| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মেহেদী হাসান সজীব
আমার বিবেক আমার ধর্ম,আমার যুক্তি আমার পথ প্রদর্শক,আমার মানবতায় আমার মুক্তি
মন্ত্রমুগ্ধের মত শেষ করলাম হুমায়ূন আহমেদের শেষ উপন্যাস ‘দেয়াল’। এটিকে উপন্যাস না বলে ইতিহাস বই বলাই ভাল। ধন্যবাদ হুমায়ূন স্যার কে এত সাহসী শেষ উপন্যাস আমাদের দেয়ার জন্যে।
সাহসী কারণ,মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বঙ্গবন্ধুর শাসন আমল থেকে জিয়ার শাসন পর্যন্ত প্রেক্ষাপট নিয়ে এই উপন্যাস রচিত। এ সময়টা বাংলাদেশের কালো সময় বলে আমি মনে করি। ঐ সময় নিয়ে তরুন প্রজন্মকে খুব বেশী জানানো হয়না,জানালেও ভুল জানানো হয়।
বঙ্গবন্ধুর অপশাসন বিভ্রান্তি, বারবার সেনা অভ্যুথান, জিয়ার বীরত্বগাথা, কর্নেল তাহের হত্যা, জাতীয় চার নেতার হত্যা সহ আরও অনেক বিষয়ে ব্যাপক মিথ্যাচার পেছনে ফেলে সাহসের সাথে সত্যি কথাগুলো রেফারেন্স সহ স্যার গল্পের ছলে তুলে ধরেছেন তরুন প্রজন্মের কাছে। তাকে ধন্যবাদ ছাড়া আর কিছুই বলার নেই।
যদিও স্যার বেঁচে থাকলে একটি রাজনৈতিক দলের তোপের মুখে পড়তেন সন্দেহ নেই। তার এই উপন্যাসটি ঐ রাজনৈতিক দলের অন্ধ অনুসারীদের ভাল লাগবেনা এক বাক্যে বলা যায়। কারণ এটি যে ঐ রাজনৈতিক দলের জন্ম পরিচয়কেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। আফসুস ১৫ ২০ বছর রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকেও দলটি সত্যকে সফলভাবে কবর দিতে পারেনি।
এই উপন্যাস থেকে কয়েকটি বিষয় উঠে আসে-
১. যুদ্ধ পরবর্তী একটি বিধ্বস্ত দেশ গড়তে যে দেশপ্রেমিক সহকর্মী প্রয়োজন ছিল তা বঙ্গবন্ধু পাননি,বরং তিনি পেয়েছিলেন অর্থলোভী, ক্ষমতালোভী পা চাটা বিশ্বাসঘাতক নেতাকর্মী যেমন খন্দকার মোশতাক।
২. বঙ্গবন্ধু হত্যা পরিকল্পনা কয়েকদিনে হয়নি, এটি দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা। পাকিস্তান এর পেছনে ছায়া হিসেবে ছিল।
৩. তাকে বাকশাল বা তার পুত্রের ব্যাংক লুট এসব কারণে মারা হয়নি বরং তাকে হত্যার কারণ ছিল উচ্চাভিলাষী সেনা কর্মকর্তাদের ক্ষমতার লোভ ও পাকিস্তানের ইন্ধন। হত্যার পর তা জায়েজ করতে তার পুত্রের ব্যাংক লুট ফর্মুলা ভালই কাজে দিয়েছিল যদিও এর স্বপক্ষে কোনো দলিল আজও কেউ দিতে পারেনি।
৪. জিয়া খুব ভাগ্যবান লোক তা বলতেই হবে, নাহলে বঙ্গবন্ধু হত্যা পরিকল্পনায় সম্পৃক্ততা সত্ত্বেও, খুনিদের রাস্ট্রক্ষমতা দখলের সময় তাকে নজরবন্দি করে রাখা, কর্নেল তাহের এর সাহায্যে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বের হয়ে সিপাহী বিপ্লব নামে রক্তের হোলি খেলে মাত্র ৪৩ বছর বয়সেই প্রেসিডেন্ট হওয়া, তার শাসনামলে এদেশে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়া ও ইলিশের ব্যাপক বৃদ্ধি ও মুল্য কমে যাওয়ায় সব ধরনের খাদ্যের মুল্য কমে যাওয়া ইত্যাদি তার পক্ষেই গিয়েছে বিপক্ষে না। অথচ বঙ্গবন্ধুর বাকশাল বিরোধী মানুষ বুঝতেও পারেনি তারা রক্তের হোলি খেলে আসা একজন অনির্বাচিত স্বৈরশাসককেই প্রেসিডেন্ট মেনে নিয়েছে যা বাকশাল থেকেও নিকৃষ্ট। হায়রে অবুঝ বাঙালি।
৫. জিয়া, কর্নেল তাহের এর সহযোগিতায় সিপাহী বিপ্লব নামে রক্তের হোলি খেলে ক্ষমতা নিয়ে পরে কর্নেল তাহের কেই প্রহসনের বিচার করে জাতির সূর্যসন্তান কে হত্যা করেন। তার ক্ষমতা আমলে বঙ্গবন্ধুর খুনিরা দেশে এসে আবার তার বিরুদ্ধে সেনা অভ্যুথান করার পরিকল্পনা করলে তিনি তাদের গ্রেফতার না করে আপোষে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে দেন।
৬. একটি কথা বলতেই হবে জিয়া আর্থিক ভাবে সৎ শাসক ছিলেন নিঃসন্দেহে। এর জন্য তাকে স্যালুট।
৭. জিয়ার মৃত্যু কিভাবে হয়েছিল কেন হয়েছিল তা না হয় আপনারা উপন্যাসটি পড়েই জেনে নিবেন।
সত্য কখনো মোছা যায়না, কেউই পারেনা। পারবেনা।
জয় বাংলা।
২|
২২ শে মার্চ, ২০১৩ সকাল ৮:৫০
বিকারগ্রস্থ মস্তিস্ক বলেছেন:
খন্দকার মোশতাক।
ভাই একজনের নাম দিলেন যে ?
চার নেতা মারাই ছিল সব থেকে বেশি সমলচনা হয় এবং হবে -
২২ শে মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৪:৪১
মেহেদী হাসান সজীব বলেছেন: জি ভাই আরও নাম দেওয়া যেত, কিন্তু প্রাসঙ্গিক কথা আরও বড় হয়ে যেত তাই দেইনাই। আর মোশতাক ই ছিল সবচেয়ে বড় মীরজাফর, সে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সূর্যসন্তান বলে আখ্যা দেন।
আর চার নেতার হত্যা ই মুলত ৭৫ এর পর আওয়ামী লীগ কে অনেকটা রাজনীতি থেকে নির্বাসিত করে দেয় বলে আমি মনে করি। এই হত্যা আওয়ামী লীগ ও দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
৩|
২২ শে মার্চ, ২০১৩ সকাল ৯:০৩
মাহাবুব১৯৭৪ বলেছেন: খালেদ মুশারফ, বাংলাদেশের ইতিহাসে সব চেয়ে কম উচ্চারিত একজন বীর।
২২ শে মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৪:৩৪
মেহেদী হাসান সজীব বলেছেন: জি ভাই তিনি একজন বীর উত্তম ছিলেন, তার কথা আমরা অনেকে জানিই না, কিন্তু সমস্যা হল তিনিও একজন ক্ষমতার কাঙ্গাল ই ছিলেন, তিনি রক্তপাত বিহীন সামরিক অভ্যুথান ঘটান, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর খুনিরা তার সামনে থাকা সত্ত্বেও তিনি খুনের বদলা নেন নি, কারণ সেটা তার দরকার ছিলনা, তারও দরকার ছিল ক্ষমতা।
৪|
২২ শে মার্চ, ২০১৩ সকাল ৯:২৬
স্পেলবাইন্ডার বলেছেন:
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে মার্চ, ২০১৩ ভোর ৪:১৮
সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বলেছেন: