| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মাসের প্রায় অর্ধেকটা শেষ
হতে চললো।
বাড়ি থেকে বলে দিয়েছে,"তোর
আব্বার কাম কাইজ কিচ্ছু নাই।
তোরে টাকা পাঠামু কই থেকে?
চলতে পারবিনা বাবা?"
আমি দ্বিধাহীন
কন্ঠে বলেছিলাম,"না,মা টেনশন
কইরো না, আমি চলতে পারমু।"
ওদিকে টিউশনির টাকাটাও পাইনি।
নতুন টিউশনি করতেছি, চাইতেও
লজ্জা লাগে। আজকাল সবকিছুতেই
লজ্জা লজ্জা লাগে।
আমাদের বোর্ডিং মেসের নিয়ম
অনুযায়ী, ৫ তারিখের মধ্যেই থাকা আর
খাওয়ার টাকা অগ্রিম দিতে হবে।
কিন্তু এখন মাসের অর্ধেক হতে চললো,
পকেটে দশ টাকার একটা নোট
নিয়ে ঘুরছি। টাকাটা খরচ করতেও ভয়
লাগছে। মেচে এখন আমার এক মুহুর্ত
থাকতেও ইচ্ছা করেনা, কেমন যেন
লজ্জা লজ্জা লাগে। যদিও মেসের
ম্যানেজার আতিক ভাই আমাকে কিছুই
বলেনি, তবুও কেন যেন লজ্জা পাচ্ছি।
কি করব, কোথা থেকে টাকা ম্যানেজ
করব, কিছুই মাথায় আসছেনা।
ইচ্ছে হচ্ছে সবকিছু
ছেড়ে ছুড়ে দিয়ে কোথাও চলে যাই,
তাও পারছিনা।। মাথার মধ্যে প্রচন্ড
যন্ত্রনা হচ্ছে।
ঐদিকে আবার ক্লাসমেট গুলো প্রায় দু-
একদিন পর পর ই
এখানে সেখানে ঘুরতে যাচ্ছে।
নানা অজুহাতে আমি ওদের কাছ
থেকে দূরে সরে থাকছি। একজন
তো বলেই ফেললো, "এতো ভাব দেখাস
কেন তুই? ভাব
দেখানো ছেলে আমি পছন্দ করিনা!
বন্ধুদের সাথে ভাব
দেখানো পারলে একটু বাদ দে, তোর
ভালোর জন্যই বলছি।"
আমি একগাল হেসে জবাব দিলাম,"ভাব
দেখানোর মজাই আলাদা,
নিজেকে কেমন যেন
আলাদা আলাদা লাগে। অদ্ভুত
একটা ফিলিংস! তুই ও ভাব নেয়া শুরু কর,
মজা পাবি অনেক।"
আমার উত্তর শুনে ও
হয়তো খুশি হতে পারেনি।
মুখখানাকে বাংলায় পাঁচ অক্ষরের মত
করে চলে গেল।
আমার চিৎকার
করে বলতে ইচ্ছে করছিল,"হ্যা আমি ভাব
নেই। ভাব নেয়াটা নিম্ন-মধ্যবিত্ত
ঘরে জন্ম নেয়া ছেলেদের জন্মগত
দায়িত্ব।"
একদিন বাবার সদ্য
কিনে দেয়া জ্যামিতি বক্সটা হারিয়ে ফেলেছিলাম।
আমি ভয়ে অস্থির হয়ে পড়েছিলাম। স্কুল
থেকে বাসায় ফিরে মায়ের আঁচলে মুখ
লুকিয়ে সেকি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না।
বাবার কাছে কিছু বলতে না পারলেও,
মায়ের কাছে ঠিকই বলতাম। কিছু
হারিয়ে গেলে,
পরে গিয়ে ব্যাথা পেলে কিংবা টাকা লাগলেই
মায়ের আঁচলে মুখ লুকিয়ে বললেই ঠিক
হয়ে যেত।
ছোটবেলার সবকিছুতেই কান্না পাচ্ছে,
আর ভাবতেই পারছিনা।
পকেটের শেষ দশ টাকার নোটটাও খরচ
করে ফেললাম। শহরের পিচঢালা পথে,
অজানার উদ্দেশ্যে হাটছি। আজ মায়ের
কথা খুব মনে পড়ছে। দুচোখ বেয়ে গরম
জলের স্পর্শ পাচ্ছি।
দেখ মা, তোমার ছেলে আর সেই ছোট্ট
ছেলেটি নেই। অনেক বড় হয়ে গেছে।
এখন আর তোমার আঁচলে মুখ
লুকিয়ে কাঁদবেনা। তার হাতে জ্বলন্ত
সিগারেট!!!!
২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ৮:৪৬
দিনের শেষ আলোকবিন্দু বলেছেন: আপনার এত সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
কথাগুলো মনে রাখব।
২|
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১:৫৫
চাঁদগাজী বলেছেন:
এ ধরণের কিছু গদ্যে লিখলে কেমন হয়?
২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সকাল ১০:৪৭
দিনের শেষ আলোকবিন্দু বলেছেন: ট্রাজেডি সবসময় ই অসাধারণ।।।
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ৮:২৭
রুপম হাছান বলেছেন: ব্যক্তিগত ইতিহাসটি পড়ে ভালো লাগলো তবে শেষের এই নিখুঁত সত্যটি প্রকাশ না করলে মনে হয় আরো ভালো হতো। মনে হয় সেটা মায়ের প্রতি আরো বেশি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশ পেতো যদি আপনি অন্য কিছু দিয়ে তুলনা করতেন।
মনে রাখবেন ভাই, এটা আমি বলছি- মা-বাবা’র সামনে যে কাজ করা যাবে না কিংবা অন্য বড়দের সামনে ও করা যায় না সেই কাজের উদাহরণ টানা কিংবা সেই কাজটি করার মানেই হলো আপনি সম্মানিত ব্যক্তিদের ছোট করেছেন।
যাই হোক আপনি অনেক সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন আপনার লিখনিতে। আবেগ আছে লিখায়।
“আমার চিৎকার
করে বলতে ইচ্ছে করছিল,"হ্যা আমি ভাব
নেই। ভাব নেয়াটা নিম্ন-মধ্যবিত্ত
ঘরে জন্ম নেয়া ছেলেদের জন্মগত
দায়িত্ব।"