নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিজস্ব ভাবনা চিন্তা নিয়ে আমার ভার্চুয়াল জগত!

এস.এম. আজাদ রহমান

মানুষ

এস.এম. আজাদ রহমান › বিস্তারিত পোস্টঃ

ফিল সিমন্স একটি নাম একটি ইতিহাস

১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



"ফিল সিমন্স একটি নাম একটি ইতিহাস"

একটা সময় ছিল, যখন বাংলাদেশ ক্রিকেটে "কোচ" শব্দটা মানেই ছিল ঝড়!

রাসেল ডোমিঙ্গো, হাথুরুসিংহে-
Phil Simmons (2024–present)
Chandika Hathurusingha (2014–2017, 2023–2024)
Russell Domingo (2019–2022)
Steve Rhodes (2018–2019)
Courtney Walsh (Interim, 2018)
Chandika Hathurusingha (2014–2017)
Shane Jurgensen (2013–2014)
Stuart Law (2011–2012)
Jamie Siddons (2007–2011)
Dav Whatmore (2003–2007)
Gordon Greenidge (1996–1999)

নামগুলো মনে পড়লেই মনে পড়ে যায় কত আলোচনা, কত অভিমান, কত ক্ষোভ, কত প্রশ্ন!
সাকিব-তামিমদের ব্যাটে-বলের পাশাপাশি হেড কোচও হয়ে উঠতেন আমাদের আবেগের কেন্দ্রবিন্দু।

কোচ কী বললেন, কী করলেন না-
কেন এই ছেলেটা খেলল, কেন সেই ছেলেটা বাদ পড়ল-
প্রতিটা প্রেস কনফারেন্স, প্রতিটা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ- সবকিছুই যেন হৃদয়ে গিয়ে লাগত!

অথচ ফিল সিমন্স আসার পর... সব যেন হঠাৎ থেমে গেল।
এত কোলাহলপ্রিয় একটা জাতি, হঠাৎ এমন নিশ্চুপ!
কিন্তু জানেন কী?
এই নীরবতাই বোধহয় সিমন্সের সবচেয়ে সুন্দর পরিচয়।

তিনি কোনো বিতর্কে নেই, কোনো দলাদলিতে নেই।
ক্যামেরার সামনে নিজেকে জাহির করার তাড়া নেই তাঁর।
কৃতিত্ব কেড়ে নেওয়ার লোভও নেই।

তিনি যেন শুধু একটা কথাই বিশ্বাস করেন-
"আমার কাজ দলকে গড়ে তোলা। বাকিটা মাঠে ছেলেরাই বলবে।"
আজ, ম্যাচ জেতার পর একটা মুহূর্ত আমার বুকের ভেতর গেঁথে গেছে।
ক্যামেরা ঘুরে গেল ফিল সিমন্সের দিকে।

চারদিকে তখন উৎসব-
বাংলাদেশ একটা ইতিহাস গড়ছে!
চিৎকার, কান্না, জড়াজড়ি, পতাকা ওড়া...

আর সিমন্স?
চুপচাপ বসে আছেন। এক ফোঁটা উচ্ছ্বাস নেই মুখে।
এমন শান্ত, এমন নির্লিপ্ত-
মনে হবে যেন কিছুই ঘটেনি, আজও আরেকটা সাধারণ দিন!

সত্যি বলতে, মুহূর্তটা দেখে বুকটা কেমন যেন করে উঠল।

হয়তো কিছুক্ষণ পর ড্রেসিংরুমে গিয়ে জড়িয়ে ধরেছেন প্রতিটা ছেলেকে।
হয়তো চোখের কোণে জল চিকচিক করেছে, শুধু কেউ দেখেনি।
হয়তো নিজের মনে মনে বলেছেন- "গর্বিত আমি।"

কিন্তু ক্যামেরার সামনে?
সেই একই শান্ত, স্থির সিমন্স।
ঠিক যেন এক নদী-
চারপাশে যতই ঝড় উঠুক, নিজের ভেতরে অবিচল, শান্ত বয়ে চলেছেন।

আজ একটা কথা না বললেই নয়-
এই জয়ের ভাগীদার ফিল সিমন্সও।

আমরা বড় সহজেই বলে ফেলি-
দল হারলে "কোচের দোষ"।

কিন্তু দল জিতলে?
কোচের নামটা যেন কোথাও হারিয়ে যায়!
এটা কি একটুও অন্যায় নয়?

একজন মানুষ রাতের পর রাত পরিকল্পনা করেন।
প্রতিপক্ষকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন।
ছেলেদের মানসিকভাবে গড়ে তোলেন।
ভুল থেকে শেখেন, আবার নতুন করে গড়েন।
আর মাঠে সেই স্বপ্নকে বাস্তব করে দেখান আমাদের ছেলেরা।

তাই আজ, বিজয়ের এই উৎসবে খেলোয়াড়দের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি, একবার ফিরে তাকাই সেই নীরব মানুষটার দিকে।

আজকের এই ঐতিহাসিক জয়ে মাঠে যারা প্রাণ দিয়ে লড়েছেন, তাদের প্রতি অফুরান ভালোবাসা।
আর যিনি এই লড়াইয়ের নেপথ্যে, নীরবে, নিভৃতে
ফিল সিমন্স, আজকের এই জয়ের জন্য আপনাকে হৃদয় থেকে ধন্যবাদ।
হয়তো আপনি ক্যামেরার সামনে লাফিয়ে ওঠেন না।
হয়তো আপনার উদযাপন শুধু নীরবতায় বাঁধা।

কিন্তু আমরা জানি
বাংলাদেশ যখনই জেতে, সেই গল্পের একটা পাতায় লেখা থাকে আপনার নামও।

আর আপনার সেই শান্ত, নীরব মুখটা দেখে আজ মনে হলো-

বাংলাদেশ জিতেছে...
আর আপনি হয়তো মনে মনে শুধু বলছেন
"এটাই তো হওয়ার কথা ছিল।"

কী অসাধারণ, কী গভীর এক মানুষ ফিল সিমন্স।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬

রাজীব নুর বলেছেন: ক্রিকেট খেলা দেখি। তার সম্পর্কে কম জানি। আজ জানলাম।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.