| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মহাজাগতিক পিঁপড়া
মাঝে-মধ্যে আগুনের মত সুন্দর কিছু ব্যাথায় আহত, তবু বেঁচে থাকি সোনালি স্বপ্ন বুঁনে।
প্রতিবারের মত এই শিক্ষাবর্ষেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা যথেষ্ট প্রতিযোগিতাপুর্ণ ছিল। যারা ভর্তি হবার সুযোগ করে নিতে পেরেছে তাদের যেমন আনন্দের সীমা নেই,ঠিক তেমনই যারা সুযোগ করে নিতে পারে নি স্বভাবতই তাদের অনেকেই নিজেদের দুর্ভাগ্যবান মনে করছে। আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে যারা ভর্তির সুযোগ পেয়েছে এবং ১৬তারিখে বিজ্ঞান অনুষদের ক্লাশ করার জন্য এখন ভর্তি প্রক্রিয়ায় ব্যাস্ত তাদেরকেই আমার সবচেয়ে বেশি অভাগা মনে হয়।অন্যদিকে যারা বেসরকারীতে ভর্তি হবে কিংবা হয়েছে তাদেরকে মনে হচ্ছে তুলনামুলক ভাগ্যবান!
মনের আনন্দে চোখে হাজার স্বপ্ন নিয়ে যারা দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠে পদার্পন করছে অল্পদিন যেতেই যখন তাদের চির লালিত স্বপ্ন গুলোকে একে একে হত্যা হতে দেখবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরতরুন এই আঙ্গিনায় তখন তাদের মত অসুখী আর অভাগা আর ক'জন থাকবে?
স্বপ্ন ভঙ্গের দুঃখ সইতে পারে এমন ক'জনইবা আছে?
একে একে স্বপ্ন গুলোর মৃত্যু অনেকেই মেনে নেয় না অবশ্য আমি বলব মেনে নিতে পারে না। আমি যখন পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তি হয় তখন আমার সাথে আরো ৮৬জন বন্ধুও এই বিভাগে তাদের স্বপ্নিল জীবন গড়ার জন্য পা রাখে। আর সন্মান শেষ করছি আমার সাথে মাত্র ৫৬জন বন্ধুকে নিয়ে।আমার কথা এই ৫৬ জনের সবাই আবার আমার সাথে বিভাগে পা রাখেনি। অনেকেই আমার বহু আগে এসেছে কিন্তু না না জটিলতার বেড়াজালে এখন পিছিয়ে পিছিয়ে আমার সাথে। আর আমার সাথে না থাকা ৩০জন বন্ধু কোথায় গেল?
বিশ্ববিদ্যালয় তাদেরকে শুধু ৩০জন ছেলে হিসেবেই দেখল এবং তাদের স্বপ্নগুলোকে নানা অহেতুক আর অযাচিত নিয়মের বেড়াজালে ফেলে মৃত্যবরনে বাধ্য করেছে। আমি ৩০টা ছেলে হিসেবে দেখি না, আমি দেখি দেশের ৩০জন বুদ্ধিজীবি। এভাবে একব্যাচেই যদি ৩০জন করে ঝরে যায় তবে প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কতজনের স্বপ্নকে হত্যা করেছে? দেশকে কতবছর পিছিয়ে যাবার জন্য সহায়তা করেছে? এর খোজ কে রাখে বলুন! কেউ রাখে না। স্বপ্নের সাথে দেহটাকে খুন করে ফেললেও সেই দৃশ্যমান মৃত্যুর বিচারই হয় না,আর এতো কিছুই না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় না শুধু প্রতিটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রতি বছর যে পরিমান ছাত্র-ছাত্রী ঝরে পরছে তা কমিয়ে আনার জন্য কোন উদ্যোগই নেই এই স্বায়ত্বশাসিত শিক্ষা প্রতিষ্টান গুলোর।কবে তাদের এই দায়বদ্ধতা আসবে তা কেউ জানে বলে মনে হয় না।
আর যারা এই স্বপ্ন ভঙ্গের প্রতিষ্টান থেকে আহত সৈনিকের মত কিংবা বীরের মত বেড়িয়ে যায় তাদেরকে এবং আমার নিজেকেও খুব সৌভাগ্যবান মনে হয়।
আর যারা নতুন ভর্তি হচ্ছে তাদের জন্য পরামর্শ একটাই- ''Survival for the fittest''
তবে একটা স্বপ্ন আমার এখনো মরে যায়নি সেটা হচ্ছে - একদিন এখানে সঠিক নিয়মে সঠিক ভাবে জ্ঞ্যানের সৃষ্টি আর চর্চা হবেই।কারন এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষক আছেন যারা জানেন কিভাবে জ্ঞ্যান সৃষ্টি চর্চা এবং বিতরন করতে হয়।যদিও এই সংখ্যাটা অতিব নগন্য। তাদের জন্য মন থেকে দোয়া করি যাতে তারা কখনো দমে না জান।
ধন্যবাদ আপনাকে ধৈর্যধরে পড়ার জন্য। ভালো থাকবেন।
১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৫:৩৮
মহাজাগতিক পিঁপড়া বলেছেন: ঠিক বলেছেন। তবে চাকুরির বাজারে কোটাওয়ালা মামুরা অনেক অংশ দখল করে নেয় সত্যি,কিন্তু সেটার বাইরেওতো কোটাহীন ভাল চাকুরি রয়েছে। সেখানে জোগ্যতাটাই বড় ব্যাপার।এখনো অসংখ্য কোম্পানীর চাকুরির পোস্ট খালি আছে উপযুক্ত প্রার্থীর অভাবে।
একজন ছাত্রকে অবশ্যই ছাত্র হতে হবে। পরিক্ষায় ফেল করা ছাত্রের চেয়ে এখানে ক্লাসে ৭৫% উপস্থিতি না থাকায় পরিক্ষা নাদিতে পারা ছাত্রের সংখ্যা অনেক বেশি। আর পলিটিক্সতো আজকাল মানুষকে মানুষই থাকতে দেয়না ছাত্র হবার কথাতো বাদই দিলাম।
যারা চান্স পেয়ে পড়াশোনা ছেড়ে দেয় সেই সংখ্যাটা হাজারে ৫-১০জন পাবেন। এদের চান্স পাওয়ার চেয়ে না পাওয়াটাই বরং ভাল।
ধন্যবাদ আপনাকে।
২|
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ৯:৫৩
htusar বলেছেন: ভাই, মনের কথা টা কইলেন।
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১০:১৩
মহাজাগতিক পিঁপড়া বলেছেন: ধন্যবাদ। ভাল থাক।
©somewhere in net ltd.
১|
১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৫:১১
মুহাই বলেছেন: হুম ।সত্যই বলেছেন ।তবে ঝড়ে পরার জন্য শুধু কর্তৃপক্ষই দায়ী নয় ।এমন অনেকে আছে যারা ভাবে চান্স পেলেই পড়ালেখা শেষ ফলে তারা পরীক্ষায় ফেল করে ।অনেকে পলিটিক্স করতে গিয়ে দু তিনবছর নষ্ট করে ।অনেকে শেষই করতে পারেনা ।তাদের দোষটাও দেখতে হবে ।মোটকথা ছাত্রকে যথার্থ ছাত্র হতে হবে ।আর চাকুরির বাজারে আশাভঙ্গের কথা বাদ দিলাম ।সবতো কোটাওয়ালা আর মামুওয়ালাদের জন্য ।