নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সমাজ সম্পর্কে একটি পাগলের প্রলাপ।

পৃথিবীতে নাবালক আর পাগল ছাড়া নিরপেক্ষ কেউ নাই।

৯০ % পাগল

আপাতত কিছুই নাই।

৯০ % পাগল › বিস্তারিত পোস্টঃ

জামাতে মউদুদি।(সম্মিলিত+সংগৃহীত পোস্ট)[ভাই অনূমুতি না নিয়া সংগ্রহ করছি,ভুল হইলে মাফ কইরা দিয়েন]

১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১:১৮

প্রথমেই মউদুদির ইসলাম বিকৃতির কিছু নমুনা দেওয়া হল

By ফাঁকিস্তানি ভাদা

“তাই কর্তৃত্বের আকাংক্ষা ছাড়া কোন দর্শণে আস্থাজ্ঞাপন করার কোন অর্থ নেই, এবং কোনটি আইন সম্মত বা কোনটি নিষিদ্ধ অথবা নির্দেশিত আইন, কোনটিরই কোন মানে নেই।"

- তাজদীদ উদ দ্বীন, পৃষ্ঠা ৩২ - ৩৩



অথচ হযরত মুহাম্মদ (স) পরিস্কার ভাবে কর্তৃত্বের লালসাকে পুরোপুরি নিষেধ করে দিয়েছেন; ওনার মতে কর্তৃত্ব ও শাসন করার লোভ মানুষকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। তিনি বলেন:

“নেতৃত্বের আকাংক্ষা করোনা। কেননা তোমরা যদি নেতৃত্বের আকাংক্ষা করে তা পাও তবে সে দায়িত্ব তোমাদের একাই পালন করতে হবে। কিন্তু আকাংক্ষা না করেই যদি তোমরা নেতৃত্ব পাও তবে তোমরা সাহায্য পাবে (আল্লাহর কাছ থেকে)।”

- মুসলিম, ৪৬৯২





“শাসন ও কর্তৃত্ব করার নামই হচ্ছে ধর্ম, শাসন ব্যবস্থার আইন হল শরিয়া এবং উপাসনা হচ্ছে শাসন ব্যবস্থার ঐতিহ্যকে অনুসরন করা’’ - খুতবা, পৃষ্ঠা ২১৭।

“লোকে সাধারণত বলে ইসলামের পাচটি স্তম্ভ: এক আল্লাহর ওপর বিশ্বাস, নামাজ, যাকাত, রোযা এবং হজ্জ। এবং এ গুলোই ইসলাম এই ভুল ধারণার মধ্যে তারা অনেকদিন ধরে আছে। এসলে এটা একটা বড় বিভ্রান্তি যা মুসলমানদের পথ এবং কর্মকে ধ্বংস করেছে।“

(কাউসার, ৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৫১- মওদুদীর ভাষণ থেকে উদ্ধৃত)



অথচ সহীহ বুখারী এবং মুসলিম শরীফে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে ইসলামের মূল স্তম্ভ পাচটি: ১. শাহাদাহ ২. সালাত ৩. বাধ্যতামূলক যাকাত প্রদান ৪. সাওম এবং ৫. হজ্জ।



শুধু তাই নয়, মওদুদী হাদীস শরিফের ও সমালোচনা করতে ছাড়েনি। মওদুদী এ সম্পর্কে বলেছে:

“কোন সত্যবাদী মানুষই এই দাবী করতে পারবেনা যে ৬ - ৭ হাজার হাদীসের (সহীহ বুখারী শরিফ) সবগুলোই পুরোপুরি ঠিক।“



(১৯৫৫ সালের ১৫ মে বরকত হলে মওদুদীর দেয়া ভাষণ থেকে; যা পরে আল-ইতেশাম পত্রিকায় ২৭ মে ১৯৫৫ এবং ৩ জুন ১৯৫৫ তারিখে প্রকাশিত হয়।)



শুধু এই নয়, হযরত মুহাম্মদ (স) চুক্তি ভিত্তিক অস্থায়ী বিয়ে (মুতাহ) হারাম ঘোষনা করেছেন। কিন্তু মওদুদী হাস্যকর উদাহরণ টেনে তা হালাল করতে চেয়েছে:

“ধরেন সমুদ্রের মাঝে একটি নৌকা ডুবে গেল। একজন পুরুষ ও একজন মহিলা বেচে গিয়ে এক নির্জন দ্বীপে গিয়ে ওঠে। এ অবস্থায় তাদের একসাথে থাকতেই হবে। কিন্তু ইসলামী আইন মতে তারা নিকাহ করতে পারবে না। তাই তাদের কাছে যে একমাত্র রাস্তাটা খোলা আছে তা হল নিজেদের মধ্যে চুক্তি করে অস্থায়ী বিয়ে করা ততদিনের জন্য যতদিন না তারা লোকালয়ে পৌছাতে পারে বা লোকেরা তাদের খুজে পায়। অস্থায়ী বিয়ে (মুতাহ) এ ক্ষেত্রে বা এর মত পরিস্থিতিতে জায়েজ।“

-তারজুমামুল কুরআন, ১৯৫৫, পৃষ্ঠা: ৩৭৯



যুদ্ধবন্দী মহিলাদের ব্যাপারে মওদুদীর মতামত দেখুন:

“এমনকি বর্তমান যুগেও যুদ্ধবন্দী মহিলাদের সৈনিকদের মধে বন্টন করে দেয়া উচিৎ এবং সৈন্যদেরকে তাদের (মহিলাদের) ভোগ করার অনুমতি দেয়া উচিৎ।“



অথচ পবিত্র কুরআনে এ ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশ দেয়া আছে। আল্লাহ বলেন:

“অবশেষে যখন তাদেরকে (কাফিরদের) পূর্ণরূপে পরাভূত কর তখন তাদেরকে শক্ত করে বেধে ফেল। অতঃপর হয় তাদের প্রতি অনুগ্রহ কর, না হয় তাদের নিকট হতে মুক্তিপণ লও (এবং মুক্তি দাও) ।”

- সূরা মুহাম্মদ, আয়াত ৪



বাল্য বিবাহ নিয়ে মওদুদী বলেছে:

“নাবালিকা মেয়েদের (বয়:প্রাপ্তির আগে) বিয়ে করা যায়। স্বামীরাও তাদের সাথে সহবাস করতে পারে।“

-তাহফীমুল কুরআন, পঞ্চম খন্ড, পৃষ্ঠা: ৫৭১



বিভিন্ন নবী-রাসূলদের নিয়ে মওদুদীর সমালোচনার বিস্তর উদাহারণ আছে। যেমন নিচের মন্তব্যে সে হযরত ইউসুফ (আ) কে মানুষ হত্যাকারী জঘন্য মুসোলিনীর সাথে তুলনা করেছে -

“কিছু মানুষ যে ধারনা পোষণ করে যে তিনি [হযরত ইউসুফ (আ)] মিশরের তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব চেয়েছিলেন শুধু সেখানকার অর্থ মন্ত্রী হবার জন্য তা আদপে ঠিক নয়; প্রকৃত পক্ষে তিনি একজন সৈরশাসক হতে চেয়েছিলেন। এমতাবস্থায় হযরত ইউসুফ (আ) যে পদ পান তা বর্তমানকালের ইতালির মুসোলিনীর অবস্থার সমতুল্য।“

- তাহফিমাত, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১২২, ৫ম সংস্করণ



মওদুদী হযরত সুলাইমান (আ) এর ১০০ স্ত্রী থাকার ব্যাপারে মন্তব্য করেছে:

“হয় আবু হুরাইরা (রা) নবীর কথা শুনতে ভুল করেছেন অথবা তিনি পুরো ব্যাখ্যা শোনেননি।“

-রাসাইল -ও-মাসাইল, খন্ড ২, পৃষ্ঠা: ২৭





by- এনিমি অফ রাজাকার

তার সেই অসংখ্য কুফরী আক্বীদার মাত্র ৫টি ক্ষুদ্র প্রমাণ নিম্নরূপঃ

১) আল্লাহ পাক সম্পর্কে কুফরী আক্বীদাঃ “যে ক্ষেত্রে নর-নারীর অবাধ মেলামেশা, সেক্ষেত্রে যেনার কারণে (আল্লাহ পাকের আদেশকৃত) রজম শাস্তি প্রয়োগ করা নিঃসন্দেহে জুলুম।” (নাঊযুবিল্লাহ)

(তাফহীমাত, ২য় খন্ড, ২৮১ পৃষ্ঠা)

২) ফেরেশতা সম্পর্কে কুফরী আক্বীদাঃ “ফেরেশতা প্রায় ঐ জিনিস যাকে গ্রীক, ভারত ইত্যাদি দেশের মুশরিকরা দেবী-দেবতা স্থির করেছে।” (নাঊযুবিল্লাহ)

(তাজদীদ ও ইহইয়ায়ে দ্বীন, ১০ পৃষ্ঠা)

৩) আম্বিয়া আলাইহিমুছ ছালাত ওয়াস সালাম সম্পর্কে কুফরী আক্বীদাঃ “নবীগণ মা’ছূম নন। প্রত্যক নবী গুনাহ করেছেন।” (নাঊযুবিল্লাহ)

(তাফহীমাত, ২য় খন্ড, ৪৩ পৃষ্ঠা)

৪) হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে কুফরী আক্বীদাঃ “মহানবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানবিক দুর্বলতা থেকে মুক্ত ছিলেন না।” (নাঊযুবিল্লাহ)

(তরজমানুস্ সুন্নাহ, ৩য় খন্ড, ৩০৫ পৃষ্ঠা)

৫) সাহাবা কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম সম্পর্কে কুফরী আক্বীদাঃ “সাহাবাদিগকে সত্যের মাপকাঠি জানবে না।” (নাঊযুবিল্লাহ)

(দস্তরে জামাতে ইসলামী, ৭ পৃষ্ঠা)

উল্লেখ্য, সব মুফতী-মাওলানাদের ইজমা তথা ঐক্যমতে উপরোক্ত আক্বীদাধারী ব্যক্তি মুসলমান নয় বরং মুরতাদ। আরো উল্লেখ্য যে, মওদুদী’র মৃত্যুর পর শিয়া সম্প্রদায়ের একটি মুখপত্রে বলা হয়েছিল, “মরহুম (মওদুদী) তার ভিন্ন আঙ্গিকে শিয়া মতবাদ প্রচলনেও সহায়তা করেছেন।”

(সাপ্তাহিক শিয়া, লাহোর, ১৯৭৯ ইং, ৫৭ সংখ্যা ৪০/৪১; খোমেনী ও মওদুদী দু’ভাই, পৃষ্ঠা ১২)

বিষাক্ত বীজ থেকে যেমন সুমিষ্ঠ ফল আশা করা যায় না তেমনি ইসলামী আন্দোলন ইত্যাদি মিষ্টি মিষ্টি কথা বললেও মওদুদী নিজেই যে কত বিষাক্ত বীজ ছিলো তা তার উপরোক্ত কুফরী আক্বীদা থেকেই সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায়। তার উপরোক্ত আক্বীদাগুলো মুসলমানদের সাথে তার বিশ্বাসঘাতকতার স্বরূপই উন্মোচন করে। আর আল্লাহ পাক বিশ্বাসঘাতকদের সম্পর্কে পবিত্র কালামে ইরশাদ ফরমান,

“আল্লাহ পাক পছন্দ করেন না তাকে, যে বিশ্বাসঘাতক পাপী হয়।”

(সূরা আন্ নিসা ১০৮)

আর আল্লাহ পাক যাকে অপছন্দ করেন তার পরিণাম কি ভয়াবহ হতে পারে তা কল্পনাতীত, দুনিয়াতেও তার লাঞ্ছনা-গঞ্জনার শেষ নেই।





জামায়াতে ইসলামীর অন্ধকারময় অতীত-সিআইএর টাকা দিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি নেমেছে ইসলাম ধ্বংসের গোপন টার্গেট নিয়ে।

By- মুহাম্মদ মাসুম

উইকিলিক্স এর বরাত দিয়ে এক নিউজে প্রকাশিত হয়েছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাথে মার্কিন দূতাবাসের গোপন বৈঠক হয় ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাঝামাঝি।[১] খুব একটা অবাক হলাম না। একাত্তর সালে পাকিস্তান আর্মির গণহত্যায় তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা ছিল জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। আর পাকিস্তানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সুসম্পর্ক পাকিস্তানের জন্ম থেকেই বিদ্যমান।



তাই 'বন্ধুর বন্ধু' আমেরিকার সাথে জামায়াতের ইসলামীর নাড়ির টান রয়েছে সেই জন্ম থেকেই। তাই বুশের অবৈধ ইরাক যুদ্ধ থেকে শুরু করে এন্টী-আমেরিকান আনুষ্ঠানিক কোন প্রতিবাদের দেখা যায়না এই ভণ্ড ইসলামিক দলটিকে।



---------------

আরেকটি কথা না বললেই এখানে নয়। জামায়াতে ইসলামের প্রতিষ্ঠায় হয় কিন্তু ইসলাম থেকে মানুষকে বিচ্যুত করার লক্ষ্যে। জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠা করেন পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত তথাকথিত মওলানা মওদুদী,যিনি ছিলেন সিআইএর এজেন্ট।



এক সোভিয়েত স্পাই, ভ্যাসিলি নিকোতিচ ১৯৯২ সালে রাশিয়া থেকে পালিয়ে আশ্রয় নেন লাটভিয়ার মার্কিন দূতাবাসে। সাথে করে নিয়ে আসেন সোভিয়েত সরকারের কিছু গোপন দলিল। যা পরবর্তীতে তিনি ‘দ্য মিত্রোখিন আর্কাইভ এন্ড দ্য সিক্রেট হিষ্ট্রি অব কেজিবি’[২] নামে একটি বই প্রকাশ করেন এবং তার দ্বিতীয় খন্ডে বর্ণিত আছে সোভিয়েত স্পাইরা অনেক আগে থেকেই জানতে পারে যে,



“ধর্মীয় দল জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবুল আলা মওদুদী ছিলেন সিআইএ’র এজেন্ট।”



শুধু তাই নয়, করাচীর ‘শিহাব’ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক এবং জামায়াতের প্রাক্তন আমীর মাওলানা কাউসার নিয়াজী। তিনি জামায়াতে ইসলামী ও মওদুদীর তীব্র সমালোচনা করে এই তথ্য ফাঁস করে দেন যে,



“জামায়াতে ইসলামী আরবের দেশগুলোতে অবস্থিত বিভিন্ন তেল কোম্পানীর কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ সাহায্য লাভ করে আসছে।” (পূর্ব দেশ, ২৩ ডিসেম্বর ১৯৬৯ ইং)



উল্লেখ্য,মওদুদীর মৃত্যুও ঘটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং মার্কিন অনেক দলিলেও প্রমাণ পাওয়া যায় কোল্ডওয়ারের কারণে রাশিয়ার কমিউনিজম এর উপর অপপ্রচার চালাতে তারা উপমহাদেশের ইসলামী দলগুলোকে নিয়মিত অর্থ সাহায্য দিত।

--------------

চমকের এখানেই শেষ নয়, ইসলামকে অপব্যবহার করে জামায়াতের স্বার্থ সিদ্ধির প্রমাণ পাওয়া যায় হ্যাম্পার নামে একজন বৃটিশ গুপ্তচরের ডায়েরীতে।



কে এই হ্যাম্পার?তা নিয়ে ঘাটতেই বের হয়ে এল আরো অজানা সব লোমহর্ষক তথ্য। সাম্রাজ্যবাদ টিকিয়ে রাখতে হিমসিম খাচ্ছে বৃটিশ সরকার। একে একে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলো জেগে উঠছে বৃটিশ শাসকদের বিরুদ্ধে। নিজেদের সাম্রাজ্য ভেঙ্গে টিকিয়ে রাখতে শুরু করে এক গোপন পরিকল্পনা। ইসলামের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করাটাই ছিল তাদের পরিকল্পনা,যাতে মুসলিমরা একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং এই সুযোগে ভুলে থাকে তাদের স্বাধীনতার দাবী।



মিশন সফল করতে মুসলিম বেশে হ্যাম্পার আসেন তুরস্কে। তুরস্কের শায়খ ইফেন্দীর নিকট ছদ্ধবেশী মুসলমান সেজে কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ চর্চা করে মুহম্মদ বিন আব্দুল ওহাবের একান্ত বন্ধু ও সহযোগী হিসেবে পরিগণিত হন এই হ্যাম্পার। পরবর্তীতে হ্যাম্পার জার্মানদের হাতে গ্রেফতার হলে হ্যাম্পারের ডায়েরীর কিছু অংশ জার্মান এবং ফ্রেঞ্চ পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং পরবর্তীতে পুরো ডায়রি নিয়ে 'Confessions of a British Spy and British Enmity Against Islam' [৩]নামে একটি বই প্রকাশিত হয় তুরস্কে। মওদুদী হল সেই হ্যাম্পারের উস্কে দেওয়া ওহাবী মতবাদের ভারতবর্ষে প্রচলনকারী। উল্লেখ্য,ইতিমধ্যে সৌদি রাজপরিবারের রক্ত মিশে যায় এই মতবাদ।

------------------

তাছাড়া স্বয়ং হিলারী ক্লিনটনও এক ভিডিওতে [http://bit.ly/peLxZ6 ] বলেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওহাবীদের অর্থ সাহায্য দিয়েছেন নিয়মিত। মওদুদীর এই মতবাদকে ঠাট্টা করে বলা হয় পেট্রো-ইসলাম। কারণ সৌদী আরবের তেলের টাকায় এই মতবাদের প্রচলন হতো বলে। সৌদি সরকার এই পর্যন্ত এই মতবাদ প্রচলনে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে বলে জানা যায়। [৪]

-------------

সবচেয়ে ভয়ংকর হল ইসলামী ছাত্র সংঘ থেকে নাম পরিবর্তন করে ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রতিষ্ঠার কিছু পর তৎকালীন ছাত্র শিবিরের সভাপতি রাজাকার আবু তাহের রিয়াদের এক গোপন উৎসের কাছে আরবীতে লেখা এক চিঠির মাধ্যমে প্রায় দুই কোটি টাকা অর্থ সাহায্য চান। [৫]



-------------

কিছুদিন আগে প্রকাশিত হয় জামায়াত নেতা এক মার্কিন সিনেটরকে নিয়োগ করেছেন ২৫০ কোটি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের পক্ষে জোরদার লবি করার জন্য।[৬] প্রতিটি জামায়াত নেতাই কোন না কোন মধ্যপ্রাচ্যের এনজিও চালান যা দিয়ে হয় তাদের অর্থ সংস্থান।ইসলাম প্রচারের থেকে ক্ষমতা দখলই যে তাদের কাছে বড় তা প্রমাণ পাওয়া যায় ২০০৮ নির্বাচনে যাওয়ার উদ্দেশে তাদের সংবিধান পরিবর্তন করে আল্লাহ-এর আইন বাস্তবায়ন কথাটি বাদ দেওয়া। এরপরও অনেকের চোখ খুলবেনা। তারপরও তারা এই ভণ্ড স্বাধীনতা বিরোধী,রাজাকার খুনেদের সমর্থন করে যাবে। তাদের জন্য পুরনো একটি হাদীস আবার,



"শেষ জমানায় কিছু প্রতারক সৃষ্টি হবে। তারা ধর্মের নামে দুনিয়া শিকার করবে। তারা মানুষের নিকট নিজেদের সাধুতা প্রকাশ ও মানুষকে প্রভাবিত করার জন্য ভেড়ার চামড়ার পোশাক পড়বে (মানুষের কল্যাণকারী সাজবে)। তাদের রসনা হবে চিনির চেয়ে মিষ্টি। কিন্তু তাদের হৃদয় হবে নেকড়ের হৃদয়ের মতো হিংস্র। (তিরমিজী)"











মউদুদির ইতিহাস ও তার ইসলাম বিকৃতির আর কিছু ঘটনা।

মুল লেখক: হাসান মোহাম্মদ, ফতেমোল্লা নামে ব্লগ জগতে পরিচিত.

১৯২৪ সালে নবীজীর নারীদের নিয়ে ‘‘রঙ্গীলা রসুল’’-এর প্রকাশক রাজপাল খুন হল কলকাতায়, ১৯২৬ সালে ক্যালিগ্রাফার আবদুল রশিদ রাগে উন্মত্ত হয়ে শুদ্ধি-অভিযানের নেতা স্বামী শ্রদ্ধাননন্দকে খুন হবার পর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় মুসলমানেরা নিপীড়িত হল, দিল্লীতে মওলানা জওহর বক্তৃতায় কেঁদে বুক ভাসালেন এই বলে যে, হিন্দুদের মোকাবেলায় মুসলমানের মধ্যে কোন আলেম নেই, সেই বক্তৃতায় উদ্দীপ্ত হয়ে তেইশ বছরের তরুণ মওদুদী ছ’শো পৃষ্ঠার বিশাল লেখা লিখে সারা ভারতে হুলুস্থুল বাধিয়ে দিলেন, তা আর থামল না উনাশি সালে তাঁর মৃত্যু পর্য্যন্ত। ততদিনে তাঁর বাণী ভারতবর্ষের গন্ডী পার হয়ে বিশ্বব্যাপী পৌঁছে গেছে।

আনুষ্ঠানিক কোন উচ্চশিক্ষা ছিলনা তাঁর কিন্তু মেধাবী ছিলেন তিনি। তাঁর লেখায় প্রতিফলিত তাঁর স্বচ্ছতা, শক্তিশালী বলার ভঙ্গী, আবেগের অসাধারণ প্রয়োগ, শব্দচয়ন ও বাক্যবিন্যাসের কারুকার্য্য ইসলামি রাষ্ট্র-প্রতিষ্ঠার পথে প্রতিটি বাধাকেই তিনি প্রচন্ডবেগে আঘাত করেছেন। এমনকি, তাঁর ইসলাম কেউ না মানলে সে কম মুসলমান অথবা মুসলমানই নয়। আইনের ডান্ডা দিয়ে সে ইসলাম প্রয়োগ করা হবে, প্রতিপক্ষকে শাস্তি দেয়া বা মেরে ফেলা হবে।

মৌদুদী স্পষ্ট মানুষ। যা বুঝেছেন, ভুল হোক শুদ্ধ হোক সুস্পষ্ট বলেছেন। যা বলেছেন, তা করতে চেষ্টা করেছেন। রাজনৈতিক ইসলামের দর্শনকে উপস্থাপিত করেছেন প্রচন্ড গতিতে, তীব্র উর্দু ভাষায়। তাঁর প্রতিটি ভাষণ যেন বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ। এ ছাড়াও তৎকালীন ভারতের মুসলমান সমাজের পরাজিত অবস্থা, মুসলিম-নেতৃত্বের দুর্বলতা-দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, ঔপনিবেশিক পটভুমি, মধ্যপ্রাচ্যের নৈতিক ও আর্থিক সমর্থন সবকিছুই কাজ করেছে তাঁর সাফল্যের পেছনে। সেই পরাজিত মুসলিম সমাজে অনেকের পক্ষেই সম্ভব ছিলনা তাঁর দেখানো শারীরিক শক্তিশালী জাতি হবার অলীক লোভ, অপরাধহীন নিপীড়নহীন সমাজের অসম্ভব চিত্র এবং দুনিয়ার মোড়ল হবার অবাস্তব স্বপ্নের প্রভাবে না পড়া।

এত তীব্র গতিতে ছুটেছেন যে তিনি খেয়াল করেন নি তাঁর বিভিন্ন সময়ের বক্তব্যগুলো (১) পরস্পর-বিরোধী হয়ে যাচ্ছে, (২) কোরাণ-হাদিসের মুখ্য বিষয় এড়িয়ে গৌণ বিষয়-ভিত্তিক হয়ে যাচ্ছে এবং সবচেয়ে মারাত্মক হল (৩) কোরাণের ঐতিহাসিক চরিত্র ও সাংস্কৃতিক বিবর্তনের সত্য অস্বীকার করেছে। রাজনৈতিক ইসলামকেই তিনি মূল ইসলাম মনে করেছেন এবং সে হিসেবে নিজেকে ‘‘নওমুসলিম’’ও বলেছেন। এ সত্য তিনি প্রবলভাবে অস্বীকার করেছেন যে বিভিন্ন মতের মুসলিমরাও ওই কোরাণ-হাদিস থেকেই নিজের নিজের সমর্থন দেখায়। সবাই বলে শুধু তারটাই ঠিক, সব দলেরই সমর্থক আছে, সবেতেই কোরাণ-হাদিসের সমর্থন দেখানো সম্ভব।

শুরুটা হল, রেল-ষ্টেশনে এক মুসলিম প্রজা তার হিন্দু জমিদারকে প্রণাম করছে দেখে তিনি দুশ্চিন্তায় পাগল হয়ে গিয়েছিলেন এই মনে করে যে আগামী দশ বছরের মধ্যে নির্ধারিত হয়ে যাবে ভারতীয় মুসলমানেরা সামগ্রিকভাবে নিশ্চিহ্ন হবে কি হবে না। ওটার আসল কারণ আর্থসামাজিক অভিঘাত তা তিনি বোঝেন নি। স্যার আবদুর রহিম, ঢাকার আহসান মঞ্জিলের নওয়াব খাজা পরিবার, ফরিদপুরের স্যার আবদুল লতিফের মতো মুসলিম জমিদারদের প্রজারাও ওই একইভাবে প্রণাম করে তা না বুঝে তিনি ভারতীয় মুসলমানদের জন্য সততার সাথেই উদ্বিগ্ন হয়েছেন। তাঁর এ উদ্বেগ প্রথমতঃ তাঁকে উদ্বুদ্ধ করেছে ‘‘মুসলমানদের প্রতি বিশ্বব্যাপী পৃথীবির সব অমুসলিমের আক্রমণ’’ এই অবাস্তব অনুমানের প্রতিরোধ খুঁজে বের করতে। কিন্তু কোন অবস্থাতেই এক তৃতিয়াংশ জনগণ (ভারতের মুসলমান) নিশ্চিহ্ন হতে পারেনা তা তিনি বোঝেন নি, মানব সমাজের চলমান বিবর্তনের অগ্রগতিকে দেখার দুরদৃষ্টিও তাঁর ছিলনা।

মৌদুদীর (এবং জামাতেরও) বক্তব্যে এটা স্পষ্ট যে, দুনিয়ার সমস্ত অমুসলিমরা চাকরি-ব্যবসা বাদ দিয়ে অন্ধকার ঘরে বিশ্ব-মুসলিমের বিরুদ্ধে ফিসফিস করে ষড়যন্ত্র করা ছাড়া আর কিছুই করছে না। এই অবাস্তব বিশ্বাসের উৎকণ্ঠা মৌদুদী ও তাঁর অনুসারীদের নিয়ে গেছে আরেক অবাস্তব জগতে। দুনিয়ায় কোটি কোটি অমুসলিম আছেন যাঁরা মুসলিম-দরদী, এ সত্য তাঁদের লেখায় পাওয়া কঠিন। অথচ পশ্চিমা বিশ্বের দয়ার দান বা সার্টিফিকেট নিতে মৌদুদী-জামাতের আগ্রহ প্রচুর। ‘‘ধর্মহীন তাগুত’’-এর দেশ-মেশিন-ওষুধ ছাড়াও তাঁদের চলেনি বা চলেনা। নবীজী কাউকে খলিফা বলে যান নি, সমাজকে দিয়েগিয়েছিলেন গণ-প্রতিনিধির নেতৃত্ব। সেই রত্ন নষ্ট করে যারা রাজা-বাদশাহ হয়ে মুসলিমের নেতৃত্ব দিচ্ছে সেই সৌদী রাজার হাত থেকে পুরষ্কার নিতেও মৌদুদীর বাধে নি। এসব আত্ম-প্রতারণা জামাতিরা না দেখুক, আমরা ঠিকই দেখেছি।

ভারতীয় মুসলিম সমাজকে মওদুদী যে শক্তি-সাফল্যের লোভ দেখিয়েছেন, তা উঠে এসেছে সমস্ত অমুসলিমদের প্রতি ঘৃণা থেকে। শেষে ‘‘আক্রমণই প্রতিরোধের শ্রেষ্ঠ উপায়’’ এই মনস্তাত্বিক ফাঁদে তিনি নিজেও পড়েছেন, অন্যদেরও ফেলেছেন। এ আক্রমণের সমর্থনে তিনি মুসলিম উম্মাকে ‘‘পার্টি’’ হিসেবে উপস্থাপন করতে বাধ্য হয়েছেন। ‘‘পার্টি’’ শব্দটার জন্য কোরাণ নাকি ‘‘উম্মা’’ শব্দটা ব্যবহার করেছে। হজরত আবু বকর (রাঃ) নাকি মুসলিম পার্টির ভার নিয়েছিলেন, জামাত নাকি আসলে আল্লার কাজ করার ‘‘পার্টি’’-ইসলামে জিহাদ পৃষ্ঠা ১০। এভাবেই তিনি ইসলামের নামে ভাবের গরুকে গাছেতুলিয়ে ছেড়েছেন।

এ বিশ্বাসের পর মওলানা নবীজীকে তিনি সামরিক আক্রমনকারী দেখাতে বাধ্য হলেন। ‘‘ইসলামে জিহাদ’’ বইয়ের পৃষ্ঠা ২৩:- ‘‘পরে চারপাশের দেশগুলিতে নবী (দঃ) ইসলাম গ্রহনের আমন্ত্রন পাঠান। যখন ওই দেশগুলির শাসনকর্তারা তাঁর আমন্ত্রন অস্বীকার করিল, তখন নবী (দঃ) তাহাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের ব্যবস্থা গ্রহন করিলেন’’। কারণ, ৬ পৃষ্ঠা থেকে – ‘‘ইসলাম দেশ-জাতি নির্বিশেষে ইসলামের দর্শন ও কর্মপদ্ধতির পরিপন্থী সকল রাষ্ট্র ও সরকারকে পৃথিবী হইতে ধ্বংস করিতে চায়’’। বিশ্বের অমুসলমানের বিরুদ্ধে একটা অঘোষিত যুদ্ধ ছাড়া আর কিছুই নয়। চিরকালই কিছু মানুষ ধর্মপালনের আগ্রহে অত্যন্ত উদগ্র, অন্যের ওপরে অত্যাচারের মাত্রাটাই সওয়াবের মাত্রা মনে করে তারা। মৌদুদী ও তাঁর অনুসারীরা এর মধ্যে পড়েন। এ অন্ধত্ব এতই ভয়াবহ যে, নিজেরই মা-বোনের আর্তনাদ-হাহাকার মর্মে পৌঁছে না। এরা ক্ষমতাশালী হয়ে উঠলে বিশেষতঃ নারীর ওপরে নেমে আসে কেয়ামত।

মওলানার আক্রমণাত্মক হবার কারণ আছে। তাঁর হায়দ্রাবাদে তখন শতকরা ৯০ ভাগ অমুসলিমের চাপে শতকরা ১০ ভাগ মুসলিম একেবারে চ্যাÌটা, ভারতের রাজনীতি ও দাঙ্গায়ও মুসলিমরা হিন্দুদের চাপে চ্যাÌটা। সুবিশাল কংগ্রেসের মোকাবেলায় মুসলমানদের স্বার্থরক্ষায় তেমন শক্তিশালী কোন সর্বভারতীয় দল নেই, বাংলায় কৃষক-প্রজা পার্টি। মুসলিম লীগ (১৯০৫ সালে ঢকায় বানানো) তখনো চতুর জিন্নার নেতৃত্ব পায় নি, তখনো তার হালে পানি নেই। কাজেই মওলানার দর্শন আত্মরক্ষামুলক হতে হতে স্বাভাবিকভাবেই শেষে আক্রমণাত্মক হয়ে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে গেছে। তিনি তাঁর ‘‘এ সর্ট হিষ্ট্রি অফ দি রিভাইভালিষ্ট মুভমেন্ট ইন ইসলাম’’ বইয়ের ৮ পৃষ্ঠায় স্পষ্টই বলেছেন:-‘‘এই (ইসলামি) সরকারের কার্য্যপ্রণালী এমন যে ইহাতে মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা প্রয়োগের বিশেষ অবকাশ নাই’’। অথচ কোন ধর্মীয় রাষ্ট্রে ব্যক্তিস্বাধীনতা সম্ভবই নয়। তাঁর ইসলামী-গণতন্ত্রের কথাটাও ভিত্তিহীন, শব্দটা একটাসুগভীর ষড়যন্ত্র মাত্র।

তারিখ আল্ তাবারির ৯ম খন্ডের শেষ পৃষ্ঠাগুলো এবং ১০ম খন্ডের প্রথম তিন পৃষ্ঠায় এ হাঁড়ি হাটের মধ্যে ভেঙে দেয়া আছে। আসলে কোনো ধর্মরাষ্ট্রেই গণতন্ত্র সম্ভব নয়। ‘‘দি ইসলামিক ল’ অ্যান্ড কনষ্টিটিউশন’’ বইয়ের ১৩৮ -১৩৯ পৃষ্ঠায় তিনি বলেছেনঃ-‘‘রাজনৈতিক দর্শনের দৃষ্টিতে ইসলাম পশ্চিমা ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের সম্পুর্ন বিরোধী। ইসলামে পশ্চিমা গণতন্ত্রের লেশমাত্র নাই’’। বহু পরে তিনি এ বক্তব্য থেকে সামান্য সরে এসেছেন কিন্তু সেটা ছিল শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মত। ক্রমাগতভাবে তিনি তাঁর দার্শনিক অন্ধত্ব প্রকাশ করেছেন এই বলে যে তাঁর ইসলামি ব্যাখ্যার বাইরে দুনিয়ার সবাই ও সবকিছুই তাগুত বা বাতিল, ধর্মনিরপেক্ষতা মানেই ধর্মহীনতা, ইসলামী সরকার ছাড়া যে কোন সরকার হল ধর্মহীন, দুর্নীতিবাজ, অসৎ, ইত্যাদি ইত্যাদি। তাঁর বই-বক্তৃতায় স্ববিরোধীতার অন্ত নেই। যেমন, – শারিয়ার মুরতাদ-হত্যার আইন কোরাণ-বিরোধী তা সবাই জানে। বিশ্ব-জামাতি ডঃ জামাল বাদাওয়ী ও ডঃ ইউসুফ কারযাভী (কারযাভী আগে মুরতাদ-হত্যার পক্ষে ছিলেন) পর্য্যন্ত তা স্বীকার করেছেন।

অথচ মওদুদী কোরাণ-লংঘনকারী এ আইনের পক্ষে যুক্তি খুঁজে এনেছেন নবিজীর প্রায় হাজার বছর পর লেখা কাঞ্জুল উম্মাল-এর কাটা-ছেঁড়া সুত্র থেকে। আরও একটা উদাহরণ দিচ্ছি। তিনি বলেছেন – ‘‘দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলায় মুসলিম ও অমুসলিম নাগরিকদের কোনই তফাৎ নাই’’ – হিউম্যান রাইট্স্ ইন ইসলাম – পৃষ্ঠা ১২। এদিকে তিনি এ-ও বলেছেন ‘‘যে ব্যাপারে কোরাণ ও রসুলের প্রত্যক্ষ নির্দেশ আছে তা পৃথিবীর সমস্ত মুসলমান একমত হলেও বিন্দুমাত্র বদলাতে পারেব না’’ – ইসলাম ল’ অ্যান্ড কনষ্টিটিউশন – পৃষ্ঠা ১৪০। অথচ শারিয়ায় একই ব্যাপারে (সাক্ষ্য, খুনের রক্তমুল্য ইত্যাদি) মুসলিম-অমুসলিমের মধ্যে নির্লজ্জ ফারাক আছে। কিংবা ধরুন, কোনো অমুসলিমকে খুন করলে মুসলিম খুনীর মৃত্যুদন্ড হবে না (সুত্র- দি পেনাল ল’ অফ ইসলাম- পৃ-১৪৯, ইন্টারনেটের সহি হাদিস সুনান আবু দাউদ-এর ১৪-২৭৪৫ অংশে এবং শারিয়ার মূল কেতাব ‘‘রিসালা’’র ১৪২ পৃষ্ঠা ইত্যাদি। এতগুলো সুত্রের মূল সুত্র হল সহি বোখারী – খন্ড ৪-এর হাদিস নম্বর ২৮৩, ডঃ মুহসিন খানের অনুবাদ। সেটার আবার শেকড় হল – ৬২২ সালে নবীজী যখন মক্কা ছেড়ে মদিনায় হিজরত করেন তখন তিনি একটা শান্তি চুক্তি করেছিলেন মদিনার ইহুদী-খ্রীষ্টানদের সাথে।

চুক্তিটায় মোট সাতচল্লিশটা ধারার একুশ আর চোদ্দ নম্বর ধারায় আছে ঃ- ‘‘কেহ যদি কোন মুসলিমকে ইচ্ছাকৃতভাবে খুন করে ও তাহা প্রমাণিত হয়, তবে নিশ্চয়ই খুনীর মৃত্যুদন্ড হইবে’’ (ধারা ২১) কিন্তু ‘‘কোন অবিশ্বাসীকে খুন করার বদলে কোন মুসলমান অন্য মুসলমানকে খুন (ইয়াক্তালু) করিবে না’’ -(ধারা ১৪) – দি ফার্ষ্ট রিটেন কনষ্টিটিউশন ইন দি ওয়ার্লড, পৃষ্ঠা ৪৫ ও ৪৭- মুহম্মদ হামিদুল্লাহ – ১৯৪১। এ দলিল যে জাল এবং নবিজীর নয় তার শক্তিশালী পরোক্ষ প্রমাণ আছে। প্রথমতঃ, এ ক্ষেত্রে ‘‘গঠনতন্ত্র’’ শব্দটাই ভুয়া। শব্দটার একটা সাংগঠনিক-রাজনৈতিক মাত্রা আছে যা সাম্প্রতিক, অতিতের নয়। চোদ্দশ’ বছর আগে যখন রাষ্ট্রব্যবস্থাই জন্মায়নি তখনকার একটা শান্তি চুক্তিকে ‘‘গঠনতন্ত্র’’ নাম দেয়াটা ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয়।

তা ছাড়া মদীনায় তখন মোটামুটি দশ হাজার লোকের বাস (ঐ – হামিদুল্লাহ ১৯৪১-পৃষ্ঠা ১৩), আর মুসলমানের সংখ্যা মাত্র দু’শো-(দি প্রসেস অফ ইসলামিক রেভল্যুশন-মৌদুদি পৃঃ ৪২)। অর্থাৎ মুসলিমরা শতকরা মাত্র দুই আর অমুসলিমরা আটানব্বই। শতকরা আটানব্বই জনগণ নিজেদেরই দেশে বসে নিজেদেরই বিরুদ্ধে এই অন্যায় অপমানকর চুক্তিতে কেন রাজী হবে বিদেশী মাত্র দুই জনের সাথে? প্রশ্নই ওঠে না। তা ছাড়া এমন অন্যায় চুক্তি বানানো রহমতুল্লিল আল্ আমিনের পক্ষে তো দুরের কথা, কোন বিবেকবান নেতার পক্ষেও সম্ভব নয়। অনেক ইসলামী দার্শনিকের চোখে তাঁর দর্শনের ভিত্তিহীনতা, অন্তর্নিহিত দুর্বলতা, অমানবিকতা এবং ভবিষ্যতের ভয়াবহ সর্বনাশা কুফল ঠিকই ধরা পড়েছিল। প্রতিষ্ঠানের অভাবে মৌদুদী-বিরোধীদের কথাগুলো জনগণের কানে পৌঁছয়নি, এদিকে সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা বুঝে মেধাবী মওদুদী ১৯৪১ সালে জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠা করেন।

এ পর্য্যন্ত সেটা বহুগুণে বেড়ে উঠেছে। এই এত বছর পরেও জামাতকে ইসলামী দর্শনের ভিত্তিতে প্রতিহত করার কোন সংগঠন নেই। যে কোন সংগঠনের পাল্টা, বিপ্রতীপ, সমান্তরাল ও বিরোধী সংগঠন দু’দলের জন্যই দরকার। এতে সবারই ভুল-ভ্রান্তি ধরা পড়ে এবং মানবসমাজের অগ্রগতিতে সুবিধে হয়। এর বাস্তব সুবিধে জামাত এড়িয়ে গেছে চিরকাল। চিন্তার সংঘর্ষ হল সভ্যতার অগ্রগতির মূল উপাদান। কিন্তু মুখে আলাপ-আলোচনা-ইজতিহাদের বন্যা বইয়ে দিলেও ভিন্নমতের সাথে আলাপ তো দুরের কথা বরং আলোচনাকে ‘‘বিতর্ক’’ নাম দিয়ে নিষেধ করা আছে।

আমরা চার-চারবার জামাতকে জনসমক্ষে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছি, নিউইয়র্কের সাপ্তাহিকে খোলা চিঠি ছাপিয়েছি, – কোনই কাজ হয় নি। গো-আজম স্পষ্টই বলেছেন গত ৪ জানুয়ারী দৈনিক ইনকিলাব-এ -‘‘জামাত কোন ইসলামি দল ও নেতার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়না……. কারো মন্তব্যের প্রতিবাদে বিতর্কে লিপ্ত হওয়াকে জামাত সময় ও শ্রমের অপচয় মনে করে’’। বলা বাহুল্য, আমরা আলোচনার আহ্বান জানিয়েছি, – বিতর্কের নয়। সে ভালই জানে আলোচনা হলেই মুখোস খুলে তাঁর ইসলাম-বিরোধী চেহারা প্রকাশ হয়ে পড়বে। এটাও এসেছে মৌদুদী থেকেই। প্রতিপক্ষের সাথে উন্মুক্ত প্রত্যক্ষ আলোচনায় না গিয়ে মৌদুদী তাদেরকে বলেছেন ‘‘তোমাদের রাগেই তোমরা মর।’’ (ঐ, ৪ই জানুয়ারী ’০৬)

এটা একান্তই একটা হিংসুক নীচমনের কথা, কোন দার্শনিক নেতার কথা হতে পারে না। এতে সমস্যার সমাধানের বদলে খুন-খারাপী অবধারিত। এটা নবীজীর সুন্নতেরও ঘোর খেলাফ, তিনি কোনদিনই কারো সাথে আলোচনায় না করেন নি। বস্তুতঃ যে কোন বিরোধ-মীমাংসার মূল ভিত্তিই হল আলোচনা। নবিজীকে পর্য্যন্ত কোরাণ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে প্রশ্নকারীকে উৎসাহিত করেছে, ‘‘প্রশ্নকারীকে ধমক দেবেন না’’ -আদ্ব-দ্বোহা আয়াত ১০। ইসলাম নিয়ে মৌদুদী কি যে অসম্ভব জগাখিচুড়ি করেছেন তার আর তুলনা নেই। তাঁর যে কোন দশ-বারোটা বই, কোরাণ, বোখারি-তাবারি-ইবনে হিশাম’ইশাক এবং হানাফি-শাফি’ শারিয়া বইগুলো একসাথে খুলে দেখলেই বোঝা যায় তিনি তাঁর দর্শনে তিনি মোটেই সংহত ছিলেন না। একবার এটা বলছেন তো পরেই তার উল্টোটা বলছেন বহু-বহুবার, বহু-বহুবার তিনি প্রতিটি ইসলামি মূল কেতাবকে লংঘন করেছেন।

সেজন্যই দুনিয়ার বহু ইসলামি বিশেষজ্ঞ তাঁর প্রবল বিরোধীতা করেছেন। তাঁর ভেতরে সেই সাথে যোগ হয়েছে স্পর্ধা – দুনিয়ার কে কি করতে পারবে ও পারবে না তা তিনিই ঠিক করছেন। ভাবখানা এই যে তিনি সবার মাথা কিনে নিয়েছেন, কিন্তু সে অধিকার তাঁর কোত্থেকে এল তা বলেন নি। কোন দার্শনিক এভাবে হুংকার দেয় না যেভাবে তিনি দিয়েছেন। কোনো জামাতি আলোচনায় এলে এগুলো উদ্ধৃতি দিয়ে দেখাতে পারতাম। যাহোক, জনসমক্ষে আলোচনায় তত্ত্ব-তথ্য-বাস্তব উদাহরণ দিয়ে জামাতকে ইসলাম-বিরোধী প্রমাণ করা খুবই সম্ভব। কিন্তু কেউ যদি মনে করেন তাতেই জামাত উচ্ছেদ হয়ে যাবে তবে বড় ভুল হবে। জামাত তার আর্থিক-সাংগঠনিক কাঠামো এমনভাবে গড়ে তুলেছে যে যদি গুটিকয় জামাতি ছাড়া দেশের প্রতিটি মানুষও জামাতকে চরমভাবেঘৃণা করে তবু সে শক্তভাবে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।

আমাদের অসৎ রাজনীতি ও ভগ্ন প্রতিষ্ঠানের দেশে কিভাবে সে উচ্ছেদ হবে তা এখনও বলা সম্ভব নয়। তবে অনেক কারণেই তার ললাটে চরম পরাজয় সুনিশ্চিত, তার মধ্যে তিনটে হল ষড়যন্ত্র, কোরাণ-লংঘন ও মানবাধিকার লংঘন। ওগুলো না হয় তত্ত্বকথা। বাস্তব কাজে-কর্মে জামাতিদের মধ্যে আমরা আজ যে মারাত্মক হিংস্রতা দেখি তারও মূল রয়ে গেছে মৌদুদীর অপদর্শনেই। একাত্তরে গ্রাম-গঞ্জে স্বজাতিরই লক্ষ লক্ষ মা-বোনের সভ্রম হরণ ও সাধারণ মানুষ হত্যায় মৌদুদীর দল যে নৃশংসতা করেছে, – তা-ও আবার ইসলামের নামে, দুনিয়ায় তার তুলনা বিরল।

মৌদুদী তখনও বেঁচে, কসাইয়ের মত তিনি বাংলায় এই পাশবিক গণধর্ষণ-গণহত্যায় সমর্থন জুগিয়ে গেছেন। ১৯৫৩ সালে তাঁরই লিফলেটের ভিত্তিতে লাহোরে তিন দিনে নারী-শিশু-বৃদ্ধ সহ প্রায় পনেরো হাজার আহমদী কচুকাটা হয়। একটা ছোট শহরে জল্লাদের হুংকার আর প্রতিদিন পাঁচ হাজার আশরাফুল মাখলুকাতের হত্যাযজ্ঞ কি ভয়াবহ ব্যাপার তা জামাতিদের পক্ষে উপলব্ধি করা সম্ভব নয় বলেই এতবড় কেয়ামতের পরেও তিনি কোনোদিন একটু দুঃখপ্রকাশ পর্য্যন্ত করেন নি। জামাত তাঁরই পদাংক হুবহু অনুসরণ করেছে গণহত্যা-গণধর্ষণ করার পর ‘‘একাত্তরে আমরা ভুল করিনি’’ বলে।

লাহোর-গণহত্যার দায়ে মৌদুদীর মৃত্যুদন্ড পর্য্যন্ত হয়। পরে তাঁর জিগরী দোস্ত মধ্যপ্রাচ্যের চাপে তিনি ছাড়া পান। তখন পাকিস্তান ও মুসলিমের ‘‘ঘোর বন্ধু’’ অ্যামেরিকাও তাঁকে ‘‘পাকিস্তানের সবচেয়ে বিপজ্জনক লোক’’ বলেছে। এ বিপদ এখন পাকিস্তানকে পচিয়ে দিয়ে বাংলাদেশে উদয় হয়েছে প্রেতের বিভৎসতায়।কিন্তু বাংলাদেশ পাকিস্তান নয়, আফগানিস্থান তো নয়ই।

Source: Banglar Islam.Com



মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.