| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মন্ত্র;নয়াগণতন্ত্র
কোনো প্রভু নয়
মেঘের সাথেই যুদ্ধ করে পূর্ববাঙলার বীর জনগণ
সূর্যকাঁপা পরিশ্রম
সাফল্য-সুষমা যদি আনে কুসুম-কুসুম বন্টন তবে নিশ্চয়ই
সীমান্তের কাঁটাতারে গেঁথে যাবে নিয়তির হলুদ জীবন!
মজুরির রক্তদাগ...
এ মাটিতে এখন ও জন্ম দেয় যোগ্য শ্রমের উত্তরাধিকার
মজলুমের হুংকারে
পূর্ববাঙলার পলিমাটি ছুঁয়ে নেতা ও হয়েছিলেন বটে এক মাওলানা
তাঁর টুপি ও তর্জনী ভয় পেতো সাম্রাজ্যবাদ
এবং তাঁদের এদেশী পা-চাটা কুত্তা;সামন্তবাদ
কৃষিনির্ভর এই বাঙলায় সম্ভাবনা জাগিয়ে ও আখেরে
মাওলানা হতে পারলেন না পূর্ববাঙলার মাও!
দালাল মুৎসুদ্দি পুঁজির সাথে লড়াই করতে করতে
চির সবুজেরা শিখে নিলো দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
মানব মুক্তির সমূহ আকাঙ্ক্ষা
হাতে তুলে দিলো জীবনের গান, সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সমাজ বিজ্ঞান ;
যাতে সুপ্ত ইতিহাস এবং তাঁর অনিবার্য রায় !
মার্কসবাদ-লেনিনবাদ ও মাওসেতুঙ্গের চিন্তাধারায় সুসজ্জ্বিত হলো পার্টি
পার্টি ঘোষণা করলো উৎপাদন পদ্ধতি ও রাষ্ট্রচরিত্র
সাথে রণনীতি ও রণকৌশল ;
পূর্ববাঙলায় বিরাজ করছে আধা-সামন্তবাদ,আধা-উপনিবেশবাদ
অতএব চাই জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব;
যাতে আছে জাতীয় বুর্জোয়াদের অসমাপ্ত কাজের ও সমাধান।
বল প্রয়োগের মধ্য দিয়ে
রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের এ বিজ্ঞান কার্যকরে মাঠে নমেছিলেন
হক-তোয়াহা ,আলাউদ্দিন-মতিন-দেবেন ,নবীন সিরাজ সিকদার।
হক-তোয়াহা এই নাম শুনলেই কেঁপে ওঠতো শ্রেনীশত্রুর হ্নৎপিন্ড
সমাজতন্ত্র , সভ্যতার শত্রুদের নানামুখী ষড়যন্ত্রে
শেষপর্যন্ত অসম্ভব চমৎকার জুটিটি ভেঙ্গে গেল
জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব তথা মানুষের মুক্তির পথ আরো দীর্ঘতর হলো...
ব-দ্বীপের পন্ডিত পুরুষের কাছে
এর আগে প্রলেতারিয়েত শব্দের বাঙলা অর্থ অতো স্পষ্ঠ ছিলো না;সর্বহারা!
লক্ষ্য অভিন্ন,পথ ভিন্ন তবু নয় অন্ধ অনুকরণ ,বঙ্গীয় রীতিতে বেশ এগিয়ে ছিলেন
পূর্ববঙ্গীয় চেগুয়েভেরা সিরাজ সিকদার।
বদলে যাবার দিনে
নিজেকে বদলে নেয়ার সে এক অপূর্ব সময় এসেছিলো বটে!
পেয়ারা বাগান , তানোর ‘র.. আল-পথে রক্তজবা লাল
যেন হয়ে উঠেছিলো সর্বহারাদের পৃথক স্বরাজ!
ভাষা ও সংস্কৃতিগত ফারাক কাটিয়ে
গণ চীনের চেয়ারম্যান যদি হতেন আমাদের চেয়ারম্যান!
রেডিও পিকিং যদি হয়ে যেতো এশিয়ার মেহনতি জনতার রেডিও
চীনা গণফৌজ যদি হয়ে যেতো গোটা এশিয়ার বুক জুড়ে বসন্তের বজ্র নির্ঘোষ!
তাহলে হয়তো ৭০‘র দশকই পরিণত হতো মুক্তির দশকে
আজ এরকম রোমান্টিক ভাবনাও বেশ স্বুস্বাদু ও মনোরম!
অধরাই থেকে গেল স্বপ্নের জনগণতন্ত্র
ততদিনে বাঙলাদেশে জেঁকে বসেছে গণপ্রজাতন্ত্র
সদ্য স্বাধীন দেশ ...এক সাম্যবাদ অন্তঃপ্রাণ কর্ণেল
ক্রাচে ভর দিয়ে দাঁড়ালেন যেন চাঁদের আগুন মেখে
রাষ্ট্র ক্ষমতাও চলে এসেছিলো দু‘আঙুলের ফাঁকে!
অল্পের জন্যেই হতে পারলেন না বাঙলাদেশের ফিদেল ক্যাস্ট্রো
পেছন থেকেই সরে গেল পেটি-বুর্জোয়া পার্টি-নেতৃত্ব।
হুইসেল শব্দে কর্ণেল দেখেন;...আরো এক বিপন্ন বিষ্ময়
প্রতারকের মুখে গোখরো- ফণার বিষ;
বিজয়ী তবে কে-সিপাহী জনতা;না কি প্রতিক্রিয়াশীল?
ফাঁসির মঞ্চে ক্ষুদিরামের উত্তরসূরী জানালেন:
নিশঙ্ক চিত্তের চেয়ে জীবনে আর বড় কোনো অর্জন নাই।
©somewhere in net ltd.