| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আহমদ
পৃথিবীর মানুষ নিয়ে আমার বড্ড কৌতুহল। লিখতে ভালোবাসি। পড়তে ও ভালোবাসি। বিভিন্নœ চ্যানেল টক শো, সাইনসফিকশন ও হরর ছবি দেখি। ফ্যাশন টিভি ক্যাটওয়ার্ক উপভোগ করি।
একুশ শতকের আজকের নাগরিক সভ্যতায় মুসলিম সমাজ বলতে কিছু নেই। আছে নাগরিক চেতনা। আছে নানা উৎসব বিভিন্ন পার্বন, মেলা, নৃত্য-গীতি, ভ্যালেন্টাইন ডে, ডিজে পার্টি, থারটি ফাস্ট নাইটসহ আনন্দ উদযাপনের নানা ব্যঞ্জনা। এসব আনন্দ উদযাপনের সাথে ইসলাম বা মুসলমানের কোন সম্পর্ক নেই। অর্থ বিত্ত প্রতিপ্রত্তির সম্পর্ক আছে। যার কারণে এই রাজধানীর উপকন্ঠে একটি মসজিদের বিপরীত দিকের এক বাড়িতে তিন দিন ধরে রাত ভর নৃত্য-গীত হতে দেখলাম। খোঁজ নিয়ে জানলাম, একটি মুসলিম পরিবারের বিয়ে উপলক্ষে ডিজে পার্টি হচ্ছে। সমাজবদ্ধভাবে এ নিয়ে কারো প্রতিবাদ করা তো দূরে থাক মসজিদ কমিটি পর্যন্ত এ বিষয়ে নাক গলায়নি। ইমাম সাহেবকেও এসব বিষয়ে কড়া ভাষায় ওয়াজ নসিহত না করার নসিহত দেওয়া হয়েছে। দু’য়েক জুমায় মসজিদে ইমাম সাবের কড়া বয়ানের সময় অনেককে বিরক্ত প্রকাশ করতেও দেখেছি। মুসলিম সমাজে যা চিন্তাও করা যায়না। মুসলমানরা ইমামের বয়ানে আল্লাহর আজব গজবের ভয়ে ভীত হয়। দেখলাম উল্টোটা।
যতোটা বুঝেছি, মুসলিম সমাজ বলতে এমন একটি ব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে সুখে দুঃখে, বিপদে-আপদে, জন্ম-মৃত্যুতে, বিয়ের অনুষ্ঠান উৎসবে সামাজিক আয়োজনে পরস্পর পরস্পরের সহযোগি হিসেবে পাশে দাঁড়ানোর ধর্মীয় বাদ্যবাদকতা রয়েছে। আর কেউ ধর্মীয় নৈতিকতা ও সামাজিকতার সীমা লংঘন করলে সমাজবদ্ধভাবে তা রুখে দিতে অথবা আইনগতভাবে তা বন্ধ করতে সামাজিকভাবে উদ্যোগ নেওয়ার দায় রয়েছে। সে গুড়ে বালি। নগর জীবনে সমাজের কোন দায় নেই। মুসলিম সমাজ বলেও কিছু নেই। আসলে তৃতীয় বিশ্বের নগর সামাজিকতায় চলছে এক অরাজক অবস্থা। এখানে রাতভর মাইক বাজিয়ে উৎসব চললেও দেখার কেউ নেই। নগগর আইনে এভাবে প্রতিবেশীর শান্তি ভঙ্গের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা কার্যকর নেই। কার্যকর করতে কেউ এলে তাকে বলা হয়, মেয়ের বিয়ে বা ছেলের বিয়ে.. পোলাপানরা একটু আধটু উৎসব করছে। আপনারা এসেছেন খাওয়া দাওয়া করে যান। আর এই প্যাকেটা রাখেন। আপনাদের বখশিশ। আইন আর কার্যকর হয়না।
সমাজের এই অবস্থাটাকে আমরা কি বলব? দূর্নীতিগ্রস্থ সমাজ না স্যাকুলার সমাজ? উন্নত বিশ্বের সেক্যুলার সমাজে প্রতিবেশীর অভিযোগ খুবই গুরুতরভাবে নেওয়া হয়। আইন ভঙ্গের অপরাধে সেখানে শাস্তি পেতে হয়। শাস্তি দেওয়ার কারণে প্রতিবেশীর প্রতি অন্যায় অবিচার বা প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা যায় না। আসলে বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ বলতে কিছু নেই। সেটা ধর্মীয় হোক আর সেক্যুলার-এটা কোন অবয়বই পায়নি। এখানে চলছে নব্য ধনীদের অর্থ-বিত্ত-প্রতিপত্তি প্রদর্শনের উম্মত প্রতিযোগিতা। নগরের স্থায়ী বাসিন্দারা ক্রমান্বয়ে পরিণত হচ্ছেন সংখ্যালঘু ও বিচ্ছিন্ন মানুষে। সামাজিক আচার বিচার করতে গিয়ে প্রভাবশালীদেও প্রতিপ্রত্তির কাছে জিম্মী হয়ে গ্রামীণ সমাজও আজ ভেঙ্গে পড়েছে প্রায়। বিবাহ বহির্ভূত নারী পুরুষ সর্ম্পক, নারী ধর্ষন পরকিয়া, নির্যাতন নিয়ে প্রভাবশালীদের প্রভাবে গ্রামীন মোল্লা মৌলুভীদের দেওয়া ভুলেভরা ফতোয়া এবং তা কার্যকর করতে গিয়ে নিজেরা ফৌজধারী অপরাধ করে বসা সর্বোপরি এসব নিয়ে বিভ্রান্তিকর নানা প্রচারণা গ্রামীন কাঠামোতেও মুসলিম সমাজ ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দিয়েছে। গ্রামীণ জনপদ এতোদিন ছিল সমাজ নির্ভর। সেখানে হিন্দু-মুসলমান-বা খৃষ্টানরাদেরও সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করতে দেখেছি। কিন্তু সেই সমাজ বিশেষ করে মুসলিম সমাজ আজ আর অবশিষ্ট নেই। হয়তো মুসলমানদের সেই ঈমান আকিদা নেই বলে সেই সমাজও আর অবশিষ্ট নেই। আর ঐতিহাসিকভাবেই জেনেছি, নগর জীবন সমাজ নির্ভর নয় সামাজিকতা নির্ভর। নানা পার্টি, উৎসব-পার্বন, মেলা, নৃত্য-গীতি, আমোদ-ফ’র্তি নগর জীবনের অনুষঙ্গ। নগর জীবনে সমাজ ও সামাজিকতার দায় পরিবার কেন্দ্রিক। ব্যক্তিকেন্দ্রীকতা, আত্মভরিতা, ধন সম্পদের প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনবাদিতা নগর জীবনের বৈশিষ্ঠ্য। এখানে প্রচলিত সামাজিক রীতিনীতি ভেঙ্গে বাধ ভাঙ্গা আওয়াজে মেতে উঠার প্রবণতাটাই উচ্চকিত। তাই এখানে সবাই খুব দ্রুত ছুটে চলে নাম যশ খ্যাতি অর্জনের জন্য। নগর ছাপিয়ে এখন এই আকাঙ্খার আকাশ গ্রামীন জনপদেও বিস্তার লাভ করেছে। কিন্তু যেন তেন ভাবে অর্থ-বিত্ত-প্রতিপত্তির লাভের আকাঙ্খা মুসলমানদের ঈমান আকিদার সাথে যায় না। আল্লাহকে ভয় পাওয়ার জন্য বা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় ভালো কাজ করা বা মšদ কাজ থেকে বিরত থাকার চর্চা এখন সামাজিকভাবে বোকামী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বলা হচ্ছে, লোকটার বৈষয়িক বিচার বুদ্ধি কম। অপরদিকে একটি পক্ষ ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার শ্লোগান দিয়ে রাজনৈতিকভাবে ইসলামকে ব্যবহার করার জন্য ইসলামের রুহানী শক্তি বা আধ্যাত্মিকতার চর্চাকারীদের অস্বীকার করেছে। ফলে মুসলিম সমাজ বিভক্ত হয়েছে। আবার আধ্যাত্মবাদ চর্চাকারীদেও বিভাজনের ফলে মুসলিম সমাজ রুহানী ঐক্য হারিয়েছে। এখন রাজনৈতিক ইসলাম রাজনৈতিক প্রতিরোধের মুখে বিপদাপন্ন হয়ে গোটা মুসলিম সমাজকেই তছনছ করে দিচ্ছে। আবার ক্ষয়িষ্ণ মুসলিম সমাজ সামাজিকভাবে তার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। সমাজ ও সামাজিকতার এ হাল আমাদেরকে আসলে কোথায় এনে দাঁড় করিয়েছে?
তাহলে কি একুশ শতকের মুসলমানরা খুব দ্রুত আইয়ামে জাহেলিয়াতের দিকে ছুটে চলেছি। ইসলাম ঘোষিত সে আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে নৃত্য-গীতি চরম উৎকর্ষ লাভ করেছিল। শিল্পকর্ম, কবিতা ও গানের বর্ণনায় নারী ও পুরুষর শরীরী আবেদন নতুন এক নান্দনিকতা লাভ করেছিল। প্রাচীন রোমন সমাজ, আরব সমাজ, ভারতীয় ও পারস্যের আর্যসমাজের ইতিহাসে জীবনকে উপভোগ করার এমন আবেদনময় দলিল ভুরি ভুরি রয়েছে। প্রাচীন আরবের বিখ্যাত কবি ইমরুল কায়েসসহ সাবায়ে মুআল্লেকা বা সাত কবির বর্ণনায় তৎকালীন আরবের সামাজিক রীতিনীতির যে রুপ ফুটে উঠছিল, আজো তা উপলব্ধি করা যায়। আজকের ভারত, রুশ, জার্মান, ফ্রান্স, ইরান, মিশর, সিরিয়া, লেবানন, তুরস্ক, ইরাকসহ প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন সমৃদ্ধ বিভিন্ন দেশের ভাস্কার্য নৃত্যকলা ও সাহিত্যে প্রায় অভিন্নভাবে জীবনেকে উপভোগের সাদৃশ লক্ষ্য করা যায়। আজকের আধুনিক সমাজেও আমরা ভিন্ন আঙ্গিকে তা প্রত্যক্ষ করি।
প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে যেমন বিভিন্ন মেলা ও লোকজ উৎসবের বর্ণনা রয়েছে। ইতিহাস ও সাহিত্যের বিভিন্ন আঙ্গিকে সেসব মেলা ও উৎসবের বর্ণনায় তৎকালীন সামাজিক রীতির ধারণা পাওয়া যায়। প্রাচীন সমাজে নারীর রূপ যৌবনকে বিত্তবানদের মর্যদা প্রদর্শনের অলঙ্করণ হিসেবে ব্যবহার করা ছিল একটি গৌরবের বিষয়। কার কতো উপপতিœ আছে, কার আয়ত্বে কতো সুন্দরী নারী, ফিয়াসে, বান্ধবী ও রক্ষিতা আছে, কে কতো নৃত্যপটিয়সী, ছলাকলায় কে কতো পারদর্শী, কে কতো বড় বীর বা রাজন্য বা সমাজপতিকে নিজের রূপ যৌবন ও বুদ্ধিমত্তায় কুপোকাৎ করতে পেরেছ-সেটাই ছিল তাদের গুণের বহর। তৎকালীন মেলা ও উৎসবে তা ছিল কবিতা, গান ও আড্ডার আলোচ্য বিষয়। অর্থ-বিত্ত ও প্রতিপ্রত্তির জন্য পুরুষ দখলের প্রতিযোগিতায় মা হয়ে যেতো কন্যার প্রতিদ্বন্ধি। কণ্যা হয়ে যেতো মায়ের। সুন্দরী নারী দখলের প্রতিযোগিতায় পিতা-পুত্র নয় পুরুষরা নেমে পড়তো মাঠে। আজকে পরিবার বলতে আমরা যা বুঝি তৎকালীন সমাজে তা ছিল না। নিজের কণ্যা, বোন, স্ত্রী সবাই গণ্য হতো নারী হিসেবে। কে পিতা কে ভাই বিবেচ্য ছিল না। বিবেচ্য ছিল সে বীর পুরুষ বিত্তবান ও সুপুরুষ কীনা কিংবা সে নারী রূপবতী আবেদনময়ী ও উচ্চআকাঙ্খি কীনা। সে যুগে নারী কখনো মাতৃরুপিনী কল্যানময়ী রুপে সামাজিক স্বীকৃতি পেতোনা। পিতাও দায়িত্বশীলতা দিয়ে কাউকে আগলে রাখার প্রয়োজন বোধ করতো না। তবে না নিজের কাঙ্খিত জনকে পাওয়া বা হারানোর ক্ষেত্রে জীবন বাজী রেখে লড়াই করতে বা স্ত্রী সন্তানকে বিলিয়ে দিতে কুন্ঠাবোধ করতো না। ফলে সমাজে নারী পুরুষের অবাধ মলামেশা ও যৌনাচার এবং তা নিয়ে সংঘাত ও দ্বন্ধ ছিল নিত্য নৈমিত্তিক। ভোগবাদী মানুষেরা নিজেদের ক্ষমতা শৌর্য বির্য সমাজে প্রদর্শনের জন্য যে যার মতো একটা ক্ষমতার কেন্দ্র বানিয়ে নিতো। আগুণ, সূর্য, ড্রাগন, সিংহ, বাঘ, লাত-মানাত-ওজ্জা এভাবেই ক্ষমতা, বীরত্ব বা ঐশ্বর্যের প্রতীকে পরিণত হয়। এই চিন্তার বিপরীত যারা ছিল তাদের সমাজ থেকে বের করে দেওয়া হয়। তারা যাযাবর হিসেবে খোলা মরুভ’মি বা পাহাড়ী এলাকা বা বিস্তীর্ণ প্রান্তরে ছড়িয়ে পড়ে নিজেদের পরিবার পরিজন নিয়ে। একুশ শতকের মুসলমানরা এখন কোথায় যাবে? কোন খর্জ্জুর বৃক্ষ, কোন মরুভ’মি হবে তার বিচরণ ভ’মি?
পুনশ্চঃ আরবের আইয়্যামে জাহেলিয়াতের সমাজকে যিনি মুসলিম সমাজে বদলে দিয়েছিলেন কেবলমাত্র তিনিই পারেন। তিনি দয়াল নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.)কে পাঠিয়ে সেখানকার নিপতিত মানবতাকে রক্ষা করেছিলেন- পরিবার, সমাজ ও দায়িত্বশীলতার মোড়কে বিশ্বকে উপহার দিয়েছিলেন মানবতার মুক্তি সনদ ইসলাম। ইসলামের অনুসারীদের বিশ্বের সামনে প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন মুসলমান হিসেবে একক কৃতিত্বে। একুশ শতকে সেই মুসলিম সমাজকে তিনি কাকে দিয়ে, কিভাবে উদ্ধার করবেন-না অপরাধের কারণে ধ্বংস করে দেবেন- তা তিনিই ভালো জানেন। আমাদেরকে শুধু কায়োমনো বাক্যে নিজ কৃত কর্মের জন্য এবং সকলের সামষ্টিক অপরাধের জন্য সেই প্রিয় নবীর দোহাই দিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে যে নবীকে দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীর সামনে মুসলমানদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। হয়তো নিজ বন্ধুর উম্মতদের সম্মিলিত কান্না করুণাময় আল্লাহর অপার দয়ায় সাগরে ঢেউ তুলতে পারে। হয়তো তাতে দুর্গত, দুর্দশাগ্রস্থ মুসলমান ও মুসলিম সমাজ এই পতিত অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেলেও পেতে পারে। একমাত্র সেই মহান প্রভূর কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করতে পারলেই হয়তো মুক্তির ঠিকানা খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।
#
২|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ ভোর ৫:০১
মুহাম্মদ যিয়ান ইলাহী বলেছেন: আমি কি আপনার লেখাটা ইংরেজি ট্রান্সলেশন করে শেয়ার করতে পারি? আপনার নাম মূল পোস্টে থাকবে ইনশাআল্লাহ।
৩|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ ভোর ৬:২৯
দৃঢ়তা০০৭ বলেছেন: অসম্ভব সুন্দর লিখেছেন ।
এই কথাগুলু আমরা বুঝতে ,শুনতে ও চাইনা এখন।
আমরা সন্তান জন্ম দিচ্ছি,বড় করছি কি কারন এ তা আমরা কতটা উপলব্ধি করছি? তাদের জন্ন লাখ লাখ টাকা খরচ করছি,নানা রকম প্রতিযগিতায় উদের নিয়ে দউরের উপর থাকছি কিন্ত কয়বার বলছি বাবু তুম্রা কেত নামায তা পরে নাও? কত্ত বিদেশ নিয়ে যাছছি ঘরাতে,কিন্ত হাজ্জ করতে কি নিয়ে যাচ্ছি? ডি যে পার্টি করতে টাকা দিছছি কিন্ত সাদকা দেবার শিক্খা কি দিছছি ?
মা হয়ে মেয়ে কে সানি লেওন এর পোশাক পরানুর যন্ন ... কিনর যন্না নামায কাজা করে মার্কেট এ ঘুরে বেরাচ্ছি...।
দোষ ত আমাদের মায়েদের...
৪|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ সকাল ১১:০৩
চরিত্রহীন মোড়ল বলেছেন: corom hoiche mollader ke bolon beshi kore dawat khete???? taholle somaje r ei sob onny niye beshi kotah bolete parbe...ekhon mimbare o kotha bolte dicche ..keno keno..
৫|
১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ রাত ৩:৩১
আহমদ বলেছেন: আপানারা যারা ধৈর্য্য ধরে দীর্ঘ পোষ্টটি পড়েছেন, তাদের সবাইকে আমার ধনবাদ। কৃতজ্ঞতা তাদের প্রতি যারা মন্তব্য করেছেন এবং ফেসবুক বা টুইটারে টুইট করেছেন। যিয়ান পোষ্টটি কষ্ট স্বীকার করে ইংরেজীতে ট্র্যানসলেট করার আগ্রহ দেখিয়ে আমাকে অভিভূত করেছেন। যে কোন লেখা বা মতামত নিজেদের পছন্দ হলে তা শেয়ার করা যেতেই পারে। আপনার ইচ্ছার প্রকাশকে স্বশ্রদ্ধ অভিভাদন।
পাঠক১৯৭১ বলেছেন, ৫০০ খৃস্টাব্দে ইসলাম ছিল না, এখন ইসলাম আছে; একদিন আসবে ইসলাম থাকবে না। সেক্ষেত্রে থাকবে আইয়্যামে জাহেলিয়া বা আসবে এক অন্ধকারময় যুগ। যেখানে সবই থাকবে থাকবে না ইসলাম। কথাটি অলঙ্কারিক ভাবে যথার্থ। আক্ষরিক ভাবে ভয়াবহ ভুল। ইসলাম আছে ইসলাম থাকবে কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। একজন মুসলমান হিসেবে এটাই আমার বিশ্বাস। তাছাড়া মুসলমান হিসেবে এটাও বিশ্বাস করি ৫০০ খ্রীষ্টাব্দে ইসলাম ছিল না বলে যে তথ্যটি আপনি উল্লেখ করেছেন, অলঙ্কারিক ভাবে তা যথার্থ। আক্ষরিক অর্থে নয়। কারণ ইসলাম পূর্ব ধর্মের নাম খ্রীস্ট ধর্ম এটি প্রাচীন গ্রিক ধর্মবিশ্বাস হিসেবেও পরিচিত। যার মূল কথা হচ্ছে একেশ্বরবাদ। খ্রিস্টানরা মনে করেন, যীশুই মসীহ । তাই তারা তাঁকে যীশু খ্রীস্ট বলে ডাকেন। খ্রিস্ট ধর্মের বর্তমান শিক্ষা ধারা নতুন টেস্টামেন্ট বা নতুন বাইবেলের আলোকে বিশ্বময় প্রচারিত। তবে এর একটি পুরাতন ধারা আছে, ওল্ড টেস্টামেন্ট হিসাবে যা বহুল প্রচলিত। ইতিহাস বলে, খ্রীস্টীয় প্রথম শতাব্দীতে একটি ইহুদি ফেরকা হিসেবেই এই ধর্মের আবির্ভাব ঘটে। আর ফেরকা বলতে একই ধর্ম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত উপসম্প্রদায়কে বোঝায়। যেমন ইসলাম ধর্মে রয়েছে শিয়া ও সুন্নি ফেরকা বা সম্প্রদায়। অর্থাৎ একটি ধর্মের ফেরকা নতুন কোনো ধর্ম নয়। সাধারণত, মূল ধর্মবিশ্বাস থেকে নিজস্ব বিশ্বাস ও প্রথা দ্বারা তারা তাতে বিযুক্ত হয়, বা নিজেদের ফেরকাটি গ্রহণ করে। এতে বিশ্বাসের মৌলিক কিছু ধারণায় পার্থক্য বিরাজ করে।
ওল্ড টেস্টামেন্ট বা পুরাতন বাইবেলকে হিব্রু বাইবেলও বলা হয়ে থাকে। এটা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ধর্মীয় পুস্তকাবলীর কমন পাঠকে ধারণ করে। খ্রিস্টানদের পুরাতন বাইবেল বা ইহুদিদের তানাখ (যা প্রকৃতপক্ষে একই) বোঝাতে গিয়ে নিউ ওল্ড পার্থক্য করা হয়েছে। আসলে ইহুদিদের তানাখ গ্রন্থ সমষ্টিকে খীস্টানরা হিব্রু বাইবেল বলে থাকে। কারণ ইহুদি ধর্মের অনেক ধর্মীয় পুস্তক ও ইতিহাসকে খ্রীস্ট ধর্মে গ্রহণ করা হয়েছে। ওল্ড টেস্টামেন্ট বা পুরাতন বাইবেল বা হিব্রু বাইবেল গ্রন্থটির তিনটি অংশের আদ্যক্ষরের সমন্বয়ে তানাখ শব্দটি গঠিত: তোরাহ, অর্থ “শিক্ষা”। নেভিম, অর্থ “নবিগণ”। কেতুভিম, অর্থ “লিখন”।
ইহুদি ধর্ম অত্যন্ত প্রাচীন, খ্রীস্টপূর্ব ৪ হাজার বছরের পুরাতন একেশ্বরবাদী ধর্ম। ইহুদি ধর্মতাত্ত্বিকগণ মনে করেন, প্রাচীন কালে এক আল্লাহর ধর্ম প্রচারকারী ইব্রাহীম (আঃ) থেকে শুরু করে পূর্বতন সকল বাণীবাহককে যেহেতু ইহুদি, খ্রিস্টন ও মুসলমনরা বিশ্বাস করেন। এজন্য ইহুদি, খ্রীস্টান ও ইসলাম সবই আব্রাহামীয় বা ইব্রাহীম (আঃ)-এর ধর্ম। বর্তমান ইউরোপীয়রাও সেভাবেই বিষয়টি উল্লেখ করে থাকেন। তাহলে ৫০০ খ্রীস্টাব্দে ইসলাম ছিলনা তথ্যটি আক্ষরিকভাবে সঠিক নয়।
ইহুদি ধর্মের ধারাবাহিকতায় যেহেতু খ্রিস্ট ধর্ম, ইসলাম ধর্ম ইত্যাদি ধর্ম গড়ে উঠেছে, সেহেতু এসবই ইব্রাহিমীয় ধর্ম। ইহুদি ধর্মবিশ্বাসমতে, ঈশ্বর এক, আর তাঁকে জেহোবা নামে তারা স্মরণ করেন। আর মোসেজ বা মোজেস হলেন ঈশ্বরের একজন বাণীবাহক। ইসলাম ধর্মে তাঁকে উল্লেখ করা হয়েছে নবী মূসা (আঃ) হিসেবে। আর তবে ইহুদিদের সাথে মুসলমানদের পার্থক্য হলো, তারা মনে করেন, মোজেস বা মোসেযই সর্বশেষ বাণীবাহক। তারা ঈসা (আঃ) বা যিশুকে বা মুহাম্মদ (সাঃ) কে আল্লাহর বাণীবাহক হিসেবে স্বীকার করেন না। একইভাবে খ্রিস্টান ইহুদিসহ পূর্বতন সবগুলো ধর্মগ্রন্থ (ওল্ড টেস্টামেন্ট) নিজেদের ধর্মগ্রন্থ হিসেবে মান্য করে থাকেন। কিন্তু মুহাম্মদ (সাঃ) কে আল্লাহর বাণীবাহক হিসেবে স্বীকার করেন না। মুসলমানরা উভয়কে আল্লাহর নবী হিসেবে মান্য করে থাকেন। একইভাবে পবিত্র কোরআনে এক আল্লাহতে বিশ্বাসী সম্প্রদায়কে আহলে কিতাব হিসাবে উল্লেখ করে ইসলাম ধর্মের পূর্ণতাকে বাস্তবভিত্তিক করা হয়েছে। পুনশ্চঃ গ্রীক পুরান মতে, নাজারাথের যীশু (ইসলাম ধর্মে যাকে ঈসা (আঃ) নামে আল্লাহর নবী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে) খ্রীস্টীয় প্রচলিত বিশ্বাস মতে তিনি ক্রশবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। ইসলাম ধর্ম মতে, তিনি নিহত বা আহত কিছুই হননি। আল্লাহর অপার অনুগ্রহে তিনি এখনো চতুর্থ আসমানে অবস্থান করছেন এবং ইসলামের ঘোরতর দূর্দিনে তিনি আবার পৃথিবীতে আবির্ভূত হবেন। বায়তুল মুকাদ্দাস বা সিরিয়ার পুরতান নবী মসজিদের গম্বুজে তিনি অবতরণ করবেন। এই ঈসা (আঃ) মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সাল্লামের উম্মত হিসেবে ইসলাম ধর্মের নব জাগরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করবেন।
৬|
১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৩১
পাঠক১৯৭১ বলেছেন: আজ থেকে ২০০০ বছর আগে জীবন ছিল অনেক কস্টকর: ধর্ম বোধ হয় তখন খুবই দরকারী ছিল।
৭|
১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৪৪
বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: কেবলমাত্র তিনিই পারেন। তিনি দয়াল নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.)কে পাঠিয়ে সেখানকার নিপতিত মানবতাকে রক্ষা করেছিলেন- পরিবার, সমাজ ও দায়িত্বশীলতার মোড়কে বিশ্বকে উপহার দিয়েছিলেন মানবতার মুক্তি সনদ ইসলাম। ইসলামের অনুসারীদের বিশ্বের সামনে প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন মুসলমান হিসেবে একক কৃতিত্বে। একুশ শতকে সেই মুসলিম সমাজকে তিনি কাকে দিয়ে, কিভাবে উদ্ধার করবেন-না অপরাধের কারণে ধ্বংস করে দেবেন- তা তিনিই ভালো জানেন। আমাদেরকে শুধু কায়োমনো বাক্যে নিজ কৃত কর্মের জন্য এবং সকলের সামষ্টিক অপরাধের জন্য সেই প্রিয় নবীর দোহাই দিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে যে নবীকে দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীর সামনে মুসলমানদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। হয়তো নিজ বন্ধুর উম্মতদের সম্মিলিত কান্না করুণাময় আল্লাহর অপার দয়ায় সাগরে ঢেউ তুলতে পারে। হয়তো তাতে দুর্গত, দুর্দশাগ্রস্থ মুসলমান ও মুসলিম সমাজ এই পতিত অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেলেও পেতে পারে। একমাত্র সেই মহান প্রভূর কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করতে পারলেই হয়তো মুক্তির ঠিকানা খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।
++++
৮|
১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ রাত ৮:০৮
সরসী রায় বলেছেন: ডিজে মানেতো ডিস্ক-জকি। ধর্মীয় জলসাতেও ডিস্ক-জকি থাকতে পারে। আমার মনে হয় ডিজে পার্টি কথাটা ভুল।
©somewhere in net ltd.
১|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ রাত ৩:১৫
পাঠক১৯৭১ বলেছেন: ৫০০ খৃস্টাব্দে ইসলাম ছিল না, এখন ইসলাম আছে; একদিন আসবে ইসলাম থাকবে না।