নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

\"Thus let me live, unseen, unknown/ Thus unlamented let me die/ Steal from the world and not a stone/ Tell where I lye \"

মলাসইলমুইনা

Obrigado e Adeus

মলাসইলমুইনা › বিস্তারিত পোস্টঃ

অনেক দিন ব্লগে লেখা হয় না ---

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:১২


ফটো : Marsh land, মলানার্দো মুইনাঞ্চি, ২০১৮

অনেক দিন ব্লগে লেখা হয় না । হ্যা সত্যি, আমার লেখাজোখার প্রিয় প্ল্যাটফর্ম সামুতে লেখাজোখা করা হচ্ছে না । জানি না কেন, কিন্তু সামুতে আমার লেখাজোখা করা হচ্ছে না সেটাই সত্যি ।

স্কুলের দেয়াল পত্রিকায় জায়গা পাওয়া একটা কবিতা দিয়ে আমার লেখাজোখা শুরু। লেখাজোখার শুরুটা মনে করতে পারলেও শুরুর কারণটা জানি না। যাহোক, সে থেকেই লেখালেখির নিঝুম ভালোলাগার আকাশ গঙ্গায় কাঁচা হাতের লেখায় বানানো আমার লেখাজোখার 'নটিলাসের' উদাসী যাত্রা। আমাদের স্কুল বেলায় নবীন লেখকদের সবারই পছন্দের লেখার প্লাটফর্ম ছিল সাপ্তাহিক 'কিশোর বাংলা', 'মাসিক শিশু','নবারুণ'। জাতীয় পর্যায়ের এই পত্রিকা/ ম্যাগাজিনগুলোতে খ্যাতিমান শিশু সাহিত্যিকরাও লিখতেন।ক্লাস ফাইভে ‘কিশোর বাংলা’য় আমার প্রথম লেখাটা ছাপা হয়েছিলো। তারপর থেকে কলেজ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যাবার আগে পর্যন্ত কিশোর বাংলায় আমি লিখেছি। তখন মাসিক শিশুতেও আমার কয়েকটা লেখা ছাপা হয়েছিলো। শিশু সাহিত্য চর্চার একটা সুখস্মৃতি বলি:কামিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় অফিস থেকে তখন একটা দৈনিক বা সাপ্তাহিক পত্রিকা বের হতো (নামটা ভুলে গেলাম, গণশক্তি বা জনশক্তি হতে পারে নামটা)।ক্লাস নাইন বা টেনে পড়ি।পত্রিকা সম্পাদক খ্যাতিমান সাহিত্যিক রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ তোয়াহা আমার একটা কবিতাও ছেপে দিলেন শ্রেণী দ্বন্দ্ব,শ্রেণী বৈষম্য, শ্রেণী শত্রু, বিপ্লব ইত্যাদি আলোচনার গর্ভাশয়সম সেই সিরিয়াস পেপারে! কবিতাটার নাম ছিল ‘ম্যাচ’! বড়দের গম্ভীর রাজনীতির কোনো পেপারে ছাপার অক্ষরে নিজের লেখা সে কবিতাটা দেখে স্কুল পড়ুয়া আমার নোবেল পুরস্কার পাবার কাছাকাছি খুশিটা লিখে ঠিক বোঝানো যাবে না। লেখাজোখায় পাওয়া আমার প্রথম পুলিৎজার পুরুস্কার পাবার ঘটনাও শুনুন তাহলে। ঢাকা কলেজে সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি । একুশের একটা লিটল ম্যাগাজিনে আমার লেখা একটা ফিচার পড়ে খুব প্রশংসা করে খ্যাতিমান সাংবাদিক,ইত্তেফাকের সে সময়কার সহসম্পাদক আখতারুল আলম বললেন, আমার একটাই প্রফেশনে যাওয়া উচিত আর সেটা হলো সাংবাদিকতা! শ্রদ্ধেয় সাংবাদিক আখতার উল আলমের করা আমার লেখার প্রশংসাটুকু লেখাজোখায় পাওয়া আমার প্রথম পুলিটজার, বহু বছর পরে এখনো আমার লেখাজোখার অনেক প্রেরণা হয়েই আছে। লেখাজোখার আরো আরেকটা অবিনশ্বর সুখস্মৃতির গল্প বলি। দীর্ঘ বিরতির পর সেবা প্রকাশনী আবার 'রহস্য পত্রিকা’ বের করছে তখন।'রহস্য পত্রিকা'তে তখন আমার একটা লেখা প্রকাশিত হয়েছিল (রহস্য পত্রিকাতে ওই একটা লেখাই আমি লিখেছিলাম বন্ধুদের অনুরোধ রক্ষা করতে)। সে লেখার ৭৫টাকা লেখাজোখা থেকে আমার প্রথম সম্মানী। স্মৃতির সে গন্ধরাজগুলোর সুবাস কি এখনো, এতদিন পরেও ভোলা যায় ! ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় সে সময়ের দেশপ্রিয় সাপ্তাহিক নিপুন-এ কাজ করেছি খ্যাতিমান নাট্যকার,চলচিত্র পরিচালক জীবন চৌধুরীর সম্পাদকীয়ের দিনগুলোতে। এডিটোরিয়াল ডিপার্টমেন্টের কাজের ফাঁকে ফাঁকে নিপুণে তখন কিছু ফিচারও লিখতে হয়েছিল। স্বল্পায়ু ইউনিভার্সিটির 'ক্যাম্পাস' পত্রিকার আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছি।

অনলাইনে আমার লেখার শুরু দেশের বাইরে থেকে সামু শুরু হবারও ছয় বছর আগে মানে ১৯৯৯ সাল থেকে । অবশ্য ব্লগ নয়। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে দেশের কিছু পেপারের অনলাইন ভার্সনের সীমিত পরিসরে গেস্ট কলামে অল্পস্বল্প লেখা বা পোস্টে কমেন্ট রিকমেন্ট করার মধ্যেই সে লেখা সীমাবদ্ধ ছিল।সেটাও অবশ্য ইংরেজিতে! সে লেখাজোখাটুকুও পুরো বন্ধ হয়ে গেলো এক সময় একাডেমিক ব্যস্ততার কারণে পিএইচডি প্রোগ্রামে এডমিশনের পর ।লেখাজোখার, মানে গল্প কবিতা লেখার দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৩ সালে আমি সামুতে প্রথম একাউন্ট করি। দেশে তখন অস্থির সময় । একাউন্ট করলেও সে সময় খুব লেখা হয়নি। সে সময় আমি বাংলা খুব ভালো টাইপও করতে পারতাম না। তাছাড়া, সেই সময়টায় সামুতে খুবই নোংরা ভাষায় ইসলাম বিদ্বেষী লেখাগুলোই লেখার ইচ্ছেটা কমিয়ে দিয়েছিলো I সমালোচনা তা সেটা ব্যক্তি, জাতি, দেশ,ধর্ম বা ধর্মীয় যে কোনো ইস্যুতেই হোক না কেন সেটার মাঝে শালীনতাটা থাকাটা খুবই দরকার। সমালোচনা করতে গিয়ে শালীনতাটাও হারিয়ে গেলে লেখা খুবই বিরক্তিকর হয়ে যায়। এই নোংরামি থেকে দূরে থাকার জন্য ব্লগে লেখা বন্ধ করে রাখা ভালো মনে হয়েছিল। সামুতে ইংরেজিতে লেখা প্রথম পোস্টটাও আমি মুছে দিয়েছিলাম পোস্ট করার অল্প কয়েক দিন পরেই। তারপর চার বছর আমি অন্য ব্লগে লিখেছি। ২০১৭ সালে সামুতে আবার লেখালেখি করার চেষ্টা করতে গিয়ে দেখি সামুর একাউন্ট ডিজএবল। ব্লগ মালেকা জানা আর ব্লগের সে সময়কার সিইও জাদিদকে সমস্যাটা জানিয়েও সমাধান না হওয়ায় ২০১৭ সালে নতুন করে আমার বর্তমান একাউন্টটা করতে হলো। চার বছরের হেরফেরে এই ২০২৩ সালে ব্লগের প্রায় দশক পুরোনো কুলিন ব্লগার হবার পরিচয়টা আজ দেবার সুযোগ না থাকলেও দ্বিতীয় পর্বের শুরুতে সামুতে লেখার আনন্দে কোনো ভাটা পড়েনি।

ফিচারধর্মী লেখাতে আমি সব সময়ই স্বচ্ছন্দ্য। সামুতে দ্বিতীয় পর্বে আমি ছয় বছর ফিচারধর্মী লেখাই বেশি লিখেছি । খুবই অল্প কবিতা ও গল্প আর তারচেয়েও কম ফটো ব্লগ আমার। ২০১৯ সালে সামুর ব্লগ দিবসের প্রকাশনা 'বাঁধ ভাঙার আওয়াজ'-এ আমার লেখা একটা গল্প "আকাশ গঙ্গার তারা' প্রকাশিত হয়েছিল। গল্প কখনোই আমার লেখার মূল বিষয় না তাই ওই গল্পটা ব্লগ দিবসের প্রকাশনাতে নির্বাচিত হওয়াতে ভালো লাগার পাশাপাশি চেষ্টা চরিত্র করলে গল্প লেখা যেতে পারে এমন একটা ধারণা হয়েছিল আর নিজের গল্প লেখাজোখার ব্যাপারে আস্থাও বেড়েছিল। সেই আস্থাটাই ২০২১ সালের বই মেলায় দেশের খ্যাতিমান প্রকাশনী চৈতন্য থেকে প্রকাশিত আমার বারোটি ছোট গল্পের সংকলন 'আকাশ গঙ্গার তারা' লেখার অনুপ্রেরণা। দ্বিতীয় পর্বের শুরু থেকেই সামুতে খুবই যত্নের সাথে আমার ফিচারধর্মী লেখাগুলো লিখেছিলাম। সব সময়ই আমার বিশ্বাস ছিল সমসাময়িক দেশীয়,আন্তর্জাতিক ঘটনার সাথে ইতিহাস ভিত্তিক কিছু স্বরণীয় কিন্তু সামুতে অপ্রকাশিত ঘটনার সাথে কোঅর্ডিনেট করে লেখা ফিচারগুলো ভিন্নধর্মী হবে। সামুর অনেক অসাধারণ ব্লগারের অনেক অসাধারণ লেখার মধ্যেও আমার ফিচারগুলো কিছুটা ব্যতিক্রমধর্মী হবে, সবার ভালোও লাগবে সেই আস্থা আমার সব সময়ই ছিল!সেই বিশ্বাসটাই এই ফিচারগুলো থেকে আটটা নির্বাচিত ফিচার আর ফিচারের বিষয় ভিত্তিক আটটি প্রগল্প (ফিচারের বিষয় ভিত্তিক গল্প) নিয়ে ২০২২ সালের বই মেলায় দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনী ‘জাগৃতি’ থেকে আমার বই 'অষ্টধা' বের করবার সাহস জুগিয়েছিল।নানা কারণে সামুতে আমার লেখাজোখার একটা মরাকটালের শুরু এই বছর থেকেই ।

২০২২ সালের মাঝামাঝি কিছুটা ঝিমিয়ে পড়া ব্লগটাকে প্রাণবন্ত করতে ব্লগে কিছু প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলো।ব্লগাররা খুব ভালো ভাবেই সারা দিলেন। এর মধ্যে ফিচার প্রতিযোগিতাটা খুবই ভালো হয়েছিল। যদিও ফিচার প্রতিযোগিতার জন্য ছিল না তবু একই সময়ে পোস্ট করা ব্লগ মডারেটর জাদিদের 'সোর্ন ভার্জিন'-নারী হিসাবে অধিকার রক্ষার কলংকজনক অধ্যায়’ ছিল অনেক দিনের মধ্যে লেখা ব্লগের সেরা ফিচার। এখানে ছোট একটা নোট যোগ করে দেই: (২০২৩ সালের ব্লগ দিবস উপলক্ষে সামু ব্লগারদের লেখা নিয়ে একটা সংকলন বের হবার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল ব্লগ প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণার পরপরই। প্রথমে আমি ভেবেছিলাম সংকলনের জন্য কোনো লেখা দেব না। আসলে আমার সব সময়ই ধারণা, সামুর সংকলনে পুরোনো দিনের নামিদামি ব্লগারদের চেয়ে যারা এখন লিখে ব্লগকে সচল রেখেছেন তাদের লেখাই বেশি সুযোগ পাওয়া উচিত।পুরোনো ব্লগারদের কিছু লেখা সংকলনের জন্য রাখা যেতে পারে। যাহোক, সংকলনের প্রকাশনার তারিখ সামনে আসার সাথে সাথে ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে তখন। আমাদের ব্লগের স্মৃতিকাতর আর প্রেমিক কবিরা রাজনৈতিক কবিতা তেমন লেখেন না খুব একটা।হঠাৎই তাই একটা ভাবনা এলো মাথায়।সংকলনের জন্য একটা রাজনৈতিক কবিতা সাবমিট করলে কেমন হয়। জাদিদকে সেটা জানিয়ে একটা রাজনৈতক কবিতা পাঠিয়ে দিলাম,কবিতার নাম: "মেসি তুমিই বলো নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কেন দরকার?" আমার কবিতা প্রতিভা রাবীন্দ্রিক মানের চেয়ে আলোকবর্ষ দূরত্বে সেটা নিঃসন্দেহে জানার পরেও সে সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্লগ সংকলনে কবিতা সুলতানা (মনিরা সুলতানা), আহমেদ জিএস ভাই ও বর্তমান ও সাবেক বিখ্যাত কবিদের সাথে শেষ পাতার এক কোণে আমার কবিতাটাও থাকবে সেটা আমি আশা করেছিলাম। কিন্তু আমার কাব্য প্রতিভার প্রতি ভরসাহীন জাদিদ সে আশায় পুরোপুরি আর্কটিক সার্কেল থেকে আনা বরফ ঠান্ডা পানি ঢেলে দিলেন। শুকনো একটা ইমেইলে আমার কবিতা সংক্রান্ত সাবমিশন পুরোপুরি উপেক্ষা করে জাদিদ জানালেন আমার থেকে উনি ইসলাম, কুরআন, হাদিস আর বিজ্ঞান নিয়ে একটা লেখা আশা করেছিলেন।কেন যে জাদিদ আমার কাছ থেকে ও'রকম একটা লেখা আশা করেছিলেন সেটাও এক রহস্য আমার কাছে । যাহোক, জাদিদের ইমেইলের উত্তরে সে রকম একটা লেখা আমি সাবমিট করলাম একদিন পর। আমার একটা বইয়ের দ্বিতীয় পর্বের জন্য পুরো লেখাটা তৈরীই ছিল। সাবমিশনের পরের সপ্তাহে ছোট একটা কারেকশনের জন্য জাদিদকে আবার ইমেইল করলাম। জাদিদ আমাকে অবাক করে জানালেন লেখাটা খুব চমৎকার হয়েছে আর সংকলনের জন্য অলরেডি নির্বাচিতও হয়েছে ! সংকলনটা আর বের নাহলেও জাদিদের ইমেইল নিউজটা এখনো অনেক আনন্দের ।ও আরেকটা কথা, আমার কবিতাটার শিরোনামেই সাব টাইটেলসহ (স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পঙক্তিমালা ২০১৪-২০২৪) কিন্তু ২০২৫ সালের বইমেলায় আমার প্রথম কবিতার বইটা প্রকাশিত হয়েছিল 'চৈতন্য' প্রকাশনী থেকে। সংকলনের জন্য সাবমিট করা কবিতাটাও ওখানে আছে।) যাহোক, ফিচার প্রতিযোগিতার সাথেই সারা দিয়ে ব্লগাররা কিছু নির্বাচিত ক্যাটাগরিতে তাদের পছন্দের ব্লগারদের নাম নির্বাচন করলেন আর সেই সাথে তাদের কেমন লেখা/মন্তব্য ভালো লাগে, কোন ব্লগারের লেখা ভালো লাগে,কেন ভালো লাগে সেটাও বললেন। পুরোনো ব্লগার যারা এখন কালেভদ্রে ব্লগে লেখেন তাদের নামও নির্বাচিত হলো পছন্দের তালিকায় যা সামু ব্লগারদের তীক্ষ্ণ পাঠক সত্তারই প্রকাশ। ব্লগারদের পছন্দের নামগুলো আর তাদের পছন্দের কারণ আমি আগ্রহ নিয়ে পড়লাম।খুবই নির্মোহ ভাবে করা ব্লগারদের এই আলোচনাতে ব্লগে কেমন লেখাজোখা ব্লগারদের পছন্দের সেটা নিয়েও একটা ধারণা পাওয়া গেলো।ব্লগে আমার শেষ লেখাটা পোস্ট করার পর তখন প্রায় ছয় মাস।ব্লগার নিয়াজ সুমন দেখি ফিচার ক্যাটাগরিতে অন্যদের সাথে আমার নামও উল্লেখ করেছেন তার পছন্দের ফিচার লেখক হিসেবে (আমার নাম পছন্দের ব্লগার হিসেবে উল্লেখ করে তার কোনো ব্লগীয় বা সামাজিক হেনস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে কিনা সেটার আপডেট পাইনি দেখে এখনো আমি বিশেষ চিন্তিত)! ব্লগ প্রতিযোগিতার এই পছন্দের ব্যাপারটাই ব্লগে আর ব্লগার হিসেবে নিজের লেখাজোখা নিয়ে আত্মপর্যালোচনার একটা সুযোগ তৈরী করল।

লেখাজোখা আমার সব সময়ই খুব আনন্দের বিষয়। নিজে সব সময় আনন্দের সাথেই লিখাজোখা করি।আমার লেখায় অন্যরা যেন বিরক্ত না হয় তাও ভাবি।অন্যদের বিরক্ত করে নিজের লেখাতে আনন্দের পসার সাজানোর চেষ্টা করিনি কখনো।আমার সব সময়ের বিশ্বাস পাঠক বিরক্ত করা লেখাজোখা তার পথ হারায়।পাঠকইতো লেখা পড়বে। নিজের বিশ্বাসের ব্যাপারে দৃঢ় থেকেও আমি তাই পাঠকদের কথাও ভেবেছি নিজের ব্লগ লেখায় সব সময়।লেখার ব্যাপারে পাঠকের মতামত আমার কাছে খুবই জরুরি একটা বিষয়।ব্লগারদের পছন্দের নামগুলো একটা নিষ্ঠুর সত্যের মুখোমুখি করে দিলো ব্লগার হিসেবে নিজেকে নিজের সামনে।নিয়মিত অনিয়মিত,নতুন পুরোনো এতো ব্লগার ! ব্লগাররা এতো লেখা পছন্দের বলছে কিন্তু সেখানে আমার অনেক যত্নে লেখা ফিচারগুলো, হাজার খানেক পোস্টের মন্তব্যগুলো খ্যাত অখ্যাত কোনো ব্লগারেরই তেমন ভালো লাগে নি বলেই মনে হলো। লে মেন্স টার্মে এই ইভালুয়েশনকে বলতে হয় সামুতে আমার লেখাজোখার প্রজেক্ট ফ্লপ -বা আন প্রোডাক্টিভ । মানে আমার লেখা খুব বেশি পাঠককে আকৃষ্ট করতে পারে নি। অথবা এটাও হয়তো বলা যায় আমি যে ধরণের লেখা ব্লগে লিখেছি পাঠকের কাছে সেটা পছন্দের না বা আমি তাদের পছন্দের বিষয়ে লিখতে পারছি না। এছাড়াও আমার বইগুলো বের হবার পরে এমন আরো কিছু ঘটনাতেও আমার লেখাগুলো মনে হয় ব্লগারদের পছন্দের কাছাকাছি যেতে পারছে না এই ভাবনা মাথায় এসেছিলো। ব্লগারদের ফিডব্যাক নিয়ে আমি অনেক ভেবেছি। সিরিয়াসলিই ভেবেছি ।

ব্লগারদের নির্মোহ ফিডব্যাক থেকেই মনে হলো ব্লগ লেখার ব্যাপারটা রিইভালুয়েট করা দরকার। শুকনো নদীতে তো আর নাও বাওয়া যায় না বা বেসুরে বাঁশিতে তো কারো মন জয় করা যায় না বরং বিরক্তিই বাড়ে তাতে। লেখাজোখা আমার কাছে সব সময়ই খুব আনন্দের বিষয় হলেও এখন মনে হচ্ছে সামুতে ব্লগ লেখার মিসফিট পরিচয়টা আনফিট পরিচয়ে বদলে যাবার আগেই ব্লগ লেখায় সমাপ্তি টানা দরকার (ব্লগার নিয়াজ সুমন, আপনার জন্যই মিসফিট কথাটা বলা গেলো নইলে এটুকুও বলাও হয়তো বেশি মনে হতো ব্লাগদের কাছে)। পাঠকদের বিরক্তিতে লেখাজোখা তার পথ হারায় বলে শুরু থেকে যে একটা ছোট কিন্তু জরুরি আত্মদর্শন সাথে নিয়ে লেখাজোখার উদাসী পথে আমার পথ চলা-তাকে সন্মান করে ভাবছি 'তোমাদের পানে চাহিয়া বন্ধু, আর আমি জাগিব না/কোলা-হল করি’ সারা দিনমান কারো ধ্যান ভাঙিব না' বলে ব্লগ লেখার নটে গাছটি মুড়ে দিলে ক্ষতি কি?

ফটো : আমার অ-আঁকাজোখা (ব্লগখ্যাত আঁকিয়েদের এর শিল্পকলাগত দিক নিয়ে গুরুগম্ভীর মন্তব্য না করাই শ্রেয়)
------------------
ফুটনোট: ব্লগ লেখার মরাকটালের শুরুর দিকে ২০২৩ সালে অনেকটা নিজস্ব তাগিদ থেকেই সবাইকে আমাদের লেখাজোখার প্রিয় প্লাটফর্মে না লেখার একটা কারণ হিসেবে লেখাটা লিখেছিলাম । নিজের জন্য লেখা বলেই হয়তো ব্লগে লেখাটা আর পোস্ট করা হয় নি । কিন্তু ক'দিন আগে জানার লেখাটি মন খুবই খারাপ করে পড়লাম। জানা ফাইটার।আশাকরি পুরো সুস্থ্য হয়ে আবার ব্লগে অনেক লিখবে। কিন্তু সেই থেকে নিজের ব্যাপারে মনে হচ্ছে আবার যদি কখনো আর ব্লগে না লেখা হয়। হঠাৎ যদি সব থেমে যায় কোনো কিছু না জানিয়ে।তাই অনেক দিন আগে লেখা যা কখনো পোস্ট করিনি সেটা আজকের কোলাহলহীন দিনে সবার অগোচরে চুপিচুপি নিজের ব্লগ পাতায় পোস্ট করে দিলাম ।আরেকটা খুব ব্যক্তিগত কথা দিয়ে শেষ করি এই লেখার । আমার সামুর আমলনামায় খুব সম্ভবত তখনও প্রথম পাতায় লেখার স্বর্গপ্রাপ্তিসম কোনো আমল লেখা হয়নি। তখন আমি কমেন্ট করি বেছে বেছে পছন্দের লেখায় আর অল্পস্বল্প কবিতা (বা অ -কবিতা), লিমেরিক লিখি। একদিন অন্যদের দেখাদেখি একটা ফটো ব্লগ করলাম। আমার প্রবাস জীবনের ছোট ইউনিভার্সিটি শহর, তার পাহাড়,পাহাড়িয়া পথ, বেলা শেষের গোধূলি আকাশ এই রকম কিছু ফটো দিয়ে। আমাকে অবাক করে সেই পোস্টে মডারেটর জাদিদ কমেন্ট করলেন আমি আশা করি আপনার ব্লগিং থেকে সামুর ব্লগাররা অনেক ভালো ভালো লেখা পড়তে পারবে আর ব্লগও অনেক লাভবান হবে (কমা, কোটেশনে না বললেও কমেন্টটা এই ধরণেরই ছিল যতদূর মনে হয়)। সামুর লেখালেখি শুরুর সেই উষশী বেলায় জাদিদের এই কমেন্ট ছিল অনেক ভালোলাগার। সামুতে ব্লগিংয়ের চাওয়া পাওয়ার কোনো হিসেবে করিনি কখনো।তবুও ব্লগার হিসেবে জাদিদের আশাপূরণ করতে পারিনি বা করা যায়নি যেভাবেই বলি আজ ব্লগিংয়ের এই সাজ বেলায় জাদিদের কাছে একটা আপলোজি চাওয়া দরকার নিজের ব্যর্থতার জন্য আর তার আশটুকু পূরণ না করতে পাবার জন্য। এপোলোজি জাদিদ, অনেস্ট। ওব্রিগাডো এন্ড অডিউস ।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০৯

নীল-দর্পণ বলেছেন: বন্ধু, এতদিন পর হঠাৎ আপনার পোস্ট দেখে প্রথমে অবাক হলাম, ভাবলাম যাক আপনার কাজ শেষ হয়েছে এবার বুঝি আবার ব্লগে আসবেন মাঝে মাঝে। মাঝপথে পড়তে পড়তে আনন্দিত ছিলাম এই ভেবে যে , এবার বুঝি নতুন কোন বইয়ের নাম জানতে যাচ্ছি। কিন্ত শেষে এসে খুবই হতাশ হয়ে গেলাম!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.