নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাধারণ একজন মানুষ। বলার মতো বিশেষ কিছু নেই। মনের ভাবনাগুলো তুলে ধরতে চাই। ভালো লাগে কবিতা, লিখা-লিখি আর ছবি তোলা, এইতো! https://prokashoni.net

ইফতেখার ভূইয়া

গণতন্ত্র মুক্তি পাক, পরিবারতন্ত্র নিপাত যাক

ইফতেখার ভূইয়া › বিস্তারিত পোস্টঃ

কী-বোর্ড কাহিনী: ডেল কেবি২১৬

২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:০০


আমি ১৯৯৬ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কী-বোর্ড ব্যবহার করছি। দেশে থাকতে কী-বোর্ড তেমন প্রয়োজন পড়েনি। মাঝে মধ্যে কেনা হতো। একবার বাংলা লিখার জন্য "বিজয়" সফটওয়্যারের প্রলোভনে, বিজয় এর বাংলা অক্ষর প্রিন্ট করা কী-বোর্ড কিনেছিলাম আই.ডি.বি. ভবনে থাকা আনন্দ কম্পিউটার্স থেকে। কী-বোর্ডের মান ততটা ভালো ছিলো না তবে, লিগ্যাল বিজয় সফটওয়্যার পাওয়াটাই সে সময় মূখ্য উদ্দেশ্য ছিলো।

আমেরিকায় চলে যাওয়ার পর ল্যাপটপ কেনা হলো, এসারের ল্যাপটপ ছিলো। কী-বোর্ডে ততটা মুগ্ধ হতে পারিনি। এইচ.পি. -র ডেস্কটপ কেনার সুবাদে তাদের কী-বোর্ডও ব্যবহার করা হয়েছে, সেটাতেও মন বসলো না। আমেরিকায় প্রচলিত কয়েকটি ব্র্যান্ডের কম্পিউটার ব্যবহার করা পরও কোন সুর্নিদিষ্ট কী-বোর্ডে ঐ অর্থে মন ধরে নি। এরপর ছাত্র অবস্থায় প্রথম যখন এ্যাপলের ম্যাকবুক এয়ার কেনা হলো, তখন মনে হয়েছে কী-বোর্ডের মানের দিক থেকে এ্যাপলের সমকক্ষ আর কেউ নেই। তবে সমস্যা হলো তাদের কী-বোর্ড ব্যবহারের জন্য তাদের ডিভাইস ক্রয় করা ছাড়া কোন উপায় ছিলো না। শুধুমাত্র কী-বোর্ডের জন্য এত দাম দিয়ে এ্যাপল সিস্টেম কেনা অযৌক্তিক মনে হলো। কোন এক শুভক্ষণে নজর পড়লো এ্যাপলের ওয়্যার্ড ইউ.এস.বি. কী-বোর্ডের (মডেল এ১২৪৩) দিকে। খুব সম্ভবত দাম ছিলো ৭৫ ডলারের মতো। ছাত্র অবস্থায় এত দাম দিয়ে কী-বোর্ড কিনতে মন সায় দিচ্ছিলো না তবুও কেনা হলো। বেশ ক'বছর ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা ছিলো অসাধারণ। তবে বেশ ক'বছর পর এ্যাপল তাদের ওয়্যার্ড কী-বোর্ড বানানোই বন্ধ করে দিলো।

ব্লু-টুথ কী-বোর্ড আমার পছন্দ নয়। মহা ঝামেলায় পড়ে গেলাম। তখন ব্যবহার করছি ডেলের উইন্ডোজ কিম্পউটার যার রং ছিলো কালো আর সাথে ছিলো এ্যাপলের সাদা রংয়ের কী-বোর্ড। বিচ্ছিরি একটা দো-টানায় পড়ে গেলাম। তবে রং যতটানা সমস্যা ছিলো, তার চেয়ে বড় সমস্যা হয়ে গেল, এ্যাপলের উই.এস.বি. কী-বোর্ড না পাওয়াটা। একটা সময় মনে হতে লাগলো এভাবে সম্ভব নয়। ডেলের দিকেই নজর ফিরিয়ে নিতে হলো। হঠাৎ কোন একদিন ডেলের সাইটে নতুন পিসির সাথে আসা তাদের কে.বি.২১৬ কী-বোর্ডের দিকে নজর পড়ে গেল। প্রথম দৃষ্টিতেই মনে হলো কী-বোর্ডটা দেখতে বেশ সুন্দর ও সাধারণ। সমস্যা হলো, নতুন সিস্টেম ছাড়া ঐ কী-বোর্ড সে সময়ে খুচরো পাওয়া যেত না। দু'এক বছরের মধ্যেই অবশ্য কী-বোর্ডটি বাজারে আসতে শুরু করলো। সাথে সাথেই অর্ডার করলাম। সময়টা ছিলো ২০১৫/২০১৬ সাল।

আর পেছনে ফিরে তাকানোর প্রয়োজন হয় নি। সেই থেকেই ডেলের এই কী-বোর্ডটাই ব্যবহার করছি। পিসি যে মডেলেরই হোক না কেন কী-বোর্ড আমার এটাই চাই। আমেরিকায় এই কী-বোর্ড পাওয়া যায় অহরহ। ডেল, এ্যামাজন, ইবে সব সাইটেই তাদের এই কী-বোর্ড কিনতে পাওয়া যায়। সমস্যা হয়ে গেল বাংলাদেশে এসে। বছর দু'য়েক আগে ছেলের জন্য যখন প্রথম ডেলের একটা কম্পিউটার বাংলাদেশে নিয়ে আসি, তখন তার কম্পিউটারের সাথেও এই কী-বোর্ড ছিলো। সমস্যা হলো ওটাতো এখন আর আমার ব্যবহার্য জিনিস নয়। গতবারই দেশ থেকে যাওয়ার আগে ঐ কী-বোর্ডটাই "রায়ানস্" থেকে একটা কিনে রেখে গিয়েছিলাম। এবার দেশে এসেও ঐ কী-বোর্ডটাই ব্যবহার করছি গত দেড় বছর ধরে। তবে সম্প্রতি ঐ কী-বোর্ডের বা পাশের "শিফট" বাটনটি কাজ করছে না। কী-বোর্ড খুলে পরিষ্কার করে বেশ ময়লা পরিষ্কার করা হলো। কিছুতেই আর ঐ বাটন কাজ করলো না। বাংলা বা ইংরেজী লিখতে আমি ডান পশে শিফট বাটনের তুলনায় বা পাশেরটাই বেশী ব্যবহার করি। পড়া গেল মহা ঝামেলায়। এক প্যারা বাংলা লিখতে ২০/৩০ মিনিট চলে যাচ্ছে কারণ অনেক বানান ভুল করছি।

অনলাইনে সার্চ করেও বিভিন্ন স্টোরে এই কী-বোর্ডটা পাওয়া যাচ্ছিলোনা। বিভিন্ন দোকানে ফোনে করেও নেতিবাচক উত্তর পেয়ে বেশ আশাহত হয়ে গেলাম। দু'তিন দিন আগেই হঠাৎই চোখে পড়লো সেই "রায়ানস" স্টোরের সাইট। সম্ভবত সপ্তাহ খানেক আগেও তাদের স্টকে এই কী-বোর্ড ছিলোনা। হঠাৎ করেই স্টকে আছে দেখালো। দামটা আগের তুলনায় একটু বেশী, প্রায় ১৪০০ টাকা। এদকি সেদিক না ভেবেই অর্ডার করে দিলাম। আজ সেটা বাসায় দিয়ে গেল। পিসিতে লাগাতেই দেখালাম সবকিছু ঠিকঠাক কাজ করছে। মনটা বেশ হালকা হয়ে গেল। ক'দিন ধরেই কিছু একটা লিখতে চাচ্ছিলাম কিন্তু টপিক পাচ্ছিলাম না। মনে হলো এই কী-বোর্ডের কাহিনী নিয়েও লিখলেতো মন্দ হয় না।

যারা কী-বোর্ড সংক্রান্ত ঝামেলায় আছেন, তাদের জন্য অবশ্যই রিকমেন্ড করবো। আশা করছি কী-বোর্ডটা আপনাদের ভালো লাগবে। ধন্যবাদ।

ছবি কপিরাইট: আর.টিংস

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:০৭

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: অনলাইনে সার্চ করেও বিভিন্ন স্টোরে এই কী-বোর্ডটা পাওয়া যাচ্ছিলোনা।
...........................................................................................................
এরপর হঠাৎ পেয়ে যাবার আনন্দটাই মজার !

২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:২০

ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: জীবিকার তাগিদে আমাকে কী-বোর্ডে প্রতিদিনই প্রচুর সময় দিতে হয়। গত কী-বোর্ডের বাটনগুলো মসৃণ আর চকচকে পিচ্ছিল হয়ে গেছে কয়েক মাস আগে থেকেই। রায়ানসের সাইটও আমি বহুবার ভিজিট করেছি বিগত কয়েক মাসে। হঠাৎ যখন সেদিন দেখলাম সেটা স্টকে দেখাচ্ছে, কিছুটা অবাক হয়েছিলাম। অর্ডার করার পরও মনে হয়েছে ওরা হয়তো ফোন করে বলবে যে কী-বোর্ডটা স্টকে নেই। আমাকে অবাক করে দিয়ে আজ ডেলিভারীম্যান কী-বোর্ড নিয়ে এসে হাজির। বেশ আনন্দই হচ্ছে। ভাবছি, দু'একদিনের মধ্যেই আরেকটা কী-বোর্ড অর্ডার করবো। ধন্যবাদ।

২| ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:১০

সাইফুলসাইফসাই বলেছেন: পড়লাম ভালো লাগলো লেখা

২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:২০

ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: সময় নিয়ে লম্বা লিখা পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.