![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
পৃথিবীর সব ছেঁড়া ছাতা দেয়ালে হেলান দিয়ে বিশ্রাম নেবে একদিন; জবুথবু বৃষ্টিতে ভিজবে বেগনী নয়নতারা, শাদা রাজহাঁস, ধূসর ছেলেবেলা। রূপোর জল কুচি হবে তেতুল পাতায়, রবি শঙ্করের সেতারে। আষাঢ়ের বুনোবৃষ্টি বইয়ের তাকে কালিদাসের মতো পা দুলিয়ে বসবে, জ্যামিতির অজানা সম্পাদ্য কাগজের নাওয়ের মতো টেবিলে বিব্রত হামা দেবে। মেঘদূতের খোঁজ কে নেয় এমন দিনে! এমন দিনে কে কড়া নাড়ে খিল-কপাটে, বলে, ‘বাড়ী আছো?’
আমি বাড়ীতেই ছিলাম। আলনায় ঝুলানো শার্ট, শার্টের হাতা, আর বক্রম দেয়া সটান কলার বিশ্রাম নিচ্ছিল হ্যাঙ্গারে। এ দৃশ্য লোভীর মতো দেখতে দেখতে আমিও ঝুলে পড়ি কড়িবর্গায়। দোল খাই। একবার ডানে, আরেকবার ডান থেকে বায়ে। হরদেও গ্লাস ফ্যাক্টরির মোটকা বয়ামের গায়ে কয়েকটি লাল পিপঁড়ে, একবার আমাকে দেখে নেয়। আমি হাত নাড়িয়ে তাদের ‘হ্যালো’ জানাই। উঁচু থেকে সবকিছুই ছোট দেখায়, এমন কী পিপঁড়েদেরও। আমার পড়ার টেবিলে কালিদাস, যিনি পা দুলিয়ে বসে আছেন, বলেন, ‘মাই টার্ন’, আজ তারও দোল খাওয়ার শখ। আমি সে কথা না শোনার ভান করে আলোচনায় ফিরে আসি। বলি, ‘তারপর?’ ‘তারপর আর কী? মেঘগুলো বৃষ্টি হলো। আর ছাতাওয়ালারা কোমর ভিজিয়ে পরেরদিন অফিসে গেল!’, কালিদাস ঝটপট উত্তর দেন। এভাবে গল্প জমে না। একজন সিলিংয়ে, আরেকজন টেবিলে- এমন রুদ্ধদ্বার বৈঠক অসফল হবে- চোখ বুজেই বলা যায়। আমি চোখ বন্ধ করি। গল্পটি আবার শুরু যাক, যাকে বলে- একেবারে শুরু থেকে শুরু। কিন্তু বুড়োটিও যে চোখ বুজে আছে! ভুল হলো, বলা উচিত, তিনি আঁখি মুদে আছেন।
কালিদাস চোখ বুজেছিলেন কোন কালে!
‘ও দাস বুড়ো, তন্দ্রা এলো বুঝি?’ বয়স বাড়লেই মানুষ উবু হয়ে চশমা খোঁজে, গল্পের বিরতিতে ঘুমিয়ে নেয়। কালিদাসেরও হয়তো বয়স বেড়েছে। আমার কথা শুনে তিনি মাথা নাড়েন। বলি, ‘সর্ষে-তেলে মুড়ি মাখিয়ে দেব? সাথে চানাচুর, আর আদা-পেঁয়াজ কুচি; দেব?’ কালিদাস আবার মাথা নাড়েন, ডানে-বায়ে। বলেন, ‘গেল বর্ষায় খুব রসবাতে ভূগলাম। কুচকিতে এখনো টাটায়।’ বাতের অসুখে আমার আগ্রহ নেই। চুপ থাকি। তিনি হাতের আঙ্গুলে কুচকির জটিল কোনো অবস্থান টিপে ধরে রাখেন, তারপর সুখ-সুখ-ব্যথা পাওয়া স্বরে বলেন, ‘সময় পেলে অলকাধাম থেকে ঘুরে এসো একবার।’ আমি যক্ষের মতো যে স্যাণ্ডেল দু’টোকে অলকা নগরীর ম্যাপ চিনিয়েছি গতরাতে, বুড়োর কথা শুনে তাদের ভ্রমণজনিত অবসাদ শুরু হলো। ওরা মিনমিন করে বলল, ‘আরেকটু রেষ্ট নিই!’ বুড়ো কালিদাস বলেন, ‘এত ভাবনার কিছু নেই। গাবতলী থেকে দক্ষিণের বাস নাও। সোজা রাস্তা।’ মুখরা স্যাণ্ডেলদুটো ঝটপট বলে, ‘তাহলে তুমি নিজে যাও না কেন?’ এইবার কালিদাস বাবু কান-মাথা চুলকে একাকার করলেন। এমন কঠিন প্রশ্ন কেউ কোনোদিন তাকে করেনি। আমি মজা পাই। স্যাণ্ডেল দু’টোকে মনে মনে বাহবা দেই, সাবাস! বাঘের বাচ্চা!
বাইরে বৃষ্টির ছাঁট বাড়ল বোধ হয়। নিম-আলোতে কালিদাস, দু’পাটি স্যাণ্ডেল, হ্যাঙ্গারে ঝোলানো ফুলহাতা শার্ট, আর আমি- রুবিকস কিউব খেলতে থাকি। তিন পাক ডানে, এক পাক বায়ে। আবার দুই পাক ডানে, এক পাক বায়ে। কখনো কালিদাস, স্যাণ্ডেল, আর আমি, আবার কখনো ফুলহাতা শার্ট, আমি আর কালিদাস। আমি বলি, ‘সবকিছু মিলতেই হবে, এমন কথা নেই। অমিলও ভাল।’ কথাগুলো বলে খুব আরাম লাগে; গূঢ় ঐশীবাণী নাজিল করে ঈশ্বর যেমন প্রীত থাকেন, তেমন লাগে আমার। আমার কথা শুনে কালিদাস বলেন, ‘সিলিংয়ে বসে সবাই বড় বড় কথা বলে!’ আমি বলি, ‘সিলিং নয় হে কবি, রামগিরি, রামগিরি পর্বত!‘
- ‘ওই একই কথা!’
- ‘মাকড়সার ঝুলের মতো কিছু বেশরম মেঘ ঘুরে বেড়াচ্ছে ক্যালেণ্ডার ঝোলানো দেয়ালে; ওদের বলব?’
- ‘ওসব দিন গেছে। পারলে এসএমএস করো। পিগমী সাইজের ম্যাসেজ পাঠাও!’
আমি মুঠোফোন খুঁজি। ওটি টেবিলে পড়ে আছে, মেঘদূতের পাশেই। অফিসের কলিগদের সাথে কথা বলার ঢংয়ে বলি, ‘কালিদাস বাবু, ফোনটা দেবেন, প্লিজ?’ কালিদাস বলেন, ‘খুব আলসেমী লাগছে, নিয়ে নাও।’ আমারও আলসেমী লাগে। আমি ভরপেট আলসেমী নিয়ে হরদেও গ্লাস ফ্যাক্টরীর মোটকা বয়ামটা দেখি। লাল পিপঁড়েদের শবযাত্রা দেখি। হ্যাঙ্গারে ঝুলানো শার্ট আর টেবিলে উবু হয়ে বসে থাকা কালিদাসকে দেখি। বাইরে কড়া নাড়ার শব্দ। নাকি ঝড়ের ঝাঁপটা? এমন দিনে খিল-দরজায় কে কড়া নেড়ে বলবে, ‘বাড়ী আছো?’ আমি অযুত-বিযুত জোনাকপোকার ওড়াউড়ি দেখি আকাশময়। আহ আকাশ! আমার পিতার সমান উচ্চতা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আকাশ! এতকাল কার বারান্দায় ঝুলে ছিলে অতিথি আমার? এই ঝড়-বাদলের দিনে কী দিয়ে নারায়ণ সেবা করি আমি? সর্ষে-তেলে মুড়ি মাখিয়ে দেব? সাথে চানাচুর, আর আদা-পেঁয়াজ কুচি, একফোঁটা কাগজি-লেবুর রস, চলবে? আমাকে অস্থির হতে দেখে কালিদাস মাথা নাড়েন। কবিদের সবকিছুতেই প্রবল ভক্তিভাব থাকে বোধ হয়; এমন কি ডানে-বায়ে মাথা নাড়াতেও।
- ‘মেঘেদের কোনো প্রজনন ঋতু নেই, জানতো?’
- ‘ভুল, দাসবাবু এসব ভুল কথা। মেঘের পরাগায়ন কৌশল জটিল, তবে অসম্ভব নয়। এবারও বর্ষায় মেঘছানারা হামা দিচ্ছে কলতলায়, কৈলাশ শৃঙ্গে!’
- ‘এসব বানানো কথা। গুলগাপ্পি। জোনাকপোকার নিতম্বে ফসফরাসের গল্পের মতো!’
জোনাকপোকার প্রসঙ্গ উঠতেই আমার ভেতরে জন্ম নেয়- তুলশী ঝোঁপ, একটা বাঁশঝাড়, তারই পাশে এক টুকরো হলুদের ক্ষেত, একটা দীঘি, বিঘে তিনেক ধানী-জমি, দুব্বো গজানো মাঠ, মাঠ পেরুনো বাদামী ইস্টিমার, ভূঁইফোঁড় একটা নদী, বাঁশের সাঁকো, নদীতে পা ডুবিয়ে বসে থাকা ছেলেবেলা। আহ্ ছেলেবেলা! কতকাল দেখিনা তোরে! একবার আমার কাঁধে উঠে বোস, বাল্যসখা আমার- আকাশ চেনাই তোরে! অথবা শিখবি আলু-পটলের দরদাম, পায়রার ঠোঁটে চুমু খাওয়ার ঊনিশটি গোপন কৌশল? আমার চেয়ে কে আর ভাল জানে তক্ষকের জীবন্মামৃত! ওরে ধুলোমাখা বন্ধু আমার, তোর হাতের দশটি আঙ্গুলের মতো আমারও ভেতরে জন্ম নেয় সাতশ’ পঞ্চাশ বর্গফুটের এক হলদে বিবর, বড় হয়; ভেতরে ভেতরে আমিও বেড়ে উঠি, আকাশের ঔরশে মেঘ যেমন বেড়ে ওঠে!
আমি জন্ম বদল করব। ও কালিদাস, প্লিজ, তুলোর বালিশের সাথে বদল করবে যক্ষের জীবন?
এত জটিলতায় কালিদাস বিরক্ত হয়ে ওঠেন, বলেন, ‘দোষটা তোমারই!’ আমি জানি, আমারই দোষ। কথাটা সবাই জানে এবং তারা জানে বলেই বিশ্বাসও করে। তিনি বলেন, ‘মানস সরোবরে ডুব সাঁতার দিও এইবার।’
আমি চুপ থাকি। কী আর বলব! চৌরঙ্গীর গন্ধবণিকেরা কেশতেলের ব্যবসা গুটিয়েছে- সে দোষ আমার! অবন্তী নগরের রমনীরা সুগন্ধী চুলে খোঁপা বাঁধে না আর- সে দোষও আমার! আমি দেবদারু বন ঘেরা ক্রোঞ্ছ পর্বতে বসে থাকব। নাকে স্বেদকণা নিয়ে নীলক্ষেতের মোড়ে অপেক্ষা করুক অবন্তীর নারীরা, তাদের হাতব্যাগ, মিহিসূতোর রুমাল। আমার জন্য অপেক্ষা করুক- কৈশোরের এক বোকা বাইসাইকেল। ঠিক কোন কারনে বাইসাইকেলের জন্য এত দরদ আমার, জানিনা। তবু একটা বাইসাইকেলের কথা মনে হয়। মনে হয়, শহরের কোনো নির্জন এভিনিউয়ে এক অলৌকিক দ্বি-চক্রযান শিস কেটে বেড়িয়ে যাচ্ছে। যেনো গ্লোবের কোনো প্রান্তে পৌঁছুলেই সে পেয়ে যাবে কেন্দ্রাতিক শক্তি। যেন মেঘ, উত্তরের পাখিদের বাড়ী ফেরার পথ, সূতো ছেঁড়া ঘুড়ি- সবার সাথে পাল্লা তার। কিংবা এসব কিছুই না। ক্রোঞ্ছ পর্বতে তার নিরন্তর বিশ্রাম! আজ সবাই অপেক্ষা করুক আমার জন্য। আমার কী!
কালিদাস বলেন, ‘বৎস, সবকিছু শেয়ার করতে শেখো। সিলিংটা তোমার একার নয়!’
আমি বলি, ‘টেবিলটাও তোমার একার নয়!’
- ‘নেমে এসো! এবার আমার পালা।’
- ‘দরজায় কে কড়া নাড়ে?’
- ‘ঝড়ো-মেঘ! এ বাড়ীতে মেঘের নাইয়োর আজ!’
- ‘দরজা খুলে দাও!’
- ‘ইচ্ছে করেনা, খুব আলসেমী লাগে!’
- ‘মেঘদূতকে বলোনা!’
- ‘পূর্ব-মেঘ, উত্তর-মেঘের সাথে বিশ্রাম্ভালাপে ব্যস্ত। নিজে খুলে নাও!‘
- ‘খুব আলসেমী লাগে।‘
বাইরে অঝোর দেয়া। অলকার নারীরা ভিজছে বৃষ্টিতে আজ, ভিজছে চড়ুইয়ের ডানা, বিসমিল্লাহর সানাই, হিজলতলায় দাঁড়িয়ে থাকা বাল্যকাল, মেঘদূতের চূয়ান্ন স্তবক, কৈলাশ শৃঙ্গ, খিল-দরজার ওপাশে বৃষ্টিছাঁট অথবা রাজহাঁসের মতো কারো কোমল গ্রীবা।
- ‘ও কালিদাস বাবু, ঘুমাই?’
- ‘আয় আয় চাঁদ মামা টিপ দিয়ে যা!’
- ‘খুব বেসুর আপনার!’
- ‘ঘুমালে উদ্যানের হাতি কে তাড়াবে?’
- ‘তাহলে আবার রামগিরি!’
- ‘হ্যা, নির্বাসন!’
বৃষ্টির ভেতর অখণ্ড নির্বাসন ঘটে আমার। মেঘদূতেরও আর আসতে হবেনা এপাড়ায়; তার বাধ্যতামূলক অবসর। তবুও এমন দিনে কে কড়া নাড়ে খিল-কপাটে? বলে, ‘বাড়ী আছো?’
২৪ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:০৩
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: ফেরারী পাখি, অনেক ধন্যবাদ। গল্প বলার ঢং অনেকাংশেই অসংলগ্ন মনে হতে কারো কারো, তবুও সংকোচে জানাই, এই গল্পের প্রতি শব্দ আমি খুব তৃপ্তি নিয়ে লিখেছি। আপনার ভাল লেগেছে জেনে, খুশি হলাম।
২| ২৪ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:০৪
শূন্য আরণ্যক বলেছেন: একটা টানে পড়লাম -- অলস ঢিমে তাল
++++++++
২৫ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:২২
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: ধন্যবাদ শূন্য আরন্যক। (অলস ঢিমে তাল- কথাটি বেশ!)
৩| ২৪ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:৫৬
ময়ুখ বলেছেন: পুরোটুকু পড়লে বোঝা যায় আপনি খুব তৃপ্তি নিয়ে লিখেছেন
ভালো লাগলো।
২৫ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:২৩
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: ময়ুখ, শুভাশিষ রইল।
৪| ২৪ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:৫৬
ফেরারী পাখি বলেছেন: আপনার গল্পটা আবার পড়লাম। ছোট ছোট উপমা কি দারুণ।
২৫ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:২৫
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: আবারো ধন্যবাদ ফেরারী পাখি।
৫| ২৪ শে আগস্ট, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৮
আকাশ_পাগলা বলেছেন: অনেক অনেক ভাল্লাগলো।
দারুণ দারুণ দারুণ।
+++++++++
২৫ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:২৯
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: আকাশ পাগলা, 'আকাশকে এখন আর দূরের মনে হয়না...' গুণের আকাশ সিরিজ পড়েছেন?
৬| ২৪ শে আগস্ট, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫১
আকাশ_পাগলা বলেছেন: আরেক জনের পোস্ট এটার লিংক দিলাম।
২৫ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৮
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: উপ্রে দিয়া গেল...
৭| ২৪ শে আগস্ট, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫৫
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ++++++++
২৫ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৭
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: ইমন ভাই, এই ব্লগের সবচে' গুণী মানুষের তালিকায় আপনার নাম; আপনার প্রশংসা পেলে দারুণ লাগে! 'অভিমান'-এর কাহিনী জেনে অনেকক্ষণ চুপ করে বসে ছিলাম। এত প্রিয় গান, আর এত চেনা একজনের লেখা! স্যালুট!
৮| ২৫ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:০১
আকাশচুরি বলেছেন: জুনের পরে আগস্টের শেষে আপনার গল্প পাওয়া গেল, এটাই বড়ো পাওয়া
আপনার তৃপ্তি আমাদেরও ছুঁয়ে গেল
২৫ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:২৪
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: তারিক ভাই, আমাকে দিয়ে হবেনা। অলসরা সিলিংয়ে ঝুলে থাকতেই ভালবাসে। ওদের স্যাণ্ডেলও ক্লান্ত।
আমার তৃপ্তিতো ছুঁয়ে গেল... গল্প পড়ে মেজাজ খিঁচড়ে যায় নি তো?
৯| ২৫ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:০৪
যীশূ বলেছেন: কবিতার মত লাগলো। বরাবরের মতই অসাধারণ!
২৯ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:২৯
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: ধন্যবাদ যীশূ।
১০| ২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৬
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: আমি ভাবলাম আপনাকে আমার রোগে ধরলো কবে!
এই অসংলগ্ন ভার, এই প্রবল স্থবির শরীরে, সময়ে চিন্তার ছুটোছুটি আমার প্রতিদিনের অভ্যাস। আপনি থাকেন কালিদাসের সাথে আড্ডায় মজে, আমিও তেমন জীবনবাবু আর সমরেশের সাথে (বসু, মজুমদার না) আড্ডা দেই। বড়ো জ্বালায় এ সকল মৃতাত্মা!
আপনার লেখাটা ছোটগল্প কী না সেটা নিয়ে বিস্তর কথা হতে পারে, কিন্তু তা কেবলই ঘোর কাটিয়ে দিবে।
২৯ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:০৫
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: ছন্ন, খুব দেরী করে মন্তব্যের জবাব দিচ্ছি। এবারেরও অজুহাত- পরীক্ষা। আমি পরীক্ষা দিচ্ছি লাগাতার। কিছু অগ্নিপরীক্ষাও।
জীবনানন্দ, আমার মনে হয়, দিন দিন প্রবল হয়ে উঠছেন আমার মাঝে। অন্তর্গত বোধ আর বিস্ময় এত প্রখর হতে পারে, এত বিপন্ন হতে পারে, এত কাঙ্খিত হতে পারে- কে জানত!
ভাল প্রসঙ্গ টেনেছেন- এটিকে ছোটগল্প বলা যাবে কী না? এ কথা সত্য, গল্পের চেনা ফরমেট এখানে প্রায় অনুপস্থিত। শেষ না থাকুক, নিদেনপক্ষে কাহিনী আর তার বিস্তার থাকা চাই গল্পের। এ গল্পটিকে হঠাৎ করে 'গল্প' ছাড়া মনে হতে পারে। কিন্তু একটি কাহিনী কি গড়ে নেয়া যায়, বা একটি গল্প কি তৈরী হওয়ার অবকাশ আছে 'কালিদাসের মেঘে'?
ধরা যাক, গল্পটি এরকম, একজন মানুষ সিলিং থেকে ঝুলিয়ে দিয়েছে নিজেকে। মানুষটি নিজেই জানেনা- কেন। অথচ এক ধরনের আত্মতৃপ্তিও আছে তার। মানুষের দু'হাতের দশ আঙ্গুলের মতো গৃহকে তার অবধারিত বিবর মনে হয়েছে... ('বিবর' কার লেখা? সমরেশ বসু'র?)... সাতশ' পঞ্চাশ বর্গফুটের বিবর, যা রামগিরির মতোই আরেক নির্বাসন। আবার আলসেমী করে মুক্তিও খোঁজেনি সে। ... গল্পটি যদি এমন হয়... বা এমন করে যদি গল্পটি তৈরী করে নেয়া যায়, তাহলে কি ছোটগল্পের ছাঁচে একে ফেলা যায়?
১১| ৩০ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:০৫
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: জীবনবাবু আর বসুর কথা তো ভালোমতোই তাহলে চলে আসে। 'বিবর' বসুসাহেবেরই লেখা (তবে এই মূর্খের তা পড়া হয়নি)।
আপনি যেভাবে গল্পটাকে পাল্টে দেবার কথা বললেন, সেটা করা যেতে পারে। কিন্তু তারপরে আবার ভাবি কী দরকার। নিশ্চয়ই এই লেখাটা লিখে ফেলার আগে, পরে আপনি পরিবেশন নিয়ে, বয়ানভঙ্গি নিয়ে অনেক ভেবেছেন। যে ধারায় বর্ণনা করলেন সেটা অভিনব লাগছে। অনেক অনেক টুকরো কথা, যার প্রতিটারই তাৎপর্য আছে।
সত্যি বলতে, পাঠক হিসেবে আমি মজা পেয়েছি খুব। কারণ সরলভাবে বলে ফেলা গল্প, এই ঘটনার মতোই সাধারণ আর প্রচুর পাওয়া যায়। কিন্তু আপনি যেভাবে সাজালেন, তাতে পাঠকের নিষ্ক্রিয়পাঠের কোনই সুযোগ নাই। বাক্যে, প্যারায়, উক্তিতে অনেক বেশি উপাদান, বাঁক ছেড়ে রেখেছেন। এগুলো প্রথম পড়ায় ধাঁধায় ফেলে দেয় (কিন্তু তা বিকর্ষণী না, আকর্ষণী)। তাই আবারও পড়া, আবারও পড়া। পড়তে পড়তেই মজা, তৃপ্তি বলা যেতে পারে পাঠকের, কারণ তার সামনে অংশগ্রহণের মত ক্রিয়াশীল কাজ পড়েছে!
আর সবকিছু বাদ দিলেও, একটা গল্পের কাছে বারবার পাঠককে টেনে আনার ক্ষমতা এই লেখায় আছে বিপুল পরিমাণেই। আবার এটাই হয়তো কোনো কোনো পাঠককে দূরে ঠেলে দিবে, দিতে পারে। পাঠশেষে ধাঁধার পরিমাণ, এই গল্পে কাহিনীর আবছায়া গড়নটা হয়তো অনেকের ভালো লাগবে না, সেই উদ্বেগ থেকেই বলছিলাম আর কি!
৩০ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:০০
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: আমরা যখন পড়ি, বিশেষ করে গল্প, তখন কাহিনীটা বুঝতে চাই। আমার কাছে মনে হয়, যে কোনো লেখাই- হোক তা গল্প বা কবিতা- তা সুখপাঠ্য হওয়া উচিত। তো আমি নিজে সুখপাঠ্য লেখা পছন্দ করি, কিন্তু লেখার সময় নিজের ভাল লাগার কথাটি মনে থাকেনা। আবার কোনো কিছু লিখে ফেলার পরে, সেটি কতখানি বোধগম্য হল অন্যের কাছে তা কেমন গৌণ হয়ে যায়। তখন নিজেকে একথা বোঝাই যে, কিছু লোক হয়তো পাওয়া যাবে যারা বুঝবেন, কিংবা নিজেরা খুঁজে নেবেন এইসব প্যাঁচের মানে।
অধিকাংশ সময়, প্রকাশের আগে যেকোনো লেখা আমি কাউকে না কাউকে পড়তে দেই। তার প্রতিক্রিয়া দেখি, শুনি। সবসময় আমার প্রথম পাঠকটির প্রতিক্রিয়া অন্যের সাথে মিলেনা। এই ব্লগে যারা পাঠক, তারাও পাঠক হিসেবে অনেক সহানুভূতিশীল, পরিনত এবং নানা কারনেই অনেক রেফান্সের সাথে পরিচিত। ফলে, ব্যাপক পরিসরে গল্পটির কী অবস্থা দাঁড়াবে- বোঝা মুশকিল।
'কালিদাসের মেঘ'-এর আবছায়া নিয়ে আমিও ভাবিত। মনে হচ্ছে, সহজবোধ্যতার জন্য গল্পের আরেকটু বিস্তার প্রয়োজন। স্বল্প পরিসরে হলেও 'মেঘদূত'-এর গল্পটা বলার দরকার মনে হয়। দেখি, আজ রাতেই কাঁচি চালাব কালিদাসের মেঘে।
১২| ৩০ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:১০
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: অফটপিকে কিছু কথা। আমি সমরেশের 'দেখি নাই ফিরে' পড়ছি এখন। আপনি পড়েছেন? রামকিঙ্কর বেজ-এর জীবনাখ্যান। অসম্পূর্ণ। দশ বছরের একটা কাজ। শেষ করার আগেই সমরেশ নিজেও মারা গেলেন।
আমি পড়ছি আর জীবনের অনেক উদ্দেশ্য আমার কাছে তুচ্ছাতিতুচ্ছ হয়ে যাচ্ছে!
পরীক্ষা শেষ হউক, গল্প লিখেন আপনি অনেক অনেক...
৩০ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:০৬
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: 'দেখি নাই ফিরে' পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমার।
আমি না বুঝেই সমরেশ বসু পড়তে শুরু করেছিলাম। তখন ক্লাস নাইনে পড়ি। ওঁর অনেক লেখাই আমার তখন ভাল লাগেনি। পরে, বড় হয়ে, তাঁর কিছু লেখা আবার পাঠ করেছি। দেখলাম, পাঠক হিসেবে আমার অবস্থা বদলায়নি।
'দেখি নাই ফিরে'- অসাধারণ।
১৩| ৩০ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৭:৪০
শফিউল আলম ইমন বলেছেন: রিপন ভাই শুধু পড়ে গেলাম। কি বলবো বুঝতে পারছিনা, এতো সুন্দর কিভাবে লিখতে পারেন! আমি তো লেখা ছেড়েই দিয়েছি, ভেবে দেখলাম এসব আমাকে দিয়ে হবে না তারচে বরং মাঝে মাঝে দিনলিপি লিখে যাবো সেই ভালো!
কেমন আছেন? অনেকদিন পরে দেখলাম।
৩০ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৯:২১
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: ইমন ভাই, অনেকদিন পরে দেখা হল! আপনাদের প্রশংসা পেয়ে পেয়ে আমি ঢোল হচ্ছি; অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে- যেকোনো সময় ফেটে যাবো হয়তো!
নিজের কথা বলি, ব্লগে আপনাদের সাথে এই যে মিথষ্ক্রিয়া তা কতখানি যে সাহায্য করে লেখালেখিতে- বোঝানো মুশকিল। লিখুন। আপনার লেখার হাত আছে, জানিনা এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি আপনি নিজে জানেন কিনা!
দিনলিপিতে পাঠক-লেখকের ইন্টারেকশন খুব জমে। মজাও হয় ম্যালা।
শুভ কামনা রইল সব সময়।
১৪| ৩০ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৮:০৯
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
গল্পের থিম নতুন মনে হচ্ছে, অন্তত আমার কাছে ।
যে সাবলীলতায় আপনি কালিদাসের সঙ্গে গল্প করে গেলেন, তা পড়ে মুগ্ধতায় অভিভূত হয়ে যাই, মুখে রা সরে না ।
৩০ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৯:৩৬
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: শিপন ভাই, বেশ কিছুদিন ধরে মেঘদূত পড়ছিলাম, ছাড়া ছাড়া ভাবে। তো মেঘদূত পড়তে পড়তে মনে হল, আমরা- এই সময়ের মানুষেরা আসলেই কোনো মৌলিক বিরহে আক্রান্ত হই কিনা? আর যদি আক্রান্ত হইও- সেই বিরহের মাত্রাটা কেমন?
কালিদাস উপদেশ দেন, ... পারলে এসএমএস করো। পিগমী সাইজের ম্যাসেজ পাঠাও! আবার আলসেমী করে মুঠোফোনটিও হাতে নেয়া হয়না। আমাদের নাগরিক জীবনের নানান জটিলতায় সনাতন বিরহের চেহারা পাল্টে গেছে।
ভাল লাগল আপনার প্রশংসা পেয়ে; বেশরমের মতো বলি- অনেক ভাল।
১৫| ৩০ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৮:১৩
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
আর হ্যাঁ, লজ্জিতবোধ করছি, এই অসাধারণ গল্প এতো দেরীতে দেখা এবং পড়ার জন্য ।
৩০ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৯:৩৭
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: দিন দিন খুব বিনয় মজুমদার হয়ে উঠছেন শিপন ভাই...
১৬| ৩০ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৯:৩৪
প্রতিধ্বনি, তুমিতো বলেছেন: ++
৩০ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৯:৩৮
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: শুভাশিষ রইল।
১৭| ৩০ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৯:৫৫
সবাক বলেছেন:
জোসিলা একখান পল্প পড়লাম।
গল্প : তাসঘর
Click This Link
৩০ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:০৬
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: সবাক, থ্যাংকু...
১৮| ৩০ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:০৪
মে ঘ দূ ত বলেছেন: +++++++++
৩০ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:১৩
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: 'মেঘদূত' নিয়ে আপনার সবগুলো লেখা পাঠের সৌভাগ্য আমার হয়েছে। এই গল্পটি লিখতে গিয়ে রেফারেন্সের জন্য বার কয়েক ঢু মেরেছি আপনার ব্লগে। সা.ইনে কালিদাস... মেঘদূত বিষয়ক আপনার পোষ্টগুলো অসাধারন। কথাগুলো আপনাকে বলা হয়নি; আজ কৃতজ্ঞতা জানাতে পেরে ভাল লাগছে।
১৯| ৩০ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:১৬
মে ঘ দূ ত বলেছেন: জেনে খুব ভালো লাগলো। আরো ভালো লাগছে কারো কাজে এসেছে জানতে পেরে।
ধন্যবাদ।
৩০ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:৩৪
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: আবারো কৃতজ্ঞতা।
২০| ৩০ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৬
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: দর্জিবাড়ি থেকে শার্টটা অল্টার্ড হয়ে ফিরে আসলে কেমন হবে তা নিয়ে বিষম কৌতূহল হচ্ছে!
৩০ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:০১
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: দর্জিবাড়ি নয় হে, এটি সূচিকর্ম। সোনামুখী সূঁইয়ে কাজ... চলছে।
২১| ৩০ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:৩৫
প্রণব আচার্য্য বলেছেন: অবনি, বাড়ি আছো?
৩১ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:২৫
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন:
বৃষ্টি পড়ে এখানে বারোমাস
এখানে মেঘ গাভীর মতো চরে
পরাঙ্মুখ সবুজ নালিঘাস
দুয়ার চেপে ধরে–
অবনী বাড়ি আছো?
_________________________
কেমন আছেন কবি?
২২| ৩১ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:৪০
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
অনেকদিন পর রিপন..........
ভাল্লাগলো........অনেক।
"পৃথিবীর সব ছেঁড়া ছাতা দেয়ালে হেলান দিয়ে বিশ্রাম নেবে একদিন; জবুথবু বৃষ্টিতে ভিজবে বেগনী নয়নতারা, শাদা রাজহাঁস, ধূসর ছেলেবেলা। রূপোর জল কুচি হবে তেতুল পাতায়, রবি শঙ্করের সেতারে। আষাঢ়ের বুনোবৃষ্টি বইয়ের তাকে কালিদাসের মতো পা দুলিয়ে বসবে, জ্যামিতির অজানা সম্পাদ্য কাগজের নাওয়ের মতো টেবিলে বিব্রত হামা দেবে।"
মুগ্ধতা..................
রিপনের গল্পে টান আছে.............
আশাকরি ভালো চলছে সব।
শুভেচ্ছা নিরন্তর।
৩১ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:৫৩
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: আছি বেশ। আলসেমী নিয়ে অভিসন্দর্ভ লেখার অবস্থা আমার!
সাজি আপা, অনেক ভাল লাগল আপনার মন্তব্য পেয়ে।
২৩| ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৫০
কালিদাস কবিয়াল বলেছেন: কি গল্প... কি কবিতা... না গান........ বিষণ টালমাতাল অবস্থা। কঠিন ঘোরলাগা পাঠাবিজ্ঞতা। গল্পের ফরমেট প্রচলিত ধারার বাইরে হলেও একেবারে নতুন নয়, আখাতারুজ্জামান ইলিয়াস নামের একজনকে জানি, যিনি এ ঘরনার গল্প লিখতেন। প্রকৃতপক্ষে সাহিত্যের নদী কখনো এক ঘাটে থেমে থাকেনা, সাহিত্য সর্বদা বৈচিত্রময় প্রাণের কোলাহলে মুখরিত স্রোতধারা। সাহিত্য-নদী নানা পথ পেরিয়ে, নানা বাঁক মাড়িয়ে, নানা দিগন্ত ছুঁয়ে ছুঁয়ে বয়ে চলে সুদূর অতীত থেকে বর্তমান হয়ে ভবিষ্যতের অনিমিখে। গল্পটিকে অনেকের কাছে বেখাপ্পা মনে হতে পারে, কিন্তু কালের সাথে সাহিত্যের যে বিবর্তন, সে সম্পর্কে যারা অবগত আছেন- তাঁরা এ ঘরনার গল্পগুলোকে ছোটগল্পের আধুনিকায় বলে বিবেচনা করবেন একদিন; হয়তো সেদিন বেশি দূরে নয়....
রিপন-দা, সম্ভবত পৃথিবীতে আজও গড়ে ওঠেনি ভালোলাগার কোন বিশুদ্ধ বানান, শুধু এটুকু বললো- নিমগ্ন পাঠ।
পুনশ্চ: আপনার লেখা গল্পের কোন বই প্রকাশিত হয়ে থাকলে নাম জানাবেন; আসলে নেটে পড়ে তেমন মজা পাইনা, যতটা বইতে পাই।
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৫১
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: আমার লেখা কোনো বই নেই। বই প্রকাশের মতো দুঃসাহস এখনো হয়ে ওঠেনি।
আমি আসলে বাংলা ছোটগল্পের বিবর্তন নিয়ে খুব বেশী অবগত নই। অনেক লেখকের কিছু কিছু লেখাতে গল্প বলার 'স্কেচধর্মী' একটা ছোঁয়া পাওয়া যায়। কিন্তু সেটি একক ধারা হিসেবে বিশেষ উল্লেখ করার মতো নয়।
'কালিদাসের মেঘ'-এর বয়ান একধরনের কোলাজ। বিচ্ছিন্ন, বিক্ষিপ্ত- কিন্তু মেঘদূত-আক্রান্ত আধুনিক মানুষের বিরহের স্কেচ। আমি হয়তো সফল হয়নি কাজটিতে, কিন্তু ইচ্ছে ছিল- এমন থিমকে কেন্দ্র করে গল্প বলার। এর আগে, 'দুপুর পেরিয়ে বাড়ী ফেরার দিন' নামে একটি গল্প লিখে ছিলাম। সরাসরি ছোটগল্পের সংজ্ঞায় সেটিকে ফেলা যায় কিনা- আমি কনফিউজড ছিলাম। তখন ওটিকে বলেছিলাম- কোলাজ গল্প।
সে যাক, সাহিত্য নিয়ে আমার পড়াশুনার দৌড় খুব বেশী না। তাই এ লাইনে বেশী না বাড়ি!
আপনার মন্তব্য পেয়ে খুশি হয়েছি।
শুভেচ্ছা।
২৪| ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫৬
হিমালয়৭৭৭ বলেছেন: আমার স্টাইলপ্রীতি বোধহয় আপনার অজানা নয়, টিপিকাল স্টাইল কেন যেন আমাকে টানেনা...গল্পের মেকিংটাই আমার কাছে প্রাধান্য পায় সবসময়.....এই গল্পের মেকিংটা অদ্ভুতভাবে ভাবাচ্ছে......গল্পের ভেতরকার গল্পটা অনেকরকমই হতে পারে, তবে আপাতভাবে তাকে অন্ধকারাচ্ছন্ন লাগতে পারে কোন কোন পাঠকের কাছে, বিশেষত যারা ভূমিকা-গ্রন্থিমোচন-সমাপ্তির গণ্ডিবদ্ধ গল্পে অভ্যস্ত.............আজকের মত শুধু মেকিয়ের ভাললাগাতেই সমস্ত গল্পটা পড়ে গেলাম, ভেতরের গল্পটা খুঁজতে আরও একটা পড়া স্যাংশন দেয়া হল....
০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:১৭
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: আনিসুল হকের একটা কথা মনে পড়ল। তিনি বলেন, 'আমার কাছে- কী লেখা হচ্ছে, তারচেয়ে কিভাবে লেখা হচ্ছে সেটি বেশী গুরুত্বপূর্ণ।' আমি অবশ্য কোনো ঘরানার নই; সবই আমাকে টানে, সবই আমাকে মোহিত করে।
গল্পের মেকিংটা আপনার ভাল লেগেছে জেনে খুশি হয়েছি। আমি জানি, এই মেকিংয়ের তলাতেই চাপা পরে গেছে গল্পের সরলতা। আমার মনে হয়, আরেকটু ঘষা-মাজা করলে গল্পের দুই কূলই রক্ষা পাবে।
হিমালয়, দ্বিতীয়বার পাঠের অভিজ্ঞতাও যদি শেয়ার করেন কৃতজ্ঞ থাকব।
২৫| ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩১
মাঠশালা বলেছেন: রিপন, ভালো লাগলো আপনার লেখা। ভাষায় বেশ কাব্য আবহ পেলাম, জানি না এটা গল্পের দোষ না গুন; আমার ভালো লাগলো। পরে হয়ত আরো কথা হবে।
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:০৬
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: দেরী করে জবাব দেয়ার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
গল্পের কাব্য আবহ!! কথা সত্য, এই গল্পের কোনো কোনো অংশ কাব্য-প্রবণ। আমিও জানিনা, গল্পের কাব্য হয়ে ওঠার ব্যাপারটা দোষ না গুণ! মনে হয়, বেশীরভাগ পাঠক গল্পে 'গল্পটাকেই' খুঁজবে, তাদের কাছে এটার কাব্য হয়ে ওঠা বা বর্ণনার স্টাইল অগুরুত্বপূর্ণ। আবার কেউ কেউ হয়তো বিষয়টি পছন্দ করবেন। তবে এই পাঠকদের সংখ্যাটি তুলনামূলকভাবে কম হবে বলা বাহুল্য।
আমি পাঠক হিসেবে প্রথম টাইপের। কিন্তু লিখতে গেলে উল্টো ঘটে।
আপনি সুলেখক। আপনার মন্তব্যে প্রাণিত হয়েছি।
২৬| ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৪৫
সুদীপ চৌধুরী বলেছেন: সচরাচর আপনার সাথে এটা একটু অন্যরকম মনে হলো। উড়ে উড়ে কোথাও আজকে বসবো না আর এরকম একটা এবস্ট্র্যাক্টনেস। তবে আমার ভালো লাগে সবই - পাহাড় বিক্রি, সিসিফাস, রামসুন্দর, পাখিপাঠ প্রভৃতি।
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:১৪
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: সুদীপ, আপনার কথা থেকে মনে পড়ল, গল্পটি লেখার সময় মানুষের 'এম্পটিনেস ফিলিংস'-এর কথা মনে হচ্ছিল। ...
কেমন আছেন আপনি?
২৭| ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৪
যীশূ বলেছেন: লেখা নেই কেন আর?
২৬ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৮:২৮
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: কী যে লিখি...! ...
২৮| ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:০১
সবাক বলেছেন:
Click This Link
২৬ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৮:২৯
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: সোনার দোয়াত-কলম হোক আপনার।
২৯| ২৬ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:০১
ভাঙ্গন বলেছেন: অসাধারণ গল্পটা এতদিনে পড়লাম।
'গ্রেইট মিস' ছিল!
২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৭
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: ভাল লাগল আপনার মন্তব্য পেয়ে।
৩০| ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:০৭
পারভেজ বলেছেন: ঠিক 'গল্প বলা' ধাঁচের কোন গল্প নয়। মনে হলো অনেকটাই গল্প করে যাওয়া; নিজের সাথে, পাঠকের সাথে আর ভাবনাগুলির সাথে।
তাই পাঠক কোন ঘটনা খুঁজে না। বরং চেষ্টা করে আড্ডার ভেতরকার একজন হয়ে যেতে।
গল্প শেষ হলেও তাই গল্প করাটা শেষ হয় না। পাঠকের ভেতরে ঢুকে পরে অন্তত আরো কিছু সময়ের জন্য।
বেশ সুপাঠ্য।
১৩ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩৮
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: ধন্যবাদ পারভেজ ভাই।
৩১| ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩৯
একজন সৈকত বলেছেন: ............ মেঘদূতের খোঁজ কে নেয় এমন দিনে! এমন দিনে কে কড়া নাড়ে খিল-কপাটে, বলে, ‘বাড়ী আছো?’
..................
হৃদয় আটকে অদৃশ্য আঠায়... বার বার পড়লাম... আহঃ...
এতদিন কেন আপনার ব্লগ পড়িনি আফসোস হচ্ছে!
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩৫
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: সৈকত, প্রাণিত হলাম আপনার কথায়।
মনজুরুল হকের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা পড়ছেন তো? দারুণ!
©somewhere in net ltd.
১|
২৪ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৭
ফেরারী পাখি বলেছেন: বৃষ্টির ভেতর অখণ্ড নির্বাসন ঘটে আমার। মেঘদূতেরও আর আসতে হবেনা এপাড়ায়; তার বাধ্যতামূলক অবসর। তবুও এমন দিনে কে কড়া নাড়ে খিল-কপাটে? বলে, ‘বাড়ী আছো?’
বেশ ভারো লাগলো।