নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

চকমাটি দিয়ে স্লেটে লিখেছি, লিখেছি পেনসিল দিয়ে। তারপর বহুকাল কলম দিয়ে লিখেছি কাগজের বুকে। শেষমেশ কিবোর্ড হাতে লেখা শুরু করলাম ভার্চুয়াল জগতে।

ইয়াছিন০

আশায় রুইতন, পবনে রতন......... তাস খেলা শিখছি, পুকুরও কাটছি। একদিন হয়ত ভাগ্য পালটাবে, রত্নের দেখা পাব।

ইয়াছিন০ › বিস্তারিত পোস্টঃ

সমীকরণ তত্ত্ব

২৭ শে জুন, ২০১৩ দুপুর ১২:৪৩

আগেই বলে রাখি এটা কোন গাণিতিক পোস্ট নয়। যারা গনিত ভয় পান তারা দয়া করে শিরোনাম দেখে ভয় পাবেন না। আর যারা গাণিতিক পোস্ট মনে করে পড়ছেন তারাও আশাহত হবেন না।

আমার এই পোস্টটি মূলত সরল সমীকরণের গল্প।

সেদিন যাচ্ছিলাম মিরপুর ১০ নাম্বার। নেটবিল দিতে হবে। শ্যাওড়াপাড়া থেকে লেগুনা করে যেতে লাগে ৫ টাকা, আর রিক্সায় গেলে লাগে ১৫ টাকা। মাসের শুরুতে যখন পকেট গরম থাকে তখন বেহিসাবি খরচ করি। ফলে প্রতি মাসের শেষে এসে দেখি পকেট গড়ের মাঠ হয়ে গেছে। তখন ভয়ানক কৃপণ হয়ে যাই। ১ টাকা বাঁচাতেও খুব চেষ্টা করি। সেদিন ছিল ২৬ তারিখ, মাস প্রায় শেষ, সুতরাং আমি রিক্সা না নিয়ে লেগুনাতে উঠলাম। মনটা তবুও খুতখুত করছিল, এইটুকু পথ হেটেই যাওয়া যেত, খামোখা ৫ টাকা নষ্ট। আসার সময় হেটেই আসব।

আমি চিন্তামগ্ন। মনে মনে সংকল্প করেছি সামনের মাসে আর এমন হবেনা। হেলপার বলল, ' মামা ভাড়া দেন।'

' উঠতে না উঠতেই ভাড়া চাস, একটু জিরাইতে দে।'

' এইটুকুন পথ, নাইমাই জিরায়েন, অখন ভাড়াটা দেন।'

আমি ১০০ টাকার একটা নোট দিলাম।

'এইটা কি দেন, ৫ টাকা ভাড়া, ভাংতি দেন'

' ভাংতি নাই, দে ৯৫ টাকা দে '

' এত টাকা ভাংতি নাই, আপনার কাছে ভাংতি কত আছে?'

' ২ টাকা, নিবি?'

' দেন ২ তাকাই দেন।'

আমি মহা খুশি।:D একেবারে ৩ টাকা বাঁচল। এভাবে যদি কিছু টাকা সব সময় বাচে তবে আর মাসের শেষে চলতে কষ্ট হয়না।

যাই হোক, আমি নেট বিল দিলাম। পকেটে আর মাত্র ৫০ টাকা আছে। মাসের শুরুতে ৯ টাকা দিয়ে বেনসন খাই, এখন এত বিলাসিতা চলবে না। আমি ৫ টাকা দিয়ে ১ টা গোল্ড লিফ আর ৫ টাকার চা নিলাম। দোকানি ৪ টা ১০ টাকার নোট ফেরত দিল।

আমি শিস দিতে দিতে লেগুনায় গিয়ে উঠলাম। যথারীতি হেল্পার ভাড়া চাইল, আমি একটা ১০ টাকার নোট দিয়ে বললাম, ' দে ৫ টাকা ফেরত দে ।'

হেল্পারের কাছে ৫ টাকা নেই। বলল, ' বসেন, দিতাছি '

কিন্তু ৫ টাকা আর হয় না। আর যেসব যাত্রি আছে তারা সবাই দুরের যাত্রি। কেও ১০ টাকা, কেও ২০ টাকা ভাড়া দেয়। কিন্তু ৫ টাকা আর হয়না। ওদিকে শ্যাওড়াপাড়া চলে এসেছে, নামতে হবে। হেল্পারকে চেপে ধরতে একটা ছেড়া ময়লা ২ টাকা ধরিয়ে দিল।

৫ টাকার জায়গায় ৩ টাকা বেশি ৮ টাকা ভাড়া দিয়ে আমি তখন শোকাহত।

নিজেকে সান্তনা দেওয়ার জন্য বললাম, আগে যে ৩ টাকা কম দিয়েছিলাম, সেইটাই এখন বেশি দিলাম।

এইটাই হচ্ছে সমীকরণ তত্ত্ব।:((

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৮ শে জুন, ২০১৩ রাত ১২:১৩

রাকিবুল৯০ বলেছেন: ইট ও পাটকেলের বহু পুরানো সমীকরনের কথা মনে পড়লো।

২| ২৮ শে জুন, ২০১৩ রাত ১১:২৪

ইয়াছিন০ বলেছেন: ভাই রাকিবুল, আমি ইট পর্যন্তই ছিলাম, পাটকেল খেতে হয় নাই.।.।.।.।।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.