| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস... খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে... কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়। আমার অদক্ষ কলমে... যদি পারো ভালোবেসো তাকে... ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে, যে অকারণে লিখেছিল মানব শ্রাবণের ধারা.... অঝোর শ্রাবণে।।
যুগে যুগে গণ-আন্দোলন ও তীব্র জনরোষের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হওয়া বিভিন্ন দেশের স্বৈরশাসকদের তালিকাঃ
(১) মোহাম্মদ রেজা পাহলভিঃ (ইরান - ১৯৭৯)১৯৭৯ সালে ইরানি বিপ্লবের সময় লাখ লাখ মানুষের প্রবল আন্দোলনের মুখে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
(২) ফার্দিনান্দ মার্কোসঃ (ফিলিপাইন - ১৯৮৬)১৯৮৬ সালের 'পিপল পাওয়ার' বা রক্তপাতহীন গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২১ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে পরিবারসহ হাওয়াইয়ে (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) পালিয়ে যান।
(৩) জাইন এল আবেদিন বেন আলীঃ (তিউনিসিয়া - ২০১১)তিউনিসিয়ার দীর্ঘ ২৩ বছরের স্বৈরশাসক বেন আলী ২০১১ সালের জানুয়ারিতে জনতার তীব্র বিক্ষোভের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে সৌদি আরবে পালিয়ে যান।
(৪) হোসনি মুবারকঃ (মিশর - ২০১১)'আরব বসন্ত' নামে পরিচিত গণআন্দোলনের মুখে ২০১১ সালে প্রায় তিন দশক দীর্ঘ ক্ষমতার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ ও দেশত্যাগে বাধ্য হন।
(৫) গোটাবায়া রাজাপাকসেঃ (শ্রীলঙ্কা - ২০২২)তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও লাগামহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে ২০২২ সালের জুলাই মাসে বিক্ষোভকারীরা তার বাসভবনে ঢুকে পড়লে তিনি প্রথমে মালদ্বীপ ও পরে সিঙ্গাপুরে পালিয়ে যান।
(৬) বাশার আল-আসাদঃ (সিরিয়া - ২০২৪)সিরিয়ায় দীর্ঘ ৫১ বছর ধরে চলা আসাদ পরিবারের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। বিদ্রোহীদের অগ্রযাত্রার মুখে তিনি ক্ষমতা ছেড়ে রাশিয়ায় পালিয়ে যান।
(৭) শেখ হাসিনাঃ (বাংলাদেশ - ২০২৪)সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে দমন-পীড়ন ও বিতর্কিত নির্বাচনের জেরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন এবং পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন।
এরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ প্রভুর দেশে কিম্বা তাদের পৃষ্ঠপোষকদের দেশে পালিয়ে যাওয়ার পর ফিরে আসার অনেক কোশেশ করেছে- কিন্তু কেউ ফিরে আসেনি। আসতে পারেনি। আসতে পারবে না- এটাই স্বৈরশাসকদের পরিনতি। শেখ হাসিনাও কোনো দিন ফিরে আসবে না। 
১৭ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৪
জুল ভার্ন বলেছেন: আমারও ঠিক তাই মনে হয়।
রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, সমালোচনাও থাকবে। কিন্তু একজন নেতাকে নিয়ে যখন তাঁর নিজের সমর্থকেরাই বাস্তবতার সঙ্গে অসংগত, অতিরঞ্জিত ও ভিত্তিহীন বক্তব্য দিতে শুরু করেন, তখন সবচেয়ে বেশি বিব্রত হন সেই নেতাই।
কখনো বলা হচ্ছে "লং মার্চ করে ফিরবেন", কখনো বলা হচ্ছে "চার্টার বিমানে ফিরিয়ে আনা হবে"- ধরনের দাবির কোনো বাস্তব ভিত্তি না থাকলে সেগুলো রাজনৈতিক বার্তার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাস্যরস, ট্রল ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের উপাদান হিসেবেই বেশি ব্যবহৃত হয়।
একজন রাজনৈতিক নেতার মর্যাদা রক্ষা করতে হলে আবেগ নয়, দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। অতিরঞ্জিত গল্প বা অবাস্তব প্রত্যাশা তৈরি করে নয়, বরং তথ্যভিত্তিক ও সংযত বক্তব্যের মাধ্যমেই একজন নেতার প্রতি প্রকৃত সম্মান দেখানো যায়। অন্যথায় বিরোধীদের সমালোচনার চেয়েও নিজেদের অযাচিত বক্তব্যই অনেক সময় সবচেয়ে বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
২|
১৭ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪১
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন এক ইতিহাসের নাম, তার আর ফেরা হবে না।
১৭ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭
জুল ভার্ন বলেছেন: এটাই বাস্তবতা। কিন্তু পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দোসররা বুঝতে চায় না!
৩|
১৭ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৯
মেহবুবা বলেছেন: গন আন্দোলন এবং জনরোষের কারনে পালানো মানুষ ফিরে আসবে কিনা সেটা তো পরের কথা, কিভাবে এত অমানবিক হতে পারে কেউ সেটাই বুঝি না। ১৬ জুলাই প্রথম আলোতে "অভ্যুত্থানের অন্দরে" ক্রোড়পত্র ছেপেছে, ২০২৪ এর জুলাই আগষ্টের অনেক বিষয় অভিজ্ঞতার আলোকে প্রকাশিত। সেসব পড়বার শক্তি নেই। খুব কাছ থেকে কিছু বিষয় প্রত্যক্ষ করবার যন্ত্রণা, কত ঘটনা! ভুলে যেতে চাই, স্বার্থপরের মত মনে ভাবি ২০২৪ সনে কোন জুলাই আগষ্ট মাস ছিল না ক্যালেন্ডারের পাতায়।
আল্লাহ্ তুমি মানুষকে হেদায়েত দাও।
১৭ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৬
জুল ভার্ন বলেছেন: আপু, তোমার অনুভূতিটা খুবই মানবিক। ইতিহাসের যেসব সময় সহিংসতা, প্রাণহানি ও গভীর বিভাজনের জন্ম দেয়, সেগুলোর স্মৃতি অনেক মানুষের জন্য আজীবনের মানসিক ভার হয়ে থাকে। যারা কাছ থেকে এমন সময় প্রত্যক্ষ করেছেন, তাদের কাছে ক্যালেন্ডারের কিছু তারিখ শুধু দিন নয়- বেদনাবিধুর স্মৃতি।
আমাকে অনেকেই প্রশ্ন করেন- আমি এখনো শেখ হাসিনার উপর এতটা রুঢ় কেন?
আমি সত্যিই ব্যাক্তি শেখ হাসিনার উপর রুষ্ট নই। কিন্তু তিনি বিরোধী মত দমন করতে যে রাষ্ট্রীয় অপ কাঠামো / সিস্টেম তৈরী করে গিয়েছেন- তা মানব ইতিহাসের এক বর্বর কলংক। লাখ লাখ ভুক্তভোগীর সাথে আমি নিজেও ভুক্তভোগী- তাই আমার পক্ষে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়।
রাজনীতি নিয়ে মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু মানুষের জীবন, মর্যাদা ও কষ্টের ঊর্ধ্বে কোনো রাজনৈতিক অবস্থান হওয়া উচিত নয়। অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে একই ধরনের বেদনা বহন করতে না হয়।
আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে সত্য উপলব্ধি করার তাওফিক দিন, ঘৃণার পরিবর্তে ন্যায়বিচার, সংযম ও মানবিকতার পথে চলার শক্তি দিন। আমীন।
©somewhere in net ltd.
১|
১৭ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০৫
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আওয়ামী লীগ বারবার দাবি করে, তরুণ প্রজন্ম নাকি শেখ হাসিনাকে অপমান করেছে। অথচ গত কয়েক দিনে আওয়ামী লীগের তথাকথিত কর্মী-সমর্থক এবং কিছু জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকই শেখ হাসিনাকে সবচেয়ে বেশি বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছেন। কখনো বলা হচ্ছে, তিনি সীমান্ত পেরিয়ে লং মার্চ করতে করতে দেশে ফিরবেন। আবার কখনো দাবি করা হচ্ছে, ভারত নাকি তাঁকে চার্টার বিমানে করে বাংলাদেশে পাঠাবে। এমন একের পর এক ভিত্তিহীন ও আজগুবি বক্তব্যই শেখ হাসিনাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ট্রল ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের খোরাক জোগাচ্ছে।