নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বেলাশেষে ক্লান্ত-তৃষ্ণার্ত পথিকের ন্যায় আসলাম সামুর তীরে, রেখে যেতে চাই কিছু অবিস্মরণীয় কীর্তি । পারি না আর না পারি, চেষ্ঠার ত্রুটি রাখবো না, এই ওয়াদা করছি ।

মোশারফ হোসেন ০০৭

একজন শৌখিন লেখক আমি, আবার কবিও বলা যেতে পারে । যখন যা ভালো লাগে তাই লিখি ।

মোশারফ হোসেন ০০৭ › বিস্তারিত পোস্টঃ

মেঘের বিপরীত লিঙ্গ, ডে শিপ্ট স্কুল আর চায়ের ধোঁয়াটে কাপের গল্প B-) :P

০১ লা আগস্ট, ২০১৭ ভোর ৪:৩০

হেডফোনে বর্তমান সময়ের ভারতীয় একটি হিট গান "চিজ বাডি হে মাস্ত মাস্ত" শুনতে শুনতে প্লাস্টিকের চপ্পলটা পড়ে জিন্সের প্যান্টটা গোড়ালির একটু উপর পর্যন্ত ভাজ করে শার্টের হাতাটা একেবারে কবজি পর্যন্ত গুটিয়ে বেশ অনেকক্ষণ ধরেই হাঁটছে মিলান । আশেপাশের মানুষজন একটু অবাক হয়ে তার দিকে তাকাচ্ছে ঠিকই কিন্তু নিজেকে নির্ঘাত নায়ক বলে মনে হচ্ছে এই মুহূর্তে তার । আসলে তাকে বেশ কিম্ভূতকিমাকারই লাগছে ।



আকাশের অবস্থা বেশি একটা ভালো না । প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরেই মেঘ ডাকাডাকি করছে । মিলানের এক বন্ধু জুবায়ের একদিন আড্ডায় কথায় কথায় বলেছিল, "মেঘের এভাবে ডাকাডাকি করার নাকি একটা অর্থ আছে ।" সত্যিই অদ্ভুত একটা কথা । বাকী সকলে যখন জিজ্ঞেস করলো, "কি অর্থ, একটু খুলে বল তো, শুনি" তখন জুবায়ের ব্যাখ্যা করলো, "মেঘের মধ্যেও নারী-পুরুষ আছে । মহিলা মেঘ কিংবা পুরুষ মেঘ যখন একা হয়ে যায়, তখনই কষ্টে এরকম ডাকাডাকি করে । আর যে কোন মেঘে সংঘর্ষ বাধলেই বৃষ্টি হয় না, এর জন্য অবশ্যই বিপরীত লিঙ্গের মেঘ হওয়া লাগে । অর্থাৎ পুরুষ মেঘের সাথে মহিলা মেঘের সংঘর্ষেই একমাত্র বৃষ্টি হয়, নতুবা নয় ।" জুবায়েরের এই কথা শুনে আড্ডায় উপস্থিত সকলে হেসে গড়াগড়ি খেয়েছিল । আজকে হাঁটতে হাঁটতে মিলানের জুবায়েরের ঐ কথাটা বেশ মনে পড়ছে । মাথার উপরের মেঘটা পুরুষ নাকি মহিলা, এটা বুঝা যাচ্ছে না । জুবায়ের পাশে থাকলে ওকে জিজ্ঞেস করলে হতো ।

হঠাৎ হাঁটতে হাঁটতে একটি চায়ের দোকানের সামনে এসে দাঁড়ালো মিলান । প্রকৃতি বেশ থমথমে, খুব একটা গরমও না আবার ঠাণ্ডাও না । সময়টা বিকেল বলেই হয়তো এতক্ষণ হাঁটতে ভালো লাগছিল মিলানের । এই আবহাওয়ায় এক কাপ গরম গরম লাল চা তাও আবার ধোঁয়া উড়ানো খেতে সত্যি অনেক ভালো লাগার কথা । যেই ভাবা, সেই কাজ । চায়ের দোকানদারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে,

- মামা, একটা হালকার উপর ঝাপসা লাল চা বানান তো

এই কথা বলেই পাশে রাখা বেঞ্চে বসে পড়লো মিলান । চায়ের দোকানদার মামার দোকানের ঠিক সামনের দিকে অনেকগুলো কাঁচের জারে বিস্কুট সাজানো । খাবে কি খাবে না, এই কনফিউশন কাটিয়ে একটা বিস্কুট নিয়ে খাওয়া শুরু করলো সে ।

পাশেই বোধ হয় একটি ডে শিপ্টের স্কুল ছুটি হয়েছে । বাচ্চারা এক এক করে বের হচ্ছে । ডে শিপ্টের স্কুলের ব্যাপারটা ছোটবেলা থেকেই মিলানের কাছে কনফিউশন । বিকেল বেলা আবার স্কুল করা যায় নাকি !! এই সময়ে তো চোখ ফাটিয়ে ঘুম আসে আর বিকেলের দিকে ফুটবলে কম করে হলেও একটা লাথি না দিলে তো সন্ধ্যার পর পড়াশুনাতেও মনোযোগ আসে না, তবু কিছু অসহায় বাচ্চাগুলোর কিছুই করার থাকে না । বাবা-মায়ের চাপে দুপুরের ঘুম আর বিকেলের দিকের ফুটবল এদের অধরাই থেকে যায় । শুধু শুক্রবার দিনটাতেই এরা নিজেদের রাজ্যের রাজা, তাও আবার শুধু সন্ধ্যা পর্যন্ত । শুক্রবার দিনেও সন্ধ্যার পর এরা সপ্তাহের অন্যান্য দিনগুলোর মতই পরাধীন হয়ে যায় ।

- মামা, এই নেন, আপনার চা ।

দোকানদার মামার ডাকে চিন্তার জগত থেকে ফিরে আসে মিলান । চায়ের কাপে একবার চুমুক দিয়েই চোখ বন্ধ করে বসে সে । মিলানের এই ব্যাপারটা চায়ের দোকানদার মামার চোখে পড়ে,

- কি ব্যাপার, মামা, চা ভালো হয় নি ?
- ভালো !! কি বলেন, এটা তো অসাধারণ, শুধু ভালো বলে এর অপমান করা যাবে না মামা । আমার তো আপনার হাতে একটা চুমু দিতে ইচ্ছে করছে কিন্তু ইচ্ছেটা দমন করছি ।

মিলানের কথা শুনে দোকানদার মামা হেসে দিলো, এমনকি বেঞ্চে আরও দুই-একজন যারা বসে ছিল তারাও হেসে দিলো । সত্যি আজকের বিকেলটা অন্যরকম লাগছে মিলানের কাছে । যা-ই করা হচ্ছে, সবকিছুই ভালো লাগছে । ইশ, সবসময় যদি এমন হতো, তাহলে কতই না ভালো হতো !! :#)

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০১ লা আগস্ট, ২০১৭ ভোর ৫:৪১

জার্মানির পাগলা! বলেছেন: Valo likhechen! 

২| ০১ লা আগস্ট, ২০১৭ ভোর ৬:২৪

ইঞ্জিনিয়ার কবির আহমেদ মাধব বলেছেন: নাইস স্টোরি

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.