নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বেলাশেষে ক্লান্ত-তৃষ্ণার্ত পথিকের ন্যায় আসলাম সামুর তীরে, রেখে যেতে চাই কিছু অবিস্মরণীয় কীর্তি । পারি না আর না পারি, চেষ্ঠার ত্রুটি রাখবো না, এই ওয়াদা করছি ।

মোশারফ হোসেন ০০৭

একজন শৌখিন লেখক আমি, আবার কবিও বলা যেতে পারে । যখন যা ভালো লাগে তাই লিখি ।

মোশারফ হোসেন ০০৭ › বিস্তারিত পোস্টঃ

একটি লাল গোলাপ আর হারিয়ে যাওয়া একজন - ।। পর্ব - ০৫ ।।

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:২০

যারা আগের পর্বগুলো পড়েননি, শুধুমাত্র তাদের জন্য আগের পর্বগুলোর লিংক দিলামঃ
একটি লাল গোলাপ আর হারিয়ে যাওয়া একজন - ।। পর্ব - ০১ ।।, একটি লাল গোলাপ আর হারিয়ে যাওয়া একজন - ।। পর্ব - ০২ ।।, একটি লাল গোলাপ আর হারিয়ে যাওয়া একজন - ।। পর্ব - ০৩ ।।, একটি লাল গোলাপ আর হারিয়ে যাওয়া একজন - ।। পর্ব - ০৪ ।।



ততক্ষণে সেই জায়গাটিতে বেশ বড় রকমের জটলা বেধে গেছে । সুমনার দেরি হতে দেখে তার বন্ধু-বান্ধবরা ভিড় ঠেলে তাকে খুঁজতে এসে এই দৃশ্য দেখে বেশ অবাক হয় । তারা হাসান ভাইয়ের এই রূপ কখনই কল্পনাও করতে পারেনি । সেদিন থেকে আজ অবধি সুমনার হাত ছাড়েনি হাসান । অদ্ভুতভাবে ঠিক সেদিন থেকেই হাসান সাহেব আড্ডাপ্রিয় হয়ে গিয়েছিলেন । বন্ধু-বান্ধব, সিনিয়র, জুনিয়র সবার সাথেই বেশ আড্ডা মারতেন । অবশ্য এর কারণে তার রেজাল্টে কোন তারতম্য হয়নি ।

পার্টিতে বেশ মজা হল । কিছুক্ষণ নাচ-গান, একসাথে খাওয়া-দাওয়া, এরপর আবার বাচ্চাদের একসাথে খেলাধুলা সব কিছুই বেশ আনন্দদায়ক হল । পার্টি শেষে সবাই ধীরে ধীরে চলে গেল । দেখতে দেখতে মুহূর্তেই সবকিছু কেমন জানি নীরব হয়ে গেল । মিসেস সুমনা চৌধুরী নিজের শরীরের দুর্বলতাকে উপেক্ষা করেই আনন্দ করেছেন সবার সাথে, তাই এখন তার শরীর বেশি দুর্বল লাগছে । তার এখন ঘুমানো প্রয়োজন । তিনি কোনরকমে ফ্রেশ হয়ে ঔষুধ খেয়েই বিছানায় শুয়ে পড়লেন ।

হাসান সাহেব সবাইকে বাড়ির গেট পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসলেন, বাড়িতে ফিরেই এসে দেখলেন তার স্ত্রী শুয়ে পড়েছেন । যার জন্য এত আয়োজন, তাকে তিনি খুশি করতে পেরেছেন, এতেই তো সার্থকতা । কিন্তু তিনি তো কোন উপহার দিতে পারেননি তাকে । সে যে শখ করে তাজা একটা লাল গোলাপ কিনে এনেছিল, সেটাই তো নিজের স্ত্রীকে দিতে পারেনি । এরকম তাজা লাল গোলাপ এই মেয়েটির সবসময় প্রিয় ছিল ।

তারা দুইজন রিলেশন হওয়ার পর যখন প্রথম ভার্সিটির বাইরে দেখা করে, তখন মেয়েটি তাকে বলে, আমার সাথে দেখা করতে হলে সবসময় একটি তাজা লাল গোলাপ নিয়ে আসতে হবে, বাসি হলে চলবে না । কি আর করার, প্রিয় মানুষটার আবদার বলে কথা । তাই তো কখনও গাছ থেকে চুরি করে, আবার কখনও ফুলের দোকান থেকে কিনে নিয়ে এসেই তবেই দেখা করার সুযোগ মিলতো ভালোবাসার মানুষটির । বিয়ের পর অবশ্য সেই অবস্থা অনেকটাই শিথিল হয়েছে । তবে প্রথম কয়েক বছর বিশেষ দিনগুলোতে সেই তাজা গোলাপের ফরমায়েশ ঠিকি ছিল । এরপর আস্তে আস্তে সময় গড়ানোর সাথে সাথে কি করে যেন ভুলে গেছে দুইজনই । কিন্তু আজও ঠিকই তাজা সেই গোলাপের কথা মনে আছে হাসান সাহেবের । তাই তো অন্যান্য আয়োজনের সাথে এই তাজা গোলাপের আয়োজন তিনি করেছিলেন । কিন্তু তা তো আর সুমনাকে দেওয়া হল না, যাক, সকালে না হয় দেয়া যাবে, এই ভেবেই সেই তাজা গোলাপটি তাদের বক্স খাটের এক পাশে রেখে দিলো হাসান সাহেব ।

আচ্ছা, এক কাজ করলে কেমন হয় ? অফিস থেকে এক সপ্তাহের ছুটি নিয়ে নিলে কেমন হয় ? রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগেই হঠাৎ মাথায় বুদ্ধি আসলো হাসান সাহেবের । তার স্ত্রীর অনেক দিনের শখ সমুদ্র দেখবে । বেচারি কোনদিন কক্সবাজারে যায়নি । তাই সমুদ্রও দেখা হয়নি । আবার কক্সবাজার গিয়ে সেন্ট-মার্টিন দ্বীপে না গেলে কি হয় ? হুম, ভালোই হয় । ছেলে-মেয়ে বাচ্চাদুইটা আর তারা দুই টুনা-টুনি মিলে ভালোই পারিবারিক ট্যুর হয়ে যাবে । ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে গেলেন হাসান সাহবে ।

খুব সকালেই ঘুম ভেঙ্গে গেল হাসান সাহেবের । মিসেস সুমনা চৌধুরী অবশ্যই তখনও ঘুমিয়ে আছেন । মাঝে মাঝে হাসান সাহেবের বিশ্বাস হয় না, এমন একটি মেয়েকে তিনি বিয়ে করতে পেরেছেন ? আচ্ছা, মেয়েটি যখন তার আই লাভ ইউ এর উত্তরে হ্যাঁ বলে, তখন সে কি ছিল ? এই মেয়ের তুলনায় তার কোন যোগ্যতাই ছিল না । সে ছিল এক ক্যাবলাকান্ত আর আর মেয়েটি ছিল অপরূপা সুন্দরী । তাছাড়া তিনি এসেছেন কোথাকার এক হতদরিদ্র পরিবার থেকে আর এই মেয়েটির পরিবার ছিল অভিজাত ও সম্ভ্রান্ত । কি করে যে সব মিলে গেল, এখনও ভাবলে বেশ অদ্ভুত মনে হয় হাসান সাহেবের । যাক, তিনি সারাজীবন গর্ব করেই বলতে পারেন এই মেয়েটিকে তিনিই পেয়েছেন, সারাজীবনের জন্য নিজের করে পেয়েছেন ।

(বাকীটা আগামী ও শেষ পর্বে)

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.