নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মিশু মিলন

মিশু মিলন

আমি বর্তমানে ইস্টিশন এবং সামহোয়্যার ইন ব্লগে লিখি। আমার সকল লেখা আমি এই দুটি ব্লগেই সংরক্ষণ করে রাখতে চাই। এই দুটি ব্লগের বাইরে অনলাইন পোর্টাল, লিটল ম্যাগাজিন এবং অন্য দু-একটি ব্লগে কিছু লেখা প্রকাশিত হলেও পরবর্তীতে কিছু কিছু লেখা আমি আবার সম্পাদনা করেছি। ফলে ইস্টিশন এবং সামহোয়্যার ইন ব্লগের লেখাই আমার চূড়ান্ত সম্পাদিত লেখা। এই দুটি ব্লগের বাইরে অন্যসব লেখা আমি প্রত্যাহার করছি। মিশু মিলন ঢাকা। ৯ এপ্রিল, ২০১৯।

মিশু মিলন › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমাদের নায়িকা আর ‘বটা বুনি’র গল্প

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৩২



বাসায় যতক্ষণ থাকি, হয় পিসিতে নয়ত বইয়ে মুখ গুঁজে থাকি। অফিসে ঢুকেও সারাক্ষণ পিসিতে। আড্ডা বা হাসিঠাট্টা হয় না বললেই চলে। অফিসে কখনও সখনও আমরা সহকর্মীরা একে-অন্যকে নিয়ে একটু-আধটু হাসি-ঠাট্টা করি। আজ একটু চটুল বিষয়ে হাস্যরস হচ্ছিল, আমি কিছু বলতেই এক সহকর্মী অবাক হয়ে বলল, ‘ভাই, আপনিও এসব বলেন!’ ওর বিশ্বাসই হচ্ছিল না যে আমি দুষ্টু কথা বলতে পারি! বললাম, ‘শোনেন, আমার মধ্যেও সেফুদা আছে, লাগাম পড়িয়ে রাখি!’
তারপর সহকর্মীদের উদ্দেশে বললাম, ওই যে এক নায়িকা বলেছে না যে সব পাপ ধুয়ে মুছে সুন্দর ভাবে মরতে চায়। বাংলা সিনেমার বেশিরভাগ নায়িকাই সারাজীবন অভিনয় করে টাকা কামিয়ে এক সময়ে সহি চলে যায়। তার ওই নিউজ দেখে দু-দিন ধরে আমার মাথায় একটা বিষয় ঘুরছে, কিন্তু সময়ের অভাবে ফেসবুকে লিখতেও পারছি না। এখন আপনাদের বলি শোনেন- আমাদের রাজবাড়ীতে ‘বুনি’ শব্দের প্রচলন নেই, আমাদের ওদিকে ‘দুধ’, ‘স্তন’, ‘মাই’ এই শব্দগুলোর ব্যবহার আছে। ‘বুনি’ শব্দের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হরিশংকর জলদাসের ‘কসবি’ উপন্যাস পড়ে, তাও অনেক বছর হয়ে গেছে, বইটা যখন বের হয় তখন। হরিশংকর জলদাসের অসাধারণ এক উপনাস- কসবি। যৌনকর্মীদের নিয়ে লেখা। এই উপন্যাসে এক প্রকার ‘বুনি’র কথা বলা হয়েছে, যার নাম- ‘বটা বুনি’। তো এই ‘বটা বুনি’ ব্যাপারটা কী? যৌনপল্লীর যে-সব নারীদের এক সময় বয়স হয়ে যায়, বুড়ি হয়ে যান, গায়ের চামড়া কুঁচকে যায়, আর ‘বুনি’ ঝুলে পড়ে নাভির কাছে; তখনও তারা খরিদ্দার পাবার আশায় তাদের ঝুলে পড়া ‘বুনি’ বটিয়ে বটিয়ে অর্থাৎ ভাঁজ করে করে ব্লাউজের মধ্যে ঢুকিয়ে বোতাম লাগায়। যদি কোনো খরিদ্দার আকৃষ্ট হয়! এটাই হচ্ছে- ‘বটা বুনি’।
আমাদের দেশের অধিকাংশ নায়িকাদের যখন ‘বটা বুনি’ হয়ে যায়, কেউ আর ড্যাব ড্যাব করে তাকায় না, তখন তারা সারা জীবনের কর্মকে পাপ মনে করে সহি লাইনে চলে যায়। হিজাব-বোরকায় সব ঢেকে রাখে। কিন্তু তাদের ভাষায় পাপ কাজ থেকে অর্জিত তারা সম্পদ ত্যাগ করে না।
ওরা ‘বটা বুনি’র গল্প শুনে হাসল। এক সহকর্মী আগ্রহ নিয়ে উপন্যাসের নামটা জেনে নিল, কেউ যদি একটা বইও কেনে তবে আমার গল্প বলা সার্থক। হরিশংকর জলদাসকে আরও বেশি বেশি পড়া উচিত।
সবাই ভাবে লেখকরা গম্ভীর প্রকৃতির, হাসে কম, সারাক্ষণ সিরিয়াস থাকে, কোনো চটুল বা যৌনতার বিষয়ে ভাবে না। বলি বাপু- আমরাও তো মানুষ, আমাদেরও তো অনুভূতি আছে! আমরা লেখকরা চটুল বা যৌনতা নিয়ে খুউব ভাবি, না ভাবলে লিখি কেমনে! আমরা আমাদের গল্প-উপন্যাসের প্রতিটা চরিত্রের ভেতরে ঢুকে দেখি, বাইরে থেকেও দেখি, উল্টে-পাল্টে দেখি, কোনো কোনো চরিত্রের কাপড় খুলেও দেখি! আমার যেহেতু প্র্যাকটিক্যালি দেখার কোনো সুযোগ নেই, তাই কোনো চরিত্রের বর্ণনার ক্ষেত্রে দরকার হলে আমি বিখ্যাত শিল্পীদের ন্যুড পেইন্টিং আর খ্যাতিমান ফটোগ্রাফারদের ফটোগ্রাফি দেখি! পর্ণগ্রাফি আমার ভালো লাগে না।
সারাক্ষণ মাথার মধ্যে লেখার বিষয়, আঙ্গিক, চরিত্র নিয়ে ঘুরে বেড়াই। অফিসের সময়টুকুতেও টকশোর স্ক্রিপ্টের ডিজাইন নিয়ে ভাবি। কোনো মানুষ দেখলেও তার চরিত্র পড়ার চেষ্টা করি। তো হাসবটা কখন! কিন্তু তার মানে এই না যে আমরা চটুল বিষয় বুঝি না!


ঢাকা।
১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: সবাই ভাবে লেখকরা গম্ভীর প্রকৃতির, হাসে কম, সারাক্ষণ সিরিয়াস থাকে,
কোনো চটুল বা যৌনতার বিষয়ে ভাবে না।

.................................................................................................
অত্যন্ত বাস্তব কথা, মানুষ মাত্রই তার মানবিক গুনাবলীর চর্চ্চা করবে
নাহলে সে রোবটের খাতায় নাম লিখুক !
আশ্চর্যর ব্যাপার সব পরিবারেই চায়, ছেলে মেয়ে বা বটাবুনি বউ
যে, কর্তা কোন নারীর দিকে তাকাবেনা, কথা বলবেনা, হাতের লাঠির মতো
ঘরের একপাশে দাড়ায়ে থাকবে ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.