নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

রাজা

রাজা

রাজামশাই

আমি রাজা

রাজামশাই › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ বিস্তারিত - ৫১- ৭০

২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ২:২৬

৫১। সত্যের উপরে মিথ্যার আবরণ দেওয়া

আহলে কিতাব ইয়াহুদীÑখৃষ্টানদের দের সম্পর্কে আল্লাহ বলেনÑ



‘হে কিতাবধারীগণ! তোমরা সব কিছু জানা সত্বেও কেন সত্য গোপন করছো এবং তার উপর মিথ্যার আবরণ ছড়াচ্ছ ? (সূরা আলে ইমরান ৩ ঃ আয়াত ৭১)

এখানে ইয়াহুদীÑখৃষ্টানদেরদের সত্য গোপন করার চারটি তাৎপর্য হতে পারে। যেমনÑ এক ঃ তাওরাত ও ইঞ্জিলের মূল গ্রন্থে রদবদল। দুই ঃ তারা মুখে ইসলামকে স্বীকার করে ও মুনাফেকীকে গোপন করে। তিন ঃ মুসা আলাইহিস সালাম ও ঈসা আলাইহিস সালাম এর উপর ঈমান আনে, কিন্তু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অবিশ্বাস করে এবং চার ঃ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রিসালাতের সত্যতাকে মনে মনে বিশ্বাস করে, কিন্তু মুখে মিথ্যা বলে।

৫২। সত্যকে প্রতিরোধ করার জন্য সাময়িকভাবে তাকে স্বীকার করে নেওয়া

নিজ মাযহাবের উপর গোড়ামী ঠিক রেখে সত্যকে প্রতিরোধ করার জন্য আহলে কিতাবগণ তাদের লোকদেরকে কিভাবে পরিচালিত করতো, তার পরিচয় মিলবে নিম্নোক্ত আয়াতেÑ



‘কিতাবধারীদের একটি দল বলে যে, মুমিনদের উপর যা নাযিল হয়েছে অর্থাৎ কুর‘আনের উপরে তোমরা দিনের বেলায় ঈমান প্রদর্শন করো এবং দিনের শেষে উহা প্রত্যাখ্যান করো, হয়ত বা এতে মুমিনরা পুনরায় ফিরে আসবে। তবে (সাবধান) যারা তোমাদের দ্বীনের অনুসারী (ইয়াহুদী কিংবা খৃষ্টান) তাদেরকে ছাড়া অন্য কাউকে বিশ্বাস করবেনা’। (সূরা আলে ইমরান ৩ ঃ আয়াত ৭২-৭৩)

উক্ত আয়াতের শানে নুযুল সম্পর্কে হাসান ও সুদ্দী রা. বলেন, খায়বরের ১২ জন ইহুদী ধর্মনেতা এ বিষয়ে একমত হলেন যে, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ দিনের প্রথমাংশে মুখে মুখে ইসলাম গ্রহণ করবে ও শেষের দিকে কুফরী করবে। অতঃপর মুসলিমদের সংগে বলবে আমরা আমাদের ঐশী কিতাবসমূহ দেখেছি ও আমাদের আলিমদের সংগে আলোচনা করেছি। তাতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর দ্বীনকে মিথ্যা পেয়েছি। এমনিভাবে আমরা করতে থাকলে মুসলিমরা সন্দেহে পড়ে যাবে এবং বলবে কিতাবধারীরা বেশী বিদ্বান। তারা মুহাম্মদের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাইতে বড় আলেম।’ অতএব এইভাবে ক্রমে তারা ইসলাম ত্যাগ করে আমাদের ধর্মে (ইয়াহুদীÑনাছারা) চলে আসবে।



৫৩। নবীদের রবের আসন দেওয়া

আল্লাহ বলেনÑ

‘কোন মানুষের জন্য ইহা শোভন নয় যে, তাকে কিতাব, হিকমত ও নবুওয়ত দান করার পর সে লোকদেরকে বলবে যে, তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে আমার গোলাম বনে যাও। বরং সে বলবে যে, তোমরা সবাই আল্লাহওয়ালা হয়ে যাও। এজন্য যে, তোমরা লোকদেরকে কিতাব শিক্ষা দিয়ে থাকো এবং তা অধ্যয়ন করে থাকো। সে তোমাদের এ নির্দেশ ও দিবে না যে, তোমরা মালাইকা ও নবীদেরকে রব বা প্রতিপালক হিসাবে গ্রহণ করো। সে কি তোমাদেরকে মুসলিম হওয়ার পরে পুনরায় কাফির হতে বলবে’? (সূরা আলে ইমরান, ৩ ঃ ৭৯Ñ৮০)

ইবনে ইসহাক স্বীয় সনদে বর্ণনা করেছেন যে, নাজরানবাসী ইয়াহুদী ও খৃষ্টান ধর্মনেতাগণ রাসূলে করীমের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দরবারে হাজির হলে তিনি তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেন। উত্তরে তারা বললÑ ‘ হে মুহাম্মদ, তুমি কি মনে করো যে, আমরা ইবাদত করবো যেমন খৃষ্টানেরা ঈসা ইবনে মারইয়ামকে করে থাকে? উপস্থিত একজন খৃষ্টান সর্দার এ কথার পুনরুক্তি করে জিজ্ঞেস করলোÑ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তুমি সত্যিই কি তাই চাও? উত্তরে নবী করিম বলেন, ‘আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় ভিক্ষা করছি গায়রুল্লাহর ইবাদত করা হতে এবং অন্যকে এ কাজের হুকুম করা হতে। আল্লাহ এজন্য আমাকে পাঠাননি এবং এজন্য তিনি আমাকে নির্দেশ দেননি’। এই সময় উপরোক্ত আয়াত নাযিল হয়।

৫৪। আল্লাহর কিতাবের শব্দ সমূহকে স্থানচ্যুত করা

ইয়াহুদীদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেনÑ



‘ইয়াহুদীদের জন্য কতক লোক (তাওরাতের) কথাগুলিকে স্থানচ্যুত করে এবং বলে আমরা শুনলাম ও অমান্য করলাম, তুমিও শুনো, না শোনার মত। (সূরা আন-নিসা ৪ ঃ আয়াত ৪৬)

অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেনÑ

‘তাদের মধ্যে একদল লোক আছে যারা কিতাবকে জিহ্বা দ্বারা এমনভাবে বিকৃত করে পড়ে যেন তোমরা উহাকে যথার্থই আল্লাহর কিতাব বলে ধারণা করো। অথচ তা মোটেই আল্লাহর কিতাবের অংশ নয়। তারা বলে যে, উহা আল্লাহর নিকট হতে, অথচ আসলে তা নয়। বরং ওরা জেনেশুনে আল্লাহ সম্পর্ েমিথ্যা বলে’। (সূরা আলে ইমরান ৩ ঃ আয়াত ৭৮)

ইহুদীরা তাদের মূল কিতাবে কোনরূপ রদবদল করেছে, নাকি নিজেদের রচিত কিতাবে রদবদল করেছে এ বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে। এ বিষয়ে তাফসীরে রুহুল মা‘আনী এবং শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ রহ. প্রণীত ‘আলজাওয়াবুছ ছহীহ,’ নামক গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা রযেছে।

বলাবাহুল্য, আজকাল উম্মতে মুহাম্মদীর মধ্যেও কিতাবীদের মত কুরআন ও হাদীসের নিজেদের মন মত তাহরীফ ও তাবীলের ব্যধি ঢুকে পড়েছে। আমাদের এ বিষয়ে কঠোর সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

৫৫। হিদায়েতপ্রাপ্ত লোকদেরকে অভিনব উপাধিসমূহ দ্বারা অভিহিত করা

জাহেলী যুগের লোকেরা তাদের মাযহাব ত্যাগকারীদেরকে ‘ছাবেয়ী’ বলতো। ছহীহ বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য হাদীস সমূহ হতে জানা যায় যে, তার নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ‘ছাবেয়ী’ বলে ডাকতো। যাতে লোকেরা তাদের চিরাচরিত মাযহাব ছেড়ে চলে না যায়। বর্তমান যুগের মুসলিমদের মধ্যে আপনি এমন লোক বহু পাবেন, যাদেরকে বেদআতপন্থী হওয়ার কারণে লোকেরা ত্যাগ করেছে। অথচ উল্টা হক পন্থীদেরকেই তারা বিভিন্ন অপছন্দনীয় নামে অভিহিত করে থাকে। ইমাম ইবনে কুতাইবা স্বীয় ‘তাবীলু মুখতালাফিল হাদীস’ নামক যুগান্তকারী গ্রন্থে বলেন যে, ‘বিদআত পন্থীরা আহলে হাদীসদেরকে হাশবিয়া, নাবেতা, জাবরিয়া প্রভৃতি নামে অভিহিত করে। অথচ এ সবই মিথ্যা উপাধি মাত্র। এইসব নামের পশ্চাতে আল্লাহর রাসূলের কোন সমর্থনই নাই। যেমনÑ তিনি নিম্নোক্ত নামসমূহ দ্বারা অভিহিত করে তাদেরকে বিভিন্নভাবে লা’নত করেছেন। যেমনÑ (১) কাদরিয়াদের সম্পর্কে তিনি বলেছেনÑ ‘তারা এই উম্মতের (মুসলিম মিল্লাতের) মজুসী বা অগ্নি উপাসক। যদি ওরা পীড়িত হয় তবে সেবা করো না, যদি মারা যায় জানাযায় শরীক হয়োনা’ (২) রাফেযী সম্পর্কেÑশেষ যামানায় রাফেযী বলে একটি দল হবে, যারা ইসলামকে ত্যাগ করবে এবং দূরে নিক্ষেপ করবে। তোমরা ওদেরকে হত্যা করো। কেননা ওরা মুশরিক। (৩) মুর্জিয়া সম্পর্কেÑ ‘আমার উম্মতের মধ্যে দু’টি দল হবে যারা আমার শাফায়াত পাবে না, যারা সত্তর জন নবী কর্তৃক অভিশপ্ত হয়েছে। তারা হলো মুর্জিয়া ও কাদরিয়া।’ (৪) খারেজীদের সম্পর্কেÑ ‘তারা দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাবে’। যেমন তীর তার ধনুক থেকে বেরিয়ে যায়’। অন্য বর্ণনায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদেরকে ‘জাহান্নামবাসীদের কুত্তা’ বলেছেন।

‘গুনিয়াতুত্ত্বালেবীন’ নামক কিতাবে শায়খ আব্দুল কাদের জিলানী রহ. বলেন যে, ‘বাতেনীরা আহলে হাদীসগণকে হাশবিয়া বলে। শাহ ওয়ালীউল্লাহ রহ. স্বীয় প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘হুজ্জাতুল্লাহিল্লাহিল বালেগাহ’ এর মধ্যে বলেন যে, এই সমস্ত অনুপ্রবেশকারীরা আহলে হাদীস জামা‘আতের উপর অযথা বাড়াবাড়ি করেছে। তারা উল্টা এদেরকে মুজাসসিমা মুশাববিহা বলেছে এবং দোষারোপ করেছে এই যে, ‘আহলে হাদীসরা আল্লাহ নিরাকার হওয়ার ছদ্ম দাবী করছে মাত্র। তাদের আসল মতবাদ আল্লাহ আকার হওয়ার পক্ষে। অথচ আমার নিকট অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, এই সব অনুপ্রবেশকারীদের এই অযথা বাড়াবাড়ির পিছনে রিওয়ায়া ও দেরায়াত (হাদীস ও প্রজ্ঞা) কোনদিক দিয়েই কোন যুক্তি নেই। এরা হিদায়েতের অগ্রপথিক। আহলে হাদীসগণের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে মাত্র।’ হাফেয ইবনুল কাইয়্যেম রহ. তাঁর ‘কাফিয়া’ নামক কিতাবের মধ্যে আলাদা অধ্যায় রচনা করে বেদআতীরা যে প্রথম কুরআন ও সুন্নাহর অনুসারী সালাফী আহলে হাদীস জামাআতকে ‘হাশবিয়া’ প্রভৃতি নামে অভিহিত করেছে ২০ লাইন কবিতার মাধ্যমে সুন্দরভাবে তা ফুটিয়ে তুলেছেন।

আহলে হাদীসগণের বিরুদ্ধে ইহা একটি বিরাট অপবাদ। যদিও এই ধরণের অপবাদ অন্যেরা দেয় না। আজকের দিনেও হকের এ শত্র“ যারা, তারা পূর্ববর্তী জাহিলদের তরীকা অনুসরণ করে কুর‘আন ও সুন্নাহর অনুসারী এইসব হকপন্থী লোকদেরকে বিভিন্ন খারাপ নামে অভিহিত করে থাকে।

৫৬। সত্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা

সত্য দ্বীনের বিরোধী যারা তাদের বৈশিষ্ট্যই হলো আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করা এবং সত্য দ্বীনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা। যেমন ইয়াহুদীÑখৃষ্টানেরা দাবী করে থাকে যে, তারা যার উপরে আছে সেটাই মাত্র সঠিক এবং আল্লাহ তাদেরকে চিরদিন তাইÑই আঁকড়ে ধরে রাখতে বলেছেন ; দ্বীন ইসলাম সত্য নয় এবং আল্লাহ তাদেরকে উহা মিথ্যা প্রতিপন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ সব কিছুই তাদের পূর্বসূরীদের অন্ধ অনুসরণ মাত্র। তারা দলীল-প্রমাণের দিকে দৃষ্টি দেয় না।

বর্তমান বিশ্বের বেদআতীরা তাদের বেদআতগুলিকেই হক মনে করে এবং ভাবে যে, আল্লাহ তাদেরকে এই সব পূণ্য কর্ম (?) করতে নির্দেশ দান করেছেন। পক্ষান্তরে হকপন্থীরা যে সব আমল করে ওসব বাতিল, অসত্য। ‘প্রত্যেকেই লায়লী প্রেমের দাবীদার। অথচ লায়লী তাদের কারো নয়।’

৫৭। মূ‘মিনদের উপর মিথ্যারোপ

জাহেলী যুগের লোকেরা মুমিনদের বিরুদ্ধে পার্থিব প্রতিপত্তি লাভের জন্য মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করতো। যেমন ফেরাউনের কওম মূসা আলাইহিস সালাম এর নিকট লাÑজওয়াব হওয়ার পরে দূর্বলের চিরন্তন নীতি অনুযায়ী বাপÑদাদার রীতি সমূহের প্রতি অন্ধ গোড়ামী প্রদর্শন করে বলেÑতুমি কি আমাদের নিকট আমাদের বাপÑদাদার রীতিÑনীতি হতে বিচ্যুত করবার জন্য এসেছ এবং এই দেশে যাতে তোমাদের দু’ভাইয়ের প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পায় সেজন্য? আমরা তোমাদের উপর বিশ্বাসী নই’।



“তারা বলল, তুমি কি আমাদের নিকট এ জন্য এসেছো যে, আমাদের সরিয়ে দিবে সে পথ হতে যাতে আমরা আমাদের বাপ-দাদাদের পেয়েছি। আর পৃথিবীতে তোমাদের দু’ জনের আধিপত্য স্থাপিত হয়ে যায়? কিন্তু আমরা তোমাদের দু’ জনকে কখনো মেনে নেবনা।” (সূরা ইউনূস : ৭৮)

এখানে পার্থিব প্রতিপত্তি বলতে বাদশাহী বুঝানো হয়েছে যেমনÑ মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করা হয়েছে যুজাজ বলেন, বাদশাহীকে প্রতিপত্তি এজন্যে বলা হয়েছে যে, উহাই হলো দুনিয়াতে সর্বাপেক্ষা বড় কাম্য বস্তু। অতএব যখনই কোন হকপন্থী ব্যক্তি মানুষকে হকের দাওয়াত দেয়, বাতিলপন্থী জাহেলরা অমনি তাদেরকে প্রতিপত্তি লোভী রাজনৈতিক স্বার্থবিরোধী বলে দোষারোপ করে। অথচ একবারও তারা ভেবে দেখে না, এরা কি বলতে চায় এবং তা কতটুকু যুক্তিনির্ভর।

৫৮। মূ‘মিনদের বিরুদ্ধে সমাজে ফাসাদ সৃষ্টির অভিযোগ

মুমিনদেরকে সমাজে ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারী বলে অভিহিত করা জাহেলী যুগের একটি রীতি। যেমনÑ সূরা বাক্বারার ১১ ও ১২ আয়াতে পরিষ্কার বলা হয়েছে,



“যখন তাদেরকে বলা হয় পৃথিবীতে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে আমরাইতো শান্তি স্থাপনকারী। সাবধান এরাই (আসলে) অশান্তি সৃষ্টির হোতা। কিন্তু ওরা (নিজেদের দোষ) বুঝতে অপারগ।” (সূরা আল-বাকারা : ১১-১২)

এমনিভাবে একই রীতি চলছে প্রতি যুগে, ঐ সমস্ত লোকের মধ্যে যাদের অন্তরে বিভিন্ন বেদআতী রেওয়াজ প্রথা ও বিভ্রান্তি সমূহ দানা বেঁধে আছে।

৫৯। মুমিনদের বিরুদ্ধে ধর্ম পরিবর্তনের অভিযোগ

জাহেলী যুগের অন্যতম রীতি ছিল যে, তারা যে নীতির উপরে চলতো, সেটাকেই এক মাত্র হক মনে করতো। এর বাইরে সব কিছুকে গুমরাহী ভাবতো। কেউ তাদের ভুল ধরিয়ে হক পথের সন্ধান দিলে উল্টা তাকেই দ্বীন পরিবর্তনকারী ও ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারী বলে আখ্যায়িত করতো। যেমন আল্লাহ উদ্ধৃতি করে বলেনÑ

‘আমি আশংকা করছি যে, এই ব্যক্তি তোমাদের ধর্মকে পাল্টে দেবে এবং দেশে ফ্যাসাদ ব্যপ্ত করে দেবে।’ (সূরা আল-গাফের, ৪০ ঃ আয়াত ২৬)

প্রতি যুগেই হকপন্থীদের বিরুদ্ধে বাতিল পন্থীদের এমনি আচরণ চলে আসছে।

৬০। হক পন্থীদের বিরুদ্ধে সরকারের নিকট কুপরামর্শ

যখন বাতিলপন্থীরা যুক্তিতে হেরে যায় তখন তারা অস্ত্রের আশ্রয় নেয় এবং দেশের সরকারকে কুমন্ত্রণা দিতে শুরু করে। হকপন্থীদের বিরুদ্ধে সরকার বিরোধী চক্রান্তের মিথ্যা অপবাদ রটিয়ে দেয়। আরও বলে, এরা দেশের প্রতিষ্ঠিত সরকারকে হেয় করছে এবং জনসাধারণকে তাদের ধর্ম সম্পর্কে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। যেমনÑ ফেরাউনকে তার সম্প্রদায়ের নেতারা কুমন্ত্রণা দিয়ে বলেছিলÑ

‘আপনি কি মূসা ও তার কওমকে রাজ্যে বিপর্যয় সৃষ্টি করার জন্য সুযোগ দিবেন’? (সূরা আল-আরাফ, ৭ ঃ আয়াত ১২৭)

এ নিয়ম সব যুগেই ছিল, আজও আছে।

৬১। সত্য বিচ্যুতির ফলে দলে দলে বিভক্তি

প্রকৃত সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার ফলে জাহেলী যুগের লোকেরা নিজেদের দ্বীনের মধ্যে অসংখ্য ফিরকায় বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। তাদের এই অবস্থান বর্ণনা প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেনÑ

‘আসল কথা হলো, তারা তাদের নিকট আগত সত্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। ফলে তারা এমন দ্বিধা দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে আছে।’ (সূরা কাফ, ৫০ ঃ আয়াত ৫)

এই দ্বিধাÑসংকোচ কয়েক ধরণের ছিল। যেমনÑ

(ক) কোন মানুষের নবী হওয়াকে কেউ কেউ অসম্ভব ভাবতো।

(খ) নবুওত কেবল বিরাট প্রতিপত্তিশালী ধনী ব্যক্তিদেরকে দেওয়া যেতে পারে। যেমন তারা প্রকাশ্যে বলেছিলÑ



‘দুইটি বড় জনপদের কোন মহান ব্যক্তির নিকট কেন এই কুরআন নাযিল হলো না?

(গ) কারো ধারণা ছিলÑ নবুওত আসলে একটা যাদু মাত্র।

(ঘ) কারো ধারণা ছিল, এটি কোন মন্ত্রতন্ত্র হবে।

সূরা যারিয়াতের ১১ আয়াতে আল্লাহ অবিশ্বাসীদের লক্ষ্য করে বলেনÑ নিশ্চয়ই তোমরা নানা কথার বেড়াজালে আটকা পড়ে আছো। যেমনÑ (ক) তোমরা একদিকে বলছো আসমানÑযমীন সবকিছুই আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। অন্যদিকে প্রতিমা পূজা করছো। (খ) রাসূল সম্পর্কে তোমরা একবার বলছ পাগল, একবার বলছ যাদুকর। অথচ বুদ্ধিমান লোক ছাড়া যাদুকর হতে পারে না। (গ) কেয়ামত সম্পর্কে তোমরা বলছ হাশরÑনশর কিছুই নেই, পুণরুত্থান মিথ্যা। ওদিকে বলছ, তোমাদের হাতে গড়া মূর্তিগুলি কেয়ামতের দিবসে আল্লাহর নিকট শাফাআত করবে। এমনি আরো যুক্তি অপযুক্তির জালে আবদ্ধ হয়ে তোমরা পথ হাতড়ে বেড়াচ্ছ। অথচ সত্য দ্বীন তোমাদের বার বার আহ্বান জানাচ্ছে। কিন্তু সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করছ না।

পৌত্তলিক মুশরিকদের অবস্থা বর্ণনা শেষে সূরা আল-আনআমের ১৫৯ আয়াতে আল্লাহ কিতাবধারী ইয়াহুদীÑখৃষ্টানদেরদের অবস্থা সম্পর্কে বলেনÑ

‘যারা দ্বীনের মধ্যে নানা মতের সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, আপনি তাদের কোন ব্যাপারেই নয়। তাদের বিষয়টি সম্পূর্ণ আল্লাহর এখতিয়ারে। আল্লাহ তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবহিত করবেন।’

আবু দাউদ ও তিরমিযিতে আবু হুরায়রা রা. প্রমূখ রেওয়ায়েত করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন যে, ইহুদীরা ৭১ উপদলে ও নাছারাগণ ৭২ উপদলে বিভক্ত হয়েছিল। তাদের মধ্যে একটি দল ছাড়া বাকী সবাই জাহান্নামে যাবে।

বলা বাহুল্য ইসলাম আসার পরে বর্তমান যুগের সকল ইয়াহুদীÑখৃষ্টানরাই জাহান্নামী দলের অন্তর্ভূক্ত। কারণ, সত্য দ্বীন ইসলামের আবির্ভাবের পরে আগেকার সকল দ্বীন আল্লাহ বাতিল ঘোষণা করেছেন।

তিরমিযী, ইবনে জরীর, তাবারানী প্রমুখ বর্ণিত আবু হোরায়রা রা. কর্তৃক বর্ণনা আছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন যে, ইসলামের মধ্যে ফিরকা সৃষ্টিকারী তারাই, যারা আমার উম্মাতের মধ্যে বেদআতী ও প্রবৃত্তি পূজারী হবে।

মোটকথা, বিভক্তির মূল প্রেরণা আসে জাহেলিয়াত থেকে। নইলে সত্য দ্বীন চাই তা বিগত দিনের মূসা বা ঈসার আলাইহিস সালাম শরীয়ত হোক, চাই শেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শরীয়ত হোক, উহাতে কোনই ইখতেলাফ বা স্বÑবিরোধিতা নেই। যেমন আল্লাহ বলেনÑ

‘ঈমানদারদের অভিভাবক হলেন আল্লাহ, তিনি তাদেরকে অন্ধকারসমূহ থেকে আলোর পথে নিয়ে আসেন। পক্ষান্তরে যারা সত্য প্রথ্যাখ্যানকারী তাদের অভিভাবক হলো শয়তান। উহারা তাদেরকে আলো হতে অন্ধাকার সমূহের দিকে নিয়ে যায়। ওরা দোযখের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে।’ (সূরা আল-বাক্বারাহ, ২ ঃ আয়াত ২৫৭)

অত্র আয়াতে আল্লাহ ‘নূর’ (আলো) এক বচন ও ‘যুলুমাত’ (অন্ধকার সমূহ) কে বহুবচন ব্যবহার করেছেন। কারণ নূর বা হক চিরদিনই অখন্ড অবিভাজ্য, উহা কখনোই বিভক্ত হতে পারে না। পক্ষান্তরে যার উৎস অসংখ্য, তা সব সময়ই বিভক্ত হয়ে থাকে। কারণ নানা মুনির নানা মত থাকবেই।

অতএব আক্বীদা ও বিশ্বাসে অনৈক্য জাহেলী যুগের রীতি এবং সত্য বিশ্বাসে ঐক্য এটাই ইত্তেবায়ে রাসূলের নীতি। আমাদেরকে সকল অনৈক্য ভুলে সেই নীতিতেই অটল থাকতে হবে।

৬২। নিজেদের লালিত মতবাদকেই হক মনে করে তার উপর আমল বজায় রাখার দাবী

এটা ছিল জাহেলী যুগে ইয়াহুদীদের স্বভাব, যেমন আল্লাহ বলেনÑ

আল্লাহর নাযিলকৃত পাক কুরআনের উপর ইয়াহুদীদেরকে ঈমান আনতে বলা হলে তারা বলে ছিল যে, আমরা কেবলমাত্র বিশ্বাস করবো ঐ বস্তুর উপর যা আমাদের উপর নাযিল হয়েছে (অর্থাৎ তাওরাত) এবং উহা ব্যতীত সব কিছুকে তারা প্রত্যাখ্যান করবে। অথচ কুরআনই প্রকৃত হক কিতাব যা তাদের (তাওরাতÑইঞ্জিল) সত্যতা প্রতিপন্ন করে থাকে। (হে নবী) আপনি বলুন যে, ‘তোমরা যদি সত্যিকারের ঈমানদার হও, তাহলে কেন ইতিপূর্বে নবীদেরকে হত্যা করেছিলেন’? (সূরা আল-বাক্বারাহ, ২ ঃ আয়াত ৯১)

৬৩। ইবাদতের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা

যেমন তারা আশুরা প্রভৃতি দিনে রোযা পালন করত নিজেদের পক্ষ থেকে।

৬৪। ইবাদতে কমতি করা

যেমনÑ কুরাইশ বংশের লোকেরা হজ্জের সময় অন্যান্যদের ন্যায় আরাফাতের ময়দানে অবস্থান (উকুফ) না করে মুযদালিফায় অবস্থান করতো এবং নিজেদেরকে ‘ইমুস’ বা কঠিন ধার্মিক বলে দাবী করতো। (বুখারী, মুসলিম আয়েশা রা. হতে)

আল্লাহ তাদের এই ইচ্ছাকৃতভাবে ইবাদতের কমতি বা ত্র“টির প্রতিবাদ করে ইরশাদ করেনÑ

‘অতএব তোমরা প্রত্যাবর্তন কেরা সেখান হতে যেখান হতে অন্যান্য লোকেরা প্রত্যাবর্তন করে থাকে। আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।’ (সূরা আল-বাক্বারাহ ২ ঃ আয়াত ১৯৯)

৬৫। ইবাদতের উদ্দেশ্যে রুচিকর খাদ্র ও সৌন্দর্য ত্যাগ করা

ইবনে আব্বাস রা. প্রমূখ হতে বর্ণিত হয়েছে যে, বেদুঈনদের বহু লোক এমনকি মেয়েরাও গাধার মুখের মাছি খেদানোর পট্টির মত ছোট একটা পর্দা নিম্নাংগে ঝুলিয়ে নগ্নাবস্থায় কবিতা আওড়িয়ে পবিত্র কাবা তাওয়াফ করতো। কালবী বলেন, হজ্জের মৌসুমে জাহেলী যুগের লোকেরা জান বাঁচানোর মত সামান্য খেত এবং তারা হজ্জের সময় চর্বি খেত না। মুসলিমরা বললেন যে, হজ্জের সম্মান রক্ষায় আমরাই অধিক হকদার। অতএব, আমরাও অনুরূপ করতে চাই (অর্থাৎ ভাল খাদ্যদ্রব্য ও পোষাক পরিচ্ছদ ত্যাগ করতে চাই। (আল্লাহ পাক) উপরোক্ত বিষয়গুলির দিকে ইংগিত দিয়ে তখন নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল করলেন।

‘হে আদম সন্তানেরা তোমরা সেজদার স্থানসমূহে (আসার সময়) সুন্দর পোষাকসমূহ পরিধান করো। তোমরা খাও, পান করো, কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয় আল্লাহ অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না। (হে নবী!) আপনি বলূন, আল্লাহর দেওয়া সৌন্দর্যসমূহ যা তিনি বান্দাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন এবং রুচিকর (বা পুষ্টিকর) খাদ্যসমূহ কে তোমাদের জন্য হারাম করেছে? আপনি বলে দিন যে, এ সবকিছুই পার্থিব জীবনে মুমিনদের উপভোগের জন্য, বিশেষ করে কিয়ামতের দিনে। জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য এইভাবে আমি আয়াত সমূহকে ব্যাখ্যা করে থাকি’। (সূরা আল-আ’রাফ, ৭ ঃ আয়াত ৩১-৩২)

৬৬। মুখে শিস দেওয়া ও হাতে তালি দেওয়ার মাধ্যমে ইবাদত করা

জাহেলী যুগের লোকেরা পবিত্র কা’বা ঘরে এসে মুখে শিস দিতো ও দু’হাতে তালি বাজাতো। আর একেই তারা ‘সালাত’ বা নামাজ বলে অভিহিত করতো। কোন বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়াতেন তখন তারা শিস দেওয়া ও তালি দেওয়া শুরু করতো, যাতে ছালাতে (নামাজে) একাগ্রতা বিনষ্ট হয়। অন্য বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, নারী ও পুরুষ একত্রিত হয়ে হাত ধরাধরি করে উলঙ্গ অবস্থায় কা’বাঘর তাওয়াফ করতো এবং শিস দিতো ও তালি বাজাতো। ইবাদতের নামে ও ছালাতের নামে জাহেলী যুগের লোকদের এই অশিষ্ট আচরণের বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহ বলেনÑ



‘বায়তুল্লাহ শরীফের নিকট শিস দেওয়া ও তালি বাজানোই তাদের সালাত (নামাজ) ছিল। অতএব আজকের দিনে তোমাদের সেই কুফরী কর্মের স্বাদ গ্রহণ করো।’ (সূরা আন-আনফাল, ৮ ঃ আয়াত ৩৫)

আজকের এ যুগেও কোন কোন জাহেল মুসলিম মসজিদে যিকির করার নামে শিস দিয়ে থাকে ও তালি বাজিয়ে থাকে। এ সবই যে জাহেলী যুগের তরিকা, তাতে কোনই সন্দেহ নাই। যাবতীয় বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ শরীয়তে শয়তানের আওয়াজ হিসাবে গণ্য করা হয়েছে ইহাই সর্বজন বিদিত।

৬৭। আক্বীদা বিশ্বাসে মুনাফেকী

জাহেলী যুগের অনেকে যখন মুসলিমদের নিকট আসতো তখন মুখে ঈমানের দাবী করতো। কিন্তু যখন সেখান থেকে বেরিয়ে যেতো, তখন যে অবিশ্বাস বা কুফরী নিয়ে সে প্রবেশ করেছিল, সেটা সংগে নিয়েই সে নিস্ক্রান্ত হতো।

৬৮। ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান

জাহেলী যুগের লোকেরা মানুষকে অজ্ঞতার কারণে ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করতো।

৬৯। জেনেশুনে কুফরীর দিকে আহ্বান

জাহেলী যুগের লোকেরা সবকিছু জেনেশুনেও মানুষকে কুফরীর দিকে আহ্বান করতো।

৭০। বড় ধরণের মকরবাজি

যেমন নূহ আলাইহিস সালাম এর কওম তাদের নবীর সংগে করেছিল। তারা নূহ আলাইহিস সালাম এর দ্বীন গ্রহণের ব্যাপারে বিভিন্ন হিলা বা টালবাহানার আশ্রয় নিয়েছিল লোকদেরকে দ্বীন কবুলের সাথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল। তাদেরকে বরং প্ররোচিত করেছিল নবীকে কষ্ট দেওয়ার জন্য। আল্লাহ তাআলা বলেনÑ



‘তারা বড় বড় ধোঁকাবাজির আশ্রয় নিয়েছিল। তারা লোকদের বলেছিল, তোমরা কোন অবস্থাতেই তোমাদের উপাস্য আদ, সুআ, ইয়াগুছ, ইয়াউক, নাসর প্রভৃতি দেবÑদেবীকে ছেড়ো না। এইভাবে তারা বহু লোককে বিভ্রান্ত করে।’ (সূরা নূহ, ৭১ ঃ আয়াত ২২-২৪)

এইসব মকরবাজদের উত্তরসূরী স্বেচ্ছাচারী দুনিয়া পূজারীগণ পরবর্তীকালে যুগে যুগে নবীদের বিরুদ্ধে ও হকের পথে দাওয়াত দানকারীদের বিরুদ্ধে অনুরূপ ধোঁকাবাজিই করে গিয়েছে। এ সব দাজ্জালদের কূটনীতি ও মকরবাজি হতে আল্লাহর নিকট পাহান চাই।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ২:৪১

আবুল কালাম বলেছেন: জাহেলী যুগের লোকেরা সবকিছু জেনেশুনেও মানুষকে কুফরীর দিকে আহ্বান করতো।
-এখনো তাই করে, ভবিষ্যতেও করবে ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.