| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বোহেমিয়ান ভাউন্ডেলে
তোমার গলা থেকে যে অদৃশ্য সাইনবোর্ড ঝুলছে !! তোমার 23 জোড়া ক্রোমোসোম এ তোমার জীবনের ইতিবৃত্ত !!!! তা খন্ডানোর সাধ্য কার!!!!!! খেলারাম খেলে যা ।
—“এই কোথায় যাবে? বাসা কই? এত রাতে রাস্তায় কি কর?”
কোনটির উত্তর দিব ?? তা বুঝার আগেই মহাশয়রা আমার ঝুলা check up শুরু করে দিছেন। উনারা উত্তরের অপেক্ষা বোধহয় করেন না ?চুপ থাকাই সমীচিন !
__ “এই, উত্তর নাই কেন?”
__“স্যার আমার বাসা শাপলাবাগ ,শায়খ আব্দুর রহমানকে যে বাসায় ধরা হইছিল তার পাশের বাসা। ”
__ “ বেশি কথা কস ?? তোমরা তো ডাকাত ? ওই পিচ্চিটাই শুধু বখর বখর করতেছে , তোদের বাড়ি কই?”
মিনিট দশেক আগে ওরা আমার সঙ্গী হয়েছে , বিধায় ওদের সম্পর্কে কিছুই জানি না ।
ওরা পাশের মাদক চিকিৎসা কেন্দ্রের একটি কার্ড দেখিয়ে কর্মকতা দাবি করল ।
আমার দিকে তাকিয়ে ওদের জিঞ্জেস করল “পিচ্চিটা সাথে কেন?”
এটা ব্যাখ্যা করার আগেই দারগার চোখ ওর ডান হাতে আটকে গেল।
__ “এটা কিভাবে হল?”
__ “একসিডেন্ট হইছিল। ”
আমার কলজা কেপে যায় । ডান হাতটা প্লাস্টিকের , ফুল হাতা শার্টে সুন্দর করে গুছানো !হলিউডের হরর মুভিতে ভূতের হাত যে রকম থাকে , সে রকম। কব্জি পর্যন্ত শার্টে হাতা, মনে হয় হাতে প্লাস্টিকের গ্লাবস পরিহিত।
__ “কিসের একসিডেন্ট?কত টাকা লেগেছে?”
এতক্ষণ পর্যন্ত অনেক বড় বড় কথা বলছিলো ,কথা বলার কাপাকাপিতে বুঝা যায়, পুলিশের কাছে তার ও গলা শুকিয়ে গেছে ।
__ “বাইক এক্সিডেন্ট, বড় খালার মাধ্যমে সুইজারল্যান্ড থেকে আনিয়েছি।দেড় লক্ষ টাকা ”
উনি আমদের নিয়ে ঘাটাবার সাহস করলেন না । লাখ টাকার কথাবার্তা তো !!!
দারগা আমাদের রাতে না ঘোরার উপদেশ দিয়ে বিদেয় হলেন ।
আমি বললাম __ “হাত কিভাবে গেল?”
__ “ আর বলিয়েন না ভাই , অল্পের উপরে পার পাইছি । মজিদ ডাকাতের দলে জর্দার কৌটা বানাতাম। যে দিন ওরে ক্রসফায়ার করল , আল্লার কি কুদরত !! আমার জর্দার কৌটায় মারল বাস্ট । গেল হাতটা উড়ে ! মজিদ ডাকাইত শেষ আর আমি হাসপাতালে । আল্লায় বাচাইছে , সেকেন্ড টার্গেট ছিলাম মুই(আমি)” ।
মুখ খুব হাসি-হাসি দেখে মনে হল , কথাটা খুবই আনন্দদায়ক।।
এইভাবে জর্দা জাহাঙ্গীরের সাথে পরিচয় ।
এমন সময় ফজরের আজান হলো । মসজিদে ঢুকলাম আমরা । বের হয়ে আর ওর সাথে দেখা হয় নি কারণ তখন চারদিক আলোকিত ।
কিছু মানুষ আছে যারা হাজার চেস্টা করেও আলোয় আসতে পারে না । থাক ওরা ওদের জগতে। সবাই যদি আলোয় আসে তবে আলোরইবা মুল্য কিসে ??
আমি চললাম আমার পথে.........
দেখতে দেখতে একটি বছর চলে গেল। হাজার ও পাঠকের শুরু তোমার কাছ থেকে । এমন নেশা ছিল, যে খেয়েছে তো মরেছে । তোমার হাত ধরেই আজ বাংলা সাহিত্যের হাজারও পাঠক। আনন্দ দেয়াই যদি সাহিত্যের উদ্দেশ্য হয় , তবে সেটা তুমি ।উন্মাদনাকে শিল্পের পর্যায়ে পৌছালে। জোছনা, বৃষ্টি, রবীন্দ্র সব তোমার দখলে ।যতবার কিশোরীমোহন প্রাইমারি স্কুল্টা দেখি , ততবার স্যালুট দেই।এখানে তুমি ছিলে বলে। তুমি থাকবে সবসময় আমাদের হৃদয়ে হে বরপুত্র “হুমায়ুন আহমেদ”।
২|
২১ শে জুলাই, ২০১৩ রাত ১:৪৪
বোহেমিয়ান ভাউন্ডেলে বলেছেন: ধন্যবাদ
©somewhere in net ltd.
১|
১৯ শে জুলাই, ২০১৩ সকাল ১০:০৪
অপূর্ণ রায়হান বলেছেন: হ্যাপি ব্লগিং