নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

Mohammad Abu Bakar Siddique

মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক

আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি

মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক › বিস্তারিত পোস্টঃ

ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্র আন্দোলন:

১৯ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ৭:০৩



বাংলাদেশের শিাঙ্গনগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে ছাত্ররাজনীতি। এই ছাত্ররাজনীতির জন্য স্বাধীন বাংলাদেশের শিাঙ্গনগুলোর কোনো উল্লেখযোগ্য অর্জন নেই। বিশেষ করে, উচ্চশিাকেন্দ্রগুলোকে হত্যা, কলহ, বিবাদ, সংঘর্ষের লীলেোত্র পরিণত করেছে এই সর্বনাশা ছাত্ররাজনীতি। ছাত্ররাজনীতির কারণেই এ দেশের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ই মৌলবাদের আস্তাকূঁড়ে পরিণত হয়েছে,মুক্তিযুদ্ধোত্তর মোট মানবিক পুঁজি অর্জিত হয়েছে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের তুলনায় অনেক কম, অসংখ্য নির্বিচার হত্যাকান্ড ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এই নাছোড় মতাচর্চার প্রয়োজনে। বিশেষ করে, ১৯৭৫ সালের রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবনে সংঘটিত প্রতিবিপ্লবের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়াশীলতা আসন গেড়ে বসলে বাংলাদেশ গণতন্ত্র, মানবিকতা ও বিকাশশীলতা নির্বাসিত হয়, তখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সংক্রমিত হয় নানামাত্রিক সন্ত্রাস। জ্ঞানচর্চার চেয়ে ত্রাসসৃষ্ঠিকে মহিমান্বিত করার সংস্কৃতি পৃষ্ঠপোষকতা পায় ব্যপকভাবে। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতির নামে যা হয়, তা কেবল পরিবারতন্ত্র, দখল, দুর্নীতি বৈ অন্য কিছু নয়। যাদের কেবল আইন প্রণয়নের এখতিয়ার রয়েছে, তারা লিপ্ত থাকে মতাচর্চায়।কথা ছিলো, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হবে বাংলাদেশ, কোনো ব্যক্তির নয়, মানুষ অধীন থাকবে গণতান্ত্রিকভাবে প্রণীত আইনের ও সংবিধানের, সব মানুষের থাকবে সমান অধিকার, কোনোটাই হয়নি, গণতন্ত্রই যেখানে নির্বাসিত হয়েছিলো, সেখানে আর কীই বা প্রত্যাশা করবার সুযোগ থাকে। সে যাই হোক, ছাত্ররাজনীতি বলতে শিাপ্রতিষ্ঠানে যা চলে তা খতিয়ে দেখলে যা পাওয়া যায় তা হলো, দলীয় লেজুড়বৃত্তিক কিছু সংগঠন অস্ত্রসহযোগে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্ততার নামে নিয়ন্ত্রণ করে ছাত্রাবাস, ছাত্রাবাসে আবাসনের অপ্রতুলতাকে পুঁজি করে বাধ্য করা হয় দলীয় মিছিলে। কারও কোনো স্বকীয় মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধার বালাই নেই, শিার্থীদের বোধ বিবেচনাকে দলিত করে নিয়ে যাওয়া হয় দলীয় মিছিলে, এই সরকারের আমলে তা সেই প্রবণতা কিছুটা কম দেখা গেলেও আগে এই প্রবণতা আরো ভয়াবহ রূপ নিয়েছিলো। এমনও শুনেছি, অস্ত্র হাতে নিরীহ নবাগত ছাত্রকে রাতের পর রাত পাহারায় বসিয়ে রাখা হতো যাতে অন্যরা হল দখলে নিতে না পারে, বিশেষ করে রাজশাহী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে গত একদশকের যে খবরাখবর শুনি তাতে করে বিশ্ববিদ্যালয় ধারণা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে বৈকি। এই সব বিশ্ববিদ্যালয়ে মৌলবাদী ছাত্রসংগঠনগুলোর দৌরাÍে সাধারণ ছাত্ররা সর্বদাই সিটিয়ে থাকে, আতঙ্কিত থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে প্রাণপ্রাচুর্য্য, স্বাভাবিক উচ্ছ্বলতাকে দমিয়ে রাখতে বছরের পর বছর শিাঙ্গনগুলোতে সক্রিয় থেকেছে ছাত্ররাজনীতি। এই যদি ছাত্ররাজনীতি হয়, তবে কেন এত মহিমাকীর্তন ছাত্ররাজনীতির, কেনই ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে তাদের অবদানের কথা এত গুরুত্ব দিয়ে স্মরণ করা হয়। এখানেই খটকাটা। আসলে যা ছাত্রআন্দোলনের গৌরবময় অর্জন তাকে ছাত্ররাজনীতি দখল করে নিয়েছে, নিয়ে গৌরবগাঁথা হিসেবে প্রচার করে চলেছে। বায়ান্ন, উনসত্তুর, একাত্তর, নব্বুই প্রভৃতি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক অর্জন মূলত ছাত্র আন্দোলনের অবদান, ছাত্রদের ত্যাগের মাধ্যমে এইসব অর্জন বাংলার ইতিহাসের, সেই ত্যাগের মহিমাকে ছাত্ররাজনীতির মহিমা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রচার করে আসা হচ্ছে। বাস্তব সত্য হচ্ছে, ছাত্র আন্দোলনের পথে পুরোটা সময় ধরেই প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে আসছে ছাত্ররাজনীতি।ছাত্ররা যে কোনো জনসমাজের সবচাইতে সংবেদী ও বিশুদ্ধ সম্প্রদায়, ছাত্রদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপরই একটি সমাজের বিকাশ নির্ভর করে। কেবল মতাচর্চায় লিপ্ত যে কারো কাছে মতাকাঠামোতে অবস্থানই সবচে বড় বিবেচ্য, মতারোহনই তার প্রধান অভিষ্ট ল্য। কিন্তু সৃষ্টিশীল যে কারো কাছে মতা কোনো ধরনের মোহময়তা তৈরি করে না, বরং একজন সৃষ্টিশীল মানুষের কাছে মতা সবসময়ই সমস্যা। সৃষ্টিশীলতার স্বাদ আর মতার ভোগÑদুটি দুই জিনিষ। পৃথিবীতে জ্ঞানচর্চার প্রধান উদ্দেশ্যই ছিলো মানুষের সৃষ্টিশীলতার বিকাশ ঘটানো এবং সেই বিকাশ মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো। অথচ আর সবকিছুর মতোই যেন আমাদের সমাজে শিার উদ্দেশ্যও উল্টে ফেলা হয়েছে। উল্টে ফেলার কুশীলব ও ফলভোগীদের চিহ্নিত করার আলোচনায় ঢুকলে পঙ্কিলতার নবতর বিস্তার শুরু হবে। সেই গতানুগতিক কাদা ছোড়াছুড়িতে নাইবা লিপ্ত হলাম। শিার উদ্দেশ্য উল্টে গিয়ে এখন শিা হলো মতা, ভোগ ও লিপ্সা চরিতার্থতার উপায়ে পরিণত হয়েছে। শিার্থীরা শিাঙ্গনকে ভাবছে মতাচারের পাদভূমি, মতার দৌড়ে ছাত্ররাই সহপাঠির বুকে বসাচ্ছে ছুরি, মতার দৌরাত্মে সৃষ্টিশীলতা নির্বাসিত হয়েছে তার একমাত্র স্বাধীন ভূখন্ড থেকে। শিার্থীরা এখন কোনো একক গোষ্ঠী নয়। দলাদলিতে, সংঘাতে, সহিংসতায়, হানাহানিতে তারাও বিভক্ত। মানবিকতার উঠোন বিপন্ন কায়েমি স্বার্থ সংঘাতের দ্বন্দ্বে। এগুলো কোনো অপকল্পিত চিত্র নয়, সকলেই জানেন, শিাঙ্গনের সত্যিকারের চিত্র তুলে ধরতে গেলে যুগপৎ কান্ত ও আতঙ্কিত হয়ে উঠতে হয়। অথচ শিার্থীদের বা ছাত্রদের বোধের বৈচিত্র্য ও সমৃদ্ধি, জ্ঞানের শক্তি, ও সৃষ্ঠিশীলতা দিয়ে মানবকল্যাণের অভিন্ন পথ ধরে হেঁটে যাওয়ার কথা ছিলো। একটি বিষয় বলে রাখা জরুরি যে, মানুষের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকারের বিরুদ্ধে একটি শব্দ উচ্চারণও অসভ্যতা, কিন্তু মানুষের অধিকার হরণ হলে কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিশ্রুত ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ফেলার কোনো প্রক্রিয়াও রাজনীতি বলে বিবেচিত হতে পারে না।

ছাত্র আন্দোলন মানেই ছাত্রদের দ্বারা ভাংচুর বা নৈরাজ্য নয়, ছাত্র আন্দোলন মানে সমাজ বিকাশের লে কোনো পুরোনো স্থবিরতাকে বদলে ফেলার উদ্যোগ ছাত্রদের। ছাত্ররা ইতিহাসে বহুবার সৃষ্টিশীল মেধা, নির্ভীক ও অকাতর আত্মত্যাগের মাধ্যমে সমাজের অচলায়তন ভেঙ্গে ফেলেছে। সেটি ছাত্র আন্দোলন ছিলো। কোনো বিচ্ছিরি ও আধিপত্যকামী মতাচার ছিলো না, না ছিলো লেজুড়বৃত্তি, সংঘবদ্ধ সন্ত্রাস ছিলো না তা। ছাত্র আন্দোলন মানে সমাজের রূপান্তরে ছাত্রদের ভূমিকা, ছাত্র আন্দোলন মানে অতীতমুখিতা নয়, দলের নামে বা আদর্শের নামে কোনো রণশীলতা ও অনগ্রসরতাকে টিকিয়ে রাখা নয়।

কোনো নতুন কবিতা-স্রোতস্বিনীর উৎসমুখ হতে পারতো ছাত্রআন্দোলন। বিজ্ঞানমনস্কতা দিয়ে কূপমন্ডুকতার সুপ্রাচীন দেয়াল ধসিয়ে দিতে পারতো ছাত্র আন্দোলন। ছাত্র আন্দোলন নতুন নতুন শিল্পবোধের জন্ম দিতে পারতো। ছাত্রআন্দোলন হয়ে উঠতে পারতো ভবিষ্যৎমুখিতার সুতিকাগার, গণতন্ত্র মানবিকতা ও সাম্য প্রতিষ্ঠায় সবচে উদ্বিগ্ন, বিশ্বস্ত, ও তৎপর আত্মনিয়োজন সম্ভবপর ছিলো ছাত্রআন্দোলনের পইে। ছাত্রআন্দোলন হতে পারতো বিবেকী অঙ্গীকারের প্রতি সবচে দায়িত্বশীল সক্রিয়তা। ছাত্র আন্দোলনের জন্য মিছিলই অপরিহার্য নয় কেবল, অপরিহার্য ভবিষ্যৎমুখী মনন, সংস্কৃতি ও মানুষের প্রতি সংবেদী দায়বোধ। ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রআন্দোলনের ল্য যখন এক হয়েছে, কেবল তখন ইতিবাচক কিছু অর্জিত হয়েছে বটে, কিন্তু এতদিনের ছাত্ররাজনীতির একক অর্জন কতটুকু? আমি জ্ঞানের শাখাসমূহের কোনো উলম্বক্রমে বিশ্বাস করি না, তবু একেক সময়ে বাংলাদেশে জ্ঞানের একেক শাখার যশ দেখা গেছে। আমি একটি বিষয় বিস্ময়ের সঙ্গে ল করেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেইসব বিভাগের ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত যারা নিজেরাই মনে করে তাদের বিভাগের পড়ালেখার গুরুত্ব কোনো গুরুত্ব নেই। এই বিষয়ে লেখাপড়া করে সমাজে সম্মানজনক কিছু করা যাবে না। বাংলাদেশে তো জরিপ তেমন বিকশিত হয়নি, জনপ্রিয়ও হয়নি, তবে নিশ্চিত করেই বলা যায় যে এ ধরনের কোনো জরিপ যদি করা হয় তাহলে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িতদের বেশিরভাগই তাদের পড়াশোনা নিয়ে অতৃপ্তি ও আত্মবিশ্বাসহীনতার কথা জানাবেন। ছাত্ররাজনীতির আরেকটি বড় প্রেরণা দলীয়করণের সংস্কৃতি, এই দশকের প্রথমভাগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দলীয়করণ ব্যাধির মতো বিস্তার লাভ করেছিলো, বেকারত্বের শঙ্কায় থাকা ছাত্ররা ছাত্ররাজনীতিকে পরিত্রাণের উপায় মনে করতো তখন। তখনই ন্যূনতম বিবেচনাবোধসম্পন্নদের দেখা যেত, তারা বেকারত্ব, দখলদারিত্বের সমস্যা, আবাসনসঙ্কটের মতো বিষয়গুলোকে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ঐতিহাসিকভাবে দেখার চেষ্টা করতো, ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করতো। দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, এই রকম বিবেচনাবোধসম্পন্নদের সংখ্যা খুব বেশি ছিলো না বা থাকার সুযোগ ছিলো না।উপরন্তু ভিন্ন মতাবলম্বীদের মাথা ফাঁটিয়ে দেওয়ার ছাত্রের অভাব তখন দেখা যায়নি। তবে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিবাচক কিছু পরিবর্তন সূচিত হওয়ায় সেসব কমেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেসব ছাত্ররা পড়তে আসে, তাদের বুকভরা স্বপ্ন থাকে, ছাত্ররাজনীতি সেসব ছাত্রের জন্য প্রথম আঘাত হয়ে দেখা দেয়। তারা যে স্বাধীনতা ও মহত্ত্বের স্বপ্ন দেখে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসে, ছাত্ররাজনীতির অঙ্গীভূত দুরাচার প্রতিক্রিয়াশীলতা ও হানাহানি, এবং সেসবে তাদের বাধ্যতামূলক সম্পৃক্ততা তাদের নিকট প্রথম ধাক্কা হয়ে দেখা দেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলবো না, কারণ এখানে ছাত্ররা ছাত্রআন্দোলনের সুবিশাল গৌরবময় অতীতের উত্তরাধিকারবোধ করে, স্বাধীনতা ও উদারতার আকাশ এখানে অনেকখানি বিস্তৃত। কিন্তু বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ও শিকদের জন্য ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম হয়েছে প্রতিক্রিয়াবাদীরা, ছাত্ররাজনীতির নামে।

ছাত্ররাজনীতি অসামান্য প্রতিষ্ঠান হয়ে পারতো, যদি কোনো না কোনো কারণে ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে নেতা নির্বাচন করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে পারতো রাষ্ট্র। তা তো হয়ই নি, বরং কে বা কারা ছাত্ররাজনীতির যে কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও গণতান্ত্রিক বিকাশের পথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে। ফলে কোনো শিাপ্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়না।

রাষ্ট্রাচারের মধ্যে ছাত্ররাজনীতির জায়গাটা কোথায়, সাংস্কৃতিকভাবে ছাত্ররাজনীতির গুরুত্ব কতটুকু, কিংবা সামাজিক েেত্র ছাত্ররাজনীতির মূল্যায়নের স্বরূপটি কেমন ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর যদি খোঁজা হয়, এবং উত্তরগুলো বিশ্লেষণ করে যদি দেখা যায়, তাহলে আমরা পাই, রাষ্ট্রাচারে ছাত্ররাজনীতির কোনো জায়গা প্রত্যভাবে নেই, তবে পরোভাবে আছে, ছাত্ররাজনীতি থেকে অনেকে সাংসদ হয়েছেন, মন্ত্রী হয়েছেন, তাও ছাত্ররাজনীতি থেকে এমন সাংসদ বা মন্ত্রী হবার সুযোগটি এখন নেই, কারণ ছাত্ররাজনীতির প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা স্থগিত হয়ে আছে, ফলে জনপ্রতিনিধিত্বের দৌড়ে কোনো একজন ছাত্রনেতা যে পরবর্তীতে গিয়ে নিজেকে পরীতি ও বিশ্বস্ত হিসেবে জনগণের সামনে হাজির করবেন, তার উপায় বন্ধ হয়ে গেছে। শিাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচন থাকলে এবং সেই নির্বাচনে নিয়মিত ছাত্ররা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেলে সেটিকে এেেত্র একটি প্রাথমিক পরীা হিসেবে বিবেচনা করা যেত। কিন্তু যে ছাত্ররাজনীতি হচ্ছে তাতে নিয়মিত ছাত্রদেরও অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। একমাত্র বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তার সংগঠনের েেত্র নিয়মিত ছাত্রদের নিয়ে আসার েেত্র ইতিবাচক মানসিকতার পরিচয় দিয়েছিলো, কিন্তু ডানবাম মিলে আর কোনো দলের সে উৎসাহ নেই। সব রাজনৈতিক দলেই গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব রয়েছে, কারো কম কারো বেশি। মুক্তিযুদ্ধ পন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকার সুস্পষ্ট, কিন্তু বাংলাদেশে এমন অনেক রাজনৈতিকদল আছে তারা ঐতিহাসিক কারণেই গণতন্ত্রবিরোধী। সেটি ভিন্ন আলোচনা যদিও, তারপর গণতন্ত্রকে হত্যার মধ্য দিয়ে যেসব দলের জন্ম, তাদের সংগঠনে যে গণতন্ত্রের চর্চা হবে না তা বলাই বাহুল্য। তাই ছাত্ররাজনীতিতে ছাত্ররা নয়, বরং অছাত্ররা থাকবে তার যৌক্তিকতাই সম্ভবত বেশি। সে কারণে এর কোনো প্রাতিষ্ঠানিকতা থাকবে না, প্রতিমুহূর্তে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের অস্তিত্ব জানান দিতে হবে দখলের মাধ্যমে, গায়ের জোরে। গণতন্ত্রের নামে একেকটি অঙ্গসংগঠন থাকবে, কিন্তু গণতান্ত্রিকতা থাকবে না। বাংলাদেশ একটি গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র, সেই রাষ্ট্রের রাষ্ট্রাচারে ছাত্ররাজনীতির এই হলো অবস্থান। ছাত্র রাজনীতি যেহেতু নির্বাচন বা যে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে আছে, বলাই যায় এটি রাষ্ট্রের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বিভাগ নয়, তবে এটি কি কোনো স্বেচ্ছানিয়োজিত সেবামূলক প্রতিষ্ঠান বা এটি কি এমন কোনো সংঘ যা গণতন্ত্র মানবিকতা ও রাষ্ট্রের বিপন্নতারোধে বিবেকের তাগিদ থেকে স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রহরীর দায়িত্ব পালন করে। না তা করে না ছাত্ররাজনীতি, বরং ছাত্ররাজনীতি ব্যতিব্যস্তই রাখে রাষ্ট্রকে, গণতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ছাত্ররাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ। যেই বিবেকী দায়িত্বের কথা বলা হলো সে দায়িত্বপালন করে ছাত্রআন্দোলন কর্মীরা। সারা পৃথিবীতেই, যেখানে সভ্যতা বিকশিত হয়েছে, ছাত্ররা বিবেকের কন্ঠস্বর হয়ে দাঁড়ায়, সমাজবদলের দিকমুখ নির্র্দেশ করে, বাংলাদেশেও ছাত্ররা ইতিহাসের বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে এ দায়িত্বপালন করেছে, তবে অধুনা, বিশেষ করে গত তিনদশক ধরে ছাত্ররাজনীতি সফল হয়েছে ছাত্রআন্দোলনকে দমাতে। জাতিগত আত্মবিনাশিতা সংক্রমিত হয়েছে ছাত্রদের মধ্যেও। অশিতিদের তল্পিবাহক করা গেছে ছাত্রদের, গুন্ডাবাহিনীতে অন্তর্ভূক্ত করা গেছে ছাত্রদের, গণতন্ত্রের বিপে সঙ্গীন হাতে দাঁড় করিয়ে দেওয়া গেছে ছাত্রদের, মৌলবাদ ছড়িয়ে দেওয়া গেছে ছাত্রদের মধ্যে, জ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কহীন ব্যক্তি, আদর্শ ও গোষ্ঠীর অনুসারী করা গেছে ছাত্রদের। এই অবয় ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে ছাত্ররাজনীতির নামে, ছাত্র আন্দোলন দমেছে, সমাজপ্রগতি থমকে গেছে, ছাত্ররাজনীতিও ব্যাপক জমেছে। পত্রিকায় খবর আসে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িতরা জোরপূর্বক চাঁদা নেয়, কেউ নেয় রশিদ দিয়ে আর কেউ নেয় রশিদ ছাড়া। তবে প্রগতিশীল ছাত্রআন্দোলন কর্মীরা কখনোই জোরপূর্বক কারো কাছ থেকে চাঁদা নেয়নি। মানুষ তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, মামলা মোকদ্দমা হয়নি এ নিয়ে, খুনোখুনি হয়নি। কিন্তু ছাত্ররাজনীতিতে অবস্থান ও আধিপত্যের জোরে যে চাঁদাবাজি তার এই রক্তারক্তি হানাহানি সবসময়ই ঘটে চলেছে। এ কারণে ছাত্ররাজনীতির ভাবমূর্তি সমাজের কাছে খুব দারুণ কিছু নয়, মানুষ তিতিবিরক্ত ছাত্ররাজনীতির ওপর।এমনটি একসময় ছিলো না, এমনটি হওয়ারও তো কথা ছিলো না।এমন ছিলো না কারণ ছাত্ররাজনীতি ছাত্রআন্দোলনের নিমিত্তে নির্মিত হয়েছিলো একসময়, আর এই তিন দশক ছাত্ররাজনীতি বহুলাংশে ছাত্রআন্দোলন দমানোর নিমিত্তে পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে। দুধরনের দুর্বৃত্তের জন্ম দিয়েছে ছাত্ররাজনীতি, একধরনের সন্ত্রাসী দুর্বত্ত আরেকদল আদর্শিক দুর্বৃত্ত। সন্ত্রাসী দুর্বৃত্ত অনেক েেত্র গণতন্ত্রের জন্য তিকর নয়, কিন্তু আদর্শিক দুর্বৃত্তরা ফ্যাশিবাদের স্বার্থে ও মতাদর্শে তৈরি হয়েছে। এই দুর্বৃত্তরা মহান শিকদের হত্যাকান্ডে জড়িত, সহপাঠিদের আঘাত করতে এরা দ্বিধা করে না, শিাগণে নাশকতা ও ভীতির পরিবেশ তৈরিতে নিয়োজিত তারা। বর্তমান সরকারের আগে আশ্চর্যজনক ভাবে এ ধরনের দুর্বৃত্তরা পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে। ছাত্ররাজনীতির কোনো আনুষ্ঠানিকতা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত না হলেও শিা প্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতির প্রতিষ্ঠানের ওপরে ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। সে প্রভাব ছাত্রদের অধিকার আদায়ের নয়, সে প্রভাব নিপীড়নের, সন্ত্রাসের, হানাহানির, শিকদের ক ভাংচুরের। এই সব প্রভাব ফলানোর অব্যবহিত পরে সবসময় এর ভৌত য়তি বিবেচনা করার প্রবণতা দেখা যায়, কিন্তু সংশ্লিষ্ট শিাপ্রতিষ্ঠানের মানবিক ও মানসিক য়তির হিসেব করার প্রয়াস কদাচিতই ল করা গেছে। যেমন ছাত্ররাজনীতি এমন যেহেতু এখন পুরোপুরি লেজুড়বৃত্তিক, তাই ছাত্ররাজনীতি ছাত্রদের সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো ঘটনাকে বিবেচনা করার সুযোগ ও সমতাকে সীমিত করে দেয়। কখনো কখনো তা কেবল নির্দিষ্ট শিাপ্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট দখলদার ছাত্রসংগঠনের নিয়মনীতি, মূল্যবোধ ও চর্চা আরোপের মাধ্যমে। এ কারণেই রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সংস্কৃতি চর্চার খবর পাওয়া যায়না, এমনকি তেমন জ্ঞানগত বিশেষ অর্জন ও উদ্ভাবনের খবরও পাওয়া যায়না।কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্বনিয়মকানুন থাকার কথা, সেগুলোর মধ্য দিয়ে শিার্থীদের বিকাশ ও অধিকার নিশ্চিত করার জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করার ল্েযই সেই নিয়মকানুনগুলো প্রণীত হবার কথা। কিন্তু ছাত্ররাজনীতির জন্য সেগুলো তো ব্যহত হয়ই, সেই সঙ্গে সেগুলো যুগোপযোগী করার উদ্যোগগুলোও বাধাগ্রস্ত করে ছাত্ররাজনীতি। ত্রেবিশেষে ছাত্ররাজনীতি প্রতিষ্ঠানের আইনকানুনের সমান্তরালে নিজেদের আইনকানুন চালু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে। ফলে যত ভালো রীতিই চালু করুক না কেন ছাত্ররাজনীতি, তা রাষ্ট্র, বিশ্ববিদ্যালয়, ও প্রতিষ্ঠানের ধারণাকে ব্যপক মাত্রায় তিগ্রস্থ করে।ছাত্ররাজনীতির বলতে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা বোঝালে তা সমর্থনযোগ্য, কিন্তু সংবদ্ধ দুর্বৃত্ততা বা মতাচারের প্রয়াস বোঝালে তা সমর্থন যোগ্য না কারণ তা গণতন্ত্র ও আইন পরিপন্থি। আর এই কারণেই ছাত্র আন্দোলন প্রয়োজন, ছাত্র আন্দোলন ছাত্রদের সম্মিলিত গণতান্ত্রিক প্রয়াস।

ছাত্ররাজনীতি শিাপ্রতিষ্ঠানে যুগ যুগ ধরে গড়ে ওঠা সংস্কৃতিগত অগ্রগতিকে ধ্বংস করেছে। ছাত্ররাজনীতি ছাত্রদের পাঠবিমুখতাকে বৈধতা দিয়েছে, ছাত্ররাজনীতি ও বইয়ের সঙ্গে সম্পর্কহীনতাকে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ফেলা হয়েছে, বই থেকে দূরে থাকা অপরিহার্য ছাত্ররাজনীতির সংস্কৃতিতে। ছাত্ররাজনীতির যখন আন্দোলনের সঙ্গে গাঁটছড়া ছিলো, তখন ছাত্রনেতারা বই পড়তেন শোনা যায়, কিন্তু ছাত্রআন্দোলনের সংস্কৃতি থেকে সরে আসার পর থেকে বিদ্বান ছাত্রনেতা খুঁজে পাওয়া যাবে না। ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছাত্ররা শিা প্রতিষ্ঠানের সবকিছুর ওপর তাদের মতা ফলানোর ব্যপারে সবিশেষ মনোযোগী। তাই শিাঙ্গনের শিকরা ছাত্ররাজনীতি নামক মতাচারের শিকার বৈকি, শিকদের পেশাগত দায়িত্ব ও নৈতিকতা এই মতাচারের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। যেসব কারণে শিকদের রুম ভাঙচুর হতে দেখা যায়, সেসব কারণে রাষ্ট্রের উপস্থিতি থাকলে শিকদের রুম ভাঙচুর করার কোনো সুযোগ নেই, ছাত্ররাজনীতির অস্তিত্বশীলতা ও প্রয়োগ বহুলাংশেই নির্ভর করে ত্রাসসৃষ্টির ওপর। সেই ত্রাসটুকু তারা যে কয় উপায়ে করে থাকে তার মধ্যে শিকদের রুমভাঙচুর ও অন্যান্য নানা উপায়ে শিকদের হেনস্থা করার মধ্যে দিয়ে করে থাকে। ছাত্ররাজনীতির নামে মৌলবাদী তৎপরতায় বাংলাদেশের শিকসমাজের একটি বিরাট প্রগতিশীল মহৎ অংশ দীর্ঘদিন ধরেই বাজে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিকের ওপর হামলার ঘটনায় যখন ছাত্ররা আন্দোলন করছে বিচারের দাবিতে, অথবা ছাত্রী হলে পুলিশের অগণতান্ত্রিক নির্যাতনের ঘটনার বিরুদ্ধে যখন বিুব্ধ ছাত্রআন্দোলন চলছে, তখন ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্তদের মধ্যে মতাসীন অংশকে দেখা গেছে পেটোয়াবাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে।

ছাত্ররাজনীতিতে যেহেতু এখন কোনো নির্বাচন হয় না, বা হলেও কদাচিৎ, বা হতে গেলেও নানান হাঙ্গামা, তাই ছাত্ররাজনীতি তার অস্তিত্ব জাহির করতে বা সবসময়ই মারামারি মঞ্চস্থ করে,এই মারামারিই জন্ম দেয় পুরাণ দুর্বৃত্তদের নামজপ ছড়িয়ে যায় কোমল শিাঙ্গনে। এভাবেই ছাত্ররাজনীতির চরিত্ররা তাদের আসন গেঁড়ে বসে শ্রুতিতে, স্মৃতিতে। ছাত্ররাজনীতির এই চেহারাটা দেখা যাবে বাংলাদেশে পঁচাত্তর পরবর্তী সময় থেকে, ভয়ানকভাবে। পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের প্রধান প্রধান শিাঙ্গনগুলোতে এত ত্রাসী চরিত্র গজিয়েছে যে তা রীতিমত বিস্ময়কর। অমহত্ত্বের, হাতাহাতির, গোলাগুলির এত পুরাণ এই সময়টার ছাত্ররাজনীতি জন্ম দিয়েছে যে এই সময়টাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রদের কেউ চেনে না, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিােেত্র কোনো বিশেষ অর্জন অগ্রগতির কথা কেউ জানতে পারেনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিসম্পৃক্তদের সবাই চেনে, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত অগ্রসরতার খবরটি গৌণ হয়ে যায়। ছাত্রদের যেখানে মেধার চর্চা করার কথা, একমাত্র জ্ঞান যেখানে মো হবার কথা, সেগুলো নানাভাবে নিরুৎসাহিত করে সেখানে ছাত্ররাজনীতি কায়েম করে বিকট সব আচারাদি, যেমন বাধ্যতামূলক করমর্দন ও সালাম ঠোকার কানুন, তাও যদি হতো ইচ্ছেমাফিক, শ্রদ্ধার ভিত্তিতে, তা নয়, যারা ছাত্রাবাসের গেট আটকে, সিট থেকে নামিয়ে দেবার হুমকি দিয়ে বা পিটিয়ে দলীয় মিছিলে নিয়ে যাওয়া নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করতো তাদের দিতে হতো সালাম, তাদের মান্য করতে হতো। অপরাধমূলক কর্মকান্ডে ছাত্ররাজনীতির সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ততার কথা আমরা জানি, পত্রপত্রিকায় তো আসছেই। ছাত্ররাজনীতির এই বিপথগামিতা, নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে যাওয়া কেবল ব্যক্তিভেদে হয় বা ব্যক্তিগত দোষের জন্য হয়ে থাকে তা নয়। ইতোপূর্বে দেখা গেছে, ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কারো কারো হাতে রাষ্ট্রের কর্তব্যরত ব্যক্তিদেরও প্রাণহানি ঘটেছে, এরও কারণ ছাত্ররাজনীতির নামে যে চর্চা হয় তা, বা ছাত্ররাজনীতির শিণ প্রকৌশলও এর কারণ। ছাত্ররাজনীতি শুভবোধের শিা দেওয়া তো হয়ই না, বরং নানান ধরনের অপকর্মে পারদর্শীতার ওপরও বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ছাত্ররাজনীতি তো দীর্ঘদিন যাবৎ কেবল মিছিল মিটিংই নয়, এই তো কিছুদিন আগেই ছাত্ররাজনীতির নামে একটি মৌলবাদী সংগঠন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের দরিদ্র পরিবারের সমস্ত আশা ভরসাস্থল একজন মেধাবী ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করলো। সমগ্র দেশবাসী এই হত্যাকারীদের প্রতি ঘৃণা জানিয়েছে। এই কলঙ্ক ছাত্ররাজনীতিরও বটে। এই ছাত্ররাজনীতি টিকিয়ে রাখার জন্য অনেক বড় বড় কথা বলা হয়, অনেক অপরিহার্য অজুহাত হাজির করা হয়, এর অনিবার্যতার কথা বলা হয়, কিন্তু কেবল গোষ্ঠীস্বার্থ টিকিয়ে রাখার প্রকৌশল এ ছাত্ররাজনীতি। ছাত্র আন্দোলনের কোনো গৌরব ছাত্ররাজনীতির নয়। ছাত্ররাজনীতি না থাকলে আর কিছু হোক না হোক, অনেকগুলো প্রাণ অন্তত রা পেত।



ছাত্ররাজনীতির নামে যে মতাচর্চার আÍবিধ্বংসী প্রতিক্রিয়াবাদী সংস্কৃতি বিকশিত হয়েছে শিাঙ্গনগুলোতে, সেটির সবচাইতে ভয়াবহ ও প্রত্য শিকার হয়েছে মেয়েরা। ছাত্ররাজনীতি প্রবলভাবে এখানকার পুরুষতান্ত্রিক রাজনীতির মতাদর্শগুলো বাস্তবায়ন করে। ফলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধপন্থী দলগুলো বাদে অন্য কারো নারী অধিকারের প্রতি কোনো অঙ্গীকার নেই, যা আছে তা মূলত নারীর যে কোনো ধরনের অধিকারের বিরোধিতার নামান্তর। ছাত্ররাজনীতি নামে যে দখলদার অপপ্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢুকে গেছে, তাতে নারী শিার্থীদের অংশগ্রহণ কতটুকু? বরং সেটি নারী শিার্থীদের কন্ঠরোধ করেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী ও পুরুষ শিার্থীদের সুযোগেরেে ত্র এখনো উল্লেখযোগ্য বৈষম্য বিদ্যমান। কয়টি রাজনৈতিক দল এটি নিয়ে কথা বলে? এই ছাত্ররাজনীতির কোনো না প বিদ্যমান পরিস্থিতি টিকিয়ে রাখার পে দাঁড়িয়ে যায়। এবং বিদ্যমান বৈষম্য টিকিয়ে রাখার জন্য এমন সব যুক্তি গাঁয়ের জোরে টিকিয়ে রাখতে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকে, যেসব যুক্তি বহুপূর্বে সভ্যতার নিরিখে হাস্যকর, মুর্খতা হিসেবে বাতিল হয়ে গেছে। কয়েক বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে ছাত্রী নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছিলো, তখনকার সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন নিপীড়নের প্রতিবাদকারীদের উপর নির্মমভাবে ঝাপিয়ে পড়েছিলো। ছাত্ররাজনীতিতে, প্রগতিশীল গণসংগঠনগুলো বাদ দিলে, প্রায় শতভাগ কর্মী বা নেতাই লৈঙ্গিকভাবে পুরুষ, তা কেনো হবে? ইতিহাসে তো ছাত্রীদের ভূমিকা কম নয়, তাহলে ছাত্ররাজনীতিতে নারীরা স্থান পাবে না? কারণ এটা কোনো আধুনিক প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক চর্চা নয় বা শিা প্রতিষ্ঠানের অন্য সব কর্মকান্ডের সঙ্গে এর বৈরিতা আছে। যখন কোনো সামাজিক চর্চায় নারীদের অনুপস্থিতি থাকে, তখন তাতে কোনো না কোনো সীমাবদ্ধতা বা অস্বাভাবিকতার ব্যাপারটি বোঝা যায়, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র আছে, ছাত্রী আছে, কিন্তু সেখানকার রাজনীতিতে ছাত্রীরা নেই,মানে ছাত্ররাজনীতি শিা প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য আর কোনো কিছুর সঙ্গেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরা ছেলেদের সঙ্গে সবকিছুতেই সমানতালে অংশগ্রহণ করে, ত্রেবিশেষে তারা ছেলেদের চাইতে ভালোও করে, কিন্তু ছাত্ররাজনীতিতে তারা তেমন নেই, অথচ ছাত্র আন্দোলনে আবার মেয়েরা থাকে, প্রায় সমান হারে থাকে। ছাত্ররাজনীতির পুরো প্রক্রিয়াটির সঙ্গেই পুরুষতান্ত্রিকতার একটি গভীর যোগাযোগ আছে। মেয়েরা এটি বুঝে গেছে এটি তাদের জন্য নয়।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.