নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আব্দুল্লাহ আল মামুন

মানুষ মানুষের জন্য ধন্যবাদ

আবু আব্দুল্লাহ মামুন

মানুষ মানুষের জন্য। ধন্যবাদ

আবু আব্দুল্লাহ মামুন › বিস্তারিত পোস্টঃ

সুদ বা রিবার নিষেধাজ্ঞা

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৪৮

সুদ বা রিবার নিষেধাজ্ঞা

সুদ বা রিবা:

সুদকে আরবীতে বলা হয় রিবা। যার আভিধানিক অর্থ বৃদ্ধি পাওয়া। পরিভাষায় সুদ বলা হয় কাউকে ঋণ দিয়ে ঋণদাতা কর্তৃক ঋণ গ্রহীতা থেকে মূলধনের সাথে নিদির্ষ্ট হারে গ্রহণ করা অতিরিক্ত অর্থকে। সুদ অর্থনৈতিক শোষণ ও বৈষম্যের হাতিয়ার। সুদ লক্ষ হাতের সম্পদকে এক হাতে পুঞ্জিভূত করার এক মারাত্মক কৌশল।



ইসলামে সুদের বিধান:

ইসলামে সুদের বিধান অত্যন্ত স্পষ্ট। ইসলামের দৃষ্টিতে সুদ গ্রহণ করা, সুদ প্রদান করা ও সুদের হিসাব-নিকাশ করা সবই হারাম ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যারা সুদ খায় কিয়ামতের দিন তারা উত্থিত হবে মোহাবিষ্ট পাগলের মত। মহান আল্লাহ বলেন: যারা সুদ খায় তারা কিয়ামতে দন্ডায়মান হবে, যেভাবে দন্ডায়মান হয় ঐ ব্যক্তি যাকে শয়তান অসর করে মোহাবিষ্ট করে দেয়। তাদের এ অবস্থার কারণ এই যে, তারা বলে: ব্যবসাও তো সুদের মত। অথচ আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। কাজেই যার কাছে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে এই উপদেশ পৌছায় এবং সে সুদখোরী থেকে বিরত থাকে সে ক্ষেত্রে যা কিছু সে খেয়েছে তাতো খেয়ে ফেলেছেই এবং এ ব্যপারটি আল্লাহর কাছে সোপার্দ হয়ে গেছে। আর এই নির্দেশের পর যে এই কাজ আবারো করে সে জাহান্নামের অধিবাসী। (সূরা আল-বাকারাহ: ২৭৫) এ আয়াতে সুদখোরের অবস্থা ও পরিণতি বর্ণনা করা হয়েছে এবং স্পষ্ট নির্দেশের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সুদগ্রহণ থেকে নিষেধ করা হয়েছে।



বকেয়া সুদ উসুল করাও নিষিদ্ধ:

মহান আল্লাহ বকেয়া সুদ উসুল করাকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন, তিনি বলেন: হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যে সব বকেয়া আছে তা পরিত্যাগ কর, যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাক। যদি তোমরা পরিত্যাগ না কর তবে আল্লাহ ও তার রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাও। আর যদি তোমরা তওবা কর তবে তোমরা তোমাদের মূলধন ফেরত পাবে এ ব্যাপারে তোমরা কাউকে জুলুম করবে না এবং তোমাদের প্রতিও জুলুম করা হবে না। (সূরা আল-বাকারাহ: ২৭৮-১৭৯) আল্লাহর নিকট সুদ যে কত জঘণ্য অপরাধ এ আয়াতটি তার প্রমাণ। কেননা মহান আল্লাহ সুদখোর ছাড়া অন্য কারো বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেননি। ইমাম আবু হানিফা (রহ) বলেন: এ আয়াতটি কুরআনের সবচেয়ে ভীতিপ্রদ আয়াত।



সুদী কারবারে জড়িত সকলেই অভিশপ্ত:

শুধুমাত্র সুদদাতা ও গ্রহীতা নয়; বরং সরাসরি সুদী লেনদেনে জড়িত, তাতে দালালীকারী এবং তাতে সাহায্যকারী সকলেই সমান অপরাধী; রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সকলকে অভিশাপ দিয়েছেন। জাবের (রা) বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুদদাতা, সুদগ্রহীতা, সুদের হিসাব লেখক ও সাক্ষী সকলকে লা'নত করেছেন। তিনি আরো বলেন: তারা সকলে সমান। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ৪০৪৭)

এ থেকে বুঝা গেল, সুদের হিসাব লেখার কাজে, সুদী লেনদেনের খাতাপত্র ঠিক করার কাজে চাকুরী, সুদী প্রতিষ্ঠান পাহারা দেয়ার কাজে চাকুরী করা বৈধ নয়। এক কথায় বলা যায়, সুদী কারবারে শরীক হওয়া এবং তাতে যে কোন প্রকার সাহায্য সহযোগীতা করা অবৈধ।



সুদের ভয়াবহতা:

সুদ যে কত ভয়াবহ, কত নিকৃষ্ট সে কথা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরিস্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন: সুদের ৭৩টি স্তর রয়েছে, তন্মধ্যে সবচেয়ে নিম্নস্তরের অপরাধ হল নিজের মায়ের সাথে যিনা করার সমান আর সবচেয়ে বড় অপরাধ হল মুসলমানদের ইজ্জত আব্রুর উপর হামলা করা। (হাকেম) অনুরূপভাবে আব্দুল্লাহ বিন হানজালা (রা) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি জেনে শুনে একদিরহাম পরিমাণ সুদ খায় উহা আল্লাহর কাছে ছত্রিশটি যিনার চেয়েও ভয়াবহ। (মুসনাদে আহমদ: হাদীস নং- ২১৫৭৮)

সুদ সকলের জন্য হারাম, এটা ধনী বা গরীবের মধ্যে নির্দিষ্ট নয়। সুদের অর্থ স্থায়ী হয় না; বড় বড় ধনী ও ব্যবসায়ীরাও এই সুদের কারণে কাঙ্গাল হয়ে গেছে এমন অনেক প্রমাণ পাওয়া যায়।



ঋণগ্রহীতা থেকে হাদীয়া নেয়াও নিষিদ্ধ:

এ সম্পর্কে আনাস (রা) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন কাউকে ঋণ দেয় পরে ঋণগ্রহীতা যদি তাকে কোন হাদীয়া দেয় বা তার বাহনে চড়তে বলে তবে সে যেন তার হাদীয়া কবুল না করে বা বাহনে না চড়ে। অবশ্য পূর্ব থেকেই যদি উভয়ের মধ্যে এরূপ লেনদেন চলে আসে তবে তা ভিন্ন কথা। (ইবনু মাজাহ) এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় ঋণগ্রহীতা থেকে কোন প্রকার ফায়েদা হাসীল করা অবৈধ।



অন্যান্য শরীয়াতে সুদের বিধান:

ইসলাম ছাড়া অন্যান্য ধর্মেও সুদ হারাম। ইয়াহুদীদের উপর সুদ হারাম হওয়া সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন: বস্তুত: ইয়াহুদীদের জন্য আমি হারাম করে দিয়েছি অনেক পূত-পবিত্র বস্তু যা তাদের জন্য হালাল ছিল- তাদের পাপের কারণে এবং আল্লাহর পথে অধিক পরিমাণ বাধাদানের কারণে। আর এ কারণে যে, তারা সুদ গ্রহণ করত, অথচ এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল এবং এ কারণে যে তারা অপরের সম্পদ ভক্ষণ করত অন্যায় পন্থায়, বস্তুত: আমি কাফিরদের জন্য তৈরী করে রেখেছি বেদনাদায়ক শাস্তি। (সূরা আন-নিসা: ১৬০-১৬১) ইয়াহুদীদের মত নাসারাদেরও সুদ পরিত্যাগ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছিল। ইঞ্জিলে লুকে বর্ণিত হয়েছে, মসীহ বলেন: যখন মুখাপেক্ষীদের তোমরা ঋণ দেবে তখন এর বিনিময়ে কোন বাড়তি খোঁজ করবে কেন? বরং তোমরা কল্যাণকর কাজ কর তবেই তোমরা দৃষ্টান্তবহ পূণ্যের অধিকারী হবে। (ইঞ্জিলে লুক: অধ্যায়-৬, স্তবক- ৩৪ ও ৩৫)

অতএব সুদ এমন এক জঘণ্য অপরাধ যা সকল ধর্মে নিষিদ্ধ ছিল।



ইসলামী আইনে সুদী কারবারে জড়িতদের শাস্তি

ইসলাম সুদ ও সুদী কারবার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার পরও যদি কেউ এ গর্হিত কাজ করে তার জন্য বিভিন্ন মাত্রার শাস্তি নির্ধারণ করেছে। সুদী লেনদেনের পরিমাণ, মাত্রা, পারিপার্শ্বকতা ও পূর্বাপর সকল অবস্থা অবগত হয়ে মুসলিম শাসক বিভিন্ন ধরণের শাস্তি প্রদান করতে পারে। এসব শাস্তির মধ্যে রয়েছে: সুদের অর্থ ফেরত নেয়া, আর্থিক জরিমানা, কারাবাস, বেত্রাঘাত, নির্বাসন, মৃত্যুদন্ড, তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ইত্যাদি।



শেষকথা:

সুদ এমন এক মহাপাপ প্রত্যেক ঈমানদারের অন্তরে যার প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হওয়া একান্ত অপরিহার্য। যারা অর্থ নষ্ট হওয়ার ভয়ে নিরুপায় হয়ে টাকা-পয়সা সুদী ব্যাংকে জমা রাখে তাদের মনে এ ধরণের অনুভূতি রাখতে হবে যে, তারা নিরুপায় হয়ে অর্থ সুদী ব্যাংকে রেখেছে। সাথে সাথে আল্লাহর কাছে তওবা করবে। এ ক্ষেত্রে আরো উল্লেখ্য যে, যে সমস্ত এলাকায় সুদ বিহীন ইসলামী ব্যাংক পাওয়া যায় সেখানে সুদী ব্যাংকের সাথে লেনদেন করা বৈধ হবে না। আর যারা সুদের কোন অর্থ প্রাপ্ত হয় তাদের উচিৎ সুদ থেকে মুক্তির আশায় সদক্কা বা সওয়াবের নিয়ত না করে কোন জন কল্যাণমূলক কাজে এ সম্পদ ব্যয় করা। আল্লাহ আমাদের সকলকে সুদমুক্ত সমাজ গঠনের তাওফীক্ব দান করুন । আমীন



মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.