| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ক্যাশ সেকশনের কাদের সাহেব কে আমার দিকে আসতে দেখেই বুঝলাম, আমাকে তার ফাইল দেখে দিতে হবে। ভেবেছিলাম আজ একটু তারাতারিই বাসায় ফিরে যাবো, তা আর হবেনা। কাদের সাহেব কাছে আসতেই বললাম, ফাইল দেখে দিতে হবে তো? কয়টা?
কাদের সাহেব একটু অভিমানি গলায় বললেন, আমাকে দেখলেই কি মনে হয় ফাইল দিতে এসেছি?
একটু ভালো-মন্দ জিজ্ঞেস করতেও তো আসতে পারি!
- তা ঠিক।
- এই মাসটাই তো একটু জ্বালাতন করবো, আপনাকে। তারপর তো আপনাকে আবির ভাই বলে ডাকা যাবেনা, বস হয়ে যাবেন।
- কি যে বলেন ভাই, আপনি আমাকে আবির ভাই বলেই ডাকবেন।
- একটা মাত্র ফাইল, একটু দেখে দেন না ভাই।
এই লোকটার হাসির সামনে পুরো দুনিয়াটাই অচল। ফাইলটা আমার সামনে রেখে একটা সুন্দর হাসি দিয়ে চলে গেল।
আর তো মাত্র কয়েকটা দিন, তারপর ই আমার প্রমোশন হবে। রেণুকে নিয়ে বারান্দাওয়ালা একটা ফ্লাটে উঠবো। রেণুর খুব শখ, সে বারান্দায় গোলাপ আর বেলি ফুলের গাছ লাগাবে। রোজ সকালে আমি অফিসে যাওয়ার সময় বারান্দায় দাড়িয়ে থেকে আমায় হাত নেড়ে নেড়ে বিদায় জানাবে।
অনেকটা বাচ্চাদের মত রেনুর স্বভাবটা। বাচ্চাদের ও ভীষন পছন্দ করে।
কাজ শেষ করে বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত এগারটা বেজে গেল। অফিস থেকে বের হয়েছি সেই সাতটায়। আমি কখনোই এত রাত করে বাড়ি ফিরিনা। অথচ রেনু একবার জানতেও চাইল না, আমি এতক্ষন কোথায় ছিলাম! শুধু বিছানা থেকে মুখ তুলে একবার বললো, তোমার ভাত প্লেটে রাখা আছে, খেয়ে নিও আমি খেয়েছি। ভাত খেতে গিয়েই খেয়াল হলো, চিকন চালের ভাত। খুব দামি চালের হবে নিশ্চই। এ চাল তো আমি আনিনি। পাশের বাসার ভাবির কাছ থেকে চেয়ে এনেছে। আমার চাকরিটা পাওয়ার আগে জানতাম ই না, পাশের বাসার ভাবি এত ভালো মানুষ। একদিন সন্ধ্যা বেলায় বাসায় ফিরেই দূর থেকে রেনুর কন্ঠ শুনতে পেলামা,"প্লিজ ভাবি আমি আপনার পায়ে পড়ি, এক কেজি চাল দেন শুধু, সারাদিন ও হয়তো কিছুই খায়নি।"
সেদিন আর বাসায় ফিরিনি, নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছিল। ইচ্ছে হচ্ছিল এক ছুটে একটা ট্রাকের নিচে গিয়ে পড়ি, তারপর সব ঠান্ডা। এত কষ্ট তো আর সহ্য করতে হবেনা।
রেনুর ক্লান্ত মায়াবী মুখটা দেখলে আমি সব কষ্ট ভুলে যাই। মেয়েটাকে সারাটাদিন এই একটা রুমের মধ্যে থাকতে হয়।
ওকে এখনো বলাই হয়নি আমার প্রমোশন হয়েছে। আগামি মাস থেকেই আমি নতুন পোষ্টে জয়েন করবো। আমরা একটা নতুন ফ্লাটে উঠবো। ইচ্ছে করেই বলিনি, কাল বলবো। কাল আমার আর রেনুর জীবনের একটা বিশেষ দিন। কাল আমাদের বিয়ের পাঁচ বছর পুর্র্ন হবে। বিয়ের পরের তিনটা বছর যে কতটা কষ্টে কেটেছে, তা বলে বোঝানো যাবেনা। আমার গ্রেজুয়েশন কমপ্লিট করার আগেই হুট করে আমাদের বিয়েটা হয়ে গেল। বাবার পছন্দ করা ছেলেকে বিয়ে না করে, সোজা বাড়ি ছেড়ে চলে এলো। নিজের পড়ালেখা বন্ধ করে দিল, অথচ এতটা কষ্টের মধ্যে থেকেও আমাকে পড়ালেখা বাদ দিয়ে চাকরি করতে দিলনা।
সকালে ঘুম থেকে উঠেই রেনু আমায় টেনে তুললো, প্রতিদিনের মতই মেয়েটা নাস্তা রেডি করে ফেলেছে এর মধ্যে। ভুলেই গেছে হয়ত, আজ আমাদের ম্যারেজ ডে। আমি এখনো অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হইনি দেখে, যেন তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো। আমাকে কি বলছে, আমি কিছুই শুনতে পাচ্ছিনা। ও রেগে গেলে আমি কিছু শুনতে পাইনা আমি। শুধু ওর অসম্ভব সুন্দর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি। কি যেন এক নেশায় আটকে যাই। বাকশক্তি হারিয়ে ফেলি। রেনুকে নিয়ে আজ একবছর পর বের হলাম। গতবছর ঠিক এই দিনটাতেই ওকে নিয়ে এই এতিমখানায় এসেছিলাম। বাচ্চাদের সাথে ওর খুব ভাব। মাঝে মাঝে বাসায় একা ওর ভালো না লাগলে ও একা এখানে চলে আসে। আমাকে ওদের কথা বলে। ছোট ছোট বাচ্চাদের সাথে কিছুক্ষন থাকলে মনটা এক অপূর্র্ব পবিত্রতায় ভরে যায়। বাচ্চাদের সাথে রেনুকে খেলতে দেখে, ওকেও খুব বাচ্চা বাচ্চা লাগছে। ওর খুব ইচ্ছে হয়, এদের খেলনা কিনে দিবে। খেলনা প্যাকেটটা খুলতেই, রেনু খুশিতে লাফিয়ে উঠলো। সবার হাতে হাতে খেলনা দিতে লাগলো। একফাকে আমার কানে কানে এসে জিজ্ঞেস করলো, এতকিছু কেন আজ?
-আমার প্রমোশন হয়েছে।
অবাক দৃষ্টিতে রেনু আমার দিকে চেয়ে রইল।
আমি ওর কানে কানে বললাম, হ্যাপি ম্যারেজ ডে।
হঠাত্ ই যেন রেনুর চোখের বাধ ভাংল। ঝাপিয়ে পড়ল আমার বুকে। আমি আর পারলাম না নিজেকে আটকে রাখতে, খুব শক্ত ভাবে জড়িয়ে ধরলাম।
কি অদ্ভুত, কতগুলো নিষ্পাপ বাচ্চা মাঠে খেলছে আর তাদের মাঝে দুজন মানুষ পরষ্পর কে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে, যারা কখনোই বাবা-মা হতে পারবেনা!!!
২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সকাল ১০:৪৮
দিনের শেষ আলোকবিন্দু বলেছেন: ধন্যবাদ ভাইয়া।।।
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১১:৪৪
হাসান মাহমুদ ১২৩৪ বলেছেন: খুব ভালো লেগেছে। অনুভূতি তে ভরপুর। চালিয়ে যান