| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আল্লাহ মানব জাতিকে বিভিন্ন জাতি গোত্রে বিভক্ত করে দিয়েছেন যেন তারা পরস্পর পরস্পরকে চিনে নিতে পারে বা তাদের পরস্পরকে চিনতে সুবিধা হয় (আল-কোরআন ৪৯:১৩)। ইসলামি ধর্ম মতে ইসলামই হল সর্বশেষ ধর্ম এবং এরপর নতুন কোনো ধর্ম আর পৃথিবীতে আসবে না। কিন্তু এর মানে এই না যে ইসলাম ধর্মের ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে মানবজাতি যে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জাতি গোত্রে ভাগ হয়ে আছে সেই সীমারেখা গুলোও উধাও হয়ে যাবে।
সময়ে সময়ে মানবজাতির উপরে যে সকল ধর্ম নাজিল হয়েছে…এটা যেমন আল্লাহর ফয়সালা, তেমনি মানবজাতি যে বিভিন্ন জাতি গোত্রে বিভক্ত, সেটাও মহান আল্লাহতালার ফয়সালা। অবশ্যই মানবজাতি ইসলাম এবং অন্যান্য যে সকল ধর্ম আছে সেই সব ধর্মই পালন করবে কিন্তু তাদের মাঝে যে নৃতাত্ত্বিক বিভিন্নতা বা জাতিসত্তার বৈচিত্রময় পরিচয় আছে তা সংরক্ষণ করে বা তা বজায় রেখেই। নৃতাত্ত্বিক/জাতিসত্তার পরিচয় (জন্মগত) আর ধর্মের ভিত্তিতে (যা বেছে নেয়ার সুযোগ আছে) পরিচয় এই দুটো কিন্তু কখনোই সাংঘর্ষিক না। সংঘর্ষ হতে পারে আপেলে আপেলে বা কমলার সাথে কমলার। কিন্তু আপেল আর কমলায় কখনোই সংঘর্ষ হবে না যেহেতু আপেল আর কমলা পরস্পর তুলনীয়ই নয়।
তাই জাতিসত্তা/নৃতাত্ত্বিক পরিচয় আর ধর্মীয় পরিচয় যখন পরমত সহিষ্ণুতার সাথে সহাবস্থান করে তখন মানব সমাজ আরো সভ্য হয়, উন্নতির শিখর পানে এগিয়ে যায়।
অন্যদিকে এই মতাদর্শের মানুষগুলিই উর্দু ভাষাকে যথেষ্ঠ সম্মান করে, মর্যাদা দেয়। যেহেতু উর্দু ভাষা আরবি ও ফার্সি হরফ নির্ভর, তাই এটা তাদের কাছে অনেক পূত ও পবিত্র। আর যেহেতু বাংলা ভাষা হরফ আরবি ও ফার্সি নির্ভর না, তাই এটা তাদের দৃষ্টিতে হিন্দুয়ানী ভাষা। তবে বাংলা ভাষার অস্তিত্ব কত বছর ধরে আর উর্দু ভাষার অস্তিত্ব কত বছর ধরে এই দুইয়ের তুলনা করলে উর্দু ভাষার অবস্থান কোথায়?
ইসলামি ভাতৃত্ব, মুসলিম ভাতৃত্ব, মুসলিম উম্মা, খেলাফত ইত্যাদির নাম করে যারা জাতিগত বা নৃতাত্ত্বিক পরিচয় ও ধর্মীয় পরিচয় উভয়কে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে, তারা মূলত: আল্লাহ তার যে আয়াতের মাধ্যমে এটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন উনিই মানবজাতিকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করে দিয়েছেন, সেটিকে সম্পূর্ন অগ্রাহ্য করছে। বিভিন্ন জাতিগোত্রে আল্লাহ মনুষ্যকে ভাগ করে দিয়েছেন সেই সত্যটা বা সেই বাস্তবতাকে ওনারা সরাসরি অস্বীকার করছে। মানবজাতিকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বা জন্মগত নৃতাত্তিক পরিচয়ে বিভক্ত করার বিষয়ে আল্লাহর যে ফয়সালা, সেই ফয়সলা “মুসলিম জাতি/মুসলিম উম্মাহ/ মুসলিম ভাতৃত্বের" প্রবক্তারা মানছে না।
কিন্তু এটাই যদি ওনাদের মতাদর্শ হয়ে থাকে, তাহলে সেই হিসেবে জাতিসত্তা/নৃতাত্ত্বিক পরিচয় ভিত্তিক অন্য ভাষা বা অন্য জাতি গোষ্টির প্রতি তাদের আলাদা ভালো লাগা, ভালোবাসা থাকতে পারে না। তারা যদি সত্যি সত্যি এক মুসলিম জাতিতে বা উম্মায় বিশ্বাসী হয়ে থাকেন, তাহলে আলাদা করে উর্দু/আরবী ভাষাভাষী জনগণের প্রতি তাদের মহব্বত, ভালোবাসা থাকার কথা না । কিন্তু বাস্তবতা কি বলে? একদিকে এক মুসলিম জাতির কথা বলে তারা যেমন বাংলা ভাষা ও বাঙ্গালী সংস্কৃতিকে দমিয়ে রাখতে চায় আবার এরই সমান্তরালে উর্দু আর আরবিভাষী জনগোষ্ঠীকে বাংলাভাষী জনগণের চেয়ে উন্নততর মনে করে। তারা তাদের আচার আচরণ এবং কর্মে এটা প্রমাণ করে যে উর্দু, আরবি ও ফার্সি ভাষা ভাষীরা বাংলাভাষী মুসলমানদের চেয়ে আরো বেশি মুসলিম। তাদের দৃষ্টিতে বা তাদের মনস্বত্ব যেভাবে বিকষিত হয়েছে, সেই মানসিকতার বিচারে বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমরা মূলত: হিন্দুয়ানী মুসলিম।
এর মানে হলো যে তারা তাদের মুসলিম জাতি বা মুসলিম উম্মাহ বিষয়ক আদর্শকে সিলেক্টিভলি প্রয়োগ করে। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে জাতিসত্তা ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের সীমারেখা যদি উড়িয়েই দিতে হয়, তাহলে তারা তুরস্কের জনগোষ্ঠীকে কেন বলে না যে তারা যেনো তাদের তুর্কি ভাষা আরবি ও ফার্সি হরফ নির্ভর করে ফেলে। যেমনটা বাংলা ভাষার ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো। অন্যদিকে জিসিসিভুক্ত আরব দেশগুলো এক ভাষা সংস্কৃতির অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তারা কেনো ছয়টি দেশে বিভক্ত কেনো তারা এক মুসলিম জাতি/উম্মাহর ভিত্তিতে একক আরব রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকলো না তারও ব্যাখ্যা এরা ব্যাখ্যা দেয় না।
এভাবেই মূলত: তারা তাদের ভণ্ডামির পরিচয় দেয়।
©somewhere in net ltd.