| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মাসুদুল হাসান শাওন
অফুরন্ত আলোর সন্ধানে যখন আমি ছুটছি হন্যে হয়ে পৃথিবীর অবশিষ্ট আলোটুকুও তখন কোথায় হারিয়ে গেল - কে জানে!
নষ্টালজিয়া ১
মাসুদুল হাসান শাওন
-আমাদের বাসার জানালার কার্নিশে ইট ঘেরা একটা ছোট্ট বাগান ছিল।
রোজ সেখানে একটি ফুল ফুটতো-নয়নতাঁরা।
সকাল বিকাল কাজের ফাঁকে যখনই আমি বারান্দায় এসে দাঁড়াতাম,
হালকা বেগুনী রঙের ফুলগুলো খুব টানতো আমায়।
সামনে তাকালেই তোমাদের বাসা। পর্দা ঘেরা বেডরুম, বাথরুম, রান্নাঘর।
আমি কতদিন অপেক্ষা করেছি, যদি একটিবার
তুমি আসো জানালায়।
মাঝে মাঝে আসতেও- রান্নাঘরের জানালায়ও
তোমায় দেখা যেত কখনো কখনো।
কিছু একটা নিতে এসে কিছুক্ষণ- একবার জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেও।
কী দেখতে বাইরে তাকিয়ে?
বাসার পেছনের ছোট্ট শ্যাওলার বন, রাস্তায় মানুষের বিচরণ,
নাকি অনতিদূরের আমার পড়ার ঘর,
কোনটায় তোমার নিবদ্ধ হোত দৃষ্টি?
-তোমার পড়ার ঘর বরাবর ছিল আমাদের রান্নাঘরের জানালা।
কাজের ফাঁকে মাঝে মাঝেই আমার চোখ চলে যেত ওদিকটায়।
তুমি বুঝতে পারতে হয়তো-বোধ হয় অপেক্ষাও করতে।
জানালা ছেড়ে অগত্যা সোজা চলে যেতাম তোমার পড়ার টেবিলের সামনে।
বসেই ‘কী পড়ছো?’ কিংবা ‘কেমন আছো?’-এই সব
অহেতুক কথায় শুরু হোত আমাদের এক একটি দিনলিপি।
ঘন্টার পর ঘন্টা কত কী যে কথা হোত তোমার আমার! ছাইপাস!
তবুও ভালো লাগতো কথা বলতে; চলে যেতে মন চাইতো না।
-অথবা কোন ভর দুপুরে পড়তে ভালো লাগছে না, এমনকি ঘুমুতেও।
ইচ্ছে হলো তোমার কাছে যাই। তুমি হয়তো
বিছানায় অলস বসে সুঁইয়ের সূক্ষ্ম ফাঁকে রঙিন সুতো ভরে
কোন ফুল তুলছো তোমার কামিজে।
আমি ছটফটে মনটাকে উড়িয়ে নিয়ে সোজা হাজির হোতাম তোমার সামনে।
তুমি কখনো বিরক্ত হয়ছো কিনা মনে পড়ে না।
সন্ধ্যা অবধি চলতো আমাদের কথোপকথন।
প্রাসঙ্গিক, অপ্রাসঙ্গিক কত আলাপ ছিল আমাদের!
-একটা ছোট্ট ঘটনা মনে পড়ে গেল শুভ। বলব? বলেই ফেলি।
আমি লাউ পাতা ভর্তা খেতে খুব পছন্দ করতাম।
বিশেষ করে তোমার মা’র হাতের বানানো হলে তো কথাই নেই।
একদিন তাই নিয়ে তুমি যাচ্ছিলে আমাদের বাসায়।
আমি তখন তোমার যাবার পথেই রাস্তায়
কারো সঙ্গে দাঁড়িয়ে খোশ গল্পে মত্ত।
জিজ্ঞেস করলাম, কোথায় যাও?’
উত্তর পেয়েই হাতে কী জানতে চাইলাম। তুমি বললে।
‘কই দেখি’ বলে ওখানেই আঙ্গুলে তুলে নিলাম খানিকটা।
খেয়েই স্বাদের অদ্ভুত প্রকাশ ভঙ্গিমা!
তুমি হা করে তাকিয়ে ছিলে আমার দিকে।
অমন বোকার মতন কী দেখছিলে সেদিন আমার মুখে?
আমি বুঝি শাঁকচুন্নি?
_তোমার মুখে এসে পড়েছিল ঝিলিমিলি মেঘছায়া রোদ।
প্রশস্ত ললাটে উড়ছিল চূর্ণ কেশ স্নিগ্ধ হাওয়ায়
কবোঞ্চ ঠোঁটে মুক্তো হাসির ঝিলিক!
ভাবছিলাম শুভ না হয়ে হতাম শুভ্র রোদ,
কিংবা স্নিগ্ধ হাওয়ার ঊর্মি-
এলো চুলে তোমার খেলে যেতাম অনাবিল সুখে
স্নিগ্ধ কপোলে তোমার এঁকে দিতাম চুম্বন শুভ্র রোদের!
©somewhere in net ltd.