নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বেলাশেষে ক্লান্ত-তৃষ্ণার্ত পথিকের ন্যায় আসলাম সামুর তীরে, রেখে যেতে চাই কিছু অবিস্মরণীয় কীর্তি । পারি না আর না পারি, চেষ্ঠার ত্রুটি রাখবো না, এই ওয়াদা করছি ।

মোশারফ হোসেন ০০৭

একজন শৌখিন লেখক আমি, আবার কবিও বলা যেতে পারে । যখন যা ভালো লাগে তাই লিখি ।

মোশারফ হোসেন ০০৭ › বিস্তারিত পোস্টঃ

একটি লাল গোলাপ আর হারিয়ে যাওয়া একজন - ।। পর্ব - ০৬ ও শেষ পর্ব ।।

৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ১০:৫৯

যারা আগের পর্বগুলো পড়েননি, শুধুমাত্র তাদের জন্য আগের পর্বগুলোর লিংক দিলামঃ
একটি লাল গোলাপ আর হারিয়ে যাওয়া একজন - ।। পর্ব - ০১ ।।, একটি লাল গোলাপ আর হারিয়ে যাওয়া একজন - ।। পর্ব - ০২ ।।, একটি লাল গোলাপ আর হারিয়ে যাওয়া একজন - ।। পর্ব - ০৩ ।।, একটি লাল গোলাপ আর হারিয়ে যাওয়া একজন - ।। পর্ব - ০৪ ।।, একটি লাল গোলাপ আর হারিয়ে যাওয়া একজন - ।। পর্ব - ০৫ ।।



হাসান সাহেব তখনও ভাবনার রাজ্যে ডুবে ছিলেন কিন্তু দ্রুতই তিনি বাস্তব জীবনে ফিরে আসলেন কারণ হঠাৎ করেই মিসেস সুমনা চৌধুরীর কাশি শুরু হয়ে গেল । সাঙ্ঘাতিক কাশি । কাশতে কাশতেই মুখ দিয়ে রক্ত পড়তে লাগলো । দেরি না করে দ্রুত এ্যাম্বুলেন্সের জন্য ফোন করা হলো । এ্যাম্বুলেন্স কিছু সময় পরেই চলে আসলো । এ্যাম্বুলেন্সে করে মিসেস সুমনা চৌধুরীকে হাসপাতালে নেয়া হলো ।
হাসপাতালে মিসেস সুমনা চৌধুরীকে ভর্তি করা হলো । একটি কেবিন দেওয়া হয়েছে তাকে । তিনি কাশতে কাশতেই অজ্ঞান হয়ে গেছেন প্রায় সাত-আট ঘণ্টা আগে । এখনও জ্ঞান ফেরেনি । বাচ্চাগুলোকে বুয়ার কাছে দিয়ে এসেছেন, তাই আপাতত তাদের নিয়ে কোন চিন্তা নেই । অফিস থেকে ফোন করে ছুটি নিয়ে নিলেন হাসান সাহেব । আজকে আর কোন কাজে মন আসবে না, এই ভেবেই ।

ডাঃ হান্নান কেবিনে বেশ কয়েকবার করে এসে রোগীর অবস্থা দেখতে লাগলেন । তবে আজকে শুধু ডাঃ হান্নান না, হাসপাতালের বেশ কয়েকজন ডাক্তার মিসেস সুমনা চৌধুরীর পিছনে ব্যস্ত সময় দিচ্ছেন, কারণ হয়তো সেই ডাঃ হান্নানই । এভাবেই সকাল থেকে সন্ধ্যা হয়ে গেল । সন্ধ্যার একটু আগে মিসেস সুমনা চৌধুরীর জ্ঞান ফিরলো । তিনি কোনরকমে চোখ খুলেই হাসান সাহেবকে খুঁজতে লাগলেন । হাসান সাহেব তার হাত ধরে তার পাশে বসলেন । ডাক্তার আর নার্সদের সামনেই স্বামীর হাত ধরতে মিসেস সুমনা চৌধুরীর একটু অস্বস্তি হচ্ছে ঠিকি কিন্তু হাত ছাড়তে মন চাইছে না । মুখে তার শুকনা হাসি লেগে আছে ।

- তুমি আমাকে বলোনি কেন ?

- কি বলিনি ?

- তুমি আমার কাছ থেকে লুকিয়েছ । এটা মোটেও ঠিক হয়নি । মনে নেই, আমরা বিয়ের আগেই শপথ করেছিলাম, আমরা জীবনেও একে অন্যের থেকে কিছু লুকাবো না ।

- আরে বাবা, কি লুকালাম, সেটা বলবে তো ?

- হুম, লাস্টবার হাসপাতাল থেকে বাড়ি যাওয়ার পর আমার প্রতি তোমার সন্দেহজনক কেয়ারিং দেখে আমি তোমার বন্ধু হান্নান সাহেবকে আমার কি হয়েছে, এটা নিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম ।

- হান্নান, তোমাকে বলেছে কিছু ?

- প্রথমে বলতে চায়নি । কিন্তু আমি অতিরিক্ত পীড়াপীড়ি করার কারণে বলেছে শেষ পর্যন্ত ।

হাসান সাহেবের চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে এলো । কি বলবেন এখন তিনি ? কি বলার আছে আর তার ? নিজের ভালোবাসার মানুষটির কাছে কেমন জানি অপরাধী হয়ে গেছেন তিনি । তিনি অন্য দিকে তাকিয়ে চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে, খেয়াল না করলেও আদতে মিসেস সুমনা চৌধুরীও কাঁদছেন । নীরব কান্না দুইজনেরই । তাদের এই অবস্থা বুঝতে পেরে রুমে থাকা বাকীরা তাদের একা রেখে বেরিয়ে গেল ।

- দেখো, বাচ্চাগুলোর ভালো করে খেয়াল রেখো । ওরা যেন কোনদিন মায়ের অভাব বুঝতে না পারে ।

- মানে ? তুমি এমন কিছু বলছো কেন ? তুমি অবশ্যই ঠিক হয়ে যাবে । দরকার হলে তোমাকে আমি বিদেশে নিয়ে যাবো ।

- আর বাড়ির ঠিকমত খেয়াল রাখবে । আরেকটা বিয়ে করবে কিনা, এই সিদ্ধান্ত নেয়ার স্বাধীনতা দিয়ে গেলাম তোমাকে । তবে খবরদার, আমাকে ভুলবে না কোনদিন ।

- গেলাম মানে ? তুমি সুস্থ হয়ে আমার সাথে বাড়ি যাবে । তোমাকে কিছু হতে দেবো না আমি । (এবার অনেকটাই সজোরেই কেঁদে ফেললেন হাসান সাহেব) ।

কিছুক্ষণ আগেই নিথর হয়ে গেছেন মিসেস সুমনা চৌধুরী । হাসান সাহেবের জীবনের সবচেয়ে ভালোবাসার, গুরুত্বপূর্ণ মানুষটি এই দুনিয়ায় আর নেই । সে এখন শুধুই হারিয়ে যাওয়া একজন, শুধুই একটি স্বৃতি । হ্যাঁ, সেই লাল গোলাপটি বোধ হয় তাকে দিয়ে দেয়ার দরকার ছিল । সৃষ্টিকর্তাকে দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানানো যেত সেই লাল গোলাপটির দ্বারা । হাসান সাহেবের ভাবনাগুলো কেমন জানি উলট-পালট হয়ে যাচ্ছে । কিন্তু তাকে তো সামলে উঠতে হবেই । কমপক্ষে তাদের সন্তানদের জন্য তো বটেই । এখন তো তিনিই তাদের বাবা, আবার তাদের মা । এই জীবন তিনি আর কারও সাথে শেয়ার করবেন না, কোনদিন না । জীবনে একবারই ভালোবাসা যায়, বারবার না । শুধু তার একটাই আফসোস থাকবে এই জীবনে, তার সবচেয়ে ভালোবাসার মানুষটিকে, হারিয়ে যাওয়া একজনকে সেই লাল গোলাপটি আর দেওয়া হলো না ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.