| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মানচুমাহারা
বিকাল আর সন্ধ্যার মাঝামাঝি সময়ে হাতে একটা ন্যাংটো আইসক্রিম নিয়ে রাস্তা হাঁটতে ভাল লাগে ...ভালো লাগে খুব গান শুনতে...ভালোলাগে কোন সৃষ্টিশীল কাজে আত্মমগ্ন থাকতে... মনের ভেতর এক ভবঘুরে পথিকের আত্মচিৎকার অনুভব করি সব সময়-মাঝে মাঝেই সেই পথিকের মাঝে হারিয়ে যায়... পথ একা না পথিক একা আমি জানি না।। এক পুরানো দিনে,পথিক.. দাঁড়িয়ে ছিলো খোলা আকাশের নীচে প্রার্থনা করেছিলো বৃষ্টির জন্য।। আকাশ মেতেছিলো লুকোচুরি খেলায়- এক ফোঁটা বৃষ্টিও দেয়নি পথিককে,উপরন্তু... মাথার উপর এনেদিলো গনগনে সূর্য।। ধুলিমাখা পথে পথিকের স্মৃতিচিহ্ন সময়ের স্রোত ছুঁতে চায় বার বার। জনাকীর্ণ এক সকালে পথকে একা ফেলে একদিন অদৃশ্য হবে পথিক।। পথ একা না পথিক একা আমি জানি না।। আমি আজন্ম ভবঘুরে মৃত্যুহীন পথিক, একদিন তুইও এই পথে আসবি ,কিন্তু সেইদিন পথিক থাকবে না।। পথ একা না পথিক একা আমি জানি না।। একদিন পথ থেকে মুছে যাবে পথিক হারিয়ে যাবে সব স্মৃতি-চিহ্ন, ভুলে যেও এই চেনা-অচেনা পথিককে এই আমি হয়তো তোমাদের থেকে ভিন্ন।। ধীরে ধীরে ভুলে যাবে পথিক চেনা পথটির ঠিকানা নীরব নিথর নিঃস্তেজ হয়ে নীল আকাশে মেলবে ডানা। কল্পনা-স্মৃতি কিংবা বিস্মৃতি ঘুরপাক খাবে একই বৃত্তের কেন্দ্র...।। বৃত্তের পরিধিকে হার মানাবে পথিক নিয়ে চাপা অভিমান দীর্ধ পথ হাঁটার ক্লান্তিতে পথিকের হবে চির অবসান।। পথ একা না পথিক একা আমি জানি না।।
অনেক দিন পরে আবার লিখতে বসেছি সামহোয়ারে। সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক ছোট ভাইয়ের সাথে কথা বলতে গিয়ে শৈশবের কিছু স্মৃতি মনে পড়ে গেল। আমরা তিন ভাই বোন( দুই ভাই এর মাঝে আদরের এক বোন)। ছোট বেলায় এক সাথে পড়তে বসলে প্রায়ই আমাদের ভেতর মারামারি হতো...সবারই এমনটা হয়েছে মনে হয়।
যাই হোক, খুনশুটি হতো আমার সাথে দিদি ভাইয়ের(আমি সবার ছোট) আর দিদিভাইয়ের সাথে দাদার(বড় ভাই)। প্রতিদিনই কিছু না কিছু নিয়ে আমাদের যে কোন একটা জুটিতে ঝগড়া হতোই সন্ধ্যাবেলা পড়তে বসলে। আর এই চিৎকার এক সময় রান্না ঘরে রান্নার কাজে ব্যস্ত মায়ের কানে পৌচ্ছে যেত। এক সময় শুরু হতো মার খড়ি(লাকড়ি) হাতে অপারেশন। মা চিৎকার করতে করতে আমাদের কাছে আসা মাত্রই আমি আর দাদা দে দৌড়। দিন কি রাত এক দৌড়ে কোথায় পালিয়ে যেতাম মায়ের হাতে লাঠি দেখে তার ঠিক নাই। কিন্তু দিদিভাই গোবেচারা আমাদের মতো এই কাজে পটু না। সে একা একা মায়ের হাতে মার খেত। মা পরে রাতে খাওয়ার সময় আপসোস করে বলতেন রাগের সময় মেয়েটা আমার একা একাই মার খেল।
দিদিভাই আর আমি কাছাকাছি বয়সের হওয়ার কারণে আমাদের ভেতর খুব বেঁধে যেতে। ক্লাস এইট পর্যন্ত খুব ঝগড়া করছি দিদির সাথে। এরপর কি মনে হলো আর কোন দিন দিদিভাইয়ের গায়ে হাত তুলি নাই। রাগ হলেও মেনে নিতাম ওর কথা। দিদিভাইকে তুই করে বলতাম কিন্তু এর পর থেকে তুমি করে বলতাম। বাবা যদি একটা সিংগারা নিয়ে আসতেন দিদিকে হয় পুরাটা ছেড়ে দিতাম।
ও তাইতো শুধু মার কথা লিখলাম। বাবাকে সব সময় কুল দেখে আসছি ছোট বেলা থেকে। কোন দিন আমাদের গায়ে হাত তোলেননি রাগ হলে। লাঠি এনে আশে পাশে মারতেন কিন্তু গায়ে মারতেন না। আর সব চেয়ে বড় ব্যাপার হলো বাবা এতোই কুল যে তিনি যদি একটু বকা দিয়েছেন তাতেই আমরা খুব ভয় পেয়ে যেতাম। বাবা আমাদের কোন আবদারকে না বলতেন না যদিও তার পক্ষে আমাদের বেশির ভাগ আবদার মেটানো সম্ভব ছিলো না (এক জন প্রাইমারী স্কুল শিক্ষকের বেতন কতই বা...)। বাবার কাছে কোন আবদার করলে বাবা বলতেন তুমি চিন্তা করে দেখো এটা করা উচিৎ কিনা বা এটা কেনা আমাদের সম্ভব কিনা। আমরাও বেশির ভাগ সময় শুধু প্রয়োজনীয় আবদার করতাম।
একদিনের মজার ঘটনা, একদিন আমি আর দিদি অনেক ঝগড়া করছি। বাবা বাড়িতে ছিলেন। আমাদের অনেক বার চুপ করার জন্য বোঝালেন। আমরা আমাদের ফাইট চালিয়ে যাচ্ছি। এক সময় মোটা একটা লাঠি নিয়ে আসলেন। কি ভাবছেন আমাদের ধোলাই দিলেন। মোটেও না। বাবা গায়ে হাত তুলবেন না, তুলেন নাই। আমাকে ল্যাংটা
করে বাড়ির সামনের রাস্তায় দাড় করিয়ে রাখলেন। তখন প্রাইমারীতে পড়ি তাই এটা কিছুটা লজ্জার ছিলো বৈকি।![]()
আমি প্রায় সন্ধ্যায় না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তাম। কিংবা দাদা অথবা দিদিভাই কেউ আমাকে মারলে যতখন বাবা না বাড়ি ফিরতেন ততখন আমার কান্না থামতো না। কারণ আমার শেষ জেতাটা চাই ই চাই। বাবা এসে ওদের বকা দেবে আর তাতেই আমার কান্না থেমে যাবে। এর পর বাবা কোলে নিয়ে দুধ ভাত মেখে নিজ হাতে খাইয়ে দিতেন। এই স্মৃতি আমার চোখে এখনও ভাসে।
নির্বাচনের গরমে আমার এই প্যাচাল কারো ভালো লাগবে না তাই আজ এই টুকুই।![]()
২|
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৭
প্রচেত্য বলেছেন: অসম্ভব ভাল লেগেছে
নির্বাচনের গরমে সোয়েটার খুলে আছি, গরমে গা সইছেনা
এরকমই লেখা খুজছিলাম
দিদিভাইয়ের সাথে পর্বটা যথেষ্ট আবেগময়ের
আমার যদিও কোন বোন নেই,
তার জন্য আফসোসও যথেষ্ট
আজ কিছুটা পুষিয়ে নিলাম, এখান থেকে
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:১১
মানচুমাহারা বলেছেন: দিদিভাইয়ের বিয়ে হয়েছে। সে এখন শ্বশুড় বাড়িতে থাকে। কিন্তু আমি নিজে বাড়ি ছাড়া ৫/৬ বছর, পড়ালেখার জন্য। বাড়ির সবাইকে খুব মিস করি। পদ্মা সেতু না থাকায় ঢাকা থেকে বাড়ি যেতে ৫-১৮ ঘন্টা লাগে তাই ঈদ পূজা ছাড়া যাওয়া নয় না। বাড়ির সবাইকে খুব মিস করি। বাড়ি গেলে খুনশুটি করার মতো কাউকে পাই না। দিদি থাকে না বাড়িতে, দাদা কাজে ব্যস্ত থাকে সারা দিন। মা বাবা বসে বসে কলকাতার ইটিভি বাংলার সিরিয়াল আর বাংলাদেশী চ্যানেলের নিউজ দেখে। আমি চুপ চাপ বসে থাকি আবার ছুটি শেষ হলে ঢাকাই ফিরে আসি।
৩|
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:০২
ক্যামেরাম্যান বলেছেন: "আমাকে ল্যাংটা করে বাড়ির সামনের রাস্তায় দাড় করিয়ে রাখলেন। তখন প্রাইমারীতে পড়ি তাই এটা কিছুটা লজ্জার ছিলো বৈকি"
হাসতে হাসতে তো পেট ব্যাথা হয়ে গেলো।
বাই দ্য ওয়ে আমার ৪ বছরের একটা ছবি আছে এরকম। শীতকালে গোসল করতে অস্বীকৃতি জানানোর শাস্তি !!!
৪|
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:০৩
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন: আমাকে ল্যাংটা/
করে বাড়ির সামনের রাস্তায় দাড় করিয়ে রাখলেন। তখন প্রাইমারীতে পড়ি তাই এটা কিছুটা লজ্জার ছিলো বৈকি।![]()
আপনি তো বিশাল বেহায়া!!![]()
কিছুটা লজ্জা এইডা? বিশাল লইজ্জার কাহিনী!
৫|
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:০৭
বিপ্র বলেছেন: কিছু কথা আছে কখনও ভুলা যায় না। আমি অবশ্য মায়ের চেয়ে বাবার হাতের মার খেয়েছি বেশি, বেশির ভাগ সময়ই পড়াশুনায় ফাঁকি দেয়ার জন্য। আমিও সবার ছোট। মেজো বোনের সাথে ঝগড়া করতাম বেশি। এখন দুই বোনেরই বিয়ে হয়ে গেছে, আর ঝগড়া করার মানুষ নাই...
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:১২
মানচুমাহারা বলেছেন: দোস্ত তোর উচিৎ এখন এখন খুব কাছের একজন মানুষ যারা সাথে সব সময় ঝগড়া করতে পারছি। ![]()
৬|
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:১৪
এস রহমান বলেছেন: কিছু কথা আছে কখনও ভুলা যায় না।
৭|
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:১৪
মুকুট বলেছেন: হা হা হা! মজা পেলাম আপনার স্মৃতিকথায়! নিয়মিত লেখার বিনীত অনুরোধ রইলো!!!
৮|
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:১৬
বিপ্র বলেছেন: হুম...বাবা-মা তো বুঝে না দোস্ত... ![]()
৯|
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:১৮
মুকুট বলেছেন: তবে আপনার দিদির সাথে আবেগময় স্মৃতি প্রচেত্য- এর মত আমাকেও নাড়া দিয়ে গেল, আমারও কোন বোন নাই ভাই নাই!!! এসব ভাবলে খুব কষ্ট লাগে মাঝে মাঝে, হিংসা হয় আপনাদেক!!!
১০|
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:২৮
শেষ বিকেলের মেয়ে বলেছেন: ভালো লাগবেনা কেন?!! অনেক ভালো লেগেছে.. ++
মুকুট এর মত আমারও কোন ভাই বোন নেই.. উনি ঠিকই বলেছেন.. হিংসা হয় ![]()
১১|
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৫
পারভেজ বলেছেন: ভাল লাগলো।
সময় বদলে দেয় অনেক কিছু।
তাই স্মৃতিকাতর হতে ভালই লাগে।
১২|
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৯
নিঃসঙ্গ বলেছেন: আপনার বাবার সাথে আমার বাবার পুরা মিল আপনি যেমন বর্ননা দিলে ১০০% বাবার সাথে মিলে গেলো। আমার ঝগরা লাগতো আমার বড় বোনের সাথে যদিও আপু আমার ৩ বৎসরের বড় ছিলো এর পরেও হাতা হাতি কথা কাটা কাটি লেগেই থাকতো.....
আপনার লিখা পড়ে আমার সেই শৈশবের কথা গুলো মনে পরে গেলো।
১৩|
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৩
মানচুমাহারা বলেছেন: সবাইকে কিছুটা স্মৃতিকাতর করে দিতে পেরে ভালো লাগলো। তবে যারা ভাই বোন থেকে বঞ্চিত তাদের জন্য সমবেদনা। কারণ এই মারামারি খুনশুটি কিংবা এটা নিয়ে বাবা মায়ের মার খাওয়া এটার মজাই আলাদা। এখনতো চাইলেও তিন ভাই বোন এক সাথে হতে পারি না সব সময়।
১৪|
২৬ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ ভোর ৪:০৯
টুশকি বলেছেন: খুব ভালো লাগলো। আমার ভাই বোনদের ঝগড়া তো এখনো প্রতিদিন চলে। মারামারি যদিও এখন আর হয়না, তারপরও মাঝে মধ্যে এখনো ভাই-বোন খুব রেগে গেলে করে। আমি যেহেতু সবচে ছোট আর দুর্বল তাই কখনো কাউকে মারতে পারিনাই। কিন্তু ইচ্ছামত খামচি দিছি। ছোটবেলায় সেজন্য নখ কাটতাম না (মানে কাটতে দিতাম না), একমাত্র মারণাস্ত্র ছিলো, সেটা ফেলে দেওয়া যায় নাকি।
"এর পর বাবা কোলে নিয়ে দুধ ভাত মেখে নিজ হাতে খাইয়ে দিতেন।" ছোট্ট মানচু !
আপনার দিদির না বিয়ে হয়ে গেছে? আমার বোনটারও বিয়ে হয়ে যাবে আর এক-দুই বছরের মধ্যেই। ঝগড়াঝাটির একজন কমে যাবে।
২৬ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:০৬
মানচুমাহারা বলেছেন: হ্যাঁ দিদিতো আমার সাথে মারপিটে পারতো না তাই নক সেও ব্যবহার করতো। সবচেয়ে তার সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিলো পচাঁ পচাঁ গালি ![]()
হুম দিদির বিয়ে হয়েছে এক বছরের বেশি সময় কিন্তু মনে হয় এইতো সেদিন দুই ভাই বোন বিকালে ঘুরে বেরিয়েছি।
১৫|
২৬ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৭:২৬
রাশেদ বলেছেন: ভালো লাগলো।
১৬|
২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১০:১০
তিতাস একটি নদীর নাম বলেছেন: আমার মত অভাগা তো অনেক আছে দেখছি। আমারও দিদি বা ছোট বোন নেই।
ভালো লাগল বেশ।
২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২৬
মানচুমাহারা বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ। আজকের দিনের শুরু হয়েছিলো একটা আনন্দের সংবাদ দিয়ে আর তা হলো
আমি মামা হতে চলেছি মানে আমার দিদিভাই মা হতে চলেছে।
দিনটা শেষ হলো একটা খারাপ সংবাদ দিয়ে আর তা হলো প্রায় ৭০% কমপ্লিট একটা প্রজেক্ট পুরাটাই বাতিল হয়ে গেছে তার মূল্য হিসাবে পেতাম প্রায় ৫০ হাজার টাকা।
সব মিলিয়ে আমি খুশি এই বর্নীল জীবনের জন্য।
©somewhere in net ltd.
১|
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৭
একরামুল হক শামীম বলেছেন: দারুন কথাতো - কিছু স্মৃতির বয়স বাড়ে না