নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মঞ্জুর চৌধুরী

আমি ঝন্ঝা, আমি ঘূর্ণি, আমি পথ-সমূখে যাহা পাই যাই চূর্ণি’। আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ, আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ। আমি হাম্বার, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল, আমি চল-চঞ্চল, ঠমকি’ ছমকি’ পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’ ফিং দিয়া দিই তিন দোল; আমি চপলা-চপল হিন্দোল। আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা, করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পান্জা, আমি উন্মাদ, আমি ঝন্ঝা! আমি মহামারী আমি ভীতি এ ধরিত্রীর; আমি শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ন চির-অধীর! বল বীর - আমি চির উন্নত শির!

মঞ্জুর চৌধুরী › বিস্তারিত পোস্টঃ

বিয়ের আগে কিছু বিষয় মাথায় রাখুন

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১২:৫৬

আমি একজন ছেলে এবং আমাকে বিয়ে করতে হবে। প্রথমেই দরকার একজন পাত্রীর। তা পাত্রী কেমন হতে হবে? অবশ্যই ঐশ্বরিয়ার মতন সুন্দরী, মাদার ম্যারির মতন চরিত্রবান, আইরিন এডলারের মতন বুদ্ধিমতী, সর্বকর্মে চৌকষ, ওয়েস্টার্ন মেয়েদের মতন স্মার্ট, দ্রৌপদীর চেয়েও ভাল রাঁধুনি এবং list goes on. এইদিকে আমি কিন্তু নিজে মঞ্জুর চৌধুরী, অতি সাধারণ একজন পুরুষ।
এখন ধরা যাক আমি মেয়ে, এবং আমার পাত্র কেমন হতে হবে? অবশ্যই বিল গেটসের কাছাকাছি ধনী হতে হবে, ওমার বোরকান আল গালার মতন গুড লুকিং হতে হবে (যারা চিনেন না, তাঁদের জ্ঞাতার্থে, ছেলেটি মিডল ইস্টার্ন মডেল, এবং সম্ভবত একমাত্র ব্যক্তি যাকে এক অনুষ্ঠান থেকে ডিপোর্ট করা হয়েছে কেবল মাত্র এই অভিযোগে যে সে মেয়েদের মাথা নষ্ট করে দেয়ার মতন সুন্দর), লেখাপড়ায় ড. হরদয়াল সিংয়ের মতন পঁয়ত্রিশটা ডিগ্রি থাকতে হবে, বুদ্ধিতে নিউটন - আইনস্টাইনের উত্তরসূরি হতে হবে, অ্যাবস অবশ্যই এইট প্যাক হতে হবে (সিক্সপ্যাক এখন যে কেউ বানিয়ে ফেলছে), বুড়া হাবড়া হলে চলবেনা, আবার কোম্পানির আপার মিড্ লেভেল থেকে টপ লেভেল এমপ্লয়ী হতে হবে। এবং চরিত্র হতে হবে নবী রাসূল পর্যায়ের। আমি কে? আমি মোসাম্মৎ জরিনা খাতুন।
সমস্যা হচ্ছে, এইসব "বস্তু" একমাত্র বলিউড সিনেমা এবং তা থেকে নকল করা সস্তাদরের বাংলা সিনেমা ছাড়া কোথাও পাওয়া যায়না। আপনাকে অবশ্যই অবশ্যই অবশ্যই কোথাও না কোথাও ছাড় দিতেই হবে। আমরা কেউই পারফেক্ট নই, ইম্পারফেকশনের মধ্যেই আমাদের পারফেকশন। কথাটি মাথায় গেঁথে রাখুন।
দেখা যায় অতি রূপবান ছেলেদের হয়তো চরিত্রের দোষ আছে, অতি সুন্দরী নারীর জিহ্বায় সমস্যা আছে - মুখ দিয়ে যা বেরোয়, কলিজা খানখান করে দেয়। অন্যদিকে, ঘরোয়া পরিবেশে বেড়ে উঠা অতি সহজসরল এবং সাধারণ দর্শন মেয়েটি হয়তো যার জীবনে যাবে, তাঁকে ধন্য করে দেয়ার যোগ্যতা রাখে। লেখাপড়ায় অতি সাধারণ, চেহারায় অতি সাধারণ, স্কুল-কলেজের বন্ধুবান্ধবের টিটকারীর শিকার, গরিব মধ্যবিত্ত পুরুষটি হয়তো তাঁর জীবনসঙ্গিনীর জন্য প্রাণ উজাড় করা ভালবাসা জমা করে রেখেছে।
কথা হচ্ছে, আমরা কোন বিষয়কে প্রায়োরিটি দিব।
ডিল পরিষ্কার - আমি পারফেক্ট মেয়ে এই পৃথিবীতে খুঁজে পাবো না। আমাকে কোথাও না কোথাও ছাড় দিতেই হবে। আমাকেই ঠিক করতে হবে আমি কোন গুনটা বেশি করে চাই। কোন দোষটা সামান্য পরিমানে থাকলেও আমি ইগনোর করতে পারবো। সেই অনুযায়ী আমাকে জীবনসঙ্গিনী বেছে নিতে হবে। টিভিতে মডেলিং করে এমন দেশসেরা মডেলকে রূপ-ফিগারে মুগ্ধ হয়ে উলালা বলতে বলতে আমি বিয়ে করলাম, এবং তারপরে আবিষ্কার করলাম ওর মডেলিং ক্যারিয়ারটা আমার পছন্দ না, বরং আমি চাই গৃহিনী টাইপ বধূ - তাহলে আমার গালে কষে একটা চটকানা আমি ডিজার্ভ করি। দেশে হাজার হাজার কোটি কোটি গৃহিনী মেয়ে ফেলে রেখে কেন একটা মডেলকে আমি বেছে নিলাম, এবং তারপর জোর জবরদস্তি করে তাঁর মতের বিরুদ্ধে তাঁর ক্যারিয়ারের উপর হস্তক্ষেপ করতে গেলাম? ইসলামী মতে মডেলিং হারাম? ওয়েল, ইসলামতো আমাকে ওর হেদায়েতের দায়িত্ব দেয় নাই। ইসলাম বলেছে পর্দানশীন মুসলিমা বিয়ে করতে। সেটা প্রথমে ফলো না করে এখন ইসলাম ফলাতে এসেছি?
ডিসক্লেইমার - যদি কেউ স্বেচ্ছায় পেশা পরিবর্তন করতে চায় - তখন উপরের যুক্তি খাটেনা। আমার বৌ সাবেক মডেল, এবং এখন পুরোদস্তুর গৃহিনী - এবং তারচেয়ে বড় কথা, সে সুখী - তাহলে কারোর নাক গলানোর কিছু নেই। আজকের লেখা জোর জবরদস্তির বিরুদ্ধে, স্বেচ্ছা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নয়।
কথা প্রসঙ্গে বলে ফেলি, সেদিন অ্যাডমিন প্যানেলে সানি লিওনি নিয়ে কথা হচ্ছিল। আমি তাঁর সাম্প্রতিক কিছু ইন্টারভিউতে মুগ্ধ হয়ে গেছি। মেয়েটির পার্সোনালিটি দারুন। অন্তত বলিউডের আইটেম গার্ল ও মেইন স্ট্রিম অনেক নায়িকা থেকে ভাল। সবচেয়ে ভাল যা লেগেছে তা হচ্ছে কারোর নামে কোন কুৎসা রটানোতে সে নেই। এই এক গুন্ই হাজার হাজার মহিলা থেকে তাঁকে কয়েক লক্ষ মাইল উপরে নিয়ে এসেছে।
সে পূর্বজন্মে কী কর্ম করেছে সেটা থেকে আমার মনে হয় এখন সে কী করছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিৎ। সে এখন আইটেম সংয়ে নাচে, আলহামদুলিল্লাহ! অন্তত পর্ন ছবিতো করছে না। আশা করি সে ভালোর দিকে আরও এগিয়ে আসবে। অ্যামেরিকায় বহু পর্ন তারকা আছে যারা এন্টি পর্ন কর্মী হিসেবে একটিভ আছে। অনেক অনেক কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনারে নিজেদের মূল্যবান বক্তব্য দিয়ে বেড়ায়। আমরা আমাদের জাজমেন্টাল মেন্টালিটি না হয় পরিবর্তন করি?
প্রসঙ্গে ফেরা যাক।
সব মেয়েরাই বিত্তশালী স্বামী চায়। চায় অফিসে উচ্চপদে কাজ করনেওয়ালা পতি। আবার একই সাথে চায় সেই স্বামী তাঁর সাথে ম্যাক্সিমাম সময় কাটাক। ঠিক পাঁচটায় বাড়ি ফিরে আসবে, রাতে ডিনারে যাবে ইত্যাদি ইত্যাদি।
আপা, যে ছেলে অফিসে উচ্চপদে কাজ করে, কিংবা ব্যবসায় ব্যস্ত থাকে, তাঁর বাড়িতে ফিরতে প্রায়ই মধ্যরাত হয়ে যাবে। ভালবেসে টাইম কাটানেওয়ালা স্বামী চাইলে সাধারণ চাকরিজীবীকে বিয়ে করুন। কোনটা প্রায়োরিটি?
একশ্রেণীর মেয়েদের দেখা যায় যারা বিয়ের শুরুর দিন থেকেই জয়েন্ট ফ্যামিলি থেকে ছেলেকে আলাদা সরিয়ে আনার চেষ্টায় লিপ্ত থাকে। "আমার সাথে সংসার করতে হলে তুমি তোমার মা বাবা কারোর সাথে সম্পর্ক রাখতে পারবা না।"
আপা, এমন যদি চান, তাহলে এতিমখানা থেকেই কোন ছেলেকে বিয়ে করুননা। শুধু শুধু মায়ের বুক থেকে ছেলে সরিয়ে নিজের ও অন্যের সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করছেন কেন?
বিয়ের আগেই ঠিক করা উচিৎ ছেলে কী বিয়ের পরে মা বাবার সাথে থাকবে নাকি আলাদা।
মা বাবার থেকে আলাদা থাকলেই যে সে দোষী হয়ে যাবে, এমন হাদিস কোন গ্রন্থে পেয়েছেন? আমাদের দেশে অনেক মাই বিয়ের পরেও ছেলের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে গিয়ে গিট্টু বাঁধিয়ে ফেলেন। একটু ঢিল দিন। আপনার ছেলে, আপনি তাঁকে পেটে ধরেছেন, নিতান্তই হারামজাদা কিসিমের স্বভাব না থাকলে সে আপনার অসম্মান করবেনা। মাঝে দিয়ে আপনি এমন কিছু করে বসবেন - যার ফলে তাঁকে বিপদে ফেলে দিবেন। উদাহরণ দেই।
ছেলে অফিস থেকে বাসায় ফিরতে দেরি হচ্ছে, আপনি ছেলের বৌকে দোষ দিচ্ছেন। "তোমার সাথে বিয়ের আগে ও কখনও এত দেরি করেনাই।"
ছেলে হয়তো আপনার সাথে সামান্য কথা কাটাকাটি করেছে, আপনি ছেলের বৌকে দোষ দিচ্ছেন, "তোমার সাথে বিয়ের পরেই আমার ছেলেটা একদম বেয়াদব হয়ে গেছে।"
কিংবা বৌ সাধারণ কোন ভুল করেছে, "মা বাবা কিছু শিখিয়ে পাঠায় নি?"
এইসব পরিস্থিতি অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলে। বাধ্য করে ছেলেকে আলাদা হয়ে যেতে। কাজেই এসব মাথায় রাখুন। আপনি অ্যাডজাস্ট করুন, ওরাও অ্যাডজাস্ট করবে।
বিয়ের আগেই ঠিক করা উচিৎ মেয়ে বাইরে চাকরি করবে নাকি গৃহিনী হবে। অনেক ছেলেও হয়তো বাইরের চাকরি পছন্দ করেনা, তা তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর মধ্যকার একান্ত নিজস্ব ব্যাপার। আমরা নাহয় নাক না গলাই।
গতকাল বলেছি, আবারও বলি, গৃহকর্ম মোটেও খারাপ কিছু নয়। নিজের সংসারের জন্য কাজ কেন ছোট হবে? আমার চিফ রেভেন্যু অফিসার, যে হার্ভার্ড থেকে এমবিএ করে এসেছে, এবং যার বেতন বছরে কমসে কম হাফ মিলিয়ন ডলারের বেশি, সে নিজের বাচ্চাকে নিজের হাতে গোসল করায়। ঐ সময়ে অফিস থেকে কোন জরুরি ইমেইল বা ফোন টেক্সট পাঠালে সে অতিশয় বিরক্ত হয়।
অনেক পুরুষ আবার ঘরের কাজ করলে মনে করে জাত চলে যাবে। আমাদের নবীজি (সঃ) নিজের ঘরের ধুলাবালি ঝাড়াঝাড়ি করতেন। বিছানা বালিশ ঠিকঠাক করতেন। দুম্বার দুধ দুইতেন। তুমি কোথাকার কোন লাট সাহেব এসে গেছো বাছা? আলগা ফুটানি আমাদের অঞ্চলের লোকজনের মধ্যেই দেখা যায়।
আবার আরেকদল মানুষও পাওয়া যায়, যারা বিয়ের সময়ে টাকা পয়সা কিচ্ছু দেখেনা, শুধু ছেলে-মেয়ের চরিত্র বিবেচনায় আনে, এবং বিসমিল্লাহ বলে কবুল বলিয়ে ফেলে। সমস্যা কিন্তু এখানেও থেকে যায়। দুইজন পারফেক্ট চরিত্রের অধিকারী স্বামী-স্ত্রীরও কিন্তু ডিভোর্স হবার ঘটনা ঘটে, ইনফ্যাক্ট আমাদের ট্র্যাডিশনেই উদাহরণ পাওয়া যায় - যাইদ এবং যায়নাব (রাঃ) - কাজেই "কেবল" চরিত্রই একমাত্র বেসিস হিসেবে নিবেন না। চরিত্র অবশ্যই সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর, কিন্তু তারচেয়েও বেশি জরুরি পারস্পরিক সঙ্গতি। একজন আরেকজনের জন্য উপযুক্ত কিনা। ফ্যামিলি upbringing সমপর্যায়ের কিনা।
ব্যাখ্যা করি।
বাংলা সিনেমার উদাহরণ নেয়া যাক। নায়িকা বিরাট বড়লোকের কন্যা। বাবার টাকা পয়সা ঐশ্বর্যে ডুবে ডুবে বড় হয়েছে। নায়ক একজন সৎ রিক্সাওয়ালার ছেলে। যে চরিত্রবান। গরিবের বন্ধু।
টেকনিক্যালি এদের দুইজনের বিয়েতে কোন সমস্যা হবার কথা না। না ধর্মে, না দেশের আইনে। বাস্তবে অবশ্যই সমস্যা হবে। বিয়ের পরে মেয়ে বস্তিতে এসে কোন অবস্থাতেই মানিয়ে নিতে পারবেনা। মাটির চুলায় নিজে রান্না করা, শেয়ার করা মোটামুটি উন্মুক্ত গোসলখানা, বদনা হাতে চাটাই দিয়ে ঘেরা কাঁচা পায়খানায় প্রাতঃকৃত্য সারতে যাওয়া - ইম্পসিবল ব্যাপার! তা তাঁর স্বামী যত মহানায়কই হোক না কেন।
বিয়েশাদীতে একটু আপ ডাউন হবেই, কিন্তু দুই জনের সঙ্গতি যতটা কাছাকাছি হবে, তত ভাল।
আরেকটা কথা, একজন আপু ক্যানভাসে শেয়ার করেছিলেন, আমি সেটা যোগ করছি, মেয়েদের মধ্যে আরেকটা বিষয় অত্যন্ত বিরক্তিকর। "আমি কী মা বাপের টাকা খরচ করে অন্যের ছেলের জন্য ভাত রাঁধার জন্য বড় হয়েছি?"
ছেলেটার এখানে অবশ্যই বলার অধিকার আছে, "আমিও কী আমার মা বাপের টাকা খরচ করে অন্যের মেয়ের জন্য খেটে মরার জন্য বড় হয়েছি?"
বিয়ে কোন কম্পিটিশন না। বিয়ে কম্পেনিয়নশিপ। আমি আমার জীবনসঙ্গিনীকে সাহায্য করবো, সেও আমাকে সাহায্য করবে। দুইজন মিলে একটা সংসার গড়ে তুলবো। প্রচুর ঝড় তুফান আসবে, কিন্তু বুড়ো বুড়ি হবার পরে যখন পেছন ফিরে তাকাবো, তখন নিজেদের মজবুত ইমারত দেখে নিজেরাই মুগ্ধ হবো।
যে আপা ও ভাই কথায় কথায় নিজের স্বামী/স্ত্রীকে ছেড়ে চলে আসে, বার্ধক্যে গিয়ে আবিষ্কার করে কতটা একা তাঁরা। আফসোস করে ভাবে, হয়তো সামান্য আলোচনাতেই সমস্যার সমাধান হওয়াটা সম্ভব ছিল।
আবারও বলি, আমাকেই আগে খুঁজে বের করতে হবে নিজের জীবন সঙ্গিনীর মধ্যে আমি কোন গুণটা সবচেয়ে বেশি কামনা করবো - এবং কোন দোষটা সবচেয়ে বেশি অপছন্দ। আমি যদি চরিত্রের উপর প্রাধান্য দেই, তাহলে হয়তো চেহারায় ছাড় দিতে হবে। আবার দেখা যাবে আমি বিশ্ব সুন্দরী বিয়ে করে ফেলেছি, লোকজনকে দেখিয়ে বেড়াই আমার বৌ কত সুন্দর। কিন্তু এদিকে সে যেকোন পুরুষের সাথেই একটু বেশিই ঘনিষ্ট হয়ে যায়। আমাকে সেটাও মাথায় রাখতে হবে।
আপনি চান না আপনার বৌ হিজাব পড়ুক। তাহলে নন হিজাবি মেয়েই বিয়ে করুন না। আপনি যদি তাঁকে সম্মান করতে শিখেন, তাহলে তাঁর পোশাককে অবশ্যই সম্মান করতে শিখতে হবে। সে হিজাব পড়ুক, কিংবা বিকিনি, আপনাকে সেই বিষয়টা আগে বিবেচনায় এনে তারপরে বিয়ে করতে হবে। তবে হ্যা, ভালগারিটি যদি সমস্যার কারন হয়ে থাকে, তাহলে দুইজনে বসে আলোচনা করুন, সমাধানের মধ্যপথ খুঁজুন। তাঁরও উচিৎ আপনার পছন্দ অপছন্দকে সম্মান করা। আপনি যদি সঠিক হয়ে থাকেন, এবং তারপরেও তিনি জেদ ধরে বেঠিক কর্ম করতে থাকেন, তাহলে সমস্যা তাঁর, আপনার না।
আপাদের বলছি, বিয়ের আগেই ঠিক করুন কেমন স্বামী আপনার পছন্দ। অতি ভদ্র ছেলে বিয়ে করেছেন, এদিকে রাস্তায় বখাটে ছেলে আপনাকে টিটকারি করেছে, এবং সে কেন গিয়ে দুইটা থাপ্পড় বসিয়ে দিল না - এই অভিযোগে আপনি তাঁর উপর রাগ করতে পারবেন না। ভদ্রদের সমস্যা হচ্ছে, তাঁরা একটু ভীতুও হয়। যদি মারপিট করনেওয়ালা স্বামী চান, তাহলে ধরে নিতে হবে তাঁর মুখের ভাষা খারাপ হবে। মাথায় রাখতে হবে, এই স্বামী নিয়ে আপনার পারিবারিক সার্কেলে মেলামেশা করতে আপনি কতখানি কম্ফোর্টেবল থাকবেন।
মোট কথা, বিয়ের আগে কথাবার্তা বলে যাচাই বাছাই করে নিন কে কার জন্য কতখানি যোগ্য। জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত এটি। তাড়াহুড়ার কিছু নাই। "মনকে ফলো করো, কারন তোমার মন তোমাকে ভুল করতে দিবেনা" বলিউডের এইসব বুলশিট ডায়লগে বিশ্বাস করবেন না। মন সবসময়েই ভুল পথেই যেতে বলবে, মস্তিষ্ক বলবে কোনটা সঠিক, কোনটা বেঠিক। মন বলবে স্বামীর বন্ধুর সাথে অথবা স্ত্রীর প্রিয় বান্ধবীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়াতে, মস্তিষ্ক বলবে, এর ফল হবে অত্যন্ত খারাপ।
এখনকার জেনারেশন আবার "টাইমপাস" সম্পর্কে বিশ্বাসী। কেউই সিরিয়াস না। ফেসবুকে পরিচয়, ইনবক্সে ম্যাসেজিং, ফোনে টেক্সটিং, এবং তারপরে উল্টাপাল্টা কোন কর্ম সম্পাদন, এবং তারপরে কেলেঙ্কারি ইত্যাদি ইত্যাদি।
কেন নিজেকে এতটা সস্তা বানানো যে অন্যের "টাইমপাসের" আইটেম হবেন আপনি? নিজের আত্মসম্মান কী নেই? ঐসব ফালতু হাই হ্যালো, ভাব ভালবাসা ফেসবুক পোস্টে লাইক ও কমেন্ট কী এতটাই গুরুত্বপূর্ণ? নিজের মেরুদন্ড কবে শক্ত করতে শিখবেন? একবার নিজের আত্মসম্মান ধরে রাখার চেষ্টা করুন, জীবনের ৯০% ঝামেলা থেকে বেঁচে যাবেন। নিজেকে বুঝান যে আপনি এতটা সস্তা নন যে যে কেউ এসে আপনার সাথে টাইমপাসের সম্পর্ক পাতিয়ে ফেলতে পারবে। এবং একটা জিনিস মনে রাখবেন, সমাজে সম্মান কামাতে একটা জীবন চলে যায়। মানুষের চোখে নেমে যেতে কেবল একটা অ্যাকসিডেন্টই যথেষ্ট। কিছু করার আগে ভাবুন, নিজেকে নিয়ে ভাবুন, নিজের মা বাবা, ভাই বোন, ছেলে মেয়ে পরিবারের কথা মাথায় রাখুন - একবার কল্পনা করুন, আপনার অপকর্মের খবর ওদের কাছে ফাঁস হলে কেমন হবে সিচ্যুয়েশন। তারপরে সিদ্ধান্ত নিন কী করবেন।

মন্তব্য ৭ টি রেটিং +৭/-০

মন্তব্য (৭) মন্তব্য লিখুন

১| ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৪:২০

লর্ড অফ দ্য ফ্লাইস বলেছেন: ভাল লাগল। কোন ফেসবুক গ্রপে দিয়ে দেন। এগুলি সবার জানা দরকার।

২| ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সকাল ১০:৩৫

রাসেল ০০৭ বলেছেন: আশ্চর্য্য এত ভালো একটা লেখায় কারো মতামত নেই!

৩| ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সকাল ১১:৩১

নতুন বলেছেন: খুবই দরকারী কথা সহজ ভাবে বলছেন... সবারই পড়া দরকার। যারা বিয়ে করেছে তারাও অনেক কিছু শিখতে পারবে।

বিয়ের জন্য সবচেয়ে দরকারী জিনিস হলো ছেলে বা মেয়ে <<< ব্যক্তিগত ভাবে মানুষ ভাল কিনা.... এটার গুরুত্ব ৯৫% বাকি সব মিলিয়ে ৫%...

যদি কেউ হেলেন অফ ট্রয়কেও বিয়ে করে কিন্তু যদি স্বামীকে ভালো না বাসে...ঝগড়া করে..বাবা/মায়ের সাথে ভালো ব্যবহার না করে... কুটনামী করে তবে সেই স্ত্রীর সাথে স্বামীর ভাল সম্পক` বেশি দিন থাকবেনা।

আমার পরিচিত অনেকেই আছে যারা বিয়ের সময় ছেলে বা মেয়ে কেমন না দেখেই ছেলে/মেয়ের বাবা/গুস্ঠির অবস্তা দেখে বিয়ে দিয়ে এখন পস্তাছেন....

৪| ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৩:৩২

চৌধুরী মাহবুব বলেছেন: অামাদের সমাজে বিয়ের ব্যাপারে এখনো ছেলে মেয়েদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হয়না। একজন ছেলে মেয়ে তার পছন্দ বেচে নিয়ে বিয়ে করলে খুশী ও সুখী হয়। অামাদের অভিবাবকেরা কি তা মানতে চান। টাকার জন্য বিশাল ভুড়ির এক লোককে জামাই করে গাড়ি, বাড়ির সখ মিটাতে গিয়ে অাসল সুখের খুজ পায়না। অামাদের চট্টগ্রামেতো বিয়ে নিয়ে রীতিমত মহ তূলকালাম কান্ড করে বসে। বর পক্ষকে এক হাজার লোক ভোজ করাতে হবে। এতে ব্যয় হয় তিন লাখ টাকা। বাকি সবে যায় তিন লাখ টাকা। পান্জাবি, শাড়ির সেট মিলীয়ে ছবি অতপর ফেসবুকে অাপলােট তারপর মনের সাধ মিটল। ।এইতা গেল বিয়ের জ্বালা তার পর শুরু দাওয়াত পর্ব এক একটা দাওয়াতে তিন থেকে পাচ হাজার টাকার নাস্তা নিতে হয় কেননা নাস্তার ওজন বলে দেয় বর কত বড় ধনী। অার যারা দাওয়াত খাওয়ায় তাদেরতো দম ফেলার ফুরসত নেই । অাটার থেকে বিশ পদের তরকারী চাই । খেতে খেতে জান জাবার অবস্থা। কোন কমিউনিটি সেন্টার খালি নেই । চট্টগ্রামের এই সাহেবী রীতি যে কত যন্ত্রনার তা কেবল ভুক্তভুগিরা বলতে পারে।

৫| ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১:৪৬

ইফতেখার আহমেদ রিয়াদ বলেছেন: খুব ভালো লাগলো পড়ে।অনেক কিছু বুঝার এবং শিখার আছে এই লেখা থেকে।পঠিতদের সংখ্যা আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল।
,
ভাইয়া এখান থেকে কিছু লাইন কি কপি করে ফেইসবুকে দিতে পারি (কার্টেসি সহ)?

৬| ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৫:৩৮

এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন: খুব ভালো লিখেছেন। সহজ ভাষা কিন্তু দারুন আকর্ষণীয়। বিষয়বস্তু অসাধারণ। মতামতগুলো বাস্তবধর্মী।শুভেচ্ছা নিরন্তর।

৭| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:০৭

সামিউল ইসলাম বাবু বলেছেন: সুন্দর অালোচনা

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.