| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মহিউদ্দিন হায়দার
শব্দে আমার আশ্রয়, লেখায় আমার মুক্তি। এখানে আমি লিখি, ভেবে দেখি, আর খুঁজি মানুষের মনের গল্প।

শিশু রামিসার ওপর নির্মম নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের বুক খালি করে দেয়নি, পুরো সমাজের বিবেককে রক্তাক্ত করেছে। একটি শিশু, যে পৃথিবীটাকে চিনতেই শিখছিল, তাকে এমন নৃশংসতার শিকার হতে হয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে মানুষের ভেতরের মনুষ্যত্ব কতটা পচে গেছে। ভয়ঙ্কর সত্য হলো, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। রাষ্ট্রজুড়ে নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক বিকার, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, মাদক, পর্নোগ্রাফি, ক্ষমতার অপব্যবহার, পরিবার ও শিক্ষা ব্যবস্থার ভাঙন মিলেই তৈরি করেছে এই ভয়ংকর বাস্তবতা।
শুধু সরকারকে গালি দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। কারণ এই পচন পুরো সিস্টেমের। পরিবার থেকে রাজনীতি, শিক্ষা থেকে সংস্কৃতি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে সামাজিক সংগঠন, সর্বত্র এক ধরনের নৈতিক দ্বিচারিতা ঢুকে গেছে। আমরা এমন এক সমাজে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে শিশুর কান্নাও এখন কারও কারও কাছে রাজনৈতিক পুঁজি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রামিসার পরিবারের পাশে গিয়ে যে মানবিক অবস্থান নিয়েছেন, অন্তত রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে সেটি দায়িত্বশীলতার পরিচয়। তিনি পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, সমবেদনা জানিয়েছেন, বড় বোনের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার কথা বলেছেন। তার সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীসহ দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই বার্তাটি গুরুত্বপূর্ণ যে, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার নয় বরং বিচারের মুখোমুখি করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু এই ঘটনার পর আরেকটি ভয়ংকর চেহারা সামনে এসেছে। কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী, কিছু তথাকথিত “চেতনা মঞ্চ”, কিছু ধর্মব্যবসায়ী, কিছু ইউটিউব বিপ্লবী রামিসার রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে নিজেদের দোকান খুলে বসেছে। কেউ ১০ জন মানুষ নিয়ে ব্যানার হাতে মিছিল করে ফেসবুক লাইভে বিপ্লব বিক্রি করছে, কেউ শিশুটির লাশকে ব্যবহার করছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার অস্ত্র হিসেবে, আবার কেউ শরীয়া আইনের নাম করে মানুষের আবেগকে ব্যবসার পণ্যে পরিণত করছে।
সবচেয়ে নির্মম সত্য হলো, এদের অনেকেরই লক্ষ্য রামিসার বিচার নয়। লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের ক্ষোভকে ক্যাশ করা। মানুষের কান্নাকে ব্যবহার করে নিজেদের পরিচিতি বাড়ানো। কেউ ভোটের হিসাব করছে, কেউ সংগঠনের সদস্য বাড়াচ্ছে, কেউ ভিউ আর ফলোয়ার বাড়াচ্ছে, কেউ ধর্মের বাজার গরম করছে। রামিসা যেন আর মানুষ নেই, হয়ে গেছে একটি “ট্রেন্ডিং টপিক”।
যারা আজ সবচেয়ে বেশি চিৎকার করছে, তাদের অনেককেই অতীতে শিশু নির্যাতন, নারী নিপীড়ন, মাদকের বিস্তার, সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কখনও ধারাবাহিক অবস্থান নিতে দেখা যায়নি। কারণ সমস্যা সমাধান হলে তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। সমাজে আগুন জ্বলতে থাকলেই তারা নিজেদের রাজনৈতিক রুটি সেঁকতে পারে।
বাস্তবতা হলো, শুধু কঠোর শাস্তি দিলেই হবে না। সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। শিশু সুরক্ষা আইন কার্যকর করতে হবে। ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পরিবারে নৈতিক শিক্ষা ফিরিয়ে আনতে হবে। পর্নোগ্রাফি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর হতে হবে। রাজনৈতিক মঞ্চ, ধর্মীয় মঞ্চ, সামাজিক সংগঠন, মিডিয়া সবাইকে দায় নিতে হবে।
আর সবচেয়ে বড় কথা, শিশুর রক্ত দিয়ে রাজনীতি, ব্যবসা আর চেতনার বেচাকেনা বন্ধ করতে হবে। এই ব্যবসায়ীরা বিচার কে,সামাজিক সচেতনতা কে বিভিন্ন চেতনার নামে শরীয়ার নামে বাধাগ্রস্ত করে।
কারণ রামিসা কোনো স্লোগান নয়। রামিসা কোনো ব্যানার নয়। রামিসা কোনো রাজনৈতিক বিনিয়োগ নয়। রামিসা এই রাষ্ট্রের বিবেকের সামনে ছুঁড়ে দেওয়া এক ভয়ংকর প্রশ্ন। 
২|
২২ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪০
নতুন বলেছেন: সৈয়দ কুতুব বলেছেন: রামিসার আশেপাশের এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান চালাতে হবে ।
মাদক ব্যবসায়ী ( পাইকার, ডিস্ট্বিবিউটর, আমদানী কারক) গ্রেপ্তার করে রাতের বেলা মাদক উদ্ধার করতে যেতে হবে, পথে যদি সন্ত্রাসী আর পুলিশের মাঝে গুলিবিনিময় হয় আর মাদক ব্যবসায়ী মারা যায় তবে তো আর কিছুই করার নাই। ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১:১৩
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: রামিসার আশেপাশের এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান চালাতে হবে ।