| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
-মুহাম্মদ কেফায়েত্ল্লুাহ
“রোহিঙ্গা” আমাদের পূর্ব দণি কর্ণারে অবস্থিত প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশে বসবাসরত বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে নিগৃহীত ও নির্মম গণহত্যার শিকার এক জনগোষ্ঠির নাম। বার্মা বা মিয়ানমার কর্তৃক ২ শতাদ্বীকালের সৃষ্ট মানবতার বিরুদ্ধে এক জঘন্যতম পদেেপর নাম রোহিঙ্গা সমস্যা। বৌদ্ধ ধর্ম জীবে দয়াকে সর্বশ্রেষ্ঠ পূণ্যময় কাজ মনে করলেও অহিংসু বৌদ্ধ জঙ্গীদের কাছে তার চেয়ে বেশী পূণ্যময় কাজ যেন রোহিঙ্গা নামক মানব সম্প্রদায়কে নির্বিচারে হত্যা করা। মূলতঃ রোহিঙ্গারা ইসলাম ধর্মাবলম্বী হওয়ায় বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমার এ জনগোষ্ঠিকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করে সুকৌশলে পার্শ্ববর্তী মুসলিম রাষ্ট্র বাংলাদেশ কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম ধনাঢ্য রাষ্ট্রগুলোতে নির্বাসনে যেতে বাধ্য করে। রোহিঙ্গাদের প্রতি বিশ্ব মুসলিমের সহমর্মিতার মনোভাবকে পুুঁজি করে বৌদ্ধরা নিজেদের রাষ্ট্রকে একক বৌদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বিগত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে মিয়ানমার তথা বার্মায় অমানবিকভাবে শত শত রোহিঙ্গাকে প্রকাশ্যে পুড়িয়ে, কুপিয়ে, গুলি করে নির্দয়ভাবে হত্যা এবং সন্ত্রস্ত হাজার হাজার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠি নৌকাযোগে দেশত্যাগের চেষ্টায় মাসের পর মাস সাগরে ভাসমান থাকার চিত্র দেখে সবারই দৃষ্টি থমকে গিয়েছিল। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয় বরং একজন মানুষ হিসেবে অপর একজন মানুষের ভস্মিভূত দেহ মুরগির রোস্ট এর মত পড়ে থাকতে দেখে সবারই হৃদয় বিগলিত হয়ে অশ্র“ ঝরেছিল। কিন্তু বিশ্ববিবেকের দিকে খেয়াল করলে দেখা যায়, অদ্যাবধি বিশ্বের কোন মানবতাবাদী সংস্থা বা কোন দেশ বৌদ্ধ বার্মীদের এ নিকৃষ্ট গণহত্যার বিরুদ্ধে কথা বলেনি। বরং তাদের আশার প্রতিফলন ঘটাতেই যেন রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প স্থাপনের নামে বার্মা তথা মিয়ানমার থেকে মুসলিম সম্প্রদায়কে বিতাড়িত করার হীন কর্মে সহায়তা করে যাচ্ছেন।
খবরে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম সফরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারকে নির্দেশ দেন কক্সবাজার থেকে নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও হাতিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প স্থানান্তর করার জন্য। সে ফলশ্র“তিতে হাতিয়ার ঠেঙ্গারচর, বদনার চর ও জাগলার চরে প্রায় ৫০০ একর জমি ইতিপূর্বে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের জন্য চিিহ্নত করা হয়েছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পূর্বেই হাতিয়ার সচেতন নাগরিকগণ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন। বাহ্যত এই প্রতিবাদ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার বিরুদ্ধে মনে হলেও প্রকৃতপে রোহিঙ্গাদের প্রতি এসব প্রতিবাদকারীর সহমর্মিতার মনোভাব অবশ্যই রয়েছে। তারপরও প্রতিবাদ করা হচ্ছে কক্সবাজার থেকে এসব শরণার্থীকে হাতিয়া ও সুবর্ণচরে আনার আগে সরকার চিন্তা করা উচিত যে, বিশেষ করে হাতিয়ার নাগরিক চাহিদাগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত কোন দিকেই সরকার উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেনি। তার উপর প্রায় ৩৪ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে পূণর্বাসন করলে হাতিয়াবাসীর ভোগান্তি চরম পর্যায়ে চলে যাবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক কিছু অপরাধ চক্র রোহিঙ্গাদেরকে ব্যবহার করে তাদের মাধ্যমে মরণ ঘাতক ইয়াবা সহ মাদক, স্বর্ণ ও অস্ত্র চোরাচালান করাচ্ছে। যা হাতিয়ার সামাজিক জীবনে চরম প্রভাব ফেলে জনজীবনকে মারাত্মক হুমকির দিকে ঠেলে দেবে।
তাছাড়া রোহিঙ্গাদের পূণর্বাসন কেন? বরং তাদেরকে নিজ দেশে স্বাধীনভাবে বসবাসের সুযোগ করে দিতে কি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বার্মা সরকারকে চাপ সৃষ্টি করতে পারেনা? বার্মী অহিংসু বৌদ্ধ জঙ্গীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দমানো যায়না? ও.আই.সি, রেড ক্রিসেন্ট, জাতিসংঘ, ইউ.এন.ডি.পি এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ ব্যাপারে মাথা ঘামাচ্ছেনা কেন? প্রয়োজনে বার্মার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করে হলেও রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে পূণর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। উগ্রপন্থী বার্মার মানবতার বিরুদ্ধে নিকৃষ্টতম অপরাধ কর্মকান্ড দমন করতে না পারলে শুধুমাত্র রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প করার কোন মানে হয়না।
©somewhere in net ltd.