| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ফটো : Marsh land, মলানার্দো মুইনাঞ্চি, ২০১৮
অনেক দিন ব্লগে লেখা হয় না । হ্যা সত্যি, আমার লেখাজোখার প্রিয় প্ল্যাটফর্ম সামুতে লেখাজোখা করা হচ্ছে না । জানি না কেন, কিন্তু সামুতে আমার লেখাজোখা করা হচ্ছে না সেটাই সত্যি ।
স্কুলের দেয়াল পত্রিকায় জায়গা পাওয়া একটা কবিতা দিয়ে আমার লেখাজোখা শুরু। লেখাজোখার শুরুটা মনে করতে পারলেও শুরুর কারণটা জানি না। যাহোক, সে থেকেই লেখালেখির নিঝুম ভালোলাগার আকাশ গঙ্গায় কাঁচা হাতের লেখায় বানানো আমার লেখাজোখার 'নটিলাসের' উদাসী যাত্রা। আমাদের স্কুল বেলায় অনেক নবীন লেখকের মতোই আমারও পছন্দের লেখার প্লাটফর্ম ছিল সাপ্তাহিক 'কিশোর বাংলা', 'মাসিক শিশু'-র মতো পত্রিকা/ ম্যাগাজিনগুলো। ক্লাস ফাইভে ‘কিশোর বাংলা’য় আমার প্রথম লেখাটা ছাপা হয়েছিলো। তারপর থেকে কলেজ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যাবার আগে পর্যন্ত কিশোর বাংলায় আমি লিখেছি। মাসিক শিশুতেও আমার কয়েকটা লেখা ছাপা হয়েছিলো। শিশু সাহিত্য চর্চার একটা সুখস্মৃতি বলি:কামিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় অফিস থেকে তখন একটা দৈনিক বা সাপ্তাহিক পত্রিকা বের হতো (নামটা ভুলে গেলাম, গণশক্তি বা জনশক্তি হতে পারে নামটা)।ক্লাস নাইন বা টেনে পড়ি।পত্রিকা সম্পাদক খ্যাতিমান সাহিত্যিক রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ তোয়াহা আমার একটা কবিতাও ছেপে দিলেন শ্রেণী দ্বন্দ্ব,শ্রেণী বৈষম্য, শ্রেণী শত্রু, বিপ্লব ইত্যাদি আলোচনার গর্ভাশয়সম সেই সিরিয়াস পেপারে! কবিতাটার নাম ছিল ‘ম্যাচ’! বড়দের গম্ভীর রাজনীতির কোনো পেপারে ছাপার অক্ষরে নিজের লেখা সে কবিতাটা দেখে স্কুল পড়ুয়া আমার নোবেল পুরস্কার পাবার কাছাকাছি খুশিটা লিখে ঠিক বোঝানো যাবে না। লেখাজোখায় পাওয়া আমার প্রথম পুলিৎজার পুরুস্কার পাবার ঘটনাও শুনুন তাহলে। ঢাকা কলেজে সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি । একুশের একটা লিটল ম্যাগাজিনে আমার লেখা ফিচার পড়ে খুব প্রশংসা করে ইত্তেফাকের সে সময়কার সহসম্পাদক খ্যাতিমান সাংবাদিক আখতারুল আলম বললেন, আমার একটাই প্রফেশনে যাওয়া উচিত আর সেটা হলো সাংবাদিকতা! সাংবাদিকতা আমার পেশা না হলেও আখতার উল আলমের করা আমার লেখার প্রশংসাটুকু, লেখাজোখায় পাওয়া আমার প্রথম পুলিটজার, বহু বছর পরে এখনো আমার লেখাজোখার অনেক প্রেরণা হয়েই আছে। লেখাজোখার আরো আরেকটা অবিনশ্বর সুখস্মৃতির গল্প বলি। দীর্ঘ বিরতির পর সেবা প্রকাশনী আবার 'রহস্য পত্রিকা’ বের করছে তখন। হঠাৎ একদিন 'রহস্য পত্রিকা'তে একটা লেখা প্রকাশের বরাতে বন্ধুদের চোখে আমিও হয়ে গেলাম সেবার জনপ্রিয় ম্যাগাজিন রহস্য পত্রিকার লেখক (সেই লেখার পেছনেও আছে ঘটনাময় এক গল্প,কিন্তু এখন সে গল্প বাদ থাকুক)! সে লেখার ৭৫টাকা লেখাজোখা থেকে আমার প্রথম সম্মানী। 'স্মৃতির সে গন্ধরাজগুলি/ আজো তুলি আজো তুলি'। ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় স্বল্পায়ু ইউনিভার্সিটির 'ক্যাম্পাস' পত্রিকার আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছি। সে সময়ই দেশপ্রিয় সাপ্তাহিক নিপুন-এ কাজ করেছি খ্যাতিমান নাট্যকার,চলচিত্র পরিচালক জীবন চৌধুরীর সম্পাদকীয়ের দিনগুলোতে। এডিটোরিয়াল ডিপার্টমেন্টের কাজের ফাঁকে ফাঁকে তখন নিপুণে লেখা কিছু ফিচার এখনো জমা আছে মনের গহীন ম্যারিয়ানা ট্রেঞ্চে খোঁড়া লেখাজোখার অমূল্য স্মৃতির অসূর্যস্পর্শা ডিপোজিটরে ! এই লেখাজোখার সবই ইন্টারনেট, ব্লগ এসব হবার অনেক আগের কথা। স্কুল থেকে ইউনিভার্সিটি পর্যন্ত ব্লগহীন সেই সময়ে পড়াশোনার বাইরে লেখাজোখার সাথে সব সময়ই একটা আনন্দময় যোগাযোগ ছিল এই ম্যাগাজিনগুলোতে লেখালেখির মধ্যে দিয়ে। লেখাজোখার সে স্মৃতিগুলো কি এতদিন পরেও কখনো ভোলা যায়?
অনলাইনে আমার লেখার শুরু দেশের বাইরে থেকে সামু শুরু হবারও ছয় বছর আগে মানে ১৯৯৯ সাল থেকে । অবশ্য ব্লগ নয়। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে দেশের কিছু পেপারের অনলাইন ভার্সনের সীমিত পরিসরে গেস্ট কলামে অল্পস্বল্প লেখা বা পোস্টে কমেন্ট রিকমেন্ট করার মধ্যেই সে লেখা সীমাবদ্ধ ছিল।সেটাও অবশ্য ইংরেজিতে! সে লেখাজোখাটুকুও পুরো বন্ধ হয়ে গেলো এক সময় পিএইচডি প্রোগ্রামে এডমিশনের পর একাডেমিক ব্যস্ততার কারণে। লেখাজোখার, মানে গল্প কবিতা লেখার দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৩ সালে আমি সামুতে প্রথম একাউন্ট করি। দেশে তখন অস্থির সময় । একাউন্ট করলেও সে সময় খুব লেখা হয়নি। সে সময় আমি বাংলা খুব ভালো টাইপও করতে পারতাম না। তাছাড়া, সেই সময়টায় সামুতে খুবই নোংরা ভাষায় ইসলাম বিদ্বেষী লেখাগুলোই লেখার ইচ্ছেটা কমিয়ে দিয়েছিলো I সমালোচনা তা সেটা ব্যক্তি, জাতি, দেশ,ধর্ম বা ধর্মীয় যে কোনো ইস্যুতেই হোক না কেন সেটার মাঝে শালীনতাটা থাকাটা খুবই দরকার। সমালোচনা করতে গিয়ে শালীনতাটাও হারিয়ে গেলে লেখা খুবই বিরক্তিকর হয়ে যায়। এই নোংরামি থেকে দূরে থাকার জন্য ব্লগে লেখা বন্ধ করে রাখা ভালো মনে হয়েছিল। সামুতে ইংরেজিতে লেখা প্রথম পোস্টটাও আমি মুছে দিয়েছিলাম পোস্ট করার অল্প কয়েক দিন পরেই। তারপর চার বছর আমি অন্য ব্লগে লিখেছি। ২০১৭ সালে সামুতে আবার লেখালেখি করার চেষ্টা করতে গিয়ে দেখি সামুর একাউন্ট ডিজএবল। ব্লগ মালেকা জানা আর ব্লগের সে সময়কার সিইও জাদিদকে সমস্যাটা জানিয়েও সমাধান না হওয়ায় ২০১৭ সালে নতুন করে আমার বর্তমান একাউন্টটা করতে হলো। চার বছরের হেরফেরে এই ২০২৩ সালে ব্লগের প্রায় দশক পুরোনো কুলিন ব্লগ ব্রামিন হবার পরিচয়টা আজ দেবার সুযোগ না থাকলেও দ্বিতীয় পর্বের শুরুতে সামুতে লেখার আনন্দে কোনো ভাটা পড়েনি।
ফিচারধর্মী লেখাতে আমি সব সময়ই স্বচ্ছন্দ্য। সামুতে দ্বিতীয় পর্বে আমি ছয় বছর ফিচারধর্মী লেখাই বেশি লিখেছি । খুবই অল্প কবিতা ও গল্প আর তারচেয়েও কম ফটো ব্লগ আমার। ২০১৯ সালে সামুর ব্লগ দিবসের প্রকাশনা 'বাঁধ ভাঙার আওয়াজ'-এ আমার লেখা একটা গল্প "আকাশ গঙ্গার তারা' প্রকাশিত হয়েছিল। গল্প কখনোই আমার লেখার মূল বিষয় না তাই ওই গল্পটা ব্লগ দিবসের প্রকাশনাতে নির্বাচিত হওয়াতে ভালো লাগার পাশাপাশি চেষ্টা চরিত্র করলে গল্প লেখা যেতে পারে এমন একটা ধারণা হয়েছিল আর নিজের গল্প লেখাজোখার ব্যাপারে আস্থাও বেড়েছিল। সেই আস্থাটাই ২০২১ সালের বই মেলায় দেশের খ্যাতিমান প্রকাশনী চৈতন্য থেকে প্রকাশিত আমার বারোটি ছোট গল্পের সংকলন 'আকাশ গঙ্গার তারা' লেখার অনুপ্রেরণা। দ্বিতীয় পর্বের শুরু থেকেই সামুতে খুবই যত্নের সাথে আমার ফিচারধর্মী লেখাগুলো লিখেছিলাম। সব সময়ই আমার বিশ্বাস ছিল সমসাময়িক দেশীয়,আন্তর্জাতিক ঘটনার সাথে ইতিহাস ভিত্তিক কিছু স্বরণীয় কিন্তু সামুতে অপ্রকাশিত ঘটনার সাথে কোঅর্ডিনেট করে লেখা ফিচারগুলো ভিন্নধর্মী হবে। সামুর অনেক অসাধারণ ব্লগারের অনেক অসাধারণ লেখার মধ্যেও আমার ফিচারগুলো কিছুটা ব্যতিক্রমধর্মী হবে, সবার ভালোও লাগবে সেই আস্থা আমার সব সময়ই ছিল!সেই বিশ্বাসটাই এই ফিচারগুলো থেকে আটটা নির্বাচিত ফিচার আর ফিচারের বিষয় ভিত্তিক আটটি প্রগল্প (ফিচারের বিষয় ভিত্তিক গল্প) নিয়ে ২০২২ সালের বই মেলায় দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনী ‘জাগৃতি’ থেকে আমার বই 'অষ্টধা' বের করবার সাহস জুগিয়েছিল। নানা কারণে সামুতে আমার লেখাজোখার একটা মরাকটালের শুরু এই বছর থেকেই ।
২০২২ সালের মাঝামাঝি কিছুটা ঝিমিয়ে পড়া ব্লগটাকে প্রাণবন্ত করতে ব্লগে কিছু প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলো।ব্লগাররা খুব ভালো ভাবেই সারা দিলেন। এর মধ্যে ফিচার প্রতিযোগিতাটা খুবই ভালো হয়েছিল। যদিও ফিচার প্রতিযোগিতার জন্য ছিল না বরং ফিচার প্রতিযোগিতার গাইড লাইন হিসেবে একই সময়ে পোস্ট করা ব্লগ মডারেটর জাদিদের 'সোর্ন ভার্জিন'-নারী হিসাবে অধিকার রক্ষার কলংকজনক অধ্যায়’ ছিল অনেক দিনের মধ্যে লেখা ব্লগের সেরা ফিচার।যাহোক, ফিচার প্রতিযোগিতার সাথেই সারা দিয়ে ব্লগাররা কিছু নির্বাচিত ক্যাটাগরিতে তাদের পছন্দের ব্লগারদের নাম নির্বাচন করলেন আর সেই সাথে তাদের কেমন লেখা/মন্তব্য ভালো লাগে, কোন ব্লগারের লেখা ভালো লাগে,কেন ভালো লাগে সেটাও বললেন। পুরোনো ব্লগার যারা এখন কালেভদ্রে ব্লগে লেখেন তাদের নামও নির্বাচিত হলো পছন্দের তালিকায় যা সামু ব্লগারদের তীক্ষ্ণ ব্লগ ভাবনার প্রকাশ। ব্লগারদের পছন্দের নামগুলো আর তাদের পছন্দের কারণ আমি আগ্রহ নিয়ে পড়লাম।খুবই নির্মোহ ভাবে করা ব্লগারদের এই আলোচনাতে ব্লগে কেমন লেখাজোখা ব্লগারদের পছন্দের সেটা নিয়েও একটা ধারণা পাওয়া গেলো।ব্লগে আমার শেষ লেখাটা পোস্ট করার পর তখন প্রায় ছয় মাস।ব্লগার নিয়াজ সুমন দেখি ফিচার ক্যাটাগরিতে অন্যদের সাথে আমার নামও উল্লেখ করেছেন তার পছন্দের ফিচার লেখক হিসেবে (আমার নাম পছন্দের ব্লগার হিসেবে উল্লেখ করে তার কোনো ব্লগীয় হেনস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে কিনা সেটার আপডেট পাইনি দেখে এখনো আমি বিশেষ চিন্তিত)! ব্লগ প্রতিযোগিতার এই পছন্দের ব্যাপারটাই ব্লগে আর ব্লগার হিসেবে নিজের লেখাজোখা নিয়ে একান্ত কিছু ভাবনার একটা সুযোগ তৈরী করল।
লেখাজোখা আমার সব সময়ই খুব আনন্দের বিষয়। নিজে সব সময় আনন্দের সাথেই লিখাজোখা করি।আমার লেখায় অন্যরা যেন বিরক্ত না হয় তাও ভাবি।অন্যদের বিরক্ত করে নিজের লেখাতে আনন্দের পসার সাজানোর চেষ্টা করিনি কখনো।আমার সব সময়ের বিশ্বাস পাঠক বিরক্ত করা লেখাজোখা তার পথ হারায়।পাঠকইতো লেখা পড়বে। নিজের বিশ্বাসের ব্যাপারে দৃঢ় থেকেও আমি তাই পাঠকদের কথাও ভেবেছি নিজের ব্লগ লেখায় সব সময়।লেখার ব্যাপারে পাঠকের মতামত আমার কাছে খুবই জরুরি একটা বিষয়।ব্লগারদের পছন্দের নামগুলো একটা নিষ্ঠুর সত্যের মুখোমুখি করে দিলো ব্লগার হিসেবে নিজেকে নিজের সামনে।নিয়মিত অনিয়মিত,নতুন পুরোনো এতো ব্লগার ! ব্লগাররা এতো লেখা পছন্দের বলছে কিন্তু সেখানে আমার অনেক যত্নে লেখা ফিচারগুলো, হাজার খানেক পোস্টের মন্তব্যগুলো খ্যাত অখ্যাত কোনো ব্লগারেরই তেমন ভালো লাগে নি বলেই মনে হলো। লে মেন্স টার্মে এই ইভালুয়েশনকে বলতে হয় সামুতে আমার লেখাজোখার প্রজেক্ট ফ্লপ -বা আন প্রোডাক্টিভ । মানে আমার লেখা খুব বেশি পাঠককে আকৃষ্ট করতে পারে নি। অথবা এটাও হয়তো বলা যায় আমি যে ধরণের লেখা ব্লগে লিখেছি পাঠকের কাছে সেটা পছন্দের না বা আমি তাদের পছন্দের বিষয়ে লিখতে পারছি না। এছাড়াও আমার বইগুলো বের হবার পরে এমন আরো কিছু ঘটনাতেও আমার লেখাগুলো মনে হয় ব্লগারদের পছন্দের কাছাকাছি যেতে পারছে না এই ভাবনা মাথায় এসেছিলো। ব্লগারদের ফিডব্যাক নিয়ে আমি অনেক ভেবেছি। সিরিয়াসলিই ভেবেছি ।
ব্লগারদের নির্মোহ ফিডব্যাক থেকেই মনে হলো ব্লগ লেখার ব্যাপারটা রিইভালুয়েট করা দরকার। শুকনো নদীতে তো আর নাও বাওয়া যায় না বা বেসুরে বাঁশিতে তো কারো মন জয় করা যায় না বরং বিরক্তিই বাড়ে তাতে। লেখাজোখা আমার কাছে সব সময়ই খুব আনন্দের বিষয় হলেও এখন মনে হচ্ছে সামুতে ব্লগ লেখার মিসফিট পরিচয়টা আনফিট পরিচয়ে বদলে যাবার আগেই ব্লগ লেখায় সমাপ্তি টানা দরকার (ব্লগার নিয়াজ সুমন, ধন্যবাদ। আপনার জন্যই মিসফিট কথাটা বলা গেলো নইলে এটুকুও বলাও হয়তো বেশি মনে হতো)। পাঠকদের বিরক্তিতে লেখাজোখা তার পথ হারায় বলে শুরু থেকে যে একটা ছোট কিন্তু জরুরি আত্মদর্শন সাথে নিয়ে লেখাজোখার উদাসী পথে আমার পথ চলা-তাকে সন্মান করে ভাবছি 'তোমাদের পানে চাহিয়া বন্ধু, আর আমি জাগিব না/কোলাহল করি’ সারা দিনমান কারো ধ্যান ভাঙিব না' বলে ব্লগ লেখার নটে গাছটি মুড়ে দিলে ক্ষতি কি?
আরেকটা খুব ব্যক্তিগত কথা দিয়ে শেষ করি এই লেখার । আমার সামুর আমলনামায় খুব সম্ভবত তখনও প্রথম পাতায় লেখার স্বর্গপ্রাপ্তিসম কোনো আমল লেখা হয়নি। তখন আমি কমেন্ট করি বেছে বেছে পছন্দের লেখায় আর অল্পস্বল্প কবিতা (বা অ -কবিতা), লিমেরিক লিখি। একদিন একটা ফটো ব্লগ করলাম। আমার প্রবাস জীবনের ছোট ইউনিভার্সিটি শহর, তার পাহাড়,পাহাড়িয়া পথ, বেলা শেষের গোধূলি আকাশ এই রকম কিছু ফটো দিয়ে। আমাকে অবাক করে সেই পোস্টে মডারেটর জাদিদ কমেন্ট করলেন, আমি আশা করি আপনার ব্লগিং থেকে সামুর ব্লগাররা অনেক ভালো ভালো লেখা পড়তে পারবে আর ব্লগও অনেক লাভবান হবে (কমা, কোটেশনে না বললেও কমেন্টটা এই ধরণেরই ছিল যতদূর মনে হয়)। সামুতে লেখালেখি শুরুর সেই উষশী বেলায় জাদিদের সেই কমেন্টটা ছিল অনেক ভালোলাগার। সামুতে ব্লগিংয়ের চাওয়া পাওয়ার কোনো হিসেবে করিনি কখনো।তবুও ব্লগার হিসেবে জাদিদের আশাপূরণ করতে পারিনি বা করা যায়নি যেভাবেই বলি আজ আমার নিজের ব্লগিংয়ের এই ক্লান্ত গোধূলি বেলায় জাদিদের কাছে একটা আপলোজি চাওয়া দরকার নিজের ব্যর্থতার জন্য আর তার আশটুকু পূরণ না করতে পারার জন্য। এপোলোজি জাদিদ, অনেস্ট। ওব্রিগাডো এন্ড অডিউস ।
ফটো : আমার অ-আঁকাজোখা
------------------
ফুটনোট: ব্লগ লেখার মরাকটালের শুরুর দিকে ২০২৩ সালে অনেকটা নিজস্ব তাগিদ থেকেই সবাইকে আমাদের লেখাজোখার প্রিয় প্লাটফর্মে না লেখার একটা কারণ হিসেবে লেখাটা লিখেছিলাম । নিজের জন্য লেখা বলেই হয়তো ব্লগে লেখাটা আর পোস্ট করা হয় নি । কিন্তু ক'দিন আগে জানার লেখাটি মন খুবই খারাপ করে পড়লাম। জানা ফাইটার।আশাকরি পুরো সুস্থ্য হয়ে আবার ব্লগে অনেক লিখবে। কিন্তু সেই থেকে নিজের ব্যাপারে মনে হচ্ছে আবার যদি কখনো আর ব্লগে না লেখা হয়। হঠাৎ যদি সব থেমে যায় কোনো কিছু না জানিয়ে।তাই অনেক দিন আগে লেখা যা কখনো পোস্ট করিনি সেটা আজকের কোলাহলহীন দিনে সবার অগোচরে চুপিচুপি নিজের ব্লগ পাতায় পোস্ট করে দিলাম । আবার কোনো একদিন হয়তো সবার অগোচরে সব কোলাহল থেমে গেলে ড্রাফটে নিয়েও রেখে দেব ।
৩০ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮
মলাসইলমুইনা বলেছেন: বন্ধু, সামুতে আমার লেখার তখন ঘন ভোর, 'কাঁচা কাঁচা রোদ মাখা সকাল'টাও হয় নি । ব্লগ শুরুর সেই উষশী বেলা থেকেই আমার হাবিজাবি ব্লগ পোস্টেও আপনি ছিলেন মন্তব্যে ভীষণ আন্তরিক। আজকে ব্লগ লেখাজোখার সকাল, মধ্যহ্ন পেরিয়ে আবির রাঙা এই শেষ বিকেলেও আপনি ঠিক তেমনি রয়ে গেলেন।অনেক ধন্যবাদ।আর স্যরি, প্রচুর হাবিজাবি ব্লগ লিখে আপনাদের সময় নষ্ট করার জন্য।আর আমার পোস্ট পড়ে কখনো কখনো প্যারাসিটামল কেনার এক্সট্রা যে ঝামেলাটুকু করতে হয়েছে সে'জন্যও স্যরি। ভালো থাকবেন। রাজকন্যাদের সাথে আপনার সুখের রাজত্ব অসীম হোক । আবারো অনেক অনেক থাঙ্কস।
২|
৩০ শে মে, ২০২৬ দুপুর ২:১৯
করুণাধারা বলেছেন: আমার প্রিয় ব্লগার মলাসইলমুইনা, ব্লগে আমিও কিছুটা অনিয়মিত, তাই আপনার এই পোস্ট মিস করেছিলাম কিন্তু আপনার চমৎকার লেখাগুলো সব সময় মিস করি, সেগুলোর কথা মনে পড়ে। ব্লগার হিসেবেও আপনার সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং বুদ্ধিদীপ্ত মানসিকতার পরিচয় সবসময় পেয়েছি মন্তব্য- প্রতি মন্তব্যের মিথস্ক্রিয়ায়। সেজন্যও আপনাকে মনে পড়ে...
এই পোস্টটিতে আপনি চমৎকারভাবে বর্ণনা করেছেন আপনার লেখালেখির শুরু আর লেখালেখির নানা প্রাপ্তি নিয়ে। তারপর বলেছেন সামুতে আপনার লেখালেখি নিয়ে। এটা সত্যি, ইদানিং আপনার লেখার ফিডব্যাক পাচ্ছেন না। কিন্তু এই শুধু আপনার একার নয়, আমরা অনেকেই এরমধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। আসলে আমরা এক অস্থির সময় পার করছি, তাই আমাদের প্রিয় সামুর আঙ্গিনা আজ জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। কিন্তু তবুও তো আমরা ফিরে আসি আমাদের একসময়ের অতি প্রিয় এই প্রাঙ্গণে!
জানিনা কোন গভীর অভিমান আর দুঃখ নিয়ে আপনি সামু ছেড়ে যাচ্ছেন! আপনার ব্লগে গিয়ে দেখলাম সব লেখা সরিয়ে নিয়েছেন! দেখে আমিও দুঃখ পেলাম। অথচ এই পোস্টের শিরোনাম দেখে ভেবেছিলাম আপনি আবার ফিরে আসছেন!
আশাকরি আপনার এই যাওয়া সাময়িক হবে। আবার আপনি ফিরে আসবেন আপনার সুন্দর লেখা নিয়ে।
ভালো থাকুন, শুভকামনা রইল।
০৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৭
মলাসইলমুইনা বলেছেন: প্রিয় ব্লগার করুণাধারা,
শুরুতেই স্যরি বলে নেই মন্তব্যের উত্তরে দেরি হবার কারণে। ব্লগে আপনার চমৎকার লেখাগুলো সব সময়ই অবাক করতো । আর এবার মন্তব্য দেখে অবাক হলাম । আমার এই পুরোনো, লুকোনো লেখাটা আপনার চোখে পড়লো কেমন করে সেটা ভেবে সিরিয়াসলি অবাক হয়েছি। আপনি সব সময়ই চমৎকার একজন ব্লগার এই কারণেই। ব্লগে আপনার লেখা, মন্তব্য, বিশেষ করে আমার লেখায় আপনার মন্তব্য থেকে, এই ধারণা আমার মনে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মতো হয়েই আছে ।
হাহাহা -এখন তো বাচ্চা নই ।তাই কোন গভীর অভিমান আর দুঃখ নিয়ে সামু ছেড়ে যাচ্ছি সেটা নয়। আসলে যত দিন যাচ্ছে ততই চিন্তাভাবনার ধরণগুলোও বুঝি খুব সেন্ট্রালাইজড হয়ে যাচ্ছে । একাডেমিক কনভার্সেশনগুলো যেমন লাইক মাইন্ডেড কলিগদের সাথে করতে ইচ্ছে করে লেখালেখির ব্যাপারটাও তেমন হয়ে যাচ্ছে। ইচ্ছে করে তেমন শখের লেখাজোখাও লাইকমাইণ্ডেড মানুষের সাথেই করি যাতে লেখাজোখার ফিডব্যাকগুলো পাওয়া যায়। ২০২২ -এর সামুর লেখা প্রতিযোগিতার ফিডব্যাকগুলো দেখে সামুতে কেন যেন সেই লাইকমাইন্ডেডনেস জিনিসটারই একটা অভাব হচ্ছে মনে হচ্ছিলো । সেটাই মনে হয় সামুতে লেখালেখির মরাকটালের জন্য খানিকটা দায়ী ।তার বাইরে কিছু নেই । ও আরেকটা কথা, আমার লেখাগুলো কিন্তু ড্রাফটে নিয়ে রেখেছি সেটাও প্রায় তিন বছর ।
আপনি লিখেছেন এই পোস্টটিতে আপনি চমৎকারভাবে বর্ণনা করেছেন আপনার লেখালেখির শুরুর আর প্রাপ্তির ঘটনা । এখন ব্লগ রিলেটেড একটা ঘটনাও শুনুন :২০২২ -এর সামুর লেখার যে কম্পিটিশনটা হয়েছিল তখন আমি জাদিদকে বলেছিলাম প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সামুর প্রাইজের সাথে আমিও কিছু বই দিতে চাই। তখন আমি জাদিদকে জিজ্ঞেস করলাম আপনার কন্টাক্ট এড্ড্রেস অরকাছে আছে কিনা। তাহলে আপনার জন্যও একই সাথে আমার তিনটে বই কুরিয়ার করে দিতে পারি। আর আপনার থেকে কন্টাক্ট এড্ড্রেস দিতে ঝামেলা হলে আমি জাদিদকেও বইগুলো পাঠাতে পারি যাতে জাদিদকে আপনাকে বইগুলো মেইল করে দিতে পারে। জাদিদ আমাকে জানালো আপনার কন্টাক্ট এড্ড্রেস ওর কাছে নেই। আপনাকে বইগুলো পাঠাতে পারলে আপনার থেকে কিছু কন্সট্রাক্টিভ ফিডব্যাক পাওয়া যাবে সেই আশা আমি করেছিলাম। কিন্তু আপনাকে আর আমার বইগুলো পাঠানো গেলোনা বলে সেই ফিডব্যাকগুলোও আর পাওয়া হয়নি। সেটা নিয়ে খানিকটা আক্ষেপ আমার আছে এখনো ।
যাহোক, সামুর ব্লগিং থেকে আপনাদের সাথে লেখালেখির পরিচয়টা অনেক বড় একটা পাওয়া আমার কাছে । সামুতে আর না লিখলেও সেই পাওয়াটা আমার সব সময়ই থাকবে । ভালো থাকবেন ।
৩|
০৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৬
শায়মা বলেছেন: এই যে ভাইয়া কেমন আছো????????
কোথায় আছো????????
একটা কথা বলি ভাইয়া
লেখো নিজের জন্য!!!
কে কি বললো এত ভাবলে চলিবেক লাই......
০৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৩৪
মলাসইলমুইনা বলেছেন: শায়মা,
এখন বাজে রাত সোয়া একটা । আপনি তো এই ঘনঘোর বৃষ্টির গভীর রাতে আমার ঘুম ডিস্টার্বড করলেন । উইকএন্ডের সুযোগ নিয়ে রাত জেগে দেরি করে ঘুমুবার আয়োজনটা ভেস্তে গেলো আপনার এই মন্তব্য দেখে। এই বেলা আপনার মন্তব্যের রেস্পন্স করাটা জরুরি । নইলে আবার কতো দেরি হয়ে যায় হয় কে জানে। আলহামদুলিল্লাহ। ভালো আছি। আপনার চমৎকার লেখাগুলো থেকে ধারণা করছি আপনি ভালো আছেন । আপনার ভালো থাকাটা ব্লগের জন্য জরুরি সেটা জানবেন। হ্যা, আপনার কথাতা তো সত্যি । লেখালেখি নিজের জন্যই করতে হয় ।আমার লেখালেখিও সেই রকমই । নিজের খুশির জন্যই লেখাজোখা । ব্লগে লেখালেখি না হলেও নিজের শখের লেখাজোখা অল্প করে হলেও হচ্ছে । কিন্তু এখন মনে হচ্ছে একাডেমিক রিসার্চের ব্যস্ততার জন্য শখের লেখাজোখায় একটু বিরতি দিতেই হবে। । ইনশা আল্লাহ ২০২৮ সালের বই মেলাকে সামনে রেখে একটা পাণ্ডুলিপি রেডি করার ইচ্ছে আছে। ভালো থাকবেন ।
©somewhere in net ltd.
১|
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০৯
নীল-দর্পণ বলেছেন: বন্ধু, এতদিন পর হঠাৎ আপনার পোস্ট দেখে প্রথমে অবাক হলাম, ভাবলাম যাক আপনার কাজ শেষ হয়েছে এবার বুঝি আবার ব্লগে আসবেন মাঝে মাঝে। মাঝপথে পড়তে পড়তে আনন্দিত ছিলাম এই ভেবে যে , এবার বুঝি নতুন কোন বইয়ের নাম জানতে যাচ্ছি। কিন্ত শেষে এসে খুবই হতাশ হয়ে গেলাম!