নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বিরিঝিনি

মোঃ আলী হোসেন

I am a secular Muslim. I love peace and coexistence.

মোঃ আলী হোসেন › বিস্তারিত পোস্টঃ

কাদিয়ানীগন মুসলমান নয়

১২ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১১:৪৯



পাশ্চাত্যের ইহুদী খ্রিস্টানদের অনেকেই প্রচার করেন যে, কাদিয়ানী বা আহমদীয়াগণ ইসলাম ধর্মেরই একটি ভিন্ন ফিরকা বা সেক্ট। কিন্তু কোন অবস্থাতেই কাদিয়ানীগণ মুসলমান নয়। কাদিয়ানী বা আহমদীয়া একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্ম। যেমন বাহাই এবং দারুজ ধর্মের প্রচারকগণ ইসলাম ধর্মে জন্ম গ্রহন করেও মুরতাদ হয়ে নিজে মনগড়া ধর্মের জন্ম দিয়েছে। তদ্রুপ মির্জা গোলাম আহমদ (১৮৩৫-১৯০৮) ভারতের পূর্বপাঞ্জাবের কাদিয়ান গ্রামে মুসলিম ফ্যামিলিতে জন্ম গ্রহন করেও তার নিকট অহী নাজিল হওয়া এবং নবুয়তী দাবী করে ইসলামের মৌলিক আকিদা হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।

১৮৮৯ খ্রিঃ মির্জা গোলাম আহমদ দাবী করে যে, সে সকল নবীর সমন্বয়ে গঠিত নবুয়তী সিলসিলার অন্তর্ভূক্ত একজন নবী। তার দাবীমতে হযরত মুসা আঃ, হযরত ইসা আঃ এবং হযরত মোহাম্মদ সাঃ হলেন নতুন শরীয়া প্রবর্তনকারী রাসুল। কিন্তু, জরাসস্ত্র, শ্রীকৃষ্ণ, গৌতম বুদ্ধ, মির্জা গোলাম আহমদও আল্লাহর নবী। নাউজুবিল্লাহ। কোথায় শ্রীকৃষ্ণ এবং গৌতম বুদ্ধ, আর কোথায় মির্জা গোলাম আহমদ! তার নবুয়তীর দাবীনামার সময়কাল বিশ্লেষণ করলে স্পষ্টতঃই প্রতীয়মান হয় যে, বৃটিশ ইন্ডিয়াতেই তার উত্থান এবং বৃটেন হতেই তার বিকাশ। কাদিয়ানী নবুয়তীও বৃটিশ কুটচালের একটি ফল। হযরত মোহাম্মদ সাঃ এর উত্থান এবং ইসলামের ব্যাপক বিস্তার ও কোরান মজিদের সর্বজন গ্রাহ্যতা ইহুদী ও খ্রিস্টানদের গাত্রদাহ ও অন্তর্জ্বালা বর্ধনের কারন হয়েছিল। তারা ইরানের বাহাউল্লাহকে দিয়ে অহী প্রাপ্তির কথা প্রচার করে ‘দি লাইট অব বাহাউল্লাহ’ নামক গ্রন্থের মাধ্যমে মুসলামানদের ভিতরে একটি ফাটল সৃষ্টি করে ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে একজন নতুন নবীর আবির্ভাব ঘটিয়ে ব্যাপক পৃষ্টপোষকতা দিয়েছিল। ইসরাইলের হাইফাতে বাহাই ধর্মের প্রধান কার্যালয় স্থাপন করে তারা তাদেরকে দিয়ে মুসলমানদের ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। অনুরুপভাবে বিন আব্দুল ওহাব নজদী, মির্জা গোলাম আহম্মদ, ইলিয়াছ কান্দেলভী প্রমুখদের দিয়ে মুসলমানদের সর্বনাশ ঘটানোর কুৎসিত প্রচেষ্টা ইহুদী খ্রিস্টানদের কর্তৃক সংঘটিত হয়েছে এবং বর্তমানে অন্যবিধ প্রক্রিয়ায় তা’ চলমান রয়েছে।

বাঙ্গালীদের মধ্যে সর্বপ্রথম ১৯০৫ খ্রিঃ সনে চট্টগ্রামের আহম্মদ কবীর নূর মোহাম্মদ, ১৯০৬ সনে কিশোরগঞ্জের মৌলভী রইসউদ্দিন খাঁ এবং পরবর্তীতে ১৯১৩ সনে বাংলাদেশের ব্রাহ্মনবাড়ীয়ার মাওলানা আব্দুল ওয়াহেদ এর মাধ্যমে কাদিয়ানী তথা আহমদীয়া ধর্মের প্রবর্তন হয়। ১৯১৩ খ্রিঃ সনেই আহমদীয়া ধর্ম বাংলাদেশে আহমদীয়া জামাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে বিধায় ২০১৩ খ্রিঃ সনেই আহমদীয়া/কাদিয়ানীগণ শতবর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিয়েছে। তারা প্রকাশ্যে নিজেদেরকে মুসলমান হিসেবে পরিচয় দিলেও প্রকৃতপক্ষে ইসলামী আকিদার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তারা শুধু ভারতবর্ষেই নয়, সমগ্র পৃথিবীব্যাপী তাদের কর্মকান্ডের বিস্তার ঘটিয়েছে। পৃথিবীর বিখ্যাত সকল শহরেই তাদের মসজিদ এবং জামাত বিদ্যমান। কাদিয়ানীদের অর্থের উৎস কোথায়? মির্জা গোলাম আহমদের বিলাসবহুল জীবন যাপন এবং রাজকীয় চালচলন তার পারিবারিক বিষয় সম্পদের সংগে ছিল সংগতিবিহীন।

আহম্মদীয়াগণ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মতই এদেশে বসবাস করবে; কিন্তু কোন অবস্থাতেই নিজেদেরকে মুসলমান দাবী করতে পারবে না। কারন, মির্জা গোলাম আহাম্মদ সুস্পষ্ট যুক্তিতর্কের মাধ্যমে নিজেকে নবী দাবী করে তার নিকট অহী নাজিল হওয়ার কথা ঘোষণা করার মাধ্যমে মুরতাদ হয়ে গিয়েছে। তার অনুসারীগণও তাকে অহী প্রাপ্ত একজন নবী হিসেবেই জ্ঞান করে থাকে এবং তার নামের পূর্বে ‌‌'মসীহ' শব্দটি ব্যবহার করে থাকে। সমগ্র পৃথিবী ব্যাপী কাদিয়ানী/আহমদীয়াদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হওয়ায় তাদের স্কলারগণ আত্মরক্ষার জন্য কিঞ্চিত সুর পরিবর্তন করে নিজেদেরকে আহমদীয়া মুসলিম দাবী করতে থাকে। বস্ত্ততঃ এটা এক ধরণের মোনাফিকি। কাদিয়ানী/আহমদীয়াগণ কোন অবস্থাতেই মুসলমান নয়। তাদের উপসনালয়কেও মসজিদ আখ্যায়িত করা যাবে না। কোন মুসলমান ধর্মীয় আকিদা হিসেবে কাদিয়ানীদের ন্যূনতম অনুকম্পা প্রদর্শন করলেও ইসলাম হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

কাদিয়ানী বা বাহাই ধর্ম আদৌ কোন ঐশী ধর্ম কিনা, তা’ কাল হাশরের ময়দানে আল্লাহ পাক বিচার করবেন। দেওবন্দী ও ওহাবী ওলামাগণ কর্তৃক কাদিয়ানীদের বাড়ী ঘর ভাঙ্গা, নারী ও শিশুসহ সাধারণ মানুষের মনে আতংক ছড়ানো ইসলাম সমর্থিত নয়। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করাও কোন সাধু উদ্দেশ্য নয়।

মন্তব্য ৭ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৭) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:০০

শের শায়রী বলেছেন: অনেক দিন ধরেই ব্যাপারটা আমার কাছে ঘোলাটে ছিল আপনার পোষ্টে পরিস্কার হল কেন কাদিয়ানিরা অমুসলিম। ধন্যবাদ

২| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:২০

সুপান্থ সুরাহী বলেছেন:

এটা তো প্রায় সারা পৃথিবীতেই স্বীকৃত যে কাদিয়ানিরা কাফের... বাট বৃটেন, স্পেনসহ কয়েকটি দেশ আর আমাদের দেশে ওদের রুটি চনাচুর খাওয়া কিছু মানুষ ওদের কাফের মনে করেনা...........

আর বৃটেন করেনা কারণ ওরাই এই ফেরকাট বানাইছিল... ভারতীয় স্বাধীকার আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে...

৩| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:২১

বয়ানবাজ বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ। শিয়াদের ব্যাপারটা পরিষ্কার করে একদিন লিখে ফেলুন তো।

৪| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:৩২

এস এইচ খান বলেছেন: কথা সত্য তয় বিম্পি মনে হয় আবার আইতাছে!!

৫| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:৩২

শার্লক বলেছেন: এদের মনে কি আল্লাহর ভয় নেই?

৬| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১:৪৩

মোঃ আলী হোসেন বলেছেন: মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর ছবি দেখলেই বুঝবেন যে, সে একটা বাটপার ছিল। বৃটিশদের দালাল হিসেবে ইসলাম ধর্মকে ধ্বংস করার জন্যই তার নবুয়তী্র বুজর্কি জাহির করেছিল। বিদেশে অবস্থানরত অনেক নামকাওয়াস্তে মুসলমান (আসলে নাস্তিক) সৃষ্টি লগ্ন হতেই আহমদীয়া ধর্মে দীক্ষা নিয়ে নিজের ব্যাংক ব্যালান্স স্ফীত করে তামাম মুসলিম উম্মাহর ক্ষতিতে লিপ্ত। তাদের অনেক পাবলিকেশন আছে; আর আছে অনেক উচ্চ শিক্ষিত স্কলার। আসুন আমরা তাদের বিরুদ্ধে শারীরিক শক্তি প্রদর্শনের চেয়ে মেধা এবং যুক্তির লড়াইয়ে জয়ী হ্ই।আল্রাহ আমাদের সহায় হোন।

শার্লক বলেছেন, “এদের কি আল্লাহর ভয় নেই”? ভাই এরাতো আসলে মোনাফিক এবং অধিকাংশই নাস্তিক। আমাদের দেশে অনেকেই না বুঝেও আহমদীয়াদের হাতে বায়াত নিয়ে ধর্মান্তরিত হয়েছে। ধন্যবাদ সবাইকে। আপনারা আমার ক্ষুদ্র লেখাটিকে প্রচার করুন এবং নিজেরা সতর্ক থাকুন।

৭| ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:০৪

আশফাক সুমন বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই!


আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.