেন।একদিন
তাঁকে ওভাবে উবুহয়ে লিখতে দেখে তাঁরএ
শুভাকাঙ্ক্ষী তাঁকে বলল, ‘আপনারনিশ্চয়
ওভাবে উপুড় হয়েলিখতে কষ্ট হচ্ছে।
বাজারে এখন এ রকমঅনেক চেয়ার
আছে যেগুলোতেআপনি হেলান
দিয়ে বেশআয়েশের
সঙ্গে লিখতে পারেন। ওরকম
একটা আনিয়ে নিলেইতো পারেন।’
লোকটারদিকে খানিকক্ষণ চুপচাপ
তাকিয়ে রবীন্দ্রনাথজবাব দিলেন,
‘তা তো পারি। তবেকি জানো, এখন
উপুড়হয়ে না লিখলে কিআর লেখা বেরোয়!
পাত্রেরজল কমে তলায় ঠেকলেএকটু উপুড়
তো করতেইহয়।’
বি.দ্র: সবগুলো ঘটনাই বিভিন্ন ব্লগ
থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
©somewhere in net ltd.