| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নোয়াখালী জেলার হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজের এমএলএসএস (পাহারাদার) ছাইফুল মালেক ওরফে কালাম জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে নিজের পদোন্নতি অর্জন করে দীর্ঘদিন যাবৎ কলেজের ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি, রেজিষ্ট্রেশন, ফরম ফিলাপ, সার্টিফিকেট সরবরাহ সহ দাপ্তরিক কাজে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা করে আসছে। এছাড়া কলেজের ছাত্রীদেরকে উত্যক্ত করা সহ এলাকায় একাধিক নারী কেলেঙ্কারীর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার উত্তর বেজুগালিয়া গ্রামের জনৈকা নারীকে গত ২৩/০৮/২০১৫ইং তারিখ গভীর রাত্রে বসত ঘরে সংগোপনে ঢুকে যৌন নির্যাতন করে এই ছাইফুল মালেক ওরফে কালাম। পরদিন ঐ মহিলা বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সংশোধিত/২০০৩) এর ৯ (৪) (ঘ)/৩০ ধারায় মামলা করে (মামলা নং-১৩, তাং-২৪/০৮/১৫ইং)। মামলা দায়েরের পর থেকে লম্পট ছাইফুল মালেক ওরফে কালাম কলেজের দায়িত্ব-কর্তব্যে ফাঁকি দিয়ে গ্রেফতার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
এদিকে দ্বীপ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ দেবব্রত দাস গুপ্ত এই ছাইফুল মালেকের সকল কুকর্মের সক্রিয় প্রশ্রয়দাতা বলে জানা যায়। গত ১২/০৯/২০১৫ইং তারিখ সরেজমিনে কলেজে গিয়ে কর্মচারী হাজিরা খাতা দেখে জানা যায়, গত ২২/০৮/১৫ইং তারিখ থেকে ১২/০৯/১৫ইং তারিখ পর্যন্ত টানা ১৯ কর্মদিবস হাজিরা খাতায় ছাইফুল মালেকের কোন স্বাক্ষর নাই। এরমধ্যে ২২, ২৩, ২৪ আগস্ট অনুপস্থিত থাকলেও উক্ত দিনগুলোতে কোন ছুটি না দেখিয়ে পরবর্তী ৩ দিন ছুটি দেখানো হয়। পরে জানা যায়, ২২/০৯/২০১৫ইং তারিখে ছাইফুল মালেক গোপনভাবে এলাকায় আসার পর কলেজ অধ্যক্ষ কলেজের এক কর্মচারীর মাধ্যমে ছাইফুল মালেকের বাড়ীতে হাজিরা খাতা নিয়ে তার অনুপস্থিত দিনগুলো সহ আগাম এক দিনের স্বাক্ষর গ্রহণ করে। এদিকে ছাইফুল মালেক ওরফে কালাম হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজের ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন কাগজপত্র সরবরাহে অহেতুক ঝামেলা সৃষ্টি করে অহরহ ঘুষ বাণিজ্য করে আসছে। এছাড়াও অকৃতকার্য ও কম নম্বর পাওয়া ছাত্রছাত্রীদেরকে কৃতকার্য বা বেশী নাম্বার পাইয়ে দিবে বলে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় এই ছাইফুল মালেক। কলেজের কর্মচারী পদে নিয়োগ পাইয়ে দিবে বলে একাধিক লোক থেকে আনুমানিক ৩০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ আছে। তার এসব অবৈধ কর্মকান্ডে কলেজের অধ্যক্ষ সরাসরি জড়িত থেকে তাকে সহযোগিতা করছেন এবং ঘুষের ভাগ আদায় করছেন বলে জানা যায়। বর্তমানে উক্ত ছাইফুল মালেকের স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির কারণে কলেজটির শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। কলেজের যাবতীয় দাপ্তরিক কাজে অধ্যক্ষের পছন্দনীয় ব্যক্তি হিসেবে ছাইফুল মালেককে উর্ধ্বতন কার্যালয়ে এবং বোর্ডে পাঠানো হয়। এই সুযোগে তার অনৈতিক প্রস্তাবে রাজী না হওয়া ছাত্রী ও তাদের আত্মীয় শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট, রেজিষ্ট্রেশন ও ফরম ফিলাপ এর কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা না দিয়ে শিক্ষার্থীদের মারাত্মক ক্ষতি করছে। তার দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ অসংখ্য শিক্ষার্থী কলেজের ভর্তি ক্যানসেল করে পার্শ্ববর্তী মহিলা কলেজ ও সুবর্ণচরের সৈকত কলেজে ভর্তি হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৪/১০/৯৪ইং তারিখে প্রকাশিত দৈনিক আজাদী পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক এমএলএসএস (পাহারাদার) পদে ছাইফুল মালেক কলেজ স্মারক নং-৪/নিয়োগ (হাদ্বীক)৯৪/৫০৪, তাং-১০/১২/৯৪ এর সূত্র উল্লেখ করে ১২/১২/৯৪ইং তারিখে লিখিত যোগদান পত্র মারফত অত্র কলেজে এম.এল.এস.এস (পাহারাদার) পদে যোগদান করে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত মোতাবেক এমএলএসএস (পাহারাদার) পদে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা ৮ম শ্রেণীর অতিরিক্ত গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়াও চাকুরীবিধি অনুযায়ী এমএলএসএস (পাহারাদার) পদটি পদোন্নতি যোগ্য নয়। কিন্তু এই ছাইফুল মালেক পরবর্তীতে সুকৌশলে তার নিয়োগপত্রে উল্লেখিত ‘পাহারাদার’ শব্দটিকে মুছিয়ে শুধুমাত্র এমএলএসএস পদ দেখিয়ে এবং ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ সংযুক্ত করে অধিদপ্তর থেকে অবৈধ ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বেআইনীভাবে পদোন্নতি লাভ করে। 
©somewhere in net ltd.