| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আজ-কালকার দিনগুলো আমার, যেন এখনো অমলিন (পর্ব ১)
আজ-কালকার দিনগুলো আমার, যেন এখনো অমলিন (পর্ব ২)
এভাবে আর কত দিন? তাই পরিবারকে ও জন্ম ভূমিকে ত্যাগ কোরে পারি জমাই পৈত্রিক নিবাস বরিশালে। যদিও আমাদের দেশটি অনেক ছোট, কিন্তু তাকে নিয়ে কাব্যগাঁথা আর লোকপ্রবাদ কম নয়, যেমন- "পীর আউলিয়ার দেশ বাংলাদেশ"। অনেক ছোট বেলা থেকে বাবার কাছে ইসলাম, নবী-রাছুল, পীর-মাশায়েক, সম্বন্ধে শুনেছি কতইনা গল্প; সে সমস্ত গল্পের এক বিশেষ অধ্যায় জুড়ে ছিল চরমনাই পীর সাহেব হুজুরের জীবন প্রয়াস। শুনেছি তাঁর একটি মাদ্রাসা আছে- "চরমোনাই আহছানাবাদ রশিদিয়া কামিল মাদ্রাসা"।
ছারছিনা, ফুরফুরা, হাটহাজারি, এবং চরমোনাই এই চারটি প্রতিষ্ঠান নাকি মাদ্রাসা শিক্ষায় উৎকর্ষতার এক আদর্শ। তাই অনেক স্বপ্ন ছিল যদি এরকম একটি প্রতিষ্ঠানে পড়া-লেখার সুযোগ পেতাম! আর সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষে ২০০৫ সালে চরমোনাই মাদ্রাসায় নবম শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি। অনেক সংখ্যক প্রার্থীর মাঝে শুধু আমরা পাঁচ জন ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। আর এটিই ছিল আমার জীবনের প্রথম বার্থতা বা সফলতার শুভ চাবিকাঠি। এখানে কঠোর শৃঙ্খলাবোধ আর যৌক্তিক নিয়মতান্ত্রিকতার মধ্য দিয়ে একাডেমীক শিক্ষা দিবার পাশাপাশি শেখান হোতো নৈতিকতার শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ সহ জীবনী দীক্ষা। এই পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে তেমন একটা কাঠ-খড়ি পুরাতে হয়নি আমার।
যাই হোক- সেখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশটি ছিল খুবি চমৎকার, উপভোগ করার মত ছিল অনেক কিছুই। কিন্তু সময় ছিল বেশ কম, শুধুমাত্র বিকেলের কিছু অংশ ছিল অবসর, আর এই টুকুন সময়কে কেন্দ্র করেই সিদ্ধান্ত নিতাম- আজ কোনদিকে ঘুড়তে বেরুবো। কোনদিন বন্ধুদের সাথে গভীর কোন বাগানে অথবা পুড়নো হিন্দু বাড়ির শতবছরের ঐতিহ্য মণ্ডিত বটতলে। আবার যখন পল্লী গ্রাম গুলোর মেঠো পথ ধরে হাঁটতাম তখন মনে হোতো পুরো প্রকৃতিটাই যেন বন্ধু হোয়ে সময় দিচ্ছে আমাকে, যেন রহস্যময়ী এক আলিঙ্গন।
এক সময় পুকুর দেখলে ভয় পেতাম আর এখন বিশাল এক নদিই হচ্ছে আমাদের অজু-গোসলের প্রধান মাধ্যম। তাই ধিরে ধিরে ভয়ের পরিবর্তে জন্মাতে থাকে আনন্দ। আমাদের মাদ্রাসার পশ্চিম পাশ ঘেঁসে বোয়ে গেছে কীর্তনখোলা নদি, এটিই হল ঢাকা-বরিশাল মহা রুট। চলতি পথে বাজার সদয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে বড়ো বড়ো শিপ, কার্গো, যাহাজ ইত্যাদি নোঙ্গর করত মাদ্রাসা সংলগ্ন নদি তীরে। আর এই সুবাদে আমাদের গোছল বিনদনে যোগ হোতো নতুন মাত্রা। যাহাজের পেছনের অংশটি ছিল দ্বিতল বিশিষ্ঠ। মোটা রশি বেয়ে যাহাজের ছাঁদে উঠতাম ছাঁদ থেকে জলে লাফানোর মিশন নিয়ে। নয়াপল্টন আর প্রেসক্লাব চত্বরের উগ্রবাদী মিছিলের ন্যায় বোয়ে যাচ্ছে নীলপ্রভ জলরাশি। তার পর, একের-পর-এক এই নিয়মে লাফিয়ে পরতাম নদিতে। খানিক্ষণের জন্য হারিয়ে যেতাম নদি গর্ভে কিন্তু নিঃশ্বাস ফুরাবার পূর্বেই ভেসে উঠতাম অবলিলায়। এবার শুরু হোতো তরে ফেরার প্রতিযোগিতা, কিন্তু এত সহজ নয়- পরতে হোতো ঘূর্ণয়মান পাকের ফাঁদে। এক হাত অগ্রসর তো পাঁচ হাত পশ্চাৎ, এভাবেই চরাই-উৎরাই পার কোরে উঠতে হোতো ডাঙ্গায়।
পরের দিন হয়তবা চরে নইলে ব্লক বিছানো নদীর ঘাঁটে, সেই চর না যেন কোন সমুদ্র সৈকত। প্রথমে মহীসোপান পরে মহীঢাল। আমাদের আনন্দে চরের বালি যেন পরিণতি পেত চাঁদের মাটিতে। এখানে আমরা গোছল সারতাম কয়েকটি পর্বে। প্রথমে দৌড় ও জাম্প প্রতিযোগিতা পরে হোতো হাডুডু অথবা হাঁটুজল পানিতে দৌড়ে এসে ডিগবাজীর মহরা। সবশেষে নানা প্রকার জলজ খেলা। এবং একপর্যায় প্রস্থান। এভাবেই কেটে যায় আমার কৈশোর। আর সেই সাথে শেষ হয় ০৫-০৬ শিক্ষা বর্ষ শুরু হয় দাখিল (এস.এস.সি) পরীক্ষা। এবং ২০০৭ সালে মানবিক শাখা থেকে উত্তীর্ণ হই ৪.৮৩ নিয়ে। (চলবে...)
আজ-কালকার দিনগুলো আমার, যেন এখনো অমলিন (পর্ব ৪)
©somewhere in net ltd.