নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

চারপাশে ঘন অন্ধকারে চোখ মেলে ভাবছি

মিথানল

চারপাশে ঘন অন্ধকারে চোখ মেলে ভাবছি

মিথানল › বিস্তারিত পোস্টঃ

বিপ্লবী নেতা শহীদ আসাদ

২০ শে জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:২৫

আজ আসাদের মৃত্যু দিবস। নরসিংদীর হাতিরদিয়ার এক সচ্ছল ও শিক্ষিত পরিবারে জন্ম নেয়া আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। আজ ২০ জানুয়ারি। ১৯৬৯ সালের এ দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা কর্মসূচি অনুযায়ী এক সভা আহ্বান করে। সভায় হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী যোগদান করে। তারা সভাশেষে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকে একটি মিছিল বের করে। মিছিলের এক অংশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনের রাস্তা ধরে চানখারপুলের দিকে অগ্রসর হলে সেখানে অবস্থানরত পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে দুপুর ২টার দিকে মূল ঘটনাস্থলের অনতিদূরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের পূর্বদিকের গেটের পাশে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা ডিএসপি বাহাউদ্দিনের পিস্তলের গুলি আসাদের বক্ষ বিদীর্ণ করে। আসাদ থর থর করে কাঁপতে কাঁপতে মুষ্টিবদ্ধ হাত দুটি ঊর্ধ্বে তুলে সবার উদ্দেশ্যে কি যেন বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার মুখ থেকে কোনো কথা বের হওয়ার আগেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। চারদিক থেকে তার সহকর্মীরা এসে ধরাধরি করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্রছাত্রী একে অন্যকে জড়িয়ে চিকার করতে থাকে এবং আসাদের রক্তমাখা শার্ট নিয়ে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলে, আসাদের মন্ত্র জনগণ তন্ত্র, স্বৈরাচারী আইয়ুব খান নিপাত যাক, নিপাত যাক। এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে পরদিন সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়। এর দু মাসের মধ্যে আইয়ুব খানের একনায়ক শাসন ব্যবস্থা ও তাঁর সরকারের পতন ঘটে। আইয়ুব খানের পতনের প্রতীক হিসেবে দেশের সকল স্থানে জনতা স্বতঃস্ফুর্তভাবে আইয়ুবের নাম ফলক নামিয়ে আসাদের নাম সংযোগ করে। এভাবে ঢাকার আইয়ুব গেট আসাদ গেটে এবং ঢাকার আইয়ুব এভিনিউ আসাদ এভিনিউতে রূপান্তরিত হয়।

পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের নেতা ছিলেন আসাদ। পরে ছাত্র রাজনীতি ছেড়ে মনোনিবেশ করেন কৃষক সংগঠন গড়ার কাজে। ভাসানীর অনুসারী আসাদ মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে শিবপুর, মনোহরদী, রায়পুরা ও নরসিংদী অঞ্চলে কৃষক সমিতি গড়ে তোলেন। তার অসাধারণ সাংগঠনিক ক্ষমতা মওলানা ভাসানীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ১৯৬৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর মওলানা ভাসানী নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সারা বাংলার হাটবাজারে হরতাল আহ্বান করেছিলেন, সেদিন আসাদ কয়েক শ কৃষককর্মী নিয়ে হাতিরদিয়া বাজারে হরতাল সফল করার কাজে লেগে যান, একপর্যায়ে পুলিশ বিনা উস্কানিতে পিকেটারদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় পুলিশের গুলিতে সিদ্দিক মাস্টার, হাসান আলী ও মিয়াচাঁদ নামে তিনজন কর্মী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আসাদ নিজেও সেদিন পুলিশের গুলিতে মারাত্মক আহত হন। এ ঘটনা পরদিন সব পত্রিকায় গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হয়। তখনই স্বৈরাচারী আইয়ুববিরোধী আন্দোলন তখনই চতুর্দিকে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই আসাদকে দেখা গেছে একজন পেশাদার বিপ্লবী হিসেবে। গ্রামের ভাগ্যাহত কৃষকদের সঙ্গে গড়ে তুলেছিলেন কৃষক সমিতি। আবার শহরে গেলে থাকতেন ছাত্র আন্দোলনের অগ্রভাগে।

আসাদ ছিলেন চরিত্রবান, সত্যবাদী, মিশুক, সদালাপী এবং নিষ্ঠাবান সংগঠক। তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ দেশ প্রেমিক।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.