| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বিদেশ যে কারনে ভাল লাগেঃ
১/ সিস্টেমেটিক নিয়ম কানুন, তেমন বক্রতা নাই। আইন যা আছে, যথাযত প্রয়োগ
২/ উন্নত রাস্তা ঘাট, মাঠ, পার্ক, ট্রাফিক সিস্টেম, Fastest Public Transport, সবকিছুতে Online Database থাকে, যেটা দিয়ে অনেক কাজে সুবিধা হয় সেটা যে ধরনেরই verification হউক না কেন।
৩/ কাজ না থাকলেও বেকার ভাতা, আংশিক ঘর ভাড়া পাওয়া সহ ইত্যাদি
৪/ বাচ্চাদের জন্য ১৬/১৮ বছর পর্যন্ত ভাতা, বাচ্চাদের Childcare facilities
৫/ কারেন্সি ভ্যলু অনেক বেশী (অস্ট্রেলিয়া, ১/৭২, ইউএসএ, ১/৭৫)
৬/ Odd Job করার সুবিধা, payment ভাল
৭/ সোশ্যাল সিকিউরিটি, এখানে পুলিশ মানে ভয়ে সব সোজা
৮/ লিখাপড়া আহামরি না হলেও সিস্টেমেটিক বলে Recognition Value অনেক বেশী
৯/ ১০০ ডলারের পণ্য কিনলেও লোণ সুবিধা
১০/ পকেটে টাকা থাক না থাক ৫০-১০০ হাজারের ক্রেডিট কার্ড সাথে থাকা
১১/ দামি গাড়ী, বাড়ি অল্প Down Payment দিয়ে কিনতে পারা।
১২/ সব সুবিধা হাতের নাগালেই থাকা যতই রিমোটেই থাকা হউক না কেন
১৩/ উন্নত চিকিৎসা সেবা
১৪/ রাস্তা ঘাটে কিছু হোমলেস চোখে পড়লেও, থুথু মেরে কিংবা সাপের ভয় দেখিয়ে ভিক্ষা বা সাহাযজ্জয়াদায় করা এখনও চোখে পড়েনি।
১৫/ বেড়াতে যাবার জন্য সুন্দর সুন্দর জায়গা, ভাল রাস্তা ঘাট, কাস্টমার সার্ভিস সহ আরও অনেক কিছুই ভাল, হয়ত লিখে শেষ করা যাবে না। একেকজন একেক কারনে পছন্দ করে। আমার সাড়ে পাঁচ বছর দেশের বাইরে (আমেরিকা আর অস্ট্রেলিয়া) থেকে আমার এই সুবিধাগুলো চোখে পড়েছে।
বিদেশ যে কারনে ভাল লাগে নাঃ
১/ বিল বিল বিল, মেইল বক্স খুললেই শুধু বিল।
২/ প্রেসার কুকার লাইফ, শুধু সময় চেজ করা। কোন Flexibility নাই। ২-৪-৫ বছর ভাল লাগলেও বেশিদিন ভাল লাগে না, ক্লান্তি আসে। আরাম প্রিয়দের অনেক কষ্ট হয়।
৩/ নিজেই আয়া, নিজেই বুয়া, শেফ, মালি, মেকানিক হতে হয়। ঘাস কাঁটা এখাঙ্কার চরম বিরুক্তির কাজ।
৪/ বাসা ভাড়া নিবার সিস্টেম অনেকটা Complex and buerucratic. Too many formalities have to maintain to get a house. One person needs to show his whole profile, bank statements, work history, tenant history etc.
৫/ একটা বাড়ি কিনলে ২৫-৩০ বছরের Repayment থাকে, ফলে এই Repayment এর জন্য তার একটু বিরতি নেওয়া দুস্কর হয়ে যায়। এই ভাবে সে একদিন পিছনে তাকিয়ে দেখে তার জীবনের শেষ প্রান্তে এসে গেছে।
৬/ ধর্ম কর্ম সহজ। কেউ কিছু বলে না এখানে সেখানে নামায পড়তে দাড়িয়ে গেলে। অনেক ইসলামিক চর্চা হয় কিন্তু অনেক ভাগে বিভক্ত। সমস্যা আপাত মনে হয় না। কিন্তু একটু যদি চিন্তা করি আমার 2nd Generation and 3rd Generation এর কি হবে? খুব কঠিন এদের ইসলামের পথে ধরে রাখা। এটা আমার মত। যে কোন একটা জেনারেশন derailed হলেই আমাকেই এর দায়িত্ব নিতে হবে।
৭/ সবকিছুতে বাড়াবাড়ি রকমের খরচ। কিছু ফিক্স করা থেকে নতুন কিনাই ভাল তে বিশ্বাসী হতে হবে। সব কিছুতে ইনস্যুরেন্স।
৮/ সবাই সিকিউরিটির কথা বললেও লাইফ এখানে অতটা সিকিউরড না। যারা রাত বিরাতে কাজ করেন, তাদের অনেক ঘটনার স্বীকার হতে হয়। মেয়েদের অনেক শ্লীলতাহানি হয় যেগুলো তেমন আমলে নেয় না।
৯/ আর যে যাই বলুক, আমি থাকি আর অন্য কেউ থাকি, বিদেশ লাইফের ৫০ ফোড় আছে। কেউ স্বীকার করে, কেউ করে না। একটা বয়সে নিঃসঙ্গতা জেকে বসতে পারে যখন নিজের অরিজিন দেশে আর কোন কানেক্টিভিটি থাকবে না। অনেক কষ্টের সেই লাইফ।
এখান থেকে অনেকেই চলে যেতে চায় কিন্তু পারে না, ওস্টে পিস্টে বাধা হয়ে যায় সব কিছু। বাড়ির লোণ, গাড়ির লোণ, ক্রেডিট কার্ড লোণ আরও কত কি? তারপরেও অনেকে হাসি খুশী আর সুখী। অনেকে হতাশ হয়ে পড়ে। কিছু করার থাকে না। জীবন শুধু বয়ে টেনে নেওয়া। কেউ মেকি হাসে, কেউ জাহির করে আমি ভাল আছি, হয়ত অনেকে সত্যি ভাল আছে। জানি না।তবে কোথাও সেটেল হওয়া দোষের কিছু না। আমাদের নিজেদের ৭ জেনারেশন ঘাঁটলে দেখা যাবে আমারাও অরিজিন বাংলাদেশী না। হয়ত কেউ বিহার, কী আসাম, কেউ বা দিল্লি, কেউ আফগান, পাকি কিংবা ইরান। আজ আমরা বাংলাদেশী, জন্ম দিয়েছে, তাই দায়টা বড্ড বেশী। সেটা আগের কিংবা পরের জেনারেশনের থাকতে হবে বলে কথা নেই। একেকজনের দায়ের একেক রকম দায়বদ্ধতা। কেউ পাত্তা দেয়, কেউ দেয় না, কেউ চায়, পারে না, কিংবা কেউ চায়ই না। নিজের দেশে যখন নুন্নতম সুবিধা নাই, বেঁচে থাকার গ্যারান্টি নাই সেখানে থেকে কি হবে? আবার, আমি পলিটিক্স ঘৃণা করি হিসাবে বেড়ে উঠে, পলিটিশিয়ান্দের কাছেই দেশ ঠিক করার আবেদন করি!! হ্যাঁ ব্যাপারটা অনেকটা বিপরীতমুখী। গায়ের কাদা আরেকজন কেন পরিস্কার করবে? কাদায় কাদায় কর্দমাক্ত আমি বলে উথি আর না! আর পারি না! যে করেই হউক দেশ ছাড়তেই হবে। ছাড় বাবা সমস্যা নাই, যে দেশ তোমাকে জন্ম দিয়েছে, লালন করেছে, সে একেবারে কিছু দেয় নাই, সেটা ঠিক না। বাইরে থেকেও অনেক কিছু করা যায়। তাই বলে, সব খারাপের দেশ বাংলাদেশ, সেটা ঠিক না। কে কোথায় থাকবে সেটা মানুষের নিজের প্রচেষ্টা আর আল্লাহর ইশারা বলেই মনে করি। আক্রমন পালটা আক্রমনের কিছু নাই। সবাই সবাইকে রেস্পেক্ট করলেই মিটে যায়। তবে, দেশে কিংবা দেশের বাইরে একটাই প্রতিধ্বনি, দেশের মানুষ একটু শান্তি চায়, নিরাপত্তা চায়, একটা স্ট্যান্ডার্ড সিস্টেম চায়। আমরাই করব সব, শুধু একটা সিস্টেম আর স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই। আমি বিকৃত, গলিত, দগ্ধ লাশ হতে চাই না, চাই না দেখতে আমার কোন আত্মীয়, বন্ধু কিংবা অপরিচিত কাউকে তেমনটি হতে। আল্লাহ আমাদের গুনাহ মুক্তি তবেই দিবেন যখন আমরা উনার উপর পূর্ণ আস্থা রেখে ক্ষমা চাইব, উনার বিধান অনুযায়ী চলব। আর যদি তাই না হই, আমরা আরও Derailed হতেই থাকব। কারো সাধ্যি নাই, ঐ রকম তলানি থেকে আমাদের উদ্ধার করার।
# একেকজনের দায়ের একেক রকম দায়বদ্ধতা।
©somewhere in net ltd.