| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন বাড়িয়ে চলেছে। এতে সরকারের কী ফায়দা হবে? প্রজেক্ট এখন যেভাবে চলছে তার কোনো ভবিষ্যৎ নেই। ২০২৩ সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত মাত্র তিন লাখ আশি হাজার মানুষ এতে নিবন্ধন করেছেন, অথচ ফ্যাসিস্ট আমলে দশ কোটি মানুষকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। শেখ হাসিনার সরকার সে সময় সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য এই প্রকল্পের অধীনে একটি বিশেষ স্কিমও খুলেছিল।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে নতুন সরকারি চাকরিতে প্রবেশকারীদের জন্য 'প্রত্যয়' নামক স্কিমে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন বিরোধী দল এবং পাবলিক ইউনিভার্সিটির শিক্ষকেরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে স্বয়ং শেখ হাসিনাকে ভয়ে এই স্কিম বাতিল করতে বাধ্য হতে হয়। যাঁরা বলেন শেখ হাসিনা কাউকে ভয় পান না, সেদিন উনার চোখে-মুখে ভয়ের সেই রূপ আমরা স্পষ্ট দেখেছিলাম। এরপর আরও বড় অঘটন ঘটে এবং আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক পতন হয়। স্বাভাবিকভাবেই এই বিতর্কিত স্কিম নিয়ে এখন আর কারও আগ্রহ থাকার কথা না।
সেপ্টেম্বর মাসে সরকারের ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে গেল। একপ্রকার বাধ্য হয়েই সরকারকে নতুন পে-স্কেলের গেজেট ঘোষণা করতে হয়েছে। তিন ধাপে মূল বেতন দেওয়ার এই ঘোষণায় প্রথম ধাপে সরকারের খরচ হবে ৩৮ হাজার কোটি টাকা। সরকারের কোনো খাত থেকে সমপরিমাণ আয় হয়েছে? রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো গতিশীলতা নেই। বারবার সিগারেটের ওপর ভ্যাট বাড়িয়ে রাজস্ব বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, বিড়িখোররাও হয়তো এখন সিগারেট কেনা কমিয়ে দিয়েছে ।
সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ এখন অর্থ মন্ত্রণালয় সামলাচ্ছেন। মানুষটির মুখে কোনো হাসি নেই; পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের পরও তাঁকে কোনো মিডিয়ায় দেখা যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে, পর্দার আড়ালে বসে তিনি কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে ব্যস্ত। হাজার হোক, তিনি একজন ব্যবসায়ী মানুষ-পরিস্থিতি ও হিসাব-নিকাশ তিনি ঠিকই বোঝেন, কিন্তু বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ নিরুপায়।
একই সময়ে, অর্থাৎ সেপ্টেম্বরেই টিভিতে সর্বজনীন পেনশন নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনার সংবাদ দেখতে পেলাম। ২০২৩ সাল থেকেই এই প্রজেক্টের প্রতি আমার গভীর আগ্রহ রয়েছে, তাই গণমাধ্যমে এ সম্পর্কিত কোনো খবর এলে তা মনোযোগ দিয়ে পড়ি। সম্প্রতি (১৬-২২ সেপ্টেম্বর সময়কালে) জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ (এনপিএ) সর্বজনীন পেনশন নিয়ে যেসব নতুন পরিকল্পনা ও প্রস্তাব হাতে নিয়েছে, তার তালিকা বেশ দীর্ঘ।
১৭ই সেপ্টেম্বর এনপিএ পর্ষদের চতুর্থ বৈঠকে প্রস্তাবিত ও অনুমোদিত ছয়টি নতুন সুবিধার মধ্যে রয়েছে: পাঁচ বছর পর টাকা তোলার সুযোগ (পূর্বে স্কিম থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় ছিল না, তবে এখন শারীরিক বা আর্থিক অক্ষমতার কারণে বিশেষ বিবেচনায় জমা অর্থ তোলা যাবে), স্বামী বা স্ত্রীর জন্য আজীবন পেনশন (চাঁদাদাতার মৃত্যুর পর মনোনীত স্বামী বা স্ত্রী আমৃত্যু পেনশন পাবেন), এবং ৫৫ বছর বয়স থেকেই পেনশন চালুর প্রস্তাব (বর্তমানে যা ৬০ বছর)। এছাড়া সুদভিত্তিক ব্যবস্থার বাইরে থাকতে ইচ্ছুক মানুষের জন্য ইসলামি বা শরিয়াহভিত্তিক পেনশন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ, স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা এবং নিবন্ধনকারী ব্যাংক, ডাকবিভাগ ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের কমিশন ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
অন্যান্য সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে- ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ বাস্তবে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ১১.৬৮ থেকে ১১.১৭ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা অনুমোদন, সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি ও বেসরকারি ব্যাংকের কর্মীদের 'প্রগতি' স্কিমে অন্তর্ভুক্তি, এবং শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালুর জন্য আলাদা খসড়া আইন সংসদে প্রেরণের উদ্যোগ।
সর্বজনীন পেনশনের বিরোধিতা খোদ বর্তমান সরকার বিরোধী দলে থাকার সময়ে করেছিল। সে সময় একে 'লুটপাটের প্রকল্প' বলে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। অবশ্য এর সব দায় একা তাদের নয়, কারণ শেখ হাসিনার সরকারকে তখন কেউ বিশ্বাস করতে পারছিল না। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আ হ মুস্তফা কামাল যখন সংসদে দাঁড়িয়ে বুক ফুলিয়ে বলেছিলেন যে এই প্রকল্প চালু হলে টাকা রাখার জায়গা থাকবে না এবং সরকারের আয় বহুগুণ বাড়বে, তখন সাধারণ মানুষ বুঝে গিয়েছিল; সরকার এবার এস. আলমদের পথে হাঁটছে।
ব্যাংকিং খাত যেভাবে ফোকলা করে দেওয়া হয়েছিল, তাতে সাধারণ মানুষের পক্ষে সরকারের ওপর আস্থা রাখা অসম্ভব ছিল। এর ওপর শিক্ষকদের সেই জোরালো প্রতিবাদ সাধারণ মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তাহলে এমন একটি ত্রুটিপূর্ণ ও অজনপ্রিয় প্রকল্প বন্ধ না করে সরকার কেন তা টিকিয়ে রেখেছে ? এই প্রজেক্ট আর কোনোভাবেই লাভজনক হবে না । প্রথমত, সরকার পরিবর্তনের পরও সাধারণ মানুষ তাদের কষ্টার্জিত অর্থ এই পেনশন স্কিমে জমাতে একেবারেই আগ্রহী নয়।
দ্বিতীয়ত, সরকার যতই নতুন সুবিধা যোগ করুক না কেন, তৎকালীন সময়ে বিষয়টি নিয়ে যারা ওয়াকিবহাল ছিলেন, তারা শুরুতেই পরামর্শ দিয়েছিলেন যেন প্রজেক্টটিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে না রেখে একটি স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের হাতে ন্যস্ত করা হয়। বর্তমান সরকার কেন সেই পরামর্শ গ্রহণ করছে না? আগের সরকার লুটেরা ছিল বলেই নিজেদের অসৎ উদ্দেশ্যে সেই পরামর্শ আমলে নেয়নি; কিন্তু এটি তো জনগণের নির্বাচিত সরকার ! তারা কেন এটিকে একটি স্বতন্ত্র স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপ দিচ্ছে না?
সর্বজনীন পেনশন নিয়ে এখন সিপিডিও কোনো কথা বলে না, অথচ পে-স্কেল দেওয়ার ক্ষেত্রে ঠিকই তারা সরকারকে পরামর্শ দিয়েছিল। সর্বজনীন পেনশনের সবচেয়ে বড় বিরোধিতার জায়গাটি ছিল অবসরকালীন সময়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেবল ৬২ হাজার টাকা পেনশন প্রাপ্তি নিয়ে। সেখানে কোনো জিপিএফ ফান্ড থাকবে কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল, গ্রাচুইটি ও ল্যাম্পগ্রান্টের বিষয়টিও অনিশ্চিত ছিল। সরকারি কর্মচারীদের দাবি ছিল আগের মতো বাজেট থেকে পূর্ণ বেতন দেওয়ার, পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগ সরকার চেয়েছিল পেনশন ফান্ডে প্রতিষ্ঠান ও চাকরিজীবীরা নিজ বেতনের ১০ শতাংশ বা ৫ হাজার টাকা (যা কম হয়) কন্ট্রিবিউশন করবে। এতে একদিকে যেমন মূল বেতন কমে আসত, অন্যদিকে পেনশন বাদে অন্যান্য সব সুযোগ-সুবিধাও সংকুচিত হয়ে যেত।
হিসাব কষে দেখলে বোঝা যায়, 'প্রত্যয়' স্কিম বাদে বাকি সব স্কিমের সফল হওয়ার সম্ভাবনা ৫ শতাংশের নিচে ছিল। সাধারণ মানুষ স্বেচ্ছায় এর ধারেকাছেও যেত না। কেবল সরকারি চাকরিজীবীদের এই স্কিমে ঢোকানোর একটা প্রশাসনিক লেভারেজ সরকারের হাতে ছিল। যখন সেই পথও বন্ধ হয়ে গেল, তখন কেবল শুধু শুধু এই মৃত প্রজেক্টকে টেনে নিয়ে যাওয়ার মানে কী ? সরকার কি ভবিষ্যতে 'প্রত্যয়' স্কিমটি অন্য কোনো নামে আবার চালুর পরিকল্পনা করছে? যদি তাই হয়, তবে তারা নিছক সময় নষ্ট করছে। অথচ পরিবর্তন এনে নতুন কিছু করার এখনি ছিল সুবর্ণ সুযোগ। একসময় আমরা ভেবেছিলাম দেশে আর সহজে কোনো নতুন পে-স্কেল হবে না, আমাদের সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে ।
সরকার যদি সত্যিই ভবিষ্যতে এই খাতে কোনো সংস্কার করতে চায়, তবে নতুন পে-স্কেলের সময় ইসলামি শরিয়াহ স্কিম চালুর চেয়ে প্রত্যয় স্কিমকে সম্পূর্ণ নতুন ও ভিন্ন কোনো নামে সংস্কার করে নিয়ে আসা উচিত ছিল। প্রত্যয়ের মূল ত্রুটিগুলো সংশোধন করার যথেষ্ট সুযোগ তাদের হাতে ছিল। আইএমএফে কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন আহসান এইচ মনসুর যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন, তিনিও এ বিষয়ে সরকারকে কোনো কার্যকর পরামর্শ দেননি ।
সিপিডিও এ নিয়ে কোনো কথা বলেনি। উল্টো তারা এখন বলছে সরকার রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে তা অর্জিত হবে না, যার বাস্তব প্রতিফলন জুলাই-আগস্টের রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যানেই দৃশ্যমান। দেশের কোনো বিশেষজ্ঞই সরকারকে খোলামেলাভাবে পরামর্শ দিল না যে, বাজেটের ওপর আর বাড়তি চাপ না বাড়িয়ে প্রত্যয় স্কিম নিয়ে নতুন করে ভাবা উচিত।
সরকার যদি র্যাবের নাম বদলে 'এসআরবি' করতে পারে, তবে সর্বজনীন পেনশনের একটি নতুন নাম দিতে সমস্যা কোথায়? যেকেনো বড় কাজে সফল হতে হলে সবসময় নিজেকে সামনে থেকেই উদাহরণ সৃষ্টি করতে হয়। সরকারের যত মন্ত্রী-এমপি এবং তাদের অনুসারী রয়েছেন, সবার আগে তাদের নিজেদেরই সর্বজনীন পেনশনে নিবন্ধন করা উচিত। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেভাবে তরুণ প্রজন্মের কাছে দিন দিন এক অনন্য আদর্শ হয়ে উঠছেন, সবার আগে তাঁর নিজের নামই এই পেনশন স্কিমে নিবন্ধিত হওয়া দরকার।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের সময় যেমন ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল যে মন্ত্রী-এমপিদের বিবিরাও ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন যদিও তারা কোনো ভাতা পাবেন না । একই কাজ তো সর্বজনীন পেনশনের ক্ষেত্রেও করা যায় । সরকারি দলে যারা আছেন সবাই মিলে একটা স্কিমে নিবন্ধন করুক ।পাশাপাশি যারা বিরোধী দলে আছেন তারা চাইলে শরিয়াহ স্কিমে নিবন্ধন করতে পারেন । তাহলেই সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরত আসত বলেই আমার ধারণা ।
২|
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:০৮
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
আপনি মূল সমস্যায় হাত দেন নাই।
সার্বজনীন পেনশন স্কিম দরীদ্র মানুষদের কোন কাজে আসবে না।
কারণ, তারা যে পরিবেশে থাকেন, সেখানে ডকুমেন্টস ব্রিষ্টির পানিতে ডুবে যাবে।
৩|
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:১০
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
ঢাকার রিকশাওয়ালারা যে ঝুপড়িতে থাকেন, সেগুলোতে কখনো গিয়েছিলেন?
©somewhere in net ltd.
১|
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:০৬
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
আপনি এপ্লাই করেছিলেন?
শেখ হাসিনা সরকারের সেই পেনশন স্কিমে কী সমস্যা ছিলো?