নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মোঃ মেহেদী হাসান মেহেদী

মোঃ মেহেদী হাসান মেহেদী

মেহদী

মেহেদী

মেহদী › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রাণীদের অস্বাভাবিক আচরণ(Abnormal Behavior in Animals)

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৩

প্রাণীদের অস্বাভাবিক আচরণঃ

(Abnormal Behavior in Animals)

অস্বাভাবিক আচরণঃ

(Abnormal Behavior)

অস্বাভাবিক বিষয়টি মানুষের স্বাভাবিক আচরণের চেয়ে অধিক মাত্রার আচরণ আলোচনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। অস্বাভাবিকতার সংজ্ঞাদিতে গিয়ে রোনাল্ড এইচ ওয়াটার বলেন (১৯৬০)

"Abnormality, always a matter of degree is assessed by the extent to which behavior is maladaptive or destructive for a person or for his or her social environment."



সুতারাং অস্বাভাবিকত্ব, সবসময় এমন একটি বিষয় যা মন্দভাবে অথবা ধ্বংসাত্‌নক ভাবে অভিযোজিত আচরণকে নিয়ে গঠিত। যে আচরণগুলো একটি মানুষের জন্য অথবা সমাজের প্রতি মন্দভাবে অভিযোজিত হয় সেগুলোকেও অস্বাভাবিক আচরণ বলা হয়। অস্বাভাবিক আচরণের সংজ্ঞা মূল্যবোধের দ্বারা প্রভাবিত হয়।

James C. Coleman Ges Willial E. Broen (১৯৮১) বলেছেন।

বলা যেতে পারে যদি আচরণটি মন্দভাবে অভিযোজিত হয় তবে আচরণটি অস্বাভাবিক হয়। আবার কোন আচরণ যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া করে এবং বৃদ্ধি পায় তবে সেই আচরণও অস্বাভাবিকত্বের দিকে যেতে পারে। সুতরাং নির্দিষ্টভাবে ‘অস্বাভবিক আচরণ’ শুধুমাত্র সাইকোসিস এবং নিউরোসিস এর বিশৃঙ্খল আচরণকেই যে অর্ন্তভূক্ত করে তা নয় বরং তা এ্যলকোহলবাদ, নীতিহীন পেশার অনুশীলন, বর্ণবাদ সংক্রান্ত আচরণ, পূর্বসংস্কার, বিচ্ছিন্নতা বোধ এবং অনীহা মূলক আচরণ গুলোকেও অর্ন্তভূক্ত করে। ব্যক্তি অথবা দলের ক্ষতি সাধন কারী উপাদান সমূহ যা জীববিজ্ঞান সংক্রান্ত, মনোবিজ্ঞান সংক্রান্ত অথবা সামাজিক বিজ্ঞান সংক্রান্ত উপাদান সমূহ এবং এসবের ক্ষেত্রে মন্দভাবে অভিযোজন সমূহ এই আলোচনার অর্ন্তভূক্ত। আমরা এভাবে গুরুত্ব দিতে পারি যে (১) অস্বাভাবিক আচরণকে মন্দভাবে অভিযোজন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে (২) মানুষের আচরণ উচ্চতর অভিযোজন মূলক আচরণের উচ্চতর পর্যায় থেকে অনবরত নিচের দিকে নামতে থাকে এভাবে অন্যের প্রতি মন্দভাবে অভিযোজিত হয় (৩) একটি ব্যক্তির অবস্থান উপযোজনের নিরবচ্ছিন্নতার উপর সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে, (৪) মন্দভাবে অভিযোজিত আচরণটি প্রজাতিগত প্রতিক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে অথবা ব্যক্তির উপর সম্পূর্ণ জীক্ষন ধারাটি প্রবিষ্ট করে। যে নীতিসমূহ উপযোজনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এবং অস্বাভাবিক অথবা মন্দভাবে অভিযোজিত এবং সাধারণ আচরণ বুঝতে সাহায্য করে তা নীতি অনুযায়ী বুঝতে ও এসবের প্রয়োগ সম্ভব করতে ব্যবহৃত হয়।

এক কথায়-

“অস্বাভাবিক আচরণ হল সেই ধরনের আচরণ যা সমাজের আদর্শ থেকে ভিন্ন। অন্যান্য দৃষ্টিভঙ্গি গুলো এই ধারণা পোষণ করে, যে আচরণটি অস্বাভাবিক তা ব্যক্তি এবং দলের মঙ্গলের ক্ষেত্রে মন্দভাবে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া করে।”

বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে একজন ব্যক্তির বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীন ব্যক্তিত্তের গঠন সম্পর্কে বলতে, উল্লেখযোগ্য আচরণসমূহ উল্লেখ করতে, উল্লেখযোগ্য আচরণ বলতে, যেমন, ভীতিসমূহ, অথবা আরও পরিব্যাপকভাবে সিজোফ্রিনিয়া, দীর্ঘস্থায়ী দীর্ঘমেয়াদী সমস্যাসমূহ অথবা সে সব আচরণ যেমন-মাদকের দ্বারা মাতলামু এবং এর লক্ষণ সমূহ সূহ্ম এবং অস্থায়ী ভাবে উল্লেখ করতে ব্যবহৃত হয়। মন্দভাবে অভিযোজিত আচরণকে মানসিক বৈকল্যের সমার্থক শব্দ হিসেবে উল্লেখ করা যায়। এছাড়া অস্বাভাবিক আচরণকে মানসিক বৈকল্যের সাথে তুলনা করা হয়।

অস্বাভাবিক আচরণের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে মঞ্জুর আহমেদ (২০০১) বলেন

“মনোক্ষিজ্ঞানের যে শাখা অস্বাভাবিক আচরণের প্রাকৃতিক কার্যকারণ সম্পর্ক উদঘাটনের চেষ্টা করে ও অস্বাভাবী আচরণের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে, সেই শাখাকেই অস্বাভাবী মনোবিজ্ঞান বলা হয়।”

মানসিক সমস্যাগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা যায় একটি হল নিউরোসিস ও অপরটি হল সাইকোসিস।

নিউরোসিসঃ নিউরোসিস হচ্ছে মৃদু ধরণের বা লঘু প্রকৃতির মানসিক গোলযোগ।

সাইকোসিসঃ সাইকোসিস হচ্ছে গুরুতর প্রকৃতির মানসিক গোলযোগ।





অস্বাভাবিক আচরণের বৈশিষ্ট্য

(১) ভিন্নতা (২) মন্দভাবে অভিযোজিত আচরণ (৩) ব্যক্তিগত যন্ত্রনা।

John Altrocchi,১৯৮০ সালে বলেন

“অস্বাভাবিকত্ব, সবসময় এমন একটি মাত্রার বিষয়, যার প্রতি একটি আচরণ মন্দভাবে অভিযোজিত অথবা একটি ব্যক্তির ক্ষেত্রে ধ্বংসাত্মক অথবা তার (স্ত্রী অথবা পুরুষ) সামাজিক পরিবেশের ক্ষেত্রে ধ্বংসাত্মক রুপে বিস্তার লাভ করেছে যদি এই বিষয় গুলো আমাদের মধ্যে দেখা যায় তখন এটা অস্বাভাবিক আচরণে পরিণত হয়।”

চিকিৎসামূলক ভাবে অস্বাভাবিক আচরনকে রোগ হিসেবে ধরায় শ্রেয়তর। Claude Berned বিস্তৃতভাবে লক্ষ্য করেছেন। তিনি ছিলেন পরীক্ষণ মূলক ঔষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে পির্তৃস্বরুপ। Cannon এর দৈহিক ভারসাম্য মতবাদের জন্য তিনি তার কাজের মাধ্যমে অনেক আগে শারীরিক ভিত্তির ধারণা স্থাপন করেন। সা¤প্রতিক ভাবে ঝবষুব অভিযোজনের সাধারণ লক্ষণ সমূহ তুলে ধরেন। ১৮৬৫ সালে তাকে তুলনীয় অনুধ্যানের অবদানের প্রতি স্মরণ রেখে সম্মানের সাথে তাকে বলতে হয়েছিল যে তুলনীয় অনুধ্যান আচরণ বিজ্ঞানের অনুধ্যান।

পরীক্ষনীয় পদ্ধতির অনুধ্যান সমূহ যা প্রাণীর মধ্যে আচরণ গত অস্বাভাবিকতা উৎপন্ন করে তা মানুষের মানসিক বৈকল্যসমূহ বুঝতে সাহায্য করে। পরীক্ষণীয় নিউরোসিসের আচরণ সমূহ যা বিভিন্ন অনুসন্ধানকারী প্রাণী অধ্যয়নের ক্ষেত্রে বর্ণনা করেছে তা সাধারণত তিনটি শাখায় বিভক্ত হতে পারে। যথা-

১) প্রশিক্ষণরত অবস্থায় একটি বৈষম্য করণের মাধ্যমে ক্ষতিকর সাধন অথবা বিশৃঙ্খল আচরণ ২) প্রশিক্ষণ রত অবস্থায় প্রকাশ্য আচরণগত বিশ্বাস সমূহ স্বশাসনিক বিরক্তি সমূহ হৃৎপিন্ড সম্পর্কিত, শ্বাসপ্রশ্বাস সম্পর্কিত, যৌন এবং ক্ষরণ মূলক অস্বাভাবিকতা সমূহ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে পারস্পরিকভাবে ভয় অথবা ক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া সমূহের সাথে ৩) প্রশিক্ষণের বাইরে আচরণগত পরিবর্তন যেমন-অস্বাভাবিক আরচণ, সমাজবিরোধী আচরণ, অথবা দীর্ঘমেয়াদী অস্বাভাবিকতা সমূহ উপরে উল্লেখিত স্বশাসনিক ক্রিয়াকলাপ সমূহ।

সুতরাং বলা যায় বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী সমূহ তাদের স্ব স্ব সমাজের ক্ষেত্রে অভিযোজন করতে ব্যর্থ হলে বা তারা সাময়িকভাবে পরিবেশ বা অন্যান্য প্রাণী কর্তৃক আক্রান্ত হলে যে সকল ব্যতিক্রমী আচরণ কখনও কখনও প্রকাশ করে থাকে তাকে অস্বাভাবিক আচরণ বলে। আর পরীক্ষণীয় নিউরোসিস হল কৃত্রিম ভাবে তৈরী মৃদু মানসিক রোগ। এবারে এ প্রসঙ্গে আসা যাক।

পরীক্ষনীয় নিউরোসিসঃ

(Experimental Neurosis)

প্যাভলভের গবেষণাগারের অধ্যয়ন থেকে।

খুব সম্ভবতঃ প্যাভলভ প্রথম পরীক্ষক যিনি অস্বাভাবিক আচরণ অধ্যয়ন করতে প্রাণী পরীক্ষণপাত্র ব্যবহার করেছিলেন। পরিপাক সংক্রান্ত গ্রহিৃ সমূহের ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেন একারনেই তিনি বিখ্যাত। তার এই কাজই ঔষুধের ক্ষেত্রে তাকে ১৯০৪ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করেছিল এবং তার পরবর্তী অধ্যয়ন সমূহের জন্য একটি উপায় অর্থাৎ উদ্দীপক প্রতিক্রিয়ার যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু শুধুমাত্র তার প্রাথমিক অধ্যয়ন যেমন সহজাতভাবে সুসংবদ্ধ অথবা শর্তহীনভাবে পরিপাকমূলক ক্ষরণ তাকে আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো অনুসন্ধান করতে প্রজ্জ্বলিত করে। যেমন ক্ষরণকারী গ্রহিৃর, শব্দ এবং গন্ধসমূহের দ্বারা সাপেক্ষীকরণ। তার মধ্যক্ষয়সে অনুষ্ঠিত সাপেক্ষীকরণ অধ্যয়ণ সমূহকে তিনি ‘উচ্চতর স্নায়ুকেন্দের’ অর্থাৎ মস্তিষ্কের অধ্যয়ন হিসেবে দেখে থাকেন। এই গবেষণা তাকে কুকুর এবং মানুষ রোগীর মস্তিষ্কের বৈকল্য সমূহ অধ্যয়ন করতে প্রজ্জ্বলিত করে।

প্রথম পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ সমূহঃ

প্যভলভ তার ছাত্র ইয়েরোফিয়েভার (১৯১১) কাজের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে নিউরোটিক আচরণের সমস্যা সমূহের প্রতি মনোযোগী হন। এখানে লালা ক্ষরণের জন্য পরিবেশ গতভাবে ইলেকট্রিক শক্কে শর্তাধীন উদ্দীপনা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।





একে মাংসের গুড়ার সাথে সংযোজন করা হয়েছিল। এটা ছিল শর্তহীন উদ্দীপনা লাল ক্ষরণের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়ার জন্য ধাপে ধাপে তড়িৎ প্রবাহের শক্তি বৃদ্ধি করা হয়। এভাবে তা মাংসের গুড়ার প্রতি ক্ষরণ প্রতিক্রিয়ার আবেদন করেছিল এবং প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া দমন করেছিল (লড়াই করেছিল এবং মুক্তি পেতে চেষ্টা করেছিল)। প্রতিক্রিয়াটি নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হবার পর ইয়োরোফিয়েভা ‘খুব শক্তিশালী’ উদ্দীপক ব্যবহারের জন্য একটি নতুন পদ্ধতির শুরু করেন এই পদ্ধতির মাধ্যমে তিনি তার অনুসন্ধান চালিয়ে যেতে থাকেন। এরপর তিনি তড়িৎ দ্বারাটিকে চামড়ার উপরিভাগে আরেক জায়গায় স্থাপন করেছিলেন।





প্রতিবর্তী ক্রিয়ার বিন্দুটিকে প্রসারিত করার প্রচেষ্টায় একটি সীমা পর্যন্ত অর্জিত হয়েছিল। যেগুলো আগে থেকে সফলতার সাথে সাধারণীকরণ করা হয়েছিল সেগুলোর প্রতি একটি দূরবর্তী ক্ষেত্র যুক্ত করা হয়েছিল। সবকিছু সম্পূর্ণ পরিবর্তনের মাধ্যমে সাধারণীকরণ করা হয়েছিল। যেহেতু সবকিছু অস্পষ্ট এবং বন্ধুর ছিল। খাদ্য সরবরাহের ফলে প্রতিক্রিয়ার চিহৃ অবশিষ্ট ছিল না, তা ব্যতীত শুধুমাত্র সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক প্রতিরোধ মূলক প্রতিক্রিয়া উপস্থিত ছিল।

প্রথমে প্যাভলভ মনে করেছিলেন যে ইয়েরোফিয়েভা তার অনুসন্ধানে শর্তাধীন চল হিসেবে ইলেকট্রিক শক্ ব্যবহার একটি তাৎপর্যপূর্ণ ফলাফল। কিন্তু ১৯১৪ সালে তিনি ঝযবহমবৎ শৎবংঃড়াহরশড়াধ-এর গবেষণার দ্বারা তিনি অনুরুপ বাধার সম্মুখীন হন। এই পরীক্ষণে আলোর একটি সঠিক গোল বৃত্তের মধ্যে পার্থক্য করণের জন্য তিনি তার প্রাণীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছিলেন। এক্ষেত্রে প্রাণীটির সামনে আলো নিক্ষেপ করা হয়েছিল এবং অনুরুপভাবে আলোর একটি উপবৃত্ত অথবা অধিবৃত্ত (বৃত্তের একটি অংশের) আকারে ফেলা হয়েছিল। যখন বৃত্তটি উপস্থাপন করা হয়েছিল তখন কুকুরটি লালক্ষরণের জন্য প্রত্যাশা করেছিল, যখন থেকে এটা খাবারকে অনুসরণ করেছিল, কিন্তু খাদ্যের দ্বারা অনুস্কৃত না হয়ে পরীক্ষনের প্রাথমিক পর্যায়ে বৈষম্যকরণটি সহজ ছিল, যখন থেকে উপবৃত্তটি উপস্থাপন করা হয়েছিল, তখন থেকে তা খাদ্যের দ্বারা অনুস্কৃত হয়েছিলনা এবং যখন থেকে উপবৃত্তটি চওড়ায় অর্ধেক ছিল এবং তার মত দীর্ঘ ছিল। তখন এটাকে বৃত্তের মত দেখাচ্ছিল না। এভাবে পÍীক্ষণটি অনবরত চলেছিল, সেনগার-ক্রিশটোভনিকভা ধাপে ধাপে উপবৃত্তের প্রশস্ততা বৃদ্ধি করেছিলেন যতক্ষণ না তা এর দৈর্ঘ্য অনুযায়ী প্রশস্ত হয়েছিল, তাও প্রায় বৃত্তীয় ছিল। এ পর্যায়ে কুকুরটি দুইটি উদ্দীপকের ভিতর পার্থক্য করতে ব্যর্থ হয়েছিল, তার বৈষম্যকরণে ধাপে ধাপে অবনতি ঘটেছিল এবং সে উত্তেজিত এবং দুর্দমনীয় হয়ে উঠেছিল, শুধুমাত্র তখন স্থিরীকরণ হয়েছিল যখন বৈষম্যকরণ বাহ্যিক ক্রিয়াকলাপে প্রকাশিত হয়েছিল এবং বিস্তারিত ভাবে বুঝতে শুরু করেছিল।

১৯১৮ সালে প্যাভলভ তার গ্রীষ্মের মাসগুলি মানসিক হাসপাতালে ব্যয় করেছিলেন। তিনি মানুষ রোগীর সাথে কুকুরের আচরণের তুলনা করতে সরাসরি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করতেন। পরবর্তী দশক গুলোতে তিনি এই সমস্যার প্রতি আরও এবং আরও মনোযোগ উৎসর্গ করেছিলেন। এ সম্পর্কে তিনি আরও আনুষঙ্গিক পরীক্ষণমূলক অধ্যয়ন পরিচালনা করেছিলেন এবং পরবর্তীতে মানুষের এবং কুকুরদের আচরণের প্রকাশ সম্পর্কে তার সূত্রসমূহের বিকাশ ঘটান। তার জীবনের শেষ কিছু বৎসর যাবত ১৯৩০ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত। তিনি তার কাজের অধিকাংশ সময় এই কাজের উপর ব্যয় করেছিলেন। ১৯৩৩ সালের একটি পরিদর্শন সম্পর্কে গ্যান্ট বলেছিলেন “এক সপ্তাহের কিছু সময় তিনি সাইক্রিয়াটিক ওয়ার্ড পরিদর্শন করেছিলেন এবং সাইক্রিয়াটিস্টের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন তার ডেস্কটি ইংরেজী, র্জামানী এবং ফ্রেঞ্চ ভাষায় রচিত সাইকিয়াট্রির কিছু সমসাময়িক ভাবে প্রচলিত পাঠ্যপুস্তক দ্বারা ভর্তি ছিল।”

নিউরোসিসের প্রতি পরিচালিত কার্যপরিকল্পনাঃ

প্যাভলভের গবেষণাগারের ভিতর “পরীক্ষণীয় নিউরোসিস” উৎপন্ন করতে কিছু সংখ্যক কার্যপ্রণালী ব্যবহার করা হয়েছে, যেমনভাবে তিনি তা উল্লেখ করেছিলেন। এই কর্ম প্রক্রিয়া গুলো তার ছাত্র ইভানভ-স্মোলেনস্কির দ্বারা সংক্ষিপ্ত হয়েছে যেমন “অত্যধিক শক্তিশালী উদ্দীপকের পরিচালনা, বিভিন্ন বৈষম্যকরণের অত্যধিক রুচিকর প্রসারণ, একাধিক জাতিগত ভিন্নধর্মী উদ্দীপকের বিবেচনা যোগ্য বর্ধিত করণ, জটিল ভিন্নতর যৌগিক প্রসারণ, কৃত্রিম উদ্দীপনা সমূহের ভিতরে, প্রত্যেক সফল উদ্দীপকের একটি শর্তযুক্ত প্রতিক্রিয়ার ধারাবহিক প্রসারণ, একটি বাধাদানকারী উদ্দীপনা হতে, ধনাত্মক একটির দ্বারা নির্দিষ্ট পরিবর্তন এবং সবশেষে সামঞ্জস্যহীন পরিবর্তনে অভ্যস্ত বর্গের বিন্যাস, প্রতিবর্তী ক্রিয়াসমূহের ভিতর ধনাত্মক এবং বাধাদানকারী পদ্ধতি, যার পুনরাবৃত্তি ঘটান হয়েছে এবং দিনের পর দিন প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে এভাবে কিছু বদ্ধমূল ধারণার উদ্দীপকের গঠন এবং তাদের মধ্যে অন্তবর্তীতা তৈরী করা হয়েছে”। প্যাভলভ নিজেই বিশ্বাস করতেন যে এই সব পদ্ধতি গুলোতে “মাত্রাধিক পরিশ্রম” অথবা “সংঘর্ষ” অন্তর্ভূক্ত হয়েছে যাকে বলা যেতে পারে কিছু প্রকল্পমূলক স্নায়বিক পদ্ধতিসমূহ, কিন্তু এটা সুস্পষ্ট যে প্রয়োজনীয় শর্তসমূহ এই ধরণের প্রতিবন্ধক উৎপাদনের জন্য কখনই সম্পূর্ণভাবে পৃথকনয়।

দুই ধরণের প্রতিক্রিয়াঃ

প্যাভলভ এই ধরণের প্রশিক্ষণ পরিকল্পনার প্রভাব দেখতে স্বাভাবিক গঠনের উপর নির্ভরশীল দুই ধরণের কুকুর ব্যবহার করেছিলেন। তার একটি ছিল ‘উত্তেজিত’ শক্তিশালী ধরণের কুকুর। কুকুরটি সম্পূর্ণ সঠিকতা ছাড়াই প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। কুকুরটি বাধাদায়ক এবং অনুরুপভাবে ধনাত্মক উদ্দীপকের প্রতি প্রতিক্রিয়া করেছিল, শর্তহীন এবং শর্তাধীন উদ্দীপকের মধ্যে যখন একটি দীর্ঘ অন্তঃ বর্তীতা প্রয়োগ করা হয় তখন অপরিপক্ক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। প্রতিক্রিয়াটি ধীরে ধীরে প্রশমিত হয় যখন শর্তহীন উদ্দীপনাটি ছবি থেকে বাদ দেয়া হয়। এই ধরণের প্রাণী বিশ্রামহীন তার কিছু লক্ষণ প্রকাশ করে এবং যখনই একটি নতুন প্রতিবন্ধক যুক্ত হয় তখন প্রাণীটি বিক্ষুদ্ধ হয় এবং যখন বৈষম্যকরণ কঠিন হয়ে পড়ে তখন সে মনিবের প্রতি অবাধ্য হয়ে পড়ে।

প্যাভলভ এই ধরণের প্রতিক্রিয়া গুলোকে মানুষ রোগীর ভিতর ম্যানিক ডিপরেসিভ সাইকোসিস বলে সংযুক্ত করেন।

দূবর্ল ধরণের কুকুরের মধ্যে, অন্যভাবে, প্রতিক্রিয়া ক্রমে ক্রমে হ্রাস পাবে অথবা অদৃশ্য হয়ে যাবে যখন বৈষম্যকরণটি কঠিন হবে এবং প্রাণীটি তার সাধারণ আচরণে ব্যতিক্রমীভাবে শান্ত হয়ে যাবে। প্যাভলভ এই প্রতিক্রিয়াকে সিজেফ্রিনিয়ার সাথে সম্পর্কিত করেন এবং বিশেষ ঘটনা সমূহের ক্ষেত্রে সাইকাসথেনিয়া, নিউরাসথেনিয়া, হিষ্টিরিয়া এবং এই ধরণের লক্ষণ সমূহকে নিপীড়ন, আহেতুক ভীতিসমূহ এবং উম্মাদ রোগ বিশেষ বলে মনে করেন

মন্তব্যঃ

এই ধরণের আচরণের সাদৃশ্যকরণ সে সকল আচরণের প্রতি করা হয় যেগুলো মানুষের নিউরোসিসের ভিতর সর্বোচ্চভাবে কারণ সংক্রান্ত বলে মনে হয় এবং এটা বোঝা কঠিন কেন প্যাভলভ সেগুলোকে কাছাকাছিভাবে সম্পর্কিত বলে বিবেচনা করেছিলেন। প্যাভলভ মানসিক বৈকল্যের বিভিন্নতার কারণ স্পষ্টভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যার জন্য প্রস্তাব করেছিলেন। এক্ষেত্রে তিনি যে আগ্রহকে উদ্দীপিত করেন তা বহু সংখ্যক অন্যান্য অনুসন্ধানকারীকে প্রজ্জ্বলিত করে এবং তাদেরকে একই পথে অনুসন্ধান করতে পথ দেখায়।

শাস্তির দ্বারা উৎপন্ন নিউরোসিসঃ

প্যাভলভ এবং লিডেল, যারা প্রাথমিকভাবে শারীর তত্ত্ববিদ্যার প্রতি কৌতুহলী ছিলেন, তারা যখন তাদের নিউরোটিক পর্বে অনুসন্ধানের জন্য অন্যান্য সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করেছিলেন তখন তারা দূর্ঘটনার দ্বারা হোঁচট খেয়ে নিশ্চেষ্ট হন। আরও সা¤প্রতিক অনুসন্ধানকরীরা যারা মেসারম্যানের নেতৃত্ব অনুসরণ করছিলেন তারা প্রাণীর মধ্যে দ্বন্দ্বমূলক অবস্থার পুনরুৎপাদনের মাধ্যমে প্রাণীর মধ্যে নিউরোসিস তৈরী করতে চেষ্টা করছিলেন। মেসারমেন তার পদ্ধতির প্রথম পর্যায়ে একটি কক্ষের ভিতর কিছু বিড়ালকে খাদ্যের পাত্রের ঢাকনা উঠাতে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এবং বিশেষভাবে প্র¯ু—ত খাদ্যের একটি অংশ খেতে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তারপর তিনি তাদের বৈদ্যুতিক শক্ এবং ক্ষাতাসের ঝাপটা দ্বারা শাস্তি দেন। যখন বিড়াল গুলো বাক্সটি খুলেছিল অথবা প্রায় খুলতে লেগেছিল ঠিক সেই মুহূর্তে এরুপ ভাবে শাস্তি দেয়া হয়। ডিমিক্ এবং তার সহযোগীদের দ্বারা প্রায় একই ধরণের পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। জ্যাকবসন এবং স্কেরাপ, ওয়াটসন এবং উলপ বিড়ালের সাথে, লিচটেনসটিন কুকুরের সাথে, এবং মেসারমেন এবং পিচটেল ক্ষানরের সাথে এই একই পরীক্ষণের ক্ষেত্রে খেলনা সাপ ব্যবহার করেন যাকে কয়েকটি প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে বাক্সের ভিতর ঘুমন্ত অবস্থায় রাখা হয়।

বিভিন্ন পরীক্ষকের দ্বারা পর্যবেক্ষীত প্রতিক্রিয়া সমূহঃ সবচেয়ে বেশী অনুসন্ধানকারীর দ্বারা যে বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে এবং যা আমাদের মনে সবচেয়ে বেশী দাগ কেটেছে তা হল ভীতি। যা মানুষের অহেতুক ভীতির সাথে সম্পর্কিত ছিল। উদাহরণ স্বরুপ উলপের পর্যবেক্ষণ থেকে জানা যায় বিড়ালরা এই ধরণের প্রতিক্রিয়া সমূহ প্রদর্শন করে যেমন তারা দ্রুত বেগে এখানে সেখানে ঘোরে এবং পেছনের পায়ের উপর ভর দিয়ে দাঁড়ায়, মেঝে, ছাদ এবং পরীক্ষণীয় খাঁচার পাশে আঁচড় দেয়, গুটি শুটি মেরে থাকে, কম্পিত হতে থাকে, থুতু দেয়, চোখের পিউপিল বিস্তৃত হয়, দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস নেয়, চুল খাড়া হয়ে যায় এবং কিছু ক্ষেত্রে, মূল ত্যাগ করে অথবা মলত্যাগ করে। এ সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে প্রাণীটি পরীক্ষককে উপেক্ষা করেছিল, এ জন্য পরীক্ষণীয় যন্ত্রপাতিতে প্রতিবন্ধকের সৃষ্টি করেছিল এবং মুক্তির জন্য বেপরোয়া চেষ্টা করেছিল। অধিকাংশ প্রাণীরা খাদ্যের পাত্র থেকে খাদ্য গ্রহণ ছেড়ে দিয়েছিল এবং তাদের মধ্যে অনেকে অণ্য একটি স্থানে যেতে অস্বীকার করেছিল। তবে এক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হয়েছিল।

মেসারমেনও উল্লেখ করেছিলেন যে তার কিছু বিড়ালসমূহের ভিতর কিছু নির্দিষ্ট অবস্থার প্রতি বদ্ধমূল প্রতিক্রিয়া বিকশিত হয়েছিল, যেগুলোকে তিনি ‘আহেতুক ভীতির বিপরীত’ বলে বিবেচনা করেছিলেন। অন্যেরা সুসংবদ্ধ করতে লিপ্ত ছিল, মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল, যাকে তিনি পশ্চ্যৎগামী প্রক্রিয়া হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ইতঃপূর্বে সক্রিয় বিড়াল প্রায় খুবই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ত এবং একটি বিড়াল সুসংবদ্ধকরণের প্রতি প্রতিবন্ধক রুপে মূর্ছারোগের মত আচরণ দেখিয়েছিল।

লিচ্টেনসটিইনের কুকুর দৃঢ় ভাবভঙ্গির মাধ্যমে এই ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল, একটি খাবার পাত্র থেকে দৃঢ় ভাবে মাথা ঘুরিয়ে আনার ক্ষেত্রে যা মানুষের মধ্যে নিশ্চল অঙ্গভঙ্গির প্রতিক্রিয়ার স্মারক হিসেবে উপস্থিত। দেখা গিয়েছিল যে তা খাদ্যের প্রদত্ত অংশের উপর বমি করার চেষ্টা করে, কম্পন এবং খিঁচুনি দেয় (এটা দেখতে বিদ্যুতায়িত পায়ের নোয়ানোর অনুরুপ এবং সেই বিষয়গুলোর প্রতি স্পষ্টভাবে সাদৃশ্য পূর্ণ যা লিডেল এবং তার সহকর্মীদের দ্বারা পর্যবেক্ষীত হয়েছে) এবং খাঁচার অন্যান্য সদস্যের সাথে মারা মারি করে। লিচ্টেনসটিইন দুইটি পর্যায়মূলক পদ্ধতির পরামর্শ দেন যার মধ্যে শিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত পর্যবেক্ষণীয় স্পষ্টতা সমূহ বিদ্যমান ছিল একে গৌন প্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয় এটা “উদ্বেগের” সীমা পদ্ধতি হিসেবে অথবা প্রকৃত ইলেকট্রিক শকের দ্বারা উদ্দীপিত অবস্থার সাপেক্ষীকরণের সময় বিকশিত হয়েছে।

মেসারমেন এবং পিচটেল উল্লেখ করেন যে তাদের বানরেরা খাদ্য লাভ করার সময় লিভারটিতে চাপ দিতে ব্যর্থ হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক খাদ্য অর্জনের জন্য কখনও কখনও একটি ভুল লিভারে চাপ দিয়েছিল। ১০০ ভাগ সময়ের জন্য দ্রুত সফলতার ক্ষেত্রে ‘এটা হল অপস্থাপনের ইঙ্গিত’ আলো এবং গুঞ্জন ধ্বনির উপর প্রতিক্রিয়া স্বরুপ আতংকিত হওয়া এবং মুক্তি সংক্রান্ত আচরণের উদ্ভব হয়েছিল, তবে প্রকৃত ভাবে এটা খাদ্য বস্তুটি যে অর্জিত হতে পারে তার সংকেত দিতে ব্যবহৃত হয়েছিল। এই সংকেতটি পরীক্ষকের দ্বারা বাক্সটি খোলা এবং বিভিন্ন ধরণের আশ্চর্যজনক অথবা তৎক্ষনাত উদ্দীপকের দ্বারা দেয়া যেতে পারে।

যখন বানরগুলো খাদ্য গ্রহণ করেছিল তা উন্মত্তভাবে খাদ্য দ্বারা মুখ ভর্তি করেছিল, তাদের ক্ষেত্রে ডায়রিয়া এবং ওজন হ্রাস ছিল স্বাভাবিক ব্যাপার। কিছু বানর সন্দেহ পোষনের মাধ্যমে মানসিক রোগের পর্যায় সমূহ দেখিয়েছিল, তাদের নিজেদেরকে অনবরত ভাবে দীর্ঘ সময়ের জন্য নিযুক্ত রেখেছিল এর মাধ্যমে তারা তাদের আশেপাশের প্রত্যেকটি অংশের পুনরাবৃত্তিমূলক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখেছিল। এক্ষেত্রে দুইটি বানর অলীক খাদ্য গ্রহণে অংশ নিয়েছিল এবং তারা খাদ্য গ্রহণের মত অভিনয় করেছিল। অন্য একটি জোড়া ‘চেতনালুপ্ত নিশ্চলতা’ দেখিয়েছিল কার্যকারী সমন্বয় সাধন ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, খিচুঁনি স্বাভাবিক ভাবে ছিল এবং বিভিন্ন প্রকারে যৌনগত পথভ্রষ্টতার উদ্ভব হয়েছিল।



01195209629 e Continue...

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +০/-৩

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১১

মেহদী বলেছেন: Doia kore bina onumotite niz name chapaibenna.Tobe amer name chapaite pareন.

২| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:১৯

চিকনমিয়া বলেছেন: মাইনাচ

৩| ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:০৪

মেহদী বলেছেন: Psychology shik

৪| ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:১৭

চিকনমিয়া বলেছেন: প্রাণীদের অস্বাভাবিক আচরণ(Abnormal Behavior in Animals)
তুমারে দেইকা বুঝতে পারছি
আবার মাইনাচ

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.