| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা আর আমাদের অভিভাবকদের চাহিদার কথা চিন্তা করলে,মনে হয় পৃথিবীটা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ফলাফলের উপর ভিত্তি করেই চলছে।প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় যে যত উন্নত,তার মূল্য তত বেশি।হোক সেটা পরিবারের কাছে কিংবা পরিবেশে।একটা ঘটনা বলি,
সেদিন কলেজ থেকে ফিরছি ব্যবহারিক পরীক্ষা দিয়ে।কলেজটা বাসা থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় অটো রিক্সা(ইজি বাইক)দিয়ে আসছিলাম।সাথে ছিলো,আমার এক বন্ধু রাব্বিনূর আর অপরিচিত একজন ভদ্রমহিলা।
রাব্বিনূর হঠাৎ আমাকে বলল,
-জানিস হাসান কী করসে?
-কী করসে?
-আগের দিন কেমিস্ট্রি পরীক্ষার সময় একটা খাতা বাড়তি নিয়াইছে।বাসায় আইন্না ফিজিক্সের একটা এক্সপেরিমেন্ট লেইখা পরেরদিন ফিজিক্স পরীক্ষায় গিয়া ঐ খাতা জমা দিছে।
-ধরা পড়ে নাই?
-আরে না,লাল কলম দিয়া নিজেই নাম্বার লেইখা দিছে।
-তাইলে পরীক্ষায় এক্সপেরিমেন্ট করে নাই?
-এম্নেই হালকা পাতলা নামমাত্র করসে।
-বাহ।আমার ত সাহসেই কুলায় না।
আমাদের এইসব কথোপকথনের মাঝে হঠাৎ পাশে বসা আন্টি বলে উঠলো,
আন্টি: এতে তো তার আরোও ক্ষতি হলো।সে তো নিজেই কাজটা করে নাই।তাহলে শুধু নম্বর পাওয়ার জন্য এটা করার কী দরকার?
তার কথার উত্তর দিয়ে রাব্বিনূর বলল্লো,
রাব্বিনূর : আসলে আন্টি,আমাদের কলেজে স্যরেরা অনেক কড়া গার্ড দেয়।আর একটা এক্সপেরিমেন্ট এত অল্প সময়ে ইন্টারমিডিয়েট স্টুডেন্ট দ্বারা সম্ভব না।এজন্যই এমনটা করা,নিজেকে বাঁচাতে তো হবে।
আন্টি:এক সময় সেও যদি টিচার হয়,সে কি চাইবে তার ছাত্ররা এমনটা করুক?
আমি আর চুপ থাকতে পারলাম না।আন্টিকে বললাম,
আমি: আন্টি,একটা কথা বলি কিছু মনে করবেন না। আপ্নার ছেলেমেয়ে আছে নিশ্চই?
আন্টি: হ্যাঁ।এক ছেলে এবছর জেএসসি দিবে,আরেক মেয়ে আছে সে টেনে পড়ছে।
-আপনার ছেলেমেয়েরা A+ পেলে আপনি খুশি হবেন?
-আবশ্যই খুশি হব।
-আমরাও আমাদের বাবা-মা'কে খুশি করতে চাই।
-তাই বলে এভাবে?
-আমরা কীভাবে ভালো রেজাল্ট করব সেটার খোঁজ আমাদের বাবা-মা'রা ঠিক ভাবে নেয় না।কিন্তু,রেজাল্টের খবর সম্পূর্ণ নেয়।আমারা এখন সেটাই ঠিকঠাক দেখাতে চাই।
-সেটা তো তোমাদের ক্ষতি।
-ভালো রেজাল্ট হলে সেই ক্ষতিটা আপনাদের চোখে পড়বে না।আমরা কী শিখছি,কী শিখছি না,কোনটা শিখতে কষ্ট হচ্ছে,কোনটা শিখতে কষ্ট হচ্ছে না সেটার খোঁজ আপনারা রাখেন না।আপনার শুধু বলেন,পড়ো...ভালো রেজাল্ট করো।আপনি এখন বোধয় আপনার ছেলেকে স্কুল থেকে আনতে যাচ্ছেন?
-হ্যাঁ।
-বাসায় আনার পর নিশ্চই তার জন্য প্রাইভেটের টিউটরের ব্যবস্থা আছে।
-হ্যাঁ,স্কুলের পড়ায় তো সব কমপ্লিট হয় না।
-(এই তো লাইনে এসেছেন)আচ্ছা,আপনার ছেলে কখনো কি বাসায় উল্টাপাল্টা কিছু বানায়ে চেষ্টা করেছে?যা আপনার বাসার জিনিসপত্র নষ্ট করতে পারে।
-হ্যাঁ,প্রায়ই করে।
-আপনি তখন কী করেন?
-শাসন করি!
-(বাহ!)এটাই আপনাদের সমস্যা।আপনার সন্তান বইয়ে পড়লো,বায়ুর উর্ধ্বচাপ পরীক্ষা।সে বাসায় এটা করতে গেলে আপনি তাকে বলে,"এএএই গ্লাস্টা ভাংবি তো!রাখ এসব।যা পড়তে যাহ"।তাহলে সে শিখবেটা কী!! শুধুই পড়াশোনা? ভালো মার্কস পাওয়া? হ্যাঁ এটাই শিখবে।আমরাও এটা শিখছি।ভালো নম্বরটা পেয়েই পৃথিবীকে দেখাতে চাচ্ছি,আমি ভালো ছাত্র।
আন্টি আর কিছু বললেন না।আমিও আর কিছু বলিনি।রাব্বিনূর আমার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছিলো।আমারও হাসি পাচ্ছিলো।আন্টির মাথাটা এতক্ষণে আউলে গেছে।আজকে বোধয় বাসায় গিয়েই ছেলে বিজ্ঞান বই খুলে বসবে।
বাসা কাছে এসে নেমে যাই,ভাড়া দিতে যাব রাব্বিনূর বললো,"আমি দিয়াম নে"।আমিও আর না করিনি,ছেলেটা দিতে চাইছে খুশি হয়ে...
আসলেই ভালো রেজাল্ট করাটা আমাদের মগজে ঢুকে গেছে।কারণ সেটা ঠিকঠাক না পেলে আমরা কোথাও কোন মূল্য পাবো না।সবার অবহেলার পাত্র হয়ে থাকতে হবে সারাজীবন।তাই যে করেই হোক আমরা সেটা অর্জন করতে চাই।ছাত্র জীবনে ফাঁকিবাজি করতে গিয়ে যদি পড়াশোনায় কিছুটা অসম্পূর্ণতা থেকে যায়,সেটা পূর্ণ করতে আমরা অবৈধ পথ খুঁজে নেই।তা না হলে তো আমাদেরকে কেউ পাত্তা দিবে না।
আমার মাঝে মাঝে মনে হয়,একসময় পরিবার থেকে অনেক দূরে চলে যাব।তাদের কাছে রেখে যাব আমার জীবনে অর্জন করা সব সার্টিফিকেট।তারা তো এটাই চেয়েছে।তাহলে তাদের কাছে এটাই থাক,আমাকে দিয়ে লাভ কী??? শেখ সাদী সাহেবের গল্পের মত,সব খাবার যেমন পকেটে ঢুকায়...
০৮ ই নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:২২
কাইসার ইমাম ম্যাহেদি বলেছেন: বড় বড় কথা বলতেও তো সার্টিফিকেট দেখাতে হয়।আমার ক্লাসে একজন ছাত্র আছে,যে বিভিন্ন সূত্র নিয়ে গবেষণা করে,স্যরও তাকে অনেক কিছুর সমাধান বলতে পারে না।সেই ছেলেটা শিক্ষকদের দুশমন হয়ে দাঁড়িয়েছে।সবাই তাকে 'আইনস্টাইন' বলে ডাকে(ব্যাঙ্গ করে)
২|
০৮ ই নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ৭:১৩
সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন: আমি আমাদের দেশের এডুকেশনাল সিস্টেমের পোরাই বিরুধী
০৮ ই নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:২৬
কাইসার ইমাম ম্যাহেদি বলেছেন: আপনার সন্তান(যদি থাকে) কিংবা ছোট ভাইবোন যদি 'এ প্লাস' পায়, তাহলে আপনি খুশি হবেন না?
৩|
২২ শে অক্টোবর, ২০১৮ বিকাল ৪:২৬
সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন:
যেখানে ১০ মার্কের উত্তরাধিকারী পায় ৫০ সেখানে আমি কীভাবে আমার পরবর্তীদের এমন আকস্মিক চাঁদ নিয়ে আসায় খুশি হব?
©somewhere in net ltd.
১|
০৮ ই নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ৭:০৭
চাঁদগাজী বলেছেন:
পড়েন, পড়েন; বড় বড় কথা বলার সময় আসবে; দেশে পন্ডিতের অভাব নেই