নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মঞ্জুর চৌধুরী

আমি ঝন্ঝা, আমি ঘূর্ণি, আমি পথ-সমূখে যাহা পাই যাই চূর্ণি’। আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ, আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ। আমি হাম্বার, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল, আমি চল-চঞ্চল, ঠমকি’ ছমকি’ পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’ ফিং দিয়া দিই তিন দোল; আমি চপলা-চপল হিন্দোল। আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা, করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পান্জা, আমি উন্মাদ, আমি ঝন্ঝা! আমি মহামারী আমি ভীতি এ ধরিত্রীর; আমি শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ন চির-অধীর! বল বীর - আমি চির উন্নত শির!

মঞ্জুর চৌধুরী › বিস্তারিত পোস্টঃ

যুদ্ধাপরাধ

১৮ ই জুলাই, ২০১৩ রাত ৩:২৪

ছোটবেলায় যখন একাত্তুরের গল্প শুনতাম তখন আফসোস হত আমার জন্ম কেন আরো কয়েক দশক আগে হলো না! তাহলে আমিও যুদ্ধে যেতে পারতাম। শত্রু সেনার দিকে একটা গ্রেনেড ছুড়ে মারতে পারলেও মানব জীবন ধন্য মনে হত। দেশের সবচেয়ে বড় দুঃসময়ে আমি তাহলে দেশের কাজে আসতাম।

ধীরে ধীরে বড় হয়েছি। অনেক মুক্তিযোদ্ধার জীবনী পড়েছি। শহীদ পরিবারগুলো সম্পর্কে জেনেছি। দেশের সমসাময়িক অবস্থা দেখেছি। বুঝতে শিখেছি ততদিনে অনেক কিছুই।

একদিন আমার মাকে জিজ্ঞেস করলাম, যদি একাত্তুরে আমি আমার মায়ের কাছ থেকে যুদ্ধে যাবার অনুমতি চাইতাম, তাহলে কি তিনি অনুমতি দিতেন?

আমার মাও আমার মত দেশের পরিস্থিতি দেখেছেন। বুঝতে শিখেছেন অনেক কিছুই।

তাই মা সরাসরিই বললেন, "না। আমি জাহানারা ইমামের মত না, আজাদের মায়ের মত না; আমি একটা সাধারন মা। আমার কাছে আমার সন্তান সবার আগে।"

আমার মাকে কি দোষ দেয়া যায়? স্বার্থপর বলা যায়? আমার মনে হয়না।

একজন মা-ই জানেন সন্তান তাঁর কাছে কি! একজন স্ত্রী বুঝেন তাঁর স্বামী তাঁর কাছে কি! তাঁরাই যখন তাঁদের সেই অমূল্য সম্পদকে দেশের আর দশটা মানুষের সুখের জন্য কোরবানী দিতে প্রস্তুত থাকেন, তখন বুঝতে অসুবিধা হবার কোনই কারন থাকার কথা না তাঁরা কতটা মহান হতে পারেন।

সেই সব মহান মায়েদের, স্ত্রীদের চোখের সামনে থেকে তাঁদের শ্রেষ্ঠ অবলম্বনকে যখন ধরে নিয়ে যাওয়া হলো, তখন তাঁদের হৃদয়ের অনুভূতি বর্ণনা করা পৃথিবীর কোন লেখকের পক্ষেই সম্ভব নয়।

তাঁদের ধরে নিয়ে গেল পাকিস্তানি সেনারা। ওরা শত্রু, ভিন্ন জাতির লোক, দখলদার বাহিনী, ওদের সাথেই যুদ্ধ হচ্ছে এবং যুদ্ধে জয় পরাজয় আছেই - এটা মেনে নেয়া যায়। কিন্তু সেই শত্রুদের যারা সাহায্য করেছে, তারা তো এদেশেই জন্মেছে, এদেশের খাবার খেয়েই বড় হয়েছে, এদেশেরই আর বাকি দশটা মানুষের সাথে মিলেমিশে থেকেছে, ঈদের দিনে প্রতিবেশীর সাথে বুক মিলিয়ে কোলাকুলি করেছে - ওরা কেন এমন বিশ্বাস ঘাতকতা করলো? কোন যুক্তিতে ওরা এদেশের যুবক যুবক ছেলেদের, যুবতী নারীদের, বুদ্ধিজীবিদের শত্রুসেনার হাতে তুলে দিতে পেরেছে? তাদের অত্যাচারের হাত থেকে শিশু বা বৃদ্ধরাও রেহাই পায়নি। কি কারনে এই বিশ্বাস ঘাতকতা? তারা নিজেরাও কি কখনো কারো কাছে সেটা ব্যাখ্যা করেছে?

আল্লাহর কাছে তাঁর সব বান্দা সমান প্রিয়। তিনি সবাইকেই সুযোগ দেন অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চাইবার। সেই জন্যেই কিনা শয়তান বেশিদিন বেঁচে থাকে। গোলাম আযমের বয়সও নব্বই পেরিয়েছে।

কিন্তু একাত্তরের ঘাতকেরা কোথায় দেশবাসীর পায়ে ধরে নিজেদের কৃত কর্মের জন্য ক্ষমা ভিক্ষা করবে, তা না, তারা উল্টো দম্ভভরে বলে বেড়িয়েছে, "....আমরা একাত্তরে যা করেছি সঠিক ছিল, আমরা কোন ভুল করিনি। তার জন্য ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসেনা।"

সন্তান কোরবানী দেয়া মায়েরা, স্বামী হারানো স্ত্রীরা, সর্বহারা পিতারা যখন দেখেছেন তাঁদের আপনজনদের খুনীরা দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় বসে দম্ভভরে এরকম উক্তি করে, তখন তাঁদের হৃদয়ের অনুভূতি প্রকাশ করা কোন লেখকের পক্ষে সম্ভব না।

চল্লিশ বছর পরে তাদের বিচার হয়েছে। কারও ফাঁসী আর কারও কারাদন্ড। বিচার নিয়ে তাই বাংলাদেশের কেউই খুশি না। গণ হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি কি করে নব্বই বছরের কারাদন্ড পান(কারাগারেওতো থাকে না, থাকে হাসপাতালে। মুরগির স্যুপ খায়, ফল ফ্রুট খায়), সেটা বিচারকরাই ভাল জানেন। তবু একটা শান্তি, কোন অপরাধেই বিচার না হওয়া দেশে চল্লিশ বছর পরে হলেও, অন্তত বিচারতো হলো!

একটাই আফসোস। বড় বেশি দেরী হয়ে গেল। সেইসব মায়েরা, স্ত্রীরা, বাবারা বেশিরভাগই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেছেন। চোখের সামনে তাঁদের স্বজন হত্যাকারীদের বিচার দেখে যেতে পারলেন না। দেখতে পারলে এখন তাঁদের চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতো। আনন্দের, বেদনার, অভিমানের, উচ্ছাসের অশ্রু। আর তাঁদের হৃদয়ের অনুভূতি কেমন হত? সেটাও বর্ণনা করার সাধ্য পৃথিবীর কোন লেখকের পক্ষে সম্ভব না।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.